স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। যারা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকবেন না বা দায়িত্বে গাফিলতি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনকালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান, ওষুধ সরবরাহ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ সরেজমিন পরিদর্শনকালে এ সব কথা বলেন।
এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একইসঙ্গে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের কিছু স্থানে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ দেখতে পেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন। এমনকি সবাইকে সচেতন করতে তিনি নিজেও কিছু ময়লা পরিষ্কার করেন এবং হাসপাতালের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, নির্ধারিত অফিস সময়ে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতি, রোগীদের সেবায় অবহেলা এবং ওষুধ সংকটসহ নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তিনি আকস্মিকভাবে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন।
তিনি বলেন, ‘‘গত ২৪ দিনে আমরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। অনেক জায়গায় গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকরা হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না। অথচ সরকার জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্যই তাদের নিয়োগ দিয়েছে।
’’মন্ত্রী আরো বলেন, অনেক চিকিৎসক বিভিন্ন অজুহাতে অন্যত্র সংযুক্ত (অ্যাটাচমেন্ট) হয়ে যান কিংবা ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সময় দেন। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি হাসপাতালের আশপাশে দালাল চক্র সক্রিয় থাকার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু দালাল রোগীদের ভুল বুঝিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ধরনের দালালদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে নতুন করে প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাতৃস্বাস্থ্য, ক্যান্সার সচেতনতা এবং প্রাথমিকচিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে জানান।