দেশব্যাপী পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে খাল পুনঃখনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৩৩ হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাবেন এবং প্রায় ১২০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে। এতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এবং কৃষি উৎপাদন প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অনেক নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষাকালে হঠাৎ বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বর্ষার অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তিনি জানান, খালের দুই পাশে প্রায় সাত হাজার গাছ রোপণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি কৃষকদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যাতে তারা সহজে সরকারি সহায়তা পেতে পারেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের চার কোটি পরিবারের মায়েদের জন্য ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৭ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প ও মিল-কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশের আরও ৫৩টি খালে খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রতীকীভাবে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খননের সূচনা করেন এবং একটি গাছের চারা রোপণ করেন।