Sunday, January 17, 2021
Home বাংলাটপনিউজ স্পেশাল সাটুরিয়ায় ভালবাসার জনপ্রতিনিধি ফুকুরহাটির কদবানু 

সাটুরিয়ায় ভালবাসার জনপ্রতিনিধি ফুকুরহাটির কদবানু 

জনপ্রতিনিধিদের কিছু স্টেরিওটাইপ ধারনা সবার মনের মাঝে গেঁথে থাকে। এরকম ধারণার পিছনের কারন অনুসন্ধান করতে যাচ্ছি না শুধু এটুকু বলতে চাই আমাদের সব দেখার বাইরেও অনেক গল্প থাকে। সকল জনপ্রতিনিধির ভাল বাসা থাকে না; কারো কারো একমাত্র অবলম্বন কিংবা উদ্দেশ্য জনসাধারনের ভালবাসা।
যাঁর কথা বলছি তিনি সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সংর-ক্ষিত মহিলা সদস্য কদবানু। বয়স ৫১ বছর। জন্ম ১৯৬৯ সালে সাইপাড়া গ্রামে। বড় ২ ভাই এবং ছোট ২ বোনের মাঝের জন তিনি। ১৪ বছর বয়সেই বিয়ে হয়ে যায় সাভার উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের তোতা মিয়ার সাথে।
একটা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল বিয়ের ২ বছর পর কিন্তু মারা যায় কম বয়সেই। তবুও দিনমজুর স্বামীর সাথেই চলছিল টোনাটুনির সংসার। হঠাত সে স্বামীও মারা যায় ক্যান্সারে ভুগে। স্বামীকে হারাবার সাথে সাথে স্বামীর চিকিতসায় হারান নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ৫ শতক জমিও। আশ্রয় নেন নিজের বড় ভাই এর সন্তানের বাড়িতে। এই বাড়িতেই এক কোণায় তিনি একটা জরাজীর্ণ ছাপড়া করে বসবাস করছেন।
এদেশে নির্বাচন সেটা যে লেভেলেই হোক খুবই ব্যয়বহুল। কদবানু হয়ত নিজেও কখনো চিন্তা করেননি তিনি নির্বাচনে দাঁড়াবেন; এরকম পরিস্থিতিতে কারো পক্ষেই সে চিন্তা করা সম্ভবও নয়। তবে ফুকুরহাটি ইউনিয়নের জনগণের চিন্তা হয়ত ভিন্ন ছিল। তারা তাঁকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েই বসে থাকেননি; নিজ খরচে প্রচার প্রচারণা থেকে যাবতীয় দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। এজন্যই হয়ত এরকম একেবারে সহায়-সম্বলহীন হবার পরও নির্বাচিত হতে পেরেছেন।
আমাদের দেশে নির্বাচিত হবার পর হয়ত অনেক জনপ্রতিনিধির অনেককিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে আমাদের গল্পের কদবানুর জীবন সেই আগের ঘেরাটোপেই আছে। ভাতি জার জমির সেই ছোট্ট আশ্রয়েই দিনাতিপাত করছেন। আমি নিজেই গিয়েছিলাম সে বাড়ি তে প্রকৃত অবস্থা দেখতে। ইউপি সদস্য হিসেবে সরকার থেকে পাওয়া মাসিক সম্মানি দিয়েই চলছে তাঁর সংসার। এর মাঝেও চলছে জনসেবামূলক কাজ।
তবে কদবানুর এরকম আশ্রয়হীন জীবন আর খুব বেশিদিন থাকবে না। মুজিববর্ষ উপ-লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশে ভূমীহীনদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই শতক করে জমি ও একটা সুদৃশ্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন। এরকমই একটা কর্মযজ্ঞে ২ শতক জমি এবং একটা পাকা ঘর পাবেন কদবানু। তাঁর জীবনের সব হারানোর গল্পে ছোট কিছু প্রাপ্তিও যুক্ত হোক।
– আশরাফুল আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

গোমস্তাপুরে হস্তান্তরের অপেক্ষায় গৃহহীনদের ৯৫টি বাড়ি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে গোমস্তাপুর উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মাণ করা ৯৫টি বাড়ী হস্তান্তরের...

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ লেডিস ক্লাবের আয়োজনে ‘নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার হয়েছে। রবিবার সকালে অফিসার্স ক্লাব, চাঁপাইনবাব গঞ্জের হলরুমে এ সেমিনার হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের...

জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার পারভেজ কবির আর নেই

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক গোলকিপার মো. পারভেজ কবির শাহ্ মিনা পরলোকগমন করেছেন (ইন্না ... রাজিউন)। রবিবার সকাল ৮টায় চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট...

অস্ট্রেলিয়ায় অভিষেকেই ‘সুন্দর’ ওয়াশিংটন

স্বপ্নের টেস্ট অভিষেক বললেও কম বলা হয়৷ পিঠের ব্যাথ্যায় রবিচন্দ্রন অশ্বিন খেলতে না-পারায় গাব্বায় টেস্ট অভিষেক হয় ওয়াশিংটন সুন্দরের৷ বল হাতে সফল হওয়ার পর...

Recent Comments