Category: সারাদেশ

  • আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন জনগণ মেনে নেবে না-শফিকুর রহমান

    আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন জনগণ মেনে নেবে না-শফিকুর রহমান

    বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২১ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

    আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন জনগণ মেনে নেবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমির লেখেন, বাংলাদেশ ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক অতিক্রম করছে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর ২৪-এর ৩৬ জুলাই আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ মহান আল্লাহর একান্ত মেহেরবানিতে উপহার হিসেবে পেয়েছি। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পতিত ফ্যাসিবাদীরা দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

    তিনি লেখেন, বাংলাদেশের নির্যাতিত ১৮ কোটি মানুষের দাবি, গণহত্যাকারীদের বিচার, ২৪-এর শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, আহত ও পঙ্গু অসংখ্য ছাত্র, তরুণ, যুবক ও মুক্তিকামী মানুষের সুচিকিৎসা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৫ বছরের জঞ্জালগুলোর মৌলিক সংস্কার সাধন করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া।

    তিনি আরও লেখেন, জনগণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গণহত্যার বিচারটাই দেখতে চায়। এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সর্বস্তরের জনগণকে সংযত, সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থেকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাই।

  • আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হোক তা চাই না- জিএম কাদের

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হোক তা চাই না- জিএম কাদের

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবির বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হোক তা চাই না। শুক্রবার (২১ মার্চ) বিকেলে রংপুর নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন দ্য স্কাই ভিউতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি দল, যারা দলের ভেতরে বাস করছে তারা খারাপ হতে পারে। আওয়ামী লীগ একটি গাড়ি তার ড্রাইভার খারাপ হতে পারে কিন্তু গাড়িটা তো খারাপ না। তাই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হোক এটা চাই না।

    জিএম কাদের বলেন, হাসিনা ফ্যাসিবাদী আমরা দেখেছি। সে জোর করে অর্ধেক লোককে বাদ দিয়ে ইলেকশন করবে। জোর করে আমাদের নিয়ে আসবে, আবার কাউকে জোর করে বাদ দেবে।

    ইনারা জোর করে আমাদের বাদ দিয়ে ইলেকশন করবে। একটি বিশাল অঙ্কের জনসংখ্যাকে বাইরে রেখে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এতে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না এবং সামনের দিকে দেশ আরও সংঘাতময় দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় চলে যাবে।

    সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে অভিযোগ করে জিএম কাদের বলেন, আপনারা পারছেন না, অন্য কাউকে দায়িত্ব দিন। এগুলো থেকে উদ্ধার না হলে দেশের মানুষ চরম বিপদগ্রস্ত হতে পারে। এটা বললাম কেন, এটা বলাতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এটা মনে করেছে তারা। এজন্য আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমি এর আগে দুটি লুব্রিকেটিভ মন্ত্রণালয় বাণিজ্য ও বিমানের দায়িত্ব পালন করেছি। ২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় শেখ হাসিনা আমার পেছনে সব এজেন্সি দিয়ে দুর্নীতি বের করতে চেষ্টা করে। কিন্তু তারা দুর্নীতি বের করতে পারেনি। কিন্তু এখন দুর্নীতি বের করছে আমি নাকি নমিনেশন, পদ-পদবি দিয়ে দুই হাজার-পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছি- এ হলো আমার দুর্নীতি।

    আমার মুখটা বন্ধ করার জন্য মানে শেখ হাসিনা যেটি করেছে ফ্যাসিবাদ, সেই নব্য ফ্যাসিবাদ এখন শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা যেটা করে আমাদের ঠেকানোর চেষ্টা করেছে- ধমক দিয়ে, ব্ল্যাকমেইল করে।

    এখন ওনারা আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে চাচ্ছে। এ সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডি-য়াম সদস্য এস এম ইয়াসির, মহানগর জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন, সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলামসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভোররাত থেকেই জমি দখলে ব্যস্ত তারা মিয়া

    ভোররাত থেকেই জমি দখলে ব্যস্ত তারা মিয়া

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ নড়িয়া উপজেলার মানাখান গ্রামের আব্দুল হাকিম দেওয়ান জমির বিরোধ নিস্পত্তির জন্য তারা মিয়াদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে মামলা করে। বিরোধ নিস্পত্তি না হতেই আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভোররাত থেকেই নালিশী জমিতে মাটি কাটতে শুরু করে তারা মিয়া।

    ফসলি জমির শ্রেণি ও আকৃতি নষ্ট করে পুকুর করায় সেখানে উপস্থিত হয় পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীরা। এক পর্যায়ে পুকুর খননে ব্যর্থ হয়ে শ্রমিকদের বিদায় করতে বাধ্য হয় তারা মিয়া খন্দকার।

    ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নড়িয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে চলমান দেওয়ানী ৩৬০/২০২৩ নম্বর মামলার বিবাদী তারা মিয়া খন্দকার ৩৫ জন শ্রমিক ভাড়া করে ২১ মার্চ ভোররাত থেকে নালিশী জমির মাটি কাটতে শুরু করে। বাদী পক্ষের লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শণ করা হয়। এক পর্যায়ে বাদী পক্ষ থানা ও গণমাধ্যম কর্মীদের দ্বারস্ত হয়।

    মামলার ১ নম্বর বাদী হাকিম দেওয়ানের মৃত্যু পরবর্তী তার পুত্রবধু খাদিজা বেগম মামলা পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি জানান, তারা মিয়া খন্দকাররা ৭ ভাই ইতালি থাকে। তার বাবা ফটিক খন্দকার ছিলেন একজন প্রভাবশালী। সেই প্রভাবে রাতের অন্ধকারে ৪০-৫০ জন শ্রমিক নিয়ে নালিশী জমিতে মাটি কাটা শুরু করে।

    ভোরে তারা মিয়া লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে বলেছে জমির কাছে কেউ গেলে খুন করবে। চার দিকে নারী ও পুরুষরা লাঠি, দা, ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাহারায় ছিল। যাতে জমিতে আমরা যেতে না পারি।

    জমি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত যাদের পক্ষে রায় দিবেন তারাই জমি ভোগ দখল করবে। এখন যদি জমিতে পুকুর করে রাখে আর আদালতের রায় আমরা পেলে সেই জমি দিয়ে কি করব।

    বিবাদী তারা মিয়া খন্দকার জানায়, ১৯৭৫ সাল থেকে ক্রয় সূত্রে সে জমির মালিক। তার কাছে জমির দলিল রয়েছে। তবুও তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতে ৬টি মামলা করেছে বাদী পক্ষ।

    এই কারণে তার ইতালি যাওয়ায় বিলম্ব হয়েছে। তাছাড়া মাটি কাটতে আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সে লেকজন নিয়ে মাটি কাটছেন। তবে বাদী পক্ষকে কোন ভয়ভীতি প্রদর্শণ করা হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।

     

  • নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই- আসিফ মাহমুদ

    নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই- আসিফ মাহমুদ

    নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুক্রবার (২১ মার্চ) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, “নির্বাচন পিছিয়ে যাবে, অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এসব শঙ্কার কথা বলে কেউ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে জনতার ঐক্যে ফাটল ধরাতে আসবেন না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্টভাবে বারবার বলছেন, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইলেকশন হবে। আমি নিশ্চয়তা দিতে চাই সরকার এই কথা রাখবে। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।”

    ওই পোস্টে আসিফ মাহমুদ আরো লেখেন, গণহত্যাকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ শুধু জাতীয়ভাবে নয়, আন্তর্জাতিকভাবে ইউএন রিপোর্টের মাধ্যমে স্বীকৃত। জনতার ঐক্য জিন্দাবাদ।

  • হাসনাত আব্দুল্লাহর স্ট্যাটাসে সারাদেশে তোলপাড় !

    হাসনাত আব্দুল্লাহর স্ট্যাটাসে সারাদেশে তোলপাড় !

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে সেনা প্রশাসন চাপ দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

    অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ১১ মার্চ দুপুর আড়াইটায় তিনিসহ ৩ জনের কাছে সেনানিবাস থেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।”

    ওই বৈঠকে ৪০ বছরের বেশি সেনাবাহিনীতে কর্মরত এমন একজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের মতবিরোধ ও বচসা হওয়ার কথা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, এক পর্যায়ে বৈঠক শেষ না করেই তাদের চলে আসতে হয়েছে।

    শুক্রবার মধ্যরাতে ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন-১১ই মার্চ,সময় দুপুর ২:৩০।কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে।

    এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।আমিসহ আরো দুইজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ই মার্চ দুপুর ২:৩০এ।

    আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় আসন সমঝতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই।আমাদেরকে বলা হয়-ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে-তারা শর্ত সাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে।

    একটি বিরোধীদল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধীদল থাকা না-কি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।

    আমাদেরকে আরো বলা হয়-রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।

    আমাদেরকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ এর বিরোধিতা করি এবং জানাই যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন।

    এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোন ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক।

    আলোচনার এক পর্যায় বলি-যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই, সেই দলকে আপনারা কিভাবে ক্ষমা করে দিবেন!অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম এন্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া ইনক্লুসিভ ইলেকশন হবে না।

    উত্তরে বলি, আওয়ামী লীগের সাথে কোন ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না।আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে।পরে মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়।

    জুলাই আন্দোলনের সময়ও আমাদের দিয়ে অনেক কিছু করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কখনো এজেন্সি কখনো বা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে চাপ দেওয়া হয়েছে। আমরা ওসব চাপে নতি স্বীকার না করে আপনাদের তথা জনগণের উপরেই আস্থা রেখেছি। আপনাদের সাথে নিয়েই হাসিনার চূড়ান্ত পতন ঘটিয়েছি।

    আজকেও ক্যান্টনমেন্টের চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের উপরেই ভরসা রাখতে চাই। এ পোস্ট দেওয়ার পর আমার কী হবে আমি জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোন ধরনের আপস করার সুযোগ নাই।

    জুলাইয়ের দিনগুলোতে জনগণের স্রোতে ক্যান্টনমেন্ট আর এজেন্সির সকল প্রেসক্রিপশন আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আবারও যদি আপনাদের সমর্থন পাই, রাজপথে আপনাদের পাশে পাই তবে আবারও এই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্রও আমরা উড়িয়ে দিতে পারবো।

    আসুন, সকল যদি কিন্তু পাশে রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমাদের শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা হতে দিবো না। ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোন সুযোগ নাই বরং আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে।

    হাসনাত আব্দুল্লাহর স্ট্যাটাসে সরব ছাত্রনেতারা হাসনাত আব্দুল্লাহ রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ‍ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই সরব হয়েছেন ছাত্র নেতারা।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া শুক্রবার তার ভেরিফাইড ফেসবুকে বলেছেন, নির্বাচন পিছিয়ে যাবে, অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এসব শঙ্কার কথা বলে কেউ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে জনতার ঐক্যে ফাটল ধরাতে আসবেন না।

    মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস স্পষ্টভাবে বারবার বলছেন ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইলেকশন হবে। আমি নিশ্চয়তা দিতে চাই সরকার এই কথা রাখবে। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা নেই।”

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, লড়াইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ের জন্য আমরা প্রস্তুত। গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ পর্যন্ত এ লড়াই চলবে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম শুক্রবার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেন, “আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা রুখে দিতে ছাত্র-জনতা আবারও প্রস্তুত। রক্তের দাগ শুকায় নাই। এই রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আমার ভাইয়ের খুনিদের ফেরানোর কোন চেষ্টা আমরা সফল হতে দিবো না।”

    জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়ক ও চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক হান্নান মাসউদ তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেন, “জলপাই রঙ কিংবা ইন্ডিয়া যারাই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে, তা জুলাইয়ের মতোই প্রতিহত করা হবে।”

    জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, “আমি বিএনপি, জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। ছাত্র-জনতা আবারও প্রস্তুত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা রুখে দিতে।”

     

     

     

  • সাটুরিয়ায় পরিবহন শ্রমিক দলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

    সাটুরিয়ায় পরিবহন শ্রমিক দলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

     ষ্টাফ রিপোর্টার: সাটুরিয়া উপজেলা পরিবহন শ্রমিক দলের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। ২১ মার্চ শুক্রবার নয়াডিঙ্গী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সাটুরিয়া উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস প্রাঙ্গণে উক্ত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    ইফতার মাহফিলে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ে মূল্যবান আলোচনা করা হয়। উক্ত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির লন্ডন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এ এন কে বি মান্নান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: রাজা মিয়া,।  উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশ নিশান পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক ও বাংলা-দেশ দর্পণের প্রকাশক মোঃ বাহার উদ্দিন।

    এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ জাহিদ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: ইদ্রিস আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন সহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক নেতাকর্মী স্থানীয় জন প্রতিনিধি, ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ।

  • টাংগাইলে শুকরছানা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি, আহত-১

    টাংগাইলে শুকরছানা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি, আহত-১

    টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শূকর ছানা নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিএন-পির দুই নেতা আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আহত সফিকুল ইসলাম ফকির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার (১৯ মার্চ) রাতে উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের কুঠিবয়ড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সফিকুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে উপজেলার যমুনা নদীর কুঠিবয়ড়া এলাকায় একটি গর্ভবতী শূকর দলছুট হয়ে এলাকার আলমগীর মোল্লার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

    সেখানে শূকরটি একাধিক বাচ্চা প্রসব করে। খবর পেয়ে শূকরপালের দেখাশোনা-কারী আলমগীরের বাড়িতে আসেন। এসময় তিনি সপ্তাহখানেকের মধ্যে ছানাগুলোর সংস্পর্শে কাউকে যেতে নিষেধ করেন। এতে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান।

    পরে বাচ্চাগুলো স্বাভাবিক আকারে এলে আলমগীর মোল্লার ভাতিজা আশিক মোল্লা পার্শ্ববর্তী একটি হিন্দু পরিবারের কাছে শুকরের ছানাগুলো বিক্রি করে দেন।
    খবর পেয়ে শূকরপালের দেখাশোনাকারী আলমগীর মোল্লার বাড়িতে আসেন ছানাগুলো নিতে। কিন্তু ছানাগুলো বিক্রির কথা শুনে তারা বিচার চেয়ে চলে যান।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে গাবসারা ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সফিকুল ইসলাম ফকির এগিয়ে এলে তার সঙ্গে শূকরছানা বিক্রয়কারী আশিক মোল্লা ও লিয়াকত মোল্লার বাগবিতণ্ডা হয়।

    একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এসময় সফিকুল ইসলাম ফকির এবং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোতা মোল্লা আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     

  • মানিকগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকার, শিক্ষক গ্রেপ্তার

    মানিকগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকার, শিক্ষক গ্রেপ্তার

    মানিকগঞ্জে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে সিদ্দিকনগর দরবার শরীফ মাদ্রাসার শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ (বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ।

    এর আগে গতকাল (বুধবার, ১৯ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে।

    ওসি এস এম আমান উল্লাহ জানান, এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলেও জানান ওসি।

  • দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষণের বিচার করতে হবে-নাহিদ ইসলাম

    দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষণের বিচার করতে হবে-নাহিদ ইসলাম

    পটুয়াখালীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে একজন শহীদের কিশোরী মেয়েকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    তাকে দেখতে সেখানে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা করেন এবং তার খোঁজখবর নেন। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবেই ধর্ষণের বিচার চাই। প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার করতে হবে। এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার হওয়া দরকার।

    তিনি আরও বলেন, আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আছি। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার আইন পরিবর্তনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাই।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই আহ্বায়ক বলেন, এরইমধ্যে একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। আমরা চাই, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপর আসামিকেও গ্রেপ্তার করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হান্নান মাসউদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্যসচিব মুজাহিদুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব জাহিদ আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে, মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রামের মামুন মুন্সির ছেলে সাকিব মুন্সি এবং সোহাগ মুন্সির ছেলে সিফাত মুন্সি। অভিযুক্ত সাকিব মুন্সিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পলাতক রয়েছেন সিফাত মুন্সি।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাকাতির মালামাল উদ্ধার ও পুলিশের প্রেসব্রিফিং

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাকাতির মালামাল উদ্ধার ও পুলিশের প্রেসব্রিফিং

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার পারবতীপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর ও নজরপুর গ্রামে ডাকাতির ঘটনায় ৬ ডাকাত গ্রেফতার ও ডাকাতি হওয়া মালামাল উদ্ধার নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম সেবা। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এই প্রেস বিফিং করেন পুলিশ সুপার।

    গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হচ্ছে, শিবগঞ্জ উপজেলার রানীবাড়ী চাঁদপুর গ্রামের মোঃ
    এনামুল হক এর ছেলে মোঃ দেলোয়ার হেসেন (২৪), একই গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ ওয়াসিম (২৮), একই এলাকার মোঃ তহুরুল ইসলামের ছেলে মোঃ তৌহিদ আলী সুজন (২৬), একই উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দীনের ছেলে মোঃ লালচান (৩২), মোবারকপুর ইউপি’র গঙ্গারামপুরের মৃত সাইফুদ্দিন আহম্মেদ এর ছেলে মোঃ দিনুল ইসলাম (৪৩) এবং একই ইউনিয়নের দানিয়ালপুর গ্রামের মৃত সাজেমানের ছেলে মোঃ আনারুল (৫২)।

    ঘটনার বিবরণে পুলিশ সুপার জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন পারবতীপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর ও নজরপুর গ্রামের মান্দামিক জনৈক আওয়ালের আম বাগানের সামনে পাঁকা রাস্তার উপর ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ৬ জন গ্রেফতার এবং ছিনতাইকৃত ১ টি অটো রিক্সা ও ১টি স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

    তিনি জানান, গত ১১ মার্চ নাচোল থানার নূরপুর গ্রামের মৃত ইসরাইলের ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৯) অটো ভ্যান নিয়ে যাচ্ছিল। ১১ মার্চ সন্ধ্যা রাত অনুমান ৭টার দিকে গোমস্তাপুর থানার জগতগ্রাম বিয়ের বাড়ীতে রিজার্ভ ভাড়া যায়।

    বিয়ে বাড়ী থেকে নাচোল থানার আঝইর গ্রামে ফেরার পথে সন্ধ্যা রাত অনুমান সাড়ে ৭টার দিকে গোমস্তাপুর থানার পারবর্তীপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর ও নজরপুর গ্রামের মাঝামাঝি পাঁকা রাস্তার উপর পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত মুখে মাস্ক ও কালো কাপড় বাঁধা ৩/৪ জন অজ্ঞাতনামা লোক পথরোধ করে তার ভ্যানে থাকা ৭ জন যাত্রীকে এলোপাথারি মারধর করে হাসুয়া, লাঠি, শিশু গাছের ডাল ঠেকিয়ে আরো মারপিট করে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক অটো চার্জার ভ্যান (যার মূল্য অনুমান ২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়।

    এসময় ভ্যানে থাকা যাত্রীদের জিম্মি করে ঘটনাস্থল হতে অনুমান ৫০০ গজ দক্ষিণ পশ্চিমে আম বাগানের ভিতরে নিয়ে রফিকুলের কাছে থাকা ৫’শ টাকা ও ০১টি স্মার্ট ফোন এবং ভ্যান যাত্রী মোঃ মাজেদ আলী কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার ৬’শ টাকা, ০১টি বাটন মোবাইল ফোন, মোসাঃ মর্জিনা বেগম (৪৫) এর কানে থাকা একজোড়া স্বর্ণের দুল ও ০১টি লাকফুল, যার ওজন ৪ আনা, ০১টি বাটন মোবাইল ফোন, নগদ ১০০/- টাকা, মোসাঃ সামিরা খাতুন (২৪) এর কানে থাকা একজোড়া স্বর্ণের দুল ও একটি নাকফুল, যার ওজন ৪ আনা, ০১টি বাটন মোবাইল ফোন, মোসাঃ রেখা বেগম (৪৫) এর কানে থাকা একজোড়া স্বর্ণের দুল ও একটি নাকফুল, যার ওজন ৪ আনা, ০১টি বাটন মোবাইল ফোনসহ সর্বমোট ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। আহতরা গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

    এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানায় একটি দস্যুতার মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী রফিকুল ইসলাম। প্রেক্ষিতে ডাকাতির ঘটনায় আসামীদের গ্রেফতারে চাঁপাইনবাব গঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা ও গোমস্তাপুর থানা যৌথভাবে তৎপরতা শুরু করে।

    যৌথ টিমের অফিসার ও ফোর্স সম্মিলিত একটি চৌকস টিম বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের সহায়তায় ঘটনার পর হতেই জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে দস্যুতার সাথে সরাসরি অংশগ্রহণকারী শিবগঞ্জের মোঃ দেলোয়ার হেসেন, মোঃ ওয়াসিম, মোঃ লালচান, মোঃ তৌহিদ আলী সুজন, মোঃ দিনুল ইসলাম, মোঃ আনারুল কে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের দেয়া তথ্যমতে ছিনতাইকৃত অটো রিক্সাটি ও স্মার্ট মোবাইল ফোনটি উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও অন্যান্য ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

    এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট ওয়াসিম ফিরোজ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন আকন্দ, গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রইস উদ্দিনসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।