Category: জাতীয়

  • এটাই কি বীর মুক্তিযোদ্ধার অলংকার- কামাল আহমেদ মজুমদা

    এটাই কি বীর মুক্তিযোদ্ধার অলংকার- কামাল আহমেদ মজুমদা

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকার মিরপুরে মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবা (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি. এম. ফারহান ইসতিয়াকের আদালত পুলিশ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

    শুনানির সময় কামাল আহমেদ মজুমদার আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, এভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, নির্যাতন করা হচ্ছে। এই সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, দেশে আইনের শাসন থাকলে এমনটা হতো না। মামলা করছে, বাদীর খবর নাই। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন করছে।

    তিনি আরো বলেন, পরিবারের সদস্যদেরও নির্যাতন করা হচ্ছে। তারা বাড়িতে থাকতে পারছে না। জায়গা-জমি দখল করে নিচ্ছে। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।”

    এসময় হাতকড়া পরা হাত উচিয়ে আদালতকে দেখিয়ে বলেন, এটাই কি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অলংকার। এজন্যই কি দেশ স্বাধীন করে ছিলাম।” এসময় তিনি কেঁদে ফেলেন।

    এ সময় তিনি শেখ হাসিনার সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন বলেও দাবি করেন । কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, “কোনো অন্যায়, দুর্নীতি করিনি।

    অথচ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।এর বিচার চাই। আদালতের প্রতি আমাদের সম্মান, শ্রদ্ধা রয়েছে। যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করছি।”

    পরে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা না। রাজস্ব ফাঁকি দিতে রাজনীতিতে নাম লেখান। এলাকায় অবৈধভাবে বিশাল ব্যবসা তৈরি করে নিয়েছেন। আন্দোলনের সময় মিরপুরে জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

    ছাত্রদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মনে হচ্ছে, তিনি কোনো নতুন গ্রহ থেকে এসেছেন।”এরপর কামাল আহমেদ মজুমদারের বক্তব্যের জবাব দেন তিনি।

    মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট মিরপুর মডেল থানার সামনে আন্দোলন করছিল ছাত্রজনতা। মহিউদ্দিন নামে একব্যক্তি ওই সময় রাস্তা পার হওয়ার পথে আসামিদের গুলিতে আহত হন।

    পরে ৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই গত ১২ সেপ্টেম্বর মিরপুর থানায় একটি মামলা করেন৷ এদিকে, আজ রাকিব হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায়ও কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

  • আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রথম পর্বের প্রথম ধাপের বিশ্ব ইতেমা

    আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রথম পর্বের প্রথম ধাপের বিশ্ব ইতেমা

    আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রথম ধাপ। আজ রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়ে এ মোনাজাত শেষ হয় ৯টা ৩৫ মিনিটে। মোনাজাত পরিচালনা করেছেন মাওলানা জুবায়ের আহমেদ।

    মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে অশ্রুভেজা চোখে ক্ষমা প্রার্থনা ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখ লাখ মুসল্লি আকুতি জানান।এ সময় ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে তুরাগতীর মুখরিত হয়ে ওঠে।

    এর আগে, বাদ ফজর থেকে ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান হেদায়েতি বয়ান শুরু করেন। যারা এখান থেকে চিল্লা, তিন চিল্লার জন্য জামাতে বের হবেন, তারা জামাতে গিয়ে কী আমল করবেন এবং মহল্লায় যারা এখান থেকে ফিরে যাচ্ছেন তারা নিজ এলাকায় গিয়ে কী আমল করবেন তার দিকনির্দেশনামূলক বয়ান করা হয়।

    এবার ইজতেমার প্রথম পর্ব হচ্ছে দুই ধাপে। এর মধ্যে, ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম ধাপের ইজতেমা। এ ধাপে অংশগ্রহণ করছেন ৪১ জেলা ও ঢাকার একাংশের মানুষ।

    এরপর ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি হবে দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা। তাতে অংশ গ্রহণ করবেন ২২ জেলা ও ঢাকার বাকি অংশের মানুষ।

  • কেটেছে  টিকা (ইপিআই) ক্রয় জটিলতা

    কেটেছে টিকা (ইপিআই) ক্রয় জটিলতা

    সারাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ক্রয় জটিলতা কেটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শিশুদের টিকাগুলো সরকারি এবং বিদেশিদের দেওয়া অর্থে কেনা হয়। এখন টিকার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে টিকা ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতা কেটেছে।

    জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশের পশ্চিম সীমান্তের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে টিকা পাওয়া যায়নি। নবজাতকের জন্মের পর প্রথম টিকা বিসিজি দেওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে জানানো হয় টিকার সরবরাহ নেই। পরের সপ্তাহে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে টিকার ব্যবস্থা হয়।

    তবে টিকা নিতে গিয়ে জানা যায়, কেন্দ্রে টিকাদান কার্ডের সরবরাহ নেই। অথচ শিশুদের জন্য এই কার্ড অতিজরুরি একটি বিষয়। জন্মনিবন্ধন করাসহ জীবনের বৃত্তান্ত সংরক্ষণের দলিল হিসেবে কাজ করে এই কার্ড।

    এটি শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ নয়, সারাদেশেই এমন চিত্র বলে স্বীকার করেছেন সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, ক্রয় সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতার কারণে এমন সংকট দেখা দিয়েছে। সামনে এমন পরিস্থিতি থাকবে না।

    সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) প্রোগ্রাম ম্যানেজার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আমরা সারাদেশে টিকা পাঠানো শুরু করেছি। এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ টিকা পাঠিয়েছি, বাকি ৬০ শতাংশ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

     

     

  • ১ লাখ ৩০ হাজার টন সার কিনবে সরকার

    ১ লাখ ৩০ হাজার টন সার কিনবে সরকার

    রাশিয়া, সৌদি আরব, মরক্কো ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন সার কিনবে অন্তর্বর্তী সরকার।

    এর মধ্যে ইউরিয়া ৬০ হাজার টন, মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) ৩০ হাজার টন ও ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ৪০ হাজার টন। সব মিলিয়ে খরচ হবে ৭০৬ কোটি ৩২ লাখ ১২ হাজার টাকা।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থে উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সার কেনার এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

    বৈঠকের কার্যসূচি থেকে জানা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) এর কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনা হবে। এতে খরচ হবে ১২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রতিটন সারের জন্য এতে খরচ হবে ৩৪৩ দশমিক ২৫ ডলার।

    চলতি অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৩০ হাজার (কমবেশি ১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানি করবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১২৫ কোটি ৮৮ লাখ ১২ হাজার টাকা। প্রতিটনের দাম পড়ছে ৩৪৯ দশমিক ৬৭ ডলার।

    এদিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাশিয়ার প্রডিংটর্গ ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর মধ্যকার চুক্তির আওতায় ৩০ হাজার (কমবেশি ১০ শতাংশ) টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। এর জন্য খরচ হবে ১৭৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। প্রতিটনে ব্যয় হবে ৪৮৯ দশমিক ৭৫ ডলার।

    এছাড়াও মরক্কোর ওসিপি ও বিএডিসির মধ্যকার চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার (কমবেশি ১০ শতাংশ) টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে। এর জন্য ব্যয় হবে ২৮০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রতিটনের দাম ধরা হয়েছে ৫৮৪ দশমিক ৫০ ডলার।

    একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯২ কোটি ৯৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৬০ টাকা।

  • লুণ্ঠন, স্বৈরাচারের ভিত্তি বাহাত্তরের সংবিধান!

    লুণ্ঠন, স্বৈরাচারের ভিত্তি বাহাত্তরের সংবিধান!

    অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে বাহাত্তরের সংবিধান রচিত হয়েছে। কিন্তু এটা সংস্কার করা যাবে না, ব্যাপারটা তা নয়। তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানে সমস্যা আছে। এ সংবিধানে ক্রমাগত বৈষম্য বেড়েই চলছে। লুণ্ঠন, স্বৈরাচারের ভিত্তি হয়ে উঠেছে এ সংবিধান। ব্যক্তি ও জাতিগত নিরাপত্তা ক্রমাগত উপেক্ষা করা হয়েছে এ সংবিধানে।

    শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ কোন পথে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভা করে সাপ্তাহিক একতা।

    এ সময় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক দর্শনের কারণে দেশে বৈষম্য বেড়েছ। এ দর্শনে নির্ভরশীল কাঠামো রেখে দেশে বৈষম্য কমবে না। গোলটেবিল আলোচনায় ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী সংস্কার’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান ও এশিয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা নতুন করে লেখার প্রয়োজন আছে কি না সন্দেহ আছে। তবে পরিমার্জন করতে হলে ২০২৪ এর জুলাইয়ে অভ্যুত্থান ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রকাশিত গণতন্ত্র, সাম্য এবং মানবিক মর্যাদার জন্ম জনআকাঙ্ক্ষার কথা নিশ্চয়ই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষার স্মরণ করাও যথার্থ হবে। প্রস্তাবনায় মুক্তিযুদ্ধ ও প্রজাতন্ত্র শব্দাবলী প্রতিস্থাপনের প্রয়াস অপ্রয়োজনীয়।

    অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসমূহ প্রতিস্থাপনের সুপারিশটি পরিপক্ব নয়। প্রস্তাবিত পাঁচটি মূলনীতি- সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ, গণতন্ত্র সমূহের মধ্যে যৌক্তিক এবং ঐতিহা-সিক গ্রন্থন অনুপস্থিত। সুতরাং এ নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।

    বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে সংবিধান পরিমার্জনের উদ্যোগ গ্রহণকারী কমিশন কেন ২(ক) ধারা বাতিল করার সুপারিশ প্রদানে অপারগ হলো তা বোধগম্য নয়।

    তিনি আরও বলেন, সংবিধান ও নির্বাচন কমিশন সংসদ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশ করেছে। কিন্তু তা করতে গিয়ে পুনরায় সুপ্রিম কোর্ট রাজনীতিকরণের বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। যদি আনুপাতিক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশিত শুভ পরিবর্তন ঘটে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা দৃঢ় এবং নিশ্চিত হতে পারে। তখন নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজনীয়তা নাও থাকতে পারে।

    সভায় ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আর্থ-সামাজিক সংস্কার’ শীর্ষক আরেক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর চেয়ারম্যান ও সাপ্তাহিক একতার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ।

    একতার সম্পাদক আফরোজান নাহারের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, ডাকসুর সাবেক জিএস ডা. মুশতাক হোসেন, সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

     

     

  • শিক্ষার্থীরা দল গঠনের লক্ষ্যে জনগণকে সংগঠিত করছে-ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    শিক্ষার্থীরা দল গঠনের লক্ষ্যে জনগণকে সংগঠিত করছে-ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    শিক্ষার্থীরা দল গঠন করার লক্ষ্যে জনগণকে সংগঠিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি পডকাস্টে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ‘র‌্যাচম্যান রিভিউ’ নামের ওই পডকাস্টের কথোপকথন লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফর করেন প্রধান উপদেষ্টা। সে সময় ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রধান বৈদেশিক বিষয়ক ভাষ্যকর গিডেয়েন র‌্যাচম্যানের উপস্থাপনায় একটি পডকাস্টে কথা বলেন তিনি।

    জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অবদান ও তাদের রাজনৈতি দল গঠনের ব্যাপারে ড. ইউনূস বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি দেশের জন্য জীবন দিতে পারে, তাহলে তারা রাজনীতিতেও অংশ নিতে পারে।

    তারা দেশের জন্য কাজ করছে। এখন তারা বলছে, কেন আমরা নিজেরাই রাজনৈতিক দল গঠন করবো না? আমি বলি, পুরো জাতি তাদেরকে চেনে। তারা যা করতে চায়, সে বিষয়ে তাদেরকে একটা সুযোগ দিই। সুতরাং, তারা এটা করবে।

    তবে তিনি সতর্ক করেন যে, রাজনৈতিক দল গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে ও দেশের প্রচলিত রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব তাদের উপর পড়তে পারে। তবে শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে দেশজুড়ে প্রচারণা ও সংগঠনের কাজ শুরু করেছে।

    নির্বাচনের বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমি সবসময় দেশের ঐক্য রক্ষার পক্ষে এবং নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য যে দুটি সময়ের কথা বলেছি, তা যথাযথ। পডকাস্টের এক পর্যায়ে উপস্থাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রশ্ন করেন, ভারত যা বলছে, তার একটি বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। তারা বলছে, বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক।

    সেখানে ইসলামিস্টরা রয়েছে, যারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন? জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন লক্ষণ দেখি না। অন্তত আমি এখন কোনো লক্ষণ দেখি না।

    বাংলাদেশের তরুণ সমাজ সত্যিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের খারাপ কোনো কিছুর সঙ্গে সংস্পর্শ নেই বা নিজেদের রাজনৈতিক আখের গোছানোর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নেই। ‘তারা এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল গঠন করছে বা রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছে। এটা দরকার।

    কারণ, রক্ত দিয়ে তারা যেগুলো অর্জন করেছে, সেগুলো তাদেরকে রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় সেগুলো এমন সব ব্যক্তি নিয়ে যাবে, যারা বিগত প্রশাসন ও অন্যান্যদের মতো সব কিছুর পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ খুঁজছে।

  • সাত কলেজ নিয়ে হতে যাচ্ছে জুলাই ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয়

    সাত কলেজ নিয়ে হতে যাচ্ছে জুলাই ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয়

    রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে হতে যাচ্ছে জুলাই ৩৬ বিশ্ব-বিদ্যালয়। এই নাম প্রস্তাব করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজের নেতৃত্বাধীন কমিটি।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজসহ এ-সংক্রান্ত কমিটির তিন সদস্য শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই জুলাই ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয় নাম প্রস্তাব করা হয়।

    ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ বলেন, কয়েকটির মধ্যে জুলাই ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয় নামটি সবাইকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। শিক্ষা উপদেষ্টাও এই নামের প্রশংসা করেছেন। তবে ছাত্ররা যেটা বলবে, সেটাই চূড়ান্ত হবে।

    সাত সরকারি কলেজ হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।

    উল্লেখ্য যে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার এই সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

     

  • আওয়ামী পতাকাতলে বিক্ষোভ করলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে

    আওয়ামী পতাকাতলে বিক্ষোভ করলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার কোনো ধরনের প্রচেষ্টা কে সুযোগ দেব না। খুনিরা কোনো প্রতিবাদ-সমাবেশ করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন জবাব দেবে বাংলাদেশের জনগণ।

    বুধবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন। প্রেস সচিব লেখেন, আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো ন্যায্য বিক্ষোভ বন্ধ বা নিষিদ্ধ করেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সমাবেশ করার স্বাধীনতা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।

    আজ সকালে গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সাড়ে পাঁচ মাসে কেবল ঢাকায় কমপক্ষে ১৩৬টি বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিক্ষোভের ফলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবুও, সরকার কখনো বিক্ষোভ-সমাবেশের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেননি।’

    জুলাই-আগস্টের ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় যে আওয়ামী লীগের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যায় অংশ নিয়েছিল। তাদের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ হয়েছেন কয়েকশ তরুণ শিক্ষার্থী, এমনকি নাবালক শিশুরাও। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যা, খুন ও তাণ্ডবের জন্য দায়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের দলীয় সরকার।

    ফেসবুক স্ট্যাটাসে শফিকুল আলম আরও লেখেন, ‘গতকাল কয়েকজন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মীর সাক্ষাৎকারের বরাতে নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, শেখ হাসিনা তার ১৬ বছরের একনায়কত্বের শাসনামলে সরাসরি হত্যা এবং জোরপূর্বক গুমের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি একটি চোরতন্ত্র (ক্লেপ্টোক্রেসি) এবং খুনি শাসনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    নিরপেক্ষ ও স্বাধীন একটি প্যানেল বলছে, শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে তার ঘনিষ্ঠরা ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। দুর্নীতিগ্রস্ত চুক্তি থেকে কোটি কোটি ডলার চুরির দায়ে হাসিনার পরিবারের বিরুদ্ধে এখন তদন্ত চলছে।

    বাংলাদেশের জনগণ এই খুনিদের যে কোনো প্রতিবাদ-সমাবেশের বিরুদ্ধে কঠিন জবাব দেবে। আমরা দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার কোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে সুযোগ দেব না। আওয়ামী লীগের পতাকাতলে কেউ যদি অবৈধ বিক্ষোভ করার সাহস করে তবে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

     

     

     

  • পর্যায়ক্রমে সকল ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হবে

    পর্যায়ক্রমে সকল ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হবে

    মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নিবন্ধনভুক্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি মেনে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হবে।

    মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে বিকেলে চারটার দিকে শাহবাগে এই কথা জানান কারিগরি মাদ্রাসা বিভাগের যুগ্ম সচিব এসএম মাসুদুল হক।

    তিনি জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ছয় দফা দাবি মন্ত্রণালয় মেনে নিয়েছে মন্ত্রণালয়। দাবি ছিল, একাডেমিক স্বীকৃতি বন্ধ আছে; সেটা জুন থেকে চালু হবে। ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণ ২০২৫ সাল থেকেই শুরু। প্রাথমিক পর্যায়ে যে ১৫১৯টি অনুদানভুক্ত প্রাথমিক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা আছে, সেগুলোসহ অন্যান্য সকল মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হবে।

    অনুদানভুক্ত মাদ্রাসাগুলোকে কোন প্রক্রিয়ায় জাতীয়করণ করা হবে জানতে চাইলে যুগ্ম সচিব এস এম মাসুদুল হক বলেন, আগে এমপিও ভুক্তি করে তারপরে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণ করতে হবে।

  • রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মসূচি দুঃখজনক-রেলপথ উপদেষ্টা

    রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মসূচি দুঃখজনক-রেলপথ উপদেষ্টা

    বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মসূচি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষই বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রেন চলাচল বন্ধের পর সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

    উপদেষ্টা বলেন, স্টাফদের দাবির বিষয়ে আমাদের আলোচনার দরজা সব সময় খোলা রয়েছে। প্রয়োজনে আমরা তাদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করব এবং অর্থ বিভাগেও তাদের এ দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনা করব।

    তিনি বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি যাতে কম হয় সেজন্য ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি। এরপরও কোনো যাত্রী যদি স্টেশনে আসেন তাদের সুবিধা বিবেচনা করে আমরা বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরিফ প্রমুখ।