Category: জাতীয়

  • বিএনপি`র চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল

    বিএনপি`র চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল

    বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা নাগাদ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেনবিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদটি দলের ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জেড এম জাহিদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন 

    হাসপাতালে অবস্থানকালে বড় ছেলে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, অন্যান্য পরিবার সদস্য এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর পাশে ছিলেন 

    বক্তব্যে বলা হয়েছে, মরহুমার জানাজা সমাবেশের সময়সূচি পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে এই মুহূর্তে পরিবার দলের তরফে শোক প্রকাশ দেশবাসীর কাছে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়েছে 

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিল এনসিপি ও এলডিপি

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিল এনসিপি ও এলডিপি

    জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ৮ রাজনৈতিক দলের জোটে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও  লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)।  আজ ররিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আটদলীয় জোটের এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।

    জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‍“আমাদের সঙ্গে আরো দুটি দল যুক্ত হয়েছে  ‘‘একটি এনসিপি ও অপরটি এলডিপি।”

    তিনি আরো বলেন, “এনসিপির সঙ্গে আমাদের আলোচনা আজকে সমাপ্ত হয়েছে। তারা এখানে আসার সুযোগ পাননি। তারা রাতে একটি প্রেস কনফারেন্স করে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন।”

    জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘আমাদের আসন সমঝোতা অলমোস্ট কমপ্লিট। সামান্য যা বাকি আছে তা আলোচনার ভিত্তিতে আমরা সুন্দরভাবে শেষ করতে পারব আশা করি।’

    এর আগে বিকেলে ঢাকা-১৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “জুলাই বিপ্লবে অংশীজন দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে আসন সমঝোতার মাধ্যমে জোটের মাধ্যমে ভোটে অংশ নিচ্ছি।

    অন্যান্য দলের সঙ্গে খেলাফতে মজলিশ, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপিসহ অন্যান্য দল থাকবে।”

    উল্লেখ্য, নতুন করে এনসিপি ও এলডিপি নির্বাচিন সমঝোতায় যুক্ত হওয়ায় এখানে দলের সঙ্গে সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে।

  • ইনকিলাব মঞ্চের শাহবাগ অবরোধ

    ইনকিলাব মঞ্চের শাহবাগ অবরোধ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিবে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।

    শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে এসে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

    বিক্ষোভ মিছিলে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। এ সময় শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    বিক্ষোভকারীদের ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি লড়াই করে’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘গোলামী না আজাদি, আজাদি আজাদী’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    বিক্ষোভ মিছিল এবং অবরোধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

  • দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী

    দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী

    জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। শপথের দিন থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

    এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন।

    বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম ডিগ্রিও নেন।

    ১৯৮৫ সালে তিনি জেলা আদালতে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং দুই বছর পরে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

    ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০২৮ সালের ১৭ মে অবসরে যাবেন।

  • স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নয়, ডিএমপি ‘পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত !

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নয়, ডিএমপি ‘পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত !

    দেশে চলমান ভীতিকর পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে বদলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খবর সঠিক নয় বলে সরকারের বিশ্বস্ত সূত্রে  জানা গেছে।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয় পুলিশের প্রধান ইউনিট ডিএমপিকে পুনর্গঠন করে সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    দেশের চলমান পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন মহল থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে অপসারণের দাবি জানানো হলে প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রভাবশালী উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন।

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ ও পরবর্তী প্রথম আলো-ডেইলি স্টার অফিসসহ অনেক সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক  স্থাপনায় হামলা লুটপাট  করে সুযোগ সন্ধানীরা।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, হাদি গুলিবিদ্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি সুযোগ সন্ধানী মহল অস্থিরতা তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচাল করার অংশ হিসেবে আগাম ঘোষণা দিয়ে হামলা ভাঙচুর শুরু করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়।

    বিশেষ করে প্রকাশ্য দিনদুপুরে হাদি গুলিবিদ্ধের পরপরই অস্ত্রধারীদের ধাওয়া করতে পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ আলী শ্যুটারদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের ঘোষণা দিলেও ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কিলাররা দেশের সীমানা পার হয়েছে মর্মে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    প্রায় ৪০ হাজার দক্ষ বাছাইকৃত সদস্যের পুলিশের এই বাহিনী পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহভাজনরা শনাক্ত হলেও পুলিশ তাদের ধরতে দৃশ্যমান তৎপরতা দেখায়নি।

    এলিট ফোর্স র‌্যাব দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে মূল রহস্য উদঘাটন ও অপরাধী পূর্ণ বিবরণ আলামতসহ সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

    এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ রাজধানীর উপরে পুলিশের সক্ষমতা তৈরি করতে না পারাই এই পরিস্থিতি কারণ। ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগের বেশিরভাগ ডিসি বিগত স্বৈরাচার আমলের নিয়োগ দেওয়া পছন্দের বাছাই করা  কর্মকর্তা।

    ৫ আগস্ট তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিল আওয়ামী পরিচয় প্রমাণ করেই। অতিরিক্ত দুই-এর বিরুদ্ধে এসবিতে থাকাকালীন মনিরুলের সহযোগী হিসাবে ছাত্র-আন্দোলন দমনে সোর্স মানির বরাদ্দ করা ২৫ কোটি টাকা আত্মসাথের অভিযোগ রয়েছে।

    অপরদিকে, হাদি হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে শুধুমাত্র স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিও আল্টিমেটাম চন্দ্রের চোখে দেখছে নীতিনির্ধারকরা।

    মূল দায়িত্ব পালন করেন মাঠ পুলিশ। কোন কিছু হতেই শুধু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার  পদত্যাগ দাবি রহস্যজনক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। হাদি হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী দুঃখজনক ঘটনার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত রবিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা প্রধানদের নিয়ে  এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

    সোমবার দিন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যেই গুজব চলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্র জানা যায়, আইনশৃঙ্খলার ক্রমবর্ধমান অবনতির প্রেক্ষিতে আমরা নিয়ে গেলে তো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে এককভাবে দায়ী করা সমীচীন নয়।

    রাজধানীতে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, একটি চিহ্নিত গোষ্ঠীর বেআইনি কর্মকাণ্ড লুটপাট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা  পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সবচেয়ে বড় প্রধান ইউনিট ভিএমপিকে পুনর্গঠন করে সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুলিশের উচ্চপদেও রদবদলের সিদ্ধান্ত গুজব বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বর্তমান নেতৃত্বেই মাধ্যমেই নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে অন্তর্বর্তী সরকারের অভিপ্রায়। রাজনৈতিক দলগুলো এতে কোন আপত্তি করেনি।

    উল্লেখ্য, এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, এমন তথ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেসব সংবাদে দাবি করা হয়েছিল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পরিবর্তে বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে নতুন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। তবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

  • হাদির হত্যাকারীর সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই-অতিরিক্ত আইজিপি

    হাদির হত্যাকারীর সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই-অতিরিক্ত আইজিপি

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী ফয়সাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

    আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, “ফয়সালের শেষ অবস্থান সম্পর্কে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এটি খুঁজে পেতে আমাদের বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।

    হাদির হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা আছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত আইজিপি জানান, “এখন পর্যন্ত আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা সুনির্দিষ্টভাবে পাইনি। তবে আমরা সঠিক তথ্য পেতে চেষ্টা করছি।”

    ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক ধারণা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংঘটিত হতে পারে। এখানে ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা কম। ঘটনার শুরু থেকে আমরা মাঠে ছিলাম। সব এজেন্সি সমন্বিতভাবে কাজ করেছি। ঘটনাটিকে আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য সব দিক যাচাই করছি।”

  • এ কে খন্দকারের জানাজার নামাজে প্রধান উপদেষ্টা

    এ কে খন্দকারের জানাজার নামাজে প্রধান উপদেষ্টা

    মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকারের (এ কে খন্দকার) নামাজে জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকার বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে খন্দকারের ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা ছাড়াও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা জানাজায় অংশ নেন।

    জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মরহুম এ কে খন্দকারের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

    এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন একে একে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বিমান বাহিনীর একটি ফ্লাই পাস্টের মাধ্যমে মরহুমের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী এ কে খন্দকার শনিবার সকালে বার্ধক্য জনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন বীর-উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান এবং সাবেক মন্ত্রী।

  • কবি নজরুলের পাশে সমাহিত বিপ্লবী হাদি

    কবি নজরুলের পাশে সমাহিত বিপ্লবী হাদি

    দেশের লাখো মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সমাহিত হয়েছেন জুলাই বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

    এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে ওসমান হাদির দাফনকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম সমাধি কমপ্লেক্সের আশপাশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কড়া নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এবং কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির মূল ফটকের সামনে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় মসজিদের ফটকগুলোও বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

    এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

    জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনতা।

    এছাড়াও জানাজায় ছিলেন শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্য এবং তার সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা।

  • হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষনা

    হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষনা

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। দেশজুড়ে এবং বিদেশের সব বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে এই বীর যোদ্ধাকে স্মরণ করছে জাতি।

    গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই রাষ্ট্রীয় শোকের ঘোষণা দেন।

    ভাষণের শুরুতে ওসমান হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এই অমর সৈনিককে মহান রাব্বুল আলামিন শহিদ হিসেবে কবুল করুন। তার প্রয়াণ দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

    ”রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে আজ দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে সরকারি উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় গত বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

     

  • মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ

    প্রিয় দেশবাসী, শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, নবীন-প্রবীণ—আপনাদের সকলের প্রতি আমার আন্তরিক সালাম ও শ্রদ্ধা। আসসালামু আলাইকুম!

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশে ও বিশ্বজুড়ে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই বিজয়ের উষ্ণ শুভেচ্ছা। আজ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে এই দিনে আমরা পাই কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের স্বাদ। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে পাই একটি স্বাধীন দেশ ও লাল-সবুজের পতাকা।

    গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীনতার জন্য যুগযুগ ধরে লড়াই-সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন সেইসব বীর যোদ্ধা ও শহিদদের। তাঁদের এই অবদান আমাদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা ও সাহস যোগায়, সকল সংকট-সংগ্রামে দেখায় মুক্তির পথ।

    মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে নতুন সূর্য উদিত হয়েছিল, বিগত বছর গুলোতে তা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদে ম্লান হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা আবারও একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছি।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি উন্নত ও সুশাসিত বাংলাদেশের শক্তিশালী ভিত গড়ে তুলতে যে বিস্তৃত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, দেশের আপামর জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ আমরা তার সফল পরিসমাপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

    প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের সামনে আজ উপস্থিত হয়েছি অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে। এই আনন্দের দিনে গভীর বেদনারসঙ্গে জানাচ্ছি— জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর সম্প্রতি যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়—এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর আঘাত, আমাদের গণতান্ত্রিক পথচলার ওপর আঘাত।

    শরিফ ওসমান হাদি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তাঁর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। আপনারা তাঁর জন্য মহান আল্লাহতালার কাছে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া করুন।

    সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে। আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই—যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

    আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—পরাজিত শক্তি ফ্যাসিস্ট টেরোরিস্টদের এই অপচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাস ঘটিয়ে বা রক্ত ঝরিয়ে এই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

    আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই—সংযম বজায় রাখুন। অপপ্রচার বা গুজবে কান দেবেন না। ফ্যাসিস্ট টেরোরিস্টরা, যারা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়, আমরা অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের মোকাবিলা করব। তাদের ফাঁদে পা দেব না। পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি এ দেশের পবিত্র মাটিতে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।

    প্রিয় দেশবাসী, আমাদের তরুণদের রক্ষা করুন। তাহলে আমরা সবাই এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষা পাবে। যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে তারা বুঝে গেছে তরুণ যোদ্ধারা তাদের পুনরুত্থানের পক্ষে ভীষণ রকম বাধা।

    এই অস্ত্রহীন, ভীতিহীন, ব্যক্তিগত স্বার্থ সম্বন্ধে সম্পূর্ণ উদাসীন — দৈনন্দিন এই চেহারার ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাদের সাংঘাতিক ভীতি। তাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচন আসার আগেই পথের এই বাধাগুলি সরিয়ে ফেলা, নিজেদের রাজত্ব আবার কায়েম করা। তাদের বন্ধুরা যতদিন তাদের সঙ্গে আছে ততদিন তারা এই স্বপ্ন দেখবে। নির্বাচন হয়ে গেলে তাদের বন্ধুরা সমর্থন জোগাতে বেকায়দায় পড়বে। সেজন্যইতো এত তাড়াহুড়া।

    তারা চায় নির্বাচনের আগেই তাদের ফিরে আসা নিশ্চিত করতে। নানা ভঙ্গিতে এটা তারা করবে। এই চোরাগোপ্তা খুন করার উদ্যোগ তার একটা রূপ। আরও কঠিনতর পরিকল্পনা নিয়ে তাদের প্রস্তুতি আছে।

    দেশের সবাইকে জোর গলায় বলতে হবে আমরা তরুণদের রক্ষা করবো। এখানে পুরনো আমলের দাসত্ব মেনে যারা আছে তাদেরকে দাসত্ব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করে আমরা সবাই মিলে দেশের ওপর আমাদের পরিপূর্ণ দখল প্রতিষ্ঠিত করবো। নির্বাচন অব্দি আর বাকি মাত্র দু’মাস।

    আমরা তাদের উপর নজর রাখবো এবং বাকি দিনের প্রতিটি দিন উৎসবমুখর করে রাখবো। যেহেতু আমাদের কিশোর কিশোরী তরুণ তরুণীদের মনে কোনো ভয়ডর নেই তাই তারা নির্বাচনের আগের দু’মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে উৎসবমুখর করে রাখবে।সব রকমের হিংসা, কোন্দল থেকে দেশকে বাঁচিয়ে রাখবে।

    প্রিয় দেশবাসী, আপনারা জানেন, জাতীয় নেত্রী, দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। এ বিষয়টি আমাদের সকলের জন্যই উদ্বেগের বিষয়।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকার, দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদান এবং তাঁর প্রতি জনগণের শ্রদ্ধাময় আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যেই তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরিবারের ইচ্ছাকে সম্মান দেখিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। দেশে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সব বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।

    প্রিয় দেশবাসী, দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিনটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে— জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার, একটি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রকাঠামোর প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক একটি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রমাণভিত্তিক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের প্রধান নির্দেশদাতা হিসেবে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।

    যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, অভ্যুত্থানের পর পলাতক শেখ হাসিনা এবং এই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফেরানোর জন্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে।

    প্রিয় দেশবাসী, ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। কয়েক ডজন পুরোনো আইন সংশোধন করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সংস্কারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার নিশ্চিত করার জন্য এটি আদেশ আকারে জারি করা হয়েছে।

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে এখন নাগরিকদের অনুমোদন নেওয়ার পালা। তাই আগামী নির্বাচনে আপনাদের সিদ্ধান্ত অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথরেখা এখান থেকেই সূচিত হবে।

    আগামী সংসদ নির্বাচনের সময় একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে আপনারা হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত দিন।

    নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

    প্রিয় দেশবাসী, এবারের নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা কোন ধরনের রাষ্ট্র প্রত্যাশা করি তা নির্ভর করবে গণভোটের ফলাফলের ওপর। এই ভোটের মাধ্যমে ঠিক হবে নতুন বাংলাদেশের চরিত্র, কাঠামো ও অগ্রযাত্রার গতিপথ।

    আমরা চাই এই নির্বাচন হোক সত্যিকার অর্থে উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোপরি সুষ্ঠু। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    একটি বিষয় বারবার মনে করিয়ে দিতে চাই—নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব আমাদের সবার। আপনাদের মূল্যবান ভোটই আমাদের রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

    তাই ভোটকে শুধুই কাগজে একটি সিল মারার আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখলেই হবে না; বরং এটি হবে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সরাসরি অবদান। দেশের মালিকানা আপনাদের হাতে, আর সেই মালিকানারই স্বাক্ষর আপনার ভোট।

    এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম। আমি দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি উন্মুক্ত আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা একে অপরকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখবেন, কখনো শত্রু হিসেবে দেখবেন না। নির্বাচনের মাঠে এমন একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করুন, যাতে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।

    যারা ভোট বাক্স ডাকাতি করবে তারা দেশের মানুষের স্বাধীনতা হরণকারী। তারা নাগরিকদের দুশমন। তাদের থেকে নাগরিকদের রক্ষা করা আমাদের সবার অবশ্য কর্তব্য। ভোট জনগণের ভবিষ্যৎ রচনার অক্ষর।

    ভোট বাক্সে ভোট জমা দিতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ আর রচনা করা যাবে না। আপনার ভোট আপনি সযত্নে ভোট বাক্সে দিয়ে আসুন। কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তাকে সুশৃংখলভাবে প্রতিহত করুন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিন।

    ভোটের ওপর নির্ভর করছে আপনার আমার সবার ভবিষ্যৎ। আপনার আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ। যোগ্য লোককে ভোট দিন। জাতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন।

    মনে রাখবেন, ভোট রক্ষা করা দেশ রক্ষা করার সমান দায়িত্ব। ভোট রক্ষা করুন। দেশকে রক্ষা করুন। ভোট দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার গাড়ির চাকা। এই চাকা কাউকে চুরি করতে দেবেন না।

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসনকে আরও কার্যকর, নিরপেক্ষ ও নির্বাচনী পরিবেশের উপযোগী করতে সরকার মাঠ প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনে বেশ কিছু রদবদল করেছে। এই পরিবর্তনগুলো কারও প্রতি অনুরাগ বা বিরাগ প্রসূত নয়। এগুলো করা হয়েছে দক্ষতা, যোগ্যতা এবং পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে।

    আমাদের লক্ষ্য একটাই—দেশের প্রতিটি ভোটার যেন ভোট দিতে পারেন নিরাপদ পরিবেশে, ভয়মুক্ত মনে এবং সর্বোচ্চ স্বাধীনতায়। নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে আরও কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন—তা কমিশন অবশ্যই গ্রহণ করবে।

    প্রিয় দেশবাসী, জুলাই সনদ জাতির ভবিষ্যৎ পথযাত্রার একটি ঐতিহাসিক দলিল। এই সনদে আমরা যে সংস্কারমালা প্রস্তাব করেছি—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, দুর্নীতি হ্রাস, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সমাজে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা—এসব বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন জনগণের সুস্পষ্ট মতামত। কারণ একটি জাতীয় রূপান্তর কখনোই একক নেতৃত্ব বা একটি প্রশাসনের মাধ্যমে টেকসই হয় না; জনগণকেই চূড়ান্ত সম্মতি দিতে হয়।

    এই কারণেই আমরা গণভোটের আয়োজন করেছি—যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কারদিশা নির্ধারণে জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এই গণভোট হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক। এখানে আপনাদের প্রতিটি ভোট আগামী দিনের রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করবে।

    এবারের নির্বাচনটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই দিনে এবার দুটি ভোট। একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট। আরেকটি গণভোট—যার প্রভাব হবে শতবর্ষব্যাপী। কাজেই অঅবশ্যই ভোট দিন। ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন।

    এর মাধ্যমে আপনারা জানিয়ে দিন—আপনারা কি জুলাই সনদের সংস্কার কাঠামোকে এগিয়ে নিতে চান কি না। আপনাদের ভোটই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র কোন পথে অগ্রসর হবে, প্রশাসন কোন কাঠামোয় পুনর্গঠিত হবে এবং নতুন বাংলাদেশ কেমন রূপ পাবে।

    প্রিয় দেশবাসী, আপনারা জানেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা কী তৎপরতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছিলেন। ফ্যাসিবাদের মসনদ গুড়িয়ে দিতে তারা অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন।

    প্রবাসীদের এই ভূমিকা শুধু জুলাইয়েই নয়, আমরা দেখেছি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমাদের এই প্রবাসী ভাইবোনেরা কখনোই ভোটাধিকার পাননি।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সক্রিয় উদ্যোগের ফলে প্রথমবারের মতো লাখ লাখ প্রবাসী এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে যাচ্ছেন।

    এর ফলে প্রবাসীরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরাও আনন্দিত। একইসঙ্গে অনেক প্রবাসী নানা জটিলতায় এই উদ্যোগে শামিল হতে না পেরে ব্যথিতও। আপনাদের আবেগের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা রেখে বলছি—এবারের যে ধারা শুরু হলো, তা ভবিষ্যতে থামবে না। আগামীতে আপনারা সবাই এই প্রক্রিয়ায় সামিল হতে পারবেন।

    প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি আপনাদের সামনে আমাদের রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার, আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি তুলে ধরতে চাই। একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা অত্যাবশ্যক।

    বহুদিন ধরে বিচার বিভাগ প্রশাসনের বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তার পূর্ণ সম্ভাবনা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি। এটি জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারে বাধা সৃষ্টি করেছে, আর রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থাকেও দুর্বল করেছে।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম বড় পদক্ষেপ বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই—ইতোমধ্যে বিচার বিভাগকে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে পৃথক সচিবালয় গঠন করা হয়েছে।

    এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। এখন থেকে আর রাজনৈতিক কোনো চাপ বা প্রভাবের মাধ্যমে বিচারিক স্বাধীনতা যাতে ব্যাহত না হয়, সে নিশ্চয়তাও আরও জোরদার হবে।

    প্রিয় দেশবাসী, আমাদের দেশের পুলিশ প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি। ফ্যাসিস্ট আমলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থান্বেষী নিয়োগের কারণে সাধারণ মানুষ পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। আমরা চাই এই আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হোক। সেই লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫।

    ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের মানবাধিকারহীন এক ভয়াবহ রাষ্ট্রে বসবাস করতে বাধ্য করা হয়েছে। অথচ সেই ফ্যাসিস্ট সরকারেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নামে একটি সংস্থার অস্তিত্ব ছিল। মূলত আজ্ঞাবহ লোকদের দ্বারা এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হতো নিজেদের অপকর্মের বৈধতা নিশ্চিত করার স্বার্থে।

    অসাধু ব্যবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটানোর উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করেছে।

    প্রিয় দেশবাসী, আমরা আজ এক নতুন ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছি। এই দেশ আমাদের, এই রাষ্ট্র আমাদের, এর ভবিষ্যৎও আমাদের হাতেই। এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। আমরা এবারের বিজয় দিবসকে জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে নিতে চাই।

    মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক অনুপ্রেরণা ধারণ করে জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে নবযাত্রা সূচিত হয়েছে, তা এগিয়ে নেওয়াই আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

    আসুন, শতবর্ষের সংগ্রাম ও বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিতে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি। ধর্ম–বর্ণ–গোষ্ঠী এবং লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাই শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের পথে। আসুন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, মানবিকতা ও উন্নয়নের পথে একসঙ্গে এগিয়ে যাই। সবাইকে আবারও মহান বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

    আল্লাহ হাফেজ।