টাংগাইল-বাসাইলে, ইউএনওর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ !

0
125

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন এক কলেজছাত্রী। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আবেদনের পাশাপাশি মোঃ মনজুর হোসেনেকে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন।

অভিযুক্ত ইউএনও মোঃ মনজুর হোসেন (পরিচিতি নং-১৭৩০০) বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনা তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও কলেজছাত্রীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০২১ সালে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ এনও) থাকাকালীন ফেসবুকে কথোপকথনের মাধ্যমে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় মোঃ মনজুর হোসেনের। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনজুর হোসেন ওই কলেজছাত্রীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার বাসাইলের সরকারি বাসভবনে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।

এক পর্যায়ে ওই কলেজছাত্রী ও ইউএনও মোঃ মনজুর হোসেন টাঙ্গাইল শহরের কুমুদিনী কলেজের পাশে পাওয়ার হাউসের পেছনে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ভিন্ন পরিচয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তারা দুই মাস থাকার পর কলেজ ছাত্রী বিয়ের মাধ্যমে সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ইউএনও মো. মনজুর হোসেনকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এ সময় ইউএনও মোঃ মনজুর হোসেন ওই কলেজছাত্রীকে জানান তারা দুজন ভারতে ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন।

২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি গাড়িতে তারা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসা ভিসায় ভারতে যান। ওই বছরের ১২ অক্টোবর তারা ভারত থেকে দেশে ফিরে আসেন। ভারতে অবস্থানকালে তারা অধিকাংশ সময় নিজেদেরকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়েছেন। ভারতের হায়দারাবাদে হাসপাতালের কাছে একটি বাসা নিয়ে সেখানে অবস্থান করে তারা দুজনেই চিকিৎসা নেন।

ওই সময় কলেজছাত্রী ইউএনওর ব্যক্তিগত ব্যাগ থেকে পাসপোর্ট বের করে জানতে পারেন ইউএনও মোঃ মনজুর হোসেন বিবাহিত এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে। ইউএনওর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিয়ের বিষয়টি তিনি গোপন করেছেন বলে স্বীকার করেন।

১২ অক্টোবর ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার পর তারা যার যার বাড়িতে চলে যান। পরে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে তারা আবার দেখা করেন এবং ইউএনও মোঃ মনজুর হোসেন পুনরায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাসের প্রস্তাব দেন।

কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও ইউএনও মোঃ মনজুর হোসেন তাকে বিয়ে না করায় পুনরায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং প্রতিকার চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ওই কলেজছাত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here