মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোলড়া গ্রামের কৃতি সন্তান এবং শ্রমিক আন্দোলনের পরিচিত মুখ মো. নাজমুল হোসেন সাজন দীর্ঘদিনের শ্রমিক রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে এখন পুরোপুরি মনোনিবেশ করছেন সামাজিক উন্নয়নে।
গত ১৫ এপ্রিল তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সকল পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই সাজন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং ধামরাই-মানিকগঞ্জ শাখার সভা-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। নীতিগত ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে তিনি এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নাজমুল হোসেন সাজন কেবল শ্রমিক নেতা হিসেবেই নন,বরং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও এক সাহসী কণ্ঠস্বর। গোলড়া গ্রামের অবহেলিত রাস্তার উন্নয়নের দাবিতে তিনি ছিলেন রাজপথের অগ্রসেনানি। ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ ইং তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে টানা ৬ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।
২৩ এপ্রিল ২০২৫ ইং মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বড় ধরনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি, যা এলাকার রাস্তা সংস্কারে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে। ধামরাই ও মানিকগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং ১৮ দফা দাবি আদায়ে সাজন ছিলেন রাজপথের অবিচল যোদ্ধা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শ্রম সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে সেই সংস্কার কে অধ্যাদেশ ও পরবর্তীতে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের দাবিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে বহু জটিল সংকটে সমঝোতা করিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
শ্রমিক রাজনীতির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ছাড়লেও জনসেবা ছাড়ছেন না তিনি। বর্তমানে সাজন ‘’একতা ও প্রগতি কল্যাণ সমাজ’’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মো. নাজমুল হোসেন সাজন বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার লড়াই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা। তবে এখন আমি আমার নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে চাই। ”একতা ও প্রগতি কল্যাণ সমাজ” সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাবে।