Category: জাতীয়

  • ‘মার্চ টু সচিবালয়’ হাইকোর্টের সামনে শিক্ষকদের পুলিশি ব্যারিকেড

    ‘মার্চ টু সচিবালয়’ হাইকোর্টের সামনে শিক্ষকদের পুলিশি ব্যারিকেড

    ২০ শতাংশ বাড়িভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাজধানীতে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি শুরু করেছেন।মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

    তবে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরুর আগেই হাইকোর্ট মাজারগেট এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। শিক্ষা ভবন মোড়ের আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    এ সময় দোয়েল চত্বর থেকে মৎস্য ভবন ও বিপরীতমুখী সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের জলকামানও।

    আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, সরকারের প্রস্তাবিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির হার ‘অপর্যাপ্ত ও অবাস্তব’। তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাতা, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা প্রদানসহ সার্বজনীন বদলি নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

    শিক্ষক নেতারা বলেন, “আমাদের কর্মবিরতি চলবে। ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষক শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।”

    এর আগে গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে সংগঠনের নেতাদের আহ্বানে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন এবং লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

    এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৩ অক্টোবর) থেকে সারাদেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

  • মিরপুরে কেমিক্যাল ‍গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড নিহত ৯

    মিরপুরে কেমিক্যাল ‍গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড নিহত ৯

    রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউন ও গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে নয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী।

    এছাড়া ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তর থেকে মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিমও এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সংবাদ পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে আরও তিনটি সেখানে যোগ দেয়।

    তালহা বিন জসিম বলেন, কসমিক ফার্মা কোম্পানির কেমিক্যালের গোডাউন ও আরেকটি গার্মেন্টসে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস থেকে আট ইউনিট কাজ করে গার্মেন্টসে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন ফায়ার সদস্যরা।

    আগুনের সূত্রপাত প্রসঙ্গে এই ফায়ার কর্মকর্তা বলেন, ফায়ার কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে আগুন দেখেছেন। কেমিক্যাল গোডাউনে নাকি গার্মেন্টস থেকে আগুনের সূত্রপাত এটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

  • ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে-অর্থ উপদেষ্টা

    ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে-অর্থ উপদেষ্টা

    চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ছাড়া, রাজনৈতিক সরকার ছাড়া চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ কালে এ কথা বলেন তিনি।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগে যেখানে এক টাকা চাঁদা নেওয়া হতো এখন দেড় টাকা, দুই টাকা নেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর নানা পক্ষ চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছে এবং আগে যারা ছিল, তারাও চাঁদাবাজির পেছনে আছে। যারা চাঁদাবাজি করে তারাই আবার ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য।

    তিনি বলেন, চাঁদাবাজির কারণে পণ্যমূল্য বাড়ছে। কিন্তু এটা থামানো আমার মন্ত্রণালয়ের কাজ না। আর অন্তর্বর্তী সরকার একে ধরো, ওকে ধরো নীতিতে নেই।

    এ সময় আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমে ৭ শতাংশে নেমে আসবে।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করতে, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ করতে এবং রাজস্ব আদায় শক্তিশালী করতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্মসূচির আওতায় বাড়তে থাকা বৈদেশিক ঋণের বিষয়েও সতর্ক রয়েছে।

    ব্যাংকিং খাত তারল্য সংকট এবং এলসি খোলার জটিলতার মধ্যদিয়ে গেলেও বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এখন তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখছি। গত বছরের আমদানি ব্যাহতকারী এলসি-সংক্রান্ত বাধাগুলো এখন তেমন নেই। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকে থাকতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তবে অনিয়মকে উপেক্ষা করা হচ্ছে না।

    জরুরি ভিত্তিতে করজালের বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এরই মধ্যে ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ নামক ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে, যা কাস্টমস ও কর ব্যবস্থাকে আরও সহজতর করছে। প্রথমবারের মতো অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি, যারা এতদিন করের আওতার বাইরে ছিলেন, তাদের কর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

    আইএমএফ ঋণের আর একটা কিস্তি কি নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে পাওয়া যাবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, না না আমরা এ সময়ে পাবো না। এটা অক্টোবরে রিভিউ হবে। আসতে আসতে মার্চ–এপ্রিল হয়ে যাবে।

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে। বড় দলগুলো নির্বাচন অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক বার্তা।

    সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • বাংলাদেশের বাস্তবতায় কাজ করা কঠিন: সিইসি

    বাংলাদেশের বাস্তবতায় কাজ করা কঠিন: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “বাংলাদেশে কাজ করা খুবই ডিফিকাল্ট (কঠিন)। পার্টিকুলারলি যেই অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশ যাচ্ছে, তাতে কাজ আদায় করে নেওয়া কঠিন। কিছু কিছু পক্ষের লোকের জন্য খুব সুবিধা, আর বেশিরভাগ পক্ষের লোকের জন্য ডিফিকাল্ট। এই সিচুয়েশনে আমরা এখন এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি।”

    শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৫ অনুষ্ঠানে নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন এ এম এম নাসির উদ্দিন।

    নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন আরো বলেন, “আপনারা ওয়াদা করেছিলেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন এবং প্রফেশনালি কাজ করবেন। আইন মেনে কাজ করবেন।”

    সিইসি বলেন, “আমরা ইলেকশনের জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছি এবং বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে কাজ করছি। এতে আমরা অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি।”

    কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, “আমি চাই কোনো দলের পক্ষে হয়ে কেউ কাজ করবেন না। এটা আমরা প্রত্যাশা করি না এবং আপনারা আজকে ওয়াদা করলেন—যেকোনো ব্যক্তি বা পক্ষের পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে আপনারা কোনো কাজ করবেন না।”নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সিইসি বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ আইন ও বিধি মোতাবেক, সঠিক কাজটি সঠিকভাবে করার নির্দেশনা দেব। কাজটা সঠিকভাবে আপনারা করছেন এবং সেটা যে আপনারা সঠিকভাবে করছেন, তা আমরা নিশ্চিত করব।”

    এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “সিভিল সারভেন্ট ইজ এ পলিটিক্যাল পারসন। হি মাস্ট বি পলিটিক্যাল। বাট হি অর শি শুড বি নন পার্টিশন। আপনি কোনো দল করতে পারবেন না, কিন্তু ভোটটা একজনকে দেবেন।”

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “এই নির্বাচন একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সুতরাং, আমাদের বিশেষভাবেই এটা মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ ভাবেই এইটা ফেস করতে হবে, বিশেষ অ্যারেঞ্জমেন্টের মাধ্যমেই এটাকে আমদের এগিয়ে নিতে হবে।”

    ‘আগামী নির্বাচন ঐতিহাসিক হবে’ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, “অতীতে যা-ই করে থাকুন, আমাদের প্রমাণ করতে হবে আমরা এটা পারি। এর কোনো ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই। আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমি এটা নিশ্চিত করব।”

    একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং জাতি হিসেবে এই মুহূর্তে একটা সময়ের ক্রস রোডে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এই যে অবস্থায় আছি, এর সম্ভবত এক নম্বর কারণ নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া।”

    ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “আপনারা একবার চোখ বন্ধ করে চিন্তা করেন, ভালো নির্বাচন হলে কি এ ধরনের ঘটনা ঘটত? আমরা এ ধরনের নির্বাচন করব না, নির্বাচনের অংশ হব না। এই নির্বাচন কমিশন কখনোই আপনাদের পক্ষপাতদুষ্ট কোনো নির্বাচনের নির্দেশনা দেবে।”

    নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো চাপ কোনো ইনসট্রাকশন কোনো ধরনের ইনিয়ে বিনিয়ে কিছু বলা হবে না। আইন অনুযায়ী সুষ্ঠ নির্বাচন হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। স্বচ্ছ নির্বাচন হতেই হবে।”

    ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “নির্বাচনের ব্যাপারে, নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে অনেক অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন ভালো নির্বাচন করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই।”

    বিগত তিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে ইসি তাহমিদা আহমদ বলেন, “বিগত দিনে যেটা হয়েছে, আমরা দেখেছি, আপনারা দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আপনাদের অবস্থা ছিল হৈমন্তী শুক্লার গানের মতো ‘আমার করার কিছুই ছিল, না চেয়ে চেয়ে দেখলাম’ এর মতো, কিন্তু এবার হবে উল্টো।

    মানে চেয়ে চেয়ে দেখার আর সময় থাকবে না। আপনারা খালি কাজ করতেই থাকবেন। তবে এটাও ঠিক, আমরা সবাই কি চেয়ে দেখেছিলাম? আমরা কেউ কেউ তো আবার একটু বেশি উৎসাহী হচ্ছিলাম।”

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, “অতীতের যেকোনো নির্বাচনের থেকে আসন্ন নির্বাচন চ্যালেঞ্জের। আমরা নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে চাই।”

    আখতার আহমেদ বলেন, “ইসির চ্যালেঞ্জ দুটি। একটি হলো এআইয়ের অপপ্রয়োগ, আরেকটি প্রবাসীদের ভোটাধিকার। আমরা প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করব। ধাপে ধাপে কাজ করছি, ওভারনাইট কিছু হবে না।

    আমরা কাজ করে সব কিছু আদায় করতে চাই। ভালো নির্বাচনের বিকল্প নেই, এটির জন্য জাতি আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কোনো কৃপণতা নেই। আমরা চেষ্টা করছি সব কাজ ভালোভাবে করতে।”

    নির্বাচনে এআইয়ের অপব্যবহার এবং পোস্টাল ভোটিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে বলেও জানান ইসি সচিব।

  • ‘জুলাই বিপ্লবের এক নম্বর কারণ পচা নির্বাচন’

    ‘জুলাই বিপ্লবের এক নম্বর কারণ পচা নির্বাচন’

    নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের যে কারণে হয়েছে তার এক নম্বর কারণ পচা নির্বাচন ও নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়া।

    শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় মিলনায়তনে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৫’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা সময়ের ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে আছে। তার এক নম্বর কারণ নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়া। যে সব কারণে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে তার প্রধান কারণ দেশে ভালো নির্বাচন না থাকা। চোখ বন্ধ করে দেখেন, জুলাই আন্দোলন কেন হলো, তার প্রধান কারণ পচা নির্বাচন বা নির্বাচনের নামে প্রহসন।’

    মাঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আমরা আর কখনো পচা নির্বাচন করবো না। পক্ষপাতমূলক দুষ্ট নির্বাচনের জন্য ইসি আপনাদের চাপ দেবে না, ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলবে না। নির্বাচনে যদি কেউ অনিয়ম করে তাহলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে, ইসি কোনো দায়িত্ব নেবে না।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিনা আহমেদ, আনো-য়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ প্রমুখ।

  • রাতে জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    রাতে জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ১টার মধ্যে এ ভাষণ দেবেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে দেওয়া ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতার। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা বৈশ্বিক নানা বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার এ ভাষণ আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

    নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।

    নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।

    তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং উরুগুয়ের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগদানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সংক্ষিপ্ত বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

    অধ্যাপক ইউনূস জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত থাকবেন।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তার নির্বাচনী এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদান উল্লেখ করে প্রশংসা করেন। তিনি ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করেন।

    পরে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেদারল্যান্ডসের রানি ও জাতিসংঘ মহাসচিবের ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স ফর ডেভেলপমেন্টবিষয়ক বিশেষ দূত হার ম্যাজেস্টি কুইন ম্যাক্সিমার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিশেষ করে বৈশ্বিক দক্ষিণাঞ্চলে স্বাস্থ্য বীমা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    তারা আর্থিক খাতে জীবন ও স্বাস্থ্যবীমা, দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় এবং পেনশন স্কিমসহ বিভিন্ন উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করেন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রফেসর ইউনূস মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী ঋণসুবিধা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব দেন, যা গ্রামীণ নারীদের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে এবং অসংখ্য প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবে।

    বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বৈশ্বিক ওষুধ শিল্পের পুনর্গঠনের আহ্বান জানান এবং আরও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে উৎপাদিত ভ্যাকসিন সর্বদা সাশ্রয়ী থাকবে।’

    অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রানি ম্যাক্সিমাকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এ সময় নেদারল্যান্ডসের ক্রাউন প্রিন্সেস ক্যাথারিনা-আমালিয়াও উপস্থিত ছিলেন।

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানোম গেব্রেইয়েসুসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষের অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য ইস্যু ও সাম্প্রতিক বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

    দিনের শেষভাগে মুখ্য উপদেষ্টা দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন—একটি ‘ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ এবং অপরটি সামাজিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে।

  • নিবন্ধন পাচ্ছে এনসিপিসহ ৬ দল

    নিবন্ধন পাচ্ছে এনসিপিসহ ৬ দল

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগসহ ৬টি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানায়, কমিশনের স্বাক্ষর শেষে এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

    জানা গেছে, ২২টি দলের মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগসহ ৬টি দলকে চূড়ান্তভাবে নিবন্ধন দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

    ইতোমধ্যে এসব দলকে নিবন্ধন দিতে সুপারিশ করে ফাইল কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখার কার্যক্রম শেষ হয়ে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) নথিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে। আজ (সোমবার) কমিশনের অনুমোদনের জন্য ফাইল উপস্থাপন করা হবে। কমিশন চাইলে শাখার প্রস্তাবে সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবে।

    কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এরপর আপত্তির বিষয়ে শুনানির জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপর প্রতিক নির্ধারণ করে চূড়ান্ত তালিকা জানিয়ে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

    এর আগে, ১৪৩টি নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। প্রথম ধাপে কোনো দলই শর্ত পূরণ না করায় সময় দিয়েছিল ইসি। পরবর্তীতে ৮৪টি দল সাড়া দিলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ২২টি দলের মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করা হয়। এই ২২টি দলের মধ্যে থেকেই ছয়টি দল নিবন্ধনের জন্য মনোনীত হয়।

    আইন অনুযায়ী, কোনো দলকে নিবন্ধন পেতে হলে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি, কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা কমিটি, ১০০টি উপজেলা কমিটি এবং প্রতিটি কমিটিতে অন্তত ২০০ ভোটারের সমর্থনের প্রমাণ থাকতে হয়। পাশাপাশি পূর্ববর্তী নির্বাচনে সংসদ সদস্য থাকা বা মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ অর্জন করার শর্তও রয়েছে।

    উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫১। নতুন ছয়টি দল নিবন্ধন পেলে মোট নিবন্ধিত দল দাঁড়াবে ৫৭টি।

  • সরানো হলো জনপ্রশাসন সচিবকে

    সরানো হলো জনপ্রশাসন সচিবকে

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্ব কার্যকর হবে।

    পাঁচ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত ২৮ আগস্ট মো. মোখলেস উর রহমানকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব করা হয়েছিল। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা। প্রশাসনে ‘নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি হয় মোখলেস উর রহমান দায়িত্বে থাকাকালে।

    পদায়ন ও পদোন্নতিতে বঞ্চনার অভিযোগ, সচিব ও সংস্থাপ্রধান নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা, এমনকি জেলা প্রশাসক নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

  • জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন হতে হবে-অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন হতে হবে-অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন হতে হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আজ বৃহস্পতিবার এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আগে তিনি এ কথা জানান।

    জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, জুলাই সনদেও জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি। এটির আইনি ভিত্তি দিতে হবে। সংস্কার করতে হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে আইনি ও সাংবাধানিক ভিত্তি দিতে হবে। যা নির্বাচনের আগেই করতে হবে। না হলে দেশে আরেকটি ফ্যাসিবাদ ও হাসিনার জন্ম হবে যা জনগণ মেনে নেবে না।

    তিনি আরও বলেন, পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। তা না হলে সেটি হবে জনআকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল তা বাস্তবতায়নের চতুর্মুখী চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে একটি দল প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে, তাতে সরকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে, তাই আন্দোলনে নেমেছি। এটি রাজনীতির অংশ। আবারও আলোচনার টেবিলে যেতে রাজি। তবে পিআর পদ্ধতিতেই নির্বাচন হতে হবে।