Category: সারাদেশ

  • সমতা ও ন্যায্যতার বিচারে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীই মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আশার প্রতিক!

    সমতা ও ন্যায্যতার বিচারে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীই মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আশার প্রতিক!

    বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের অত্যাধিক দলীকরণে সাধারন মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। বিয়ের দাওয়াত থেকে শুরু করে রোজাদারদের দাওয়াতেও দলীয় প্রভাব দেখা গেছে। বিচার-আচার কিম্বা সরকারী বাজেট বরাদ্দেও দলীয় লোকদের সীমাহীন অধিকার ছিল। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, একচাটিয়া প্রভাব বিস্তারে দলীয় নেতা-কর্মীরা ছিল একট্র। তাদের এই অত্যাচার-নীপিড়ন, নির্যাতন আর দলীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে সাধারন জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়লে অবশেষে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়। যার কারণে আজ আমরা একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছি।

    দেশের মানুষের বহুল কাঙ্খিত এই নির্বাচিত সরকার মাত্র একমাস পার করেছেন। এর মধ্যে দলীয় চামচেমীতে সরকার অনেকটাই কোনঠাসা। যদিও সরকারের নীতি-নির্ধারকরা বার বার বলছেন, ‘সত্য সুন্দর ও কল্যাণকার কাজে তারা কোন ভাবেই দলীয় হস্তক্ষেপ পছন্দ করে না। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীও কঠিণ হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন ‘সরকারী দলে কোন চাদাঁবাদ, সন্ত্রাসী ও লুটেরার আশ্রয় হবে না। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা এখন ভাবনার বিষয়।

    আলোচনার প্রসঙ্গে উল্লেখ, আমার বাড়ী মানিকগঞ্জ জেলাধীন সাটুরিয়া উপজেলায়। জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি, এখানকার মানুষ শান্তি প্রিয় ও সহ-অবস্থানে বিশ্বাসী। জাতীয়তাবাদী ধারনা তাদের যুগ যুগের পথিকৃৎ। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে হঠাৎ করেই এই উপজেলাটিতে একশ্রেণীর ‘নব্য- আওয়ামী শ্রেণীর উন্মেষ ঘটে।  কিঞ্চিত জাতীয়তাবাদীরা, অধিক সুবিধা আদায়ে তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের দলে যোগ দেয়। ‘ডাল-চাউলের’ তথাকথিত এই শ্রেণী ছলে-বলে, কলে কৌশলে এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে উঠে।

    বিচার-সালিশ থেকে শুরু করে স্থাণীয় পযার্য়ের সকল সরকারী বাজেট বরাদ্দে তারা দলীয়করণের আশ্রয় নেয়। প্রশাসণের পরোক্ষ সহযোগিতায় ‘একটি ফ্যাসিষ্ট শ্রেণী- গোষ্ঠীর গড়ে তুলার চেষ্টা করে। পথে প্রান্তরে, যত্রতত্র পোষ্টার-ব্যানার ও দলীয় সঙ্গ তৈরী করে মানুষের মনে ভীতির সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সমাজের বখে যাওয়া ছেলেরা এই সঙ্গগুলোর নেতৃত্ব দিতে থাকে। সর্বপোরি তারা নিজেদের অসহিষ্ণু মতবাদ জোড়-পুর্বক সাধারন মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

    টেন্ডারবাজী, সন্ত্রাস, চাদাঁবাজী ও সরকারী সম্পদ লুট নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তাদের অত্যাধিক জুলুম-যাতনায় অস্থির হয়ে শেষ পর্যন্ত মানুষের রাস্তায় নেমে আসে এবং যার সফল জুলাই বিপ্লব সংগঠিত হয়।

    আমরা সাটুরিয়া-মানিকগঞ্জবাসী, বর্তমান সরকারের পথ চলাকে নিরাপদ দেখতে চাই। আমাদের নন্দীত এমপি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খান রিতা ম্যাডাম ইতিমধ্যে ঘোষনা দিয়েছেন, বর্তমান সরকার দল-মতের উর্ধ্বে। তিনি দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি সুস্থ্য মানিকগঞ্জ-সাটুরিয় গড়ে তুলতে চান। তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সরকার দলীয় কোন ব্যক্তি সালিশ-বিচারে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা ভাবনার বিষয়!

    সাধারন জনগন মনে করেন, মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়ার বাস্তব চিত্র আশানুরুপ নয়।এখানে ফ্যাসিষ্টদের অনুসারীরা সরকারী দলে ডুকে পড়েছে। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে নব্য-ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বেড়েছে। বিচার-আচারে, দলীয় লোকদের এক-চাটিয়া প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    স্থানীয় পর্যায়ে সরকারী বাজেট-বরাদ্দে দলীয় চামুচাদের কসরতে সাধারন জনতার প্রাপ্তি শূন্যের কোঁটায়। ভূমি আফিসের নানাবিদ দুনীর্তিতে অস্থির ভোক্তভূগি ভূমির মালিকেরা। শিক্ষা অফিসের স্কুল ভিজিটে খিচুড়ি-খাওয়ার দেরৈাত্ব বেড়েই চলছে। বিশেষ করে খিচুড়িপাগল শিক্ষকনেতারা বিভিন্ন অযুহাতে দল-পাকিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে হ-য-ব-র-ল করে তুলেছে।

    এ দিকে অবৈধ নির্বাচনের, মেম্বার বা চেয়ারম্যানেরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজ সমর্থকদের মাঝে সরকারী বাজেট বরাদ্দ দিয়ে আগাম নির্বাচনী কাজ সেরে নিচ্ছেন। দলীয় দৌরাত্ব্যে কৃষি অফিসের ‘কৃষক-বরাদ্দ’ চলে যাচ্ছে অ-কৃষকদের হাতে। স্থানীয় পর্যারে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো (হাসপাতালে) ঔষধ শূন্য। খালি হাতে, মৌখিক সেবা প্রদান করছেন স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা। এতদ্ব্য সত্যেও এই সকল বিভাগের কর্মকর্তারা (নিতীনির্ধারকরা) রাজনৈতিক সমর্থকবাজির কারণে ধূয়া তুলসীপাতেই রয়ে গেছে।

    মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়ার সাধারন নাগরিক, মাননীয় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর কাছে এই সকল বিষয়ের একটি সুষ্ট সমাধান আশা রাখে। যেহেতু, বর্তমান সরকার সার্বজনীন নাগরিক অধিকারে বিশ্বাসী, তাই প্রশাসনকে দল-মতের উর্ধ্বে উঠে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র-ব্যবস্থা কায়েমের জন্য দেশের সকল প্রকার দুনীর্তি ও অ-কল্যাণকর কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আর মানিকগঞ্জের অভিভাবক হিসাবে মাননীয় মন্ত্রীর কাছে সাম্য শান্তি প্রিয় মানিকগঞ্জ আমাদের সময়ের দাবি।

     

  • মানিকগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই মো. আরিফ খান

    মানিকগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই মো. আরিফ খান

    মানিকগঞ্জ জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলার শ্রেষ্ঠ সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাটুরিয়া থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আরিফ খান।

    মাদক উদ্ধার অভিযান, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিষ্পত্তিতে দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    আজ রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটা সময় মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার, মানিকগঞ্জ।

    এসময় পুলিশ সুপার বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যদের নিরলস পরিশ্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে যারা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছেন, তাদের এ ধরনের স্বীকৃতি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

    পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সালাউদ্দিন এবং জেলার বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জগণ সভায় অংশ নেন।

  • যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারকার ঈদ স্বস্তিদায়ক হয়েছে-সড়ক ও সেতুমন্ত্রী

    যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারকার ঈদ স্বস্তিদায়ক হয়েছে-সড়ক ও সেতুমন্ত্রী

    সাম্প্রতিক ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে বাসে জিপিএস ট্র্যাকিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (২৯ মার্চ) ঈদ-পরবর্তী মূল্যায়ন সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

    তিনি জানান, স্বল্প সময়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়লেও বড় ধরনের যানজট বা স্থবিরতা তৈরি হয়নি। কিছু এলাকায় চাপ থাকলেও দেশের অধিকাংশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

    সভায় মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—মহাসড়কে অস্থায়ী বাজার বসানো বন্ধ করা, ট্রাক ও পণ্যবাহী যান চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি নজরদারি। বিশেষ করে গাজীপুর-চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকায় যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    তিনি আরও বলেন, মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার বসানো যাবে না। নির্ধারিত বাস টার্মিনাল থেকেই টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে আগে যাত্রী নামিয়ে তারপর যানবাহন ওঠানো বাধ্যতামূলক করার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে সব গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং চালু করা হবে। এর মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, রুট ভঙ্গ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ফিটনেসবিহীন যান চলাচল সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ওভারস্পিড বা নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মন্ত্রী জানান, এই ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে।

  • ইরানে স্থল অভিযান চালোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানে স্থল অভিযান চালোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযান চালোনোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোও অভিযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে শনিবার ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পোস্ট জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় বিশেষ অভিযানকারী ও প্রচলিত পদাতিক বাহিনীর অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনাগুলোর কোনোটিতে অনুমোদন দেবেন কিনা তা এখনো অনিশ্চিত।

    সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বৃহত্তম তেল টার্মিনাল যেখানে অবস্থিত সেই খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালানোর বিষয়ে আলোচনা করছে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এমন ‘অস্ত্র খুঁজে বের করে ধ্বংস করা।’

    এক কর্মকর্তা বলেছেন, বিবেচনাধীন উদ্দেশ্যগুলো সম্পন্ন করতে সম্ভবত ‘কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ’ সময় লাগবে। তবে অন্য একজন বলেছেন, সম্ভাব্য সময়সীমা ‘কয়েক মাস’ হতে পারে।

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একজন প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা ব্যাপক। তিনি বলেছেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। এর জন্য যুদ্ধ মহড়াও হয়েছে। এটি শেষ মুহূর্তের কোনো পরিকল্পনা নয়।”

    ওই কর্মকর্তা বলেন , ইরানের ভূখণ্ড দখল করা হলে তা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থাকে ‘লজ্জিত’ করবে এবং ভবিষ্যতের আলোচনায় ‘মূল্যবান দর কষাকষির হাতিয়ার’ তৈরি করবে।

    তিনি জানান, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভূখণ্ড দখল করে থাকা যেকোনো মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, “আপনাকে খার্গ দ্বীপের লোকদের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এটাই কঠিন কাজ। দ্বীপটি দখল করা কঠিন নয়। আপনার লোকেরা একবার সেখানে পৌঁছে গেলে তাদের সুরক্ষা দেওয়াটাই আসল।”

  • সাটুরিয়ায় ‘হ্যালো-বাইক চুরি’ সহযোগিতার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে !

    সাটুরিয়ায় ‘হ্যালো-বাইক চুরি’ সহযোগিতার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে !

    সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলীয়া ইউনিয়নের দেলুয়া গ্রামে হ্যালো-বাইক চুরি নিয়ে চলছে তেলেসমতি কারবার। বাইক চুরিতে স্থাণীয় মেম্বারের যোগ-সাজেস রয়েছে এমন অভিযোগ করেছে গ্রামবাসীর একাংশ ।

    জানা যায়, গত ২৭ই মার্চ বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭: ৩০ মিনিটে অত্র গ্রামের ‘রাজাবাবু ডেইরী ফার্মের’ পাশ হতে স্বপন মিয়ার (পিতা:মানু মিয়া) একটি হ্যালো-বাইক চুরি হয়। পরে ‘জনৈক’ সিএনজি ড্রাইভার জানান যে, একই গ্রামে  রাসেল (পিতা-রাজা মিয়া) ও তার বন্ধু শাকিলকে হ্যালো-বাইকটি নিয়ে দরগ্রাম পথে যেতে দেখেছে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে গ্রামবাসী রাসেলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে হ্যালো-বাইক চুরির কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুসারে ধামরাইয়ের কাওয়ালীপাড়া হতে (রাসেলের বন্ধু শাকিলসহ) হ্যালো-বাইকটি উদ্ধার করা হয়।

    এই নিয়ে গ্রামবাসীর তাৎক্ষণিক বিচার চাইলে, স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইন্তাজ আলী ঘটনার পরের দিন (অথার্ৎ ২৮শে মার্চ) চোরদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতে একটি সালিশি-বৈঠকের আশ্বাস দেন এবং চোরদেরকে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেন। পরের দিন যথা সময়ে চোরদের বিচারে হাজির করতে না পারায় গ্রামবাসীদের সাথে মেম্বারের মনোমালিন্য হয়।

    এই বিষয়ে দেলুয়া গ্রামের সবুজ বাংলা ক্লাবের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠে, মেম্বার চোরদের দায়িত্ব নিয়ে কেন তাদেরকে বিচারে হাজির করতে পারছেন না। নিশ্চিয় মেম্বারের সাথে চোরদের গোপনে আতাঁত হয়েছে। যার ফলে মেম্বার চোরদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন !

    এই ব্যাপারে মেম্বার ইন্তাজ আলী জানান, তাৎক্ষণীক ভাবে উত্তেজিত জনতার হাত হতে চোরদের রক্ষায় আমি মানবিক হয়ে পরের দিন (২৮শে মার্চ) বিচারের তারিখ দিয়ে ছিলাম। কিন্তু চোররা সুযোগ বুঝে পালিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি অনুতপ্ত।

    তিনি আরো বলেন, চোরদের বিচারে হাজির করতে আমি সাধ্যমত চেষ্ঠা করছি। এ ব্যাপারে তাদের অভিভাবক ও গ্রামবাসীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। যদি চোরেরা বিচারে হাজির না হয়, তবে থানা-পুলিশের সহায়তায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সাটুরিয়ায় জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত 

    সাটুরিয়ায় জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত 

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা (উঃ) অঞ্চল সহকারী পরিচালক ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন বলেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার নেতৃত্বে জুলাই বিপ্লব সফল না হলে এবার নির্বাচনই হতোনা, অথচ অগণিত রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার জুলাই কে ভুলে যাচ্ছে।

    গণভোট বিজয়ী হলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে যা জাতির সাথে সুস্পষ্ট তামাসা। তিনি অবিলম্বে সরকারকে গণভোটের ফলাফল মেনে নিয়ে জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার আহবান জানান।

    শনিবার বিকেলে মানিকগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী  দরগ্রাম ইউনিয়ন শাখার আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী-২৬ এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ইউনিয়ন জামায়াত আমীর মাওলানা ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা আলতাফ হেসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জামায়াত, শিবির, শ্রমিক নেতা কর্মী সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

    এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা আমীর মুঃ আবু সাঈদ বিএসসি, সাটুরিয়া উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা মজিবুর রহমান, অধক্ষ মাওলানা আবুল হোসেন , যুবনেতা মোঃ সোহরাব হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ নেতা নাজির আহমদ ও মাসুম বিল্লাহ প্রমূখ।

  • টাঙ্গাইলে মাহমুদুল হাসান কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষিকার পরকীয়ার অডিও ফাঁস

    টাঙ্গাইলে মাহমুদুল হাসান কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষিকার পরকীয়ার অডিও ফাঁস

    টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম উজ্জলের সঙ্গে ওই কলেজের এক শিক্ষিকার মুঠোফোনে কথোপকথোনের রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে।

    ফেসবুকে একাধিক আইডি থেকে অডিও রেকর্ডটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। ১৯ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের অডিও বার্তায় শিক্ষিকা কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ আমিনুল ইসলাম উজ্জল মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। ৫ আগস্টের আগে তিনি ‘শেখ হাসিনা পরিষদ’-এর টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এখন তিনি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ উজ্জল একাধিক শিক্ষিকার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন এবং কুপ্রস্তাব দিয়েছেন।

    মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, অডিও ভাইরালের ঘটনায় কলেজ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অধ্যক্ষের পদত্যাগের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে কল করা হলে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম উজ্জল বলেছেন, “আমি ব্যস্ত আছি। পরে ফোন করে বিস্তারিত জানাচ্ছি।”

  • দাদুর কাঁথা

    দাদুর কাঁথা

    বিশ্বাস বাড়ির নোনা ধরা দেওয়াল আর প্রায় রং উঠে যাওয়া ফাটলগুলো দেখে বোঝা যায়, একসময় এখানে লক্ষ্মীর বাস ছিল। কিন্তু সময় আর ভাগ্যের ফেরে এখন সবটা ম্লান। পলেস্তারা খসে পড়া বৈঠকখানাটা যেন নির্বাক হয়ে চেয়ে থাকে এক হারানো অতীতে।

    রিমের বাবা বিমল বাবুর কাঁধে এখন ঋণের পাহাড়, সারাদিন পাওনাদারদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকেন। মা সুমিত্রা দেবীর কপালে দুশ্চিন্তার স্থায়ী ভাঁজ, উনুনে হাঁড়ি চড়বে কি না, সেই চিন্তায় রাত কাটে। অভাবের এই জরাজীর্ণ সংসারে একমাত্র উজ্জ্বল স্মৃতি ছিলেন রিমের দাদু, অবিনাশ বিশ্বাস।  তিনি ছিলেন এক রহস্যময় জহুরি, শুধু পাথর নয়, মানুষের মনের গভীরে থাকা আসল সোনা চিনতে পারতেন।

    সবসময় বলতেন, “হাতের রেখায় ভাগ্য থাকে না রে রিম, ভাগ্য থাকে মনের চাদরে। সেই চাদরের বুনিতেই থাকবে তোর আগামী।” দাদুর মৃত্যুর পর বাড়ির অনেক কিছুই ওলটপালট হয়ে গেল। দাদুর ঘরটা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল।

    অপ্রয়োজনীয় ভেবে কেউ ওমুখো হতো না। একদিন বৃষ্টির দুপুরে, রিম  কৌতুহল নিয়ে ঘরটা পরিষ্কার করতে গেল। ঘরে থাকা অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে পুরোনো আমলের সেই বিশাল সেগুন কাঠের আলমারিটা চুম্বুকের মতন আকর্ষণ করলো তাকে। ধুলোবালি আর মাকড়সার চালে ঘেরা আলমারিটা খুলে ফেললো রিম।

    আলমারিটা যেন একটা ছোটখাটো অন্ধকার গুহায় পরিণত হয়েছে। পুরোনো বই আর ন্যাপথলিনের  গন্ধে একাকার হয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ধুলোর আস্তরণ সরাতে একদম ওপরের তাক থেকে একটা ভাঁজ করা ভারী কাপড়ের স্তূপ তার হাতে ঠেকল। বের করে আনতেই দেখা গেল এক বিশাল নকশি কাঁথা। কাঁথাটা মেঝেতে বিছিয়ে রিম অবাক হয়ে গেল।

    সাধারণত কাঁথা লম্বাটে হয়, কিন্তু এটি নিখুঁত ৯ ফিট বাই ৯ ফিট একটি বর্গাকার কাঁথা। এর জমিন গাঢ় নীল, সোনালি, রূপোলি আর লাল সুতোয় অদ্ভুত সব জ্যামিতিক নকশা আঁকা। কোনো নকশা দেখতে নক্ষত্রমণ্ডলীর মতো, কোনোটা বা নদী বা পাহাড়ের মতো। রিম বিড়বিড় করে বলল, “দাদু কি জ্যামিতির ভক্ত ছিলেন নাকি? কাঁথা আবার স্কয়ার হয় কীভাবে?” সে আরও লক্ষ্য করল, কাঁথাটার ওজনে একটা অদ্ভুত ভারসাম্য আছে, মনে হয় এর সুতোগুলো যেন কোনো বিশেষ চুম্বকীয় শক্তি দিয়ে তৈরি।

    সেদিন রাতে হঠ্যৎ হাড়কাঁপানো শীত পড়ল। কলকাতার এ অঞ্চলে শীত সচরাচর অতটা বেশি হয় না, কিন্তু সেদিন মনে হলো  হিমালয় তুষারপাত এদিকেই চলে এসেছে। কোন এক অদৃশ্য কারণে বিছনার পাশেই রিম দাদুর সেই বিশাল কাঁথাটা রেখেছিল। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে রিম দাদুর সেই কাঁথাটা গায়ে জড়িয়ে  শুয়ে পড়ল।

    শোবামাত্রই সে এক অদ্ভুত আরাম অনুভব করল। ৯ ফিট বাই ৯ ফিট হওয়ার কারণে সে যেদিকেই পাশ ফিরছে, কাঁথাটা তাকে পরম মমতায় জড়িয়ে রাখছে। কোনো কোণ থেকেই শরীরের এক ইঞ্চিও বাইরে থাকছে না। পা বেরিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই।

    আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাইরে যতই কনকনে ঠান্ডা থাকুক, এই কাঁথার নিচে ঢোকা মাত্রই শরীরটা এক অদ্ভুত উষ্ণতায় ভরে গেল—আর কাছে মনে হল কেউ একজন পরম আদরে উষ্ণতায় তাকে জড়িয়ে ধরেছে। সবচেয়ে বড় ম্যাজিকটা ঘটল কিছুক্ষণ পর। রিম লক্ষ্য করল, এই কাঁথাটির একটি বিশেষ গুণ আছে—ঘুমানোর আগে সে যে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছে, তার মস্তিষ্কের ভেতরে যেন সেই বিষয়ের একটা পরিষ্কার ছবি তৈরি হচ্ছে। সে ভাবছিল বাবার ঋণের কথা আর কালকের বড় ক্রিকেট ম্যাচের কথা। ভাবতে ভাবতেই সে এক গভীর, স্বপ্নিল ঘুমে তলিয়ে গেল।

    স্বপ্নে রিম দেখল সে একটা বিশাল স্টেডিয়ামে বসে আছে। স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ভারতের রান। সে স্পষ্ট দেখল, শেষ ওভারে জয়ের জন্য যখন ১২ রান দরকার, তখন অনামী এক তরুণ বোলার পরপর দুটো উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছে। স্টেডিয়ামের হর্ষধ্বনি তার কানে বেজে উঠল।

    সে আরও দেখল, পরদিন সকালে শেয়ার বাজারের একটা নির্দিষ্ট গ্রাফ রকেটের মতো ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে, ‘তাতান স্টিল’ কোম্পানির লোগোটা বারবার ভেসে উঠল। পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই রিমের শরীরটা অন্যদিনের চেয়ে অনেক বেশি সতেজ মনে হলো। সে পরীক্ষা করার জন্য তার জমানো অল্প কিছু টাকা দিয়ে ওই ক্রিকেট ম্যাচে অনলাইনে বাজি ধরল এবং শেয়ার বাজারে তাতান স্টিলের স্টকে বিনিয়োগ করল। ফলাফল? হুবহু স্বপ্নের মতো! রিম স্তম্ভিত হয়ে গেল।

    সে বুঝতে পারল, এই ৯ ফিট বাই ৯ ফিট কাঁথা আসলে এক ভবিষ্যৎ দর্শন যন্ত্র। কয়েক দিনের মধ্যেই রিমের এই হঠাৎ পরিবর্তন নজর এড়ালো না তার দুই প্রিয় বন্ধু—বলাই আর শুভেন্দু। এদের মধ্যে বলাই ছিল আদ্যোপান্ত লোভী।

    সবসময় ফন্দি ফিকির করত কীভাবে কম পরিশ্রমে বড়লোক হওয়া যায়। ধারদেনা করে চলা বলাই রিমের নতুন দামী ফোন আর নিশ্চিন্ত ভাব দেখে হিংসায় জ্বলছিল। অন্যদিকে শুভেন্দু ছিল অত্যন্ত যুক্তিবাদী, প্রতিটি ঘটনার পেছনে বিজ্ঞান আর যুক্তি খুঁজত। বলাই একদিন রিমকে চেপে ধরল, “কিরে রিম, তুই কি লটারি পেয়েছিস? নাকি দাদুর ঘরে কোনো গুপ্তধন ছিল? আমাদের কাছে লুকচ্ছিস কেন?” আমাদের বলনা বিষয়টা কি? রিম বন্ধুদের ওপর বিশ্বাস করে কাঁথার রহস্যটা জানাল।

    সে বলল, “দাদুর এই ৯ ফিটের কাঁথাটায় আমি ভবিষ্যৎ  দেখতে পাচ্ছি।” শুভেন্দু কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাইল না। সে বলল, “এটা অবৈজ্ঞানিক। নিশ্চয়ই তুই কোনো অ্যালগরিদম ব্যবহার করছিস। কাঁথা আবার ভবিষ্যৎ দেখায় নাকি!” বলাই ফিসফিস করে বলল, “রিম, পরের বিশ্বকাপের ফাইনালটা একবার দেখে নে না! আমরা সবাই মিলে বড়লোক হয়ে যাব। শুভেন্দু তোকে নিয়ে গবেষণা করবে।”

    রিম বন্ধুদের কথা মেনে নিল, কিন্তু সতর্ক করে দিল, “এটা দাদুর আশীর্বাদ, এটা নিয়ে কোনো নোংরামি করা যাবে না।” সেই রাতে কাঁথা গায়ে দিয়ে সে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট-এর ফাইনাল আর পরবর্তী এক সপ্তাহের শেয়ার বাজারের ওঠানামা নিয়ে চিন্তা করে ঘুমাল। স্বপ্নে সে দেখল কোন খেলোয়াড় কত রান করবে, আর সোনার দাম কতটা বাড়বে।

    দাদুর কাঁথার গুণ এতটাই প্রবল যে, স্বপ্নের প্রতিটি ডিটেইল তার মনে গেঁথে রইল। রিমের ভাগ্য বদলাতে শুরু করল, কিন্তু বলাইয়ের মনে লোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলতে লাগল। সে ভাবল, এই কাঁথা যদি তার কাছে থাকে, তবে সে হবে দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী লোক। এক সন্ধ্যায়, বলাই রিমের বাড়িতে এল।

    সুযোগ বুঝে রিমকে অন্য কাজে ব্যস্ত রেখে, সে আলমারি থেকে দাদুর সেই ৯ ফিটের কাঁথাটা চুপিচুপি হাতিয়ে নিল। কাঁথাটা ব্যাগে ভরে সে প্রায় দৌড়ে বাড়ি ফিরল। তার বুক ধড়ফড় করছিল, কিন্তু চোখে ছিল কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন। সেদিন রাতে বলাই তার ঘরে দরজা বন্ধ করে দাদুর কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়ল। সে মনে মনে ভাবতে লাগল বিপুল সম্পত্তির কথা, অঢেল টাকার কথা। ভাবতে ভাবতেই সে ঘুমে তলিয়ে গেল।

    কিন্তু বলাইয়ের জন্য কাঁথা ভবিষ্যৎ নয়, বয়ে আনল ভয়ঙ্কর বাস্তব। স্বপ্নে সে দেখল, সে একটা অন্ধকার কুয়োর ভেতরে পড়ে যাচ্ছে। চারিদিকে অজস্র কালো হাত তাকে টেনে ধরছে। সে টাকার বদলে দেখল, জ্বলন্ত কয়লা তার দিকে ছুঁড়ে মারা হচ্ছে। একটা কর্কশ গলা তাকে ডাকছে, “তুই চোর! তোকে পুড়িয়ে মারা হবে!” বলাই ভয়ে চিৎকার করে জেগে উঠল। গা ঘেমে একাকার। কাঁথাটা যেন তার শরীরকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরছে, ছাড়ানো যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে নিজের গায়ের থেকে কাঁথাটা সরিয়ে নেয় সে।

    পরের কয়েক রাত বলাইয়ের জন্য নরকবাস হয়ে উঠল। যতবার সে টাকার কথা ভেবে ঘুমায়, ততবারই সে ভয়ঙ্কর দূরস্বপ্ন দেখে। কখনও দেখে সে সাপের কামড়ে মরছে, কখনও দেখে পাওনাদাররা তাকে  জলের ভিতরে চুবিয়ে ধরেছে।

    সে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। প্রচন্ড ভয় পেয়ে প্রতিবারই জেগে উঠতে হচ্ছে তাকে। কাঁথাটা তার কাছে এখন একটা অভিশাপ মনে হলো। সে বুঝতে পারল, এই কাঁথা তার জন্য নয়। এদিকে রিম কাঁথা খুঁজে না পেয়ে পাগলপ্রায়।

    সে বুঝতে পারল কে এই কাজ করেছে। শুভেন্দুকে সাথে নিয়ে সে বলাইয়ের বাড়ি গেল। বলাইয়ের চেহারা তখন চেনা যাচ্ছিল না—চোখের নিচে কালি, মুখ ফ্যাকাশে। রিমকে দেখেই বলাই ডুকরে কেঁদে উঠল। কাঁথাটা বের করে রিমের দিকে দিয়ে বলল, “রিম, আমাকে ক্ষমা কর। আমি লোভের বশে এটা নিয়েছিলাম।

    কিন্তু এই কাঁথা আমাকে বাঁচতে দিচ্ছে না। প্রতি রাতে আমি নরকে নিজেকে আবিষ্কার করছি।” রিম কাঁথাটা হাতে নিয়ে পরম মমতায় গায়ে বুলাতে লাগল। শুভেন্দু অবাক হয়ে সব দেখছিল। রিম বলল, “বলাই, এই কাঁথার ক্ষমতা তুই উপভোগ করতে পারবি না।” সে বলাই ও শুভেন্দুকে আসল সত্য জানাল।

    দাদু অবিনাশ বিশ্বাস মা, অর্থাৎ রিমের বড়দিদা, এই কাঁথাটি নিজ হাতে তৈরি করে ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিদুষী এবং আধ্যাত্মিক নারী। তিনি কাঁথাটি তৈরির সময় প্রতিটি সুতোয় মন্ত্র এবং আশীর্বাদ বুনে দিয়েছিলেন।

    দাদুকে উপহার দেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, “এই কাঁথাটা শুধু তোর গা ঢাকবে না, তোর বংশধরদের পথ দেখাবে। কিন্তু মনে রাখিস, এই কাঁথার ক্ষমতা বংশ পরম্পরায় এক প্রজন্ম পর পর জেগে উঠবে।”

    অর্থাৎ, অবিনাশ দাদুর পর এই কাঁথার ক্ষমতা রিমের বাবা বিমল বাবুর জীবনে সুপ্ত ছিল। রিম, অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্ম, এই ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে। তাই বলাই বা অন্য কেউ এই কাঁথার সুফল পাবে না, বরং লোভের শাস্তি পাবে।

    দাদুর মা চেয়েছিলেন, বিশ্বাস পরিবার যেন লোভের ফাঁদে না পড়ে, এবং অভাবের সময় এই কাঁথা যেন তাদের রক্ষা করে। বলাই সব শুনে নিজের ভুলের জন্য লজ্জিত হলো। সে আর কখনও ফাটকা খেলার কথা ভাবল না। রিম কাঁথা নিয়ে বাড়ি ফিরল।

    পরের কয়েক মাসে রিমদের ভাগ্য আমূল বদলে গেল। বিমল বাবু একদিন অবাক হয়ে দেখলেন, তার সব ঋণ শোধ হয়ে গেছে। রিম তাকে একটা নতুন কাপড়ের বড় শোরুম খুলে দিল। বাড়িতে নতুন রঙের প্রলেপ পড়ল, মা সুমিত্রা দেবীর রান্নাঘরে এল আধুনিক সব সরঞ্জাম। বিশ্বাস বাড়ির শ্যাওলা ধুয়ে গেল।

    পাড়ার লোক অবাক হয়ে দেখল, অভাবী রিম এখন এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী তরুণ। বলাইয়ের লোভ দূর হলো, আর শুভেন্দু কাঁথার ক্ষমতাকে ‘জেনেটিক কোড’-এর এক রহস্যময় বহিঃপ্রকাশ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগল। টাকা আসার  সঙ্গে সঙ্গে রিম লক্ষ্য করল তার মানসিক শান্তি কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে।

    কিন্তু সে দাদুর সেই সঙ্কেত ভোলেনি। লোভের পথ পরিহার করে সে বন্ধুদের জানিয়ে দিল, সে আর ক্রিকেট বা শেয়ার বাজার নিয়ে স্বপ্ন দেখবে না। এই কাঁথা সে কেবল বড় কোনো বিপদ বা পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। রিম তার পরিবারকে এক সুন্দর ও সচ্ছল জীবন উপহার দিল। বাবার ব্যবসা এখন সুপ্রতিষ্ঠিত।

    রিম নিজেও এখন এক সফল যুবক, নিজের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সে কোনোদিনই সেই কাঁথাটার কথা ভোলেনি। বহু বছর পর, রিম যখন নিজেই বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে, তার চুল পেকে সাদা হয়েছে, তখন সে তার নাতিকে কাছে ডাকল।

    সে জানত, প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব কিছু লড়াই থাকে। কখনও অভাবের, কখনও বা অস্তিত্বের। রিমের নাতি এখন যে  এই বাড়িতে বড় হচ্ছে, সেখানে অভাবের কোনো ছাপ নেই, কিন্তু তার সামনে হয়তো আসবে অন্য কোনো বড় সংকট।

    কারণ সে জানে, তার ছেলের জীবনে এই কাঁথা সুপ্ত থাকবে, কিন্তু তার নাতির জীবনে এটি আবার জেগে উঠবে। রিম দাদুর সেই সেগুন কাঠের আলমারিটা খুলল। ধুলোহীন, সযত্নে রাখা সেই ৯ ফিট বাই ৯ ফিটের নকশি কাঁথাটা বের করল।

    কাঁথাটা এখনও আগের মতোই উজ্জ্বল আর উষ্ণ, এর জ্যামিতিক নকশাগুলো আজও রহস্যময়। রিম কাঁথাটা আবার ভাঁজ করে আলমারির একদম নিরাপদ তাকে তুলে রাখল। চাবিটা তার নিজের পুরনো ডায়েরির ভেতরে লুকিয়ে রাখল।

    সে তার ডায়েরিতে লিখে গেল: “এই কাঁথা কেবল শীত নিবারণের জন্য নয়, এটি অন্ধকারের পথপ্রদর্শক। যখন তোমাদের চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসবে, যখন যুক্তিতে কোনো সমাধান মিলবে না, তখন এই কাঁথার নিচে আশ্রয় নিও। বড়দিদার আশীর্বাদ এবং দাদুর আত্মা তোমাদের পথ দেখাবে।

    কিন্তু সাবধান, একে যেন কোনোদিন লোভের হাতিয়ার করো না। এর রহস্য  যেন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসাতেই লুকিয়ে থাকে। মনে রেখো, এই ক্ষমতা তোমাদের বংশ পরম্পরায় এক প্রজন্ম পর পর জেগে উঠবে—লোভের আগুনের সাথে লড়াই করার শক্তি দিয়ে।” রিম আলমারির চাবিটা সযত্নে নিজের ড্রয়ারে রেখে দিল।

    সে জানে, একদিন তার পরবর্তী প্রজন্মের কেউ অভাবের তাড়নায় বা কোনো বড় সংকটে এই আলমারি খুলবে। আর তখনই ৯ ফিট বাই ৯ ফিটের এই ম্যাজিক আবার জেগে উঠবে, কোনো এক রাতে ভবিষ্যৎ দেখাবে নতুন কোনো উত্তরসূরিকে।

  • দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত

    দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত

    দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা তদারকি ও সমন্বয় জোরদারে সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

    শনিবার (২৮ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এ দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

    অন্যদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাইরে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেবেন।

    নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন এবং দৈনিক প্রতিবেদন জমা দেবেন।

    এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে দ্রুত ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করে তথ্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • মানিকগঞ্জের ঘিওরে রফিককে খুন করেছে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিপন !

    মানিকগঞ্জের ঘিওরে রফিককে খুন করেছে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিপন !

    মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার বানিয়াজুরী এলাকার মোঃ ইউসুফ আলীর ছেলে হেলো- বাইক চালক মোঃ রফিককে গলাকেটে হত্যা করেছে তার বন্ধুরা। গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে প্রেস-ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা পিবিআই পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে তাদের ধারনা মাদকের টাকা বণ্টন নিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।

    মানিকগঞ্জ পিবিআই পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ মার্চ রাতে তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু নির্মাণ শ্রমিক রিপন, আরমান ও সজিবসহ ৩ জনে কিছু অনৈতিক লোভ দেখিয়ে ঘিওর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বারইলে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে তাকে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে আরমান বাইক চালক রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে সজুড়ে আঘাত করলে তাৎক্ষণিক সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

    তারপর বন্ধু রিপন, ধারালো দাঁ দিয়ে রফিকের গলা কেঁটে শরীর থেকে মাথা বিছিন্ন করে ফেলে। এ সময় সজিব তার পা ও আরমান তার হাত ধরে রাখে। পরবর্তীতে তারা তার পেট ফেড়েঁ সারা শরীর ও মাথা নদীতে ফেলে দিয়ে বাড়িতে চলে যায়। আর রিপন ভোর রাতে রফিকের অটো বাইকটি নিয়ে সাভারে চলে আসে।

    রফিকের খোঁজ কবর না পেয়ে তার পরিবার ওই দিনই থানায় যোগাযোগ করেন। এরই মধ‍্যে ২৫ মার্চ বিকেলে কালিগঙ্গা নদীতে গলাকাঁটা লাশ ভেসেঁ উঠার পর তা দেখে এলাকাবাসী পিবিআই পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার করেন ও লাশের মস্তক উদ্ধারে অভিযানে নামেন।

    প্রযুক্তির সহযোগিতায়, গত ২৬ মার্চ বেলা ২টার দিকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে বাইকসহ রিপনকে চিহ্নিত করে তাকে আটক করেন। রিপনের দেওয়া তথ‍্য  মোতাবেক হত‍্যায় ব‍্যবহৃত ধারালো দাঁ এবং হত‍্যা কাজে সহযোগি আরমান ও সজিবকে গ্রেফতার করেন।

    এ দিকে নদীতে ফেলে দেওয়া রফিকের মস্তকটি এখন পর্যন্ত খোঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, খোঁজাখুজি অব‍্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে এসব ঘটনা জানিয়েছেন, মানিকগঞ্জের পিবিআই পুলিশের এসপি জয়িতা শিল্পী।