Category: সারাদেশ

  • আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল: রাষ্ট্রপতি

    আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল: রাষ্ট্রপতি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন অবস্থায় রেখে যায়। ওই বছরের অক্টোবরে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে।

    তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ইতিবাচক ‘ট্র্যাক রেকর্ড’ রয়েছে। ২০০৪ সালে সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়ন করে, যার মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা হয়।

    রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এসব পদক্ষেপের ফলেই বাংলাদেশ ধীরে ধীরে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসে। ২০০৬ সালের অক্টোবরের আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি ‘এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে।

    ভাষণে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

    এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত পুনর্গঠনের জন্য ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

  • বিরোধী দলের ওয়াকআউট প্রতিক্রিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিরোধী দলের ওয়াকআউট প্রতিক্রিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালে বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিরোধী দলের এই অবস্থানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধী দলের নেতারা ৫ ও ৬ আগস্ট আলোচনা করেছিলেন এবং যার উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছিলেন, আজ সেই রাষ্ট্রপতিকেই কেন অস্বীকার করা হচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর তাদেরই দিতে হবে।

    তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারা ৫ আগস্ট বিকেলে এবং ৬ আগস্ট আলোচনা করেছেন, যাদের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিয়েছে—সেই রাষ্ট্রপতিকে আজ কেন অস্বীকার করা হচ্ছে? তাদের দলের দু-একজন তো এই সংসদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। এই স্ববিরোধিতা কেন, সেটি তাদেরই ব্যাখ্যা করা উচিত।”

    তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউটকে একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এমন ঘটনা নতুন নয়।

    এর আগে বিকেলের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সদস্যরা প্রতিবাদ শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ ও ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’—এমন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। পরে হট্টগোলের একপর্যায়ে তারা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

    ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতি নীরব ছিলেন এবং তিনি ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী’ ছিলেন। এ কারণে সংসদে তার ভাষণ দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই বলে দাবি করেন তারা।

    অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সংসদ শেষ পর্যন্ত অর্থবহ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, “জাতীয় সব সমস্যা ও ইস্যুর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে এই সংসদ। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যাব।”

    তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেটি ধরে রেখে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

     

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবা’সহ আটক-১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবা’সহ আটক-১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবা’সহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। চিহ্নিত মাদক কারবারী হেলাল উদ্দিন (৪২)কে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তা পুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার নুনগোলা কেডিসিপাড়া হতে হেরোইন ও ইয়াবা’সহ গ্রেফতার করে র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা। আটককৃত ব্যক্তি হচ্ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার মোঃ মোস্তফার ছেলে মোঃ হেলাল উদ্দিন (৪২)।

    র‌্যাবের এক প্রেসনোটে জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার বারোঘরিয়া এলাকা হতে ৫০.২৫ গ্রাম হেরোইন ও ১২৩ পিচ ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারী মোঃ হেলাল উদ্দিন (৪২)কে তার নিজ বসতবাড়ী হতে আটক করা হয়। আসামী ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    র‌্যাব আরও জানায়, ১১ মার্চ একটি আভযানিক দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নিয়মিত টহল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে গোপন তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে, গোমস্তাপুর থানার রহনপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডস্থ নুনগোলা কেডিসিপাড়ায় আসামীদের বসতবাড়ীতে অবৈধ মাদক ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।

    প্রেক্ষিতে আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে নুনগোলা কেডিসিপাড়া আসামীর নিজ বসতবাড়ীর শয়ন ঘরের সামনে বারান্দা হতে আসামী মোঃ হেলাল উদ্দিন কে বেলা ১২.৩০ ঘটিকায় আটক করা হয় এবং হেলাল উদ্দিন এর স্ত্রী মোসাঃ আয়না বেগম (৪০) ও ছেলে মোঃ হিমেল (২০) সু-কৌশলে পালিয়ে যায়।

    অতপর ধৃত আসামীর স্বীকারোক্তি ও নিজ হাতে বের করে দেওয়া মতে তার বসত বাড়ীর শয়ন ঘরের ভিতর বিছানার তোষকের নীচে হতে অবৈধ মাদক ৫০.২৫ গ্রাম হেরোইন ও ১২৩ পিচ ইয়াবা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য র‌্যাবের নজরদারী ও অভিযান অব্যাহত আছে।

  • দেশে আবারও সংসদীয় রাজনীতির সূচনা হলো-প্রধানমন্ত্রী

    দেশে আবারও সংসদীয় রাজনীতির সূচনা হলো-প্রধানমন্ত্রী

    স্পিকারের চেয়ার শূন্য রেখেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাগত বক্তব্য দেন।

    বক্তব্যে তিনি গণঅভ্যুত্থানের জড়িতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারেক রহমান বলেন, দেশে আবারও সংসদীয় রাজনীতির সূচনা হলো, আলহামদুলিল্লাহ।

    এসময় তিনি পাঁচ বারের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদে সভাপতিত্ব করার প্রস্তাব রাখেন।

    এসময় সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রস্তাবে সমর্থন জানান। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় উপনেতা সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও এ প্রস্তাবে সমর্থন জানান।

    তবে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সংসদে বলেন, একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে সংসদে সভাপতি করার আগে সরকারি দল বিরোধী দলের সঙ্গে আলাপ করতে পারতো।

  • আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন 

    আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন 

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন  বসতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে বেলা ১১টায় অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসানো বাধ্যতামূলক।

    প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

    বিগত সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন শুরু করার প্রসঙ্গে সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তিকে দিয়ে অধিবেশন শুরু করাতে হবে।”

    সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।

    জামায়াত এই পদটি নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সরকারি দলীয় হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, জামায়াত এখনও ডেপুটি স্পিকার পদে কারও নাম প্রস্তাব করেনি।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ পেয়েছেন। কিছু সিনিয়র নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি; তাদেরকে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার করা হতে পারে।

    সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যরা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।

    এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করতে হয়। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অনুমোদন না দিলে অধ্যাদেশের কার্যকারিতা থাকবে না।

  • সনদের পুরো প্যাকেজ বাস্তবায়নের দাবি জামায়াতে

    সনদের পুরো প্যাকেজ বাস্তবায়নের দাবি জামায়াতে

    জুলাই প্রস্তাব বা সনদের আংশিক নয়, বরং এর পুরো প্যাকেজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    তিনি বলেছেন, ‘আমরা জুলাই সনদের আংশিক নয়, পুরো প্যাকেজ চাই। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের যেটুকু প্রাপ্য, সেটুকুই আমরা নেব।’

    বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের নবম তলায় বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলীয় সংসদীয় দলের সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান।

    এ সময় সরকারি দলকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ারও আহ্বান জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।

  • ১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন

    ১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন

    দেশজুড়ে নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা-তে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

    মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার পাশাপাশি দেশের আরও ৫৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করবেন। পানিসম্পদ, স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

    মীর শাহে আলম বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ স্থানীয় শ্রমিক দের দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”

     

  • ৫ বছরে ৪ কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে

    ৫ বছরে ৪ কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি পরিবারে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    ”তিনি আরো বলেন, “দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী এবং তাদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীপ্রধান পরিবার গুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতেই সরকার এই কর্মসূচি চালু করেছে। এ সময় পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ড. জুবাইদা রহমান।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    তারেক রহমান বলেন, “সমগ্র বাংলাদেশে ১৪টি জায়গায় বা ১৪টি উপজেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এই মুহূর্তে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশগ্রহণ করছে।

    আমাদের এই কড়াইল এলাকা, ভাসানটেক এলাকা এবং সাততলা-এই তিন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই কার্ডের সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।”

     

  • সাটুরিয়ায় তামাকচাষীদের প্রনোদনা দেওয়ার আহ্বান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার !

    সাটুরিয়ায় তামাকচাষীদের প্রনোদনা দেওয়ার আহ্বান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার !

    তামাকের বিকল্প কৃষিপণ্য চাষের জন্য তামাকচাষীদের প্রণোদনা দেওয়া আহ্বান জানিয়েছেন সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া তাবাসুম। তিনি (৮মার্চ) রবিবার উপজেলা হলরুম মিলনায়তনে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর সাথে মতবিনিময় কালে এই আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, আমাদের সাটুরিয়া উপজেলার চরাঞ্চল গুলোতে বিশেষ করে তিল্লি, বরাঈদ ও দিঘলীয়া ইউনিয়নের অনেক জায়গায় তামাক চাষ হচ্ছে। কিছু সংখ্যক কৃষক অধিক লাভের আশায় তারা তামাক চাষের উপর ঝুঁকে পড়েছেন। অসাধূ তামাক কোম্পনী গুলো গোপনে প্রনোদনা দিয়ে জনবহুল এলাকাগুলোতে কৃষকদের তামক চাষে বাধ্য করছেন যা জনস্বাস্থের মারাত্বক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমান জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। যার ফলে ধান, আলু ও ভুট্টার মতো ফসলি জমি, পরিবেশ ও কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুঁমকি সৃষ্টি হতে পারে।

    তিনি বলেন, আমরা উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সার্বিক খোজঁ-খবর রাখছি। তামাকজাত পণ্যের ব্যবসায়ীগণ যাতে কৃষকদের প্রলোভিত করতে না পারে সে দিকে ও আমাদের দৃষ্টি আছে।

    তিনি উল্লেখ্য করেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমাদের আশা-আমরা যদি নিদিষ্ট এলাকাগুলোতে (যে সব এলাকাগুলোতে তামাক চাষ হয়) সরকারী ভাবে প্রনোদনা দিতে পারি তবে কৃষকদের এই ক্ষতিকর কৃষিজ পন্য উৎপাদন থেকে বিরত রাখতে পারবো এবং সাটুরিয়াকে একটি দুষনমুক্তে উপজেলা হিসাবে ঘোষনা করতে পারবো।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান শুরু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান শুরু

    অবৈধভাবে মাটি কাটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন ও
    পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযানে একজনকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া অভিযানে অপরাধীদের ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় ও প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ৬, ৭ ও ৮ নং স্পার বাঁধ এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহনের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটি বহনকারী একটি ট্রাক্টরের ড্রাইভারকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

    সোমবার (৯ মার্চ) মধ্যরাতে ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)’র সামনে এই অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ। আরও জানা গেছে, মধ্যরাতে পদ্মা নদী হতে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ভূমিদ্যসুরা অভিযানের সংবাদ পেয়ে পালিয়ে যায়।

    তবে মাটি পরিবহনরত অবস্থায় ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)'র সামনে থেকে একটি মাটিভর্তি ট্রাক্টরসহ সাকিব রানা (১৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাকিব রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে ৮নং স্পার বাঁধ এলাকায় পদ্মানদী হতে মাটি উত্তোলন করে বিএমএইচ ব্রিকসে (হিরো ইটভাটা)'য় পরিবহন করছিলো বলে জানায়।

    বিষয়টি উক্ত ইটভাটার ম্যানেজার আলহাজ্ব এনামুল হক (৬১) অকপটে স্বীকার করেন। তাদের উভয়ের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সাকিব রানা (১৯) কে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিামান এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড সর্বমোট ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।

    এছাড়াও ইটভাটার ম্যানেজার আলহাজ্ব এনামুল হককে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়। এব্যাপারে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    আইনের এমন কঠোর প্রয়োগে নদী ভাঙ্গন একাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, অবৈধ মাটি কাটার কারণে নদীভাঙন ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান হলে এসব অনিয়ম বন্ধ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    স্থানীয়দের দাবী, এলাকার কিছু বালু ও মাটি খেকোরা রাতের বেলার নদী রক্ষা বাঁধ এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এসব মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এই মাটি কেটে নেয়ার ফলে প্রতিবছরই দেখা দিচ্ছে নদী ভাঙ্গন। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশেরও।

    সন্ধ্যা হলেই যেন মাটি খেকোদের উৎসব শুরু হয়, রাতের বেলায় শতাধিক ট্রাক্টর দিয়ে চলে মাটি বহনের কাজ।

    স্থানীয়ভাবে এসব বন্ধের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও কোন মাথাব্যাথা নেই ওই চক্রটির। তারা আরও জানায়, এসব কাজের সাথে এক শ্রেণীর অসাধু জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। দীর্ঘদিন থেকেই এই চক্রটি অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

    স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে বলেন, অভিযান চালানো হয় ঠিকই, কিন্তু অভিযানের ২/১দিন পরই আবার শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব। অজ্ঞাত কারনে দেখেও না দেখার ভান করে সংশ্লিষ্টরা। ফলে একবার অভিযান চালানোর পর আরও জোরে সোরে চালায় মাটি কাটার কাজ।

    এসব মাটি কেটে নেয়ার ফলে জমির উপরিভাগের অংশ কেটে নেয়ায় জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। জমির মালিক হারাচ্ছে ফসলও। এভাবে মাটি-বালু কেটে নেয়ার ফলে হুমকীর মুখে পড়ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা নদী তীর সংরক্ষন বাঁধ।

    স্থানীয় ভূক্তভোগীদের দাবী পদ্মা তীরবর্তী বাঁধ এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে মাটি কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।