টাংগাইলের পোড়াবাড়ীর চমচম কারিগরদের ব্যবসায় ধস !

0
89
টাংগাইলের পোড়াবাড়ীর চমচম কারিগরদের ব্যবসায় ধস নেমেছে। করোনাসৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রসিদ্ধ এই মিষ্টি ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
মিষ্টি ব্যবসায়ীরা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে দফায় দফায় লকডাউন দেয়ায় অন্যান্য ব্যবসার মতো মিষ্টির ব্যবসাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ সময় অনেক মিষ্টি ব্যবসায়ী পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে জমানো টাকা খরচ করে নিঃস্ব হয়েছেন। অনেকে বাপ-দাদার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ঋণ নিয়েছেন।
জেলা রেস্তোরাঁ মিষ্টি মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, এই সমিতির আওতায় জেলায় প্রায় আড়াইশ চমচম ব্যবসায়ী রয়েছেন। এসব দোকানে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। স্বাভাবিক সময়ে এসব দোকানে প্রতিদিন প্রায় একশ মণ চমচম বিক্রি হতো। এ ছাড়া দই, ঘি, রসগোল্লা ও রসমালাই থেকেও আয় হতো।
কিন্তু করোনার কারণে বিক্রি বন্ধ থাকায় মিষ্টির কারিগররা পড়েছিলেন সবচেয়ে বিপাকে। তবে লকডাউন শেষে দোকান খোলার পর পুনরায় জমতে শুরু করেছে টাঙ্গাইলের মিষ্টির বাজার। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৮০ মণ মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মিষ্টির কারিগর প্রদীপ সরকার বলেন, ৩৫ বছর মিষ্টির দোকানে কাজ করি। করোনাভাইরাসে দেড় বছরে কাজ না থাকায় যে কষ্ট করে চলতে হয়েছে এ রকম কষ্ট জীবনে কখনও করিনি।
মিষ্টি ব্যবসায়ী স্বপন কুমার বসাক বলেন, আমার পরিবার প্রায় ৭০ বছর মিষ্টি ব্যবসায় জড়িত। কিন্তু করোনা সব শেষ করে দিয়েছে। তবে আশার কথা এখন আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আছি। দোকানে বেচাবিক্রি আবার বাড়তে শুরু করেছে।
জেলা রেস্তোরাঁ মিষ্টি মালিক সমিতির সভাপতি স্বপন ঘোষ বলেন, সমিতির অনেক ব্যবসায়ী করোনাকালে ঋণ করেছেন। সরকারি কোনো সহযোগিতা বা অনুদান আমরা পাইনি। আমার দোকানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে চারশ কেজি চমচম বিক্রি হতো। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দোকান বন্ধ থাকায় আমরা পথে বসে গেছি।
টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি খান আহমেদ শুভ বলেন পোড়াবাড়ীর চমচম টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here