নারায়ণগঞ্জ- ধামগড় ইউপি নির্বাচনে নৌকার হাল ধরতে চায় মাসুম-আজিজ-আলমাছ ও কামাল

0
31
মো:সহিদুল ইসলাম শিপু: আসন্ন বন্দর উপজেলা ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে একক প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাসুম আহম্মেদ ও জাতীয় পার্টির কামাল হোসেন। গত নির্বাচনে নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এ দুই প্রার্থীর মধ্যে তুমুল লড়াই হয়। পরে আলহাজ্ব মাসুম আহম্মেদের নৌকা কামালের লাঙ্গলকে পড়াজিত করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়।
তবে বিএনপি থেকে মাসুদ রানার ধানের শীষ ও আলমাছ ভুইয়ার আনারস ভোটে তেমন কোন সাড়া জাগাতে পারেনি। বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাসুম আহম্মেদ সেই তালগাছের উপর থেকে নৌকাকে মাটিতে নামিয়ে এনে ধামগড় ইউনিয়ন জনগনের মাঝে উপহার স্বরুপ প্রদান করেন। এখানে তাল গাছের প্রসঙ্গ বলতে গত নির্বাচনে মহাজোটের অনেক হেভিওয়েট নেতৃবৃন্দ মাসুমকে নৌকা দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে নারাজ।
শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ে এক জনসভায় কামালকে লাঙ্গল দিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবেনির্বাচিত করার ঘোষনা দিয়েছিল। সেদিনের জনসভায় স্বয়ং সেলিম ওসমান এমপিও মাসুমকে বাদ দিয়ে কামালের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন মাসুমের নৌকা তাল গাছের উপর দিয়ে উড়ে যাবে। কিন্তু মাসুম তার নৌকা উড়তে দেয়নি।
বরং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামিলীগের সকল নেতৃবৃন্দের সহযোগীতায় নৌকাকে তাল গাছ থেকে মাটিতে নামিয়ে আনে। সেই সময় থেকে ধামগড় ইউপি নির্বাচনে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আলহাজ্ব মাসুম আহম্মেদের উপর নৌকার দায়িত্বভার অর্পন করে।
ফলে কামালের লাঙ্গলের সাথে মাসুম আহম্মেদের নৌকা বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে। সেই সময় থেকেই মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর উপহার দেয়া নৌকার মান রাখতে পেরছেন মাসুম আহম্মেদ চেয়ারম্যান। সেই দিন থেকে আজও অবধি জনগনের ভালোবাসা আর উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখে নৌকার হাল ধরে আছেন।
এদিকে নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী ভাইরাসের কারনে ইউপি নির্বাচন তফসিল ঘোষনার পরও সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যখন যেকোন সময় নির্বাচন আরম্ভ হবে। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা যে যার মত জনগনের মন জয় করতে মাঠে অবস্থান করছে।
তারই ধারাবাহিকতায় বন্দর উপজেলা ধামগড় ইউপ্#ি৩৯;তে নির্বাচনের হাওয়া বইছে। এবার ধামগড় ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি বর্তমান চেয়ারময়্যান মাসুম আহম্মেদ ছাড়া ও প্রতিদন্দী হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছে। যাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ত্রান বিষয়ক সম্পাক আলহাজ্ব আলমাছ ভুইয়া ও বন্দর থানা আওয়ামিলীগ নেতা আলহাজ্ব আজিজুল হক আজিজ এর নাম শোনা যাচ্ছে।
গত নির্বাচনে তৃনমুলের ভোটে আলমাছ ভুইয়া প্রথম হলে ও রাজনৈতিক কলাকৌশলে হাই-কমান্ডের দৌড়ে মাসুম আহম্মেদ নৌকা প্রতীক নিয়ে আসে। ফলে এবারের ধামগড় ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদের নৌকার হাল ধরতে মরিয়া হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা ত্রান বিষয়ক সম্পাক আলহাজ্ব আলমাছ ভুইয়া ও নব্য আওয়ামিলীগে যোগদানকারী আলহাজ্ব আজিজুল হক আজিজ।
গত নির্বাচনে অবশ্য তৃনমূলের দাবী রাখতে গিয়ে আলহাজ্ব আলমাছ ভুইয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। এদিকে সদ্য আওয়ামিলীগে যোগদানকারী আলহাজ্ব আজিজুল হক আজিজ। যিনি অত্র ইউনিয়নের পরপর তিনবার নির্বাচিত প্রয়াত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আয়নাল হকের পুত্র।
তিনিও নৌকা প্রতীক পেতে দলীয় হাইকমান্ডের সাথে দৌড়ঝাঁপ করছেন। পাশাপাশি তিনবারের নির্বাচিত প্রয়াত পিতা আয়নাল হক চেয়ারম্যানের সাজানো বাগান ধামগড় ইউনিয়নকে আরেকটু ভিন্নরুপে সাজাতে চাইছেন। তাই প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে নেতৃবৃন্দ ও জনগনের সাথে যোগাযোগ রেখে জনগনের মন জয় করার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে মাসুম চেয়ারম্যান ও বসে নেই। বর্তমান করোনা ভাইরাস লকডাউনকে উপেক্ষা করে ঘরোয়া বৈঠক কিংবা মসজিদ, মাদ্রাসায় ইফতার পার্টিতে শরীক হচ্ছেন। তিনি আবারো নৌকা পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সাংসদ সেলিম ওসমানের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পূর্ন করতে চাইছেন। তবে গত পাঁচ বছরে মাসুম চেয়ারম্যান ধামগড় জনগনের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এলাকার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানগুলোতে উন্নয়নের ছোয়া পৌঁছে দিয়েছেন।
সেই সাথে ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমির দালালী, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, বালু উত্তোলন সকল প্রকার অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে নিজেকে আড়াল করে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সময়ের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন হলো বিগত পঞ্চাশ বছরে ধামগড় ইউপির মাঠের জমি ঠিক করা। যে জমি গত কয়েক দফায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানগন ঠিক করতে পারেনি। মাসুম চেয়ারম্যান ইউপির জমি খারিজ করে তা বালি দিয়ে ভরাটের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
এমনকি নিরাপত্তা রক্ষার্থে সামনের দেয়াল সহ গেইট করে দিয়েছেন। রাস্তার পাশে হ্যালোজিং লাইট বসিয়ে অন্ধকার ধামগড়বাসীকে আলোর সন্ধান দিয়েছেন । পাশাপাশি ধামগড় ইউনিয়নে একটি আধুনিক কমপ্লেক্স ভবন পাস করা। যা কিনা অচিরেই ধামগড় ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনের কাজ উদ্ভোধন করা হবে। তবে আজিজুল হক আজিজের ভাই লাঙ্গলের কামাল ও বসে নেই।
তিনিও আড়ালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের আশায় জনগনের সাথে যোগাযোগ করছেন। তবে একই পরিবার থেকে আজিজ ও কামাল নির্বাচন করছেন শুনে জনগনের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার প্রশ্ন তৈরী হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন একটাই একই পরিবার থেকে দুই ভাই দুই দলের প্রার্থী হলে কারে রেখে কাকে ভোট দেব?
তাছাড়া মাননীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সেলিম ওসমান বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদকে পছন্দ করেন। সুতরাং মাসুম আহম্মেদ চেয়ারম্যানকে দিয়েই এমপি সেলিম ওসমানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চায়।
সুতরাং জনগনের দাবী তাকেই ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করার। তবে শেষ পর্যন্তধামগড়বাসী নৌকার অপেক্ষায়। আওয়ামিলীগ হাইকমান্ড যাকে নৌকা উপহার দিবে জনগন তাকেই বেছে নিবে। যেহেতু অন্য কোন দলের অবস্থান এখানে ভালো নেই। সে ক্ষেত্রে লাঙ্গলের কামাল আর নৌকা প্রতীক পাওয়া প্রার্থীর মাঝে তুমুল ভোট যুদ্ধ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here