পাইরেসির শিকার সরলপুর ব্যান্ডের ‘যুবতি রাধে’ !

0
196
আমরা সরলপুর ব্যান্ড ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে সংগীত চর্চা করে আসছি।  এ পর্যন্ত আমাদের ৫০ টির মতো মৌলিক গান তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন কনসার্ট, টেলিভিশন লাইভ শোতে আমাদের আনরিলিজ ট্র্যাক হিসেবে বেশ কিছু গান ইতিমধ্যেই শ্রোতামহলে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের  কির্তন ধারার একটি মৌলিক গান ‘যুবতি রাধে’ মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছেএবং খুবই জনপ্রিয়তা আরজন করেছে।
সম্প্রতি,  গানটি নিয়ে মানুষের মাঝে নানা ধরণের বিভ্রান্তিও ছড়িয়ে পড়েছে যে এটি ময়মনসিংহ গীতিকা থেকে সংগৃহীত একটি গান। মূলত গানটি আমাদের ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ভোকাল ও গিটারিস্ট তারিকুল ইসলাম তপনের লেখা ও সুর করা এ গানটি সরলপুর ব্যান্ড শুরু থেকেই পরিবেশন করে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন সময় আমাদের গানটি অনেকেই নিজের বলে প্রকাশের চেষ্টা করে এসেছেন। যার ফলে ২০১৮ সালে আমরা গানটির কপিরাইট সংগ্রহ করি।
গত ২০ অক্টোবর ‘আইপিডিসি আমাদের গান’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী পার্থ বড়ুয়ার সংগীতায়োজনে জনপ্রিয় দুই তারকা মেহের আফরোজ শাওন ও চঞ্চল চৌধুরীর কন্ঠে গানটি প্রকাশ করা হয়। যাতে আমাদের গানটিকে লোকজ গান হিসেবে সংগৃহীত বলে উল্লেখ করা হয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইতিমধ্যেই আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গানটি ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তাদের চ্যানেল থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
কিন্তু  আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড কর্তৃপক্ষ গানটি তাদের ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন পেজ থেকে প্রকাশ করে আমাদের মেধাস্বত্তকে আরও বিপন্ন করে তুলছে। আমরা কপিরাইট কর্তৃপক্ষর কাছে সুষ্ঠু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি। গণমাধ্যমের কাছে এ বিভ্রান্তি দূর করতে যথাযথ সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। সে প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমের কাছে গানটি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার প্রয়োজন বোধ করছি।
‘যুবতি রাধে’ গানটি আমরা লেখা শুরু করি ২০০৬/২০০৭ সাল থেকে।  তখনকার সময়ে আমরা কয়েকজন একদিন রাতে সারারাতব্যাপী পালাগান দেখতে যাই। যেখানে রাধাকৃষ্ণ সম্পর্কিত বিভিন্ন পালাগান হয়েছিলো। যা আমাদের খুবই ভালো লাগে এবং মন কাড়ে। তারপর থেকে রাধাকৃষ্ণ’র গল্পের  উপর নির্ভর করে আমরা এ গানটি লেখা শুরু করি।
রাধা কৃষ্ণের গল্প থেকে আমরা বিভিন্ন তথ্য-ভাবধারা, শব্দচয়ন সংগ্রহ করে থাকি। কিন্তু কোন হুবহু কথা আমরা সংগ্রহ করিনি। আমাদের এ গানের সাথে কোথাও কোন গানের হুবহু মিল নেই। গানের গীতিকার এবং সুরকার তারিকুল ইসলাম তপন। গানটি আমরা সম্পূর্ণ রূপে কীর্তন ও লীলা কীর্তনের উপর নির্ভর করে সুর করেছি। কীর্তন ও লীলা কীর্তনের ভাবধারা গানটিতে আনার চেষ্টা করেছি।
‘যুবতি রাধে’ গানটি আমরা ২০১০ সালে ময়মনসিংহ  ও    শেরপুরে  আমরা কনসার্টে পরিবেশন করি। ২০১২ সালে চ্যানেল নাইনে আমরা এ গানটিসহ  সাতটি গান আনরিলিজ ট্র্যাক হিসেবে প্রকাশ করি। পরবর্তীতে বিভিন্ন চ্যানেলেই আমরা একইভাবে আমাদের আনরিলিজ ট্র্যাকগুলো আমরা গেয়েছি।
২০১০সালে সরলপুর ব্যান্ডের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২০১৮ সালে আমরা সরলপুর ব্যান্ডের রেজি স্ট্রেশান করি। তার সাথে সাথে আমরা ১২টি মৌলিক গানের সনদ নিয়ে থাকি যার মধ্যে একটি ‘যুবতি রাধে’। সরলপুর ব্যান্ডের এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি মৌলিক গান রয়েছে। যার মধ্যে ১০/১২টি গান আমরা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ও কনসার্টে আনরিলিজ ট্র্যাক হিসেবে প্রকাশ করেছি। এ পর্যন্ত সরলপুর ব্যান্ডের কোন অ্যালবাম আমরা প্রকাশ করিনি।
গানটি নিয়ে প্রথম বিভ্রান্তি তৈরি করে সুমী মির্জা নামের এক কথিত শিল্পী। তিনি আমাদের যুবতি রাধে গানটি সংগ্রহীত বলে  লেজার ভিশনের ব্যানারে তাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করে। এবং  ইউটি উবের কমেন্ট এ সে আমাদের গানটিকে  পালা গান, মহুয়া গান, গোয়ালিনী গানসহ নানা নামে প্রচার করে। ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা তার সাথে যোগাযোগ করলে সে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে।
যার প্রেক্ষিতে আমরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হই। পরবর্তীতে কপিরাইট অফিস থেকে আমাদের দু’পক্ষকে ডাকে, সুমী মির্জা গানটিকে ময়মন সিংহ গীতিকার মহুয়া গান কিংবা গোয়ালিনি গান বলে দাবি করলেও কোন প্রমাণ দেখাতে না পারায়  দু’টি শুনানির মাধ্যমে গানটির সত্যতা প্রকাশ হয় এবং কপিরাইট অফিস থেকে আমদের পক্ষে রায় প্রদান করে ।
পরবর্তীতে সে আমাদের ‘যুবতি রাধে’ গানটির সুর হুবহু নকল করে কথা কিছু পরিবর্তন করে, ‘বিনোদিনী রাই’ নামে আরেকটি গান প্রকাশ করে । এ গানের ব্যাপারে তাই বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, যে ‘বিনোদিনী রাই’ এবং ‘যুবতি রাধে’ গানটি এক। আসলে বিষয়টি তা নয়।
সে প্রেক্ষিতে সুমী মির্জার সাথে আমাদের যে দ্বন্দ্ব তা কোর্টে এখনো চলমান। করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি আমরাও দেশের বাইরে অবস্থান করায় মামলার কার্যক্রম থমকে আছে। আমরা দেশে ফিরলেই আমরা পুনরায় কোর্টে মামলাটি নিয়ে অগ্রসর হবো, এবং কলার টিউনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গানটি প্রকাশ করায় যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন আমরা হয়েছি তার জন্য কোর্টে আবেদন করবো।
গানটির স্বত্ত রক্ষায় আমাদের এ সংগ্রামের মধ্যেই গত ২০ অক্টোবর ‘আইপিডিসি আমাদের গান’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার সংগীতায়োজনে জনপ্রিয় দুই তারকা মেহের আফ রোজ শাওন ও চঞ্চল চৌধুরীর কন্ঠে গানটি প্রকাশ করা হয়। যাতে আমাদের গানটিকে লোকজ গান হিসেবে সংগৃহীত বলে উল্লেখ করা হয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইতিমধ্যেই আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গানটি ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তাদের চ্যানেল থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
কিন্তু আইপিডিসি কর্তৃপক্ষ গানটি তাদের ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন পেজ থেকে প্রকাশ করে আমা-দের মেধাস্বত্তকে আরও বিপন্ন করে তুলছে। আমরা কপিরাইট কর্তৃপক্ষর কাছে সুষ্ঠু পদক্ষেপ প্রত্যা শা করছি। গণমাধ্যমের কাছে এ বিভ্রান্তি দূর করতে যথাযথ সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। এর পাশা পাশি যারা গানটি প্রকাশ করছেন তাদের গানটি যত দ্রুতসম্ভব সকল প্রকার ডিজিটাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের পক্ষ থেকে ক্ষমামূলক বিবৃতি প্রত্যাশা করছি। অন্যথায় আমরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো।
সরলপুর ব্যান্ডের বর্তমান লাইন আপ: মেইন ভোকাল: মারজিয়া আমিন তুরিন এবং তারিকুল ইসলাম তপন।লিড গিটারিস্ট-তারিকুল ইসলাম তপন, রিদম গিটারিস্ট-সুব্রত উল্লাস, বেজ গিটার-তপু, ড্রামস-সজীব, কিবোর্ড-প্রীতম, দোতারা ও ব্যাঞ্জো-শিশির, খমক-তুরিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here