Category: মতামত

  • শ্রমিক নেতা নাজমুল হোসেন সাজনের নতুন পথ চলা !

    শ্রমিক নেতা নাজমুল হোসেন সাজনের নতুন পথ চলা !

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোলড়া গ্রামের কৃতি সন্তান এবং শ্রমিক আন্দোলনের পরিচিত মুখ মো. নাজমুল হোসেন সাজন দীর্ঘদিনের শ্রমিক রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে এখন পুরোপুরি মনোনিবেশ করছেন সামাজিক উন্নয়নে।

    গত ১৫ এপ্রিল তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সকল পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন। ​মাত্র ৩০ বছর বয়সেই সাজন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং ধামরাই-মানিকগঞ্জ শাখার সভা-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। নীতিগত ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে তিনি এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ​

    নাজমুল হোসেন সাজন কেবল শ্রমিক নেতা হিসেবেই নন,বরং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও এক সাহসী কণ্ঠস্বর। গোলড়া গ্রামের অবহেলিত রাস্তার উন্নয়নের দাবিতে তিনি ছিলেন রাজপথের অগ্রসেনানি। ​২৯ জানুয়ারি ২০২৫ ইং তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে টানা ৬ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।

    ​২৩ এপ্রিল ২০২৫ ইং মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বড় ধরনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি, যা এলাকার রাস্তা সংস্কারে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে। ​ধামরাই ও মানিকগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং ১৮ দফা দাবি আদায়ে সাজন ছিলেন রাজপথের অবিচল যোদ্ধা।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শ্রম সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে সেই সংস্কার কে অধ্যাদেশ ও পরবর্তীতে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের দাবিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে বহু জটিল সংকটে সমঝোতা করিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ​

    শ্রমিক রাজনীতির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ছাড়লেও জনসেবা ছাড়ছেন না তিনি। বর্তমানে সাজন ‘’একতা ও প্রগতি কল্যাণ সমাজ’’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন। ​

    নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মো. নাজমুল হোসেন সাজন বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার লড়াই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা। তবে এখন আমি আমার নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে চাই। ”একতা ও প্রগতি কল্যাণ সমাজ” সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাবে।

  • আমার ভাষা আন্দোলন

    আমার ভাষা আন্দোলন

    পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পম্চিমারা নানান অযুহাতে বাঙ্গালীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্ঠায় লিপ্ত হয়। প্রথম আঘাত আসে ভাষার উপর।। ফলে ১৯৪৭ সালের ১৯শে নভেম্বর বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, আইনজীবি, শিল্পী, সাংবাদিক ও সরকারী-বেসরকারী ও ওলামারা মুর্খ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের কাছে একটি স্বারক লিপি পেশ করেন। ১১মার্চ রাষ্ট্রভাষা সাবকমিটির উদ্দ্যোগে ধর্মঘট ও ছাত্র বিক্ষোভের আহব্বান করা হয়।

    এই বিক্ষোভ থেকে তোয়াহা, ওলি আহাদ, শেখ মজিব, বাহাউদ্দিন চৌধূরীসহ ৬৯ জন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়।  ১৪ই মার্চ তারা মুক্তি পেলে  ১৫ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ‘সাধারন ছাত্রসভা আহুত হয়। ১৯৪৭  সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীদের সম্মেলনে ঢাকসুর ভি.পি ফরিদ আহম্মদ ‘বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ও পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা ও শিক্ষার বাহনের দাবি করেন। তিনি বলেন ‘রাষ্ট্রভাষা, লিঙ্গুয়া, ফ্রান্কা নিয়ে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পূর্ববাংলার জনগনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা।

    ১৯৪৭ সালের ১লা সেপ্টমবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ ও রসায়ন বিভাগের দুই অধ্যাপক জনাব আবুল কাশেম ও নূরুল হক পাকিস্তান ‘তমদ্দুন মজিলস নামে একিট সংগঠেনর গোড়াপওন করেন । ১৯৪৭ সালে ঢাকায় তমুদ্দিন মজলিসের উদ্দোগে এক সাহিত্য সম্মেলনে পূববাংলা সরকারের মন্ত্রী ও সাহিত্যিক জনাব হাবিবুল্লাহ বাহারে সভাপতিত্বে বক্তাগন বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রকাশ দাবি করেন।

    ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর জিয়া উদ্দিন আহম্মদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার সপক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। কিন্তু জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর প্রতিবাদ জানান। দৈনিক আজাদ পত্রিকায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা র্শীষক নিবন্ধে তিনি লেখেন ‘পাকিস্তান ডোমিনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলের অধীবাসিদের মাতৃভাষা বিভিন্ন যেমন পশতু, বেলুচি, পাঞ্জাবী, সিন্ধি এবং বাংলা, কিন্তু উর্দু কোন অঞ্চলের মাতৃভাষা রুপে চালু নাই। যদি বিদেশী ভাষা বলিয়া ইংরেজী ভাষাকে অবজ্ঞা করা হয় তবে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষারুপে গ্রহন না করার পক্ষে কোন যুক্তি নাই।

    এরই প্রেক্ষাপটে করাচিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব পাশ হয়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষা বাংলা ও উর্দু করার সুপারিশ করা হয়। ফলে ১৫ই ফ্রেরুয়ারী প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন রাষ্ট্রভাষা ‘সংগ্রাম পরিষদের’ সাথে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয় ‘এপ্রিল মাসের ব্যবস্থাপনা সভায় এই বিষয়ে একটি প্রস্তাব উপস্তাপন করা এবং পাকিস্তান গনপরিষদও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই ব্যাপারে একটি বিশেষ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

    ১৯৪৮ সালের ২৫শে ফ্রেরুয়ারী কংগ্রেস নেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান গনপরিষদে সর্বপ্রথম ইংরেজী, উর্দু ভাষার পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। কংগ্রেস সদস্য শ্রীশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত, ও হেমহরি বর্মা তার এই প্রস্তাকে সমর্থন করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধীতা করেন। ১৯৪৭ সালের ১১ই মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সারাদেশে সাধারন ধর্মঘট পালিত হয়। উপায় অন্ত না দেখে খাজা নাজিমুদ্দিন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে চুক্তির একটি চুক্তি হয়।

    কিন্তু হঠাৎ করেই ১৯৪৯ সালের ২৪শে মার্চ পাকিস্তানের গর্ভনর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এক ঝটিকা সফরে ঢাকায় এসে রমনার রেস্ কোর্স ময়দানে পাচঁলক্ষ লোকের সমাবেশে ঘোষনা করেন ‘উর্দু, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তাৎক্ষনীক ছাত্রসমাজ এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং পরের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের পক্ষ থেকে শাসছুল হক, তোয়াহা, কামরুদিন, আবুর কাশেম, লিলিখান, অলি আহাদ, নইমুদ্দিন আহমেদ শামসল আলম ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাকে একটি স্বারক লিপি দেওয়া হয়। তা সত্যেও জিন্নাহ সাহেব ঢাকায় তার বিদায়ই ভাষনেও সবায়কে পাকিস্তানী হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ‘বাঙ্গালী, সিন্ধি ও পাঞ্জাবী বেলুচি পরিচয় পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য বিপদজ্জনক।

    ১৯৪৮  সালের ২৭শে ফ্রেরুয়ারী সামছুল আলমকে আহব্বায়ক করে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ছাত্রদের প্রচন্ড আন্দোলনের মুখে পরবর্তীকালে জিন্নাহ গোপনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সাথে দেখা করে ‘বাংলাকে‘ প্রাদেশিক সরকারি ভাষা হিসাবে মেনে নিয়ে পূর্ববাংলার ছাত্রসমাজের সাথে একটি আপোষ রফার ব্যাপারে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ জানান। ঢাকসুর ভি.পি ফরিদ উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক গোলাম আজম ও আব্দুর রহমান চৌধুরী (মহসীন হলের সহ-সভাপতি) আপোষ প্রস্তাবে রাজী হলেও শেখ মজিবুর রহমান, তোয়াহা, অলি আহাদ, তাজউদ্দিন আহম্মদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম আন্দোলন চলিয়ে যাওয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন।

    শেখ মজিবুর রহমানের এইরুপ একক নেতৃত্বের কারনে পরবর্তীতে তাদের সাথে দ্বন্দের সূত্রপাত হয় এবং তারা ভিন্ন শিবিরে স্বাধীনতা বিরোধীতা করেন । ১৯৪৮  সালের ১১ই মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সারাদেশে সাধারন ধর্মঘট পালিত হয়। ২৭ ডিসেম্বর করাচিতে নিখিল পাকিস্তান শিক্ষক সম্মেলনের উদ্বোধণী ভাষনে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব ফজলুর রহমান বাংলাভাষায় আরবি হরফ যুক্ত করার পক্ষে জোরাল চুক্তি প্রর্দশন করেন।

    ১৯৪৮ সালের ৩১শে ডিসেম্বর কার্জন হলে ‘পূর্বপাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান তা যেমন সত্য, তার চেয়ে সত্য আমরা বাঙ্গালী; এটি কোন আদর্শের কথা নয়, এটি বাস্তবসত্য। ১৯৪৯ সালের ৭ই ফ্রেরুয়ারী পেশোয়ারে পাকিস্তান শিক্ষা উপদেষ্ঠা, বোর্ড সভায় বাংলা বর্ণমালা বিলুপ্ত করে আরবী হরফ প্রবর্তনের পক্ষে ধর্মীলেবাসে নানা যুক্তি প্রদর্শন করেন। ফলে সচতুর রাজরৈতিক নেতৃত্ব ১৯৪৯সালের ২৩শে জুন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল হিসাবে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠাব করেন।

    এই সংগঠনটি শুরু থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রকার অন্যায়-অত্যাচার, শোষন ও নীপিড়নের বিরোদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। ১৯৪৯ সালের ১২ই মার্চ পাকিস্তান সংবিধান সভার প্রস্তাব অনুসারে শাসনতান্ত্রিক মূলনীতি নির্ধারন কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি  সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সংবিধান সভায় তোদের অন্তবর্তীকালীন রির্পোটে শাসনতান্তিক বিষয়ে রাষ্টভাষাকে ‘উদ্দু’ করার সুপারিশ করে। ইতিপূর্বে ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ঢাকা আরমানিঢোলা ময়দানে নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের এক জন সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জনসভায় মওলানা ভাসনী ও শামছুল হক (১ম সাধারন সম্পঁদক আওয়ামীলীগ) এর নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ মিছিল গর্ভমেন্ট হাইজের দিকে রওয়ানা হেল পুলিশ বাধা প্রদান করে ।

    আন্দোরনকারীরা বাধা উপেক্ষ করে সামনের দিকে অগ্রসর হলে- আইন শৃংখলা ভঙ্গের অজুহাতে মওলানা ভাসনী ও শামছুল হককে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১২ অক্টোবর এই সংবিধান কমিটি পাকিস্তান অবর্জাভার অফিসে এক সভার আহব্বান করে এবং তাতে কমরুদীন আহম্মদ আতাউর রহমান খান, মোহাম্মদ তোয়াহা, তাজউদ্দিন আহম্মদ পাকিস্তান অবজাভারের সম্পাদক আব্দুস ছালাম ও মানিক মিয়া অংশ গ্রহন করেন। বৈঠকে আন্দোলনের কর্ম-পরিকল্পনা এবং পরিধি নিয়ে আলোচনা হয়।

    ১৯৫০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মূলনীতি নির্ধারক কমিটির রির্পোট প্রকাশের সাথে সাথে ঢাকার রাজৈনিতক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয় । পূর্ব বাংলার উপর একটি অগনতান্ত্রিক প্রস্তাব চাপিয়ে দেওয়ার চক্রন্তের বিরোদ্ধে স্বঃফুর্ত প্রতিবাদে পাকিস্তান অবর্জাভার অফিসে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ডেমোক্রেটিভ ফেডারেশনের নামে একটি সংগঠেনর জন্ম হয়। এই ডেমোক্রেটিভ ফেডারেশনের সদস্যবৃন্দ বিকল্প শাসনতন্তের খড়সা তৈরির জন্য সংবিধান কমিটি নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেন।

    ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিনের ভাষণ প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন খাজা নাজিমুদ্দিন ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন এবং ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের এক জনসভায় দীর্ঘ ভাষণ দেন। তিনি মূলত জিন্নাহ্’র কথারই পুনরুক্তি করে বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত তাঁর ভাষণে তিনি আরো উল্লেখ করেন যে কোনো জাতি দু’টি রাষ্ট্রভাষা নিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারেনি।নাজিমুদ্দিনের বক্তৃতার প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৯ জানুয়ারি প্রতিবাদ সভা এবং ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালন করে।

    সেদিন ছাত্রসহ নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সমবেত হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।পরে তারা তাদের মিছিল নিয়ে বর্ধমান হাউসের (বর্তমান বাংলা একাডেমী) দিকে অগ্রসর হয়। পরদিন ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত সভায় মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদ গঠিত হয়।সভায় আরবি লিপিতে বাংলা লেখার সরকারি প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করা হয় এবং ৩০ জানুয়ারির সভায় গৃহীত ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দেয়া হয়। পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল, সমাবেশ ও মিছিলের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে।

    পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে সমবেত হয়। সমাবেশ থেকে আরবি লিপিতে বাংলা লেখার প্রস্তাবের প্রতিবাদ এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ছাত্ররা তাদের সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

    ২০ ফেব্রুয়ারি সরকার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় এক মাসের জন্য সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিভিন্ন হলে সভা করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ৯৪ নবাবপুর রোডস্থ আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের কিছু সদস্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার পক্ষে থাকলেও, সবশেষে ১১-৩ ভোটে[ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে একই বিষয় নিয়ে পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় সলিমুল্লাহ হলে ফকির শাহাবুদ্দীনের সভাপতিত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত সভায় নেতৃত্ব দেন আবদুল মোমিন। শাহাবুদ্দিন আহমদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে এই সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নেন আবদুল মোমিন এবং শামসুল আলম।

    পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী এ দিন সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে জড়ো হয়। তারা ১৪৪ ধারা জারির বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকে এবং পূর্ব বঙ্গ আইন পরিষদের সদস্যদের ভাষা সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মতামতকে বিবেচনা করার আহ্বান জানাতে থাকে। পুলিশ অস্ত্র হাতে সভাস্থলের চারদিক ঘিরে রাখে। বিভিন্ন অনুষদের ডীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঐসময় উপস্থিত ছিলেন।

    বেলা সোয়া এগারটার দিকে ছাত্ররা গেটে জড়ো হয়ে প্রতিবন্ধকতা ভেঙে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছাত্রদের সতর্ক করে দেয়।কিছু ছাত্র ঐসময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দিকে দৌঁড়ে চলে গেলেও বাদ-বাকিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পুলিশ দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পুলিশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।

    উপাচার্য তখন পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ বন্ধ করতে অনুরোধ জানান এবং ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। কিন্তু ছাত্ররা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় কয়েকজনকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার শুরু করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় ছাত্ররা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় তাদের বিক্ষোভ শুরু করে।

    বেলা ২টার দিকে আইন পরিষদের সদস্যরা আইনসভায় যোগ দিতে এলে ছাত্ররা তাদের বাঁধা দেয়। কিন্তু পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে যখন কিছু ছাত্র সিদ্ধান্ত নেয় তারা আইনসভায় গিয়ে তাদের দাবি উত্থাপন করবে। ছাত্ররা ঐ উদ্দেশ্যে আইনসভার দিকে রওনা করলে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ দৌঁড়ে এসে ছাত্রাবাসে গুলিবর্ষণ শুরু করে।
    পুলিশের গুলিবর্ষণে আব্দুল জব্বার এবং রফিক উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া আব্দুস সালাম, আবুল বরকতসহ আরও অনেকে সেসময় নিহত হন। ঐদিন অহিউল্লাহ নামের একজন ৮/৯ বছরেরে কিশোরও নিহত হয়।

    ছাত্র হত্যার সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনগণ ঘটনাস্থলে আসার উদ্যোগ নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্ত অফিস, দোকানপাট ও পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রদের শুরু করা আন্দোলন সাথে সাথে জনমানুষের আন্দোলনে রূপ নেয়।রেডিও শিল্পীরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শিল্পী ধর্মঘট আহ্বান করে এবং রেডিও স্টেশন পূর্বে ধারণকৃত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে থাকে।

    ঐসময় গণপরিষদে অধিবেশন শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশের গুলির খবর জানতে পেরে মাওলানা তর্কবাগিশসহ বিরোধী দলীয় বেশ কয়েকজন অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ান। গণপরিষদে মনোরঞ্জন ধর, বসন্তকুমার দাস, শামসুদ্দিন আহমেদ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত-সহ ছোট ছয়জন সদস্য মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে হাসপাতালে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্যে অনুরোধ করেন এবং শোক প্রদর্শনের লক্ষ্যে অধিবেশন স্থগিত করার কথা বলেন।

    কোষাগার বিভাগের মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ, শরফুদ্দিন আহমেদ, সামশুদ্দিন আহমেদ খন্দকার এবং মসলেউদ্দিন আহমেদ এই কার্যক্রমে সমর্থন দিয়েছিলেন। যদিও নুরুল আমিন অন্যান্য নেতাদের অনুরোধ রাখেননি এবং অধিবেশনে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।

    ১৯৫১ সালে লাহোরে কায়েদে মিল্লাত লিয়াকত আলী খান আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। ফলে সারাদেশ ব্যাপি রাজ নৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশীক পরিষদ নির্বাচনে ঘোষিত হলে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে অন্যান্য দল মিলে যুক্তফ্রন্ট নামীয় একটি সমন্বিত বিরোধী ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তারিখে কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন ।

    যুক্তফ্রন্টের প্রধার তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এই যুক্তফ্রন্ট ২১ দফার একটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। যথা-

    ১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে। ২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি ও সমস্ত খাজনা আদায়কারী স্বত্ব উচ্ছেদ ও রহিত করে উদ্বৃত্ত জমি ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিতরণ এবং খাজনা হ্রাস ও সার্টিফিকেট মারফত খাজনা আদায় রহিত করা হবে। ৩. পাট ব্যবসা জাতীয়করণ এবং তা পূর্ববঙ্গ সরকারের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় আনা এবং মুসলিম লীগ শাসনামলের পাট কেলেঙ্কারির তদন্ত ও অপরাধীর শাস্তি বিধান করা। ৪. কৃষিতে সমবায় প্রথা প্রবর্তন এবং সরকারি সাহায্যে কুটির শিল্পের উন্নয়ন। ৫. পূর্ববঙ্গকে লবণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। ৬. কারিগর শ্রেনীর গরীব মোহাজেরদের কর্মসংস্থানের আশু ব্যবস্থা। ৭. খাল খনন ও সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে বন্যা ও দূর্ভিক্ষ রোধ । ৮. পূর্ববঙ্গে কৃষি ও শিল্প খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশকে স্বাবলম্বী করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মূলনীতি মাফিক শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। ৯. দেশের সর্বত্র অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন এবং শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা। ১০. শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের ভেদাভেদ বিলোপ করে সকল বিদ্যালয়কে সরকারি সাহায্যপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। ১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রভৃতি প্রতিক্রিয়াশীল আইন বাতিল এবং উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করা। ১২. শাসনব্যয় হ্রাস, যুক্তফ্রন্টের কোনো মন্ত্রীর এক হাজার টাকার বেশি বেতন গ্রহণ না করা। ১৩. দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-রিশ্ওয়াত বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন। ১৪. জননিরাপত্তা আইন, অর্ডিন্যান্স ও অনুরূপ কালাকানুন বাতিল, বিনাবিচারে আটক বন্দির মুক্তি, রাষ্ট্রদ্রোহিতায় অভিযুক্তদের প্রকাশ্য আদালতে বিচার এবং সংবাদপত্র ও সভাসমিতি করার অবাধ অধিকার নিশ্চিত করা। ১৫. বিচারবিভাগকে শাসনবিভাগ থেকে পৃথক করা। ১৬. বর্ধমান হাউসের পরিবর্তে কম বিলাসের বাড়িতে যুক্তফ্রন্টের প্রধান মন্ত্রীর অবস্থান করা এবং বর্ধমান হাউসকে প্রথমে ছাত্রাবাস ও পরে বাংলা ভাষার গবেষনাগারে পরিণত করা। ১৭. রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ ঘটনাস্থলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা এবং শহীদদের পরিবারবর্গকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস এবং সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষনা করা। ১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বায়ত্তসাশন এবং দেশরক্ষা, পররাষ্ট্র ও মূদ্রা ব্যতীত সকল বিষয় পূর্ববঙ্গ সরকারের অধীনে আনয়ন, দেশরক্ষা ক্ষেত্রে স্থলবাহিনীর হেডকোয়ার্টার পশ্চিম পাকিস্তানে এবং নৌবাহিনীর হেডকোয়ার্টার পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন এবং পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্রনির্মাণ কারখানা স্থাপন ও আনসার বাহিনীকে সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করা। ২০. কোনো অজুহাতে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা কর্তৃক আইন পরিষদের আয়ু না বাড়ানো এবং আয়ু শেষ হওয়ার ছয়মাস পূর্বে মন্ত্রিসভার পদত্যাগপূর্বক নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। ২১. যুক্তফ্রন্টের আমলে সৃষ্ট শূন্য আসন তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং পরপর তিনটি উপনির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী পরাজিত হলে মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করা।

    ১৯৫৪ সালের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন অর্জ্জন করে। তন্মধ্যে ১৪৩টি পেয়েছিল মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, ৪৮টি পেয়েছিল শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামী ইসলাম পার্টি লাভ করেছিল ২২, গণতন্ত্রী দল লাভ করেছির ১৩টি এবং খেলাফত-ই-রাব্বানী নামক দলটি ১টি আসন। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ সম্পূর্ণরূপে এ নির্বাচনে পরাভূত হয় ; তারা কেবল ৯টি আসন লাভ করতে সমর্থ হয়।

    এ নির্বাচনে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য ৭২টি আসন সংরক্ষিত ছিল। এগুলোর মধ্যে কংগ্রেস লাভ করেছিল ২৪টি আসন, কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, শিডিউল্ড কাস্ট ফাউন্ডেশন ২৭টি, গণতন্ত্রী দল ৩টি এবং ইউনাইটেড পগ্রেসিভ পার্টি ১৩টি আসন লাভ করেছিল। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন।১৯৫৪ সালের ৩ রা এপ্রিল শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুক হক চার সদস্য বিশিষ্ট যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করেন।

    পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয় ১৫ মে তারিখে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুর হক। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় এসে বাংলা একাডেমী গঠন করে।এ প্রতিষ্ঠান বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সংরক্ষণ, গবেষণা এবং মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে বলে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয়। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল মাল গোলাম মাহমুদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে তারিখে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সরকার বাতিল ঘোষণা করে। ১৯৫৫ সালের ৬ জুন তারিখে যুক্তফ্রন্ট পুণর্গঠন করা হয়; যদিও আওয়ামী লীগ মন্ত্রী পরিষদে যোগদেয়নি।

    ১৯৫৪ সালের ৩১ মে ‘ব্লাসফেমি’ আইন জারি করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করে দিয়ে শাসনতন্ত্রের ৯২ (ক) ধারা জারীর মাধ্যমে প্রদেশে গভর্ণরের শাসন প্রবর্তন করেন। একথা সত্য যে, ১৯৫6 সালের ১২ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহ্ওয়ার্দীর প্রধানমন্ত্রিত্বে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও রিপাবলিকান পার্টির কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে সোহ্ওয়ার্দী সাহেব মার্কিনমূখী পররাষ্ট্রণীতি গ্রহন করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সিয়াটো, সেন্টো প্রভুতি সামরিক চুক্তির পক্ষ অবলম্বন করেন।

    সাথে আরো ছিল মৌলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি। গনতন্ত্রী দলের নেতা ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানিশ এবং মাহমুদ আলি সিলেটি। ফলে কেন্দ্রীয় সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এইরুপ আমেরিকাপন্থী মতাদর্শের কারনে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রাদেশীক সভাপতি মওলানা ভাসানীর সাথে মতানৈক্য দেখা দেয়।  ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামেয় দলটি থেকে সম্প্রদায়িক ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলটিকে অসম্প্রদায়ীক ও সর্বজনীন করে নির্বানে অংশ গ্রহনের তুরজুর চলে। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও প্রাদেশীক সভাপতির পরস্পর ভিন্ন মতার্দশের কারনে আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে  যায় এবং মওলানা ভাষানির নেতৃত্বে ন্যাশনার আওয়ামী লীগ নামে একটি নতুন দলের সৃষ্টি হয়।

    https://banglatopnews24.com/emer-bese-endulon/

  • ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব

    ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব

    ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। সংস্কৃতি সম্পর্কে বলা যায়- কোন স্থানের মানুষের ভাষা, আচার-ব্যবহার, জীবিকা, সঙ্গীত, নৃত্য সাহিত্য, সামাজিক সম্পর্কীত শিক্ষা-দীক্ষা, রীতি-নীতির মাধ্যমে যে, অভিব্যক্তি প্রকাশ কর হয় তাই সংস্কৃতি। তাই সংস্কৃতিকে way of life বলা হয়। জাতী ও জাতীয়তার সাথে সংস্কৃতির সম্পর্ক নিরবিচ্ছিন্ন। একই সংস্কৃতির পরিমন্ডলে যেমন বিভ্ন্নি ধর্মের লোক থাকতে পারে, ঠিক তেমনী ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠণে একটি অভিন্ন সংস্কৃতি গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুস্তকের ভাষায়, একই সংস্কৃতির সহজাত স্রোতধারায় বহু ধর্মের সংমিশ্রণে একটি অভিন্ন জাতীয়তা তৈরী হয় যা চিরাচরিৎ ধর্মীয় ধারনাকে বহুলাংশে মানবিক করে তুলে।

    আর ধর্মীয় সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- শয়তানের উপর জয়যুক্ত হওয়া এবং আত্মায় সত্যের আসন প্রতিষ্ঠা করাই ধর্ম। নিয়ম পালনের সাথে, জীবনের কদর্যতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রত্যেকটি মানুষের পবিত্র দায়িত্ব। সংস্কৃতিতে কদর্যতা থাকলেও বির্বতন যুগধারায় তা মানবিক পথে ধাবমান। তাই জ্ঞানীরা বলেন, ধর্ম হলো মৌলিক আর সংস্কৃতি তার দর্শন। তাই দর্শন বিহীন ধর্ম অসম্পুর্ণ।

    বৈশাখের সাথে ধর্মের সংশ্রাব অর্থহীন। মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থের কোথায় বৈশাখি উৎসব পালনের কথা উল্লেখ্য নাই। তবে বাঙ্গালী জাতির সংস্কৃতিতে বৈশাখী উৎসব পালন সার্বজনীন।

    ইতিহাস ধারা থেকে জানা যায়, মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলা-উড়িষ্যায় এলাহী সন, মৌসুমী বা ফসলী সনের চালু ছিল। ঘরে ঘরে ফসল তুলার সাথে খাজনা আদায় ব্যাপক প্রচলন ছিল। এই জন্য সম্রাট আকবর জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদ আমির ফতেউল্লাহ সিরাজীকে দিয়ে হিজরী সনের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে তারিখ-ই-এলাহী সনের প্রচলন করেন যা পরবর্তীতে বৈশাখী উৎসব হিসাবে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

    বৈশাখী উৎসব আজ বাংলা ভাষা-ভাষী বাঙ্গালীদের প্রাণের উৎসব। বৈশাখ শব্দটির উৎপত্তিতে সনাতন ধর্মের হৃদিত্ব রয়েছে। বাংলা ভাষার প্রাণকোষ বাংলা ব্যাকরণে বৈশাখ শব্দটির উল্লেখ্য পাওয়া যায় এই ভাবে-বৈশাখ+ষ্ণ, অস্তার্থে ।২।, মন্থণ দন্ড। বিশাখা+ষ্ণ। বি; পু। বিশাখা নক্ষত্রযুক্ত পুর্ণমা।

    ইতিহাস বিদূত, বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠিরা বহুকাল আগে থেকেই বৈশাখী উৎসব পালন করে আসছে। মূলতঃ আদি জনগোষ্ঠিরা বৈশাখী উৎসবকে বৈসাবি উৎসব হিসাবে পালন করত। বর্ণ বেদে তারা আলাদা আলাদা ভাবে, আলাদা আলাদা নামে এই উসৎব পালন করত। যেমন মারমা-রা, সাংগ্রাই, ত্রিপুরা-রা, বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যা-রা, বিষ্ণু এবং চাকমারা বিজু উৎসব হিসাবে পালন করত। এই সকল উৎসবকে সম্মিলিত ভাবে বৈসাবি বলা হয় যা আজও তাদের সমাজে চেতনা ধর্মী উৎসব হিসাবে পালন করছে।

    যুগ-যগান্তরের ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, বৈশাখ বা বৈসাবি উৎসব পালনের সাথে বৈদিক জাতি-গোষ্ঠির পুরান, বেদ বা সনাতন ধর্মের সংশ্রাব রয়েছে। হিন্দুরা বহুকাল আগ থেকেই বৈশাখি উৎসবকে তাদের ধর্মীয় উৎসব হিসাবে পালন করে আসছে।

    উল্লেখ্য যে, পহেলা বৈশাখ যেমন বাঙ্গালীর হৃদয়ে নতুন উদ্বিপনা জাগিয়ে তুলে তেমন বর্গাচাষীদের জন্য এই দিনটি যন্ত্রণাদায়ক হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই সময়ে এই দিনটিকে সম্পাদন করা হতো রাজস্ব আদায়ের দিন হিসাবে। প্রজারা বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে জমিদার বাড়ীতে মিষ্টি মুখ করতো।

    এখন সেই যুগের আবসান হয়েছে। পহেলা বৈশাখ এখন বাঙ্গালীর সার্বজনীন উৎসব হিসাবে পরিচিত পেয়েছে। এখন বৈশাখের লৌকিকতা পরিবার থেকে আরম্ভ। আত্মীয়-বন্ধু, ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে প্রতিবেশী সুহৃদজনকে শুভেচ্ছা ও কুশল জানানো, ছোট-বড়দের মধ্যে নবর্বষে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় মিলন বন্ধন গড়ে উঠে। শিশু-কিশোরেরা চরকি, নাগরদোলা, বাঁশি আর তালপাতার রকমারি খেলনা নিয়ে মেতে উঠে। কিশোরীরা ব্যস্ত চূড়ি, ফিতা, চুলের ক্লিপ, আলতা, কাজল ইত্যাদি কেনার জন্যে।

    মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সদস্য- জাতীয় নাগরিক কমিটি, মানিকগঞ্জ জেলা শাখা।
  • `২৪‘শের জুলাই বিপ্লব’ একটি রাজনৈতিক আলোকবর্তীকা’

    `২৪‘শের জুলাই বিপ্লব’ একটি রাজনৈতিক আলোকবর্তীকা’

    বাংলাদেশের জন্য একটি বিপ্লবী সরকার প্রয়োজন। কেবল মাত্র, জ্ঞান-দিপ্ত-বিপ্লবী সরকারই পারে এই অদৃষ্টবিশ্বাসী পরায়নপর বাঙ্গালী জাতিকে পরিশুদ্ধ করতে। ডানপন্থী, বামপন্থী কিম্বা মধ্যপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শ বাঙ্গলী জাতিকে কোন দিন আকৃষ্ট করতে পারে নাই এবং ভাবিষ্যতেও যে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষন করলে এ সত্য দিবালোকের মত স্পষ্ট। শশাংক, চন্দ্রগুপ্ত মোর্য কিম্বা বখতিয়ার খিলজীর মত বিপ্লবী চেতনাই পারে, নতুন স্লোগানে- নতুন বাংলাদেশ গড়তে।

    আমরাও স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও শাসন কাল দেখেছি। এরা কি ভাবে- ডান, বাম কিম্বা মধ্যপন্থীর স্লোগান দিয়ে সাধারন জনতার সম্পদ লুটে নিয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষদের ভাগ্যে ‘থাবা’ মেরে রাতারাতিই বিত্তশালী হয়েছে। ধারাপরিক্রমায়, রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র চালু করেছে।

    নিজেদের অধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য পাইক-পিয়াদাদের দ্বারা-সন্ত্রাসী ও পেশীশক্তির রাজনীতি চালু করেছে। জন-শান্তির ‘ছবক’ দিয়ে ‘অঘোষিত রাবনের রাজ্য কায়েম করেছে। স্বদেশী সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। প্রশাসনিক কাঠামোতে দলীয় লোক নিয়োগ করে চাটুকার ও তুষামুদি শ্রেণী সৃষ্টি করেছে। সারাদেশের মোট সম্পদের ৭৫ ভাগ দখলে করে এখন তারা জনসেবার স্লোগান দিচ্ছে।

    বাংলাদেশের বিগত ৫০ বছরে রাজনীতির ইতিহাস ছিল, সাধারন মানুষের সম্পদ লুটের ইতিহাস।সচেতন বিবেকের কান্নাঁর ইতিহাস। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের সম্পদ দখলবাজীর ইতিহাস।

    এই ক্ষেত্রে, ২৪‘শের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে‘একটি কালো অধ্যায় পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এই বিপ্লবে, শত শহীদের মাঝে সাত বছরের শিশুর বুকে তাজা রক্ত, পরাধীনতার শৃংখলমুক্তির সাহসী আহ্ববান- বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। একথা সর্বজন স্বীকৃত যে, ২৪‘শের জুলাই বিপ্লব ছিল, একটি সচেতন বিবেকের আত্ম-চিৎকার। নির্যাতিত মানুষের মুক্তির স্লোগান। বিপন্ন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার।  তাই, এই বিপ্লবের সফলতা, একটি নতুন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠণের মুল প্রেরনা।

    পরিপ্রেক্ষিত যে, শোষকদের হাত হতে বাচঁতে হলে একটি সচেতন শিক্ষিত সমাজের নেতৃত্বে জীবনমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। চিরাচরিৎ নির্বাচনের পথরোদ্ধ করে, জনসমর্থনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রশাসনের সর্বচ্চ থেকে আরম্ভ করে সর্বত্রই চাটুকার, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদেরকে বিতারিত করতে হবে, যা কেবলমাত্র একটি বিপ্লবী সরকারের দ্বারাই সম্ভব।

    এ কথা কোনমতেই, অস্বীকার করার উপায় নাই যে, আজ বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পাড়া, মহল্লা কিম্বা শহরের অলি-গলি, দুর্নীতিবাজদের অভয় অরণ্যে পরিনত হয়েছে। অ-পরিশুদ্ধ রাজনীতির স্লোগান দিয়ে এরা বাংলাদেশকে গিলে খেতে বসেছে। ডান-বামে ভাগ হয়ে পালাক্রমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে নিচ্ছে। তাদের এই ‘রাহু-গ্রাস’ রাজনীতি পালাক্রমে জন্ম দিচ্ছে দানবীয় স্বৈরাচারের।

    তাই একটি বিপ্লবী সরকর গঠন ও তার প্রশাসনিক বিস্তৃতিই সকল কান্নাঁর অবসান ঘটাতে পারে। জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য হিসাবে আমাদের এই চাওয়া এখন সময়ের দাবি।

     

  • ভ্যালেনন্টাইন্স ডে’ র মহত্ব !

    ভ্যালেনন্টাইন্স ডে’ র মহত্ব !

    এখন ভালবাসা চলে মেসেঞ্জার কিংবা হোয়্যাটসঅ্যাপে। নির্জনে ঘরের পিছন, পড়ার টেবিল ঘেষা জানালারদ্বার কিম্বা স্কুল ফেরার পথে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দিন শেষ।

    এখন ভালবাসার প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতি সহজ ও সস্তায় ‘আই লাভ ইউ’ বলায়। পরিবর্তনের এই ধারায় অন্তত আমাদের দেশে ভালবাসা এখন সস্তা, ও  নিদিষ্ট দিনে ‘ভালবাসা দিবস’ উদযাপন গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

    অসভ্য যুগ থেকে মানুষ সভ্য যুগে প্রবেশ করেছে ভালবাসাকে আশ্রয় করে।বহুকাল থেকেই ভালোবাসাকে আশ্রয় করে মানুষের সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে। ভালোবাসার শক্তিতে মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। আবার এই ভালোবাসার অভাবেই মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই মানব জীবনে ভালবাসার গুরুত্ব এককথায় অপরীসিম।

    এ গুরুত্বকে পরিস্ফুটন করতে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে মানুষ ভালো-বাসার জন্য একটি নিদিষ্ট দিবস উদাপন করে আসছে যার নাম ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। আজ ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে,। আমার শুভার্থী সকলকে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ এর শুভেচ্ছা ও অভিবাদন।

    আজকের দিনটি আবালবৃদ্ধবনিতা সবার হলেও, প্রধানত তারুণ্যের জয়জয়কারই সর্বত্র। এই দিনটি নিয়ে আমার লেখার দেরী হলেও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো নানা ধরনের ট্রলে এবং স্ট্যাটাসে ভরে গেছে।

    অনেকের আবার বক্তব্য, এই ভালোবাসা দিবসে তাদের কোনো সঙ্গী না থাকায় তারা অনেক কষ্ট পাচ্ছেন। ভাবতেই পারছেন না কিভাবে তারা এই দিবসটি পালন করবেন।

    ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ ঐতিহাসীক বর্ননায় মতান্তর রয়েছে। ঠিক কবে, কখন, কোথা থেকে এ ভালোবাসা দিবস উদযাপনের সূচনা তা নিয়ে মতবাদের অন্তঃ নেই।

    কেউ কেউ মনে করেন, ভালোবাসা দিবস পালিত হয় প্রাচীন রোমের প্রেমের দেবী জুনোকে স্মরণ করে। আবার কারো কারো মতে ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হয় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর করুণ হৃদয়- বিদারক প্রেমের কাহিনীকে স্মরণীয় করে রাখতে।

    জানা যায়, ভ্যালেন্টাইন ছিলেন রোমের এক সাহসী ও হৃদয়বান বীর।  তার জীবদ্দশায় রোমের রাজা ক্লোডিয়াস ছিলেন এক নিষ্ঠুর শাসক। হঠাৎ তার ভ্রম হয়েছিল যে, বিবাহিত সৈন্যদের চেয়ে অবিবাহিত সৈন্যরা বেশি কর্মঠ ও শক্তিশালী। এমন মনোভাব থেকে তিনি তরুণ বীরদের বিবাহ নিষিদ্ধ করে দেন।

    তাঁর এই নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে ভ্যালেনন্টাইন্স তরুণদের গোপনে বিয়ে দেয়া শুরু করলে রাজা ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ভ্যালে-ন্টাইনের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল আজকের এই তারিখে অর্থাৎ ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে।

    ঘটনা প্রসঙ্গে লোকশ্রুতিতে রয়েছে যে, কারাগারে থাকা অবস্থায় ভ্যালেন্টাইন এক কারারক্ষী নারীর প্রেমে পরেন। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে সে তাঁর প্রেমিকাকে একটি মিষ্টি চিঠি লিখেছিলেন যার শেষে লিখেন – ‘ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন’। সেই থেকেই পালিত হচ্ছে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে”  বা ভালবাসা দিবস।

    গবেষণা বলে প্রেমে পড়লে মানুষের আত্মঃবিশ্বাস  বহুগুণে বেড়ে যায়। এর জন্য হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াও সচল হয় যা জীবনে সফলতার ছোঁয়া বয়ে আনে। তাই জীবনের সাফল্যের জন্য একবার হলেও প্রত্যেকটি মানুষ কে প্রেমে পরা প্রয়োজন।

    একথা সত্য যে, কর্মময় জীবনে আমরা সকলেই ব্যাতি-ব্যস্ত, সময় পার করি। আর ভালবাসার মানুষটি হলো সকল ক্লান্তি দূরীকরণের অসাধারন মেডিসিন। যার সংস্পর্শে  ও অতুলনীয় সৌন্দর্যে দিনশেষে মুগ্ধ হয় প্রিয়জনরা।

    অনিন্দন যে, একজন মানুষ প্রেমিক/প্রেমিকা হলে অনায়েশেই সে নিয়মানুবর্তিতায় অভ্যস্ত হয়। ফলশ্রুতিতে তার জীবণে ধীর- স্থীরতা আসে এবং জীবনে সফলতা অনিবার্য হয়ে উঠে।

  • স্মৃচি চারণে একজন এ্যাড. মজিবর আওয়ামী নেতা !

    স্মৃচি চারণে একজন এ্যাড. মজিবর আওয়ামী নেতা !

    ১৯৯২ সাল, আমি তখন সরকারী ভিকু মেমোরিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। প্রফেসর সাইদুর রহমান স্যারের বাংলা (আওয়ামীলীগ নেতা) ক্লাস শেষ করে, বর্তমান কলেজের পুকুর সংলগ্ন টিনসেট ঘরের চিপায় প্রস্রাব করতে ছিলাম। তখন কলেজটির অবস্থা তেমন ভাল ছিল না। চিপা-চাপায় বসেই প্রস্রাবের কাজ সাড়া যেত। আমিও তাই করছিলাম। যদিও এটি ছিল সম্পূর্ণ অন্যায়।

    সবেমাত্র কলেজে পা, তাই একটু আনাড়িও ছিলাম বটে। যা হোক, প্রকৃতির কাজ সারতে গিয়ে দেখি লকলকে তিন যুবক মুকুট বিড়ির প্যাক খুলে দেদারে ফুকঁছে। আমি উচ্ছুকতা বসতঃ কাছে যেতেই বিকট আওয়াজ তুলে ধমক খেয়ে –ভয়ে দৌঁড়িয়ে পাশ্ববর্তী আধাভাঙ্গা টিনের ঘরে আশ্রয় নিলাম। প্রায়  ঘন্টা খানেক পালিয়ে থাকার পর বন্ধুর সহযোগিতায় বেড়িয়ে-ই, ভূ-দৌঁড়।

    এই ঘটনার তিন দিনপর আবার সেই ছেলেদের দেখলাম-ওয়াসরুমে, অনেকটাই অপ্রকৃতিস্থ  অবস্থায়। তারপর আমার এক বন্ধু কাছ থেকে জানলাম ওরা ‘নেতা’ এমনই। সম্ভবতঃ তিনের লম্বাজনের নাম মজিবর। জাতীয় পাটি করে। ওদের অনেক ক্ষমতা।

    সেই সময় থেকেই আমি মজিবর নেতাকে চিনতাম। মনে মনে ভাবতাম বিড়ি খোড়রাই বুঝি নেতা হয়। পরে তথ্য নিয়ে জেনেছিলাম-দরগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহুম এলাহী বক্স তাদের বিড়ির অর্থ যোগন দিতেন।

    মজিবরের সাথে সুটাম দেহের মস্তান টাইপের আরও একটা ছেলে ছিল- যার নাম  আতিকুর রহমান। সে প্রায়ই কলেজ গেটে পানির বোতল হাতে দাড়িঁয়ে থাকতো আর ছাত্র-ছাত্রী দেখলেই বোতল উঁচু করে দুইহাত নিচে মাথা রেখে গদগদ করে অভিনব কায়দায় পানি খেয়ে সবায়কে অবাক করে দিত। পরে দুইজনই দরগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা হয়েছেন।

    আমি ১৯৯৪ সালে এইচএসসি পাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। তারপর দীর্ঘ সাত বছর পরে আবার আমি মজিরব নেতাকে দেখি-এড্যাভোকেট মজিবর ভাই হিসাবে। অনুসন্ধানে জানি, এলাহী বক্স মরে যাবার পরে মজিবর দুই-দুইবার বিএনপিতে নাম লেখালেও শৃংখলা ভঙ্গের কারণে দলে স্থায়ী হতে পারে নাই।

    জাতীয় পার্টির নেতা কর্ণেল মালেক সাহেব আওয়ামীলীগে যোগ দিলে পুনরায় মজিবরদের কদর বাড়ে। বিশেষ করে জাহিদ মালেক স্বপনের সময় তারা রাতারাতি নেতা বনে যান। একের পর এক বিতর্কীত কাজের নেতৃত্ব দিয়ে জাহিদ মালেক স্বপনের দৃষ্টি আকষর্ণে সক্ষম হন। মজিবর-দের অপর অ্যাডভোকেসি নেতা ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মজিদ ফটো।

    মূলতঃ জাহিদ মালেক স্বপনের সাথে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় আব্দুল মজিদ ফটো এলাকার ছেলে হিসাবে মজিবরদের কাছে টানেন এবং বিভিন্ন প্রকার রাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে নিজের বলয় বড় করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই জাহিদ মালেক স্বপন মন্ত্রী বনে গেলে মজিব-রেররা রাতারাতি রং বদলিয়ে ফেলে। পদ-পদবী দখলে মরিয়া হয়ে ফটো সাহেবের পক্ষ ত্যাগ করে মন্ত্রীরপক্ষ অবলম্বন করে।

    জাহিদ মালেক স্বপন ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে বিতর্কীত মজিবরদের বড় বড় পদে আসিন করে সন্ত্রাসী রাজনীতি কায়েম উঠে-পড়ে লেগে যান। যার ফলে সমাজে তথাকথিত মজিবর নেতাদের উত্থান ঘটে।

    উল্লেখ্য যে, এই সময় হতেই মজিবর মানিকগঞ্জ জেলাধীন সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবীর পরিচিতি লাভ করেন। তার আইন পেশায় পরিচিতির অন্যতম হুতা অঘোষিত মানিকগঞ্জের বলরাম জনাব আব্দুল মজিদ ফটো ভাই। রাজনৈতিক ও আইন পেশাকে কাজে লাগিয়ে মজিবর, আশা-পাশের কয়েক ইউনিয়নের ‘বিচারক’ বনে যান-দুলে দুলা ভাবেই।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনে লুটেরাগণ আত্মগোপনে চলে গেলে মজিবর-দের বিতর্কীত কর্ম জনতার চোখে ধরা পড়ে। ফলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে ।

    মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় মজিবর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ আদালতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর মামলায় হাজিরা দিতে আসলে বিচারক রাহুল দেব শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে মজিবর কে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

    উল্লেখ্য তার বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে (১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার) বিজয় মিছিলের সময় দড়গ্রাম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়।

    বিএনপির নেতা মো. শাহিন খান বাদি হয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহ-যোগী সংগঠনের ৩৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে সাটুরিয়া থানায় এই  মামলাটি দায়ের করেন।

    উক্ত মামলার এজাহারে ২ নম্বর আসামি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের ডিরেকশন শেষে স্যারেন্ডার করে জামিন চাইতে আজ আদালতে হাজিরা দিতে আসলে বিচারিক আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

    তথাকথিত অতিকথনের এই রাজনীতির খেলায় মজিবরেরা আসবে যাবে এটি  সাময়িক দৃশ্যপট মাত্র। রাজনীতির ধারাপরিক্রমায় ওরাও একদিন হারিয়ে যাবে এটা যেমন সত্য; ঠিক তেমনী সত্য মজিবরদের রুখতে রাজনীতির চিরাচরিত এই ধারাপট পরির্বতন একান্তই জরুরী।

  • অপ্রসন্ন শিক্ষায় মান হারাচ্ছে শিক্ষিতরা !

    অপ্রসন্ন শিক্ষায় মান হারাচ্ছে শিক্ষিতরা !

    সভ্যতার এই উৎকর্ষন মানব জাতির বিশুদ্ধ ভাবনার উন্মুক্ত ফসল। জীবন যাত্রার ধাপ পরিক্রমায় এই উন্নতি বা অগ্রগতি; জীবন জিজ্ঞাসার কাছে অত্যাবশ্যকীয়, যা যুগ যুগ ধরে সমাজ-সভ্যতাকে প্রভাবিত করছে।

    মান, সময় ও নিরাপত্তা এই তিনটি শব্দই জীবনচক্রকে আবর্তিত করছে বিধায়, পরিশোধীত চিন্তার অধিকারী মানুষকে এই ‘চক্রাকার আর্বতন, ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করছে। জীবনচক্রের এই অন্তহীন পথে, সুশিক্ষাই-মানব মুক্তির একমাত্র পাথেয়; যা দেশ, কাল, জাতি এবং কি মহাকালের স্বাক্ষী!

    একথা সত্য যে, আজ অব্দি পৃথিবীতে কোন পন্ডিতই শিক্ষার সুষম সংজ্ঞা প্রদান করতে পারেন নাই। যত গুলো সংজ্ঞা সভ্যতার এই যুগকে প্রভাবিত করছে, তার অধিকাংশ সংজ্ঞাই আত্ম-কেন্দ্রীক-ও ব্যক্তিক অভিজ্ঞতার ধারনা মাত্র।

    অভিজাত পরিবারের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন শিক্ষিত ব্যক্তিকে ‘হিরার অংটির সাথে তুলনা করেছেন। তিনি তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘হিরার সু-দৃঢ়তা ও উজ্বলতা এই দু‘টিই একজন শিক্ষিত ব্যক্তির মাঝে ‘দেদীপ্যমান থাকা চাই। অনেকেই আবার এই ‘সংজ্ঞাটিতেও তার পারিবারিক আভিজাত্যের ইন্দনের ইংগিত করেছেন।

    আবার পাশ্চ্যের পন্ডিরা বলেছেন, Education is the harmonious development to body mind and soul. এইসংজ্ঞা থেকে প্রশ্ন আসে, আত্মার সাথে দেহ ও মনের সমুন্বয়ের ধারনার ধরনের প্রকৃতি কি? অথবা আত্মার বাস্তব ভিত্তি কি?

    এ ক্ষেত্রে ভাব-বাদীদের মতে, আত্মা এক অদৃশ্য বস্তু। যার বাস্তব ভিত্তি নাই। কিন্তু নিদিষ্ট নিয়ম বা শৃংখলার মধ্যে তার অনুভব লক্ষণীয়। অনেকে মনে করেন, আত্মার সাথে দেহ ও মনের ধারনা অনেকটাই রীতি-নীতি ভাব-আদর্শের দ্বারা আড়ষ্ঠ;  যা জীবন পরিচালনা ও সৃষ্টি জগতের কল্যাণমূলক ভাবনায় জীবনকে মুহিত রাখে। সেই অর্থে ধর্মীয় অনুশাসন ও বিশুদ্ধ চিন্তাশীল ব্যক্তি মাত্রই শিক্ষিত।

    একথা সত্য যে, চিন্তার বিশুদ্ধতা শিক্ষিত সমাজকে সত্য প্রচারে ও প্রসারে বিধায়কের ভুমিকা পালনে সাহায্য করে। তাই, অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে চিন্তা বিশ্লেষনে মগ্ন থাকতে হয় এবং সেই সাথে যুগ যুগের ঘটনা-অভিজ্ঞতা ও তার সময় প্রেক্ষাপট বিশ্লেষন করা প্রয়োজন পড়ে।

    বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ সৈয়দ মুস্তবা আলী বলেছেন, ‘শিক্ষার আশ্রয় অবশ্য অবশ্যই পুস্তকে; যাতে বহু কাল অব্দি মানব জীবনের শিক্ষামূলক জীবন ও সমস্যা সর্ম্পকে সম্যক ধারণা বা বিশ্লেষন রয়েছে। যদিও একথা সত্য যে, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষা ও শিক্ষিত দুটি শব্দই বহুমাত্রীক রসায়নে মানুষকে দ্বিধান্বিত করছে।

    আমাদের এই সমাজে অধিক অর্থের সাথে জীবনের সর্ম্পকে, সুশিক্ষার বদৌলতে আত্মকেন্দ্রীক ও সংকীর্ন মনোভাপন্ন করে তুলেছে। তাই শিক্ষিত সমাজ আজ রীতি-নীতি বা বিশুদ্ধ-আদর্শে আটকীয়ে না থেকে, ভোগবাদী ও ক্ষনস্থায়ী ভাবনায় বিভোর রয়েছে। যা শিক্ষিত সমাজের জন্য অত্যন্ত গর্হিত কাজ। তাই কবি বলেছেন, দুর্জন; বিদ্বান হলেও পরিতাজ্য;।

    মানব জীবন অত্যন্ত সংর্কীন সময়ের। এই সংর্কীন সময়ে শিক্ষিত সমাজকে, অবশ্য অবশ্যই রীতি-নীতি, বিশুদ্ধ, আদর্শভিত্তিক একটি সুনিদিষ্ট পথের দিকে আঙ্গুলী নির্দেশ করা  প্রয়োজন; যার বিশ্লেষন ও ভাবনা গোটা মানব জাতিকে যুগ যুগ ধরে প্রভাবিত করবে অভিযোজ ধারা পরিক্রমায়।

    একথা অতিব সত্য যে, গোটা বিশ্বের  অধিকাংশ শিক্ষিত সমাজ আজ বিলাশ-ভাবনায় ও নান্দিকতার খোলসে ডিকভাজী খাচ্ছে। সময় ও সুযোগ বুঝে অশুদ্ধ-বিশুদ্ধ দুই দিকেই তাদের বাস্তবিক অভিজ্ঞাতাকে কাজে লাগিয়ে ট্রেডিশন ও কমার্শিয়াল শিক্ষার কাছে তাত্ত্বিক ও আদর্শীক শিক্ষাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। যার কারণে আমাদের সমাজে মেধাবী জন্ম হলেও ভাল মানুষের অভাব থেকেই যাচ্ছে।

    এখন, মুক্ত চিন্তার নামে অশুদ্ধতা মানুষকে গিলে খাচ্ছে। যার দরুন জীবনের কাছে জিজ্ঞাসার প্রশ্ন  বাতিক পরিনত হচ্ছে। সাময়িক ভোগ-বিলাশের চিন্তায় শিক্ষিত সমাজ মর্ডান-ট্রেডিশনের, ক্ষয়-প্রাপ্ত জীবন ভোগে ব্যতিব্যস্ত সময় পার করছে।

  • পথভ্রষ্ট রাজনীতি ও নাগরিক সচেতনতা

    পথভ্রষ্ট রাজনীতি ও নাগরিক সচেতনতা

    বাঙ্গালী জাতি এক অদৃষ্টবিশ্বাসী পলায়নপর জাতি। বুদ্ধিহীন দৈন্যতা এই জাতিকে ক্রমাগত অধঃ পতনের দিকেই ধাপিত করছে। জাতির যুগযুগান্তরের ইতিহাস; এই সত্যেকেই স্বাক্ষ্য দেয়।

    সেই প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে আজ অব্দি জাতির এই দুর্বলতার সুযোগে ক্রমাগত লুট হয়েই চলেছে বাংলার সম্পদ, সংস্কৃতি, ভাষা, জাতীয়তা ও জাতীয় চরিত্র। যুগ যুগ ধরে নিরষ্কুশ ভাবে প্রমানিত হয়েছে শাসক শ্রেনীর ‘ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের চক্রান্ত। ফলে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও জাতি তার অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। এই ব্যর্থতা জাতির জীবনে কলংক।

    ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীনের পর থেকেই বাংলা ভূ-খন্ডে পালাবদলের রাজনীতি শুরু হয়েছে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। বিগত সময় গুলোতে রাজনৈতিক সরকার গুলো স্বনির্ভর আর স্বচ্ছ গণতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে জনগনকে ফুসলিয়ে- ক্ষমতা দখল করে ক্ষত-বিক্ষত করছে ‘গোটা জাতি ও জাতীয় স্বার্থকে। অসীম ক্ষমতায় কুক্ষিগত করছে রাষ্ট্রীয় দখলদারিত্ব।

    নির্বাচিত অধিকাংশ নেতারাই জাতীয় স্বার্থের নামে ‘মূলা, ঝুলিয়ে স্ব-দলীয় কিম্বা ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে পৃথিবীর নিকৃষ্ঠ ও জঘন্যতম পন্থা অবলম্বনেরও পিছপা হয়নি। সভ্যতার হাজার বছরের ঐতিহাসিক শিক্ষাকে বৃদ্ধ আঙ্গুলি দেখিয়ে কুখ্যাত ইউরোপিয় দানব চতুদর্শ/ ষোড়শ লুইয়ের ন্যায় চিৎকার করে বলছে“ আমিই ধর্ম, আমিই রাষ্ট্র, আমিই আইন,।

    একথা সত্য যে, প্রাচীন কালে ‘বাহুবল আর ক্ষমতা- রাজনীতির নিয়ামক ছিল। সভ্যতার এই আধুনিক যুগে রাজনীতির সংজ্ঞার পরিবর্তন ও পরিমার্জন হয়েছে। আধুনিক কালের রাজনীতির সংজ্ঞায় বলা হয়েছে Politic is the public service for national Interest. অথচ বাংলাদেশের রাজনীতি সদা-সর্বদা উল্টু পথেই হাঁটছে।

    গোটি কয়েক নেতা ছাড়া দেশের অধিকাংশ রাজনীতিবিদই জনগনের সেবার অন্তরালে হত্যা, লুন্ঠন ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার রাজনীতি নিয়ে ব্যতি-ব্যস্ত। দেশের প্রত্যেক মহল্লা কিম্বা পাড়ার শ্রেষ্ঠ দুস্কৃতিকারী ও বখাটেরা রাজনৈতিক নেতার পরিচয়ে স্ব-স্ব এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। স্বার্থের কারনে এক নেতা আরেক নেতাকে গুম কিম্বা হত্যা করে লাশ বেওয়ারীশ করে দিচ্ছে। দলীয় ক্ষমতায় মদদপুষ্ট ছাত্ররা শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে।

    পক্ষ-প্রতিপক্ষকে রগ কেঁটে সারা জীবনের জন্য পুঙ্গ করা কিম্বা হত্যা করে লাশ গুম করতেও দ্বিধা করছে না। সত্যের জয় ধ্বনি করায় সত্যনিষ্ট সাংবাদিক সাগর-রুনিদের সন্ত্রসীদের হাতে জীবন দিতে হচ্ছে অবুঝ শিশুকে বোবা কান্না উপহার দিয়ে। বেকারত্বে যাতা কলে পৃষ্ঠ হয়ে সাংবাদিক মিনার মাহমুদদের আত্মহত্যা করে প্রমান করতে হচ্ছে ‘প্রানের চেয়ে মান বড়,।

    মৌলবাদীরা ধর্মের নামে ধর্মপ্রান মানুষকে সত্য বলার অধিকারকে সংকুচিত করছে ক্রমাগত । রাজনৈতিক স্বার্থ হাঁসিলে এই বাজী খেলায় ঢোল পিটাচ্ছে অন্ধকারে থাকা আলী বাবার ‘চেরাগদৈত্য’।

    আন্তজার্তিক শত্রুরা জাতিগত ঐক্যতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার ধোঁয়া তুলে ফেলানীদের কাঁটা তারের বেড়ায় ঝুঁলিয়ে নৃসংশ ভাবে হত্যা করছে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে যুগ যুগ ধরে জিয়িয়ে রাখছে অসংখ্য জাতীয় সমস্যাকে।

    এক-বিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক নতুন মেরু করনে ক্রমে ক্রমেই বাংলা ভূ-খন্ডটি হয়ে উঠছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সমগ্র বিশ্বের পরা শক্তিগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা লাভে বাংলাদেশের দিকে বিশেষ দৃষ্টিতে ধাবমান রয়েছে।

    ইতিমধ্যে পৃথিবীর ধনি রাষ্ট্র আমেরিকা ও পরাশক্তি রাশিয়া ‘নর্থ-আটল্যান্টিক, এলাকা ছেড়ে অধিক অর্থনৈতিক সুবিধা লাভে তীক্ষ্ন নজর দিয়েছে ‘এশিয়া-প্রশান্তমহাসগরীয়, এলাকার দিকে।

    পরিসংখ্যান, বিশ্ব জনসংখ্যার ৭০/৮০ ভাগ লোকের বাস ‘এশিয়া-প্রশান্ত-মহাসগরীয়, অঞ্চলটিতে স্বল্প-বিস্তারে চীন ও ভারত অধিক সুবিধা নিলেও বিদ্যূৎ গতিতে ধেঁয়ে আসছে পাশ্চাত্যের দেশগুলো।

    পৃথিবীর ষোলতম বৃহৎ বাজার বাংলাদেশ ভুগৌলিক কারনেই ‘এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয়, অঞ্চলের প্রবেশ দ্বার। বাজার ব্যবস্থাপনার দিক থেকে চীন ও আমেরিকার কাছে শ্রেষ্ঠস্থান বাংলাদেশ। ছলে বলে কলে কৌশলে রাজনৈতিক ইস্যুকে অজুহাত করে বার বার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে ভারত।

    তাই, একদিকে দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতা দখল নিয়ে ‘রাজনৈতিক দুস্যিপনা, অপর দিকে বহিঃশক্তির অর্থণীতি দখলে লোলুপ দৃষ্টি থেকে, দেশকে বাচঁতে হলে জাতীয় ঐক্য ও সর্ব সাধারনের রাজনৈকি সচেতনতা এই সময়ে একান্তই প্রয়োজন!https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,62148.msg157566.html#msg157566

  • সাটুরিয়ায় রাজনীতির ভ্রান্ত মেরুকরন !

    সাটুরিয়ায় রাজনীতির ভ্রান্ত মেরুকরন !

    সারাদেশের ন্যায় সাটুরিয়া উপজেলার পরিবেশ ও পরিস্থিতি আস্তে আস্তে রাজনীতির চূড়াবালুতে নিমজ্জিত হচ্ছে । মুলতঃ স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের হাত ধরেই অত্র উপজেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি খাদে পড়ে।

    অযোগ্য নেতৃত্ব ও সন্ত্রাসী মনোভাবের কারণে এখানকার সার্বিক পরিস্থিতির বিপর্যয় ঘটে। পালা বদলের রাজনীতিতে যা আস্তে আস্তে রাজনৈতিক কুষ্টি-কালচারে পরিনত হয়েছে।

    প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার লোকের আবাসস্থল এই উপজেলা। সহজ সরল জীবন-যাপনে অবস্থ্য এখানকার মানুষগুলো আজ প্রত্যক্ষ, না হলেও পরোক্ষ ভাবে রাজনীতির চাতাকলে পৃষ্ঠ। বলা যায়, সামাজিক না হলেও কূট-নীতিক মারপ্যাচে তারা রাজনীতিতে অবস্থান করছে। এটি মূলতঃ আওয়ামী দুঃশাসনের সর্বগ্রাসী ফসিল।

    ছাত্র-জনতার শুভ-প্রয়াসী আনন্দোলনে দুরাচারেরা আজ নির্বাসিত। কিন্তু থেমে নেই তাদের দেখানো পথ ও নিয়ম-নীতির গল্পকথা। পালা বদলের রাজনীতিতে নতুনেরা তাদের স্থান দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা সমাজসেবার নাম করে উত্তসূরীদের মাঠ দখলে আক্রমণাত্বক মনোভাব পোষন করছে।

    নব্বই দশকের সেই লাটভাই যেন আবার ফিরে  আসছে সামাজ কিম্বা রাষ্ট্র দখলের জন্য। কাজে কর্মে প্রমান করছে লাট ভাইয়েরা মরে না।  কর্মের সুবিধায় তারা ইচ্ছামত রুপ বদলায়।

    রাজ-গোপালরাও দলীয় শক্তি বৃদ্ধিতে লাটভাইদের বাহবা দিছে-যাও, এগিয়ে যাও, আমরা আছি তোমাদের সাথে। যা সত্যিই সেলুকাস।

    বহমান নদীর স্রোতের মত সন্ত্রাসীর এই ধারা ছরিয়ে পড়ছে উপজেলা থেকে ইউনিয়নে। ইউনিয়ন থেকে প্রত্যেকটি গ্রামে কিম্বা পাড়ায় পাড়ায়। বলতে বাধা নাই যে, উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রাম কিম্বা পাড়ায়  চিহিৃত কিছু দুরাচারেরা এখন সমাজকর্তা সেজেছে।

    এতে, দুই-একজন ভালোরা; এখন ভীতির মধ্যে জীবন-যাপন করছে। ভয়াবহ এই ব্যাধি এতোটাই মারাত্বক হয়ে উঠেছে যে, যা এইচআইভি ভাইরাসকে পিছনে ফেলে দিয়েছে।।

    খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ প্রতিনিয়তই ভীতিসন্ত্রস্ত সময় পার করছে। আধা-মরা যুব সমাজের শুদ্ধ অংশ আজ সত্য সুন্দর পথে এগুতে সাহস পাচ্ছে না। বেকারত্বের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে তারা ধর্মী কাজ ও কথায় আগ্রহ হারাচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে লেখা পড়া করে লাভ কি? ভাল থেকে লাভ কি? ইত্যাদি।

    প্রাসঙ্গীক, আমার ইউনিয়নে তেরটি গ্রামের প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামেই এখন নতুন দুরাচার নেতাদের দখলে চলে গেছে। বড় বড় রাজনৈতিক দলের ভ্রান্ত নীতিতে তারাই লুটপাটের সু-ঘ্রান পাচ্ছে।

    রাজনৈতিক দলগুলোও জনসমর্থন বা সমাজ কন্ট্রোল করতে তাদের হাত ধরে এগুতে স্বচ্ছন্দবোধ করছে। দুরাচারা  সুযোগ বুঝে সততার মাপকাটি ভেঙ্গে  সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি চালু করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

    সরকারী কাজ (ইউনিয়ন পরিষদ) থেকে শুরু করে  গ্রাম্য বিচার, সাংস্কৃ- তিক অনুষ্ঠান, কিম্বা ধর্মীয় সভা- সমাবেশে মত প্রকাশে বল প্রয়োগের আশ্রয় নিচ্ছে। প্রশাসনের দুর্বলতা কথা বলে;  তারা অনৈতিক ভাবে  ফায়দা লুটছে। সমাজের সৎ ও ভাল চিন্তার মানুষগুলোকে মন্দের দেয়ালে আটকিয়ে ফেলছে।

    এখানে জীবনের আকুতি বিড়ম্বনায় হাবুডুবু খাচ্ছে। বেচেঁ থাকার প্রশ্ন জীবন জিজ্ঞাসায় থেমে যাচ্ছে-তাহলে আমরা কোথায় যাব ??

     

     

     

     

     

  • রাজনীতি, শিক্ষা, অর্জন ও প্রয়োগ !

    রাজনীতি, শিক্ষা, অর্জন ও প্রয়োগ !

    বর্তমান শিক্ষার প্রাপ্তি রাজনৈতিক কারণে অনেকাংশেই ভূ-লন্ঠিত। যার ফলে জীবন আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে সীমাহীন সংর্কীনতায়। ক্রমে ক্রমেই চিন্তা-চেতনার জাগরণ জাতি-গোষ্ঠি কিম্বা ব্যক্তিক চাওয়া-পাওয়াতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গড়েছে। যা সমাজ-ও জাতির জন্য মোটেও মঙ্গল জনক নয়।

    তথাকথিত শিক্ষার “ফসীল” ‘নৈতিক ধাপকে পিছনে ফেলে অর্থনৈতিক পরিসীমায় ব্যাপিত’ হতে চলেছে। আর এই অসার উন্নতিতে ‘রাজনীতি’ আগুনে ‘ঘি’ ঢালা সমবেত কাজ করে যাচ্ছে। যা পুরোপুরিই রাজনীতির সংজ্ঞা বিরোধী-এক অবিনব-অযৌক্তিক ফরমালীন মিশ্রন  উন্নয়ন-তত্ত্ব কথা।

    পৃথীবির সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে আত্ম-উপলব্ধির দ্বারা মানব কল্যাণ কামনা। রাজনীতির মূল লক্ষ্যও মানব কল্যাণ- যা নিজেকে পরিশোদ্ধ নবায়নের দ্বারা, অপরের কল্যাণে বাস্তবায়ন করতে হয়।  যুগ-যুগের গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ কেবল শিক্ষার দ্বারা নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে পারে। আর অভিজ্ঞতা কেবল সহচর মাত্র।

    কালি আর কলম দ্বারা শিক্ষাকে উপলধ্বি সম্ভব কিন্তু ধারন করার কাজ ব্যক্তির নিজের। পুস্তক ও কলম ছাড়া বিদ্যা যেমন দৈবচয়ন, তেমনী নিজের তনুয় অ-ধারনকৃত বিদ্যা কাচেঁ বোতলের ভিতরের মধূ চাটার সমতুল্য।

    বর্তমান ব্যাণিজিক ভিত্তিক শিক্ষায় অর্থ উর্পাজনে শরীর ভাল রাখা গেলেও চিন্তার বাস্তব বিকাশ ও মনো-তৃপ্তি প্রশ্নবোধক ? সর্বপোরি অশুদ্ধ রাজনীতির কালো থাবা শরীর ভাল রাখার মন্ত্রকে আরও উস্কে দিচ্ছে, যার ফলাফল ভয়াবহ। যদি বলেন, যুগ-পরিক্রমাই এর সমাধান’ তবে নিশ্চিত মনে করবেন মানব সভ্যতার প্রলয় সন্নিকটে।

    একথা সত্য যে, কোন প্রাপ্তিই ছোট নয়। আবার বলা যায় অশুদ্ধ প্রাপ্তি; প্রাপ্তি নয়। বিশুদ্ধ প্রাপ্তির বাস্তব ও সঠিক প্রয়োগ সত্য স্বনির্ভর। আজ বাংলাদেশসহ উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই নিরঙ্কুশ প্রাপ্তি- অর্থনৈতিক অপ-প্রয়োগে নিজ বা জাতির অসত্য উন্নতিতে ব্যবহার করছে। যা অধিকাংশই মানব কল্যাণের পরিপন্থী, ও প্রকৃতি ধব্বংশের মূল কারণ।

    যার ফলে আজ সমগ্র বিশ্বব্যাপি জাতিতে জাতিতে রেষারেষি সৃষ্টি হচ্ছে। এই রেষারেষির বাস্তব ফল চুরি-রাহজনী, খুন-খারাপী হিংসা-মারামারি । এই জন্য পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে ‘আমি নিশ্চয় কিছু লোককে অনুগ্রহ করেছি সত্য ও ন্যায়ের পথে, তাদের পথ অনুস্বরণ কর। তাদের নহে, যারা পথভ্রষ্ট ও ভন্ড।

    আজ শিক্ষা প্রয়োগ, ভ্রান্ত ব্যাখ্যা ও  ছলনায় স্বয়ং ভগবানও অস্থির হয়ে উঠেছে। ফলে ছলনায়- সত্যও প্রকৃতি বিষয় গুলোতে সৃষ্টি হয়েছে গোল-যোগ ও বি-ভ্রান্তি।

    শিক্ষা, রাজনীতি, প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন  অপ-প্রয়োগ ও অসাধুতায় অর্থ-নৈতিক সুবিধা অর্জনে- শরীর ভাল রাখার কৌশলে পরিনত হচ্ছে। অথচ শরীর নশ্বর। শিক্ষা ও রাজনীতি, মানব কল্যাণ সর্বদাই অভিনশ্বর। তাই রাজনীতির সংজ্ঞায় বলা হয়েছে – politic is the public service for all kinds of national Interest -।  মূলকথা শিক্ষার দ্বারা অর্জিত আত্ম-আধ্যাত্ব-জ্ঞানই রাজনীতিকের প্রধান সম্বল। যা মানব কল্যাণের অভিব্যক্তি।