সিলেট নগরীর বাগবাড়ী নরশিংটিলায় তীব্র পানির সংকট ! 

0
53
সিলেট প্রতিনিধিঃ নগরীর বাগবাড়ী নরশিংটিলায় সিটির পানির লাইনে পানি নেই। অথচ প্রতিমাসে আদায় হচ্ছে পানির বিল।এলাকাবাসীর অভিযোগ সরকারি পানির লাইনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৭/৮ ঘন্টা পানি পাওয়া যায় না। তীব্র পানির সংকট।
বাগবাড়ী নরশিংটিলায় এই পানির সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলছে। বারবার স্হানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর নিকট অভিযোগ করে ও কোন আশানুরূপ ফল পায়নি এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, একসময় সিটির পানির লাইনে পানির খুব বেশি চাপ ছিল। সবাই পানি পেয়েছে।  ধীরে ধীরে পানির চাপ কমতে থাকে। প্রথমে পানির পাইপ দুই ফুট লম্বা ছিলো তারপর পানির প্রেসার কমতে থাকলে পাইপ এক ফুটে নিয়ে আসা হয়। এর কিছুদিন পর এক ফুট পানির পাইপে ও পানি পাওয়া যায় না। এরপর থেকে শুরু হয় এলাকায় তীব্র পানির সংকট যা আজ অবধি বিদ্যমমান রয়েছে।
তবে একটি বিষয় লক্ষনীয়, সারাদিন পানি থাকে না কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে লাইনে পানির অভাব থাকে না। এসময় পানি পাওয়া যায়। বিদ্যুৎ চলে এলে আবার পানি উধাও। এই ঘটনায় এলাকা বাসীর ধারণা সিটির পানির লাইনে অবৈধভাবে মোটর সংযোগ রয়েছে।যা সিটি করপোরেশন কতৃক তদন্ত করলে প্রকৃত সত্যতা পাওয়া যাবে।
মাঝে মাঝে সিসিকের পানি বাহী গাড়ী পাঠিয়ে পানি সরবরাহ করা হয়েছে। তাতে তো কোন প্রতিকার হয়নি। বেশ কয়েকবার স্হানীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে পানির সংকট নিয়ে সংবাদ ও প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর সপ্তাহ খানেকের মতো একটু সার্ভিস ভালো হলে পরে আবারো সেই আগের অবস্থা চলে।
বিগত কিছুদিন পুর্বে ইউএনডিপির আর্থিক সহযোগিতায় ও সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যেগে নরশিংটিলা জালালী ৪৮ নং প্লটের মধ্যে  একটি গভীর নলকুপ স্হাপন করা হয়। কিন্তু এই গভীর নলকুপ স্হাপন  করলে ও সংকট কমছে না পানির। নগরীর নরশিংটিলা এলাকা একটি ঘন বসতিপুর্ন এলাকা।
এই এলাকায় আনুমানিক ২/৩  হাজার লোকের বসবাস।  এর মধ্যে অধিকাংশের ও বেশি মানুষ সিটির পানির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সকাল থেকে ৩/৪ টার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পানির লাইনে পানি থাকে না।
এরপর ২/৩ ঘন্টা মোটামুটি পানি আসলে ও সন্ধ্যার পর থেকে আবার লাইনে পানি থাকে না। বিশেষ করে শুক্রবার হলে তো আর কথা নেই সকাল থেকে বিকাল ৩/৪ টা পর্যন্ত পানি থাকে না। সকাল থেকে বিকেল অবধি রান্না-বান্না, গোসল,সহ যাবতীয় কাজে পানি  অত্যন্ত জরুরি কিন্তু এসময় পানি পাওয়া যায় না।
এব্যাপারে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মখলিছুর রহমান কামরান এর সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি অবগত আছি। পানির সংকট দীর্ঘদিনের।
পানির সংকট নিয়ে কাজ করছি। ইদানিং ইউএনডিপির আর্থিক সহযোগিতা ও সিলেট সিটি করপোরেশন কতৃক প্রদত্ত একটি গভীর নলকুপ স্হাপন করেছি। এবং নরশিংটিলা বাগবাড়ী চৌধারী টিলায় একটি গভীর নলকুপের কাজ চলমান রয়েছে।
আশা করি এই নলকূপের কাজ শেষ হলে পানির সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবো। আর অবৈধ সংযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই তবে বিষয় টা খতিয়ে দেখবো এবং অবৈধ সংযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় কোনো দিন পানির সংকট ছিলো না। তবে গত কয়েক বছর থেকে পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেও কোন সমাধান হচ্ছে না।
তিনি বলেন, পানি সংকটের একমাত্র কারণ হচ্ছে সিটি কর্পো-রেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি। তারা নিয়মিত ডিউটি করে না। তাছাড়া আমাদের এলাকার পানির লাইন থেকে অন্য এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়। যে কারণে এ সমস্যা হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বাগবাড়ী নরশিংটিলার পানি সংকট নিরসনে গৃহিত পদক্ষেপ ও সিটির পানির লাইনে অবৈধভাবে মোটর সংযোগ কারীদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  নিতে স্হানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিসিক মেয়র সহ সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here