বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের অত্যাধিক দলীকরণে সাধারন মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। বিয়ের দাওয়াত থেকে শুরু করে রোজাদারদের দাওয়াতেও দলীয় প্রভাব দেখা গেছে। বিচার-আচার কিম্বা সরকারী বাজেট বরাদ্দেও দলীয় লোকদের সীমাহীন অধিকার ছিল। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, একচাটিয়া প্রভাব বিস্তারে দলীয় নেতা-কর্মীরা ছিল একট্র। তাদের এই অত্যাচার-নীপিড়ন, নির্যাতন আর দলীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে সাধারন জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়লে অবশেষে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়। যার কারণে আজ আমরা একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছি।
দেশের মানুষের বহুল কাঙ্খিত এই নির্বাচিত সরকার মাত্র একমাস পার করেছেন। এর মধ্যে দলীয় চামচেমীতে সরকার অনেকটাই কোনঠাসা। যদিও সরকারের নীতি-নির্ধারকরা বার বার বলছেন, ‘সত্য সুন্দর ও কল্যাণকার কাজে তারা কোন ভাবেই দলীয় হস্তক্ষেপ পছন্দ করে না। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীও কঠিণ হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন ‘সরকারী দলে কোন চাদাঁবাদ, সন্ত্রাসী ও লুটেরার আশ্রয় হবে না। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা এখন ভাবনার বিষয়।
আলোচনার প্রসঙ্গে উল্লেখ, আমার বাড়ী মানিকগঞ্জ জেলাধীন সাটুরিয়া উপজেলায়। জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি, এখানকার মানুষ শান্তি প্রিয় ও সহ-অবস্থানে বিশ্বাসী। জাতীয়তাবাদী ধারনা তাদের যুগ যুগের পথিকৃৎ। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে হঠাৎ করেই এই উপজেলাটিতে একশ্রেণীর ‘নব্য- আওয়ামী শ্রেণীর উন্মেষ ঘটে। কিঞ্চিত জাতীয়তাবাদীরা, অধিক সুবিধা আদায়ে তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের দলে যোগ দেয়। ‘ডাল-চাউলের’ তথাকথিত এই শ্রেণী ছলে-বলে, কলে কৌশলে এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে উঠে।
বিচার-সালিশ থেকে শুরু করে স্থাণীয় পযার্য়ের সকল সরকারী বাজেট বরাদ্দে তারা দলীয়করণের আশ্রয় নেয়। প্রশাসণের পরোক্ষ সহযোগিতায় ‘একটি ফ্যাসিষ্ট শ্রেণী- গোষ্ঠীর গড়ে তুলার চেষ্টা করে। পথে প্রান্তরে, যত্রতত্র পোষ্টার-ব্যানার ও দলীয় সঙ্গ তৈরী করে মানুষের মনে ভীতির সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সমাজের বখে যাওয়া ছেলেরা এই সঙ্গগুলোর নেতৃত্ব দিতে থাকে। সর্বপোরি তারা নিজেদের অসহিষ্ণু মতবাদ জোড়-পুর্বক সাধারন মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
টেন্ডারবাজী, সন্ত্রাস, চাদাঁবাজী ও সরকারী সম্পদ লুট নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তাদের অত্যাধিক জুলুম-যাতনায় অস্থির হয়ে শেষ পর্যন্ত মানুষের রাস্তায় নেমে আসে এবং যার সফল জুলাই বিপ্লব সংগঠিত হয়।
আমরা সাটুরিয়া-মানিকগঞ্জবাসী, বর্তমান সরকারের পথ চলাকে নিরাপদ দেখতে চাই। আমাদের নন্দীত এমপি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খান রিতা ম্যাডাম ইতিমধ্যে ঘোষনা দিয়েছেন, বর্তমান সরকার দল-মতের উর্ধ্বে। তিনি দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি সুস্থ্য মানিকগঞ্জ-সাটুরিয় গড়ে তুলতে চান। তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সরকার দলীয় কোন ব্যক্তি সালিশ-বিচারে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা ভাবনার বিষয়!
সাধারন জনগন মনে করেন, মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়ার বাস্তব চিত্র আশানুরুপ নয়।এখানে ফ্যাসিষ্টদের অনুসারীরা সরকারী দলে ডুকে পড়েছে। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে নব্য-ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বেড়েছে। বিচার-আচারে, দলীয় লোকদের এক-চাটিয়া প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে সরকারী বাজেট-বরাদ্দে দলীয় চামুচাদের কসরতে সাধারন জনতার প্রাপ্তি শূন্যের কোঁটায়। ভূমি আফিসের নানাবিদ দুনীর্তিতে অস্থির ভোক্তভূগি ভূমির মালিকেরা। শিক্ষা অফিসের স্কুল ভিজিটে খিচুড়ি-খাওয়ার দেরৈাত্ব বেড়েই চলছে। বিশেষ করে খিচুড়িপাগল শিক্ষকনেতারা বিভিন্ন অযুহাতে দল-পাকিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে হ-য-ব-র-ল করে তুলেছে।
এ দিকে অবৈধ নির্বাচনের, মেম্বার বা চেয়ারম্যানেরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজ সমর্থকদের মাঝে সরকারী বাজেট বরাদ্দ দিয়ে আগাম নির্বাচনী কাজ সেরে নিচ্ছেন। দলীয় দৌরাত্ব্যে কৃষি অফিসের ‘কৃষক-বরাদ্দ’ চলে যাচ্ছে অ-কৃষকদের হাতে। স্থানীয় পর্যারে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো (হাসপাতালে) ঔষধ শূন্য। খালি হাতে, মৌখিক সেবা প্রদান করছেন স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা। এতদ্ব্য সত্যেও এই সকল বিভাগের কর্মকর্তারা (নিতীনির্ধারকরা) রাজনৈতিক সমর্থকবাজির কারণে ধূয়া তুলসীপাতেই রয়ে গেছে।
মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়ার সাধারন নাগরিক, মাননীয় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর কাছে এই সকল বিষয়ের একটি সুষ্ট সমাধান আশা রাখে। যেহেতু, বর্তমান সরকার সার্বজনীন নাগরিক অধিকারে বিশ্বাসী, তাই প্রশাসনকে দল-মতের উর্ধ্বে উঠে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র-ব্যবস্থা কায়েমের জন্য দেশের সকল প্রকার দুনীর্তি ও অ-কল্যাণকর কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আর মানিকগঞ্জের অভিভাবক হিসাবে মাননীয় মন্ত্রীর কাছে সাম্য শান্তি প্রিয় মানিকগঞ্জ আমাদের সময়ের দাবি।