Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত

    ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি কয়েকটি গণমাধ্যম।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ইরানে পরিচালিত বিমান হামলার সময় নিজ বাসভবনে হামলার শিকার হন আহমেদিনেজাদ। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে ইরানের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত চলমান হামলার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    এর আগে একই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলেও দাবি ওঠে। তবে এসব বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

    আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কট্টরপন্থী বক্তব্য ও পশ্চিমাদের প্রতি কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিলেন।

    বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তার সময়েই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

    সূত্র: তুর্কি টুডে

  • খামেনির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করল ইরান, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

    খামেনির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করল ইরান, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

    ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন তথ্য ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বার্তাসংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম রোববার (১ মার্চ) এ খবর নিশ্চিতের কথা জানায়।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষায় তিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন। খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    গত শনিবার সকালে তার প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এরপর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনির নিহত হওয়ার কথা জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই দাবি করেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়।

    প্রথমে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর খবর স্বীকার না করলেও পরে রোববার সকালে তেহরান থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানায়।

    ইরানের শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনির প্রভাব সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিস্তৃত ছিল। নীতিনির্ধারণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার নির্দেশনা ছিল কেন্দ্রীয় ভূমিকা।

    ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে তৎকালীন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ওই বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, যিনি পরে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হন। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

    খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার নিহত

    ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার নিহত

    ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবার সকালে তেহরানের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালানোর কথা জানানোর পর এই ঘটনা ঘটল।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের আক্রমণের অংশ হিসেবে তেহরানের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে, যেখানে ইরানের রাজনৈতিক-নিরাপত্তা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়ো হয়েছিলেন।

    এক্স-এ পোস্ট করা সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আজ সকালে তেহরানের বেশ কয়েকটি স্থানে একই সাথে হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে ইরানের রাজনৈতিক-নিরাপত্তা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়ো হয়েছিলেন।”

     

  • নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ সুইড পররাষ্ট্রমন্ত্রীর !

    নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ সুইড পররাষ্ট্রমন্ত্রীর !

    যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরান ছাড়ার জন্য নিজ দেশের নাগরিক দের নির্দেশ দিয়েছে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড।  শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্টেনগার্ড বলেন, “ইরান ও অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। এ অবস্থায় ইরান সফর এড়িয়ে যাওয়া উচিত এবং দেশটিতে থাকা সুইডিশ নাগরিকদের দ্রুত চলে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

    তিনি আরও বলেন, এখনও আকাশপথ ও স্থল সীমান্ত দিয়ে ইরান ত্যাগ করা সম্ভব। সুযোগ থাকা অবস্থাতেই দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেন তিনি। যারা সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে বলেও উল্লেখ করেন। সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

    পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে রয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে চাপে রাখতে ‘সীমিত সামরিক হামলা’ বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস।

    তিনি সতর্ক করেন, তেহরানকে অবশ্যই একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, না হলে “খারাপ কিছু ঘটতে পারে”।

    এদিকে রয়টার্স মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানের শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টাও পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে পড়বে।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

    ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। তবে চূড়ান্ত পদক্ষেপের আগে তারা যুক্তরাষ্ট্র-এর ‘সবুজ সংকেত’-এর অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিলেও, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ হামলা হতে পারে—এমন তথ্য জানিয়েছে CNN, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি হামলার চেয়ে ইরানকে চাপ দিয়ে চুক্তিতে বসানোই ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল হতে পারে। এদিকে ইরানের পারমাণবিক শক্তি প্রধান মোহাম্মদ এসলামী বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে কেউই পারমাণবিক সমৃদ্ধির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। তার ভাষায়, পারমাণবিক শিল্পের মূল ভিত্তিই হলো সমৃদ্ধি এবং জ্বালানি সক্ষমতা।

    সূত্রমতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউজকে জানানো হয়েছে, সামরিক বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে অভিযানের জন্য প্রস্তুত।

    স্যাটেলাইট বিশ্লেষণভিত্তিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির জানিয়েছে, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কংক্রিট ও মাটি দিয়ে ঢেকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে।

    বুধবার হোয়াইট হাউজের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন ট্রাম্প। এর আগে জ্যারেড জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার বিষয়ে তাকে ব্রিফ করেন। জেনেভায় দীর্ঘ আলোচনা হলেও সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি।

    হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, কূটনীতিই ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ; তবে সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা রাখা হয়েছে।

    ইসরাইলে সর্বোচ্চ সতর্কতাঃ অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরাইলি দৈনিক Yedioth Ahronoth জানিয়েছে, উদ্ধার সংস্থা ও হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোতে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। কান জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে ডাকা নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক হঠাৎ স্থগিত করে আগামী রোববারে নেওয়া হয়েছে। কারণ জানানো হয়নি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলা বড় পরিসরের হতে পারে এবং কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলতে পারে—যা সাম্প্রতিক নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলার চেয়ে অনেক বিস্তৃত হবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক অচলাবস্থায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

  • আইআরজিসি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন-ইইউ

    আইআরজিসি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন-ইইউ

    ইরানের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

    বিষয়টি নিয়ে ইইউ সদস্যদের মধ্যে বহুদিনের বিভাজন থাকলেও, বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয় জোটটি।

    ইইউয়ের এই সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়েছে ফ্রান্স তাদের দীর্ঘদিনের আপত্তি তুলে নেওয়ার পর। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো এক্সে লিখেছেন, ইরানি জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অসহনীয় দমন আর উত্তরহীন থাকতে পারে না।

    ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ আশঙ্কা করেছিল, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করলে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ও ইরানে থাকা তাদের নাগরিকদের স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    তবে এ সিদ্ধান্তকে ‘বড় কৌশলগত ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্স-এ লেখেন, এ মুহূর্তে বহু দেশ সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইউরোপ বরং আগুনে ঘি ঢালছে।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্যশীল একটি অভিজাত প্যারামিলিটারি বাহিনী। পৃথক নৌ ও বিমান বাহিনীসহ এর স্থলবাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।

    এদিকে, রাশিয়া বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সতর্ক করে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বলপ্রয়োগ শুধু বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ভয়ংকর প্রভাব ফেলবে।

    তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

  • ইরানে আগের চেয়েও বড় হামলা হবে-ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরানে আগের চেয়েও বড় হামলা হবে-ডোনাল্ড ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আগেরবারের তুলনায় আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন।

    ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি সম্ভাব্য হামলা এড়াতে চায়, তাহলে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

    উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত চলছিল।

    ওই হামলার চেয়েও বড় অভিযানের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, “বিশাল এক যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড শক্তি ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বহরটি দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে।

    এর আগে ভেনেজুয়েলায় পাঠানো বাহিনীর তুলনায় এটি আরও বড়। বিশাল রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর নেতৃত্বে থাকা এই বহর যেকোনো সময় অভিযানে যেতে প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে তারা অত্যন্ত দ্রুত এবং ভয়াবহ হামলা চালাতেও পিছপা হবে না।”

    ট্রাম্প আরও লেখেন, “আমি আশা করি, ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি সঠিক চুক্তিতে সম্মত হবে। স্পষ্ট কথা—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখা যাবে না। এই চুক্তি সবার জন্যই ভালো হবে। কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি ইরানকে আগেও সমাধানের পথে আসার আহ্বান জানিয়ে ছিলাম। তারা তা শোনেনি বলেই গত জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালিত হয়েছিল এবং এতে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

    পরবর্তী হামলা হলে সেটি আরও মারাত্মক হবে। তাই আবারও এমন পরিস্থিতি ডেকে আনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

  • ‘জনগণের নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র’

    ‘জনগণের নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র’

    ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কারও পক্ষ নেবে না৷ জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে তারা সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে।

    আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গেআলাপকালে এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রদূত বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমি খুবই আগ্রহী। আমি এই নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি এবং এর ফলাফল দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।

    তিনি বলেন,  নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণের। বাংলাদেশের জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, আমরা সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত।

    ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে তথ্যগুলো আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন, সেগুলো নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আপনাদের সবার মতো আমিও ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।

    এর আগে বেলা ১২টার দিকে সিইসির দপ্তরে বৈঠক শুরু হয়। এতে ইসি সচিব আখতার আহমেদও অংশ নেন। এই সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু ও ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

    কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

    ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে যুক্তরাজ্য। এর অংশ হিসেবে কাতারের দোহা শহরের কাছে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

    শুক্রবার যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কাতার সরকারের আমন্ত্রণে এই যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, টাইফুনগুলো যৌথ আরএএফ–কাতারি ইউনিট ‘নম্বর ১২ স্কোয়াড্রন’-এর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর মূল লক্ষ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

    যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, এই যৌথ অংশীদারত্ব দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    তিনি জানান, টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা উভয় দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ বহন করছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার রণতরীটি মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জামও মোতায়েন করা হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি’ হিসেবেই ইরানের দিকে এই নৌবহর পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশও মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, এই সামরিক সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূত্রটি আরও জানায়, কাতারে ব্রিটিশ টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন শুধু আশ্বাসমূলক নয়, বরং ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলায় একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিহত করতে টাইফুন যুদ্ধবিমান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

    উল্লেখ্য, আল উদেইদ বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর হওয়ায় এটি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত। অতীতেও এ ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

  • ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিহত-২০০০

    ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিহত-২০০০

    ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিবিসি পার্সিয়ানের সাংবাদিক জিয়ার গোলসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্র।

    জিয়ার গোল জানান, তাঁর কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে ‘আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা যায়’—মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ইরান সরকার অতীতে শক্তি প্রয়োগ করলেও এবারকার পরিস্থিতি “একেবারেই নজিরবিহীন”।

    রয়টার্সও একজন ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশজুড়ে চলমান সংঘাতে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজারের মতো হতে পারে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিক উভয়ই রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে এসব মৃত্যুর জন্য তাদেরকেই দায়ী করেছেন।

    এর আগে, এক ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিসের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স বলেন, বিভিন্ন রিপোর্টে শত শত মানুষের নিহত হওয়া এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর আটক থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

    মানবাধিকার বিষয়ক একটি স্বাধীন সংস্থা গতকাল জানায়, তাদের ধারণা অনুযায়ী কমপক্ষে ৬৫০ জন নিহত হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।