Category: জাতীয়

  • জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, পাবে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি

    জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, পাবে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    শেখ হাসিনার পতনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কার করা সংবিধানের তফসিলে এ জুলাই ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

    ”জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো”।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে।

    ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসঙ্গত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধা-নিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

    জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ (বিটিভি) বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশন করা হয়। এছাড়া শহীদদের স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

     

  • আজ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা

    আজ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ মঙ্গলবার জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন। বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আজ ‘৩৬ জুলাই উদযাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ১১টায়। নানা অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় বিকেল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে।

    অনুষ্ঠানে সর্বশেষ আয়োজন হিসেবে রাত ৮টায় থাকছে আর্টসেল-এর গান। অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ব্যবস্থাপনায় থাকছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একা-ডেমি। আর সহযোগিতায় থাকছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

  • ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাই চেতনার বাস্তবায়ন করতে হবে

    ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাই চেতনার বাস্তবায়ন করতে হবে

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ‘‘একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ফ্যাসি-বাদের মূলোৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।’’তিনি বলেন, ‘‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল— দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ সব ধরনের অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

    এই বৈষম্যমূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতা-য়ন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য।’’ সোমবার (৪ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। খবর ইউএনবির।

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘‘আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সকল শহীদকে, যারা দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

    এই গণ–অভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণ করা ও দৃষ্টিশক্তি হারানো সকল বীর জুলাই যোদ্ধার ত্যাগ ও অবদানকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।

    ’’জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।’’

    ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে নেওয়া সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।

  • তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক: তারেক রহমান

    তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক: তারেক রহমান

    তরুণদের যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।’

    রোববার (০৩ আগস্ট) দুপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি। এই সমাবেশে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছেন তারেক রহমান।

    দেশে প্রচলিত রাজনীতির পরিবর্তন দরকার জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কথা বলার রাজনীতি নয়, মানুষের জীবন মান উন্নয়নের রাজনীতি করতে চায় বিএনপি।

    ক্যাম্পাসে নিজেদের অধিকার নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বোচ্চার থাকা উচিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে পতিত স্বৈরাচার।দেশের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নবীন এবং প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায় বিএনপি।

    এর আগে সমাবেশের সূচনা বক্তব্যে ছাত্রদলকে রুখে দেয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশে কারও নেই বলে মন্তব্য করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, ছাত্রদল চাইলে সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে পারে। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যদি নির্দেশনা দেন, নেতা কর্মীরা সারা দেশ অবরোধ করে দিতে পারে।

  • ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করলো এনসিপি !

    ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করলো এনসিপি !

    ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।রবিবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ইশতেহারে ২৪টি দফা তুলে ধরেছে দলটি।

    এনসিপির ঘোষণাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক তৈরি করা, পরিবতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী শাসনতন্ত্র বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করা, রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ ও জুলাই অভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তির বিচার নিশ্চিত করা।

    ইশতেহারে গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, আইনের সংস্কার ও ন্যয়ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দেশের প্রশাসনের ক্ষেত্রে সেবামুখী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন ও সেবামুখী প্রশাসন নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে নাহিদ ইসলাম।

    এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির ইশতেহারে অন্যান্য বিষয়গুলো হলো গ্রাম পার্লামেন্ট ও স্থানীয় সরকার; স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ; সার্বজনীন স্বাস্থ্য, জাতি গঠনে শিক্ষানীতি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব, ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিগত মর্যাদা; নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন; ইনসাফভিত্তিক অর্থনীতি; তারুণ্য ও কর্মসংস্থান; বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি; টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব; শ্রমিক-কৃষকের অধিকার; জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা; নগরায়ন, পরিবহন ও আবাসন পরিকল্পনা; জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা; প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার; বাংলাদেশপন্থি পররাষ্ট্রমন্ত্রী; জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল প্রভৃতি বিষয় নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

    এর আগে সমাবেশ উপলক্ষে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন। ‘জুলাই আন্দোলনের’ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দলটি বিচার প্রতিষ্ঠা, কাঠামোগত সংস্কার এবং একটি নবতর রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেছে।

    হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিশ্লেষকের পাশাপাশি শিক্ষার্থী এবং প্রথমবারের মতো ভোটার হতে যাওয়া বিপুলসংখ্যক তরুণ সমাবেশে অংশ নেন। এতে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা প্রতিফলিত হয়।

    দলীয় নেতারা বলেন, বিচার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’-কে জনগণকেন্দ্রিক একটি রোডম্যাপ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়। অনুষ্ঠানের প্রতীকী মঞ্চে লেখা ছিল-‘বিচার। সংস্কার। ভবিষ্যৎ।’

    সমাবেশে গত বছরের দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ছাত্র ও তরুণ-দের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘জুলাই আন্দোলনে’ নিহতদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু।

    ‘নতুন বাংলাদেশ ঘোষণা’ শিরোনামে ৪৮ পৃষ্ঠার একটি নীতিপত্র ডিজিটাল ও মুদ্রিত-উভয় মাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ছয়টি মূল স্তম্ভের ভিত্তিতে এনসিপির নীতিগত অঙ্গীকার ও দিক-নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির ৩ নেতা বহিষ্কার

    টাঙ্গাইলে চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির ৩ নেতা বহিষ্কার

    টাঙ্গাইলে এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির ঘটনায় শহর বিএনপির তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন নেতাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

    বহিষ্কৃত নেতারা হলেন শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি গোলাম রাব্বানী এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মিয়া।

    এর আগে, চাঁদা দাবির ঘটনায় পুলিশ বিএনপির এই তিন নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগে বলা হয়, তারা কিলার গ্যাংয়ের নামে চিঠি দিয়ে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার সন্তোষের মাছ ব্যবসায়ী মো. আজাহারুল ইসলামের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

    ব্যবসায়ীর দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে তার এক কর্মচারীর হাতে চিঠিটি তুলে দেন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। পরদিন সকালে সেই চিঠি তার হাতে পৌঁছায়। এতে বলা হয়, চিঠির কথা যদি কাউকে বলিস বা আইনি প্রক্রিয়ায় যাস, তাহলে তোকে এমনভাবে মেরে ফেলা হবে যে, তোর লাশ খুঁজে পাবে না।

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মাছ ব্যবসা করছিস। তোর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নাই। তাই ৫ লাখ টাকা তোর কাছে কিছু না। আগামী ৩ আগস্ট, রবিবার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কাগমারী এলাকায় মাহমুদুল হাসানের বাসার সামনে ‘ফরহাদের ছবি লাগানো’ একটি গাছের নিচে টাকা রেখে যাবি।

    ঘটনার পর চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের দলে স্থান নেই। যারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রাজধানীতে তিন সমাবেশ ও পরীক্ষা ঘিরে প্রস্তুত ডিএমপি

    রাজধানীতে তিন সমাবেশ ও পরীক্ষা ঘিরে প্রস্তুত ডিএমপি

    রাজধানীতে একইদিনে বড় সমাবেশ ডেকেছে ছাত্রদল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্র শিবির। এই তিন সমাবেশ ঘিরে নগরীর শাহবাগ, শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রচুর জনসমাগম ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    পাশাপাশি একইদিনে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা (এইচএসসি) ও বিসিএস পরীক্ষাও রয়েছে। ফলে তিনটি বড় ছাত্র সংগঠনের সমাবেশ ও পরীক্ষা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

    রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ করবে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল।

    এদিন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের’ দাবিতে জনসমাবেশ করবে এনসিপি।

    বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-২০২৪’ শীর্ষক স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার পুরস্কার দেওয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছাত্রশিবির। এ ছাড়া সাইমুম শিল্পগোষ্ঠীর উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১-৪ আগস্ট প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ‘৩৬ জুলাই কালচারাল ফেস্ট-জুলাই জাগরণ’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, বড় এই তিন সংগঠনের সমাবেশ ঘিরে রাজধানীর শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় ব্যাপক লোক সমাগম ঘটবে। ফলে এসব এলাকায় স্বাভাবিক যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে।

    এসব সমাবেশের পাশাপাশি ওইদিন এইচএসসি ও বিসিএস পরীক্ষাও রয়েছে। ফলে সকাল থেকেই রাজধানীজুড়ে ব্যাপক যানজটেরও সৃষ্টি হতে পারে।

    তবে এসব সমাবেশ ও পরীক্ষা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ডিএমপি। নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি এসব অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সদস্যরা। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন তারা। পাশাপাশি শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী ও শহীদ মিনার এলাকায় যান চলাচলও নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

    শনিবার (২ আগস্ট) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, নিয়মিত যেসব পুলিশ সদস্য ওইসব এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন তারা তো থাকবেনই। সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডাইভারশনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

  • জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হতে হবে: নাহিদ

    জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হতে হবে: নাহিদ

    জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই সংবিধানের প্রস্তাবনা ও তফশিলে উল্লেখ করে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে।

    জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। আমরা নির্বাচিত সংসদের হাতে এই সংস্কার কার্যক্রম ছেড়ে দেব না, বরং জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামী সংসদ গঠিত হবে, গণপরিষদ গঠিত হবে। এবং অর্ন্তর্বতী সরকারের আমলেই এই সনদ কার্যকর করতে হবে।

    শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘জুলাই পদযাত্রায় আমরা গণহত্যার বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়েছিলাম। পাশাপাশি আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদের কথা বলেছিলাম। পাশাপাশি আমাদের দাবি ছিল, ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদের বিষয়টিও যেন সুরাহা হয়।

    ’’আগামী ৫ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, জুলাই ঘোষণাপত্রটি সরকার আগামী ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সব পক্ষ এবং রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ঘোষণা করতে যাচ্ছে।

    যদিও ঐক্যমত্য কমিশন এখনো জানায়নি ‘নোট অব ডিসেন্টে’র বিষয়গুলোর সমাধান কী হবে।’’গত বছর ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকার পতন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের দাবিতে এক দফা ঘোষণা করা হয়েছিল।

    আগামীকাল রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের মাধ্যমে জুলাই পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে। এই সমাবেশ থেকে নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঠ করা হবে। সেখানে এনসিপির পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

    উল্লেখ্য আগামীকাল বিকেল ৪টায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে আজ শনিবার দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে জানানো হয়। পোস্টে এনসিপির নেতাকর্মীসহ সারাদেশের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, এই এক বছরে তার পূর্ণতা আমরা লক্ষ্য করিনি। জুলাই সনদের মধ্য দিয়ে সেই আকাঙ্ক্ষাটা আংশিক পূরণ হবে। দেশের একটা গণতান্ত্রিক সংস্কার হচ্ছে।

    কিন্তু অর্থনৈতিক সংস্কার, কর্মসংস্থান এবং মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনের বিষয় গুলো নিয়ে এত অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে এনসিপির জন্ম।’’

  • পঞ্চগড়ের দুই সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশইন !

    পঞ্চগড়ের দুই সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশইন !

    পঞ্চগড়ের সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলার দুটি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১৭ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০ জনকে পঞ্চগড় থানায় এবং ৭ জনকে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।

    আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া এবং তেতুঁলিয়া উপজেলার ভজনপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইন করা হয়।

    এদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী রয়েছেন। তারা বাংলাদেশের যশোর, নওগাঁ, সিলেট, খাগড়াছড়ি, বরিশাল, কক্সবাজার, গোপালগঞ্জ ও নরসিংদীর বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

    বিজিবি জানায়, সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৫-এর ২ নম্বর সাব-পিলার এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর সীমান্তের পিলার ৭৩৯/২০-আর এলাকা দিয়ে এসব ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

    এরা সবাই বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ভারতে কাজ-কর্মে নিয়োজিত ছিল। সম্প্রতি ভারতীয় পুলিশ তাদের উড়িষ্যা, মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করে। পরে বিমানযোগে বাঘডোকরা বিমানবন্দর হয়ে শিলিগুড়ি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের সীমান্তে দিয়ে বাংলাদেশে পাঠায়।

    ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মনির বলেন, ভজনপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইন হওয়া ৭ জনকে আটক করে জিডি মূলে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর কাজী আসিফ আহমদ বলেন, আমাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বিএসএফ। আমরা তাদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছি।

    পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান জানান, বিজিবি সদস্যরা ১০ জনকে জিডির ভিত্তিতে থানায় হস্তান্তর করেছেন। তাদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে।

  • কোনো দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা নজর নেই : সেনা সদর

    কোনো দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা নজর নেই : সেনা সদর

    বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা নজর নেই। গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের জীবননাশের হুমকি থাকায় তাদের সহযোগিতা করেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’-তে আয়ো-জিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

    এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ হাজার ৫৭৬ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছি। চাঁদাবাজ বা অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব আইনশৃঙ্খলা এজেন্সিগুলোর সর্বাগ্রে দায়িত্ব পালন করার কথা, তারা যদি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে আরও কমে আসবে বলে আশা করি। সাথে সাথে আমাদের যে আভিযানিক দায়িত্ব আছে আমরা সেটা সর্বদা পালন করছি।

    আমরা সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে চাঁদাবাজির মতো অপরাধ কমে আসবে বলে বিশ্বাস করি। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করার পর আমাদের আর কিছু করার থাকে না।

    পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের সংঘাতকে সেনাবাহিনী কীভাবে দেখছে— প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন দুষ্কৃতকারীরা এইটা করে থাকে। আমাদের কার্যক্রম ও অভিযান জারি রেখেছি।

    ভবিষ্যতেও আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে। বান্দরবানের আর্মি ক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়া, কুকি চিন, আরাকান আর্মি ও বান্দরবানে অস্ত্র কেনা-বেচা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রটেকশন দিয়ে যাচ্ছে এবং ভালোভাবে দিয়ে যাচ্ছে। আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

    আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে যদি আমাদের ক্যাম্পের প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা টেম্পরারি অপারেটিং বেইস করে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমেও খবর এসেছে সেনাবাহিনীর মেজর সাদিক আওয়ামী লীগের লোকজনকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে— এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেজর সাদিকের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারব।

    এনসিপি যখন ঝামেলায় পড়েছে তখন সেনাবাহিনী প্রটেকশন দিয়েছে, আবার এখন শোনা যাচ্ছে সেনাবাহিনী তাদের আর প্রটেকশন দেবে না— এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে কখনো সহায়তা করিনি। আমাদের দায়িত্বের মধ্যে কাউকে বিশেষভাবে দেখি না।

    গোপালগঞ্জে যেটা হয়েছে ওইখানে ওই রাজনৈতিক দলের অনেকের জীবননাশের হুমকি ছিল। তাদের জীবন বাঁচানোর জন্যই সেনাবাহিনী সহযোগিতা করেছে। এখানে জীবন বাঁচানোই মূল লক্ষ্য ছিলো অন্য কিছু না।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কোথায় সমাবেশ করবে, এটা ক্লিয়ারেন্স দিতে হবে স্থানীয় প্রশাসন থেকে। আমাদের কাছে এসব বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। গোপালগঞ্জে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছিল।

    শুধুমাত্র ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়নি, ককটেলও নিক্ষেপ করা হয়েছে। যখন সেখানে জীবননাশের হুমকি ছিল তখন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বল প্রয়োগ করে। এখানে প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়নি।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেছেন, গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী গুলি করেছে— এই বিষয়ে অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে কী হয়েছিল সেটার সত্যতা উদ-ঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করি এই কমিটি সত্য এবং সঠিক ঘটনা উন্মোচন করতে পারবে।

    বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি কি সেনাবাহিনীর দুর্বলতা আছে— এমন প্রশ্নের জবাবের কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশেষ কোনো দলের প্রতি আলাদা নজর নেই। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কাছে সবাই সমান। যেখানে জনদুর্ভোগ ও জীবননাশের হুমকি থাকে, সেখানে আমরা কঠোর হই বা জনসাধারণকে সহযোগিতা করি। গোপালগঞ্জে যদি আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করতাম তাহলে সেখানে অনেক হতাহত বা জীবননাশের ঘটনা ঘটতে পারত।