শরীয়তপুরে কমছে কৃষি জমি, কমছে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা !

0
140

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুরে গত পাঁচ বছরে ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ কমেছে। একই
সাথে উৎপাদন কমেছে ১২ হাজার মেট্রিকটন চালের।

রাস্তাঘাট, অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মাণ ও মৎস্য খামারে জমি চলে যাওয়ায় কৃষি জমি ও উৎপাদন কমেছে বলে দাবী করেছে জেলা কৃষি বিভাগ। পতিত জমিতে উন্নত জাতের আউশ ও আমন চাষে এই ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৪ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। চাল হিসেবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৪৩ মেট্রিকটন। পাঁচ বছর পূর্বে জেলায় বোরোর আবাদ ছিল ২৮ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৪৩ মেট্রিকটন।

এ পাঁচ বছরের ব্যবধানে আবাদি জমি কমেছে ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর  আর উৎপাদন কমেছে ১২ হাজার মেট্রিকটন চালের। ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের বোরোর লক্ষ্যমাত্রা, আবাদ ও উৎপাদনে জেলার কৃষি বিভাগের তথ্য বিশ্লেষন করে দেখা গেছে প্রতি বছরই ধানের আবাদ ও উৎপাদন কমেছে।

২০১৮ সালে আবাদ ছিল ২৮ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে, যার উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৪৩ মেট্রিকটন। ২০১৯ সালে আবাদ ছিল ২৭ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে, যার উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৭২ মেট্রিকটন। ২০২০ সালে আবাদ ছিল ২৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৯ মেট্রিকটন। ২০২১ সালে আবাদ ছিল ২৪ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ২২২ মেট্রিকটন।

(শরীয়তপুরের সখিপুর দক্ষিণ তারাবুনিয়া এলাকায় কৃষি জমিতে পুকুর খনন)

আবাদ ও উৎপাদন কমে ২০২২ সালে  দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪০ হেক্টর জমি। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৪৩ মেট্রিকটন। মাঠ পর্যায়ের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে বীজ, সার, সেচের জ্বালানি মূল্য ও শ্রমিকের মজুরী মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে কৃষকের বোরো ধান উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে বোরো চাষের জমিও কমে গেছে। সেই কারণে বোরো চাষে কৃষকের অনিহা, তাই উৎপাদন কমছে। শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, জেলায় মানুষের বসবাস বেড়েছে। সাথে সাথে রাস্তাঘাটও বেড়েছে।

তাছাড়া অনেক কৃষি জমি সামান্য খনন করেই মাছ চাষে পরিনত করেছে। সব মিলিয়ে কৃষি জমি কমে রবি ও খরিফ মৌসুমের সকল ফসল উৎপাদন কমেছে। বর্তমানে উন্নত জাতের আউশ ও আমন ধানের বীজ এসেছে। কৃষক এই ধানের চাষ করলে সেচের প্রয়োজন হবে না।

প্রাকৃতিক ভাবে বৃষ্টির পানিতেই এই ধান বেড়ে উঠবে। সার ও কীটনাশক কম লাগবে। উৎপাদনও বোরোর মতোই হবে। সকল পতিত জমিতে এই ধানের চাষ করা যাবে। এই ভাবে চালের উৎপাদন ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব। আউশ চাষে উদ্ভুদ্ধ করণের লক্ষে সরকার জেলায় ৭ হাজার কৃষককে বীনামূল্যে বীজ ও সার দিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here