Category: ঢাকা বিভাগ

  • ‘৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ হবে ১২ তারিখ’

    ‘৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ হবে ১২ তারিখ’

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, ১২ তারিখ বার বার ফিরে আসবে না। ৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পর্ণ হবে ১২ তারিখ। যে আকাঙক্ষা নিয়ে রক্ত দিয়েছিল আমার ভাই-বোনেরা, ওই রক্তের ঋণ পরিশোধ করার দিন হলো ১২ তারিখ। এই রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করবে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।

    তিনি আরও বলেন, তরুণরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়ে দিয়েছে। জনগণ সেদিন দুর্নীতি-চাঁদাবাজ-ঋণখেলাপিদেরকে লালকার্ড দেখাবে।

    রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা যারা ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের যাতাকলে পিষ্ট ছিলাম, এর মধ্যে একটা অংশ মজলুম থেকে জালেম হয়ে উঠেছে। যে সব অপকর্ম আওয়ালীগ করতো, তারাও ৬ তারিখ সকাল থেকে সেসব অপকর্ম শুরু করেছে।

    আগস্টের ৬ তারিখ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যারা অপকর্ম শুরু করেছিল, তারা আর বন্ধ করেনি। আমরা তো এজন্য লড়াই করিনি, রক্ত দেইনি। আমাদের সন্তানদের দাবি ছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস।

    তিনি বলেন, একটি দল মাঝে মধ্যে বলে, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন। ঋণ খেলাপি, ব্যাংক ডাকাত বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে আপনারা দুর্নীতি বন্ধ করবেন!

    আবরার-হাদীর প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, আবরার ফাহাদ, হাদী তোমাদের কাছে আমরা ঋণী। আমরা সুযোগ পেলে, তোমরা যেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলে, তেমনি উদ্বীপ্ত বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো।

    শাপলা কলিতে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে নাহিদ ইসলামরা বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের পাইলট হিসেবে থাকবে। আমরা থাকবো প্যাসেঞ্জার হিসেবে। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে এই সরকারে নাহিদ ইসলামকে আপনারা একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখবেন।

    তিনি বলেন, এই জাতির ভাগ্য বদলের জন্য ৫টি বছর যথেষ্ট। আমরা কোনো ভুল আশ্বাস দেবো না। যা বলবো তা জানপ্রাণ দিয়ে পালন করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদার হবো ইনশাআল্লাহ।

    ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে আমির বলেন, জুলাইয়ে যারা পাহারাদার ছিলেন ১২ তারিখও আপনারা পাহারাদার হবেন। আমাদের কাছে আপনাদের ১টা ভোট গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের কাছে ১টা আসনও গুরুত্বপূর্ণ।

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতি গঠণে ‘ট্যার্নিং পয়েন্ট’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতি গঠণে ‘ট্যার্নিং পয়েন্ট’

    গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুষ্ঠ ও সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলার জন্য একটি আদর্শীক রাষ্ট্র-কাঠামো প্রয়োজন। রাষ্ট্র বা সমাজে ন্যায়ণীতি পরায়ন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘ সরকার বা দেশ পরিচালিত হলে তাদের কাছ থেকে জবাবদেহীমূলক সেবা ও অধিকার আশা করা যায়। কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশে বিগত ৫৪ বছরেও একটি ন্যায়ণীতি পরায়ণ বা জবাবদেহীমূলকঃ সরকার গঠিত হয়নি। যার কারণে বরাবরই জনগন তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    স্বাধীনতাত্তর বাংলাদেশে যে কয়টি সরকার গঠিত হয়েছে তারা অধিকাংশই ছিল আত্মকেন্দ্রীক। দেশে ও জনগণের ভালোতে তাদের অবদান আশানুরুপ ছিল না। বলাযায়, তারা ভালোর খোলসে আবৃত্ত একটি পচনশীল সরকার ছিল যা কেবল দলিয় বিনিময়ে চলনশীল ছিল। এই, ধোকাবাজ ও অসার নেতৃত্বের কারণে দীর্ঘ  ৫৪ বছরেও বাংলাদেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।

    বিশেজ্ঞদের মতে, বিগত সময়ে বাংলাদেশের বৃহৎ তিনটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসলেও তারা জনগণের আশা পুরন করতে পারেনি। নির্বাচিত হওয়ার আগে তারা বিভিন্ন প্রতিশ্রতি দিলেও ক্ষমতা দখল করার সাথে সাথে তার সন্ত্রাস, চাদাঁবাজী ও লুন্ঠনে সময় পার করেছে। দেশের বিপুল পরিমান সম্পদ বিদেশে পাচার করে গড়ে তুলছে প্রমোদ-অট্রলিকা।

    সর্বোপরি তারা অসম রাজনৈতিক মন্ত্র বলে গড়ে তুলেছে একটি অস্থির প্রজন্ম যারা জনসেবার পরির্বতে ক্ষমতা আর পেশী শক্তিকে ব্যবহার করে জনসাধারনকে ভয় দেখিয়েছে বা ক্রমাগত ‘পদানত করেছে। ফলে, অনুপাতিক হারের অধিকাংশ শান্তি প্রিয় মানুষ ‘এক অসুস্থ্য রাজনৈতিক ব্যধিতে’ মারাত্বক ভাবে আক্রান্ত হয়েছে। বিগত ৫৪ বছর ধরে চলতে থাকা এই ব্যাধি ক্রমাগত বেড়ে এখন মহামারির রুপ ধারন করেছে।

    এমতবস্থায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও জাতি গঠণে ‘ট্যার্নিং পয়েন্ট’ হিসাবে বিবেচিত। কারণ একটি যুগান্তকারী বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ আসন্ন নির্বাচনের দায়িত্ব নিয়েছে। বহুদিনের আশাহত জাতি নতুন আশায় জাগ্রত হয়েছে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে তারা একটি নিরপেক্ষ ও সুন্দর নির্বাচন দেখতে চান।

    বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দেড় বছরে তাদের অনেক সিদ্ধান্তেই জাতি আশাবাদী হয়েছেন। ইতিমধ্যে সত্য ও ন্যায়ের স্লোগানে যুব-তরুণ সমাজ কুসংস্কারের প্রাচীর ভাঙ্গতে শুরু করেছে। জুলাই বিপ্লব জানিয়ে দিয়েছে তারা শাসক নামক জালিমদের আর ভয় পায় না। আবু-সাঈদ ও হাদির পথেই এসকল যুবকেরা সত্য ও সুন্দরের পথে বুকে তাজা বুলেট নিতে ডাক দিয়েছে-

    `কারার ঐ লৌহ কপাট
    ভেঙে ফেল কর রে লোপাট
    রক্ত জমাট শিকল পুজোর পাষাণ বেদী
    ওরে ও তরুণ ঈষাণ
    বাজা তোর প্রলয় বিষাণ
    ধ্বংস নিশান উক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি’ ॥

    সত্য সুন্দরের পথের এই অগ্রযাত্রায় দেশবাসী অংশ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। মনে রাখতে হবে- কেবল আদর্শীক ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্বই পারে একটি কল্যাণকর ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে। তাই আসুন হাতে হাত রাখি, সত্য সুন্দরের পথে থাকি।

    মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, প্রধান সমন্বয়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি সাটুরিয়া উপজেলা শাখা।
  • নানি বাড়ী এসেছি, ধানের শীষে ভোট চাই-তারেক জিয়া

    নানি বাড়ী এসেছি, ধানের শীষে ভোট চাই-তারেক জিয়া

    ‘অনেক দিন পর নানি বাড়ী এসেছি, আপনারা কী খাওয়াবেন আর কী দিবেন ! এ জেলায় ভালো ধান ফলে, তাই নানীর বাড়ির এলাকার বিখ্যাত ধান অর্থাৎ ধানের শীষে আমি ভোট চাইতে এসেছি বলে জানান তারেক জিয়া।

    এই সময় তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন করতে, দেশের মানুষকে ভালো রাখতে ধানের শীষে ভোট দিবেন। নানীর বাড়ির মানুষের কাছে একটাই আমার চাওয়া। নাতি হিসেবে এটি আমার আবদার।’

    আজ শনিবার বিকালে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর সরকারী কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণ জনসভায় নাতি হিসেবে ভোট পাওয়ার আবদার রেখে  রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, ‘দিনাজপুরকে সারাদেশ চিনে কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে। এই এলাকার লিচু খুবই বিখ্যাত। আমরা এই কৃষি প্রধান অঞ্চলকে কৃষির সাথে সম্পর্কিত শিল্প গড়ে তুলতে চাই।

    এই এলাকার বিখ্যাত লিচু প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানী করতে চাই। লিচু সংরণের জন্য হিমাগার তৈরি করতে চাই। যাতে পরে লিচু বিদেশে রপ্তানী করতে পারি। ক্ষমতায় গেলে দিনাজপুরে উৎপাদিত আম প্রক্রিয়াজাত করনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কোম্পানীকে দিনাজপুরে আনা হবে।’

    দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে দিনাজপুর- ৬ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণা জনসভায় তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আমরা জনগণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি।

    জনগণের সমর্থন, ভালোবাসা ও জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সাধারণ ও খেটে-খাওয়া মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি করতে পারবে।

    এই সময় বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।

    বক্তব্য শেষে তারেক রহমান ধানের শীষ হাতে তুলে দিয়ে দিনাজপুর- ৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর সদর- ৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া ও দিনাজপুর- ৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী একেএম কামরুজ্জামানকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে দিনাজপুরের ৬টি আসনে ধানের শীষে ভোট চান সকলের কাছে।

     

  • বিএনপির ৫১ দফার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষনা

    বিএনপির ৫১ দফার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষনা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের জন্য কী কী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে—তার রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

    দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ৯টি অগ্রাধিকার খাতকে সামনে রেখে ৫১ দফার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে।

    শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

    এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সে হিসেবে এটি তার নেতৃত্বে দলের প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা।

     

  • পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের অন্তত ২৩ জন আহত

    পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের অন্তত ২৩ জন আহত

    জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা করার সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ। এতে সংগঠনটির অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে যেতে চাইলে  ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।

    ঢামেকের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ২০-২৫ জন এসেছে। তাদের সবাই আহত।

    তবে, গুলিবিদ্ধ বা রাবার বুলেটে বিদ্ধ কেউ এসেছে কি না, সেটা এখনই বলতে পারব না। ভর্তি ছাড়াই অনেককে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

  • জাতীয় সরকার’ গঠনে জামায়াত ইতিবাচক-ডা. শফিকুর রহমান

    জাতীয় সরকার’ গঠনে জামায়াত ইতিবাচক-ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত একটি প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল, যা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিতভাবে নিজেদের নীতি ও কৌশল পরিমার্জন করে আসছে। জামায়াত সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।

    ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন দ্য উইক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটির কৌশল তুলে ধরেন।

    দ্য উইক-এর দিল্লি ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজার এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকা সময়েও জামায়াত কখনো গণতান্ত্রিক কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে দলটি উপলব্ধি করেছে—গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য অত্যন্ত জরুরি।

    ডা. শফিকুর রহমানের ভাষায়, ওই সময়কাল জামায়াতকে আরও শক্তিশালী করেছে। এ সময় দলটি সাংগঠনিক কাঠামো সুসংহত করেছে, শৃঙ্খলা জোরদার করেছে এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ গভীর করেছে। পাশাপাশি পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনৈতিক কৌশল নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

    তিনি জানান, ২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষিদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জামায়াত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিকল্প হিসেবে জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

    জামায়াত এখন কেবল একটি আদর্শিক রাজনৈতিক দল নয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার করতে চায়।

    রাজনৈতিক জোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, দলটি বহুদলীয় গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে বিশ্বাসী। এরই মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন করেছে জামায়াত। তবে বিএনপির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক সহযোগিতা এবং ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে জামায়াত ইতিবাচক।

    জোট রাজনীতিতে তাদের তিনটি মূলনীতি হলো—জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি।

    নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাস করে। তিনি উদাহরণ হিসেবে হিন্দু প্রার্থী মনোনয়নের কথা উল্লেখ করেন।

    তবে আসন বণ্টন ও জোটগত সমীকরণের কারণে নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান। তিনি বলেন, জোটের নারী প্রার্থীদের জামায়াত পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার নজিরও রয়েছে।

    অতীতের বিতর্ক প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোনো জামায়াত সদস্যের কর্মকাণ্ডে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তিনি সে জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

  • জানালে, চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিব-আফরোজা খানম রিতা

    জানালে, চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিব-আফরোজা খানম রিতা

    মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, আপনারা যেমন চাঁদাবাজি চান না, আমরাও তেমনি চাঁদাবাজি চাই না। আমাদের কোনো নেতাকর্মীর কারণে যদি আপনারা কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমাকে জানাবেন। কঠোর ব্যবস্থা নেব।

    আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের আলীনগর পুরাতন হাটখোলায় গণসংযোগকালে তিনি এ কথা বলেন।

    এই সময় তিনি আরও বলেন, যে দলের নেতাকর্মীদের কাছে সাধারণ মানুষ যেতে পারে না, সে দল কোনো দল হতে পারে না, আর তারা কেউ নেতাও হতে পারে না। আপনারা আমার বাবা হারুন অর রশিদকে চেনেন। তিনিই আমাকে রাজনীতিতে এনেছেন। আমার বাবা যেমন মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন, আমিও তেমনি আপনাদের জন্য রাজনীতি করছি।

    তিনি আরও বলেন, আপনাদের সবার কাছে একটাই দাবি, ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। যদি ধানের শীষকে বিজয়ী করতে না পারি, তাহলে কিছুই হবে না। সবাই হতাশায় পড়ে যাব।

    গণসংযোগে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি গড়পাড়া ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার সাধারণ মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

  • শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত

    শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত

    শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা যাওয়ায় ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

    বুধবার সকাল ১০টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মাহমুদুর রহমান এ তথ্য জানান। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নির্বাচনী কার্যক্রম পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী নির্দেশনা জানাবে।

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারায় বলা হয়েছে, যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোট গ্রহণের আগে কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হবে।
    নুরুজ্জামান বাদলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিক ভাবে তাকে প্রথমে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
    ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
  • আজ বুধবার টাংগাইল যাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

    আজ বুধবার টাংগাইল যাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোট প্রধান ডা. শফিকুর রহমান আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দিতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন। তার আগমনকে ক্রেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে।

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের অংশ টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আজ দুপুরে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত থাকবেন বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    জামায়াত আমিরের টাঙ্গাইল সফর উপলক্ষে গত সোমবার টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব মিলনায়নে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, সমাবেশ সফল করতে জামায়াতের জেলা ও উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

    টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদ বলেন, “জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, কয়েক লাখ নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেবেন।

    এছাড়া জোটের শরীকদলের নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন।”

    এই সময় তিনি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের আন্তঃহাউজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের আন্তঃহাউজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২৮তম আন্তঃহাউজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার ডেপুটি কমান্ড্যান্ট ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী এএসএম শাহরিয়ার পারভেজ, পিএসসি।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. মহিবুল আকবার মজুমদার, পিএসসি, এইসি, বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।

    অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীমউদ্দীন, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, বেগম রোকেয়া ও বেগম সুফিয়া কামাল হাউজ এবং বিএনসিসি প্লাটুন ও বাদক দলের আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধান অতিথি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণসহ আন্তঃহাউজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বেগম রোকেয়া হাউজ এবং রানার-আপ বেগম সুফিয়া কামাল হাউজকে ট্রফি প্রদান করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য ও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মননে ক্রীড়াচেতনা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন।