Category: সারাদেশ

  • মানিকগঞ্জের সাবেক এমপি মমতাজ গ্রেপ্তার

    মানিকগঞ্জের সাবেক এমপি মমতাজ গ্রেপ্তার

    মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।সোমবার (১২ মে) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ডিবির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম বলেন, মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে।” তবে সুনির্দিষ্ট কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানা যায়নি।

    বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী মমতাজ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদের সদস্য হন। পরে নির্বাচিত হন নৌকা প্রতীকে। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।

    এরই মধ্যে মমতাজ বেগমের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

    গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে ছিলেন মমতাজ বেগম। তবে ফেইসবুক পেজে অজ্ঞাত স্থান থেকে গান পোস্ট করে আলোচনায় আসেন তিনি।

  • পুলিশের হাতে আর মারণাস্ত্র থাকবে না- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    পুলিশের হাতে আর মারণাস্ত্র থাকবে না- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশের হাতে আর মারণাস্ত্র থাকবে না। তাদের কাছে থাকা মারণাস্ত্র জমা দিতে হবে।” সোমবার (১২ মে) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে উপদেষ্টা এ কথা জানান।

    তিনি বলেন, আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুলিশের হাতে যাতে আর কোনো মারণাস্ত্র না থাকে। এগুলো তাদের জমা দিতে হবে। কোনো মারণাস্ত্র পুলিশের হাতে থাকবে না। অস্ত্র থাকবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সদস্যদের হাতে। তাদের কাজ কিন্তু অন্য পুলিশের থেকে একটু ভিন্ন।”

    কবে থেকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আজকে কেবল মিটিংয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলো।সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তো একটু সময় লাগে।”

    জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুলিশের কাছে রাইফেলও থাকবে না তা নয়। তাদের কাছে রাইফেল থাকবে।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি অন্য বিষয়ের সঙ্গে পুলিশকে মারণাস্ত্র  না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি দেখবে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

     

  • আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি

    আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি

    আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ সোমবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন এরই মধ্যে হয়ে গেছে। অধ্যাদেশ অনুসারে বিষয়টি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের। এর আগে শনিবার (১০ মে) অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

    তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।

    তিনি আরও জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

  • আন্দোলনে আপত্তিকর স্লোগান নিয়ে এনসিপির ব্যাখ্যা প্রদান

    আন্দোলনে আপত্তিকর স্লোগান নিয়ে এনসিপির ব্যাখ্যা প্রদান

    সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে আপত্তিকর স্লোগান নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (১২ মে) সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এনসিপি জানায়, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে আপত্তিকর স্লোগান নিয়ে জনমনে যেসব প্রশ্ন উঠেছে তার দায় দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষকেই বহন করতে হবে। এনসিপিকে এর সাথে জড়ানো সম্পূর্ণ অহেতুক এবং অনাকাঙ্খিত।

    বিবৃতিবে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের বিধান যুক্ত করা, এবং জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র জারি করার দাবিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মত, পক্ষ এবং সাধারণ ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করলেও একটি পক্ষ সচেতনভাবে দলীয় স্লোগান এবং বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক সংগ্রাম বিরোধী স্লোগান দিয়েছে। যা জুলাই পরবর্তী সময়ে সাম্প্রতিক আন্দোলনে জাতীয় ঐক্য নবায়নের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।

    দলটির দাবি, এনসিপির কোনো সদস্য সাম্প্রতিক আন্দোলনে দলীয় স্লোগান কিংবা এই জনপদের মানুষের সংগ্রাম ও ইতিহাসবিরোধী কোনো স্লোগান দেয়নি। ফলে যেসব আপত্তিকর স্লোগান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষটিকেই বহন করতে হবে।

    এনসিপিকে এর সাথে জড়ানো সম্পূর্ণ অহেতুক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এনসিপি সদস্যদের বক্তৃতা ও স্লোগানে এই জনপদের মানুষের ঐতিহাসিক সংগ্রামের অধ্যায়সমূহ তথা ১৯৪৭, ১৯৭১, এবং ২০২৪ এর প্রতিফলন ছিল উল্লেখ করে বলা হয়। আমরা আরো লক্ষ্য করেছি, আন্দোলনকারীরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার সময় একটি পক্ষ আপত্তি জানালেও তারা দৃঢ়তার সাথে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে।”

    “এনসিপি মনে করে, বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহাসিক সংগ্রামের অধ্যায়সমূহ তথা, ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ এর যথাযথ স্বীকৃতি এবং মর্যাদা বাংলাদেশে রাজনীতি করার পূর্বশর্ত। যারা ১৯৭১ সালে এই জনপদের মানুষের জনযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, আমরা চাই তারা নিজেদের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান জাতির সামনে ব্যাখ্যা করে জাতীয় সমঝোতা ও ঐক্যকে সুদৃঢ় করবে এবং চব্বিশের অভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে সহযোগী হবে।”

    এনসিপি মনে করে, কোনো রাজনৈতিক দল বা পক্ষের পূর্বেকার রাজনৈতিক অবস্থান বা আদর্শের কারণে ইতিপূর্বের বিভাজন ও অনৈক্যের রাজনীতির সূত্রপাত ঘটলে, সংশ্লিষ্ট দল বা পক্ষের দায় রয়েছে বাংলাদেশের মানুষের সামনে নিজেদের সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করে জাতীয় ঐক্যের পথে হাঁটার।

    বাংলাদেশের জনগণের মধ্যকার বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমেই কেবল মুজিববাদকে সামগ্রিকভাবে পরাস্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।” বাংলাদেশের জনগণের সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য সকল পক্ষকে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানায় এনসিপি।

    অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের দাবির মুখে শনিবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

    টানা ৩ দিনের আন্দোলনের পর ১১ মে রাতে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভা শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের দাবিতের আন্দোলন চলাকালে কিছু আপত্তিক স্লোগান দেওয়া হয় যা নিয়ে পরবর্তীতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষতি এনসিপি আজ এ বিবৃতি দিলো।

     

     

  • শিবগঞ্জে গোলাম আজমের খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

    শিবগঞ্জে গোলাম আজমের খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পবিত্র        রমজান মাসে প্রকাশ্য দিবালোকে পরিবারের সামনে নির্মমভাবে খুন
    হন স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম আজম। ঘটনার প্রায় দুই মাস পার হলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি কোনো আসামি।

    এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা। দীর্ঘদিন পরেও খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় থানার ওসির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পরিবার ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয় রবিবার (১১ মে) শিবগঞ্জ পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আয়োজনে শিবগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও সংস্কার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন মেহেদী, শিবগঞ্জ পৌর শাখার সভাপতি এসএম মহিউদ্দিন, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্ধসঢ়;-দৌলা। এছাড়া নিহতের বাবা আব্দুল খালেক, মা রহিসা বেগম, স্ত্রী হালেমা খাতুন, বোন খালেদা বেগম এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অংশ নেন।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, ১৮ রমজান (১৯ মার্চ/২৫) বিকেলে কুখ্যাত সন্ত্রাসী মো. আলমগীর ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে হামলা চালায় গোলাম আজমের ওপর। পরিবারের সামনেই তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, ২২ মার্চ রাতে তিনি মারা যান।

    পরদিন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করে শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কোন অজ্ঞাত কারনে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ গোলাম আজম এর খুনিদের গ্রেফতার করছে না।

    এই হত্যাকান্ড নিয়ে থানার ওসি গোলাম কিবরিয়ার ভূমিকা নিয়েও নানা সমালোচনা করেন গোলাম আজম এর পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী অনেকটা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। গোলাম আজম এর খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচী দেয়ারও হুশিয়ারী দেন মানববন্ধনে বক্তারা।

    এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বলেন, গোলাম আজম হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে আমরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শিগগিরই সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনন্দ মিছিল

    আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনন্দ মিছিল

    ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত অবশেষে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তরবর্তী সরকার। এই খবর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে উল্লাসে ফেটে পড়ে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো।

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীর জরুরি বৈঠক শেষে আওয়ামীলীগ কে নিষিদ্ধের পর তাৎক্ষণিকভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনন্দ মিছিল করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জামাত ইসলামী বাংলাদেশ।

    বিজয় উল্লাসে শ্লোগান শুরু হয় ‘এই মুহূর্তে খবর এলো, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলো’, এই মুহূর্তে খবর এলো, সন্ত্রাসীলীগ নিষিদ্ধ হলো; হৈ হৈ রৈ রৈ, সন্ত্রাস লীগ গেলি কই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বড় ইন্দারা মোড়ে আনন্দ মিছিলের জন্য জমায়েত হয় বাংলা-দেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার অঙ্গসংঠনের নেতৃবৃন্দ। রাত পোনে বারাটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আয়োজনে বড় ইন্দারা মোড় থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়।

    বিভিন্ন স্লোগানে শহরের শান্তি মোড়ে মিছিল সমাপ্ত হয় এবং সেখানে পথসভা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুজার গিফারী, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু বকরসহ অন্যরা।

    এতে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার আমীর হাফেজ আব্দুল আলিম, পৌর আমীর হাফেজ গোলাম রাব্বানী ও ছাত্র শিবিরের শহর সভাপতি আব্দুল আজিজসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী। শনিবার (১০ মে) রাতে অন্তরবর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি ছাত্রশিবির, খেলাফত মজলিশ, দ্য রেড জুলাইসহ বিভিন্ন সংগঠন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ মিছিলে অংশ নেন। জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু বকর, সদর উপজেলার আমীর হাফেজ আঃ আলিম, পৌর আমীর হাফেজ গোলাম রাব্বানী ও ছাত্র শিবিরের শহর সভাপতি আব্দুল আজিজসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা রাতে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশজামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করেছে।

    অন্তবর্তীকালীন সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, কোনো ফ্যাসিস্ট ও তার দোসরদের পক্ষ অবলম্বনকারী কোনো উপদেষ্টা যদি থেকে থাকে, তাহলে তাদের সেখান থেকে বিদায় দিতে হবে। তা না হলে জুলাই বিপ্লব ক্ষত-বিক্ষত হবে এবং প্রশ্নবিদ্ধ হবে। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

    তিনি বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার চাইলে অনেক আগেই আওয়ামী-লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু কোন অজানা কারণে সরকার তা করে নাই। সেটি আমাদের কাছে পরিষ্কার। সরকারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ফ্যাসিস্টদের দোসর। নুরুল ইসলাম বুলবুল আরো বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামীলীগ একটি জুলুমবাজ দলে পরিণীত হয়েছিল এবং জুলুমকারী হিসেবে জনগণের

    সামনে আবির্ভূত হয়েছিল।এই আওয়ামীলীগ জনগণের অধিকারকে নষ্ট করেছে, রাষ্ট্র শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতের আমির থেকে শুরু করে ১১ জন নেতাকে বিচারিক হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে দুনিয়া থেকে শেষ করে দিয়েছে।

    নেতাকর্মীদের কারাগারে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছিল আওয়ামী লীগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের উপর নির্যাতনের স্ট্রিম রোলার  চালিয়েছিল।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণের আমির আরো বলেন, একটি রাজনৈতিক দল জুলাই আন্দোলনে তাদের কোনো ভূমিকা নেই ঘোষণা দিয়েছিল। তারপরে আবার তাদের নেতাই মাস্টার মাইন্ড সেই ঘোষণাও দিয়েছে।

    আর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তারাই এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অন্য কেউ নেতৃত্ব দেন নাই। জুলাই আন্দোলনে যারা সিপাহসালার এবং বৈষম্যবিরোধী  যারা জাতীয় নেতা, তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য (বিএনপি) পদক্ষেপ নিয়েছে।

    জুলাই আন্দোলনের সাধারণ আন্দোলন ঘোষণা দিয়ে তারা (বিএনপি) প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছে। এছাড়া সেই রাজনৈতিক দল প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের বিষয়ে একমত পোষণ করেনি। তারা আওয়ামী লীগের বিচারের বাইরে একমত পোষণ করেনি। আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য তারা ঐকমত্য পোষণ করেনি।

    ছাত্ররা দাবি জানিয়েছিল, আগস্ট বিপ্লবের সনদে স্বাক্ষর করতে হবে, সেই স্বাক্ষরও তারা করতে রাজি হয়নি। এই দেশের ছাত্র-জনতা সংস্কার চাই, তারপরে নির্বাচন চাই, কিন্তু ওই দল সংস্কার চাই না, তারা যেনতেনভাবে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়।

    উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ  আওয়ামীলীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের
    নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামীলীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে বলেও জানানো হয়।

    পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চুড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে গত তিন দিন ধরে টানা
    কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ ছাত্র-জনতা। এমন পরিস্থিতিতে অন্তরবর্তী সরকার আওয়ামীলীগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাল।

    অন্যদিকে, একই সময় রাতে    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি আনন্দ মিছিল বের করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকরা।

  • আমার মা ‘বিশ্ব সেরা’

    আমার মা ‘বিশ্ব সেরা’

    আমার মা বাল্যশিক্ষা পর্যন্ত পড়া। বাবা পঞ্চম শ্রেণী পাশ ছিলেন। বাবা কৃষিকাজ ও ডিলারী করতেন। সে-কালে ডিলারদের অনেক মূল্য ছিল। সরকারের সমস্ত রিলিফ স্বল্প মূল্যে ডিলারদের মাধ্যমে জনগনের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া হতো। সাধারনত সৎ ও ভাল মনের মানুষদেরকেই ডিলার হিসাবে নিয়োগ দেয়া হতো। আর ডিলারী ব্যবসাটা আমাদের পৈতৃক ব্যবসা। সেজু ভাই এখনো বাবার ডিলারী ব্যবসা ধরে রেখেছেন।

    আমাদের বাড়ী, ‘ডিলার বাড়ী’ হিসাবে পরিচিত। সাটুরিয়া উপজেলার না হলেও; অন্তত দিঘলীয়া ইউনিয়নের প্রত্যেক গ্রামের মানুষই আমার বাবাকে কম-বেশী চিনেন। আমার বাবার নাম হাবিবুর রহমান হলেও সকলে ‘হবি ডিলার’ হিসাবে বেশী চিনেন।

    আমাদের বাড়ীতে রিলিফের মাল ডেলিভারি দেওয়ার দিন, হাজারো মানুষের উল্ল্যাস, চেঁচামেচি আর হাঁক-ডাক লেগেই থাকতো। বাবার সকল কাজের প্রধান সাহায্যকারী, পরার্মশক কিম্বা বিষান্নতাভোগি ছিলেন আমার মা ‘জাবেদা বেগম’।

    সে কালে মেয়েরা স্বামীর নাম ধরে ডাকতো না-অমঙ্গলের আশঙ্কায়। তাছাড়া এটি ছিল স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অঘাত ভালবাসা এবং সীমাহীন শ্রদ্ধায় বিষয়। মা বাবাকে ‘এ্যাঁদু শুনছ নাকি’ বলে ডাকতো। চাল, চিনি, ডাল, লবন ও তেল বিতরণ করার জন্য আমাদের বাহির বাড়ীতে আলাদা একটি ঘর ছিল। যাকে আমরা ‘বাংলাঘর’ বলে জানতাম। সারা দিন ‘বাংলাঘরে’ বাবা চাল, চিনি. ডাল. লবন ও তেল বিলি করতেন আর নালিশ জমা হতো মায়ের রান্না ঘরে।

    নালিশের পাল্লা অধিক- ভরি হলে মা রান্না ঘর হতে বাহির হয়ে ‘বাংলাঘরের’ পাশে গিয়ে হালকা স্বরে কাশ দিতেন। হাজারো লোকে ভীড়ে থাকলেও বাবা মায়ের সেই কাশের স্বর বুঝতে পারতেন। তাৎক্ষণিক তিনি সকল কাজ রেখে – মায়ের সাথে কথা বলার জন্য বাহিরে ছুঁটে আসতেন এবং ক্যাচু-ম্যাচু হয়ে বলতেন কি হয়েছে তাড়াতাড়ি বল।

    মা, হুকুমের সুরে বলতেন, ছমিরন চাল, ডাল ও চিনি পায়নি কেন? ওর পরিবারে তিন জন লোক। হিসাব অনুয়ায়ী সে ছয় কেজী চাল, দুই কেজী ডাল ও এক কেজী চিনি পাওয়ার কথা। নয়া মিয়াকে দিয়ে চাল, ডাল, ও চিনি রান্না ঘরে পাঠিয়ে দিও। টাকার জন্য চিন্তা করো না। ওটা আমার কাছে জমা দিয়েছে। মায়ের কথা মত চাল, ডাল ও চিনি রান্না ঘরে পৌঁছিয়ে যেত। বাবার শতঃ ইতস্ততায় কোন ফয়দা হতো না।

    এ দিকে ছমিরন রান্না ঘরে, বসে উনুঁনে আগুন দিয়ে ফুপিঁয়ে ফুপিঁয়ে কাঁদতো- ভাউজ কি করি, কি করি বলে। মায়ের হাত হতে চাল, ডাল ও চিনি পেয়ে বাড়ী যাবার সময় সে মায়ের পা ছুঁতে চাইলে, মা তাকে বুঁকে জড়িয়ে নিতেন। ছমিরণ, বাউজ! বাউজ! বলে আবেগে মায়ের বুঁকে ঢলে পড়তো। তখনকার সমাজে অর্থহীন বিত্তহীন ছমিরণদের একমাত্র ভরসা ছিলেন আমার মা। এই সকল ঘটনা, এক-দুই দিনের নয়, নিত্যই আমাদের বাড়ীতে ঘটতে দেখেছি।

    অবসর সন্ধ্যায়, পাড়ার আফাজ পাগলা, রসুলদী কাকু, সুলতান মাষ্টার, জিন্দা পাগলা, মজিবর ডাক্তার, আকালী কাকু আমাদের বাড়ীতে আসতেন। বাড়ীর উঠানে জমিয়ে বৈঠকি গানের আসর বসতো। বাবার কন্ঠে –‘সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে.. গানশুনে মা খুব কান্না কাটি করতেন। আমি তখন ছোট। মায়ের কোলে বসে ফ্যাঁল-ফ্যাঁলিয়ে সকলের দিকে তাকিয়ে থাকতাম।

    বাবা প্রায়ত হয়েছেন আজ প্রায় ২৫ বছর। মায়ের বয়স এখন ৯৭ এর কাছাকাছি। ভাল ভাবে চোখে দেখেন না। আমাদের চাচিতারা বাজার সংলগ্ন চল্লিশ শতকের বাড়ীর ছোট একটি ঘরে মা থাকেন অনেকটা একাকী ও নিবৃত্তচারী হয়ে। আমরা তিন ভাই ঢাকা থাকি। সকলের-ই, সময়ের খুব অভাব। মায়ের খোজঁ-খবর তেমন রাখতে পারি না। কিন্তু মা নিত্যই আমাদের খোজঁ-খবর রাখেন। সাপ্তাহের প্রতি শুক্রবার তিনি নির্ঘুম রাত কাটান-আমাদের বাড়ী আসার পথ চেয়ে। শুবার ঘরের বারান্দায় এসে বসে থাকেন, আর মাঝে মাঝে হাকঁ তুলেন ‘বৌমা কে এলো গো..বলে।

    আমি মায়ের ছোট সন্তান। ছোট থেকেই মায়ের আদরের। এখন বড় হয়েছি, তাই আর মায়ের কাছে তেমন বসা হয়না। প্রতি দিনের মতো খাবার শেষে মায়ের আচঁলে হাত মুছাঁ হয়না, মায়ের কাছে বায়না ধরতে হয় না। মায়ের নতুন কাথাঁ সিলায়ের পাটিতে গড়াগড়ি দিতে হয় না। কিম্বা মায়ের আচঁলের খিটঁ খোলে টাকাও চুরি করতে হয় না। এখন, বৌয়ের মরমী আচলের সুঘ্রান- সুভাশে মায়ের ভালবাসাকে সমাধি দিয়েছি।

    আজ ‘বিশ্ব মা দিবস’। তাই কাগজে দুই-ছত্র লিখে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ জানালাম। জানি, এটি নিন্দণীয়। তবু মনের আবেগ-ও প্রসন্নতাকে জন- সমাজে প্রচারে মন চায়।

    পৃথিবী বড়ই অদ্ভূত। জন্মদাত্রী এখানে অ-প্রয়োজনে অশ্রাহীনা হয়। ব্যক্তিক সুযোগ- সুবিধার কাছে এখানে, ভগবান অসহায়। ভালো লাগা আর ভালবাসা এখানে বিনিময়ে বিক্রি হয়। কিন্তু মাতৃত্ব- আর পিতার ভালবাসা কালের স্রোতের মতই বহমান থেকে যায়।

    মা ,আমি বড় অসহায়, অভাগা ছেলে। আজ ‘বিশ্ব মা দিবস। অবনত মস্তককে তোমাকে প্রনাম করছি। সময়ের ভেড়া জালে আমরা জাগতিক। কিন্তু তোমার ভালোবাসার শূণ্যেতা আমাদের সব সময় কাঁদায়। এই বিশ্ব মা দিবসে সকল মায়ের প্রতি অগাত শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানাই।

    মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টি-মানিকগঞ্জ জেলা শাখা।

     

  • আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধে আমরা আনন্দিতঃ ফখরুল

    আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধে আমরা আনন্দিতঃ ফখরুল

    আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তে বিএনপি আনন্দিত বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।রবিবার (১১ মে) এক বিবৃতিতে এ কথা জানান তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আনন্দিত যে, বিলম্বে হলেও গত রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফ্যাসীবাদী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত করার এবং বিচারকার্য নির্বিঘ্ন করার স্বার্থে ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গে যুক্ত সব সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাৃখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন করে ফ্যাসিবাদী দলের বিচার করার সিদ্ধান্তকে আমরা সঠিক বলে মনে করি।”

    তবে বিএনপির দাবি মেনে আরো আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে চাপের মুখে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিব্রতকর ও অনভিপ্রেত অবস্থায় সরকারকে পড়তে হতো না বলে উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব।

  • আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ: অন্তর্বর্তী সরকার

    আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ: অন্তর্বর্তী সরকার

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।শনিবার (১০ মে) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত ব্রিফিং করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

    বৈঠকে ৩টি সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে, যোগ করেন তিনি।

    আইন উপদেষ্টা ব্রিফিংয়ে আরো জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।

    ঘোষণায় তিনি বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতা–কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।”

    আজকের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে বলে জানান আইন উপদেষ্টা।

  • আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ তিন দফা দাবিতে ‘শাহবাগ ব্লকেড’

    আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ তিন দফা দাবিতে ‘শাহবাগ ব্লকেড’

    আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ তিন দফা দাবিতে চলছে ‘শাহবাগ ব্লকেড’। রাজধানীর শাহবাগে দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ছাত্র-জনতা। সারা রাতই সেখানে অবস্থান করেছেন বিক্ষোভকারীরা। রাতে জায়ান্ট স্ক্রিন দেখানো হয় জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে বিভিন্ন ডকুমেন্টারি, নাটক ও গান।

    এদিকে শাহবাগ মোড় ছাড়া দেশের অন্য কোনো হাইওয়ে ও রাজধানীর অন্য কোনো সড়ক বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার (১০ মে) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ আহ্বান জানান তিনি।

    হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,‘ঢাকার শাহবাগ ছাড়া ঢাকা বা সারা দেশের হাইওয়েগুলোতে ব্লকেড দিবেন না। জেলাগুলোতে স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত করুন, সমাবেশ করুন। কিন্তু ব্লকেড না। ব্লকেড খুলে দিন।’আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিকে শাহবাগ অবরোধের পর মিরপুর-১০, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে জড়ো হতে ফেসবুকে পোস্ট দেন অনেকেই। এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মহাসড়ক অবরোধের কথা শোনা যায়। তারই প্রেক্ষিতে শুধু শাহবাগ ছাড়া আর কোথাও ব্লকেড কর্মসূচি না রাখার আহ্বান জানালেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

    একইসঙ্গে তিন দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচিরও ঘোষণা করেছেন হাসনাত। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ বিকেল ৩টা থেকে শাহবাগে ছাত্র-জনতার গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে।

    ছাত্রজনতার এই তিন দফা দাবিগুলো হলো

    ১. আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করতে হবে

    ২. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের বিধান যুক্ত করতে হবে।

    ৩. জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে। শাহবাগে সারা রাত অবস্থানের পর সকালে লোক সমাগম কম দেখা গেছে। রাতেঅবস্থানকারীদের সিংহভাগই শাহবাগে ছেড়ে গেছেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোক সমাগমও বাড়বে বলে ধারণা।

    শনিবার (১০ মে) সকাল ৯টায় শাহবাগে সরেজমিনে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্র-জনতা সকাল থেকেই শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। কয়েকশ’ ছাত্র-জনতা বর্তমানে শাহবাগে অবস্থান করছেন।

    তারা ‘ব্যান ব্যান, আওয়ামী লীগ ব্যান’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এর মধ্যেই রাস্তার ওপর শুয় বিশ্রাম করছেন রাতে অবস্থান করা অনেকে। গতকালের মতো আজও বন্ধ রয়েছে শাহবাগে যান চলাচল। শাহবাগ মোড়ের প্রতিটি সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।