স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামী, ১১দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

0
176
শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি জলিলের মরদেহ ১১দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রোববার দুপুরে এক্সিকিউ-টিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহানের উপস্থিতিতে লালমনিরহাট পৌর  সভার সাপটানা কবরস্থান থেকে জলিলের লাশ উত্তোলন করা হয়।
পুলিশ জানায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এলাকায় বাড়ি হলেও  শহরের সাপাটানা (মাঝাপাড়া) এলাকায় থাকতেন স্ত্রী মমিনাসহ জলিল। একই এলাকার পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী প্রায় সময়ে মমিনাদের বাসায় আসতেন।এরই এক পযায়ে গোলাম রব্বানীর সংগে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন মমিনা।
ঈদের পরেরদিন (২২ জুলাই) গভীর রাতে পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী কৌশলে জলিলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এদিকে অপেক্ষারত স্ত্রী মমিনা বেগমের স্বামী ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথে মমিনা ও তার প্রেমিক রব্বানী তাকে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হলে ভোরের দিকে মমিনা বেগম চিৎকার শুরু করেন।
পরে আশপাশের লোকজন এসে জলিলের নাকে ও মুখে রক্ত বের হতে দেখেন এবং পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী মৃত্যু নিশ্চিত করে তরিঘরি করে শহরের সাপটানা কবরস্থানে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন।
জলিলকে হত্যা করা হয়েছে এই মমে মৃত্যের তিনদিন পর (২৫ জুলাই) নিহত জলিলের বড়ভাই আব্দুর রশিদ পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।পরে পুলিশ ফোন কল যাচাই করে ২৭ জুলাই জলিলের স্ত্রী মমিনা,তার প্রেমিক গোলাম রব্বানীসহ ৪জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।প্রাথমিক   জিজ্ঞাসাবাদে মমিনা ও রব্বানী হত্যার কথা স্বীকার করেন।অপর দু জন হত্যার সংগে সম্পৃক্ত না থাকায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
পরে স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানীকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের পর আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরনের নিদেশ দেন।।পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে লাশ উত্তোলনের আবেদন করলে আদালত কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত।
এরই ধারাবাহিকতায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহানের উপস্থিতিতে পৌরসভার সাপটানা কবরস্থান থেকে জলিলের লাশ উত্তোলন করা হয়।পরে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
আসামীদের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দির মাধ্যমে উঠে এসেছে তারা দুজনেই চেতনানাশক ঔষধ খাওয়ায়ে বালিশ চাপা দিয়ে জলিলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।লাশ উত্তোলনের করা হয়েছে এখন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
এই হত্যার সংগে আরো কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় নেওয়া হবে বলে জানালেন পুলিশের এই কমকতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here