Author: MD Nazrul Islam

  • ককটেল বিষ্ফোরণ-সংঘর্ষ-মামলা পাল্টা মামলায় উত্তপ্ত  ইসলামপুর

    ককটেল বিষ্ফোরণ-সংঘর্ষ-মামলা পাল্টা মামলায় উত্তপ্ত ইসলামপুর

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ দীর্ঘদিন পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসের জনপদ চরাঞ্চলের ইসলামপুর। তবে, পূর্বের গ্রাম্য রাজনীতির নেতাদের বদলে উদয় হয়েছে নতুন নেতৃত্বের। শুরু হয়েছে তান্ডবের। চলছে একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে ফায়দা লুটে নেয়ার চেষ্টা।

    রাজনৈতিক ক্ষমতার বিষয় না হলেও কেউ সাংবাদিকতার দাম্ভিকতায় ক্ষমতাবান, কেউ স্থানীয়ভাবে। কিন্তু আবারও পূর্বের সেই সন্ত্রাসের জনপদের মতই আতংকগ্রস্থ ও নিষ্পেষিত এলাকার সাধারণ মানুষ। ভয়ে ভীত, কখন যানি কার উপর দায় চেপে যায়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অনেক সাধারণ পরিবার।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া পোড়াগ্রাম ও লক্ষীনারায়ণপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণ, রক্তাক্ত সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা আর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল। সাংবাদিক ফারুক আহমেদ বনাম ইউপি মেম্বার জিয়া-এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে জনজীবন এখন অতিষ্ঠি এবং আতঙ্কিত।

    এই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে রাজনৈতিক গোজামিল সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের চেষ্টার বিষয়ে সোমবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে এগারোটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম সেবা।

    পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রায় ছয় থেকে নয় মাস আগে মহানন্দা ও পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ফারুক ও জিয়া মেম্বারের মধ্যে প্রথম বিরোধ শুরু হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে এসব অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হলে উভয় পক্ষ নতুন করে সংঘাতে জড়ায়।

    সংঘর্ষের একপর্যায়ে আহত হয় সাংবাদিক ফারুকপন্থী শিমুল, অপরদিকে হামলার শিকার হন জিয়া মেম্বারের ভাই কোরবান ও সমর্থক শহিদুল ইসলাম। ঘটনার পর থেকে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ও মামলা-পাল্টা মামলার ঘটনায় পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সদর মডেল থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর হয়।

    পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই ও ১১জুলাই দুই পক্ষ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। সাংবাদিক ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫টি মামলা বিচারাধীন/তদন্তাধীন রয়েছে।

    পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে আরো বলা হয়, ফারুক আহমেদ চৌধুরী তার জামিনে থাকা অবস্থায় পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ করে প্রশাসনকে চাপে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার গ্রুপে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততা থাকলেও এই ঘটনা পুরোপুরি স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘটিত, এটি কোনো রাজনৈতিক সংঘাত নয়।

    পুলিশ সুপার দৃঢ়কন্ঠে বলেন, অপরাধী যে পক্ষেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল রাজনীতি নয়, আধিপত্যের দৌড় প্রতিহত করবে প্রশাসন! “এটি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়।

    ফারুক ও জিয়া, উভয় পক্ষেই বিভিন্ন দলের অনুসারী রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে সব মামলার তদন্ত করছে,” বলেন পুলিশ সুপার। সচেতন মহলের দাবী, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রদান এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধের। এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে, এসব অস্বীকার করে সাংবাদিক ফারুক গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, এসপি মহাদয়ের পুরো বক্তব্যে আমাকে ভিকটিম বানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল আমার দাদার বাড়ি এলাকা। যেখান থেকে আমরা ৩০ বছর আগেই চলে এসেছি। আমি শহরে বসবাস করি প্রায় ১৫ বছর ধরে। ইসলাম-পুরের কোন বিষয়ে আমি সুবিধাভোগী বা গ্রাম্য রাজনীতিতে আমার কোন সম্পৃক্তা নেই।

    তিনি গণমাধ্যমের সামনে আমাকে ভিলেজ পলিটিক্সের একটি পক্ষের নেতা বানিয়ে দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা আমার চাচা-চাচাতো ভাই। আমি তাদের নেতা নই। সাংবাদিক ফারুক আরও বলেন, এঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। এর দায় কে নিবে?।

    পুলিশের দেয়া তথ্য মোতাবেক এই আধিপত্যের বিষয়-প্রায় ৬-৯মাস পূর্বে সাংবাদিক ফারুক আহমেদ ও নাসির মেম্বার মহানন্দা নদী থেকে, আর ৬-৭ মাস আগে জিয়া মেম্বার পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলন শুরু করেন। প্রশাসনের নজরে এলে সদর ইউএনও ঊীপধাধঃড়ৎ জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিমের জিম্মায় রাখেন।

    কিন্তু ১৫-২০ দিন পর ফারুকের লোকজন গোপনে পুনরায় উত্তোলন শুরু করে। পুলিশ আসার খবরে পালানোর সময় ট্রাক্টরের নিচে পড়ে ফারুক গ্রুপের শিমুল (৩৬) গুরুতর আহত হন।

    প্রথম মামলা নং: ৫৮, তারিখ: ২৫-০৩-২০২৫, ধারা: ৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬(২)/১১৪ পেনাল কোড, বাদী: শিমুল (ফারুক গ্রুপ) অভিযুক্তঃ জিয়া মেম্বারসহ ১১ জন এজাহার-নামীয় ও ১৫-২০ জন অজ্ঞাত। ২য় ঘটনা ও কোর্ট মামলাঃ কিছুদিন পর কোরবান নামের এক যুবককে চায়ের দোকানে একা পেয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ফারুক গ্রুপ।

    বাদী: কোরবান, আসামি: সাংবাদিক ফারুক আহমেদ ও তার সহযোগীরা (মামলা কোর্টে চলমান)। ৩য় মামলাঃ- তারিখ: ১৫-০৬-২০২৫ ঘটনা: রাত ১০টায় তেররশিয়া জুম্মা মসজিদের সামনে শহিদুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে জখম করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ফারুকের লোকজন।

    বাদী: কামরুল ইসলাম (ভাই), মামলা নং: ২৭, তারিখ: ২০-০৬- ২০২৫। ধারাঃ ১৪৩/ ৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/১১৪ পেনাল কোড ও বিস্ফোরক আইন ৩/৪/৬ অভিযুক্তঃ ফারুক আহমেদসহ ১১ জন।বর্তমান অবস্থা: ৫ জন আদালত থেকে জামিনে মুক্ত।

    ৪র্থ মামলা (পাল্টা): বাদী: মো. অসিম আলী (ফারুক গ্রুপ), মামলা নং: ৩৯, তারিখ: ২৩-০৬-২০২৫, ধারাঃ ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/১১৪ পেনাল কোড ও বিস্ফোরক আইন ৩/৪/৬, অভিযুক্ত: জিয়া মেম্বার ও তার অনুসারীরা, অবস্থা: জিয়া মেম্বারের ছেলে নিশানসহ ৩ জন জামিনে।

    ৫ম মামলা:-তারিখঃ১০-০৭-২০২৫, ঘটনাঃ শহিদুল ও কামরুলকে মামলা তুলে নিতে চাপ, না মানায় হুমকি, ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ। পরদিন ১১ জুলাই সকাল ৬:৩০ টায়: ৩৫-৪০ জন ফারুক গ্রুপের লোক ৬-৭টি বাড়িতে হামলা, পাল্টা ককটেল বিস্ফোরণ জিয়া গ্রুপের।

    বাদী: সামিরুল ইসলাম (জিয়া গ্রুপ), মামলা নং: ১৭, তারিখ: ১১-০৭-২০২৫, ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৫০৬(২)/১১৪ ও বিস্ফোরক আইন ৩/৪/৬, অভিযুক্ত: ফারুক আহমেদসহ ২২ জন এজাহারনামীয় ও ২০-২৫ জন অজ্ঞাত। ৬ষ্ঠ মামলা (পাল্টা):-বাদী: মো. অসিম আলী (ফারুক গ্রুপ) মামলা নং:২০, তারিখ: ১২-০৭ -২০২৫, ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৪২৭/৩৭৯/৫০৬(২)/১১৪ ও বিস্ফোরক আইন ৩/৪/৬, অভিযুক্ত: জিয়া মেম্বারসহ ২৭ জন।

  • সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা অবনতিতে মানিকগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ !

    সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা অবনতিতে মানিকগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ !

    সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আজ  বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মানিকগঞ্জ জেলা শাখা।

    মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতার নির্দেশনা ও সহযোগিতায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

    দলীয় সূত্র জানায়, দুপুরবেলা মানিকগঞ্জ শহরের খালপাড় থেকে একটি বিশাল মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে এবং শেষে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম হাওলাদার।

    এ সময় দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক দল মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক জিএস জিন্নাহ খান,  সদস্য সচিব রকিবুর রহমান রাকিব, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাদ্দাম হোসেন, জাকির হোসেন, সাইদুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, সাব্বির হোসেন, রিপন, রনি, শামসুল হক, এক নম্বর সদস্য এনামুল হক সিকান্দার।

    প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। একটি চিহ্নিত চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

     

  • ভালুকায় একই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যা

    ভালুকায় একই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যা

    ময়মনসিংহের ভালুকায় ভাড়া বাসায় এক নারী ও তার দুই ছেলেমেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এর পর থেকে ওই নারীর দেবর নজরুল ইসলাম পলাতক আছেন।নিহতরা হলেন—রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ময়না আক্তার (২৫) এবং তার দুই শিশু সন্তান রাইসা আক্তার (৪) ও নিরব মিয়া (২)। রফিকুল নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চেলের ঘাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভালুকায় একটি কারখানায় চাকরি করেন।

    সোমবার (১৪ জুলাই) ভোররাতে ভালুকা পৌর শহরের টিএনটি রোডের হাইয়ুমের বাসা থেকে ওই তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানিয়েছেন, ময়না আক্তার ভালুকার রাজই ইউনিয়নের কুল্লাব এলাকার বাসিন্দা। ২০১৭ সালে রফিকুলের সঙ্গে ময়নার বিয়ে হয়। তারপর থেকে রফিকুল স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ভালুকায় বাস করতেন। দেড় মাস আগে পৌর শহরের টিএনটি রোডের হাইয়ুমের বাসা ভাড়া নেন তারা। একই বাসায় বাস করতেন রফিকুলের ভাই নজরুল ইসলাম।

    ওসি আরো জানান, রবিবার রাতে রফিকুল কারখানায় ডিউটিতে যান। সকালে রফিকুল বাসার গেট বন্ধ পেয়ে স্ত্রী-সন্তানকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে তার কক্ষ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বিছানায় গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পান। রফিকুল থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

    ওসি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “রফিকুলের সাথে একই বাসায় ভাড়া থাকতেন তার ভাই নজরুল ইসলাম। নজরুল ইসলামের রুম তল্লাশি করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা জব্দ করা হয়েছে।

    আমরা মোটামুটি নিশ্চিত—নজরুল পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে তার ভাবি-ভাতিজা-ভাতিজিকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

  • মানিকগঞ্জে কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু: ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা

    মানিকগঞ্জে কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু: ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী মতিনমোড় এলাকার একটি,ডেকোরেটর ব্যবসায়ী দোকান থেকে সুজন মিয়া (১৩) নামের এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিশোরটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় তার মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

    অপর দিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো: শাহিনুল ইসলাম।

    নিহত সুজন মিয়া সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন বিলতালুক ছাপরাপাড়া গ্রামের বিষু মিয়ার ছেলে। সুজন মিয়ার পিতা বিষু মিয়া জানান, আমার ছেলে দুই মাস আগে রাগ করে বাড়ী থেকে এসেছে। পরে খবর পেলাম তিল্লী মতিনমোড় এলাকার শাকিব মিয়ার ডেকোরেটর ব্যবসায়ী দোকানে কাজ করে। আমি একাধিক বার ছেলেকে নিতে এসেছি। আমার সাথে যায়নি। আজ সোমবার সকালে খবর পেয়েছি আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আমার ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি তাকে হত্যা করা হয়েছে।

    ডেকোরেটর ব্যাবসায়ী মোঃ সাকিব মিয়া জানান,গত তিন দিন আগে আমার দোকানে মো: সুজন মিয়া কাজে আসে। গতকাল পাশের গ্রামের একটি বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান থেকে আসার পর থেকে একাধিকবার পাতলা পায়খানা ও বমি করে সুজন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে আমার ছোট মেয়ে আমাকে জানান সুজন কাকার পিঠে ঘা হয়েছে।

    সুজন আমাকে জানান ভ্যান গাড়ী থেকে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছি। পরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তারপর দোকান ঘরে শুয়ে থাকে। আজ সকালে পাশের দোকানদার আমাকে খবর দেয় তোর দোকানের কর্মচারী সুজন মারা গেছে।

    সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোঃ সুলতান হোসেন বলেন,ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।

    ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে বলতে পারব কীভাবে তার মুত্যু হয়েছে। সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো: শাহিনুল ইসলাম বলেন,এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধর্ষক শ্বশুরসহ আটক ৪

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধর্ষক শ্বশুরসহ আটক ৪

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর পূত্রবধুকে ধর্ষন মামলার এজাহার নামীয় পলাতক আসামী শ্বশুর টুলু আলী (৫০) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা। গ্রেফতারকৃত আসামী টুলু জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোঃ গাজলুর রহমান এর ছেলে।

    র‌্যাবের এক প্রেসনোটে জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল ধর্ষন মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামী মোঃ টুলু আলী কে ১৩ জুলাই রাত এক টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার কানসাট ডোবরা এলাকা হতে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব আরও জানায়, ভিকটিম বয়স-১৮ এর প্রায় ০৫ বছর পূর্বে আসামী মোঃ টুলু আলী এর পুত্র মোঃ মাসুদ রানা এর সহিত বিয়ে হয়।

    বিবাহের পর হতে ভিকটিমের শ্বশুর আসামী মোঃ টুলু আলী এর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে পুত্রবধুর উপর। আসামী টুলু আলী সুযোগ বুঝে বিভিন্ন সময় ভিকটিমকে অশ্লীল কথাবার্তা বলে উত্যাক্ত করত এবং কুপ্রস্তাব দিত। বিষয়টি ভিকটিম তার স্বামীসহ তার বাড়ীর লোকজনদের জানালে আসামী দিন দিন বে-পরোয়া হয়ে উঠে।

    গত ২ জুন/২৫ বাড়ীতে ভিকটিমের স্বামী ও শ্বাশুড়ী না থাকার সুযোগ আসামী টুলু আলী পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টার দিকে জোর পূর্বক ০৪টি ট্যাবলেট ঔষধ ভিকটিমকে সেবন করায়। ঔষধ খাওয়ানোর পরে ভিকটিম তার শয়ন ঘরে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়লে আসামী ভিকটিমকে ধর্ষন করে।

    রাত আনুমানিক ১২:০০ ঘটিকায় ভিকটিমের ঘুম ভাঙ্গলে আসামী আবারো জোর পূর্বক ভিকটিমকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে দফায় দফায় ধর্ষন করে এবং উক্ত ঘটনার বিষয়ে কাউকে কোন কিছু না বলার জন্য বলে এবং প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

    ০৪/০৬/২০২৫ তারিখ ভিকটিম তার নানা-নানির বাড়ীতে গিয়ে আত্মীয় স্বজনদের কে আসামীর কু-কর্মের কথা বলে। একই তারিখ আসামী ভিকটিমকে তাদের বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভিকটিমের নানা-নানির বাড়ীতে গেলে তাকে আটক করে ৪নং মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেয়।

    ঘটনার বিষয়ে জানাজানি হলে আসামীর পরিবারবর্গ আত্মীয় স্বজন মীমাংসার কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদ হতে আসামীকে নিয়ে যায়। তারপর হতে আসামী আত্মগোপন করে। উল্লিখিত ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করে।

    অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার চৌডালা বাজার এর অর্ন্তগত চৌডালা মাদ্রাসা মোড় হতে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্যাম্পের একটি দল।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১২ জুলাই বেলা ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন চৌডালা বাজার এর অর্ন্তগত চৌডালা মাদ্রাসা মোড়ে জনৈক শ্রী লক্ষণ ঘোষ এর হোটেলের সামনে পাকা রাস্তার উপর র‌্যাব-৫ সিপিসি-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল চেকপোষ্ট ও অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী ১। মোঃ রবিউল (৩২), পিতা-মোঃ শফিকুল ইসলাম, ২। মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩৩), পিতা-মৃত তাশির উদ্দিন, উভয় সাং-মনোহরপুর ৩। মোঃ বেনজির (৪২), পিতা-মোঃ আব্দুল খালেক, সাং- শাহাপাড়া, সর্ব থানা-শিবগঞ্জ, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেরকে গ্রেফতার করে এবং তাদের হেফাজত হতে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানায় মামলা করা হয়েছে।

     

  • শিবগঞ্জের আ’লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া গ্রেফতার

    শিবগঞ্জের আ’লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া (৫৯) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোলাম কিবরিয়া (৫৯), শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের মৃত খোশ মোহাম্মদ এর ছেলে।

    চাঁপাইনবাব গঞ্জের শিবগঞ্জে রাজনীতির মাঠ কাঁপানো নেতা গোলাম কিবরিয়া এবার গ্রেফতার! আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া (৫৯)–কে রোববার (১৩ জুলাই) সকালে শিবগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে আটক করে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এস এম শাকিল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও, এবার শিবগঞ্জ থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে শুধু এখানেই শেষ নয়, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলাতেও তিনি আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে আওয়ামীলীগের এই নেতাকে।

    পুলিশ জানায়, শিবগঞ্জ থানার মামলা ছাড়াও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এতদিন আইনের নাগালের বাইরে ছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি। তাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

    দীর্ঘদিন ধরে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতার গ্রেফতারকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরেও নানামুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন ধরে যিনি মামলার আসামি, তিনি এতদিন ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে কেন? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের মুখে মুখে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলা হওয়ার পর থেকে তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান ছিলো। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া (৫৯) কে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া।

  • আজ থেকে সারাদেশে চিরুনী অভিযান শুরু

    আজ থেকে সারাদেশে চিরুনী অভিযান শুরু

    অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের ধরতে আজ থেকেই বিশেষ বা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    রোববার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    উপদেষ্টা বলেন, খুন, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, অপহরণ, নারী নির্যাতন, মব সহিংসতা, মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যে কোনো সময় চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের ধরতে বিশেষ বা চিরুনি অভিযান এখন থেকেই পরিচালনা করতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণ জনগণসহ সবার সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। সরকার জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী যে কোনো কার্যক্রম কঠোর হাতে দমন করবে।

    সভায় মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ; চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতিকারীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী ও উসকানিনিমূলক সাইবার প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইনগত ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

     

  • মানিকগঞ্জে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে পিতার মৃত্যুদণ্ড

    মানিকগঞ্জে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে পিতার মৃত্যুদণ্ড

    মানিকগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব দাশড়া এলাকায় নিজের নয় বছরের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে আসামি আনোয়ার হোসেন (৪৫) কে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

    রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ হামিদ এই রায় দেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেনের বাড়ি যশোরের কোতয়ালি উপজেলা। মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব দাশড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট রাতে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় ভাড়া বাসায় আসামি মেয়েকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা (আসামির স্ত্রী) বাদী হয়ে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।

    মামলাটি তৎকালীন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান নিজে তদন্ত করেন। ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হুমায়ুন কবির।

    তিনি জানান, মামলার নথিপত্র ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আনোয়ারকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। ভুক্তভোগী কিশোরী আদালতে জবানবন্দিতে ধর্ষকের ফাঁসি দাবি করেছে।

  • মানিকগঞ্জে পরকীয়ায় ধরা বিএনপির নেতা !

    মানিকগঞ্জে পরকীয়ায় ধরা বিএনপির নেতা !

    মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতাকে নারীসহ সারারাত গাছে বেঁধে রাখা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  এক পরনারীর ঘর থেকে গভীর রাতে বিবস্ত্র অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেল (৪৫) নামে ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক। ইতোমধ্যেই ঘটনাটি নিয়ে দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

    শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে এই বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ আর এম আল-মামুন। শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর এলাকার চর দেশগ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।

    স্থানীয়রা আরও জানান, উপজেলার  চর দেশগ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সিরাজুল ইসলাম মনজেলের অবৈধ সম্পর্ক চলছিল দীর্ঘদিন যাবৎ। এই বিষয় নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে চলছিল কানাঘুষা। গতরাতে মনজেল গ্রামের কয়েকজন লোক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখেন। দীর্ঘ সময় পর স্থানীয়রা হাতে-নাতে তাকে আটক করে এবং শনিবার ভোররাত পর্যন্ত গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম মুনজেল উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের গালা এলাকার মৃত শিরজন আলীর ছেলে। প্রবাসীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননী ও সিরাজুল ইসলাম মনজেল দুই সন্তানের জনক।

    ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান পিন্টু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাত দুইটার দিকে এলাকাবাসী মুনজেল ও ওই নারীকে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন। তারা দুজনেই অনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। ওই নারীর প্রবাসী স্বামী এখন আর এই নারীকে নিয়ে সংসার করবে না বলে বিদেশ থেকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন বলে জানান এই নেতা।

    তবে অভিযুক্তরা পরস্পর পরস্পরকে বিয়ে করতে রাজি আছেন বলে জানা গেছে। এখন সামাজিকভাবে বিষয়টা মীমাংসার চেষ্টা চলছে। দলীয়ভাবে আজীবনের জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ আর এম আল-মামুন  জানান, এই বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্যরা বিষয়টি  মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ করেননি। সবশেষ জানা গেছে, সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে দেয়া হয়েছে।

  • পুলিশ প্রশাসন চাঁদাবাজদের ভয় পায়-নাহিদ

    পুলিশ প্রশাসন চাঁদাবাজদের ভয় পায়-নাহিদ

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ আজ শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বাগেরহাটে পৌঁছেছে। সেখানে সদর উপজেলায় রেলরোডে জনসমাবেশে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘‘পুলিশ প্রশাসন এখনো চাঁদাবাজদের ভয় করে চলছে।’’

    শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে করা গণ-অভ‍্যুত্থানের ইতিহাস টেনে নাহিদ বলেন, ‘‘আমরা কথা বলি পুরনো বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে, বলি পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপক্ষে। যারা পুরনো বন্দোবস্ত, চাঁদাবাজির সংস্কৃতি, মাফিয়ার রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখছে, আপনাদের তার বিপক্ষে দাঁড়াতে হতে হবে।’’

    নিজেদের রাজনৈতিক দল তৈরির প্রেক্ষাপটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আমরা চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিপক্ষে আন্দোলন করেছিলাম। তবে বিগত এক বছরে সেই পরিবর্তন আসেনি। চাঁদাবাজরা এখনো রয়ে গেছে।

    সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘পুলিশ প্রশাসন মনে হচ্ছে, চাঁদাবাজদের ভয় পেয়ে তারা কাজ করে। দখলদারদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অ‍্যাকশন আমরা দেখি না।

    পুলিশ প্রশাসনকে জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। যদি তারা দলবাজ প্রশাসনের মতো আচরণ করেন, তাহলে তাদের পরিণতিও ফ‍্যাসিস্ট আমলের দলবাজ পুলিশ প্রশাসনের মতো হবে।’’