Category: জাতীয়

  • ফ্যাসিবাদ যেন পুনর্বাসনের সুযোগ না পায়-তারেক রহমান

    ফ্যাসিবাদ যেন পুনর্বাসনের সুযোগ না পায়-তারেক রহমান

    ফ্যাসিবাদ যেন পুনর্বাসনের সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৯ জুলাই) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই আন্দোলনে শহীদ ছাত্রদের স্মরণে ছাত্রদলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এই সভার আয়োজন করে।

    তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কোনো আবেগতাড়িত ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো চরমপন্থা বা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারে দেশবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো একটি অংশের সহায়তায় কেউ কেউ দেশে উদ্দেশ্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে কি না- এ বিষয়ে জনমনে জিজ্ঞাসা রয়েছে। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কিনা, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে গেলে দেশে এমন এক নির্বাচনী ব্যবস্থা থাকা জরুরি, যেখানে প্রতিটি ভোটার নির্ভয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। দেশে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা না গেলে আমাদের কোনো আয়োজনই কিন্তু কাজে আসবে না, টেকসই হবে না।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরও স্বচ্ছ ও সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী জনগণ আপনাদের (সরকার) পাশে থাকবে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের পাশে থাকবে, যদি আপনাদের ভূমিকা আরও স্বচ্ছ এবং সাহসী হয়।

    তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪ সালের শহিদরাও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গণঅভ্যুত্থানে শহিদরা জাতির গৌরব। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মধ্য দিয়েই তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব। আর তা শুরু হবে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।

    স্মরণসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

  • নতুন ব্যবস্থাপনায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে-ডা. শফিকুর রহমান

    নতুন ব্যবস্থাপনায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে-ডা. শফিকুর রহমান

    চব্বিশে জীবন বাজি রে‌খে যা‌দের ত‌্যা‌গের বি‌নিম‌য়ে ফ‌্যা‌সিবা‌দের পতন এবং দেশ ও জা‌তির মু‌ক্তি হ‌য়ে‌ছে অহঙ্কার করে তা‌দের তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল না করতে রাজ‌নৈ‌তিক দ‌লের প্রতি আহ্বান জা‌নি‌য়ে‌ছেন বাংলা‌দেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তি‌নি ব‌লেন, “আবু সাইদরা য‌দি বুক পেতে না দাঁড়াতো, এ জাতির মুক্তির জন্য যদি বুকে গুলি লুফে না নিতো হয়তো এই বাংলাদেশ আর দেখতাম না। ইতিমধ্যে আরো জীবন হয়তো ফ্যাসিবাদিদের হাতে চলে যেতো।”

    শ‌ফিকুর রহমান ব‌লেন, “চব্বিশে জীবন বাজি রাখা যুদ্ধ যদি না হতো, তাহলে আজকে যারা বিভিন্ন দাবি দাওয়া পেশ করছেন, তারা তখন কোথায় থাকতেন। তাই আসুন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই নেয়ামত পে‌য়ে‌ছি, তাদের যেন অবজ্ঞা না করি। অবহেলা না করি। শিশু বলে যেনো তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল না করি। অহঙ্কার করে যাতে অন্য দলকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল না করি। অরাজনৈতিক ভাষায় কথা না বলি। এগুলো যদি আমরা পরিহার করতে না পারি।

    কিংবা যারা প‌রিহার কর‌তে পারবেন না তাদের বুঝতে হবে, ফ্যাবিবাদের রুপ তাদের মধ্যে নতুন করে বাসা বেঁধেছে।“আমরা আশা করব, আমরা কেউ এগুলো করব না।

    রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার রক্ষা করে জাতীয় ঐক্যের বীজ এক সাথে রোপন কর‌বে,” ব‌লেন তি‌নি। চব্বিশের লড়াই‌য়ে শহীদ হ‌তে না পারায় আফ‌সোস ক‌রে জামায়া‌তের আমির ব‌লেন, “আমি অভিজাত শ্রেণির হয়ে কথা বলতে আসিনি। আজীবন সকল রক্তচক্ষুতে উপেক্ষা করেছি। জেল জুলুম পরোয়া করি নাই। আফসোস, ২৪ সালে জাতিকে মুক্তি দিতে গিয়ে যারা জীবন দিয়ে শহীদ হয়ে গেলো আমি তাদের একজন হতে পারলাম না।”“দোয়া চাই।

    ইনসাফের ভিত্তিতে একটি দেশ গড়ে তোলার জন্য আগামীতে যে লড়াই হবে সেই লড়াইয়ে আল্লাহ আমাকে একজন শহীদ হিসাবে কবুল করেন, আল্লাহর কা‌ছে এমন প্রার্থনা ক‌রেন,” জামায়াত আমির।

    শিশু, তরুণ-যুবক‌দের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যুবকদের আমরা বলতে চাই, তোমাদের সাথে আমরা আছি। আজ জামায়াতের আমির হিসাবে কথা বলতে আসিনি। আমি এসেছিতো ১৮ কোটি মানুষের একজন হয়ে কথা বলতে এসেছি। আমি শিশুদের বন্ধু, ‍যুবকদের ভাই। বয়স্কদের সহযোদ্ধা। বোনদের ভাই। তাদের মুক্তির জন্য দায়িত্ব নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছিলাম।”

    “আমি বলতে চাই, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মুক্তির জন্য আমাদের লড়াই নয়। রাস্তার একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, চা বাগানের একজন শ্রমিক, রক্ত পানি ঘাম ঝড়ানো রিকশাচালক ভাই। মাঠে ময়দানে মুখে একমুটো ভাত তুলে দিতে চায় সেই কৃষক ভাই। তাদের হয়ে কথা বলতে এসেছি।”

    “আল্লাহ যতক্ষণ হায়াত দিয়েছেন ততক্ষণ কথা বলব। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে,” ব‌লে ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।

    “সব গণ-হত্যার বিচার দা‌বি ক‌রে শ‌ফিকুর রহমান ব‌লেন, “পল্টন গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, সারা দেশের গণহত্যা, পিালখানার গণহত্যা, ২৪ এর গণহত্যা–এই সকল গণহত্যার বিচার বাংলার মাটিতে নিশ্চিত করতে হবে। এদের বিচারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত পুরনো ব্যবস্থাপত্রে এই বাংলাদেশ আর চলবে না।”

    তি‌নি ব‌লেন, “এতগুলো মানুষে এমনি এমনি জীবন দেয়নি। জীবন দিয়েছেন জাতির মুক্তির জন্য।যারা বস্তাপচা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে আবার গড়তে চান তাদেরকে আমরা বলি জুলাইয়ে যুদ্ধ করে যারা জীবন দিয়েছে শক্তি থাকলে তাদের জীবন ফেরত এনে দেন। পারবেন না। কাজেই নতুন ব্যবস্থাপনায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।”

    “মা, শিশু-কিশোর, যুবক, বোন, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা, ব্যবসায়ী সবাইকে যে দেশ যে সংবিধান যে রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে পারবে সেই নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই,” ব‌লেন জামায়াত আমির।

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে, দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, গণ-অধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক নুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, নেজামে ইসলামের মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, শহীদ পরিবারের সদস্য, কয়েকজন পঙ্গু জুলাই যোদ্ধা।

  • মানিকগঞ্জে পথসভায় নাহিদ ইসলাম ` আমরা দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়েছি’

    মানিকগঞ্জে পথসভায় নাহিদ ইসলাম ` আমরা দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়েছি’

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জে যারা আক্রমণ করেছে, তারা জানে না যে এই আক্রমণ আমাদের আরও দ্বিগুণ শক্তিশালী করেছে। এর প্রমাণ আমরা ফরিদপুরে দিয়েছি, রাজবাড়ী দিয়েছি, এই মানিকগঞ্জে দিচ্ছি।’

    বৃহস্পতিবার রাতে মানিকগঞ্জে আয়োজিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের ভাষাশহীদ রফিক চত্বরে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।

    নির্বাচনমুখী একটি দলের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা কেন গোপালগঞ্জে গেলাম তা নিয়ে তারা প্রশ্ন করেছেন। আওয়ামী লীগ যদি মাথা উঁচু করার চেষ্টা করে, বিপ্লবী ছাত্র-জনতা আবার তাদের পরাস্ত করবে।

    আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি গোপালগঞ্জের প্রতিটি গ্রামে প্রোগ্রাম করব ইনশা আল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক আগেই জানিয়েছিলাম, গোপালগঞ্জে প্রোগ্রাম করব। কিন্তু সরকার যথাযথ ব্যবস্থা না করার করণেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা করেছে।’

    রাজনৈতিক দল গঠনের কারণ সম্পর্কে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা নতুন বন্দোবস্তের কথা বলেছিলাম। আমরা এখনো সেটাই বলছি। গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের সঙ্গে হয়তো অনেকেই ছিল, অনেক অংশীদার ছিল; কিন্তু সবার স্বার্থ এক ছিল না। শেখ হাসিনা পতনে সবাই এক ছিল।

    কিন্তু নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাই এক ছিল না। অনেকেই চেয়েছিল পুরোনো রাষ্ট্র, পুরো-নো সিস্টেমে ক্ষমতায় যাবে। আমরা সেটা বিরোধিতা করেছিলাম। ফলে আমাদের নতুন রাজনৈতিক দল করতে হয়েছে।’

    নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা থাকবে না। জাতীয় সংসদ দুই কক্ষবিশিষ্ট করতে হবে। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হবে।

    এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষ, ছাত্র-আলেমদের ওপর নির্যাতন করেছে। শুধু ইসলাম পালনের কারণে জুলুম করা হয়েছে।

    সনাতন ধর্মের ভাইদের বলব, আপনারা কোনো বিশেষ দলের সম্পদ নন, আপনারা বাংলাদেশের জনগণ। সমান অধিকার ভোগ করেন। আওয়ামী লীগই হিন্দুদের জমি দখল করেছে।’

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির ফাঁকা গুলি ॥ ১০ মহিষ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির ফাঁকা গুলি ॥ ১০ মহিষ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখের আলী সীমান্তে চোরাকারবারীদের ধরতে গিয়ে দুই রাইন্ড ফাঁকা গুলি করেছে ৫৩ বিজিবি সদস্যরা। এ সময় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে সেখান থেকে ১০টি মহিষ জব্দ করা হয়।

    মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ৫৩ বিজিবি অধিনায়ক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে সদর উপজেলার বাখের আলী সীমান্তের পদ্মা নদীর আলিমের ঘাটে অভিযান চালায় বিজিবি সদস্যরা। এ সময় সেখানে সংঘবদ্ধ চোরা-কারবারিদের দেখতে পায়।

    চোরাকারবারীরা অত্যন্ত সংঘবদ্ধ অবস্থায় থাকায় বিজিবি সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। গুলির শব্দে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে ১০ টি মহিষ জব্দ করা হয়। সেগুলো ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা হয়েছিল।

    বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চোরকারবারীদের বেশি দূর ধাওয়া করতে পারেনি বিজিবি সদস্যরা। ফলে তাদের কাউকে আটক করা যায়নি। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  • গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত-৪

    গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত-৪

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গোপালগঞ্জ শহর। এনসিপির নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশ, সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ৪ জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তারা গুলিবিদ্ধ ছিলেন। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শেখ মো. নাবিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নিহতরা হলেন- জেলা শহরের উদয়ন রোডের সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (২৫), শহরের থানাপাড়ার কামরুল কাজীর ছেলে রমজান কাজী (২৪), সদর উপজেলার আড়পাড়া এলাকার আজাদ তালুকদারের ছেলে ইমন তালুকদার (১৮) ও টুঙ্গীপাড়ার সোহেল মোল্লা (৪১)।

    জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘‘গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় কারফিউ ও অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’’

    এর আগে, দুপুরের পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির পদযাত্রা ও সমাবেশে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

  • গোপালগঞ্জ হতে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের উপর হামলা

    গোপালগঞ্জ হতে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের উপর হামলা

    গোপালগঞ্জ সভা শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটার পরে শহরের লঞ্চ ঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

    জানা গেছে, এনসিপি নেতারা গোপালগঞ্জে সমাবেশ শেষ করে টেকেরহাট হয়ে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। হামলার মুখে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। এ ঘটনার পর এনসিপির নেতারা গোপালগঞ্জ সার্কিট হাউজে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    এ আগে দুপুর ২টার পর পৌর পার্কের উন্মুক্ত মঞ্চে এনসিপির সভা শুরু হয়। তবে সভা শুরুর আগে দুপুর ১টা ৩৫ মনিটের দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় আয়োজিত সমাবেশের মঞ্চে এক দফা হামলার ঘটনা ঘটে।

    সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি আজ কে বাধা দেওয়া না হতো তাহলে গোপালগঞ্জের সাধারণ জনতা এখানে লোকে লোকারণ্য হতো। আমরা এখানে গোপালগঞ্জের নাম বদলাতে আসিনি। আমরা এসেছি শান্তি এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

    তিনি বলেন, আপনারা যারা দূর থেকে শুনছেন, আমরা আজকে গোপালগঞ্জ এসেছিলাম দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে। আমরা এসেছি ভবিষ্যত বাংলাদেশে,  গোপালগঞ্জবাসীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।

     

  • পুলিশ প্রশাসন চাঁদাবাজদের ভয় পায়-নাহিদ

    পুলিশ প্রশাসন চাঁদাবাজদের ভয় পায়-নাহিদ

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ আজ শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বাগেরহাটে পৌঁছেছে। সেখানে সদর উপজেলায় রেলরোডে জনসমাবেশে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘‘পুলিশ প্রশাসন এখনো চাঁদাবাজদের ভয় করে চলছে।’’

    শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে করা গণ-অভ‍্যুত্থানের ইতিহাস টেনে নাহিদ বলেন, ‘‘আমরা কথা বলি পুরনো বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে, বলি পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপক্ষে। যারা পুরনো বন্দোবস্ত, চাঁদাবাজির সংস্কৃতি, মাফিয়ার রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখছে, আপনাদের তার বিপক্ষে দাঁড়াতে হতে হবে।’’

    নিজেদের রাজনৈতিক দল তৈরির প্রেক্ষাপটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আমরা চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিপক্ষে আন্দোলন করেছিলাম। তবে বিগত এক বছরে সেই পরিবর্তন আসেনি। চাঁদাবাজরা এখনো রয়ে গেছে।

    সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘পুলিশ প্রশাসন মনে হচ্ছে, চাঁদাবাজদের ভয় পেয়ে তারা কাজ করে। দখলদারদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অ‍্যাকশন আমরা দেখি না।

    পুলিশ প্রশাসনকে জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। যদি তারা দলবাজ প্রশাসনের মতো আচরণ করেন, তাহলে তাদের পরিণতিও ফ‍্যাসিস্ট আমলের দলবাজ পুলিশ প্রশাসনের মতো হবে।’’

     

  • চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস থেকে দেশকে মুক্তি দিতে চাই-নাহিদ

    চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস থেকে দেশকে মুক্তি দিতে চাই-নাহিদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল নতুন দেশ গড়ার জন্য, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য। তরুণরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশ গড়ার আহ্বান নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তার মাত্র এক বছর জুলাই শহীদ ও আহতদের আমরা সম্মান দেখাতে পারিনি। আমাদের স্বপ্ন ছিল দলমত নির্বিশেষে নতুন করে দেশ গড়বো। কিন্তু আমরা আস্থা রাখতে পারিনি।

    অনেকেই এখন গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকার করতে চায় না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছি। দেশে নতুন করে আর যেন কোন স্বৈরাচারের জন্ম না হয়। আমরা চাই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আমাদের ছেলেরা চাকরি পাবে। দেশে কোন অন্যায়, দুর্নীতি থাকবে না। আমরা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস থেকে দেশকে মুক্তি দিতে চাই।

    দেশ গড়তে ‘জুলাই পদযাত্রা’র দশম দিন বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল চত্বরের উন্মুক্ত মঞ্চে এনসিপি নড়াইল জেলা শাখার আয়োজনে এক সভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

    তিনি আরো বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার বিচার এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে মাঠে নেমেছি। তা আদায় করতে হবে। এর জন্য আমাদের প্রয়োজন জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই সনদ।

    এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা শুনেছি নির্বাচন কমিশনরা দিনের ভোট রাতে করেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে সাক্ষী রেখে ভোট কেটেছে। সেই নির্বাচন কমিশনার হুদার অবস্থা কী তা আপনারা জানেন। জুতার মালা গলায় নিয়ে কারাগারে গিয়েছে।

    আমরা শুনছি শাপলা প্রতীক আমাদের দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন মিটিং করার আগেই কীভাবে এই খবর প্রচার হলো? ধিক্কার জানাই নির্বাচন কমিশনকে। আপনাদের রিমোট কন্ট্রোল কাদের হাতে তা আমরা জানি।

    সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, খুলনাঞ্চলের অঞ্চল পরিচালক মোল্যা রহমতউল্লাহ, অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী, মাহবুবা সুলতানা রিমি। এ সময় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, জাতীয় নাগরিক পার্টি নড়াইল জেলার প্রধান সমন্বয়ক মোঃ শরিফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ১৮ বিচারককে বাধ্যতামূলক অবসর

    ১৮ বিচারককে বাধ্যতামূলক অবসর

    ১৮ বিচারককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ ক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের এ সদস্যদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বৎসর পূর্ণ হওয়ায় তাদের অবসর দিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    জনস্বার্থে তাদেরকে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ৪৫ ধারার বিধান মতে চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। এ বিচারকরা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সুবিধাদি পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। অবসরে পাঠানো বিচারকদের মধ্যে ১৫ জন জেলা জজ, দুজন অতিরিক্ত জেলা জজ ও একজন যুগ্ম জেলা জজ রয়েছেন।

    বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো বিচারকদের মধ্যে রয়েছেন- আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) বিকাশ কুমার সাহা, রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) শেখ মফিজুর রহমান, কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মাহবুবার রহমান সরকার, কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) শেখ গোলাম মাহবুব, গাইবান্ধার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মজিবুর রহমান, ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. এহসানুল হক, খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. জুয়েল রানা, সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মনির কামাল, পটুয়াখালীর বিশেষ জজ (জেলা জজ) সহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরের বিশেষ জজ (জেলা জজ) আল মাহমুদ ফয়জুল কবীর।

    এছাড়া টাঙ্গাইলের জেলা জজ মো. নাজিমুদ্দৌলা, ঠাকুরগাঁয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) এ কে এম মোজাম্মেল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক (জেলা জজ) ফজলে এলাহী ভূইয়া, আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা জজ) আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান, বরিশালের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সদস্য (জেলা জজ) মো. রুস্তম আলী, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা জজ) মো. নুরুল ইসলাম, পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম এনামুল করিম এবং আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ হোসেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

  • জুলাই গণহত্যার দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হলেন সাবেক আইজিপি মামুন

    জুলাই গণহত্যার দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হলেন সাবেক আইজিপি মামুন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেছেন, আমি জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    এই আদেশের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো। এর আগে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।

    মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

    আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    অপরদিকে, গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা তৃতীয় আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ শুনানি করেন।

    গত ১ জুলাই এই মামলার অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত শুনানি শেষ করে ট্রাইব্যুনাল। সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বক্তব্য দেন। এরপর আদালত ৭ জুলাই আদেশের জন্য ১০ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করে।

    অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

    ১ জুন এই পাঁচটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

    এরপর ১৬ জুন আদালত এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন। ১৭ জুন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা আদালতে হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৪ জুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

    মামলায় অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত শুনানিতে প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার ও মিজানুল ইসলামও অংশ নেন। তাদের মাধ্যমে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে পড়ে শোনানো হয়। এ সময় আদালত গণমাধ্যমে শুনানির বিষয়টি সম্প্রচারের অনুমতি দেয়।

    এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে তৎকালীন সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা ছিল অমানবিক ও পরিকল্পিত।

    তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর দমনপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, অভিযুক্তরা এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্দেশদাতা, পরিকল্পনাকারী এবং প্রত্যক্ষভাবে দায়ী।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই মামলাটি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবতাবিরোধী অপরাধবিষয়ক বিচারিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।