Sunday, February 28, 2021
Home বিনোদন সর্বকালের সবচেশ্রেষ্ঠা অভিনেত্রী মধুবালা

সর্বকালের সবচেশ্রেষ্ঠা অভিনেত্রী মধুবালা

নিখুঁত সৌন্দর্য্য আর লাবণ্যের শিরোপায় যাঁর নাম ভারতীয় সিনেমা স্পেশালি বলিউডে যে অভিনেত্রীর নাম বারবার উঠে আসে তিনি মুমতাজ জাহান বেগম দেহ্লভী অর্থাৎ মধুবালা। ঈশ্বর প্রদত্ত সৌন্দর্য্য এবং অভিনয় নিয়ে তিনি ছিলেন আছে ও থাকবেন বলিউডের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী অভিনেত্রী। ২২ বছরের কেরিয়ারে ৭০ টি ছবিতে তিনি মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। ভারতীয় সিনেমার তিনি ছিলেন সর্বকালের সবচেশ্রেষ্ঠা ।
মুমতাজ জাহান বেগম দেহ্লভী অর্থাৎ মধুবালার জীবনীঃ
আতাউল্লাহ খান ও আয়েশা বেগমের পঞ্চম সন্তান মধুবালা, খুবই অর্থনৈতিক ভাবে গরিব পরিবার থেকে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেন স্টেজ থেকে।পেশোয়ারে ইম্পেরিয়াল টোব্যাকো কোম্পানিতে চাকরি হারানোর পর, আতাউল্লাহ খান মধুবালাকে মুম্বাইয়ের ফিল্ম স্টুয়াটে নিয়ে যেতেন। ১৯৪২ সালে শিশু শিল্পী হিসেবে ‘বাসান্ত’ ছবি দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। তারপর ধন্য ভারত, ফুলওয়ারি, পূজারী, রাজপুতানী ছবিতেও তিনি শিশু শিল্পী হিসেবেই অভিনয় করেন।
১৯৪৭ সালে ‘নীল কমল’ ছবিতে মাত্র ১৪ বছর বয়সে মধুবালা -র লিড রোলে ডেবিউ করেন রাজ কপূরের বিপরীতে। নীল কমল,দেবিকা রানী ছবিতে অভিনয় করার পর তাঁর আসল নাম পরিবর্তন করে মধুবালা রাখা হয়। ভারতীয় সিনেমায় তিনি প্রথম মহিলা যাঁর নাম পরিবর্তন করা হয়। ১৯৪৯ সালে রিলিজ করে ভারতের প্রথম পুনর্জন্ম নিয়ে তৈরী থ্রিলার ছবি ‘মহল’,মধুবালাকে সাফল্যের প্রথম বড়ো ধাপ পেরোতে সাহায্য করে।
১৯৫০-এ মধুবালা অভিনীত ‘হাসতে আঁসু’ প্রথম হিন্দি ছবি যা সেন্সর বোর্ডের থেকে ‘এ’ (A) সার্টিফিকেট পায়। ১৯৫২ সালে মধুবালা কে আমেরিকার ‘লাইফ’ ম্যাগাজিনে “The Biggest Star in the World – and she’s not in Beverly Hills” এই শিরোপায় ভূষিত করা হয়।
হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপরা,যখন ইন্টারন্যাশ্যানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া তে গেস্ট হিসেবে আসেন তখন মধুবালাকে তাঁর সিনেমার জন্য কাস্ট করতে চাইলেও মধুবালার বাবা সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন।
১৯৫১ সালে ‘তারানা’-র সেটে দিলীপ কুমারের সাথে মধুবালার সম্পর্ক তৈরী হয়। সঙ্গদিল,আমার ও মুঘলে আজম ছবিতে তাঁদের অভিনয় ও কেমিস্ট্রি সবার নজর কাড়ে। নয় বছরের তাঁদের সম্পর্ক অতি চর্চিত হলেও ‘মুঘলে আজম’ ছবি চলাকালীন তাঁদের সম্পর্ক ছেদ হয়। এবং এই সম্পর্ক ছেদের কারণ ছিলেন মধুবালার বাবা।
১৯৬০ সালে পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে কিশোর কুমারের সাথে মধুবালার বিয়ে হলেও,সে সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। ‘চলতি কা নাম গাড়ী’ ও ‘হাফ টিকিট’ এই দুই ছবি তৈরির সময় দুজন কাছাকাছি আসেন।
দুঃখের ব্যাপার,অফল্যের শীর্ষে পৌঁছেও মধুবালা কোনোদিন কোনো আওয়ার্ড পাননি। ১৯৫৪ সালে,মধুবালার হৃৎপিণ্ডে একটি ব্লকেজ ধরা পড়ে। ১৯৬০ সাল থেকে তাঁর শরীরের অবনতি শুরু হয়। প্রায় নয় বছর তাঁকে শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল।
১৯৬৯ সালে পরিচালক হিসেবে ‘ফর্জ অর ইশ্ক’ মধুবালার ডেবিউ হবার কথা থাকলেও,তা অধরাই থেকে গেলো। মৃত্যুর এতো বছর পরেও ‘মধুবালা’ সিনেমার উজ্জ্বল নক্ষত্র। (কলিকাতা)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

টাগাইলে পাঁচ গুণীজন ও এক প্রতিষ্ঠানকে সংবর্ধনা দিয়েছে ‘সৃজন মির্জাপুর’

পাঁচ গুণীজন ও এক প্রতিষ্ঠানকে সংবর্ধনা দিয়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আবৃত্তি সংগঠন ‘সৃজন মির্জাপুর’। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন...

৩০শে মার্চ থেকে খুলছে স্কুল-কলেজ, তবে প্রতিদিন ক্লাস হবেনা

করোনা মহামারির কারণে প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকা স্কুল-কলেজগুলো ৩০শে মার্চ থেকে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যদিও শুরু থেকেই প্রতিদিন ক্লাসে যেতে...

শৈলকুপা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে আজ ভোট

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। গতকাল শনিবার বিকালে শৈলকুপা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে ও কালীগঞ্জ, মহেশপুর পৌরসভায় নির্বাচনের...

কালীগঞ্জে স্বামীর ধাক্কায় দেয়ালে লেগে স্ত্রী মৃত্যু, স্বামী পলাতক

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ স্বামী শুকুর আলী পলাতক ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্বামীর আঘাতে মনোয়ারা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে...

Recent Comments