Author: MD Nazrul Islam

  • পঞ্চগড়ের দুই সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশইন !

    পঞ্চগড়ের দুই সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশইন !

    পঞ্চগড়ের সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলার দুটি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১৭ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০ জনকে পঞ্চগড় থানায় এবং ৭ জনকে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।

    আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া এবং তেতুঁলিয়া উপজেলার ভজনপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইন করা হয়।

    এদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী রয়েছেন। তারা বাংলাদেশের যশোর, নওগাঁ, সিলেট, খাগড়াছড়ি, বরিশাল, কক্সবাজার, গোপালগঞ্জ ও নরসিংদীর বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

    বিজিবি জানায়, সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৫-এর ২ নম্বর সাব-পিলার এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর সীমান্তের পিলার ৭৩৯/২০-আর এলাকা দিয়ে এসব ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

    এরা সবাই বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ভারতে কাজ-কর্মে নিয়োজিত ছিল। সম্প্রতি ভারতীয় পুলিশ তাদের উড়িষ্যা, মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করে। পরে বিমানযোগে বাঘডোকরা বিমানবন্দর হয়ে শিলিগুড়ি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের সীমান্তে দিয়ে বাংলাদেশে পাঠায়।

    ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মনির বলেন, ভজনপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইন হওয়া ৭ জনকে আটক করে জিডি মূলে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর কাজী আসিফ আহমদ বলেন, আমাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বিএসএফ। আমরা তাদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছি।

    পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান জানান, বিজিবি সদস্যরা ১০ জনকে জিডির ভিত্তিতে থানায় হস্তান্তর করেছেন। তাদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে।

  • খুব শিগগিরই নির্বাচন সক্রান্ত ঘোষনা আসবে-ড. আসিফ নজরুল

    খুব শিগগিরই নির্বাচন সক্রান্ত ঘোষনা আসবে-ড. আসিফ নজরুল

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনের তারিখ সংক্রান্ত ঘোষণা খুব শিগগিরই আসবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আইন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনের সময় তো… জাস্ট ওয়েট করেন, কিছুদিনের মধ্যেই ঘোষণা শুনবেন।” তিনি জানান, সকল নাগরিক যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ভোটাধিকার প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “ভোট দিতে সবাই পারবেন। আমাদের এমন কোনো উদ্যোগ নেই, যা নেওয়া হচ্ছে না।” অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ক্লাসে যখন যেতাম, ছাত্রদের জিজ্ঞেস করতাম— কে কে ভোট দিয়েছে? অনেকে হাসাহাসি করত, কেউ কেউ বলত, স্যার ভোট দিয়েছি, তবে দশ-বারোটা! ৯০ শতাংশ বলত তারা কোনোদিন ভোটই দেয়নি। এই দুঃখ আমাদের ঘুচবে। আমরা ১৮ বছর ধরে ভোট দিতে পারিনি।”

    ২০০৮ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই— এই বক্তব্যের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করি। ওই নির্বাচনের অনেক দিক আছে, যেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। সাংবাদিকরা যদি এই বিষয়ে খোঁজখবর করেন, অনেক ভয়াবহ তথ্য পেতে পারেন।”

     

    তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করবে। তবে আমি সরকারের পক্ষ থেকে এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমাদের সরকারের নিয়ত রয়েছে— বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো নির্বাচন আয়োজনের। এটা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা সবসময় বলে থাকেন।”সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কোনো দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা নজর নেই : সেনা সদর

    কোনো দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা নজর নেই : সেনা সদর

    বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা নজর নেই। গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের জীবননাশের হুমকি থাকায় তাদের সহযোগিতা করেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’-তে আয়ো-জিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

    এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ হাজার ৫৭৬ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছি। চাঁদাবাজ বা অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব আইনশৃঙ্খলা এজেন্সিগুলোর সর্বাগ্রে দায়িত্ব পালন করার কথা, তারা যদি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে আরও কমে আসবে বলে আশা করি। সাথে সাথে আমাদের যে আভিযানিক দায়িত্ব আছে আমরা সেটা সর্বদা পালন করছি।

    আমরা সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে চাঁদাবাজির মতো অপরাধ কমে আসবে বলে বিশ্বাস করি। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করার পর আমাদের আর কিছু করার থাকে না।

    পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের সংঘাতকে সেনাবাহিনী কীভাবে দেখছে— প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন দুষ্কৃতকারীরা এইটা করে থাকে। আমাদের কার্যক্রম ও অভিযান জারি রেখেছি।

    ভবিষ্যতেও আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে। বান্দরবানের আর্মি ক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়া, কুকি চিন, আরাকান আর্মি ও বান্দরবানে অস্ত্র কেনা-বেচা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রটেকশন দিয়ে যাচ্ছে এবং ভালোভাবে দিয়ে যাচ্ছে। আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

    আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে যদি আমাদের ক্যাম্পের প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা টেম্পরারি অপারেটিং বেইস করে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমেও খবর এসেছে সেনাবাহিনীর মেজর সাদিক আওয়ামী লীগের লোকজনকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে— এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেজর সাদিকের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারব।

    এনসিপি যখন ঝামেলায় পড়েছে তখন সেনাবাহিনী প্রটেকশন দিয়েছে, আবার এখন শোনা যাচ্ছে সেনাবাহিনী তাদের আর প্রটেকশন দেবে না— এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে কখনো সহায়তা করিনি। আমাদের দায়িত্বের মধ্যে কাউকে বিশেষভাবে দেখি না।

    গোপালগঞ্জে যেটা হয়েছে ওইখানে ওই রাজনৈতিক দলের অনেকের জীবননাশের হুমকি ছিল। তাদের জীবন বাঁচানোর জন্যই সেনাবাহিনী সহযোগিতা করেছে। এখানে জীবন বাঁচানোই মূল লক্ষ্য ছিলো অন্য কিছু না।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কোথায় সমাবেশ করবে, এটা ক্লিয়ারেন্স দিতে হবে স্থানীয় প্রশাসন থেকে। আমাদের কাছে এসব বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। গোপালগঞ্জে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছিল।

    শুধুমাত্র ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়নি, ককটেলও নিক্ষেপ করা হয়েছে। যখন সেখানে জীবননাশের হুমকি ছিল তখন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বল প্রয়োগ করে। এখানে প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়নি।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেছেন, গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী গুলি করেছে— এই বিষয়ে অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে কী হয়েছিল সেটার সত্যতা উদ-ঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করি এই কমিটি সত্য এবং সঠিক ঘটনা উন্মোচন করতে পারবে।

    বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি কি সেনাবাহিনীর দুর্বলতা আছে— এমন প্রশ্নের জবাবের কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশেষ কোনো দলের প্রতি আলাদা নজর নেই। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কাছে সবাই সমান। যেখানে জনদুর্ভোগ ও জীবননাশের হুমকি থাকে, সেখানে আমরা কঠোর হই বা জনসাধারণকে সহযোগিতা করি। গোপালগঞ্জে যদি আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করতাম তাহলে সেখানে অনেক হতাহত বা জীবননাশের ঘটনা ঘটতে পারত।

  • ভারতে গ্রেফতার হলেন বাংলাদেশি মডেল-অভিনেত্রী শান্তা পাল

    ভারতে গ্রেফতার হলেন বাংলাদেশি মডেল-অভিনেত্রী শান্তা পাল

    ভুয়া নথি নিয়ে কলকাতায় অবৈধ বসবাসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি মডেল-অভিনেত্রী শান্তা পাল। বুধবার (৩০ জুলাই) রাতে পার্ক স্ট্রিট থানা পুলিশ (যাদবপুর থানা এলাকা থেকে) তাকে গ্রেপ্তার করে।

    জানা যায়, অ্যাপ ক্যাবের ব্যবসা করতে গিয়েই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন অভিযুক্ত এই নারী। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিকত্বের নথি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এমনকি রেশন কার্ডও।

    পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৩ সাল থেকে যাদবপুরের বিজয়গড়ে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন শান্তা। ২০২৩ সালে ভিসা নিয়ে এ দেশে এসেছিলেন তিনি। সেই ভিসার মেয়াদ ফুরিয়েছে। এরপর নতুন করে ভিসার বানাননি তিনি। শুধু তাই নয়, পাসপোর্টের মেয়াদও শেষ হয়েছে চলতি বছরে।

    প্রাথমিক তদন্তে লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখা জানতে পারে, গ্রেপ্তার বাংলাদেশি মডেল শান্তার বর্ধমান জেলার একটি ঠিকানা থেকে ২০২০ সালে ভারতীয় আধার কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। কলকাতার বিক্রমগড় এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন শান্তা। দক্ষিণ কলকাতার আরেক ঠিকানায় শান্তার নামে প্রতি মাসে আসে ইলেকট্রিক বিল। বাংলা-দেশের একটি সংস্থা আয়োজিত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস এশিয়া গ্লোবাল বাংলাদেশ’ খেতাব জেতেন শান্তা।

    শান্তা পালকে হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জেরা করছে লালবাজারের গুণ্ডাদমন শাখা। জানা গিয়েছে, শান্তা পাল একজন মডেল-অভিনেত্রীর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ইন-ফ্লুয়েন্সর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লগিং করেন তিনি। তার স্বামী অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা।  তার সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্ট খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শান্তার ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া ভোটার, আধার ও রেশন কার্ড বৈধ কি না বা কীভাবে এই কার্ড পেল তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বুধবার (৩০ জুলাই) শান্তা পালকে আদালতে তোলা হয়।

    মডেলিং, অভিনয় ছাড়াও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে সঞ্চালিকার কাজও করেছেন শান্তা পাল। ২০১৯ সালে, কেরালায় অনুষ্ঠিত ‘মিস এশিয়া গ্লোবাল’ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন শান্ত। এর আগে একটি তামিল সিনেমায় অভিনয়ের কথা জানিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী।

  • হৃদরোগে আক্রান্ত জামায়াত আমির !

    হৃদরোগে আক্রান্ত জামায়াত আমির !

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি সমাবেশে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে তার ফলোআপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করা হয়।

    চিকিৎসকরা তার হার্টে তিনটি প্রধান রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়ার কথা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার এ অবস্থায় বাইপাস সার্জারি করানোই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে ‘রিং পরানো’র (স্টেন্টিং) ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

    তবে এ পর্যন্ত বাইপাস সার্জারি নাকি রিং পরানো হবে কিংবা দেশেই চিকিৎসা নেবেন, নাকি বিদেশে যাবেন— এসব বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের পক্ষ থেকে শিগগির বিস্তারিত জানানো হবে। জামায়াত আমির দেশে চিকিৎসা নেওয়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।

    মনোবলের কারণে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন। এমনকি গতকাল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সভায়ও যোগ দিয়ে বক্তব্য দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই জাতীয় সমাবেশে হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে জামায়াত আমিরকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতাল ত্যাগ করলেও ফলোআপে থাকেন। এনজিওগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার হার্টে গুরুতর ব্লক ধরা পড়ে।

    আমিরের সুস্থতা কামনায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে ইবনে সিনা ট্রাস্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) জাহিদুর রহমান বলেন, বাইপাস সার্জারির পরামর্শ দিয়েছেন এমনটা জানা নেই। গতকালও তো তিনি একটি সভায় যোগ দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

  • সাটুরিয়ায় অপ্রতিরোধ্য আওয়ামী নেতা আনোয়ার হোসেন খান (জ্যোতি)

    সাটুরিয়ায় অপ্রতিরোধ্য আওয়ামী নেতা আনোয়ার হোসেন খান (জ্যোতি)

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের চেযারম্যান আনোয়ার হোসেন খান (জ্যোতি) উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এবং আওয়ামী সরকারের প্রভাবশালী স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেক স্বপনের আপন মামাতো ভাই।

    গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে আনোয়ার হোসেন খান (জ্যোতি) ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়মিত। মাঝেমধ্যে পরিষদে এলেও অসুস্থ্যতার অযুহাতে র্দীঘদিন ইউনিয়ন পরিষদে আসছেন না বলে অভিযোগ। যার ফলে ঐতিহ্যবাহী হরগজ ইউনিয়নের আপামর জনসাধারন চেয়ারম্যানের সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

    অভিযোগ রয়েছে, জনরোষ এবং পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতেই তিনি আত্মগোপনে আছেন। তবে, লুকিয়ে থেকেই পরিষদের গ্রাম পুলিশদের (চৌকিদার) দিয়ে বিভিন্ন জনগণ ও দপ্তরের বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করে নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে টিকিয়ে রেখেছেন।

    এই বিষয়ে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুক হোসেন জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিনি ছুটি নিয়েছেন। আশা করি, ৩১ জুলাইয়ের পর পরিষদের দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

    কিন্তু বিশ্বস্ত সূত্রমতে, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত, ৭ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত, ১৩ মে থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত এবং ২৯ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটি নিয়েছিলেন। এ‘ছাড়া তার বিরুদ্ধে ভোট ছাড়া নিজের পছন্দ মতো প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন করার অভিযোগও রয়েছে।

    এলাকাবাসীর মতে, মন্ত্রীর মামাতো ভাই হওয়ায় নিজ ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলায় চুষে বেড়িয়েছেন আনোয়ার হোসেন খান (জ্যোতি)।

    নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে আউট-সোর্সিংয়ের নিয়োগ বাণিজ্য, হরগজ গরুর হাট নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবার সরবরাসহ নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেও তার অপ্রতিরোধ্যতা জুলাই বিপ্লবের আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    সর্বোপরি,  স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা হলেও, তিনি পুলিশের ধরা-ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছেন যা জনমনে ব্যাপক জিজ্ঞাসার জন্ম দিয়েছে।

  • ১০২ এসিল্যান্ড প্রত্যাহার

    ১০২ এসিল্যান্ড প্রত্যাহার

    সহকারী কমিশনাররা (ভূমি) এসিল্যান্ড হিসেবেই বেশি পরিচিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্বরত এমন ১০২ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক ৮টি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, বিসিএস ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত সিনিয়র সহকারী কমিশনার বা সহকারী কমিশনার হিসেবে পদায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হলো।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • খালেদা জিয়া নির্বাচন করবেন: মিন্টু

    খালেদা জিয়া নির্বাচন করবেন: মিন্টু

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, “নির্বাচনে ফেনীর ইতিহাস সবাই জানে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ এখানে বিএনপি জয়লাভ করবে। আমাদের দলের নেত্রীও (খালেদা জিয়া) নির্বাচন করবেন। তিনি এখন সুস্থ আছেন। নির্বাচন নিয়ে ফেনীতে কোনো চিন্তা নেই।”

    বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

    আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “লন্ডনে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল। আমরা সেটিতে আস্থা রাখতে চাই যে, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হবে।

    তবে, দেশের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় তার আগেও নির্বাচন হয়ে যেতে পারে। হয়তো জানুয়ারিতেও হয়ে যেতে পারে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টে কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে একটি মামলা চলমান আছে। যদি কেয়ারটেকার সরকার পুনঃপ্রবর্তন হয়, তাহলে এ অন্তর্বর্তী কালীন সরকার কেয়ারটেকার হবে না। কেয়ারটেকার সরকারে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার কথা বলা আছে।”

    সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না থাকলে ভালো কাজ করবে না, উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “বিগত ১৯ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছি।

    কেউ যদি বলে, আমরা হঠাৎ করে নির্বাচন চাচ্ছি, বিষয়টি সঠিক নয়। বরং, ২০০৬ সাল থেকে আমরা নির্বাচন চেয়ে আসছি। একটি দেশের সরকার যদি জনগণের কাছে দায় বদ্ধ না থাকে, তাহলে তারা কখনো ভালো কাজ করবে না।

    তাই, আমরা চাচ্ছি নির্বাচন হোক।” বিএনপির এ সিনিয়র নেতা আরো বলেন, “আমরা বলে আসছি, ২০০৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটি অবাধ ও সুষ্ঠ হয়নি। ২০০৬ সাল থেকে দেশে কোনো নির্বাচনকালীন সরকার নেই।

    দুই যুগ ধরে যদি নির্বাচিত সরকার না থাকে, তাহলে মানুষের অর্থনৈতিক বা জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে না। নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত থাকে একটি সরকার, যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে।”

  • মানিকগঞ্জে সাত দিনব্যাপী বৃক্ষ ও ফলজ মেলা শুরু

    মানিকগঞ্জে সাত দিনব্যাপী বৃক্ষ ও ফলজ মেলা শুরু

    “পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি, দেশি ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী বৃক্ষ ও ফলজ মেলা।

    মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা (যুগ্ম সচিব)। সবুজে ঘেরা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

    মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদা রোকসানা সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. রবীআহ নূর আহমেদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “পরিকল্পিত ভাবে গাছ লাগালে তা পরিবেশ রক্ষা করবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। একজন মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ লিটার অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, যা গাছ থেকেই পাওয়া যায়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত বেশি বেশি গাছ লাগানো।”

    উদ্বোধনী বক্তব্যের পর অতিথিরা মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। স্টল-গুলোতে দেশীয় ফল, বনজ গাছ এবং নানা জাতের চারা প্রদর্শন করা হয়।

    পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়, যাতে তাদের মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহ বাড়ে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে শ্রদ্ধা ও মানবতার মিলন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে শ্রদ্ধা ও মানবতার মিলন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ ‘জুলাই জাগরণ অনুষ্ঠান ২০২৫’ উপলক্ষে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে এক ব্যতিক্রম ও মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (২৮ জুলাই) আয়োজিত কর্মসূচিতে ছিল স্বেচ্ছায় রক্তদান, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং এবং রক্তদাতাদের ডাটাবেইজ তৈরি।

    পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল-শ্রদ্ধা জানানো হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জুলাই শহিদ-দের প্রতি। আয়োজনে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ মাসুদ পারভেজ।

    তিনি বলেন, “জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগ শুধু স্মরণ করলেই চলবে না, তাদের আদর্শ অনুসরণ করে জনসেবামূলক কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে। এই কর্মসূচি তারই অংশ।” কর্মসূচিতে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বেচ্ছায় রক্তদাতা একটি ডিজিটাল ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে যে কোনো সংকটে দ্রুত রক্ত জোগাড় করা সম্ভব হয়।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “জুলাই আমাদের জন্য কেবল শোকের নয়, চেতনার মাস। এই মাসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা জীবন দিয়েছেন, সেই আত্মত্যাগ আমাদের জন্য প্রেরণা। চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে আমরাও যেন সেই আদর্শ ধারণ করতে পারি।” দোয়া মাহফিলে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয়।

    কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডাঃ একে এম শাহাব উদ্দিন, ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় ডাঃ মোঃ মাসুদ পারভেজ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদ, অর্থোপেডিক্স বিভাগের ডাঃ মোঃ ইসমাইল হোসেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, হাসপাতালের ডাক্তার নার্স ও স্টাফরা।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের এই আয়োজন কেবল এক দিনের অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি বার্তা, যেখানে শ্রদ্ধা, মানবতা ও সেবাবোধ একত্রে জাগরণ সৃষ্টি করে। আগামী দিনে এ ধরনের কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা সকলের।