Category: জাতীয়

  • জাপানের ১.০৬৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা প্রদান

    জাপানের ১.০৬৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা প্রদান

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

    বৈঠকে জাপান ও বাংলাদেশ চুক্তি বিনিময় করেছে, যার আওতায় টোকিও ঢাকাকে বাজেট সহায়তা রেলপথের উন্নয়ন এবং অনুদান হিসেবে ১.০৬৩ বিলিয়ন ডলার দেবে।

    শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    সেখানে বলা হয়, মোট ৪১৮ মিলিয়ন ডলার জাপান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার জন্য উন্নয়ন নীতি ঋণ হিসেবে দেবে।

    টোকিও জয়দেবপুর-ঈশ্বরদীকে ডুয়েল-গেজ ডাবল রেলপথে উন্নীত করার জন্য ৬৪১ মিলিয়ন ডলার এবং বৃত্তির জন্য অনুদান হিসেবে আরও ৪.২ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে।

  • ৪ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে ১৬ জেলা

    ৪ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে ১৬ জেলা

    অমাবস্যা ও গভীর নিম্নচাপের কারণে দেশের ১৬ জেলায় জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ২ থেকে ৪ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

    এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না-দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে এবং ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

  • বাংলাদেশ থেকে এক লাখ শ্রমিক নেবে জাপান

    বাংলাদেশ থেকে এক লাখ শ্রমিক নেবে জাপান

    ক্রমবর্ধমান শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত এক লাখ শ্রমিক নিয়োগের কথা জানিয়েছে জাপানি কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা।

    বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টোকিওতে ‘বাংলাদেশ সেমিনার অন হিউম্যান রিসোর্সেস’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “জাপানে বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রয়োজনীয় সব কিছু করবে।”

    তিনি বলেন, “এটা আমার জন্য সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও প্রেরণার দিন। এটি শুধু কাজ করার জন্য নয়, বরং জাপানকে জানারও দ্বার উন্মোচন করবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য।”

    সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টা দুটি সমঝোতা স্মারকের সাক্ষী হন। প্রথমটি বাংলাদেশের ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) ও কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (কেডিএস)-এর মধ্যে, যার একটি জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ; দ্বিতীয়টি বিএমইটি ও জাপানের ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কোঅপারেটিভস (জাপানে ৬৫টির বেশি কোম্পানির একটি ফেডারেশন) এবং জেবিবিআরএ (জাপান বাংলা ব্রিজ রিক্রুটিং এজেন্সি)-র মধ্যে।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই অনুষ্ঠানটি একটি দ্বার উন্মোচনের প্রতীক। বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের দেশ, যার অর্ধেকই ২৭ বছরের নিচে।” তিনি বলেন, “সরকারের কাজ হলো তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া।”

    শিজুওকার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন সমবায়ের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থার প্রতিনিধি পরিচালক মিতসুরু মাতসুশিতা বলেন, “অনেক জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশিদের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশি মেধাবীদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রতিভা লালন করা আমাদের দায়িত্ব।” এনবিসিসি চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা স্মরণ করেন প্রায় ১৪ বছর আগে অধ্যাপক ইউনূস জাপানে এসেছিলেন এবং ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীদের সহায়তার গল্প বলেছিলেন।

    তিনি বলেন, “আমাদের ফেডারেশন তরুণ ও দক্ষ শ্রমিকের জন্য বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় উৎস হিসেবে দেখছে। তারা উভয় দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।”

    ওয়াতামি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে জানান, বাংলাদেশে তাদের প্রতিষ্ঠিত একটি স্কুল প্রতি বছর ১৫০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়, এবং তারা এই সংখ্যা ৩০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা গ্রহণকারীরা জাপানের চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।”

    জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনি অ্যান্ড স্কিল্ড ওয়ার্কার কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (জেইটিসিও) চেয়ারম্যান হিরোআকি ইয়াগি জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখনও ভাষা শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে।” জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (এমএইচএলডব্লিউ) প্রতিমন্ত্রী নিকি হিরোবুমি বলেন, “জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং সে কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সহায়তা প্রয়োজন হবে।”

    তিনি বলেন, “এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাপানের জন্যও একটি আশাব্যঞ্জক দিক হতে পারে।”

    স্বাগত বক্তব্যে জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, “২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিক সংকট এক কোটি ১০ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরো দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারে।”

    সূত্র: বাসস

  • মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ

    মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মনোয়ার হোসেনকে ‘অনতি-বিলম্বে’ দায়িত্ব ত্যাগ করে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে ঠিক কি কারণে রাষ্ট্রদূত মনোয়ার হোসেনকে ঢাকায় ফেরানো হচ্ছে সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ঠিক কি কারণে রাষ্ট্রদূত মনোয়ার হোসেনকে ঢাকায় ফেরানো হচ্ছে সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

    ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে মনোয়ার হোসেন মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পান।

    তিনি নেইপিডোতে সাবেক রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খানের স্থলাভিষিক্ত হন। ২০তম বিসিএসে ফরেন সার্ভিস ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেন মনোয়ার।

  • সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন স্থগিত

    সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন স্থগিত

    সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একদিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) সচিবালয়ে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবদের সঙ্গে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেন তারা। এর ফলে বুধবার (২৮ মে) যথানিয়মে সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    একইদিনে আন্দোলনকারীদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি মন্ত্রীপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশিদকে অবহিত করবেন আলোচনায় অংশ নেওয়া সচিবরা।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেল পৌনে ৩টায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। তার সঙ্গে বৈঠকে সরকারের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব।

    সচিবালয়ে কর্মচারীদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ বেশ কয়েকজন সচিবকে নিয়ে জরুরি সভা করেন।

    ওই সভায় সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সভা থেকেই কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে ভূমি সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    এদিকে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে আজ (মঙ্গলবার) চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। শনিবার (২৪ মে) থেকে শুরু হয় তাদের এই আন্দোলন।

  • দুটি বিষয়ে স্পষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছেন জামায়াত

    দুটি বিষয়ে স্পষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছেন জামায়াত

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার কাছে মূলত দুটি বিষয়ে স্পষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছেন তারা।

    এক. নির্বাচনটা কখন হবে? আপনি যে সময়সীমা দিয়েছেন, এর ভিতরেই জনগণের কোনো বড় ধরনের ভোগান্তি না হয়ে একটা কমফোর্টেবল টাইমে নির্বাচনটা হওয়া দরকার।

    দুই নম্বর আমরা বলেছি, এই নির্বাচনের আগে অবশ্যই সংস্কার এবং বিচারের কিছু দৃশ্যমান প্রক্রিয়া জনগণের সামনে আসতে হবে।
    জামায়াত আমির বলেন, সংস্কার শেষ না করে যদি কোনো নির্বাচন হয়, এই নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। আবার সব সংস্কার এখন করা সম্ভবও না। মাত্র ৫টা সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তারা হাত দিয়েছেন।

    এতটুকু নিষ্পত্তি করা দরকার সন্তোষজনকভাবে।উপদেষ্টাদের পদত্যাগ ইস্যুতে জামায়াত আমির বলেছেন, তারা কারও পদত্যাগ চাননি।

  • প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: বিশেষ সহকারী

    প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: বিশেষ সহকারী

    প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করবেন না।

    শুক্রবার (২৩ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

    পাঠকদের জন্য ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

    প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না।

    অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস এর ক্ষমতা প্রয়োজন নেই, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ডেমোক্রেটিক ট্রাঞ্জিশনের জন্য ড ইউনূস স্যার এর দরকার আছে।

    বরং ক্যাবিনেটকে আরও গতিশীল হতে হবে। সরকারকে আরো বেশি ফাংশনাল হতে হবে, উপদেষ্টাদের আরো বেশি কাজ করতে হবে, দৃশ্যমান অগ্রগতি জনতার সামনে উপস্থাপন করতে হবে- এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত থাকতে পারে না। আমাদেরকে দেখাতে হবে যে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে জনতার সম্মতিতে ক্ষমতায় এসে প্রফেসর সাফল্য দেখিয়েছেন।

    বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস এর সম্মান আছে, এটা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

    আমি মনে করি, সরকারকে এখন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আরও নিবিড়ভাবে আলোচনায় বসতে হবে, নিয়মিত বসে এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত চাইতে হবে। কোন ধরনের বিচ্ছিন্নতা কাম্য নয়।

    পাশাপাশি সেনাবাহিনীও রাজনীতিতে নাক গলাতে পারবে না। আজকের দুনিয়ায় কোন সভ্য দেশের সেনাবাহিনী রাজনীতি করেনা। তাই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বক্তব্যে সেনাপ্রধান জুরিশডিকশনাল কারেক্টনেস রক্ষা করতে পারেননি। তবে সেনাবাহিনীকে প্রাপ্য সম্মান দেখাতে হবে, আস্থায় রাখতে হবে।

    সেনাবাহিনী প্রশ্নে হুট করে কিছু করা যাবে না, হঠকারী কিছু করা যাবে না। তেমনি, ইনক্লুসিভনেসের নাম করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনও চাওয়া যাবে না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব এবং আস্থার জায়গা- সেটা কেউ ভঙ্গ করবে না।

    দরকারি প্রস্তুতি শেষ করে নির্বাচন এপ্রিল-মে’র কোন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলেই আশা করি, তবে এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। এসময়ে সকল যৌক্তিক সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, করতে হবে জুলাই সনদ।

    তবে ডিসেম্বর থেকে জুনে দেয়া রোডম্যাপ মতে নির্বাচনের এক্সাক্ট ডেট ঘোষণার এখতিয়ার শুধুমাত্র স্যারের। স্যারের এখতিয়ার অন্য কেউ হাইজ্যাক করতে পারবে না। স্যারকে যখন আনা হয়েছে, তখন বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে স্যার বলেছেন, আমার কথা শুনতে হবে।

    জুলাই-আগস্ট’২৫ এ আমরা জাতীয়ভাবে দুই মাস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির উদযাপন করব, ইনশাল্লাহ। এবং আগস্টের মধ্যেই স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার বিচারের প্রথম রায়টি আলোর মুখ দেখতে পাবে বলেও আশা প্রকাশ করি। ইনশাআল্লাহ আমরা হারবো না, আমাদের হারানো যাবে না।

    ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

  •  শুধু নির্বাচন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়নি-রিজওয়ানা হাসান

     শুধু নির্বাচন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়নি-রিজওয়ানা হাসান

    শুধু নির্বাচন করার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন, এর বাইরে একদিনও এদিক-সেদিক যাওয়ার সুযোগ নেই।

    শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বাংলাদেশ প্রাণিবিদ্যা সমিতির ২৪তম জাতীয় সম্মেলন এবং বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘কাল (বৃহস্পতিবার) উপদেষ্টা পরিষদের সভার পর অনেক সময় আমরা আলোচনা করেছি। আমাদের তিনটা কঠিন দায়িত্ব- একটি সংস্কার, অন্যটি বিচার, আরেকটি নির্বাচন। শুধু নির্বাচন করার জন্য আমরা দায়িত্বটা নেইনি। আমাদের আরও দুটি দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু আমরা সেগুলো পালন করতে পারছি না। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যার যত ধরনের দাবি রয়েছে, সব দাবি নিয়ে রাস্তা আটকে দিচ্ছে। এতে রাস্তা একেবারে অচল হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা নিরসনে আমরা কিছুই করতে পারছি না।

    আমাদের দায়িত্ব পালন করা তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা সবার সহযোগিতা পাবো। প্রত্যাশার বিষয়টা এক, আর দায়িত্বটা আসলেই পালন করতে পারার বিষয়টা আরেক। ’

    উপদেষ্টা বলেন, ‘যে প্রতিবন্ধকতাগুলো তৈরি হচ্ছে, আমাদের দায়িত্ব পালনে সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করবো কিংবা আদৌ পারবো কি না, যদি পারি সেটা কীভাবে করবো আর না পারলে কী করণীয় হবে সেগুলো নিয়ে আমরা চিন্তা করেছি। ’

    নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা একটা সময় দিয়েছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। তার একদিনও এদিক-সেদিক হওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের পক্ষ থেকে নেই।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি দায়িত্ব পালন করতে পারি, তাহলে আমাদের দায়িত্বে থাকাটা প্রাসঙ্গিক। আর যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারি, তাহলে আমাদের যার যার নিজস্ব অনেক কাজ রয়েছে। তখন দায়িত্ব পালন করাটা আর প্রাসঙ্গিক থাকল না। ’

  • করিডোর নিয়ে আমাদের কারও সঙ্গে কোনো কথা হয়নি’

    করিডোর নিয়ে আমাদের কারও সঙ্গে কোনো কথা হয়নি’

    জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন,  আপনারা চাইলে খবর নিতে পারেন জাতিসংঘে, আমরা মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলকেন্দ্রিক মানবিক করিডোর নিয়ে কোনো আলোচনা করি নাই। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমি তে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, আগে করিডোর ব্যাপারটা বুঝতে হবে। করিডোর হচ্ছে, একটা ইমারজেন্সি সময়ে দুর্যোগপূর্ণ জায়গা থেকে মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা। আরাকানে যে অবস্থা সেখানে করিডোরের কোনো প্রয়োজন নেই। করিডোর সৃষ্টি করে লোকজনের যাতায়াতের ব্যবস্থা করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। সেখানে যে প্রয়োজনীয়তা আছে, সেটা হচ্ছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।

    উপদেষ্টা বলেন, আমরা এখান থেকে কাউকে সরাচ্ছি না। আমরা যেটা করছি সেটা হচ্ছে, যেহেতু আরাকানে সাহায্য সহযোগিতা অন্যান্য সাপ্লাইডোর দিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই জাতিসংঘ আমাদের এইটুকু বলল, আপনারা আমাদের এইটুকু সহযোগিতা করেন যাতে আমরা সাহায্যগুলো এ জায়গা দিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

    জাতিসংঘ তো গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে আমাদের চোখের সামনে রোহিঙ্গাদের সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেছে আপনার আমাদের এইটুকু জায়গাতে সাহায্য করবেন, যাতে করে জাতিসংঘ তার বিভিন্ন সহযোগীদের মাধ্যমে রাখাইনের ভেতরে যে চ্যানেলগুলো আছে সেখানে এসব সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারে।

    তিনি বলেন, আরাকানের পরিস্থিতি যতদিন অস্থিতিশীল থাকবে ততদিন আমরা প্রত্যাবাসনের কথা বলতেই পারব না। প্রত্যাবাসনের পূর্বশর্তে আমরা এখনো আসি নাই। অনেকেই বলছেন, করিডোর নিয়ে আমরা কারও সঙ্গে আলোচনা কেন করিনি?

    আমি বলতে চাই অস্তিত্ববিহীন বিষয় নিয়ে আমরা কীভাবে আলোচনা করব। যার অস্তিত্ব নাই সেই বিষয়ে কী করে আলোচনা হয় বলেও প্রশ্ন রাখেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

  • জব্দকৃত অর্থ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপকারে ব্যবহার করবে সরকার

    জব্দকৃত অর্থ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপকারে ব্যবহার করবে সরকার

    সরকার এখন পর্যন্ত কত টাকার সম্পদ জব্দ করেছে, সে তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম। আজ সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের জব্দকৃত মোট সম্পত্তির মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৮ দশমিক ৭ কোটি টাকা। বিদেশি অর্থ ১৬৪ মিলিয়ন ডলার। জব্দকৃত অস্থাবর সম্পত্তি আছে ৪২ হাজার ৬১৪ দশমিক ২৭ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ অর্থ ২০ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।

    শফিকুল আলম বলেন, দেশে লুটের টাকা বা লুটেরাদের জব্দকৃত অর্থ বাজেটে ব্যবহার নয় বরং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপকারে ব্যবহার করবে সরকার। তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন লুটের টাকা ম্যানেজমেন্টে একটি ফান্ড গঠনের জন্য। এই অর্থ ডিপোজিটর এবং একইসঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ব্যয় হবে।

    এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, সাধারণ আমানতকারী ও দরিদ্রদের ক্ষতিপূরণ দিতে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারে অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সম্পত্তি দিয়ে একটি তহবিল গঠন করা হবে।

    তিনি বলেন, এই তহবিলে অভিযুক্তদের কাছ থেকে জব্দ করা বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির শেয়ারসহ জব্দ করা সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।