Saturday, December 5, 2020
Home খুলনা বিভাগ শীত আসছে, ভ্রাম্যমাণ শীতকালীন পিঠা বিক্রির ধুম !

শীত আসছে, ভ্রাম্যমাণ শীতকালীন পিঠা বিক্রির ধুম !

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ প্রকৃতিতে শীতল হাওয়া বইতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মোড়ে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ শীতকালীন পিঠার দোকান। বিকাল থেকে এসব দোকানে পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় জমছে মানুষের। বিক্রেতারা পিঠা তৈরি করছেন আর ক্রেতারা দাঁড়িয়ে বা বসে বসে গরম গরম এসব শীতের পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন। এ যেন শীতের আরেক আমেজ।
ঝিনাইদহ শহর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মোড়ে ও পাড়া-মহলস্নায় স্বল্প আয়ের লোকজন গড়ে তুলেছেন পিঠার দোকান। পৌর শহরের মডার্ন মোড়, পুরাতন মাগুরা বাসস্ট্যান্ড, টার্মিনাল এলাকা, পোস্ট ১ অফিস, পাইরা চত্বর, কলেজ মোড়, হাটের রাস্তা এলাকায় এসব পিঠার দোকান রয়েছে।
মূলত সেখানে ভাপা ও চিতই পিঠা তৈরি হচ্ছে। রিকশাচালক, দিনমজুর, শিশু-কিশোর, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পিঠার দোকানের ক্রেতা। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অনেককে আবার পিঠা খেতে দেখা যায়। অনেকে আবার পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের পিঠা নিয়ে যাচ্ছেন। পিঠা বিক্রেতা আশরাফুর ইসলাম
শহরের পাইরা চত্বর মোড়ে চালের গুঁড়া, ভর্তা আর পস্নাস্টিকের পিরিচ সাজাতে ব্যস্ত। এরপর গরম কড়াইয়ে চালের গোলা দিয়ে ঢেকে দেন। পিঠাটি খাওয়ার উপযোগী হতে কিছু সময় লাগে। এরই মধ্যেই ক্রেতার ভিড় জমে যায় তার দোকানে।
পত্রিকায় ঢাকা পিরিচে পিঠা নেন ব্যবসায়ী ইসমাইল ইসলাম। তিনি পিঠার কোনা ভেঙে ভর্তা মিশিয়ে মুখে পুরে বলেন, ছোটবেলার একটা সুখকর স্মৃতি হচ্ছে শীতের সকালে চুলার পাশে বসে ঝোলা গুড় মিশিয়ে চিতই পিঠা খাওয়া।
গ্রাম থেকে শহরে এসে পিঠার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ভর্তা। তিনি জানান, যেহেতু এটা শীত মৌসুম বাসাবাড়িতে তো পিঠা বানায় সেটার একটা স্বাদ আর এখানকার পিঠার মধ্যে স্বাদের বেশ পার্থক্য। বাসাবাড়ির পিঠায় সাধারণত আইটেমটা কম থাকে।
আর এখানে যে পিঠা তৈরি হয় বিশেষ করে এখানকার ভর্তার আইটেমটা অসাধারণ, চার-পাঁচটা আইটেমের ভর্তা থাকে সবগুলোই আলাদা আলাদা সাধের সবকিছু মিলে এখানে বসে পিঠা খাওয়ার চমৎকার একটা পরিবেশ মনে হয়।
আরেকজন সালাম মিয়া জানান, বাসাবাড়িতে পিঠা বানানো বেশ ঝামেলার। খেতেও তো ইচ্ছে। তাই কী আর করা। দোকান থেকেই কিনে খাই। পথচারী রফিক উদ্দিন জানান, তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে দুটি চিতই পিঠা খান।
পুরো শীতকাল সন্ধ্যার নাশতা পিঠা দিয়েই সারেন। পাশ থেকে আরেকজন বলেন, ঘরে পিঠা বানানোর রীতি উঠে যাচ্ছে। সেটা পুষিয়ে দেয় রাস্তার পাশের এই দোকানগুলো।
পিঠা বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম জানান, এবার শীত শুরু হাওয়ার আগেই প্রচুর পিঠা বিক্রি হচ্ছে। বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি হয়। তবে রাতে পিঠার চাহিদা বেড়ে যায়। তাই আয়ও এবার একটু বেশি হচ্ছে। প্রতিদিন ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা লাভ হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

করোনায়ভাইরাস: দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৩৫ জনের মৃত্যু !

গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ  নিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ হাজার ৮০৭ জনে। আর মোট আক্রান্তের...

কোভিড-১৯ টিকা দিতে শুরু করেছে রাশিয়া !

মস্কোয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের কোভিড-১৯ টিকা দেয়ার কর্মসূচী শুরু করেছে রাশিয়া।বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে এবং কোনরকম তথ্য প্রকাশ না করেই গত অগাস্ট...

দেউলবাড়ী-দোবরা ভাসমান সবজি চাষ বিশ্ব স্বীকৃতী অর্জন!

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির,বিলাঞ্চল থেকে ফিরে : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বিলাঞ্চল দেউলবাড়ী-দোবরা, কলারদোয়ানিয়া ও মালিখালী ইউনিয়নের জলাভ‚মির বাসিন্দাদের ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন ভাসমান বীজতলা ও সবজি...

হাতীবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবসে সবুজ সংঘের মাস্ক বিতরণ

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ০৫ ডিসেম্বর হাতীবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস। দিবসটি উপলক্ষে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও মাস্ক বিতরণ করেন ইউ.সি.সি (সবুজ সংঘ)। শনিবার (০৫...

Recent Comments