Category: সারাদেশ

  • সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বৃদ্ধি

    সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বৃদ্ধি

    ব্যবসায়ীদের বাড়ানো সয়াবিন তেলের দাম মেনে নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত রোববার সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা ও পাম তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ১৪ টাকা ও পাম তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ল।

    নতুন দাম অনুসারে, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে খরচ করতে হবে ১৮৯ টাকা, যা আগে ছিল ১৭৫ টাকা। পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২২ টাকা, যা ছিল ৮৫২ টাকা। বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের নতুন দাম হবে প্রতি লিটার ১৬৯ টাকা, যা ছিল ১৫৭ টাকা।

    এদিকে, এই একই দাম কার্যকর করতে গত রোববার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাক-চারার্স অ্যাসোসিয়েশন। এর একদিন পরে একই দাম ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    বাণিজ্য সচিবের রুমে ভোজ্যতেলের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করার পরে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে দাম বাড়ানোর কথা জানান।এর আগে ঈদের ছুটির পর ৬ এপ্রিল ও ৮ এপ্রিল তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে দুই দফা বৈঠক করা হয়েছিল। তবে ওই সময় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    এরপর ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ১৩ এপ্রিল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণার পরপর থেকেই নতুন দর কার্যকর হবে জানায় সংগঠনটি।

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কেন ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “এটা তারা করতে পারে না। আজ দাম চূড়ান্ত হয়েছে। তারা যদি আগে ঘোষণা দেয়, সেটা বেআইনি।

  • বৈষম্যমুক্ত  সমাজ প্রতিষ্ঠায়  দেশপ্রেমিকদের অংশগ্রহণ জরুরী-অধ্যক্ষ মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন

    বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় দেশপ্রেমিকদের অংশগ্রহণ জরুরী-অধ্যক্ষ মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন

    স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সকল প্রকার বৈষম্যমুক্ত  ইনসাফ ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে চায়’বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ঢাকা উত্তর অঞ্চল সহকারী পরিচালক ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসাইন। সোমবার পহেলা বৈশাখ দুপুরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি বাজারে সংগঠনের গণসংযোগ পক্ষ পালন এবং  বাংলা নববর্ষ  উপলক্ষে আয়োজিত সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় শেষে  স্থানীয় সাংবাদিকদের  সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা বলেন।

    অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসাইন আরো বলেন, ‘সকল ধর্মেই ন্যায় বিচার, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, সত্যের পক্ষে কাজ করার জন্য তাগিদ করে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও সত্যের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে অংশ নিতে জনগণকে আহ্বান করছি। এতে আমরা সাধারণ জনগণনের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষের মন গড়া আইন, অসৎ দুর্নীতিবাজদের শাসনই হচ্ছে মানুষের জন্য অশান্তির মূল কারণ। এর থেকে মুক্তি পেতে চাইলে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন অত্যন্ত প্রয়োজন।

    সেই লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, সুবিচার কায়েম হলে সুদ,  ঘুষ, কালো বাজারি, মজুদদারী, টেন্ডারবাজী দুর্নীতি থাকবে না। আমরা সবাইকে নিয়ে  এক সাথে বৈষম্য মুক্ত সমাজ গড়তে চাই সেই জন্য দেশপ্রেমিকদের অংশগ্রহণ জরুরী । সৎ দক্ষ মানবসম্পদের সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

    জননেতা অধ্যক্ষ মাওলানা দেলওয়ার হেসাইন  বালিয়াটি বাজার, ভাটারা ত্রীমোড়, গর্জনা, দিমুখা, ভাঙ্গাবাড়ী, খলিলাবাদ, হাজিপুর, শিমুলিয়া এলাকায়  আল্লাহর  আইন চাই সৎ লোকের শাসন চাই স্লোগানকে সামনে রেখে জামায়াতের সহযোগী সদস্য সংগ্রহ অভিযানে অংশ গ্রহণ করেন।

    এ সময় সাটুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মুঃ আবু সাঈদ বিএস সি,  কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা শওকত আলী, উপজেলার যুবনেতা সোহরাব হোসেন, বালিয়াটি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি  মাওলানা মো: রমজান আলী, সেক্রেটারি মোঃ  আশরাফ উদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতা মাসুম বিল্লাহ সহ জামায়াত, ছাত্র শিবির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক  সাধারণ জনতা উপ-স্থিত ছিলেন।

  • এবার বর্ষবরণে ভিন্নধর্মী আনন্দ শোভাযাত্রা !

    এবার বর্ষবরণে ভিন্নধর্মী আনন্দ শোভাযাত্রা !

    বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। প্রতি বছরের ন্যায় এই দিনটিকে বরণ করে নিতে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যে শুরু হয়েছে আনন্দ শোভাযাত্রা। তবে এবারের আনন্দ শোভাযাত্রায় ছিল বেশ কিছু ভিন্ন ধরনের আয়োজন। ঘোড়ার সওয়ার দিয়ে শুরু হওয়া এই আনন্দযাত্রায় ব্যান্ডের লাইভ গান। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের অংশগ্রহণসহ ভিন্ন মাত্রা এনেছিল এক্রোবেটিক পরিদর্শন।

    সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড়, টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র ও দোয়েল চত্বর হয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে। শোভাযাত্রায় রয়েছে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রসহ ৩০ জন শিল্পীর সম্মিলিতভাবে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, এদিন সকাল থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতি ভেদাভেদ ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রঙিন পোশাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে এসে জড়ো হন সাধারণ মানুষ। পরে তাদের উপস্থিতি ও যোগদানে শুরু হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।

    শোভাযাত্রায় রয়েছ ৭টি বড়, ৭টি মাঝারি ও ৭টি ছোট মোটিফ। বড় মোটিফগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঠের বাঘ, ইলিশ মাছ, টাইপোগ্রাফিতে ৩৬ জুলাই, শান্তির পায়রা, পালকি, জুলাই আন্দোলনে নিহত মুগ্ধের পানির বোতল ইত্যাদি।

    বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু
    এছাড়াও ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে তরমুজের মোটিফ, যা সাম্প্রতিক সময়ের এক রাজনৈতিক বার্তাবাহী উপাদান।

    এছাড়াও সুলতানি ও মোঘল আমলের মুখোশ, ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি, রঙিন চরকি, বাঘের মাথা, তালপাতার সেপাই, মাছ ধরার পলো, মাছ ধরার চাই, পাখা, মাথাল, ঘোড়া, লাঙলসহ রয়েছে নানান আয়োজন। একই সঙ্গে আনন্দ শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখে পরার মতন উপস্থিতিও দেখা গেছে।

  • আজ নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ- প্রধান উপদেষ্টা

    আজ নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ- প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ সুযোগ যেন আমরা না হারাই। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই হোক এবারের নববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীকে নতুন উদ্যমে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, পহেলা বৈশাখ সম্প্রীতির দিন, মহামিলনের দিন। আজকে সবাইকে আপন করে নেওয়ার দিন। এবারের নববর্ষ, নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ।

    আসুন, আমরা বিগত বছরগুলোর গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে চলি। চলুন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

    দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নববর্ষ ১৪৩২ আমাদের সবার জন্য শুভদিনের সূচনা করুক। নববর্ষ ১৪৩২ আমাদের সকলের জন্য নতুন ও গভীর আনন্দের উন্মোচন করুক—এই কামনা করছি।” তথ্যসূত্র: বাসস

  • সাটুরিয়ার হরগজে প্রবাসীর স্ত্রীর ফাসঁ নিয়ে আত্মহত্যা

    সাটুরিয়ার হরগজে প্রবাসীর স্ত্রীর ফাসঁ নিয়ে আত্মহত্যা

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ নদীর উত্তর পাড় এলাকায় প্রবাসী স্বামীর ওপর অভিমান করে মোসাম্মৎ ইতি আক্তার (২৫) নামে এক পোশাক শ্রমিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে হরগজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইতি আক্তার প্রবাসী মো. লাবু মিয়ার স্ত্রী জানা গেছে। ইতি-লাবু দম্পতির ইফাত (৭) নামের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুরের খাবার শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায় ইতি। শ্বশুর মোহাম্মদ আলী নাতি ইফাতকে ডাকতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে।

    মোহাম্মদ আলীর ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে লাশ নামিয়ে ইতিকে মৃত দেখতে পান। থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

    উল্লেখ্য যে, ইতি আক্তার গোলড়া আকিজ টেক্সটাইলে চাকরি করতেন। দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রবাসী স্বামীর সাথে তার মনোমালিন্য চলছিল।

    সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ শাহীনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

     

  • সাটুরিয়ার দরগ্রাম হতে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    সাটুরিয়ার দরগ্রাম হতে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অপারেশন ডেভিল হান্টে মো. বাদশা মিয়া (৪০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার দরগ্রাম গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মো. বাদশা মিয়া সাটুরিয়া থানার দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থাণীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানিকগঞ্জ সদরে ভাঙচুর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, যুবলীগ নেতা মো. বাদশা মিয়াকে মানিকগঞ্জ সদর থানার নাশকতা মামলায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোহয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সতর্ক বার্তা

    যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সতর্ক বার্তা

    ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সতর্ক করে বিশেষ বার্তা দিয়েছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। ভিসা জালিয়াতি করলে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    রবিবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, ভিসা জালিয়াতির পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর। মিথ্যা বলা বা ভুয়া নথিপত্র জমা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের আওতায় ভিসা স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে।  এর অর্থ হচ্ছে, আপনি আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না।

  • সাটুরিয়ায়, ১৪৩২ বর্ষবরণ উপলক্ষে লোকজ বৈশাখী মেলার আয়োজন

    সাটুরিয়ায়, ১৪৩২ বর্ষবরণ উপলক্ষে লোকজ বৈশাখী মেলার আয়োজন

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় নতুন বর্ষবরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে আয়োজিত হচ্ছে গ্রামীণ বৈশাখী মেলা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৬ ইউনিয়নে আয়োজন করা হচ্ছে এই মেলার। উপজেলা‌ প্রশাসন কর্তৃক বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান, দেশীয় ঐতিহ্য বাহী লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

    বরাইদ ইউনিয়নের ছনকা মোল্লা পাড়া মাঠে লোকজ মেলা ও ঘৌড় দৌড়ের আয়োজন করা হয়েছে। সাভার হামজা মাঠে, দিঘলীয়া ইউনিয়নে প্রফিল্ল ঋষিপাড়ায়, বালিয়াটি ইউনিয়নে ভাটারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, বাহ্রা ঋষিপাড়ায়, দরগ্রাম ইউনিয়নে সাফুল্লী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেবারিয়া গ্রামে তিল্লী ইউনিয়নে পশ্চিম চরতিল্লী, ধানকোড়া ইউনিয়নে খল্লী দাসপাড়া গ্রামীন লোকজ মেলার আয়োজন করে স্থানীয় গ্রামবাসী।

    এসব মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসে। মেলাকে সামনে রেখে অনেক ব্যবসায়ী কয়েক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নেন। মেলায় মৃৎ শিল্পসহ অনেক লোকজ শিল্প পসরা বসে। যদিও এসব মেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো জৌলুস। শহুরে মেলা জাঁকজমক হলেও গ্রামীন এসব মেলায় লোকসমাগম কম হয়।

    মেলা স্থান এবং আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বাঙ্গালীর প্রাণের স্পন্দন বৈশাখী উৎসব। ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে এক কাতারে এসে দাঁড়ায় এ উৎসবে। মেলায় নাগরদোলা, সাকার্স, যাত্রাপালা, পুতুল নাচ, লাঠি খেলা, ঘৌড় দৌড় থাকতো। নতুন প্রজন্ম ভুলতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এ মেলার আয়োজন। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, বৈশাখী বর্ষবরণ উৎসব বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব। সকল ধর্ম, সকল জাতি এক কাতারে এসে উৎসব পালন করে।

    উপজেলা প্রশাসন থেকে বর্ষবরণের নানা আয়োজন নেয়া হয়েছে। সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম জানান, উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে বর্ষবরণ উপলক্ষে লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই। তবুও আমরা সতর্ক রয়েছি।

  • ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব

    ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব

    ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। সংস্কৃতি সম্পর্কে বলা যায়- কোন স্থানের মানুষের ভাষা, আচার-ব্যবহার, জীবিকা, সঙ্গীত, নৃত্য সাহিত্য, সামাজিক সম্পর্কীত শিক্ষা-দীক্ষা, রীতি-নীতির মাধ্যমে যে, অভিব্যক্তি প্রকাশ কর হয় তাই সংস্কৃতি। তাই সংস্কৃতিকে way of life বলা হয়। জাতী ও জাতীয়তার সাথে সংস্কৃতির সম্পর্ক নিরবিচ্ছিন্ন। একই সংস্কৃতির পরিমন্ডলে যেমন বিভ্ন্নি ধর্মের লোক থাকতে পারে, ঠিক তেমনী ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠণে একটি অভিন্ন সংস্কৃতি গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুস্তকের ভাষায়, একই সংস্কৃতির সহজাত স্রোতধারায় বহু ধর্মের সংমিশ্রণে একটি অভিন্ন জাতীয়তা তৈরী হয় যা চিরাচরিৎ ধর্মীয় ধারনাকে বহুলাংশে মানবিক করে তুলে।

    আর ধর্মীয় সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- শয়তানের উপর জয়যুক্ত হওয়া এবং আত্মায় সত্যের আসন প্রতিষ্ঠা করাই ধর্ম। নিয়ম পালনের সাথে, জীবনের কদর্যতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রত্যেকটি মানুষের পবিত্র দায়িত্ব। সংস্কৃতিতে কদর্যতা থাকলেও বির্বতন যুগধারায় তা মানবিক পথে ধাবমান। তাই জ্ঞানীরা বলেন, ধর্ম হলো মৌলিক আর সংস্কৃতি তার দর্শন। তাই দর্শন বিহীন ধর্ম অসম্পুর্ণ।

    বৈশাখের সাথে ধর্মের সংশ্রাব অর্থহীন। মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থের কোথায় বৈশাখি উৎসব পালনের কথা উল্লেখ্য নাই। তবে বাঙ্গালী জাতির সংস্কৃতিতে বৈশাখী উৎসব পালন সার্বজনীন।

    ইতিহাস ধারা থেকে জানা যায়, মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলা-উড়িষ্যায় এলাহী সন, মৌসুমী বা ফসলী সনের চালু ছিল। ঘরে ঘরে ফসল তুলার সাথে খাজনা আদায় ব্যাপক প্রচলন ছিল। এই জন্য সম্রাট আকবর জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদ আমির ফতেউল্লাহ সিরাজীকে দিয়ে হিজরী সনের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে তারিখ-ই-এলাহী সনের প্রচলন করেন যা পরবর্তীতে বৈশাখী উৎসব হিসাবে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

    বৈশাখী উৎসব আজ বাংলা ভাষা-ভাষী বাঙ্গালীদের প্রাণের উৎসব। বৈশাখ শব্দটির উৎপত্তিতে সনাতন ধর্মের হৃদিত্ব রয়েছে। বাংলা ভাষার প্রাণকোষ বাংলা ব্যাকরণে বৈশাখ শব্দটির উল্লেখ্য পাওয়া যায় এই ভাবে-বৈশাখ+ষ্ণ, অস্তার্থে ।২।, মন্থণ দন্ড। বিশাখা+ষ্ণ। বি; পু। বিশাখা নক্ষত্রযুক্ত পুর্ণমা।

    ইতিহাস বিদূত, বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠিরা বহুকাল আগে থেকেই বৈশাখী উৎসব পালন করে আসছে। মূলতঃ আদি জনগোষ্ঠিরা বৈশাখী উৎসবকে বৈসাবি উৎসব হিসাবে পালন করত। বর্ণ বেদে তারা আলাদা আলাদা ভাবে, আলাদা আলাদা নামে এই উসৎব পালন করত। যেমন মারমা-রা, সাংগ্রাই, ত্রিপুরা-রা, বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যা-রা, বিষ্ণু এবং চাকমারা বিজু উৎসব হিসাবে পালন করত। এই সকল উৎসবকে সম্মিলিত ভাবে বৈসাবি বলা হয় যা আজও তাদের সমাজে চেতনা ধর্মী উৎসব হিসাবে পালন করছে।

    যুগ-যগান্তরের ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, বৈশাখ বা বৈসাবি উৎসব পালনের সাথে বৈদিক জাতি-গোষ্ঠির পুরান, বেদ বা সনাতন ধর্মের সংশ্রাব রয়েছে। হিন্দুরা বহুকাল আগ থেকেই বৈশাখি উৎসবকে তাদের ধর্মীয় উৎসব হিসাবে পালন করে আসছে।

    উল্লেখ্য যে, পহেলা বৈশাখ যেমন বাঙ্গালীর হৃদয়ে নতুন উদ্বিপনা জাগিয়ে তুলে তেমন বর্গাচাষীদের জন্য এই দিনটি যন্ত্রণাদায়ক হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই সময়ে এই দিনটিকে সম্পাদন করা হতো রাজস্ব আদায়ের দিন হিসাবে। প্রজারা বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে জমিদার বাড়ীতে মিষ্টি মুখ করতো।

    এখন সেই যুগের আবসান হয়েছে। পহেলা বৈশাখ এখন বাঙ্গালীর সার্বজনীন উৎসব হিসাবে পরিচিত পেয়েছে। এখন বৈশাখের লৌকিকতা পরিবার থেকে আরম্ভ। আত্মীয়-বন্ধু, ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে প্রতিবেশী সুহৃদজনকে শুভেচ্ছা ও কুশল জানানো, ছোট-বড়দের মধ্যে নবর্বষে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় মিলন বন্ধন গড়ে উঠে। শিশু-কিশোরেরা চরকি, নাগরদোলা, বাঁশি আর তালপাতার রকমারি খেলনা নিয়ে মেতে উঠে। কিশোরীরা ব্যস্ত চূড়ি, ফিতা, চুলের ক্লিপ, আলতা, কাজল ইত্যাদি কেনার জন্যে।

    মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সদস্য- জাতীয় নাগরিক কমিটি, মানিকগঞ্জ জেলা শাখা।
  • সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

    সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

    আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ঐকমত্য কমিশনের দুই সদস্যের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন।

    শনিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, আজ বিকালে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ এবং সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে প্রফেসর আলী রীয়াজ ও ড. বদিউল আলম মজুমদার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তারা জানান, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে।

    শনিবার পর্যন্ত মোট ৮টি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা আছে।

    তারা আরো জানান, সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত যাচাই এবং সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

    এ সময় কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা তথা সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।