নারী হিজরার ১৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেই আবার নতুন প্রতারণায় শৈলকুপার লুসান!

0
173

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ- নাছরিন আক্তার নামে এক নারী হিজড়াকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে ১৯ লাখ টাকা আত্ম-সাতের পর নতুন নতুন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে শৈলকুপার যুবক লুসানুর রহমান লুসান ও তার পরিবার। মামলা থেকে রক্ষা পেতে স্ত্রী নাছরিনের সঙ্গে ঘর সংসার করার মুচলেকা দিয়ে এখন আর পাত্তা দিচ্ছে না লুসান।

এদিকে স্বামীর ঘর করার আশায় নারী হিজরা নাছরিন এখন পথে পথে ঘুরছে। তাকে স্বামীর বাড়ি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নিরুপায় হয়ে স্বামী লুসান, শ্বশুর খাসিয়ার রহমান ও শ্বাশুড়ি দিপিকা বেগমের নামে মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন।

মামলার রেকর্ড সুত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নারী হিজড়া নাছরিনের সঙ্গে পরিচয় হয় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের খাসিয়ার রহমানের ছেলে লুসানের। লুসান তখন তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিল। নাছরিনের আদি বাড়ি খুলনা হলেও তিনি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার নিহন্দ গ্রামে বসবাস করেন। তার পিতার নাম আব্দুল গাফফার শেখ।

পরিচয় থেকে পরিণয়ের দিকে গড়ায় নাছরিন লুসানের সম্পর্ক। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারী নোটারি পাবলিকে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যে তাদের বিয়ে হয়। এজাহারে বাদীর ভাষ্যমতে বিয়ের আগে ও পরে স্ট্যাম্পে চুক্তি পত্রের মাধ্যমে লুসান ব্যবসার কথা বলে ১৫ লাখ টাকা নেন। পরে আরো ৪ লাখসহ সর্বমোট ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে সটকে পড়েন।

এঘটনায় স্বামী লুসানের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জের আদালতে ২০১৮ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন নাছরিন, যার মামলা নং সিআর- ১৩০/২০। ওই সময় টাকা ফেরৎ ও ঘর করার প্রলোভন দেখিয়ে লুসান মামলা তুলতে সক্ষম হন। মামলা তোলার পর স্ত্রী নাছরিনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন লুসান।

পরে নাছরিন আবারো যৌতুকের মামলা করলে সে মামলাও সংসার করার প্রলোভন দেখিয়ে আবারো তুলতে বাধ্য করে লুসান। মামলা তুলে নেওয়ার পর নাছরিন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে আসেন। সপ্তাহ খানেক ঘরসংসার করার পর নাছরিনকে ফুসলিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন লুসান।

সর্বশেষ নারী হিজড়া নাছরিন লুসান ও তার মা বাবার বিরুদ্ধে তৃতীয়দফা মামলা করেছেন মানিকগঞ্জের আদালতে, যার নং ১৫৭। নাছরিন অভিযোগ করেন, আমি যতবার যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা করেছি, ততবার আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে লুসান ও তার পরিবার।

সংসার করার প্রলোভন দেখিয়ে লুসান ও প্রতারক পিতা মাতা আমার সঙ্গে বার বার বেঈমানী করেছে। আমি সুবিচার চাই। এ বিষয়ে বাদীনীর আইনজীবী এ্যড.সুকুমার চন্দ্র সরকার জানান, বিজ্ঞ আদালতের কাছে গ্রেফতারী পরোয়ানা চেয়েছি। আদালত মামলাটি পর্যবেক্ষনে রেখেছেন। আশা করা যায় বাদীনী ন্যায় বিচার পাবেন। তিনি বলেন, বিবদীগন খুবই ধুর্ত ও প্রতারক।

তারা বাদীনীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরৎ না দিয়ে সংসার করার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাদীনীর সঙ্গে একাধিকবার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। এ বিষয়ে লুসানুর রহমান লুসান জানান, তাকে এবং তার বৃদ্ধ পিতামাতাকে হয়রানী করতেই বার বার মামলা করা হচ্ছে। এই মামলা আইনগত ভাবেই আমি মোকাবেলা করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here