শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
বাংলাটপনিউজ২৪.কম-এ দেশব্যাপী জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। সরাসরি যোগাযোগ করুন -banglatopnews24@gmail.com. মোবাইল-০১৭৪৩৯৯৮৭৪১.

জাতীয় সরকার’ গঠনে জামায়াত ইতিবাচক-ডা. শফিকুর রহমান

Reporter Name
  • আপডেটের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ সময় দেখুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত একটি প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল, যা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিতভাবে নিজেদের নীতি ও কৌশল পরিমার্জন করে আসছে। জামায়াত সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।

ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন দ্য উইক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটির কৌশল তুলে ধরেন।

দ্য উইক-এর দিল্লি ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজার এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকা সময়েও জামায়াত কখনো গণতান্ত্রিক কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে দলটি উপলব্ধি করেছে—গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য অত্যন্ত জরুরি।

ডা. শফিকুর রহমানের ভাষায়, ওই সময়কাল জামায়াতকে আরও শক্তিশালী করেছে। এ সময় দলটি সাংগঠনিক কাঠামো সুসংহত করেছে, শৃঙ্খলা জোরদার করেছে এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ গভীর করেছে। পাশাপাশি পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনৈতিক কৌশল নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষিদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জামায়াত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিকল্প হিসেবে জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

জামায়াত এখন কেবল একটি আদর্শিক রাজনৈতিক দল নয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার করতে চায়।

রাজনৈতিক জোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, দলটি বহুদলীয় গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে বিশ্বাসী। এরই মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন করেছে জামায়াত। তবে বিএনপির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক সহযোগিতা এবং ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে জামায়াত ইতিবাচক।

জোট রাজনীতিতে তাদের তিনটি মূলনীতি হলো—জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি।

নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাস করে। তিনি উদাহরণ হিসেবে হিন্দু প্রার্থী মনোনয়নের কথা উল্লেখ করেন।

তবে আসন বণ্টন ও জোটগত সমীকরণের কারণে নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান। তিনি বলেন, জোটের নারী প্রার্থীদের জামায়াত পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার নজিরও রয়েছে।

অতীতের বিতর্ক প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোনো জামায়াত সদস্যের কর্মকাণ্ডে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তিনি সে জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © ২০২৫ বাংলা টপ নিউজ ২৪
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD