Category: শিক্ষাঙ্গন

  • ঢাকায় সমাবেশে আহত শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার মারা গেছেন

    ঢাকায় সমাবেশে আহত শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার মারা গেছেন

    ঢাকায় শিক্ষকদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়া ফাতেমা আক্তার (৪৫) নামে সেই শিক্ষিকা মারা গেছেন।

    রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় তিনি রাজধানী একটি হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা জান। তিনি চাঁদপুর মতলব উত্তরের ৫ নম্বর ঝিনাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন।

    তিনি মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর এলাকার গ্রামের ঘনিয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা সুরুজ মোল্লার মেয়ে ও ঠাকুরচর গ্রামের ডিএম সোলেমাননএর স্ত্রী।

    এর আগে, গত ৮ নভেম্বর সমাবেশের এক পর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন এবং ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

    চাঁদপুরের মতলব উত্তরের শিক্ষকরা জানান, ফাতেমা আক্তার আন্দোলনের দিন শহীদ মিনারের সামনেও সক্রিয় ছিলেন। সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ শুরু হলে তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েকদিন ধরে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ মারা গেছেন।

    রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঠাকুরচর গ্রামে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

     

  • সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

    সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

    সিটি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ সব একাডেমিক কার্যক্রম আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    ঘটনার পেছনে গত রোববার দিবাগত রাতে সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা রয়েছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা থেকেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, এবং এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর ওপর সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল থেকে থুথু নিক্ষেপ করেন। এ নিয়ে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।

    রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের একটি বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালান।

    ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানায়। এরপর শিক্ষার্থীরা ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে অবস্থান করেন।

  • আশুলিয়ায় থুতু ফেলাকে কেন্দ্র করে সিটি ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ !

    আশুলিয়ায় থুতু ফেলাকে কেন্দ্র করে সিটি ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ !

    সাভারের আশুলিয়ায় সিটি ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বর্তমানে খাগান এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    রবিবার (২৬ অক্টোবর) মধ্যরাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস। শিক্ষকদের অভিযোগ, সংঘর্ষ থামাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সহায়তা তারা পাননি।

    সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় সিটি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের ফটকে দেখা যায় আগুনে পোড়ার দৃশ্য। বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কাঁচ, কাঠসহ ভাঙা বিভিন্ন জিনিসপত্র। ভাঙচুর করা অবস্থায় ছিল পাঁচটি যানবাহন। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে অন্তত তিনটি বাস, পাঁচটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকারে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনেও চালানো হয়েছে ধ্বংসযজ্ঞ। পুরো ভবনের জানালার থাই গ্লাস ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। ভেতরের প্রায় প্রতিটি ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় কাগজপত্র ও ভাঙা আসবাবপত্র।

    শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যার পর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেল’-এর পাশে বসে ছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এক শিক্ষার্থী থুতু ফেললে অসতর্কতাবশত সেই থুতু মোটরসাইকেলযোগে যাওয়া ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর শরীরে লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

    পরে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ভাড়া করা ওই বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।

    এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইট নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    এ সময় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। তারা সিটি ইউনিভার্সিটির প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে সিটি ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় পৃথক একটি স্থানে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ড্যাফো-ডিলের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন।

    পরে ড্যফোডিলের শিক্ষার্থীরা সিটি ইউভার্সিটি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় ক্যাম্পাসে দাঁড় করিয়ে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বাস, দুটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়া হয়। একটি বাস, দুটি প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল, প্রশাসনিক ভবন ভাঙচুর করা হয়।

    এ সময় উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘ড্যাফোডিলের এক ছাত্রের গায়ে থুতু লাগা থেকে ঘটনার শুরু। পরবর্তীতে ওই ছাত্র সরিও বলেছে। তারা বিষয়টিকে সেভাবে নেয়নি, তাকে সেখানে মারধর করে। এরপর তাকে আটকে রাখে। যখন বিষয়টা আমাদের কাছে আসে, তখন আমরা এগোই। এভাবেই প্রথম অবস্থায় হয়। আমরা ঢিল ছুড়েছি।”

    তিনি বলেন, “ক্যাস্পাসের ভেতরে গেলে দেখবেন, অ্যাকাউন্টসে কোনো টাকা নাই, পাঁচটা গাড়ি ভাঙছে। প্রত্যেকটা রুমে রুমে সব ভাঙছে। কিছুই নাই। এগুলা কী ধরনের আচরণ। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এটা কীভাবে পারে।”

    একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘ঘুমন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তারা অস্ত্র নিয়ে আসে। মেয়েদের হলের কলাপসিবল গেটে ভাঙচুরের চেষ্টা করে, ইট ছুড়ে মারে। সেগুলো মেয়েদের গায়ে লেগেছে। আমাদের পুরো ক্যাম্পাস ভাঙচুর করেছে।”

    সিটি ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘‘রাত ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রশাসনের অনেক সহযোগিতা চেয়েছি আমরা। ওরা এসে পুরো ক্যাম্পাসে আগুন দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। শতশত ছাত্রকে মেরে আহত করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা পাইনি।

    ড্যাফোডিলের ছেলেরা এখান পর্যন্ত এসে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিল। কেউ রক্ষা করতে আসেনি। টানা হামলা হয়েছে, কিন্তু কেউ আসেনি। আমরা সবাই নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”

    সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অধ্যাপক আবু জায়েদ বলেন, ‘‘ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সেটি এখনো আমরা নিশ্চিত নই। ছাত্রদের মারামারি থেকে ক্যাম্পাস পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা হতে পারে? এটি পরিকল্পিত। আমাদের শিক্ষার্থী আহতের সংখ্যা আনুমানিক অর্ধশতাধিক হতে পারে।”

    ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘অসতর্কতাবশতই সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ফেলা থুতু ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীর শরীরে লাগে। সেখানে সরি বলে বিষয়টি সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু, রাতে এসে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের মেসে ভাঙচুরের ঘটনাটি কাম্য নয়। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি সমাধানের।

    ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম আ্যান্ড অপস) মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। ঝগড়া-বিবাদ, ভাঙচুর যা হয়েছে, রাতেই হয়ে গেছে। ঘটনাটি কেন ঘটল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে পরিবেশ কিছুটা থমথমে।”

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ সম্মাননা পেলেন শহিদুল ইসলাম

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ সম্মাননা পেলেন শহিদুল ইসলাম

    শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার কৃতি সন্তান, ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ শহিদুল ইসলাম (সোহেল)।

    গত ২৩ অক্টোবর (বুধবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জনাব মান্সুর চাভেসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃসিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মাদি, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুমিত আল রসিদ সহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অতিথিবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মোঃ শহিদুল ইসলাম (সোহেল) দীর্ঘদিন ধরে আমতলী উপজেলায় মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তার নেতৃত্বে ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম কলেজ আজ দক্ষিণাঞ্চলে এক উজ্জ্বল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

    সম্মাননা প্রাপ্তির পর মোঃ শহিদুল ইসলাম (সোহেল) বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত নয়, এটি আমতলী উপজেলার সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষানুরাগী মানুষের সম্মান। আমি শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

    আমতলী অঞ্চলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ সম্মাননায় গর্বিত ও আনন্দিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, মোঃ শহিদুল ইসলামের এই অর্জন আমতলীর শিক্ষাঙ্গনে নতুন    অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে।

  • বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে কমার্স বিভাগের ফলাফলে ভরাডুবি

    বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে কমার্স বিভাগের ফলাফলে ভরাডুবি

    ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর নিজেকে বাঁচাতে আত্মগোপনে চলে যান বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (আওয়ামীলীগ নেতা) এজাবুল হক বুলি।

    আর এসুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্লাস গাফলতিসহ কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি কোন প্রকার তদারকি বা জবাবদিহিতায় ছিলেন না বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের কমার্স বিভাগের শিক্ষকগণ।

    ফলে এবছর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে কমার্স বিভাগের ফল বিপর্যয় ঘটে। এই বিভাগ থেকে ১১ জনে মধ্যে কেউ পাশ করেনি। বিজ্ঞান বিভাগে ১৬ জনের মধ্যে পাশ করেছে মোট ৭ জন। এছাড়াও কলেজের এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীদের মোট পাশের হার ৪৩%।

    জানা গেছে, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয় কমার্স শাখার ১১জন। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি। এনিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই কলেজের বিজ্ঞান শাখা থেকে ১৬ জন পরীক্ষা দিলেও পাশ করেছে মোট ৭ জন।

    আর মানবিক শাখা থেকে ২১৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ৯৫ জন। কলেজের পাশের হার ৪৩ ভাগ। বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের কমার্স বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন ৩ জন। কমার্স বিভাগের শিক্ষকগণ হচ্ছেন-শামীম আহমেদ, মজিবুর রহমান ও মাজকুরা খাতুন।

    এবিষয়ে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ক্ষুদ্ধস্বরে বলেন, আমাদেরকলেজের অধ্যক্ষ স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় দীর্ঘ ১১ মাস আত্মগোপনে ছিলেন। আর এই সুযোগে অধ্যক্ষের আস্থাভাজন কমার্স বিভাগের এই ৩জন শিক্ষক ক্লাস তো ঠিকমত করেই নি, কলেজের আসতেন মন মতো।

    কিন্তু, অধ্যক্ষ সাহেব তো নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং আস্থাভাজন ওই শিক্ষকদের কোন গাফলতি বা অনিয়মিত কলেজে আসা, এসব অধ্যক্ষের চোখেই পড়তো না। জবাবদীহিতার তো প্রশ্নই উঠে না। এতে ওই শিক্ষকগন ইচ্ছেমত চলেছেন। শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের কোন গুরুত্বই ছিলো না।

    ফলে কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার চরম ক্ষতি হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতেই কমার্স বিভাগের ফলাফলে এমন বিপর্যয়। শিক্ষকগণ অভিযোগ করে আরও বলেন, কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়।

    এছাড়া, এখনো কলেজের অধ্যক্ষ সাহেব ঠিকমতো কলেজে আসেন না। মাঝে মধ্যে আসলেও, সেটা ক্ষনিকের জন্য। তাই কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম ওভাবেই চলছে। সব মিলিয়ে এবছর কলেজের কমার্স ও বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল বিপর্যয়ের কারন অধ্যক্ষ এবং অধ্যক্ষের আস্থাভাজন শিক্ষকগন।

    ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ফল বিপর্যয়ের কারণ (কেউ পাস না করা) হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা গেছে, এ বিভাগের শিক্ষকরা ঠিকমত যেমন ক্লাস নেননা, তেমনি ক্লাস করার যোগ্যতাও রাখেন না। অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগের রসায়নের প্রভাষক ২০২৩ সালে অবসরে গেলেও শিক্ষক পদ শূন্য জানিয়ে চাহিদা না দেয়ায় এ কলেজে রসায়নের প্রভাষক এখন পর্যন্ত পদায়ন করা হয়নি।

    এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক জানান, চাহিদা দিলেই ক্যাডার পদের শিক্ষক এসে যদি নন ক্যাডার অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে বসেন, সেই আতঙ্কে অধ্যক্ষ রসায়ন শিক্ষকের চাহিদা পর্যন্ত দেননি।

    আর গণিতের শিক্ষক অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক নিজেই হওয়ায় এবং তিনি চাকরী জীবনে কখনো-ই একটি ক্লাস না নেয়ায় এ কলেজে কমার্স ছাড়াও বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফলও প্রতিবারই খারাপ হয়।

    এছাড়া, পদার্থ বিদ্যার প্রভাষক ক্লাসের ক্ষেত্রে অমনোযোগী এবং ক্লাসে কিছু বোঝাতে পারেননা বলে বিজ্ঞান বিভাগে ফেল করা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে কলেজে সার্বিক ফলাফল খারাপের পিছনে অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হকের অযোগ্যতা, কলেজে তার নিয়মিত অনুপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের নিজ ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার, বিশেষ করে ফেল করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে তাকে বাঁচানোর জন্য ডিসি অফিস ও বিভিন্ন তদ্বির কাজে ব্যবহার করা অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।

    কারণ তিনি গত জুলাই আন্দোলন থেকে বছরাধিক ধরে কলেজে অনুপস্থিত থেকে কলেজকে অস্থিরতার মধ্যে রেখেছেন।

    এদিকে, একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, কমার্স এবং বিজ্ঞান শাখার এ ক’জন শিক্ষক অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলির সমর্থক হওয়ায় তারা পলাতক বুলিকে বাঁচানোর চেষ্টায় সব সময় ব্যস্ত থাকেন। ফলে কলেজে শিক্ষার মান খারাপের দিকে চলে গেলেও কোন গুরুত্ব, মাথাব্যাথা বা অনুশোচনা, কোনটায় নেই ওই শিক্ষকদের।

    এ কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলি’কে বরখাস্ত করে নতুন অধ্যক্ষ পদায়ন না হলে কলেজটির মান ধ্বংসের দিকেই যেতে থাকবে।

    উল্লেখ্য, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক কয়েকটি ফৌজদারী মামলার আসামী এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকটি তদন্ত হয়েছে, যেখানে তার বহু প্রকার অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষায় আছে।

    শিক্ষানুরাগীদের দাবী, দেশের একজন অতি সম্মানিত ব্যক্তি, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর নামে হওয়া কলেজে-স্বৈরাচারের দোষর এবং এমন বিতর্কিত ও নানা অনিয়মের সাথে জড়িত অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলিকে কলেজ থেকে অপসারন করে একজন যোগ্যতা সম্পন্ন অধ্যক্ষ পদায়নের। উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়।

  • ‘মার্চ টু সচিবালয়’ হাইকোর্টের সামনে শিক্ষকদের পুলিশি ব্যারিকেড

    ‘মার্চ টু সচিবালয়’ হাইকোর্টের সামনে শিক্ষকদের পুলিশি ব্যারিকেড

    ২০ শতাংশ বাড়িভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাজধানীতে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি শুরু করেছেন।মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

    তবে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরুর আগেই হাইকোর্ট মাজারগেট এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। শিক্ষা ভবন মোড়ের আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    এ সময় দোয়েল চত্বর থেকে মৎস্য ভবন ও বিপরীতমুখী সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের জলকামানও।

    আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, সরকারের প্রস্তাবিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির হার ‘অপর্যাপ্ত ও অবাস্তব’। তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাতা, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা প্রদানসহ সার্বজনীন বদলি নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

    শিক্ষক নেতারা বলেন, “আমাদের কর্মবিরতি চলবে। ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষক শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।”

    এর আগে গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে সংগঠনের নেতাদের আহ্বানে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন এবং লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

    এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৩ অক্টোবর) থেকে সারাদেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

  • চাচিতারা সপ্রাবি‘তে ‘টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি-২০২৫

    চাচিতারা সপ্রাবি‘তে ‘টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি-২০২৫

    সারাদেশের ন্যায় সাটুরিয়া উপজেলাধীন সকল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনী হতে নবম শ্রেণীর শিশুদের ‘টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি-২০২৫ অব্যাহত রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সরকার সারাদেশে ৫ কোটিরও বেশি শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) প্রদান করবে।

    আজ মঙ্গলবার সাটুরিয়া উপজেলাধীন চাচিতারা সরকারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লক্ষ্য করা গেছে টিকাদান কর্মসূচীর ব্যস্ততা। অভিভাবকসহ শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতিতে টিকা প্রদানে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন টিকাপ্রদানকারী কর্মীরা।

    এ ব্যাপারে টিকাপ্রদানকারীকর্মী, দিঘলীয়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা সহকারী (এসডব্লিউএ) রত্না আক্তার জানান, এবারকার টিকা প্রদানে আমরা শিশুদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতাও আশানুরুপ। সব মিলিয়ে আশা করছি, আমরা এবার শতভাগ টিকা নিশ্চিত করতে পারবো।

    টিকা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি আরো জানান, অভিভাবকদের আগে অনলাইনে vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে শিশুদের জন্মসনদ অনুসারে নাম নিবন্ধন করতে হচ্ছে। নাম নিবন্ধনে সাহায্য করছেন নিদিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সকল সহকারী শিক্ষকগণ। তারপর আমরা নিদিষ্ট রেজিস্ট্রৈশন দেখে শিশুদের টিকা প্রদান করেছি।তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছেন, জন্মসনদ না থাকলেও কোনো শিশু বাদ যাবে না। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সব শিশুকে শতভাগ টিকার আওতায় আনা।

    উল্লেখ্য, সারাদেশে ১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত প্রথম ধাপে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়া হবে- যার মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা (আলিয়া ও কওমি) এবং ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে টিকা দেওয়া হবে ১ থেকে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।

    টাইফয়েড জ্বর বাংলাদেশের সবচেয়ে মারাত্মক টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগগুলোর মধ্যে একটি, যা সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। এই রোগ নির্মূল করাই টিকাদানের মূল লক্ষ্য।’

  • শিবগঞ্জকে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণা

    শিবগঞ্জকে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ “শিশুর শৈশব মানেই খেলাধুলা, শিক্ষা আর
    রঙিন স্বপ্ন”-কিন্তু বাল্যবিবাহ নামের অমানিশা সেই শৈশব কেড়ে নিয়ে ভবিষ্যৎকে করে দেয় অন্ধকার। অবশেষে সেই অন্ধকার ভেদ করে নতুন ইতিহাস গড়ল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা।

    বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়ো-জিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, শিবগঞ্জ এখন বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপ-জেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আজাহার আলী।

    অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজু উইলিয়াম রোজারিও, উপ- পরি-চালক (ফিল্ড অপারেশন, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চল), ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ রবিউল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম কিবরিয়া।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দুর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুহাঃ আযম আলী, মোরগপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাহমুদুল হক (হায়দারি), শাহবাজপুর জামে মসজিদের ইমাম মোঃ তহসিন এবং অন্যান্য জন-প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন।

    অনুষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল “স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল এন্ডবিহেভিয়ার চেঞ্জ প্রকল্প, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।” স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার এরিয়া কো-অর্ডিনেশন (রাজশাহী অফিস) লোটাস চিসিম।

    অনুষ্ঠানের আবেগঘন মুহূর্ত ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের এক কিশোরী সুমিতা খাতুন, যিনি বাল্যবিবাহের হাত থেকে ফিরে এসেছেন, সাক্ষ্য হিসেবে তার জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কণ্ঠ ভারী করে তিনি বলেন— “আজ আমি পড়াশোনা করছি, স্বপ্ন দেখছি। এই ঘোষণা আমাকে নতুন জীবনের সাহস দিয়েছে।”

    একজন মা চোখ ভিজে গিয়ে বলেন, “আজ থেকে আমি নিশ্চিত হলাম, আমার মেয়ের জীবন আর বাল্যবিবাহের অন্ধকারে হারাবে না।” বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ কেবল একটি শিশুর নয়, বরং পুরো জাতির স্বপ্নকে ধ্বংস করে।

    শিবগঞ্জের এই ঘোষণা শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি শিশুদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার। শিক্ষার্থীরা এদিন শপথ নেয় তারা শিক্ষার আলোয় নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়বে এবং সমাজে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রাণের উচ্ছ্বাসবাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণার পর আয়োজন করা হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, কবিতা আর নাচে ভরে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাসে প্রমাণ হয় তাদের স্বপ্ন এখন মুক্ত আকাশে ওড়ার।

    শিবগঞ্জের এই ঐতিহাসিক ঘোষণা কেবল একটি উপজেলার নয়—বরং এটি গোটা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণা। এ পথ ধরে এগোলে অদূর ভবিষ্যতেই বাংলাদেশ হবে “বাল্যবিবাহমুক্ত দেশ”।

  • জাকসুর ভিপি জিতু, জিএস মাজহার

    জাকসুর ভিপি জিতু, জিএস মাজহার

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেলের আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মাজহারুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।

    এছাড়া এজিএস (ছাত্র) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ফেরদৌস আল হাসান এবং এজিএস (ছাত্রী) পদে একই প্যানেলের আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা জয় পেয়েছেন।

    শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সিনেট কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব ড. রাশেদুল আলম।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান।নির্বাচিত ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা-মূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। এছাড়া নবনির্বাচিত জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

    এছাড়া সহসাধারণ সম্পাদক-এজিএস (পুরুষ) পদে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফেরদৌস আল হাসান ও এজিএস (ছাত্রী) পদে দর্শন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু উবায়দা উসামা, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পাদক পদে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সাফায়েত মীর, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ জিসান আহমেদ, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দিন, নাট্য সম্পাদক পদে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী রুহুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।

    অন্যান্য নির্বাচিত প্রতিনিধিরা হলেন-ক্রীড়া সম্পাদক পদে বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের মাহমুদুল হাসান কিরণ, সহক্রীড়া (ছাত্র) পদে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাদী হাসান, সহক্রীড়া (ছাত্রী) পদে গণিত বিভাগের ফারহানা লুবনা, তথ্য প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার পদে ফার্মেসি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের রাশেদুল ইমন লিখন, সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন পদে আহসান লাবিব ,সহ-সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন পদে মাইক্রোবায়োলজি (ছাত্র) তৌহিদ ইসলাম, সহ-সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন (ছাত্রী) পদে ফার্মেসি বিভাগের নিগার সুলতানা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের হুসনী মোবারক, পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের তানভীর রহমান।

    এছাড়া কার্যকরী সদস্য পদে রয়েছেন-ফাবলিহা জাহান, নাবিলা বিনতে হারুন, নুসরাত জাহান ইমা, হাফেজ তরিকুল ইসলাম, আবু তালহা, ও মোহাম্মদ আলী চিশতী।

    ৩৩ বছর পর গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৫৯ জন।

    ভোট পড়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের জন্য ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভিপি পদে ৯ জন, জিএস পদে ৮ জন, এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জন নারী।

    এবারের জাকসু নির্বাচনে পূর্ণ ও আংশিক মিলে মোট ৮টি প্যানেল অংশ নেয়। তবে ভোটগ্রহণ শুরুর পর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলসহ ৫টি প্যানেল ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করে।

    বর্জন করে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ এবং স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ। এছাড়া ছাত্র ফ্রন্টের একাংশের একটি প্যানেল ও কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচন বর্জন করেন।

     

  • জাকসুতে হল সংসদে ভিপি ও জিএস হলেন যারা

    জাকসুতে হল সংসদে ভিপি ও জিএস হলেন যারা

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে চলছে হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের ফল ঘোষণা। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ফল ঘোষণা শুরু হয়।

    আল বেরুনী হল: ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন রিফাত আহমেদ শাকিল ও জিএস পদে জয় পেয়েছেন মুনতাসির বিল্লাহ খান।নবাব জয়জুন্নেসা হল: ভিপি পদে বুবলি আহমেদ (মার্কেটিং, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) ও জিএস সুমাইয়া খানম জয় পেয়েছেন।

    জাহানারা ইমাম হল: ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন মাহমুদা খাতুন (গণিত) ও জিএস পদে রিজওয়ানা বুশরা (পাবলিক হেলথ) জয়লাভ করেছেন।

    ১০ নম্বর ছাত্র হল (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব): ভিপি পদে আসিফ মিয়া (সরকার ও রাজনীতি) ও জিএস মেহেদী হাসান (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) জয়লাভ করেছেন।
    ১৫ নম্বর ছাত্রী হল: ভিপি পদে শারমিন রহমান (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), জিএস পদে মেহনাজ মোহনা জয়লাভ করেছেন।

    শহীদ সালাম-বরকত হল: ভিপি পদে মারুফ হোসেন (রসায়ন) ও জিএস মাসুদ রানা (ইতিহাস) জয় পেয়েছেন।
    সুফিয়া কামাল হল: জান্নাতুল নাইম জেরিন ভিপি পদে ও রুবিনা জাহান তিথি জিএস পদে জয় পেয়েছেন।

    মওলানা ভাসানী হল: ভিপি পদে আব্দুল হাই স্বপন (গণিত) ও জিএস পদে হৃদয় পোদ্দার (লোক প্রশাসন) জয়লাভ করেন।
    মীর মশাররফ হল: ভিপি পদে খালেদ জুবায়ের ও জিএস পদে শাহরিয়ার নাজিম হৃদয় জয় পেয়েছেন।

    তারামন বিবি হল: ভিপি পদে ফারজানা আক্তার ঊর্মি ও জিএস পদে প্রিয়াঙ্কা কর্মকার জয়লাভ করেছেন।

    কামাল উদ্দিন হল: ভিপি পদে রায়হান কবির ও জিএস আবরার শাহরিয়ার জয়লাভ করেছেন।

    রোকেয়া হল: ভিপি পদে তাফমিম খানম ও জিএস পদে নাবিলা মাহজাবিন জয়লাভ করেছেন।

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল: ভিপি পদে রাকিবুল ইসলাম ও জিএস পদে আলী আহমেদ জয়লাভ করেছেন।

    ২১ নম্বর ছাত্র হল: ভিপি পদে শিহাব ও জিএস পদে অলি উল্লাহ জয়লাভ করেছেন।

    রফিক জব্বার হল: ভিপি মেহেদী হাসান ও জিএস শরিফুল ইসলাম জয় পেয়েছেন।

    ফজিলাতুন্নেছা হল: ভিপি পদে ঐশী সরওয়ার ও জিএস পদে ফারজানা তাবাসসুম জয়লাভ করেছেন।

    তাজউদ্দিন আহমেদ হল: ভিপি পদে সিফাত উল্লাহ ও জিএস পদে মাহমুদুল হাসান শাকিল জয় পেয়েছেন।

    রবীন্দ্রনাথ হল: ভিপি পদে অনিক কুমার বণিক ও জিএস মাহমুদুল হাসান ইমন পদে জয়লাভ করেছেন।

    বেগম খালেদা জিয়া হল: ভিপি পদে ফারহানা রহমান রিথি ও জিএস পদে জাতিমাতুজ জোহরা নির্বাচিত হয়েছেন।

    প্রীতিলতা হল: ভিপি পদে সুমাইয়া আক্তার ও জিএস পদে ইকফা রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

    ১৩ নম্বর ছাত্রী হল: ভিপি পদে নাহদাতুন হাসানা ও জিএস পদে মহসীনা আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন।