Category: জাতীয়

  • ক্যাটাগরি-৫ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিল হ্যারিকেন অ্যারিন

    ক্যাটাগরি-৫ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিল হ্যারিকেন অ্যারিন

    অল্প সময়ের মধ্যেই মহাশক্তিশালী ক্যাটাগরি-৫ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে হ্যারিকেন অ্যারিন। এর স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ মাইল (২৬০ কিলোমিটার)পর্যন্ত উঠেছে এবং আরও শক্তি অর্জনের আশঙ্কা রয়েছে।

    শনিবার (১৬ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, এই শক্তিশালী ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পুরো পূর্ব উপকূলে প্রাণঘাতী ঢেউ ও রিপ কারেন্ট তৈরি করবে। রিপ কারেন্ট হলো সৈকতের কাছে সৃষ্ট এমন এক প্রবল স্রোত যা তীর থেকে সমুদ্রের ভেতরের দিকে প্রবাহিত হয়।

    ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টারের পরিচালক মাইক ব্রেনান এক ব্রিফিংয়ে জানান, ঝড়টি রাতারাতি “অত্যন্ত শক্তিশালী” হয়ে উঠেছে এবং “বিস্ফোরকভাবে গভীর ও তীব্র” আকার নিয়েছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত এটি শুধু একটি ট্রপিক্যাল স্টর্ম ছিল।

    অ্যারিন বর্তমানে ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থান করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ সপ্তাহান্তে এটি লিওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জ, ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ও পুয়ের্তো রিকোর উত্তর দিক অতিক্রম করবে। এতে সর্বোচ্চ ৬ ইঞ্চি (১৫ সেমি) বৃষ্টি হতে পারে, যা আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াবে।এটি ২০২৫ সালের আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হ্যারিকেন।

     

  • এ দেশ সবার, এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না

    এ দেশ সবার, এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না

    এ দেশ সবার, এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    সেনাপ্রধান বলেন, ‘এই দেশ সবার। এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। সবার সমান অধিকার থাকবে। আপনারা নিশ্চিন্তে এ দেশে বসবার করবেন। ধর্মীয় সকল অনুষ্ঠান আপনারা উদযাপন করবেন আনন্দের সঙ্গে।’

    তিনি বলেন, এখানে নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমানবাহিনীর প্রধান আছেন। সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন আছে। আমরা সবাই মিলে আপনাদের পাশে থাকবো। এক হয়ে আপনাদের সঙ্গে কাজ করে যাবো।

    তিনি আরও বলেন, ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ুক। এই আদর্শের ভিত্তিতে আমরা সুন্দরভাবে এ দেশে একসঙ্গে বসবার করবো।’

    অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা শুধু অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসই যোগায় না, ন্যায়ের পথেও চলতে শেখায়।’

    তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে বিশ্বের মানচিত্রে এই বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’

    নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আসুন, পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে দেশকে আরও শক্তিশালী করি। শ্রীকৃষ্ণ যেন সমাজে ন্যায় ও আলোর সত্য প্রজ্জ্বলিত করেন।’

  • আজ শুভ জন্মাষ্টমী

    আজ শুভ জন্মাষ্টমী

    শনিবার (১৬ আগস্ট) সেই শুভ জন্মতিথি। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করতে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ—এমনটাই বিশ্বাস করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তার এই আবির্ভাব তিথি শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে প্রতিবছর ধর্মীয় ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপন করা হয়।

    জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর। সমাজে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন কেউ নষ্ট করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সমাজে সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শ্রীকৃষ্ণ আজীবন ন্যায়, মানবপ্রেম ও শান্তির বাণী প্রচার করেছেন। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি সবসময় শুভশক্তিকে রক্ষায় আবির্ভূত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, আবহমানকাল ধরে এ দেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছে। শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বৈষম্যমুক্ত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ময় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান মুহাম্মদ ইউনূস।

    এদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি জানিয়েছে, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শনিবার সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় শ্রী শ্রী গীতাযজ্ঞ, বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

     

  • জন্মদিনে খালেদা জিয়াকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা

    জন্মদিনে খালেদা জিয়াকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফুলের তোড়া পাঠিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে এ কথা জানান।

    অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, “আপনারা জানেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আজ জন্মদিন। তিনি কোনো অনুষ্ঠান পালন করেন না। তবে দল থেকে সারা দেশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হচ্ছে।

    ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, “আজ বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ম্যাডামের জন্য ফুলের তোড়া পাঠিয়েছেন। তার কর্মকর্তারা এটা গুলশানের বাসায় নিয়ে এসেছেন।

    প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সজীব এম খায়রুল ইসলাম ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম শুক্রবার বিকেল ৪টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসা ফিরোজায় চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের কাছে প্রধান উপদেষ্টার পাঠানো ফুলের তোড়া হস্তান্তর করেন।

    এই সময়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলায়েত হোসেন, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান, চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত উইংয়ের কর্মকর্তা মাসুদ রহমান উপস্থিত ছিলেন।

     

  • আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের রোডম্যাপ

    আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের রোডম্যাপ

    আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

    ইসি সচিব বলেন,‍“রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। তবে কোন পদ্ধতিতে রোডম্যাপ হবে, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।”

    রোডম্যাপে কী থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, “রোডম্যাপে কী কী থাকবে ওটা রোডম্যাপই বলে দেবে। অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, আইনবিধি সংশোধনের সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য দেওয়া হবে। তবে এখন সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।”

    গত ৭ আগস্ট সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূস বলেছেন, “একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ।”

    বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “সভার শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ৫ আগস্ট আমার প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে। আজ থেকে দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়েছে। এখন আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।”

     

  • পাথর বলতে কিছু নেই এখানে এখন আর !

    পাথর বলতে কিছু নেই এখানে এখন আর !

    এখানকার ভয়াবহ অবস্থা, পাথর যা নিয়ে গেছে তাতে এ পর্যটন স্পট মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাথর বলতে কিছু নেই এখানে এখন আর ” সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর নামক পর্যটন স্পটে দাঁড়িয়েই এ কথাগুলো বলছিলেন সেখানকার স্থানীয় একজন সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান রিপন।

    মঙ্গলবার সকালে সাদা পাথরের ওই স্থানে গিয়ে তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখছিলেন।তিনি জানান, আগের সাথে তুলনা করতে গেলে এখন ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর নেই বললেই চলে।

    মাহবুবুর রহমান বলছেন, “আগের সাথে তুলনা করলে বলা যায় প্রায় ৭৫ শতাংশ পাথর এখান থেকে তুলে নিয়ে গেছে। ২৫ শতাংশ পাথর এখন এখানে আছে, যেটা বিজিবির ক্যাম্পের সাথে লাগোয়া স্থানে আছে।”

    প্রাকৃতিকভাবে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ধলাই নদের উৎসমুখে ভেসে আসা পাথরের বিশাল স্তুপের কারণে প্রায় পাঁচ একর জায়গা জুড়ে তৈরি এ স্থানটি পর্যটন স্পট হিসেবে গত কয়েক বছরে বেশ সাড়া ফেলেছিল।

    স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে সাদা পাথর তুলে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে পরিবেশবিদ কাসমির রেজা অভিযোগ করেন, এক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকর অভিযান দেখা যাচ্ছে না।

    তবে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের দাবি প্রশাসনের পদক্ষেপ চলমান রয়েছে এবং প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চলছে।

    মি. মুরাদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ” আমাদের পদক্ষেপ চলমান আছে। আইনি যত প্রক্রিয়া করা যায় আমরা সবগুলাই করেছি। এখানে মোবাইল কোর্টসহ টাস্কফোর্সের অভিযান এবং বিভিন্ন সময় নিয়মিত মামলা পর্যন্ত দায়ের করা হয়েছে।”

    এরপরেও কেন পাথর লুট বন্ধ করা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নে মি. মুরাদ বলেন, “তারপরেও এরকম অবস্থা। গতকালকেও আমাদের অভিযান হয়েছে। আজকেও ইনফ্যাক্ট অভিযান হবে। তারপরেও কেন এরকম হচ্ছে সেটা জানার জন্য আগামীকাল একটা সভা ডেকেছি আমরা। সভা করে এ বিষয়টা আমরা বোঝার চেষ্টা করবো। সে অনুযায়ী আমরা বিকল্প বা অন্য করণীয় আছে কিনা তা নির্ধারণ করবো।”

     

  • তিন দিনের সফরে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

    তিন দিনের সফরে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন।

    সোমবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।এর আগে, দুপুর ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা।

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অধ্যাপক ইউনূস এই সফর করছেন। সফরকালে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ দেশটির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হবেন।

    এই সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, হালাল খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনটি নোট অব এক্সচেঞ্জ (চিঠিপত্র বিনিময়) হবে বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

  • সারাদেশে নাশকতার সৃষ্টির ভয়ংকর তথ্য দিল জাফরিন

    সারাদেশে নাশকতার সৃষ্টির ভয়ংকর তথ্য দিল জাফরিন

    গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে আটক সুমাইয়া জাফরিন দায় স্বীকার করে বলেছে, আওয়ামী লীগ কর্মীদের গেরিলা সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে কে.পি.আই. (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন) প্রতিষ্ঠানে হামলাসহ ঢাকা ব্লকের পরিকল্পনা করেছিল।

    মেজর সাদিক জাফরিন প্রতিটি প্রশিক্ষণেই অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে সকল প্রশিক্ষণ সমন্বয় করত সুশান্ত দাস গুপ্ত নামে একজন। জাফরিনকে জিজ্ঞাসাবাদে সারাদেশে নাশকতার ভয়ংকর তথ্য দিয়েছে।

    জাফরিন ODB-তে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। ODB-র কিছু সদস্যদের সে রেজিস্ট্রেশন করেছে, তবে সবার করেনি। তার স্বামী মেজর সাদেকুলের ODB-র সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে, তবে সাদেকুল সমন্বয়ক তা অস্বীকার করে।

    সে বলে “সুশান্ত দাস গুপ্ত” সবকিছু সমন্বয় করে এবং সবরকম নির্দেশনা দেয়। KB কনভিকশন হল, মিরপুর ডিওএইচএস, কাঁটাবন মোড়, সি সেল রিসোর্ট—তারা স্বামী-স্ত্রী উপস্থিত ছিল তা স্বীকার করেন।

    পূর্বে গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা জবানবন্দিতে বলে, মেজর এবং তার স্ত্রী সমন্বয়ক ছিল। সোহেলের সাথে পরিচয় এবং তাদের বাসায় সোহেলের যাওয়া-আসা আছে, তা স্বীকার করে। সুশান্ত দাসের সাথে তার কথা হতো, মেজরের কথা অস্বীকার করে।

    ODB-র সাজ্জাদুল আনাম, শিমুল, সোহেল রানা, ইয়ামেন—সাথে তার কথা হয়, তার বাসায়ও যায়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথা অস্বীকার করে। ট্রেনিং সেন্টারের কথা অস্বীকার করে। মেজরের হার্টের সমস্যার কারণে অসুস্থ অবস্থায় সিক লিভ নিয়ে ঢাকায় আসে এবং লিভ এক্সটেনশন করতে থাকে।

    জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেওয়া একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, মেজর সাদিক, তার স্ত্রী সুমাইয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরার কেসটাকে আমরা যতটা সহজ হিসেবে নিয়েছি, আদতে এটা অতটাও সহজ নয়। যথেষ্ট কমপ্লিকেটেড। তাদের পরিকল্পনার ব্যাপারে আমরা যতটুকু জেনেছি, আসল পরিকল্পনা তার চেয়েও ডেঞ্জারাস এবং ইফেক্টিভ।

    আওয়ামী লীগের কর্মীদের ট্রেনিং দেওয়ার ব্যাপারে মেজর সাদেকের নাম, পরিচয়, কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তাকে তো ঠিকই অ্যারেস্ট করা হয়, কিন্তু তার ওয়াইফ সুমাইয়াকে অ্যারেস্ট করার প্ল্যান কিন্তু ছিল না।

    সুমাইয়াকে যেদিন অ্যারেস্ট করা হয়, সেদিন কক্সবাজারে ১০ম পদাতিক ডিভিশন বা রামু ক্যান্টনমেন্টের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ আর্মির তিন থেকে চারজন মেজর সাদেকের স্ত্রী সুমাইয়ার সাথে একটি রেস্টুরেন্টে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মাঝে কথাবার্তা চলাকালীন সময়েই ডিসি-ডিবি (ডিভিশনাল ক্রাইম ডিটেকটিভ ব্যুরো) তার টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    ডিসি-ডিবি উপস্থিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে বলেন: “স্যার, উনাকে (সুমাইয়া) আমাদের কাছে দিতে হবে, আমাদের হাতে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আছে”; কিন্তু তিনি সুমাইয়াকে হ্যান্ডওভার করতে না চেয়ে বরং বলেন “তার সাথে আমাদের কিছু কথা আছে”।

    পরবর্তীতে ডিসি-ডিবি জোরাজুরি করলে তিনি আর্মি হেডকোয়ার্টার ডিপিএসকে (ডিরেক্টর পার্সোনাল সার্ভিসেস) কল করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বাছবিচার না করে সুমাইয়াকে ডিবির হাতে হ্যান্ডওভার করার জন্য এক্সেস দেন।

    সাদিক-সুমাইয়া-গুলশান আরার কেসটি বর্তমানে হ্যান্ডেল করছে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল/টিম। অর্থাৎ ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি, ডিবি—সমন্বয় করে কাজ করছে। এর আগে বহুদিন যাবত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল শুধুমাত্র ডিজিএফআইয়ের কন্ট্রোলে ছিল (ক্ষেত্রবিশেষে র‍্যাবেরও)।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সাদেক-সুমাইয়ারা যাদের ট্রেনিং করিয়েছেন, এরা মূলত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। তাদেরকে যে ট্রেনিংটা দেওয়া হয়েছে, এর নাম “সাব-ট্যাকটিকাল আরবান ওয়ারফেয়ার”। এটাকে আমরা অনেকে সহজভাবে গেরিলা ট্রেনিং বলেও জানি।

    তাদের প্ল্যান ছিল ঢাকা শহরের কেপিআই বা “কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন” গুলিকে টার্গেট করা; বিশেষভাবে—‘এম্বাসি’। এছাড়া কুর্মিটোলা জেনারেল হসপিটাল, সিএমএইচ, পপুলার হসপিটাল, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি।

    এধরনের হাই ভ্যালু টার্গেটের আফটার ইফেক্ট হয় অত্যন্ত মারাত্মক, আর সেসব দিক বিবেচনা করেই তারা এসব ইনফ্রাস্ট্রাকচারগুলিকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পরিকল্পনা করেছিল।

    তাদের মূল লক্ষ্য ছিল চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বরের মাঝে দেশে অ্যানার্কি বা ক্যাওস তৈরি করা। কয়েকটি এম্বাসিকে লক্ষ্যবস্তু বানানো গেলে আন্তর্জাতিকভাবেই বাংলাদেশ কোনঠাসা হয়ে পড়ত।

    পতিত ফ্যাসিস্ট রেজিমের মন্ত্রী-এমপি সহ রেজিম কর্তৃক বিভিন্নভাবে বেনিফিসিয়ারি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনগুলোর যে তদন্ত চলমান— সে কাজগুলি বাধাগ্রস্ত হতো এবং এটাকে লেন্থি বা পুরোপুরি বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই উক্ত পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

    একইসাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দিরে হামলার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

    পরিকল্পনা সফল হলে বাংলাদেশ এমনিতেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সমর্থন হারাত, আর ঠিক সেটারই অ্যাডভান্টেজ নিয়ে ফায়দা লুটত ভারত। সংখ্যালঘু নির্যাতনের কার্ডকে পুনরায় জাগ্রত করে বিভিন্ন কনসালটেন্সি এবং লবিং ফার্মকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগ করিয়ে ইন্টারিম সরকারকে রিজাইন করানো’ও ছিল তাদের পরিকল্পনার অংশবিশেষ।

    শুধু তাই নয়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভারত তাদের এয়ার অ্যাসেটস দ্বারা বাংলাদেশ সীমান্তে ২ থেকে ৩ দিনের লিমিটেড স্ট্রাইক করবে—এই তথ্যও নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এই প্ল্যান একদম সর্বোচ্চ পর্যায়ের জন্য, প্রাইমারি লেভেলে দেশের অভ্যন্তরে ক্যাওস তৈরি করাটাই ছিল তাদের লক্ষ্য।

    তবে যেহেতু উক্ত র‍্যাকেটের অন্যতম দুই মাস্টারমাইন্ড এখন বন্দি, একইসাথে ট্রেইনিংপ্রাপ্ত ৪০ জনের অধিক গ্রেফতার হয়েছে, তাই উক্ত পরিকল্পনা আপাতত ভেস্তে গেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

    গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার ওসিকে বঙ্গবন্ধু গেরিলা বাহিনী প্রধান পরিচয়ে ফোন করে হুমকি দেওয়ার পরেই আলোচনায় আছে গেরিলা বাহিনী। গত জুলাই বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে গেরিলা প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে উচ্চস্বরে স্লোগানের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জানা যায় কর্মী সমাবেশের কথা।

    পরে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, সেখানে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল সারা দেশ থেকে আসা বাছাই করা আওয়ামী লীগ কর্মীদের।

    আটক শম্পা ও সোহেল রানার জবানবন্দিতে আসে মেজর সাদিকুল হক, তার স্ত্রী ইউএন লাইব্রেরি কর্মকর্তা সুমাইয়া জাফরিন ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরার কথা। মেজর সাদিককে সেনা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার স্ত্রী সুমাইয়াকে ডিবি আটক করে টাস্ক ফোর্স গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা ও মূল মাস্টারমাইন্ড সুশান্ত দাস গুপ্তের কথা।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন: সিইসি

    ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন: সিইসি

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। শনিবার (৯ আগষ্ট) বিকেলে রংপুর সদর দপ্তরের হলরুমে বিভাগের আট জেলার প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ক মতবিনিময় শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

    সিইসি বলেন, “এবারের নির্বাচনে কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা সজাগ থাকবে। কেউ যদি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, “আজ দিনব্যাপী রংপুরের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেছি। তারাও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।”

    এক দিনের সফরে রংপুরে এসে শনিবার সকালে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব কর্মকর্তার সঙ্গেও মতবিনিময় করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সেখানে বিগত সময়ের নির্বাচনগুলো দেখে বর্তমান নির্বাচন সিস্টেমের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, তাই মানুষকে কেন্দ্র নিয়ে আসাই একটা বড় চ‍্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।একই সাথে নির্বাচনের আগেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

    এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল, আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা।

    এর আগে আজ সকালে রংপুরে সংবাদ সম্মেলনে সিইসি বলেছিলেন, “‍বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো, আরো উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আমরা চাই যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্ভয়ে মানুষ পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারেন।মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাওয়া ভুলে গেছে।

    তাদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াই নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জ। এজন্য সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।আর এই সচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা রয়েছে। আমরা সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চাই, পরামর্শ চাই।”

  • ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসিকে চিঠি

    ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসিকে চিঠি

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি পাঠিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এই চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইসিকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হলো।

    আজ বুধবার (৬ আগস্ট) প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর প্রেরিত এক পত্রে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া উল্লিখিত সময়ে প্রত্যাশিত মানের অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ করেন।

    উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরুর আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসিকে চিঠি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ এই চিঠি পাঠালো প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

    সবশেষে, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার ভিত্তিতে উল্লেখিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়ো-জনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব।