Blog

  • টাঙ্গাইলে ম্যাটস ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে ম্যাটস ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে নিশাদ সাদিয়া তুন্না (২১) নামে ম্যাটসের (মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৯ জুলাই) ম্যাটসের হোস্টেল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিশাদ সাদিয়া তুন্না কুড়িগ্রামের ফুলকুমার গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে। নিশাত ম্যাটসের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এসময় একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ  বলেন, ‘খবর পেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি নিজের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এসময় একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে ম্যাটসের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. সানজিদা আক্তার বলেন, ‘নিশাত ও তার এক সহপাঠী হোস্টেলের একটি রুমে থাকতেন। ঘটনার দিন তিনি অন্য রুমে একা থাকার জন্য চলে যান। পরে সকালে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেই।’

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডায়রিয়ার হানা 

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডায়রিয়ার হানা 

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গরমের তীব্রতা আর বিশুদ্ধ পানির সংকটে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫২ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ৪৫ জন রোগী ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪০ জন।

    গতকাল (মঙ্গলবার) এর সংখ্যা ছিল ৩৩ জন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলমান তাপপ্রবাহ, দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন রোগী। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন এবং চিকিৎসক-নার্সের প্রস্তুতি বাড়িয়েছে।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) বলেন, “রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ। তাদের দ্রুত সেবা দিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

    চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ–ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করুন, খোলা ও বাসি খাবার থেকে বিরত থাকুন, বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন, ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে আসুন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে।”

    স্থানীয়দের দাবি, শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও চিকিৎসা শিবির চালু করা দরকার। সার্বিকভাবে জেলার মানুষ সতর্ক ও সচেতন না হলে এ রোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

  • শরীয়তপুরে টানা বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সর্বত্রই

    শরীয়তপুরে টানা বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সর্বত্রই

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি : টানা চার দিনের বৃষ্টিতে শরীয়তপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পৌরসভার নিন্মাঞ্চলের অনেকের বসত ঘরেও ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি।

    শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সামনে পানি জমে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সিভিল সার্জন অফিসের সামনে হাঁটু পানি জমে নিচতলায় পানি ঢুকে পরায় কর্মচারীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

    এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে নিন্ম আয়ের মানুষ পড়েছে বিপাকে। সড়কে যানবাহন চলাচল করছে তুলনামূলক কম। স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল খুবই কম। ব্যবসা বানিজ্যেও পড়েছে বিরুপ প্রভাব।

    পৌর নাগরিকদের দাবী জেলা শহরে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অধিকাংশ খাল ও জলাশয় ভরাট করে ফেলায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

    পৌর কর্তৃপক্ষের দাবী প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকার কারণে সব এলকায় এখনও ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা যায়নি। তবে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে যে সব এলাকায় জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে ওই সব এলাকায় পৌরবাসীর কথা মাথায় রেখে শ্রমিকদের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    শরীয়তপুর পৌরসভা ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ১৯৮৫ সালে শরীয়তপুর পৌরসভা যাত্রা শুরু করে। ২৪ দশমিক ৭৫ বর্গকিলোমিটারের এই পৌরসভা ২০০৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়।

    ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই পৌরসভায় মোট ড্রেনেজ হয়েছে ১০ কিলোমিটার, কাজ চলমান জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে ৬৭০ মিটার ও পালং স্কুল এলাকা থেকে শাবনুর মার্কেট পর্যন্ত ৬৬০ মিটার। ২০২১ সালের জরিপ অনুযায়ী ৭০ হাজার ৫শ জনসংখ্যার এই পৌরসভায় মোট ভোটর রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৯ জন।

    গত রবিবার থেকে শরীয়তপুরে অবিরাম ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। টানা এই বৃষ্টিতে পৌরসভার অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাহির হয় না। কর্মহীন হয়ে পড়ায় দুঃশ্চিন্তায় সময় কাটাচ্ছেন অনেকে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মাঠ, সিভিল সার্জন অফিস, শরীয়তপুর মডেল টাউনের পশ্চিম পাশের্^ চর পালং এলাকার কয়েকটি বাড়ির ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পরেছে।

    পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বালুচড়া, পুরান হাসপাতাল রোড, শরীয়তপুর পার্ক, শিল্পকলা, সদর ভূমি অফিসের উত্তর পাশ দিয়ে পাহাড় বাড়ি রোড, তুলাসার, নিরালা আবাসিক এলাকা, শান্তিনগর ও বেপারী পাড়াসহ পৌরসভার নিন্মাঞ্চলগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

    চরপালং এলাকার মজিবুর মাদবর বলেন, আমাদের এলাকাটি নিচু হওয়ায় বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকার পানি জমে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। শহরের আশে পাশের খালগুলো খনন না করা হলে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা না হলে আমাদের এই দুর্ভোগ কমবে না।

    শরীয়তপুর সিভিল সার্জন অফিসের জেলা স্বাস্থ্য তত্বাবধায়ক এম এম হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের ভবনের কোন দিক দিয়ে পানি নিষ্কানের ব্যবস্থা নেই। ভারি বৃষ্টি হলেই জলবদ্ধতা দেখা দেয়। সিভিল সার্জন অফিসের নিচ তলায় বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে আমাদের অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

    জেলা বিডি ক্লিনের উপদেষ্টা এডভোকেট মো. মাসুদুর রহমান বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর একমাত্র কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল ও ভড়াট হওয়ার হওয়া।

    পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশানের হস্তক্ষেপে খাল উদ্ধার করে পানিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরশন হবে। অন্যথায় এই জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে না।

    শরীয়তপুর সদর হাসাপালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. রফিকুল ইসলাম মামুন বলেন, একটু ভারি বৃষ্টিপাত হলেই শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের সামনে পানি জমে জলা বদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

    এর মূল কারণ হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা। এ বিষয়ে আমরা শরীয়তপুর গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সময় তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    শরীয়তপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ওয়াহিদ হোসেন বলেন, পৌরসভার ড্রেনেজ করার জন্য অর্থ বরাদ্দ না থাকা আমরা এখনও প্রতিটি এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে পারিনি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও খাল ভড়াট করার কারণে শহরের কিছু নিঁচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

    বর্তমানে পৌরসভা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পৌর এলাকার পালং স্কুল থেকে শাবনূর মার্কেট ও চৌরঙ্গী থেকে মারকাজ মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সেই ক্ষেত্রেও ড্রেন করার জন্য কিছু কিছু বাড়ির মালিকরা বাঁধা দেওয়ায় ড্রেন করতে বেগ পেতে হয়।

    পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের জন্য ১০ জন শ্রমিক সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে রাস্তায় জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করছেন। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই জলাবদ্ধতা দুর করা সম্ভব হবে।

  • মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় গ্রেফতার ৪

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় গ্রেফতার ৪

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মহিলা সহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গোলাম রাব্বির স্ত্রী আজরিন আক্তার (১৯), মা- রোজিনা বেগম (৪৫) পিতা- মো: আছর উদ্দিন (৫০) ছোট ভাই রিফাত ইসলাম (১৭) সর্ব সাং উত্তর কাউন্নরা ।

    এক পর্যায়ে আসামী গোলাম রাব্বীর মা রুজিনা আক্তার ও তার স্ত্রী আজরিন আক্তার  প্রিজনভ্যান গাড়ীর সামনে শুয়ে পড়ে। পরে সাটুরিয়া থানা পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহিনুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

  • পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভাঙন  ২ঘন্টায় বিলীন ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৮ বাড়ী !

    পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভাঙন  ২ঘন্টায় বিলীন ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৮ বাড়ী !

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ কোন কিছু না বুঝতেই আকস্মিক পদ্মার আগ্রাসী থাবায় জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধের প্রায় ১৫০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। ২ঘন্টার এই ভয়াবহ পদ্মার ভাঙ্গনে বাঁধের পাশে থাকা ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ১টি টিনসেট বাড়ীর ৮টি কক্ষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

    এ সময় অনেক চেষ্টা করেও শ্রমিক সংকট ও বৈরি আহাওয়ার কারনে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসত ঘর রক্ষা করতে পারেনি। চোখের সামনেই বিলীন হয়ে যায় সবকিছু। ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে পদ্মার তীরবর্তী আলমখার কান্দি, হাজী ওসিমুদ্দিন মাদবর কান্দি ও স্থানীয় মঙ্গল মাঝির বাজার।

    এদিকে তাৎক্ষনিক ভাঙ্গন রোধে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে জিও-ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। অপর দিকে আজ সকালে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো: ওয়াহিদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম ও জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    এছাড়াও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার একে এম নাসির উদ্দিন কালু জাজিরা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের খোজ খবর নেন।

    স্থানীয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে জানায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে পদ্মা সেতু থেকে মাঝির ঘাট হয়ে পূর্ব নাওডোবা আলমখার কান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ১১০ কোটি টাকা ব্যায়ে দুই কিলোমিটার পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

    এর পর ২০২৪ সালের সেপ্টম্বর পর্যন্ত ওই এলাকায় পদ্মার ভাঙ্গন দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে পদ্মা সেতু প্রকল্পের এই বাঁধটির প্রায় ১০০ মিটার নদীগর্ভে ধসে যায়। পরে ধসে যাওয়া বাঁধটির সংস্কারে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়িত্ব দেয়া হলে ওই স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলার কাজ শুরু করা হয়।

    দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের ৮ জুন সকালে একই স্থানে প্রায় ১৫০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়ে। পরে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে নতুন করে জিওব্যাগ ডাম্পি করে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর পর গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নতুন করে রক্ষা বাঁধের মঙ্গলমাঝির ঘাট সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করে আবারও ভাঙ্গন শুরু হয়।

    স্থানীয়রা কোন কিছু বুঝার আগেই ২ঘন্টার এই ভয়াবহ ভাঙ্গনে প্রায় ১৫০ মিটার রক্ষা বাঁধ, পদ্মাতীর সংলগ্ন স্বপন মাদবরের একতলা ৮কক্ষের ১টি পাকা ঘর, রাজা মাদবরের ১টি ঘর, শুকুর খালাসির হার্ডওয়্যারের দোকান, ফরিদ মাদবরের সারের দোকান, ফিরোজ মাঝির মেশিনারিজ দোকান, সাত্তার খার কাঠালের গোডাউন, সালাম পোদ্দারের চায়ের দোকান, শুকুরের চায়ের দোকান, নোয়াব আলী শেখের মুদি মালের গোডাউন, মিন্টুর সেলুন, স্বপনের সেলুনসহ ১২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙ্গন আতঙ্কে নদী তীরবর্তী আরও অন্তত ২০টি বসতঘর ও ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা।

    এ ব্যাপারে মঙ্গল মাঝি বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজ শেখ ও আবু আলেম শেখ ও মজিবুর হাওলাদার জানান, বিকাল সাড়েটার দিকে বাজারের অনেক ব্যবসাীয় দুপুরের খাবার ক্ষেতে গেছে, আবার অনেকে বাজারেই অবস্থান করছে। এর মধ্যে হঠাৎ দেখি লোকজন ছোটাছুটি করছে।

    দোকান বন্ধ না করেই দৌরে গিয়ে দেখতে পাই একের পর এক ঘর নদীতে পরে যাচ্ছে। আমরা অনেক চেষ্টা করি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসত ঘরগুলোর মালামাল সরানোর। কিছু কিছু ঘরের মালামাল সরাতে পারলেও চোখের সামনেই অধিকাংশ ব্যবসা প্রষ্ঠিানের মালামালসহ পুরো ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

    পূর্ব নাওডোবা ইউপি চেয়ারম্যান মো: আলতাফ খান বলেন, পদ্মা নদীর গতীপথ পরিবর্তনের কারনে এই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। একে একে এই বাঁধে তিনবার ভাঙ্গনের সম্মক্ষীন হওয়ায় এই এলাকার নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।

    এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে অচিরেই হারিয়ে যাবে নাওডোবা এলাকার পদ্মা তীরবর্তী দুইটি গ্রাম ও মঙ্গলমাঝির হাট । সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবী পদ্মা পারের এই এলাকার মানুষের জন্য দ্রুত স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মান করে ভাঙ্গনের কবল থেকে আমাদেরকে রক্ষা করা হোক।

    এ ব্যাপারে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী তারেক হাসান বলেন, এই বাধঁটি নির্মান করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। বাঁধটিতে আরও ২বার ধস হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে ২টি প্যাকেজে ৫৯ লাখ টাকা ব্যায়ে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। গতকাল পূণরায় বাঁধটির আরও একটি অংশ ধসে যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভাঙ্গন রোধে জিওব্যাগ ফেলা শুরু করেছি।

    জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী রায় বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত ১২ পরিবারের মাঝে নগদ ৫হাজার করে টাকা ও ১৬ পরিবারকে ৬ হাজার করে টাকার চেক প্রদান করেছি।

     

  • টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত

    টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত

    টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে আরও একজন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (৭ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বাঘিল এলাকায় ঢাকা-জামালপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন জামালপুর জেলার মজিবুর রহমানের স্ত্রী কাজল রেখা (৪৫) ও তার ছেলে শ্রাবণ (১৬)। অপর নারীর পরিচয় জানা যায়নি।

    ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস উপজেলার বাঘিল এলাকায় মধুপুরগামী একটি সিএনজির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজির একজন নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন। পরে আহতদের ধনবাড়ী ও মধুপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় বাসটি আটক করলেও এর চালক পালিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

  • মানিকগঞ্জে অস্ত্র মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    মানিকগঞ্জে অস্ত্র মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অস্ত্র মামলার এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস.এম. জাহাঙ্গীর আলমকে (৫৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    আজ সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বাঘুটিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার পারুরিয়া গ্রামের মৃত জয়নুদ্দিন শেখের ছেলে।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.আর.এম আল মামুন জানান, এস.এম. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দৌলতপুর থানায় অস্ত্রসহ দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৪/৩২৬/৪২৭/৫০৬(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

    মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • সবার প্রতি সম্মান রেখেই সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে-জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

    সবার প্রতি সম্মান রেখেই সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে-জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

    রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তবে বিতর্ক এড়াতে সতর্ক থেকে অনেক কিছুই বাদ দিয়ে কমিশন এগোচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    সোমবার (৭ জুলাই) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০ম দিনের উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি বলেন, “কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং দলগুলোর মতামত বিবেচনায় রেখে সুপারিশ করা হচ্ছে।”

    এ সময় কমিশনের সদস্য ইফতেখারুজ্জামান, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

    আলী রীয়াজ বলেন, “জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল নিয়ে ভিন্ন দলগুলোর ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। তাই একাধিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে যাতে সর্বোত্তম সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।”

    রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে আমরা সতর্ক এবং অনেক কিছু বাদ দিয়েই এগোচ্ছি। আলোচনার গতি বজায় রাখতে সবাইকে আন্তরিক সহযোগিতা করতে হবে।”

    আজকের আলোচনায় নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালতের সম্প্রসারণ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়েও মতবিনিময় হবে।

    এদিন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপি’র জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপি’র জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ “সীমান্তে আগ্রাসন হলে লংমার্চ ঘোষণা করা হবে” এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সীমান্তে বারবার নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করা হচ্ছে, যা মেনে নেওয়া যায় না। সীমান্ত রক্ষায় দেশের জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    রবিবার (৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় জুলাই পদযাত্রায় ষষ্ঠ দিনে কর্মসূচীর অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মোড়ে এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘বিচার, সংস্কার ও দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে জনতার দুয়ারে জুলাই’ স্লোগানে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র ষষ্ঠ দিনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। সকল জেলা থেকে বৈষম্য দূর করতে হবে। মৌলিক সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক বৈষম্যের সুযোগ থাকবে না।” এনসিপি আহবায়ক আরও বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে কোনো আগ্রাসন বরদাশত করা হবে না।

    ইতিমধ্যেই এই জেলার সাহসী মানুষ সীমান্ত আগ্রাসন প্রতিহত করেছে”, তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, অতীতের গণহত্যার বিচার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই জাতীয় নাগরিক কমিটির মূল লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, “দেশের জনগণ এখন সচেতন ও সংগঠিত। তারা আর অন্যায় সহ্য করবে না। সীমান্তে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা দখলচেষ্টা রুখে দিতে জনগণ প্রস্তুত।”

    ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, সীমান্তে বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গ্রেনেড মারে, এখানে বোমার বিষ্ফোরণ ঘটনায়। আমরা কিন্তু এইসব আগ্রাসন আর মেনে নিবোনা। সীমান্তে অনেক বাহাদুরি করেছেন দাদারা, সেই দিন শেষ হয়েছে। আবার আগ্রাসন চালানো হলে, আমার ভাইদের হত্যা করা হলে আমরা লং মার্চ ঘোষনা করবো।

    আমাদের সীমান্ত আমরাই রক্ষা করবো। তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের জন্য আন্দোলন করছেন। আমরা এই সভা থেকে আপনাদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন করছি। সরকার যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর এই দাবি পুরণ করেন। পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    তিনি বলেন, “আমরা আর রাজনৈতিক বৈষম্য দেখতে চাই না। নতুন সংবিধান চাই, নতুন পথচলা চাই। জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র চাই, যাতে ভারত, আমেরিকা কিংবা চীন কেউ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

    ” সভায় দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনুভা জাবিন বলেন, “জনতাই ক্ষমতা। আমরা স্বপ্ন দেখি এক গণমুখী ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের। ভুল-ত্রুটি থাকলে আপনারা তা ধরিয়ে দেবেন।” পথসভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আলউল হক।

    বক্তব্য রাখেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল)। এর আগে নওগাঁ থেকে সড়ক পথে দুপুর ২টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌঁছান। এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

    পরে শান্তি মোড় থেকে শুরু হয় ‘জুলাই পদযাত্রা’। পদযাত্রাটি শহরের বাতেন খাঁ মোড়, নিমতলা মোড়, বড় ইন্দারা মোড়, গাবতলা মোড়, ক্লাব সুপার মার্কেট চত্বর প্রদক্ষিন করে নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজ চত্বরে পথসভায় মিলিত হয়।

    পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। পদযাত্রার সময় নেতারা বিভিন্ন স্থানে থেমে জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সভা শেষে ফিতা কেটে এনসিপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে উদ্বোধন করেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। শেষে মিষ্টি মুখ করেন। দলটির নেতারা জানান, “এই সফর হচ্ছে এনসিপির জাতীয় গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ।

    দেশের নানা অঞ্চলে জনগণের প্রত্যাশা ও অভিমতকে গুরুত্ব দিয়েই গড়ে তোলা হবে দলের কর্মপন্থা ও ইশতেহার। আগামী ইশতেহারে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বৈষম্যের শিকার সব অঞ্চলের মানুষের মুক্তির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে। এনসিপির দাবি, জুলাই আন্দোলন শুধু ইতিহাস নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনার পথ। সেজন্য তারা ‘জুলাই ঘোষণা’কে দেশের রাজনীতির নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

    পদযাত্রা ও পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আসাদুল্লাহ আল গালিব ও আবু সাঈদ লিয়ন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস।

    পদযাত্রা ও পথসভায় জেলার এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী, সাধারণ নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে এনসিপির চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয় উদ্বোধন শেষে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন এনসিপির নেতৃবৃন্দ।

  • মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ৪

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ৪

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে সাটুরিয়া থানা পুলিশ। আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বাকা (৪৬), পিতা মৃত- আলেপ মোল্লা, সাটুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর কাওন্নারা গ্রামের উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক(৪৫), পিতা মৃত-মৃত ফজলুর রহমান, সাটুরিয়া ইউনিয়নের চামুটিয়া গ্রামের মৃত তোলা মাষ্টার ছেলে (আওয়ামী লীগ নেতা) মো: হেলাল উদ্দিন (৪৮) ও কাওন্নরা গ্রামের আছর উদ্দিন ছেলে রাব্বি মিয়া(২৩)।

    থানা সূত্রে জানা যায়,সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৬০/৭০ জন অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

    সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহিনুল ইসলাম জানান, মামলায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।