সেশনজটের অভিশাপে প্রথম হয়েও মিলছে না প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক!

0
467

আদিল সরকার, ইবি: দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক অর্জন। যার জন্য অপেক্ষা কয়েক বছরের। সাথে অবিরাম পরিশ্রম। অবশেষে ফ্যালাক্টি ফার্স্ট। এবার সেই কাঙ্খিত স্বর্ণপদক। যা আবার প্রধানমন্ত্রীর হাতে! কিন্তু সেশনজটের কবলে পড়ে ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় নাম যায়নি সেই তালিকায়।

দীর্ঘসময়ের মেধার পরিশ্রম দিয়েও স্বপ্নপূরণে ব্যার্থ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইন অনুষদ থেকে মনোনীত ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের আশরাফুল ইসলাম। একই সাথে ঘটনায় বিভাগগুলোর কর্তৃপক্ষের অসচেতনতা ও খামখেয়ালিপনাকে দায়ি করেছেন স্বর্ণপদকের তালিকায় নাম না আসা শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি প্রথমদের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একইভাবে এবার ২০১৯ সালের পদক মনোনয়নে গতবছরের ২০ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইউজিসি৷ বিজ্ঞপ্তির আলোকে নিয়মানুযায়ী ফরম পূরণ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এতে ২০১৯ সালে ফলপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮ ফ্যাকাল্টির মোট দুই শিক্ষাবর্ষের (২০১৩- ১৪ ও ২০১৪-১৫) শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে দেখা যায়। তাদের সকলেরই একই বছরে অনার্সের ফলাফল প্রকাশিত হয়ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে একই সালে দুই শিক্ষাবর্ষের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে ২০১৩-১৪ (সিনিয়র) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। জানা যায় তাদের শিক্ষাবর্ষের মধ্যে তারা প্রথম হয়েও পরবর্তী সেশনের ফলাফল একইবছরে প্রকাশিত হওয়ার দুই বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলনা করে প্রথমজনকে স্বর্ণপদকের জন্য মনোনয়ন করা হয়।

এতে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে অনেকে মনোনীত হয়েছেন৷ ফলে ফ্যাকাল্টিতে প্রথম হয়েও বাদ পড়েন ২০১৩-১৪ শিক্ষার্থীবর্ষের শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে ।

তাদের দাবি, সঠিক সময়ে ফলাফল প্রকাশ করলে মনোনীত হতে পারতেন তারা৷ এঘটনায় ফলাফল প্রকাশে বিভাগের ঢিলেমি ও অসচেতনতাকে দায়ী করছেন তারা। একইসাথে জীবনের বড় অর্জন থেকে বাদ পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া ১৪-১৫ সেশনের আইন অনুষদের আল ফিকহ্ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের মু. ইলিয়াস আলমগীর এর সর্বোচ্চ রেজাল্ট এবং ফ্যাকাল্টি ফাস্ট হলেও ফলাফল ২০১৯ সালে প্রকাশিত না হওয়ার অপেক্ষাকৃত কম প্রাপ্ত নাম্বারধারী আইন বিভাগের রুবাইয়া ইয়াসমিনকে তালিকায় রাখা হয়েছে।

অথচ তিনিও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, শুধুমাত্র ২০১৯ সালে ফল প্রকাশ হওয়ায় তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এদিকে সেশনজটের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদের কে মনোনয়ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের প্রথম হওয়া মারজিয়া ইসলাম।

তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাওয়া জীবনের অনেক বড় অর্জন। কোন কারণে এটা মিস হওয়া মানে জীবনে অনেক কিছু হারিয়ে ফেলা। তাই আমরা কয়েকজন মিলে ডিনের মাধ্যম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত চিঠি দিব। যেন আমদের সেশনজটের বিষয়টি বিবেচনা করে আমাদেরকে মনোনীত করেন।’

তবে এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি শাখার প্রধান হেলাল উদ্দিন জানান, ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী আমরা শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন করেছি৷ চুড়ান্তদেরদের তালিকা আজকে (মঙ্গলবার) ডাকযোগে ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here