Category: সারাদেশ

  • ‘ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা’

    ‘ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা’

    স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ- ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা, প্রায় একযুগ পর ঝিনাইদহবাসি পেল এক সফল জেলা প্রশাসক। একের পর এক ঝিনাইদহ শহর দখলমুক্ত করছেন সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এর বিভিন্ন প্রকার জনবান্ধব কর্মকান্ডে অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলার আমজনতা।

    সরেজমিনে ঝিনাইদহ শহর ঘুরে দেখা গেছে প্রায় এক যুগ পর বর্তমান নয়া জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ একের পর এক জেলা শহরের ট্রাক-টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল, শহীদ মিনার ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, শহরের ‘ট’ বাজার সহ শহরের বিভিন্ন এলাকার অলি গলি দখলমুক্ত করছেন। এতে করে শহর জুড়ে অবাধ ও নির্বিঘে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছেন সাধারন জনগন।

    ধীরে ধীরে ঝিনাইদহ শহর একটি মডেল শহর হিসাবে গড়ে উঠছে। তীব্রশীতের মধ্যে অসহায় দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণসহ কম্বল বিতরনের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রকারের জনহীতকর কার্যক্রম চলমান রেখেছেন জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। ফলে প্রায় এক যুগের পর সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এর এসব কর্মকান্ডে অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলার সাধারন মানুষ।

    এছাড়া জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ দায়িত্ব গ্রহন করার পর পরই ঝিনাইদহের আদালত চত্ত্বর, সদর হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএসহ একের পর এক সরকারী প্রতিষ্ঠান দালাল মুক্ত ও দুর্নীতি মুক্ত করেই চলেছেন। বিভিন্ন প্রকার প্রকল্পের মধ্যে টিআর, কাবিটা, কাবিখাসহ নয়া প্রকল্প সমুহের সার্বিক দেখভাল করার কারনে এসব প্রকল্পের কার্যক্রম ধীরেধীরে দুর্নীতি মুক্ত হয়ে উঠছে।

    তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনসহ অবৈধ ভাবে আবাদী জমির মাটি কেটে শ্রেনী পরিবর্তন ও মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করা ও সরকারী গাছ কর্তন, জেলার বিভিন্ন সরকারী অফিসে দূর্নীতি বন্ধকরন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমের ত্বরান্বিত করাসহ জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরণে বদ্ধপরিকর ভুমিকা রেখে ইতিমধ্যে জেলার আমজনতার মধ্যে অভুতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছেন সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ।

    সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বর্তমান কর্মকান্ডের ন্যায় আগামিতেও রাজনীতির মারপ্যাচের উর্দ্ধে উঠে একনিষ্ঠ ভাবে আপন দায়িত্ব পালন করে যাবেন, এমনটায় আশা করছেন জেলার আমজনতা।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির অভিযানে মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য  গ্রেপ্তার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির অভিযানে মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য  গ্রেপ্তার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার রোধে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক মানব পাচারকারীসহ চারজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ৫৩ বিজিবি সদস্যরা।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বগচর গ্রামের এবাদুল ইসলামের ছেলে মোঃ শাহিন (মানব পাচারকারী), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে মোঃ তারাজুল ইসলাম (৩১), রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানা এলাকার মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম মুন্না (৩৭), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মৃত টুপু আলীর ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান।

    বিজিবি সুত্র জানায়, বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বকচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরআলাতলী ইউনিয়নের বকচর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মানব পাচারকারী মোঃ শাহিনের সহায়তায় তারা অবৈধভাবে ভারতের চেন্নাই প্রদেশে রাজমিস্ত্রির কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি বলেন, বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণসহ মানব পাচার, চোরাচালান ও সকল প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

     

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে সংবাদ সম্মেলন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে সংবাদ সম্মেলন

    আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু ঃ অবৈধভাবে ভারতে গরু চোরাচালানের সময় পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হওয়া গোলকাজুল ওরফে কাজলকে কেন্দ্র করে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অবিলম্বে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার, পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং গোলকাজুল নিখোঁজ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।  একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

    এই সময় উপস্থিত ছিলেন, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম, আসামী নুরুল ইসলামের ভাই সোহেল রানা, আসামীর চাচা নাজমুল হোসেন, আটক কৃত কামরুল ইসলামের স্ত্রী সাবানা বেগম, আসামী নেজামের স্ত্রী পারুল বেগমসহ অন্যান্যরা।

    এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমরা সংবাদ সম্মেলন ডেকেছি-চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত বর্তী এলাকায় সংঘটিত একটি নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার প্রতিবাদ এবং নির্দোষ স্থানীয় মানুষ ও পরিবারগুলোর ওপর চলমান হয়রানি বন্ধের দাবিতে।

    এই সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য কোনো রাজনৈতিক নয়, ঘটনার প্রকৃত বিবরণ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরা-যাতে সত্য উদঘাটিত হয় এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত হয়।

    সম্মেলনে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ তুলে ধরে বলা হয়, গত ৩ জানুয়ারি/২৬ আনুমানিক রাত ৩টার দিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের নারো-খাকি এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গোলকাজুল ওরফে কাজল (৩৫) নামের একজন ব্যক্তি নিখোঁজ হন।

    তিনি মৃত আলতাফ হোসেন ওরফে ফিরোজ মেম্বারের ছেলে। তার বাড়ি চাকপাড়া গ্রাম, ইউনিয়ন- চরবাগডাঙ্গা, থানা ও জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর। ঘটনাটি পরদিনই দেশের একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

    একই সাথে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নৌকাডুবির ঘটনায় একজন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার সময় যিনি নিখোঁজ ব্যক্তির সঙ্গে ছিলেন ও কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে ফিরে এসেছেন-তার বক্তব্য ও প্রত্যক্ষ তথ্যের ভিত্তিতে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ঘটনার রাতে সেখানে মাত্র দুইজন ব্যক্তি ছিলেন।

    নিখোঁজ ব্যক্তি গোলকাজুল ওরফে কাজল এবং তার সহযোগী বাচ্চু বাংলাদেশি সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদী দিয়ে একটি ছোট, আনুমানিক ১০ ফুটের ডিঙ্গি নৌকায় অবৈধভাবে ভারতীয় জলসীমার দিকে রওনা হন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে গরু আনা। নৌকাটি নদীর গভীর অংশে পৌঁছানোর পর প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস ও তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

    ঘটনাটি পদ্মা নদীর ভারতীয় জলসীমার গভীর অংশে ঘটে বলেও জানা যায়। নৌকায় থাকা বাচ্চু কোনোরকমে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে বেঁচে যান। অপরদিকে, গোলকাজুন ওরফে কাজল ভারী জ্যাকেট ও কাপড় পরিহিত অবস্থায় পানিতে তলিয়ে যান এবং আর উঠে আসতে পারেননি। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা বাচ্চুর দেয়া জবানবন্দী আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। এই ঘটনা একমাত্র বাচ্চুই প্রত্যক্ষ করেছেন।

    স্থানীয়ভাবে বহু মানুষ এই ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানে এবং পুরো এলাকা শুরু থেকেই বিষয়টি অবগত। ঘটনার পরদিন প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসংশ্লিষ্টভাবে বাচ্চুসহ চারজনের নামে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে কোনো নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত ছাড়াই ঘটনার সাত দিন পর কল্পিত কাহিনি সংযোজন করে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের দোসর, রাজশাহীর সাবেক সিটি মেয়র ও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের দুর্ধর্ষ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের কুখ্যাত ও দুধর্ষ ক্যাডার ও উত্তরবঙ্গের আতঙ্ক, উত্তরবঙ্গের কুখ্যাত মাদক সম্রাট, পাঁচটির অধিক হত্যা মামলার আসামি-বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে আসা ইয়াবা, হেরোইনসহ ভয়ংকর মাদক আমদানির মূল হোতা হিসেবে পরিচিত মো শাহীদ বানা টিপু ওরফে ইয়াবা টিপু ওরফে ল্যাংড়া টিপু দীর্ঘদিন ধরে মাদকের গডফাদার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কুখ্যাত, একই সঙ্গে খুনি, অবৈধ মাদক ব্যবসা, অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালান, বালু মহলের গদফাদার ও আন্ডার গ্রাউন্ডভিত্তিক সন্ত্রাসী অপরাধচক্রের গডফাদার হিসেবে পরিচিত।

    বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে পলাতক অবস্থায় থেকেও আন্ডারগ্রাউন্ড কার্যক্রম, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে যাচ্ছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি-এই নিখোঁজ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া অপহরণ মামলাটি মূলত মাদক সম্রাট শাহীদ রানা টিপুর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তিনি তার প্রতিপক্ষ ও এলাকার সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে নিজের ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অপরাধের কারণ ছাড়াই শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সাতটির অধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা পুলিশ নির্বিঘ্নে রেকর্ড করেছে।

    এই প্রেক্ষাপটে আমরা উদ্বেগজনকভাবে জানাতে চায়, শহীদ রানা টিপুর নামে যখন পাঁচটির অধিক হত্যা মামলাসহ অস্ত্র বিস্ফোরক সন্ত্রাসবিরোধী ও মাদক আইনে একাধিক গুরুতর মামলা বিদ্যমান, তখন তাকে কীভাবে নির্বিঘ্নে দেশ ত্যাগ করতে দেওয়া হলো।

    ৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে ও প্রভাবশালীভাবে চলাফেরা করার পরেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো না? কীভাবে এবং কার সহায়তায় সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল-এই প্রশ্নগুলোর কোনো জবাব আজও আমরা পাইনি।

    একজন চিহ্নিত অপরাধ জগতের গডফাদার এর ক্ষেত্রে যখন কার্যকর বিচার, গ্রেপ্তার কিংবা জবাবদিহি দেখা যায় না, তখন সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার নিয়ে গভীর হতাশা গ্রস্থ। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার (ওসি) মোঃ নূরে আলম, ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ, সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) তাদেরকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। শাহীদ রানা টিপুর নিজ দলীয় লোকজন ও নিকটাত্মীয়দের সূত্রে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত।

    একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো মিজানুর রহমান ওরফে মিজান এবং তার মাদক সিন্ডিকেট ও দলীয় লোকজনকে সামনে রেখে একটি নাটক সাজানোর অপচেষ্টা চলছে।

    এদিকে, শাহীদ রানা টিপু ও তার সহযোগীদের মতো প্রভাবশালী অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে আইনের বাইরে, অথচ সাধারণ মানুষকে বারবার মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হতে হচ্ছে।

    চালানো হচ্ছে ভয়ভীতি, নির্যাতন ও মানসিক চাপ- যার কোনো প্রতিকার আমরা পাচ্ছি না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই নিখোঁজ ঘটনাটিও একই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ- যার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী ও মাদকচক্র আড়ালে থেকে যাচ্ছে এবং এলাকায় ভয়, আতঙ্ক ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি জিইয়ে রাখা হচ্ছে।

    এ ধরনের অপচেষ্টা পুরো এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই নিখোঁজ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্ট হয়েছে।

    ঘটনার পর থেকে দফায় দফায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি তুলেছে। এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি সচেতন মহলও প্রকাশ্যে একাত্মতা ও
    সংহতি প্রকাশ করেছে।

    আমরা এই সংবাদ সম্মেলন থেকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই-এই মামলায় যেসব নির্দোষ মানুষকে আসামি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব ধরনের শাস্তিমূলক ও হয়রানিমূলক ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

    প্রাথমিক তদন্ত, সরেজমিনে ঘটনা যাচাই এবং প্রকৃত সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ না করেই, কেন তাড়াহুড়ো ও কোন্ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই মামলাটি নথিভুক্ত করা হলো? কেন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস্তবতা যাচাই না করে, প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ না করে, একটি গুরুতর মামলা এত দ্রুত রেকর্ড করা হলো?

    এই মিথ্যা মামলা যারপরিকল্পিতভাবে করেছে, যারা তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করেছে এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্দোষ মানুষদের ফাঁসিয়েছে-ওসি হোক বা অন্য যে-ই জড়িত থাকুক, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

    স্বৈরাচার সরকারের দোসর ও প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে তরিঘড়ি করে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ৫ আগস্টের আগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে অনাস্থা ও ভয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল, এই ঘটনার মাধ্যমে সেটিই আবার নতুন করে ফুটে উঠেছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই।

    আমরা কোনো অপরাধীকে রক্ষা করতে বলছিনা। যদি কেউ দোষী হয়, তবে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হোক এবং আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন না করে, প্রভাবশালী অপরাধী চক্রকে আড়াল করে এবং নির্দোষ মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে যেন হয়রানি করা না হয়। প্রশাসনের কাছে জোরালোভাবে আবেদন জানাই, এই নিখোঁজ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রকৃত অপরাধী যদি চিহ্নিত হয়, তার বিরুদ্ধে মামলা হোক, শাস্তি হোক-এটাই আমাদের অবস্থান। কিন্তু একজন ডুবন্ত মানুষ ও একটি নিখোঁজ লাশকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা হচ্ছে, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টির আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

    এই মিথ্যা ও সাজানো মামলার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তারা যেই হোক না কেন-তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

    একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, নির্দোষ মানুষদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই-নির্দোষ মানুষ যেন আর মিথ্যা মামলার শিকার না হয়।

     

  • “এসপ্রেসো”

    “এসপ্রেসো”

    তোমার শহর ছেড়ে দিয়েছি
    ভুলে গিয়েছি, বাতাসের গন্ধ
    -মিতালী মৃদতায়,
    পাশে থাকার আনন্দ।।

    ছিল, অমৃত সাধ
    কাঁটাতে দিবস-রাত-
    অতি চুপিসারে-
    তোমার নগ্ন বুকেঁ।।

    হারিয়ে ফেলেছি পথ
    যা ছিল চির-চেনা,
    স্বরণে কৃতার্থতা,
    শোধিতে দায় -দেনা।

    অকারণ, বাড়ছে বাতুলতা!
    আজ, দেউরী ধারায়,
    চুপি-চুপি কানাঘোষা
    -পাড়ায় পাড়ায়।

    এ নাকি প্রেম রোগ ?
    নাই যার সুখ-দুখ!
    অকারণে বিলাপ হাসিঁ
    চিরন্তন ছেড়ে, কল্পনা ভালবাসি !

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্স এর অভিযানে গাঁজাসহ আটক-৪ 

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্স এর অভিযানে গাঁজাসহ আটক-৪ 

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের গঠিত টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযানে ৪ মাদক কারবারী আটক হয়েছে। অভিযানে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

    ১৩ জানুয়ারী বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পি.টি.আই বস্তি এলাকায় চালানো অভিযানে আটক হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার চাঁদলাই জোড়বাগান মহল্লার মৃত সেন্টুর স্ত্রী মোসা: কিসমত আরা (৪৭), পি.টি.আই এলাকার মোঃ হৃদয় এর স্ত্রী মোসা: নিসা বেগম (৩০), নয়ন শুকা কামারপাড়ার মোঃ মজিবর রহমানের মেয়ে মোঃ জহুরুল ইসলাম (৩৫) এবং রেহাইচর আদর্শপাড়ার মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ রহমত আলী (৪০)।

    এসময় ৪ জনের কাছ থেকে ৭০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।  গ্রেফতারকৃত আসামি-দের বিরুদ্ধে পরিদর্শক মোঃ রফিকুল ইসলাম ও উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ পৃথক ভাবে প্রসিকিউশন দাখিল করেন।

    বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তায়েফ উল্লাহ হুজাইফ শুনানি শেষে, প্রথম আসামিকে ১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড, দ্বিতীয় আসামিকে ৫ (পাঁচ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, তৃতীয় ও চতুর্থ আসামিকে ৩ (তিন) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান এক প্রেসনোটে বিষয়টি নিশ্চিত করে এক প্রেসনোটে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক নির্মূলে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • গোমস্তাপুর সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১৭ জনকে পুশ-ইন

    গোমস্তাপুর সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১৭ জনকে পুশ-ইন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৭ জন বাংলাদেশিকে পুশ-ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএস এফ)। মঙ্গলবার রাতে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চাড়ালডাংগা সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়।

    পরে বুধবার ভোরে তাদের আটক করে নওগাঁস্থ ১৬ বিজিবি। বিজিবির ১৬ ব্যাটালি-য়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত পিলার ২১৯/২৯-আর সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই ১৭ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

    এরপর সীমান্ত থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার ভেতরে শিবনগর বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ৫ জন নারী ও ৪ জন
    শিশু রয়েছে। তারা সবাই খুলনা ও যশোর জেলার বাসিন্দা।

    বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর দেশটির পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে আগ্রা কারাগারে প্রায় তিন বছর সাজা ভোগ করেন তারা।

    সাজার মেয়াদ শেষে ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের টিলাশন ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করে।

  • ঝিনাইদহে চাকরীর প্রলোভনে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ !

    ঝিনাইদহে চাকরীর প্রলোভনে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ !

    স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ- ঝিনাইদহে চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্রের সদস্য শাহানুর রহমান। এতে টাকা হারিয়ে মহা বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগি ইশরাত জাহানের পরিবার। এঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি অভিযোগ দাখীল করেছেন ভুক্তভোগী ইশরাত জাহান।

    অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের আইনুদ্দিনের ছেলে শাহানুর রহমান (৩৮) বিভিন্ন এলাকার লোকজনের নিকট হইতে টাকা পয়সা নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রালয়ের অধীনে চাকুরি দিয়ে দেয় মর্মে প্রচার করিতে থাকে।

    প্রতারক শাহানুরের সহিত অভিযোগকারী ঝিনাইদহ শহরের উপশহরপাড়ার মৃত এরশাদ আলীর কন্যা ইশরাত জাহানের ভাই এবং তার স্বামী কোটচাঁদপুরের লক্ষীপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে আবু লাছের কথা হয়।

    প্রতারক শাহানুর ইশরাতের স্বামী আবু লাছকে তথ্য অধিদপ্তরে ক্লারিক্যাল পদে চাকুরি দিয়ে দিবে বিনিময়ে ১০০০০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা দিতে হবে মর্মে ০৭/০৯/২৩ তারিখে ভুক্তভুগী ইশরাতের পিতার বর্তমান বাসার ঠিকানা ঝিনাইদহ শহরের উপশহর পাড়ার বাড়িতে আসিয়া সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১০০ টাকার একটি লিখিত নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ৬০০০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকা ইশরাত ও তার স্বামীর নিকট হতে গ্রহণ করে। এসময় উপস্থিত সাক্ষীগণও উক্ত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন।

    পরে প্রতারক শাহিনুর ইশরাতের স্বামী আবুলাছকে কোন চাকুরির ব্যবস্থা করিতে না পারায় ইশরাত শাহনুরের নিকট তাদের প্রদানকৃত টাকা ফেরত চাইলে শাহানুর বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা করিতে থাকে।

    এক পর্যায়ে ইশরাত তার স্বামী শ্বশুরের জায়গা জমি বিক্রয় করিয়া আবুলাছকে গত ইং ২৩/০১/২৫ তারিখে কুয়েতে পাঠিয়ে দেই।

    কিন্তু প্রতারক শাহানুর অদ্যবধি ইশরাতদের প্রদানকৃত টাকা ফেরত দেয় নাই। মহা বিপাকে পড়ে পরবর্তিতে ইশরাত জাহান গত ইং ০৯/০১/২৬ তারিখে স্বাক্ষীদের নিয়ে প্রতারক শাহানুরের এনায়েতপুর গ্রামের বাড়িতে যাইয়া চাকুরীর জন্য প্রদানকৃত টাকা ফেরত দিতে বলিলে শাহানুর ফেরত দিতে অস্বিকার করে খুন জখমের হুমকি দিয়া তাড়িয়ে দেয়।

    এঘটনায় স্বাক্ষীগণসহ এলাকার অনেক লোকজন ঘটনার বিষয় অবগত আছে বলে জানায় ইশরাত। ইশরাত জাহান আইন বিচার কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করে জানায়, এসব প্রতারক চক্রের সমস্ত সদস্যদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দিতে হবে। যাতে করে আর কখোনো কেউ এই প্রতারক চক্রের কাছে প্রতারিত হতে না পারে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাকরী চক্রের সাথে ঝিনাইদহ এনায়েত পুরের শাহানুর, চুয়াডাঙ্গা জীবননগর এলাকার ইনজামামুল হক, বোয়ালখালীর ফরিদপুর এলাকার সবুজ কুমার বালাসহ একাধীক প্রতারক জড়িত মর্মে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

    এদিকে সরকার পরিবর্তনের আভাষ পেয়ে চাকরী চক্রের সদস্য প্রতারক শাহানুর এলাকা ত্যাগ করে নিজেকে বাঁচাতে কুমিল্লা দেবিদ্বার এলাকায় একটি প্রাইভেট কলেজে শিক্ষকতা পেশায় ঢুকে পড়ে।

    অপরদিকে চুয়াডাঙ্গা জীবননগর এলাকার ইনজামামুল হক ঢাকায় সরকারী শিল্প মন্ত্রনালয়ের অধিনে এমআইএস বিভাগে ডাটা এনালিষ্ট হিসাবে কর্মরত রয়েছে।

    এঘটনায় শাহানুর রহমান ও ইনজামামুল হকের মুঠোফোনে একাধীক বার কল করার পরেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এবিষয়ে অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইদহ সদর থানার এসএই শিশির বলেন তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • মানিকগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা!

    মানিকগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা!

    মানিকগঞ্জে এক নারী হত্যাকান্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মোশাররফ হোসেন (৪৫)। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পৌলী গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ জানায়, মোশাররফ দুটি বিয়ে করেছিলেন এবং দুই স্ত্রীই তাঁকে তালাক দিয়ে চলে যান। অর্থনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

    ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পৌলী গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন নুরজাহান বেগম (৫৫)। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন। টিনশেড ঘরের গোসলখানার ভেন্টিলেটরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র তাকে হত্যা করে।

    ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ শালজানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর মোশাররফ স্বীকার করেছেন যে, নুরজাহান বেগমের সঙ্গে তাঁর অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া এবং জনসম্মুখে অপমানজনক মন্তব্য করায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    স্বীকারোক্তিতে আসামি জানান, ঘটনার রাতে সুযোগ বুঝে তিনি নুরজাহানের ঘরে ঢুকে প্রথমে কাঠের পিঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে ওড়না ও কাঁথা দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে শেষে বৈদ্যুতিক তার গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ মুন্সী জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আসামি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, নুরজাহানের বাড়িতে তিনি ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। বকেয়া বাড়ি ভাড়া এবং দোকানে চা-পানের বাকি টাকার জন্য নুরজাহান তাঁকে নিয়মিত চাপ দিতেন।

    পাশাপাশি দাম্পত্যবিরোধে স্ত্রী চলে যাওয়ায় নুরজাহান জনসম্মুখে তাঁকে নিয়ে অপ-মানজনক মন্তব্য করতেন। এসব কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

    এসআই মাসুদ মুন্সী আরো জানান, আদালতের নির্দেশে আজ মঙ্গলবার বিকেলে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • ‘না’ পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে: নাহিদ ইসলাম

    ‘না’ পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে: নাহিদ ইসলাম

    গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে সব রাজনৈতিক দলের অবস্থান নেওয়া দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণভোটের প্রচারণার লক্ষ্যে ক্যারাভ্যান উদ্বোধনের সময় তিনি এমন কথা বলেন।

    নাহিদ বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলাটা সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব ছিল। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটা বিশেষ দল ‘না’ এর পক্ষে কথা তুলছে। তবে আমরা বলতে চাই গণভোটে ‘না’ পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।

    জনগণকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাদের ভোট নাও দেন, তবুও আমাদের অনুরোধ থাকবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, সারাদেশে গণভোটের পক্ষে আজ থেকে আমাদের প্রচারণা শুরু হচ্ছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

  • ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিহত-২০০০

    ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিহত-২০০০

    ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিবিসি পার্সিয়ানের সাংবাদিক জিয়ার গোলসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্র।

    জিয়ার গোল জানান, তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে ‘আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা যায়’—মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ইরান সরকার অতীতে শক্তি প্রয়োগ করলেও এবারকার পরিস্থিতি “একেবারেই নজিরবিহীন”।

    রয়টার্সও একজন ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশজুড়ে চলমান সংঘাতে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজারের মতো হতে পারে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিক উভয়ই রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে এসব মৃত্যুর জন্য তাদেরকেই দায়ী করেছেন।

    এর আগে, এক ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিসের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স বলেন, বিভিন্ন রিপোর্টে শত শত মানুষের নিহত হওয়া এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর আটক থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

    মানবাধিকার বিষয়ক একটি স্বাধীন সংস্থা গতকাল জানায়, তাদের ধারণা অনুযায়ী কমপক্ষে ৬৫০ জন নিহত হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।