Author: MD Nazrul Islam

  • একজন ছমির মোল্ল্যা !

    একজন ছমির মোল্ল্যা !

    এক.
    সকাল থেকেই টিনের চালে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। বিছানায় ‘দ’ আকারে পাতলা কাঁথা গায়ে শুয়ে আছে ছমির মোল্ল্যা। সকালের এই মিষ্টি ঘুম থেকে বৃষ্টির শব্দের কারণেই তার উঠতে ইচ্ছা করছে না। মাথার ভিতরে ঝিম ঝিম করছে ভোর রাতের স্বপ্নটা! শাপলা বিলে নৌকা থেকে সে পড়ে গেছেন, তার নৌকা ভেসে যাচ্ছে, সে জড়িয়ে যাচ্ছে জল শেওয়াতে। এতটুকুই তার মনে পড়ছে। কিন্তু শাপলার বিলে তার যাবার কথা না। সেই ছোট বেলায় শাপলার বিল ছেড়ে এই করিমগঞ্জে চলে আসা হয়েছে। এরপরে আর কখনই শাপলার বিলে যাওয়া হয়ে ওঠে নি তার। এত বছর পরে আবার শাপলার বিল স্বপ্নে দেখে তার মন ব্যকুল হয়ে উঠেছে। খোয়াব নামার বইয়ে ছমির পড়েছে ভোর বেলার স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়।

    অন্যদিন এত বেলায় পাখির ডাক শোনা যেত কিন্তু আজ বৃষ্টির কারনে পাখির ডাকও শোন যাচ্ছে না। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, সঙ্গে মেঘের গুড়ুম গুড়ুম শব্দে ছমির পাশ ফিরিয়ে শুলো।

    আজ সোমবার। কিস্তি দেবার তারিখ। কিন্তু কিস্তির পুরো টাকা তার যোগাড় হয় নাই। কাল বেশ কিছু জায়গায় চেষ্টা চালিয়েও সে সব টাকা যোগাড় করতে পারে নাই।

    খাও না খাও কিস্তি দেওয়াই লাগবে। দশ বছরের লতিফা টাইফয়েড জ্বরে পড়লে ক্ষুদ্র ব্যাংক থেকে দশ হাজার টাকা লোন নেয় ছমির মোল্লা। বর্ষার সময় জোগালের কাজ কম থাকে, তাই এই সপ্তাহের কিস্তির টাকা তার জোগাড় হয় নাই। ছমির মোল্ল্যা নাম তার। শাপলার বিলের মোল্ল্যা বংশের ছেলে সে। কারো টাকা মেরে খাওয়া কোন ইচ্ছাই তার কোন কালে ছিল না। আর বেঁচে থাকতেও সে ইচ্ছা হবে না।

    সেবার কদম আলীর দোকানে তার বত্রিশ টাকা বাকি হয়েছিল। গ্রামের দোকান ছেড়ে গঞ্জে নতুন দোকান দেয় কদম আলী। দু’মাস পরে ছমির মোল্ল্যা গঞ্জে গিয়ে তার পাওনা টাকা দিয়ে আসে। কদম আলীর সেকি হাসি! হাসে আর বলে কত জনের কাছে কত টাকা পামু তা দেয় না, আর মিয়া তুমি এতদূর আইছ আমার বত্রিশ টাকা দেবার জন্য। তার সততার এমন আরো দশ-বারোটা কান্ড গায়ের লোকের জানা আছে। কিন্তু ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে তার এই সততার কোন দাম নাই। গ্রুপের সাবার সঙ্গে তার টাকাও দেওয়া লাগবে। ম্যানেজারে কোন ভাবেই বোঝানো যাবে না, বর্ষায় চারিদিকে পানিতে ভরে গেছে। এখন জোগালের কোন কাজ নেই।

    গোয়ালের গরুর বিরতীহীন হাম্বা হাম্বা ডাকে আর শুয়ে থাকতে পারল না ছমির মোল্ল্যা। ঘুম থেকে উঠেই বৃষ্টিতে ভিজতে মন না চাইলেও কোন উপায় ছিল না। এক টুকরো উঠান পার হয়ে গোয়াল ঘরের দিকে এগিয়ে যায় সে। গরুর দিকে চাইতেই তার মন খারাপ হয়ে যায়। বর্ষার পানিতে মাঠ ঘাট ভরে যাওয়াতে অবলা গরুটা যে ঘাস খেতে পারছে না, শরিরের হাড় গুলোই সেই সাক্ষি দিচ্ছে। গোয়ালের মাঁচায় গুঁজে রাখা কাঁচিটা হাতে তুলতে যাবার আগে বেশ টাইট করে পরনের লুঙ্গিটা কাঁছা দিয়ে নিল সে। কোমরে বেধে নিল তেল চিটচিটে গামছাটা।

    গায়ের গেঞ্জি খুলে গোয়ালের আড়ে গুজে রেখে টিপটিপ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বিলের কচুরিপানা কাটাতে যাবার জন্য পা বাড়ালো সে। পিছন থেকে রাবেয়ার গলা ভেসে এলো। ভিজা কাঠে ফু দিয়ে আগুন জ্বালানো চেষ্টায় ধোঁয়ার মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে রাবেয়া। স্বামির দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে চোখ ঢাকার চেষ্টা করে বলে উঠল-

    গায়ে সরিষার ত্যাল মাইখা তারপর পানিত নামতে যান। বর্ষার এই পানির কামড় শরিলের জন্য ভাল না। তা ছাড়া সকাল সকাল বৃষ্টিতে ভিজতাছেন। জ্বর আসলে কিন্তু কিছু করার থাকবো না।

    রাবেয়ার কথার কোন উত্তর না দিয়ে সজোরে পা চালায় ছমির মোল্ল্যা। রাবেয়ার চোখের সিমানা ছাড়িয়ে সে চলে আসে বিলের পাড়ে। তার আগেও যে আরো কেউ কচুড়িপানা কেটে গেছে তা দেখে মাথাটা একটু গরম হয়ে গেল তার। পাড়ের কাছে আর কোন কুচরি অবশিষ্ট নেই। তার জন্য যা আছে তা কাটতে কম করে বুক পানিতে নামতে হবে। এই কাজে দেরি করলে নৌকা নিয়ে আসা বদরের ছোট ছেলে বাকি কচুরিও কেটে ফেলতে পারে।

    তাই সে আর দেরি না করে কাঁচি হাতে বিলের পানিতে নেমে পড়ল। মুঠি মুঠি কচুরির পানা কাটতে কাটতে নিজের মনেই সে আওড়ে যাচ্ছে, জমিদারের ব্যেটি কয় কি জ্বর আসলে কিছু করার থাকবে না। ব্যেটি কি ডাক্তার নাকি যে কিছু করবি। আমারে নিয়ে তার চিন্তার শেষ নাই! আজ যে সোমবার, ব্যাংকের কিস্তি দিতি হবি সেই চিন্তা কি তার আছে? কত করে কলেম এসব কিস্তি উঠানোর দরকার নেই, সামান্য জ্বর হয়ছে মাইয়ের, ভুপেন ডাক্তারের ঔষুধ খাইলেই ভাল হয়ে যাবে। কে শোন কার কথা। তিন দিনির জ্বর যখন সাত দিনিও যায় না তখন সে পাগল হয়ে গেল। শহরে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে তবেই জমিদারের ব্যাটি ভাত মুখে দিল।

    বৃষ্টি তেজ কয়েক গুন বেড়েছে। বর্ষার পানি ভেদ করে বিলের ওপাড়ের মতলব মুন্সীর ঘরটিও ছমির দেখতে পাচ্ছে না। মাথার উপরে ধোঁয়ার রং এর মেঘ আর চারপাশে সাদা বৃষ্টি। পানির উপর পানি পড়ার শব্দের তালে তালে ছমির মোল্ল্যা কচুরি কেটে যাচ্ছে। বদরের ছোট ছেলে আলালের ডাকে তার নুয়ে থাকা মাথাটা উপরে উঠল। কচুর বড় একটা পাতা মাথায় দিয়ে বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করে নৌকা বাইছে আলাল। বদর তার চাচাতো ভাই। তার দুই ঘর উত্তরে বদরের ঘর।

    ছমির মোল্ল্যার মাথা আজ গরম তার উপর এই ছেলের কথা শুনে তার মাথা আরো গরম হয়ে উঠল। কচুরিপানা কাটছে দেখেও সে জিজ্ঞাসা করল কি কর কাকা? দাঁত খেচি দিয়ে সে উত্তর দিলো, চোহে কি ছানি পড়ছে? দেহ না কি করি। আলাল নিজেকে সামলে নিয়ে প্রতিউত্তর দেয়, এই গুলা কি গরুর জন্য কাটো কাকা? ছমির পান খাওয়া লালছে দাঁত গুলো বের করে, উত্তর দেয়, নিজে খাওয়ার জন্য কাটতাছি। বদের হাড্ডি কুনহানকার।

    মাথার কচুপাতা আরো ভাল করে দিয়ে আলাল বলল, কাকা রাগ কইর না, কাইল বিকালে ত্রিশটা শোলায় বর্শি গাইথা পানিতে ফেইলা গিছিলাম। সকালে আইসে দেহি ছয়ডাতে শইল-টাকি বাঁধে আছে। চারডা বর্শি পাই নাই। তোমার কচুড়িপানার আশে পাশে আছে কিনা তাই খুঁজতি আসলাম।

    আর একটু পরেই ছমিরের কিস্তি, ছেলেমানুষি কার্মকান্ডে তার এতটুকু আগ্রহ নেই। বর্শি খোঁজার ব্যাপারে কোন দৃষ্টিপাত না করে নিজের কাজে মন দিল সে। আলাল এদিক ওদিক খুঁজার চেষ্টা করে নৌকা বেয়ে সামনের দিকে চলে গেল।

    বিকাল পর্যন্ত গরুর জন্য যতেষ্ট খাবার যোগাড় হয়েছে, যদি লাগে বিকালে আরাক দফা কাটা যাবে এই ভেবে পানি থেকে উঠে পড়ল ছমির। পাড়ে বর্ষার নতুন পানিতে সদ্য গজিয়ে ওঠা কমলি শাক নজরে পড়ল ছমিরের। কমলির ঝোলের সঙ্গে ছোট মাছ! ভাবতেই তার জিভে পানি চলে এলো।

    কোমর থেকে গামছা খুলে কচুরি আঁটি বেধে বিলের পাড়ে রেখে কমলি তোলায় মন দিল সে। খানিকবাদে বৃষ্টিতে মাথায় কচুরির আটি ও হাতে কলমিলতা নিয়ে বাড়ির পথ ধরল। পায়ের নিচে নরম কাঁদা প্যাঁক প্যাঁক শব্দে সরতেই মনে মনে ছমির ভাবল, বৃষ্টির মধ্যে নিশ্চই আজ ব্যাংকের স্যার কিস্তি নিতে আসবে না। পরের সপ্তা আসলে আর কিস্তি দিতে কোন অসুবিধাই হবে না। বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র এই তিনদিন তার টানা কাজ আছে। পাশের গ্রামের আদর আলীর বাড়িতে তার জোগালের কাজ করার কথা। একটা ডোরা সাপ দ্রুত বেগে ছমিরের পাশ দিয়ে পাশেই ঝোঁপের মধ্যে মুহুর্তে মিলিয়ে গেলো। ছমির একবার সেদিকে তাকিয়ে মুখ দিয়ে হিস হিস শব্দ করে সামনে এগিয়ে গেলো।

    রাবেয়া তখনও চুলার পাশে বসে আছে। ভাত যখন উথলে গেছে তখন তার ভিতরে আলু আর ঢ্যারশ ছাড়ছে। বৃষ্টির কারণে লতিফা আজ স্কুলে যায়নি। ঘরের বারান্দায় পাটি পেতে সে পাশের বাড়ির আঞ্জুর সঙ্গে লুডু খেলছে। লতিফার চার উঠলেই তার গুটি ঘরে চলে যাবে। আর আঞ্জুর পাঁচ উঠলেই তার পাঁকা গুটি কাঁটতে পারবে। খেলার এই টানটান মুহুর্তে ছমির মোল্ল্যা মাথায় আটি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতেই গরুটা আবার ডাকা শুরু করল। কমলি শাকগুলো রান্না ঘরের বারান্দায় ছুঁড়ে দিয়ে ছুটল গোয়াল ঘরের দিকে। চাঁড়ে কচুড়িপানা দিয়ে গরুটার সারা শরিরে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে সে। লেজ নেড়ে নেড়ে বিরামহীনভাবে সদ্য তুলে আনা কঁচুরি চিবোতে লাগল লাল রংএর দেশি গরুটা। লতিফা এই গরুটার নাম দিয়েছে লালি।

    বৃষ্টি শেষ না হলেও পাতলা হয়ে গেছে। কলপাড়ে গিয়ে নিজে ভাল করে শরির ঘেষে গোসল শেষ করতেই রাবেয়া বলে উঠল, কিস্তির টাকা কি যোগাড় হইছে? ছমির কোন কথার উত্তর দেয় না। পরনের লুঙ্গিটা বালাতির মধ্যে ধুয়ে, হাতে নিয়ে চিপড়ে লতিফার দিকে তাকিয়ে গর্জণ করে খেঁকিয়ে উঠল ছমির, ‘সকাল বেলা স্কুলের নাম নাই। লুডু নিয়া বাইছস কেন?’ আঞ্জু এইমাত্র তার পাকা গুটি কেটেছে। সেই শোকে তার মন ছিল খারাপ তার উপর বাবার এই ধমকের জন্য ছোট মেয়েটা মোটেই প্রস্তুত ছিল না। অপলক চোখে মা’র দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি বিনিময়ে বাবার নামে বিচার দেবার চেষ্টা করলো।

    রাবেয়া প্রতিবাদ করে মেয়ের পক্ষ নিয়ে বলল, ‘ও স্কুলে যাইব কেমনে? হোসেন পাড়ার বাঁশের পুল ভাইঙ্গা গেছে। সেই সঙ্গে খালের পানিতে স্রোত বাড়ছে। ও ছোট মানুষ একা স্রোত পার হইবো কেমনে? ছমিরের কটাক্ষ গলা। একা যাইবো কেমনে? আরে আমি ছোট বেলায় একা বিল পার হইয়া মক্তবে যাইতাম। খালে স্রোত বাড়ছে বইলা দুনিয়ার মানুষ ঘরে বইসা থাকবো তাই না? যদি সত্যি ঘরে বইসা থাকতো তাইলে তো ভালাই হইত, আজকা আমার আর কিস্তি দিতে হইতো না। ঝড়, বৃষ্টি তুফান কোনো কিছুতেই তো কিস্তি বাদ যায় না। ভাত-তরকারি কি কিছু হইছে? নাকি সারাদিন হুদাই চুলার পাড়ে বইসা আছো।

    রাবেয়া বুঝতে পেরেছে, আজ তার খসমের ম্যাজাজ ঠিক নাই। কিস্তির টাকা জোগাড় হয় নাই। কাল রাতে যখন ছমির কোন কিছু না খেয়েই শুয়ে পড়ে তখনই রাবেয়া বুঝা উচিত ছিল। নিজের এই বোকামির জন্য বেশ খারাপ লাগছে তার। গলার স্বর নিচু করে বলল, ভাত, ডাল আর ভর্তা হইছে। ঘরের ভিতর থেকে নিজের যুব্বা পরে কালো রং এর ছাতাটা নিয়ে বের হতে হতে ছমির বলল, বেশি গরম ভাত খাওয়া ভাল না। আমি আসতাছি। রাবেয়া জানে এখন আপত্তি বা অভিযোগ কোন কিছুই কাজে আসবে না। তিনি যে এখন কিস্তির টাকা জোগাড়ের শেষ চেষ্টায় বের হচ্ছে সেটা রাবেয়া বুঝতে পারল। বারান্দার এক কোনে পড়ে থাকা কমলি শাকগুলো তুলে পাতা বাছতে শুরু করল রাবেয়া।

    দুই.
    আজগর মুদি দোকানদার হলেও তার টানাটানির সংসার। নিজের হাতে টাকা নেই, দোকানের প্রায় ফাঁকা মাচাগুলোও সে মাল দিয়ে ভরতে পারছে না। গ্রামের যারা তার কাছ থেকে বাকি খায় তারা কেউ বকেয়া শোধ করতে পারছে না। লাল রং এর হিসাবের খাতাটা পাওনাদারের নাম ও পাওনার হিসাবে ভর্তি হয়ে গেছে। আজগর তারপরেও ছমির মোল্ল্যাকে সান্তনা দেয়, দু’দিন পরে তার কিছু টাকা আসার কথা। তখন সে তাকে ধার দিতে পারবে। কিন্তু ব্যাংকের স্যার যে তাকে দু’দিনের সময় দেবে না সেটা সে আজগরকে বোঝাতে পারল না। একে একে রতন, আমজাদ ও সাদেক মাস্টারের কাছ থেকে হতাশ হয়ে ফিরে দশটা নাগাদ বাড়ি আসতেই লতিফা বলল, বাবা, ব্যাংকের স্যার আঞ্জুদের বাড়িতে কিস্তির টাকা নিতাছে। আপনারে যাইতে কইছে।

    ছমির মোল্ল্যার তখন পেটে ভিষন ক্ষিদে। মনটা বউএর হাতের ডাল, ভর্তা আর ভাত খাবার জন্য ছটফট করছে। পায়ে কাঁদা নিয়েই মন মরা হয়ে বারান্দায় বসে পড়ল সে। ছমিরের চোখ পড়ল নিজের ডান হাঁটুর একটু উপরে। জায়গাটা এখনো কালচে হয়ে আছে। পরশু কচুড়ি কাটতে বিলের পানিতে নামলে একটা মইষা জোঁক তার হাঁটুর উপরের এই স্থানে রক্ত পান করে, রুটি বেলা ব্যালনের মত হয়ে গিয়েছিল। শেষে জোঁকের মুখে লবণ দিলে তার মুক্তি মেলে। আজ ব্যাংকের স্যারকে ছমিরের সেই জোঁক বলে মনে হচ্ছে। আর লবণকে মনে হচ্ছে টাকা। লতিফা আবার এসে বলে, বাবা তোমাকে ডাকছে, ব্যাংকের স্যারের নাকি সময় নাই।

    ছমির মোল্লা আর কোন কথা না বলে উঠে পড়ল। মনে মনে স্যারকে কি বলবে আওড়ে নিয়ে তার সামনে হাজির হলো।

    ‘ছমির টাকা কই?’

    স্যার পুরাডা জোগাড় হয় না। সামনের সপ্তাহে দিয়া দেবো। বর্ষার কোন কাম-কাজ নাই। কাইল থাইকা কয়েক জনের কাছে টাকা ধার চাইছি কেউ দিতে পারে নাই।

    এইগুলা কইলেতো চলব না। টাকা নেবার সময়তো এই কথা ছিল না। তোমার একার টাকার জন্য পুরা গ্রুপের টাকা মিলব না। যেমনে পারো পুরা টাকাই তোমার দেওয়া লাগবো।

    ছমিরের প্রতিবাদ ভরা কণ্ঠ, কইলামতো আগামী সপ্তাহে আমি সব দিয়া দিতে পারবো। ছমির মোল্ল্যার কারো টাকা মারার ইচ্ছা নাই। খোঁজ নিয়া দেহেন আমার কাছে কেউ কোন টাকা পাইবো কিনা।

    আরে মিয়া, আমার কাজতো তোমার খোঁজ নেওয়া না। আমার কাজ পাওনা টাকা তোলা। অত কথা না বইলা জলদি টাকার ব্যবস্থা কর। আমি উত্তর পাড়া ঘুইরা আসতাছি, এর মধ্যেই পুরা টাকা জোগাড় কইরা রাখবা। ছমিরের দৃঢ় প্রতিবাদ, উত্তরপাড়া থাইকা ঘুইরা আসলেও আমি আইজ টাকা দিতে পারমু না। আমার টাকা যোগাড়ের কোন পথ নাই। ব্যাংকের স্যার কোন কথা না বলে সাইকেলে ওঠে উত্তর পাড়ায় চলে গেল।

    আঞ্জুর মা বলে উঠল, পুল ভাঙ্গছে তাও নৌকায় কইরা ঠিক সময় টাকা তুলতে চইলা আসছে। মানুষের সময় অসময় কোন কিছুই তারা বোঝে না আর বুঝতে চায়ও না। ছমির আর কোন কথা না বলে নি:শ্বব্দে বাড়ির দিকে পা বাড়াল।

    রাবেয়া থালায় ভাত বেড়েছে অনেকক্ষণ, দু’তিনটা মাছি তার উপর একমনে লাফাচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য নেই ছমির মোল্ল্যার। ভোর রাতের স্বপ্নটা তার আবার মনে পড়ল। শাপলার বিলে নৌকা থেকে সে পড়ে গেছে। তার নৌকা দূরে ভেসে যাচ্ছে। শাপলার বিলের গোলাপী শাপলার লতায় তার শরির পেঁচিয়ে যাচ্ছে। সে কিছুতেই তার নৌকা ধরতে পারছে না।

    কলপাড় থেকে গোসল সেরে এসেও যখন রাবেয়া দেখল ভাত তেমনই আছে। তখন আর সে কোন কথা না বলে ভাতের থালায় ঢাকনা দিল। ছমির একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে বারান্দার খুঁটি বেয়ে পিঁপড়ার দলের ওঠা নামার দিকে।

    তিন.
    ব্যাংকের স্যার ছমিরের বাড়ির উঠানে। টাকা যোগাড় হয়নি এটা সে কিছুতেই শুনতে চায় না। ছমির কোনভাবেই যখন স্যারের কাছ থেকে সময় পেল না তখন সে রাগের মাথায় জানতে চাইল এখন তার করনীয় কি? ব্যাংকের স্যার ভারি গলায় উত্তর দিল, ব্যাংকের নিয়ম হলো, হয় টাকা না হয় অন্য কিছু। তোমার ঘর থেকে অন্য কিছু নিয়ে যেতে হবে। তুমি টাকা দিলেই তোমার জিনিষ তোমার হয়ে যাবে। ছমিরের ব্যাকুল কণ্ঠে ভেসে আসে, আমার ঘরে কি আছে যে, সেটা আমি দেব।
    ব্যাংকের স্যার এদিক ওদিক দেখে বলে, গোয়ালের গরুটা ব্যাংকে জমা রাখতে পারো।

    ছমির হাউমাউ করে উঠল। গরু! গরু নেবেন ক্যান?

    ব্যাংকের স্যারের জবাব, এখন তো তুমি টাকা দিতে পারছ না। তাই এই ব্যবস্থা। আমার কিছুই করার নেই, আমি ব্যাংকের নিয়মের কাছে বাঁধা। তুমি চিন্তা করো না। টাকা ফেরত দিলেই তোমার গরু তোমার হয়ে যাবে। আমার সঙ্গে নৌকা আছে। গরু নিয়ে যেতে আমার কোন অসুবিধা হবে না।

    এই কথাগুলো ছমিরের মস্তিকের ভিতর যেতেই তার মাথা গরম হয়ে উঠল। ক্ষ্যাপা বাঘের মত ঝঁপিয়ে পড়ল ব্যাংকের স্যারের উপর। সর্বশক্তি দিয়ে স্যারকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ঢেলে দিল সে। হাতের কাছে পড়ে থাকা কোঁদালের আছাড়ি তুলে নিল হাতে। বলে উঠল নিকুচি করি আপনার ব্যাংকের নিয়ম। সাহস থাকলে আমার গরুর গায়ে হাত দেনতো দেহি, বুকের মধ্যে কলিজাটা কত বড় হইছে।

    স্যারের তীব্র প্রতিবাদ। ‘কাজটা কিন্তু তুমি মোটেও ঠিক করতাছ না ছমির।’ স্যারের সাইকেল লাথি মেরে ফেলে দিয়ে ছমির বলে উঠল, ‘কাজের এখনো দেখছেন কি? এখনই আমার বাড়ির থাইকা বাহির না হইলে এই আছাড়ি দিয়া আপনার মাথা আমি দুই ভাগ কইরা দেব।’

    বিয়ের বয়সে স্বামির এত রাগ কখনো রাবেয়া দেখে নাই। বারান্দার খুঁটি ধরে সে মেয়েকে নিয়ে অবাক চোখে দাঁড়িয়ে আছে। মাটিতে পড়ে থাকা সাইকেল তুলতে তুলতে স্যার বলল, কাজটা তোমার মোটেও ভাল হল না ছমির। এর ফল তোমার ভোগ করতেই হইবো। ছমিরের দিকে অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে একবার দেখে নিয়ে সাইকেল হাতে ঠেলে দ্রুত সে বের হয়ে গেল।

    ব্যাংকের স্যার ছমিরের বাড়ি ছেড়েছে দু’ঘণ্টা হবে। ঠান্ডা ভাতের সঙ্গে কলমি শাক দিয়ে অর্ধেক ভাত শেষ করতেই, আলাল দৌড়ে উঠানে প্রবেশ করল। ভীত কণ্ঠে চিৎকার দিয়ে সে বলল, কাকা তোমারে ধরতে পুলিশ আইতাছে। তুমি পালাও। ছমির সে কথায় কান না দিয়ে বউ এর দিকে ফিরে বলল, আর একটু মাছের তরকারি দাও। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে রাবেয়া আঁচল মুখে গুজে ডুকরে কেঁদে উঠল।
    লেখক- রাহুল রাজ।

  • সবাই দাদুর জন্য দোয়া করবেন-জাইমা রহমান

    সবাই দাদুর জন্য দোয়া করবেন-জাইমা রহমান

    দাদিকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রায় সাড়ে সাত বছর পর তিনি তার দাদী ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একান্ত সান্নিধ্যে পেয়েছেন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান দাদীর পাশাপাশি তার চাচী শর্মিলা রহমান সিঁথি, দুই চাচাতো বোন জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে কাছে পেয়ে আনন্দে সময় উপভোগ করছেন। বলা যেতে পারে তিনি একটি পরিপূর্ণ পারিবারিক জীবনে রয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি জনপ্রিয় সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

    তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, চিকিৎসা শেষ করে দাদুকে নিয়ে আমরা এখন বাসায় আছি। সবাই দাদুর জন্য দোয়া করবেন যেন তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। আপনাদের দোয়া আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান।

    এর আগে জাইমা রহমান তার দাদীর সাথে সর্বশেষ পারিবারিক পরিবেশের আমেজ উপভোগ করেন ২০১৭ সালে।

  • সাবেক  ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানকে গ্রেপ্তার

    সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানকে গ্রেপ্তার

    সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডিবি প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক জানান, রবিবার (২৬ জনুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাবেক এ প্রতিমন্ত্রীর । তার বিরুদ্ধে জুলাই আগস্ট আন্দো-লনের ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    এই মামলায় তাকে সোমবার (২৭ জনুয়ারি) আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে। এনামুর রহমান দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৯ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানও।

    দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন এনামুর। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কাছে হেরে যান তিনি।

  • চালু হতে যাচ্ছে ঢাকা ও ইসলামাবাদ সরাসরি ফ্লাইট !

    চালু হতে যাচ্ছে ঢাকা ও ইসলামাবাদ সরাসরি ফ্লাইট !

    বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চালু হতে যাচ্ছে ঢাকা ও ইসলামাবাদ সরাসরি ফ্লাইট । পেশোয়ার প্রেসক্লাব পরিদর্শনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসাইন। রোববার (২৬ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

    দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন ইকবাল হুসাইন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ভ্রমণ ও যোগাযোগকে সহজ করবে এবং পর্যটন, শিক্ষা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াবে। দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্রমশ উন্নতি লাভ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পাকিস্তানে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম ও করাচির মধ্যে নৌপথে সীমিত পরিসরে বাণিজ্য চলছে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় স্বাস্থ্যসেবা এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের বিশাল সুযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন হাইকমিশনার ইকবাল

  • পিরিয়ডের সময় টমেটো খাওয়া উত্তম !

    পিরিয়ডের সময় টমেটো খাওয়া উত্তম !

    পিরিয়ডের সময় ক্র্যাম্প দেখা দেয়। যখন জরায়ু সংকোচন করে তার আস্তরণ খুলে দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রোস্টা-গ্ল্যান্ডিন নিঃসরণের কারণে ব্যথা হয়, যা পেশীকে শক্ত করে। টমেটো এই সময়ে সাহায্য করতে পারে, এতে থাকা পটাসিয়াম শরীরে তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পেশী ক্র্যাম্প প্রতিরোধে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত পটাসিয়াম ক্র্যাম্পের তীব্রতা এবং ফ্রিকোয়েন্সি কমিয়ে দেয়।

    টমেটো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রদাহ কমায়। টমেটো খেলে তা পুষ্টি সরবরাহ করে যা পিরিয়ডের সময় পেশী সংকোচন থেকে অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং ভিটামিন সি, লাইকোপিন এবং পটাসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ টমেটোতে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

    নিয়মিত টমেটো খেলে তা পিরিয়ডের সাধারণ উপসর্গ যেমন পেট ফাঁপা, অস্বস্তি এবং মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করতে পারে। টমেটো ছাড়াও, অন্যান্য অনেক প্রাকৃতিক প্রতিকার পিরিয়ডের ব্যথা সহজ করতে সাহায্য করতে পারে।

    টমেটো খাওয়ার নিয়মঃ

    টমেটো জুস:
    পিরিয়ড চলাকালীন প্রতিদিন তাজা টমেটোর রস পান করুন। এটি একটি হাইড্রেটিং, ভিটামিন সমৃদ্ধ বিকল্প যা প্রদাহ এবং পেশীর খিঁচুনি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    টমেটো এবং শসার সালাদ:
    টমেটো, শসা এবং সামুদ্রিক লবণের ছিটা দিয়ে তাজা সালাদ সতেজ এবং প্রশান্তিদায়ক হতে পারে। স্বাস্থ্যকর চর্বির জন্য সামান্য অলিভ অয়েল যোগ করুন, যা প্রদাহ কমাতে পারে।

    টমেটো স্যুপ: এক বাটি উষ্ণ টমেটো স্যুপ পিরিয়ডের সময় আরাম এবং স্বস্তি দিতে পারে। সুষম খাবারের জন্য এটি হোল গ্রেইন টোস্টের সঙ্গে খেতে পারেন।

  • জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সিলেটের বিভাগীয় কমিটির পরিচিতি সভা সম্পন্ন

    জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সিলেটের বিভাগীয় কমিটির পরিচিতি সভা সম্পন্ন

    সিলেট জেলা প্রতিনিধিঃ সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের সিলেট বিভাগীয় আহ্বায়ক কমিটি ও সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট এর প্রতিনিধিদের মধ্যে পরিচিতি সভা শনিবার ( ২৫ জানুয়ারী’২৫) সিলেট গার্ডেন টাওয়ারস্থ সংগঠন কার্যালয়ে বিকেল ৪-৩০- ৬ ঘটিকা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট পত্রিকার সম্পাদক আবুল কাশেম রুমন এর সভাপতিত্বে, সদস্য সচিব সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ এর সঞ্চালনায় এ পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন কবি ও সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম লস্কর।

    এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কামাল আহমদ খান, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কর আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলম রিপন, সাপ্তাহিক ইউনানী কণ্ঠ’র প্রধান সম্পাদক ও গণমাধ্যম কমিশনের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন,সাহিত্য পত্রিকা সময়ের আলাপের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সাপ্তাহিক আজকের জনকথা ব্যুরো প্রধান হাফিজুল ইসলাম লস্কর, বৈচিত্র্যময় সিলেট এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নুরুদ্দীন রাসেল, গণমাধ্যম কমিশনের সিলেট জেলা কমিটির সদস্য সচিব শাহান উদ্দিন নাজু, সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. আমিন রশীদ (ফুয়াদ), গণ-মাধ্যম কমিশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির কার্যকারি সদস্য নাজিম উদ্দিন, গণমাধ্যম কমিশিনের যুগ্ম আহ্বায়ক বাদল আহমেদ, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি মো. শফিকুল ইসলাম নাহিদ, দৈনিক জাগ্রত কন্ঠের প্রতিনিধি মামুন আহমদ, তালাশ টিভি ও সিলেট টু আমেরিকা’র অনলাইন পোর্টালের প্রতিনিধি মো. লিমন আহমদ, সাংবাদিক মোর্শেদ আহমদ, দৈনিক বিজয়ের কন্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ইসমাইল আলী টিপু, সারুক উদ্দিন, মাও. আব্দুল হাছিব, সিলেট টাইমস’র গোলাম রব্বানী, সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট এর স্টাফ রিপোর্টার ফুজায়েল আহমদ, হোসেন আহমদ প্রমুখ।

    এসময় উপস্থিত বক্তারা তাদের এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাংবাদিকতা হলো একটি মহান পেশা। বর্তমানে বিভিন্ন অপ-রাধের সাথে জড়িতরা কৌশলে সাংবাদিকতায় ঢুকে পড়ছে। যে কারণে এই মহান পেশার সুনাম এবং মর্যাদা দিন-দিনই ক্ষুন্ন হচ্ছে। তবে পেশাদার সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির সম্মান ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ কখনোই করে না।

    তাই প্রকৃত সাংবাদিকরাই সত্যিকার অর্থে দেশ ও সমাজ উন্নয়ন ও অগ্রসরের অংশ। সাংবাদিকদের কল্যাণে সমাজের আসল চিত্র সবার সামনে চলে আসে। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের সাংবাদিকতাদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • পরিমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি !

    পরিমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি !

    আদালতে হাজির না হওয়ায় পরিমনিগংদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ২০ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। উল্লেক্য ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় নায়িকা পরীমণি এবং তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে যে ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা তিন বছরের সাজা হতে পারে।

    রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুনাইদের আদালতে মামলাটি চার্জ শুনানি হয়। এদিন পরিমনিগং আদালতে হাজির হননি। তাদের পক্ষে আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। তবে আদালত সময় আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ দেন। আগামী ২০ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

    পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী একে এম সোহেল জানান, দণ্ডবিধির আইনের ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালত তাদের সর্বোচ্চ সাজা ৩ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশী কৃষক গুলিবিদ্ধ !

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশী কৃষক গুলিবিদ্ধ !

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ সীমান্তে প্রতি ঘটনার পরই হয় বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক। বৈঠকে সীমান্তের সকল সমস্যা নিয়ে আলোচনায় একমত পোষন করেন উভয়পক্ষ। কিন্তু বৈঠক পরেই সেই প্রতিজ্ঞা বা আলোচনার কোন কথায় রাখেন না বিএসএফ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে চলছেই বিএসএফ’র অত্যাচার। একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে। আর প্রতিকার হিসেবে পতাকা বৈঠক আর ঘটনার পর দুঃখ প্রকাশ।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিরনগঞ্জ, চৌকা, তেলকুপিসহ সীমান্ত এলাকায় কাঁটা তারের বেড়া দেয়া, ফসল নষ্ট, আম গাছ কেটে ফেলা, ককটেল বিস্ফোরণ, তীর বর্ষণ, ইট পাটকেল নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড বিষ্ফোরনসহ ৫কৃষক আহত, সীমান্তে গুলি করে কৃষকদের আহত করার ঘটনা চলছেই। এরই ধারাবাহিতকায় শনিবার ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তেল কূপি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে এক বাংলাদেশী কৃষক গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

    শনিবার ভোর ৫টার দিকে গুলিবিদ্ধ হওয়া ব্যক্তি শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলকূপি মোল্লাটোলা গ্রামের বেলাল উদ্দীনের ছেলে হাবিল উদ্দীন (৩০)। তবে, ৫৯ বিজিবির দাবী-গুলিবিদ্ধ হাবিল একজন চোকারাবারী। চোরাকারবারী করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, হাবিল এর পরিবারের দাবী, হাবিল কোন মাদক চোরাকাবারী নয়, একজন কৃষক, তেলকূপি মুড়িয়া মাঠে জমিতে কাজ করছিলেন হাবিল।

    পরিবার, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার ভোর ৫টার দিকে সীমান্তের আর্ন্তজাতিক মেইন পিলার ১৮০ সাব পিলার ৭এস নিকটে তেলকূপি মুড়িয়া মাঠে গম ক্ষেত্রে কাজ করছিলেন হাবিল। এসময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোপালনগর ক্যাম্পের জওয়ানরা হাবিলকে গুলি করে।

    এতে গুরুতর আহত হলে প্রথমে তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে। অবস্থা বেগতিক হওয়ায় পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় হাবিলকে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ হাবিল সাংবাদিকদের জানান, তিনি নিজ জমিতে পানি দিতে গিয়েছিলেন। ভোরে ঘন কুয়াশার মধ্যে কাজ করার সময় তাকে বিএসএফ গুলি করে।

    এসময় সাথে থাকা হাবিলের ভাবি সুলেখা বেগম জানান, ওই জমিতে তাদের সেচের মর্টার রয়েছে। সেখানে জমিতে পানি দিচ্ছিল তার দেবর হাবিল। সেখানে বিএসএফ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তার দেবর একজন কৃষক, কোন মাদক চোরাকারবারী নয়। জমিতে কাজ করতে গেলে বিএসএফ গুলি চালায়।

    শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য কাশেদ আলী জানান, সীমান্ত পরিস্থিতির কারনে বিজিবির পাশাপাশি কয়েক দিন যাবৎ এলাকার সকলকে সন্ধ্যার পর সীমান্তে না যাওয়ার আহবান জানিয়ে আসছি। শনিবার ভোর ৪টার পর হাবিল গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার পরিবার ও এলাকাবাসী বলছে-হাবিল গমের জামিতে পানি দিতে গিয়েছিল এবং সেখানে বিএস এফ’র গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

    তবে বিজিবি বলছে, সে চোরাকাবারী। হাবিল বর্ডারে মাদক আনতে গিয়েছিল। ইউপি মেম্বার আরও জানান, ইতিপূর্বে হাবিলের বিরুদ্ধে সীমান্তে মাদক চোরাকারবারির কোন অভিযোগ নেই। শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান নিজামুল হক রানা জানান, আমি মেম্বারের সাথে কথা বলেছি। পরিবারের সদস্যরাও বলছে হাবিল গমের জমিতে পানিতে দিতে গিয়েছিল এবং সেখানে বিএসএফ তাকে গুলি করেছে।

    এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ মহানন্দা ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া এক প্রেসনোটে জানান, তেলকুপি সীমান্তের আনুমানিক ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে ৭/৮ জন বাংলাদেশী চিহ্নিত চোরাকারবারী চোরাচালানের উদ্দেশ্য ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করলে বিএসএফ টহলদল কর্তৃক তাদেরকে লক্ষ্য করে ০২/০৩ রাউন্ড ফায়ার করে।

    এসময় বিজিবি গমন করলে বাংলাদেশী চোরাকারবারীরা পালিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে সোর্স মারফত জানা যায়, হাবিল নামে একজন চিহ্নিত চোরাকারবারী বিএসএফ’র গুলিতে আহত হয়ে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, তেলকুপি বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ পাঁচ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশী কোন কৃষক অবস্থান করছিল না। এই ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানী পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে এবং বিএসএফকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারী পাশর্^বর্তী আজমত সীমান্তের আর্ন্তজাতিক মেইন পিলার ১৮২ এর ১৩০ গজ এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অন্তর্গত শশ্মনী ক্যাম্পের বিএসএফ জোয়ানদের গুলিতে শহীদুল ইসলাম (২৫) বাংলাদেশী নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়।

  • আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না-মাহফুজ আলম

    আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না-মাহফুজ আলম

    আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে কোনো ভাবেই অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে পথসভায় ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

    উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, আমাদের লড়াই একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই। আওয়ামী ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই। যদি আওয়ামী লীগ ফেরত আসে তাহলে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে। শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে হাজার হাজার মানুষকে খুন করেছিলেন। আমরা শেখ মুজিব-শেখ হাসিনার শাসনামল বাংলাদেশে আর দেখতে চাই না।

    তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে শিগগির রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে, অংশীজনদের সঙ্গে আলো-চনার ভিত্তিতে ন্যূনতম সংস্কার করে গণতান্ত্রিক পটপরিবর্তনের জন্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুই হাজারের অধিক ছাত্র-জনতার শাহাদতের বিনিময়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। খুনিদের বিচার এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা যে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, সে প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার এবং একটি গণতান্ত্রিক পটপরিবর্তনের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা আমাদের সরকারের অঙ্গীকার।

    মাহফুজ আলম বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার স্বৈরাচারী আমলে বাচ্চাদেরও গুম করা হয়েছে। মা-বোনদের ধর্ষণ করা হয়েছে। খুন করা হয়েছে, হাজার হাজার লোককে পঙ্গু করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে গুম,খুন, ধর্ষণের বিচার এবং সংস্কার। অবশ্যই সব বাংলাদেশপন্থি রাজনীতিবিদের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।

    হাজার লোককে পঙ্গু করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে গুম,খুন, ধর্ষণের বিচার এবং সংস্কার। অবশ্যই সব বাংলাদেশপন্থি রাজনীতিবিদের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।

  • ডাক্তার শূণ্য দিঘলীয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ভোগান্তিতে সেবা প্রাথীরা !

    ডাক্তার শূণ্য দিঘলীয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ভোগান্তিতে সেবা প্রাথীরা !

    বছর খানিক ধরেই ডাক্তার না থাকার অভিযোগ উঠেছে দিঘলীয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে (পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত) এলাকাবাসি মতে, দীর্ঘ দিন ধরেই হাসপাতালটিতে ডাক্তার আসে না। এই নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নাই। তারা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা জরুরী প্রয়োজনে এই হাসপাতালে সেবা নিয়ে থাকি, তাও এখন বন্ধ রয়েছে। ডাক্তার বিহীন হাসপাতাল আমাদের প্রয়োজন কি? এই হাসপাতাল আমরা চাই না। এটি অনতিবিলম্বে বন্ধ করে দেয়া হোক।

    জানাগেছে, অত্র ইউনিয়নের একমাত্র সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এটি। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে ৪ জনের জনবল থাকার কথা থাকলে ও একমাত্র একজন আইয়া অফিস করেন। তবে তিনিও নিয়মিত না। ফলে দূর-দূরান্ত হতে আগত রোগিরা প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে করে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

    এই ব্যপারে অত্র এলাকার বাসিন্দা জনাব নজরুল ইসলাম (জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য) জানান, আমার বাড়ীর পাশবর্তী এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রায়ই তালাবদ্ধ থাকে। মাঝে মধ্যে একজন আয়া আসলেও ডাক্তার না থাকার অযুহাত দেখিয়ে দুপুর ১২টার মধ্যে হাসপাতালে তালা মেরে চলে যান। ফলে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। স্বৈর-শাসনের আবসানের পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় এলাকাবাসী সত্যিই মর্মাহত। তারা অতি দ্রুত এর প্রতিকার চায়।

    হাসপাতাল বন্ধথাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে, সাটুরিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএফপিও) জনাবা রোহানা আক্তার জানান, এখানে একজন ডাক্তার অতিব প্রয়োজন। আমি বার বার এই ব্যাপারে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি। গত ১৩ই জানুয়ারী উপজেলা মিটিংয়েও আমি এই বিষয়টি তুলে ধরেছিলাম। জনবল সংকটের কারণে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। তবে আশা করি, অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।

    স্বৈর-শাসন বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই অত্র ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির সেবা দানের এমন অক্ষমতা নিয়ে- জনমনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাই এ ব্যাপারে অতি দ্রুত প্রয়োজীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন এলাকাবাসীর সময়ের দাবি।