Category: ঢাকা বিভাগ

  • এক হাতে ফ্যমিলি কার্ড আরেক হাতে নারীদের হেনস্তা চলতে পারে না: জামায়াত আমির

    এক হাতে ফ্যমিলি কার্ড আরেক হাতে নারীদের হেনস্তা চলতে পারে না: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একই পরিবার থেকে বারবার সরকারপ্রধান চায় না জামায়াত বরং এমন ব্যবস্থা চায় যাতে ভিক্ষুকের সন্তানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি বলেন, এক হাতে ফ্যমিলি কার্ড, আর আরেক হাতে নারীদের হেনস্তা চলতে পারে না। কারওয়ান বাজারে জনসভায় কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে চাঁদাবাজদের রুখে দেয়ার আহ্বান জামায়াত আমির।

    তিনি বলেন, ‘আফসোস তারাই আবার বলেন নারীদের সম্মানিত করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিবেন নারীদের হাতে। এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড আরেক হাতে আমার মায়ের গায়ে হাত এ দুইটা আমরা দেখতে চাই না। মায়েরা মিছিল করে আপনাদের কারো কাছে ফ্যামিলি কার্ড চায় না।’

    গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুর ওয়াক আপ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেন জামায়াত আমির। এই আসনের প্রার্থী প্রয়াত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমান।

    এ সময় বক্তব্যে আরমান ও পরিবারের ওপর নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান।

    তিনি আরো বলেন, সরকার গঠন করলে সবক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার হবে।’

     

  • ‘হ্যাঁ’ভোট জিতলে জিতে যাবে বাংলাদেশ-অধ্যক্ষ মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন 

    ‘হ্যাঁ’ভোট জিতলে জিতে যাবে বাংলাদেশ-অধ্যক্ষ মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন 

    জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, ঢাকা (উঃ) অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মানিকগঞ্জ- ৩  আসনের (কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে বৃহত্তর জোটের সার্থে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেওয়া) জননেতা অধ্যক্ষ মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাহেব বলেছেন, হ্যাঁ ভোট জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে এবং আধিপত্যবাদীদের পরাজয় ঘটবে।

    উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোট জিতলে বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন হবে, ধান্দাবাজি, চান্দাবাজি, টেন্ডারবাজি, লুটপাট, দূর্নীতি বন্ধ হবে। ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে, জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান নিশ্চিত হবে, সর্বোপরি বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাড়াঁবে।

    সোমবার রাত ৭:৩০ মিনিটে মানিকগঞ্জ জেলাধীন সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক  আয়োজিত গণভোটে “হ্যাঁ”ভোট ক্যাম্পেইনে, বিপুল সংখ্যক জনতার উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, দেশের সকল আলেম-উলামাদের ঐক্যবদ্ধ করেছে, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদারা জোটেবদ্ধ হয়েছেন,  ২৪‘র ছাত্র-জনতা ও জুলাই বিপ্লবীরাও আমাদের সাথেই আছেন। দেশের সর্বস্তরের জনগণ  আজ ১১ দলীয় জোটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

     

    এই সময় তিনি উপস্থিত সকলকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, দেশ ও জাতির মুক্তির লক্ষ্যে দাড়িপাল্লা, শাপলাকলি-সহ ১১ দলীয় জোটের মনোনিত প্রার্থীদেরকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্ববান জানান।

    তিনি আরো বলেন, যারা ‘না’ ভোটে পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন বা না ভোটের পক্ষে তারা আধিপত্যবাদীশক্তি এবং ফ্যাসিবাদের দোসর। আপনারা এদের কে চিনে রাখবেন।

       হ্যাঁ ভোট ক্যাম্পেইনে বক্তব্য রাখছেন সাটুরিয়া উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক মোঃ নজরুল ইসলাম

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, এনসিপি মানিকগঞ্জ জেলা সিনিয়র যুগ্মক আহবায়ক ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ‘এম্বাসেডর’ বাংলা্দেয়কশ সুপ্রিম কোর্টের আইন- জীবি এডভোকেট জাহিদুর রহমান তালুকদার।

    এনসিপি সাটুরিয়া উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক জনাব মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সাটুরিয়া উপজেলা শাখার নায়েবে আমীর মুঃ হারুনুর রশীদ, মানিকগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শিকদার শামীম আলমামুন, ব্যবসায়ী নেতা মোঃ সোহরাব হোসেন, যুবনেতা প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইসহাক আলী, অবঃ সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মোঃ শিবলী, শ্রমিক নেতা নাজির আহমদ ও মাসুম বিল্লাহ মোঃ মাসুদ প্রমূখ।

    অনুষ্ঠানে, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন অবঃ অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হোসেন। প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করেই বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন।

     

    (more…)

  • জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি তখন: তারেক রহমান

    জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি তখন: তারেক রহমান

    আজ ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, চারদলীয় জোট সরকার যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা তখন কেন পদত্যাগ করেননি।

    তিনি বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা বিএনপিরই বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।

    তারেক রহমান বলেন, “আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও দুইজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিলেন। বিএনপি যদি এতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেননি?”

    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানই বলে যে খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল। ২০০১ সালে যখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করে।”

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে দুপুরে সড়ক পথে ময়মনসিংহ পৌঁছান তারেক রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

    উল্লেখ্য, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের।

  • ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ক্যাম্প-প্রচার নিষিদ্ধ

    ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ক্যাম্প-প্রচার নিষিদ্ধ

    গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তাদের সমর্থকরা নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন ও প্রচার কার্যক্রম চালাতে পারবেন না।

    এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন একটি পরিপত্র জারি করেছেন। পরিপত্রটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটারদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্ধারিত কক্ষ অনুযায়ী গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস স্থাপন করতে হবে।

    কক্ষগুলো এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে, যাতে ভোটদানের সময় ভোটারের পছন্দ সম্পূর্ণ গোপন থাকে এবং কোনো ব্যক্তি তা দেখতে না পারে। জানালা বা উন্মুক্ত স্থান থাকলে তা বন্ধ রাখতে হবে।

    এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা বিবেচনায় ভোটকেন্দ্রে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ছাড়া অন্য কোনো বাক্স ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একটি এবং অতিরিক্ত হিসেবে একটি ব্যালট বাক্স রাখতে হবে। ভোটগ্রহণ চলাকালে কোনো ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়ে গেলে সেটি পঞ্চম লক দিয়ে সিল করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।

    পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ৪শ গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। একইসঙ্গে পোস্টার, লিফলেট বা যেকোনো ধরনের প্রচারপত্র ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে। ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইমাম সম্মেলনে গণভোটের প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইমাম সম্মেলনে গণভোটের প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে জেলা পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ মঞ্চ’ এ জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই সম্মেলন হয়। ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন মাসুদ।

    প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, গণভোট একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সমাজে প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে ইমাম ও খতিবদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মসজিদভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করে সাধারণ মানুষকে গণভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করার আহ্বান জানান।

    সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, সিভিল সার্জন ডাঃ এ,কে,এম, শাহাব উদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ, এন, এম ওয়াসিম ফিরোজ, ঢাকা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ জাকির হোসাইন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোহাঃ এমরান হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার রূপ কুমার বর্মণ, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া নিমগাছি দারুল উলুম জেসামিয়া ক্বাওমী মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মোঃ মাহবুবুর রহমান সহ অন্যরা। সম্মেলনে ইমাম সম্মেলনে জেলার বিভিন্নস্থানের প্রায় ৭ শত ৫০ জন ইমাম অংশ নেন।

    এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ২০০জন, শিবগঞ্জ উপজেলার ২০০জন, গোমস্তাপুর উপজেলার ১৫০জন, নাচোল ১০০জন ও ভোলাহাট উপজেলার ১০০ জনের মধ্যে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইমাম ও খতিবরা অংশগ্রহণ করেন।

    এ সময় গণভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং জন-সচেতনতা তৈরিতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ইমাম সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে গণভোট বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে যাবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপার ভাইজার মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম। সম্মেলন শেষে দেশ ও জাতীর মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোঃ মুখতার আলী।

  • আমার হাঁস, আমার চাষ করা ধানই খাইবো-রুমিন ফারহানা

    আমার হাঁস, আমার চাষ করা ধানই খাইবো-রুমিন ফারহানা

    বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে আক্ষেপের সুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, আমার একটা হাঁসও যেন শেয়াল চুরি না করে। গুণেগুণে হাঁস আপনারা খোঁয়াড়ে তুলবেন। ১৫ বছর হাল চাষ করলাম, বীজ দিলাম, ধান লাগালাম। ফসল কাটার সময় যদি মরুভূমি আসে কেমনটা লাগে? ঠিক আছে আমার হাঁস, আমার চাষ করা ধানই খাইবো।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইলের শাহবাজপুরে গণসংযোগের সময় তিনি এ কথা বলেন।

    ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ওই সাবেক নেত্রী বলেন, ১৫ বছর হালচাষ করলাম, বীজ দিলাম, ধান লাগালাম। ফসল কাটার সময় যদি মরুভূমি আসে তাহলে কেমনটা লাগে। ঠিক আছে আমার হাঁস আমার চাষ করা ধানই খাইবো।

    ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, এবার সাধারণ মানুষের প্রতীক, জনতার প্রতীক হলো হাঁস। এটা কোনো দলের প্রতীক না। এটা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীরও প্রতীক না। এটা সাধারণ আমজনতার প্রতীক।

    হাঁস মার্কা উন্নয়নের মার্কা, গণতন্ত্রের মার্কা, সাহসের মার্কা, সততার মার্কা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মার্কা। সংসদের ৩শ এমপির বিরুদ্ধে একা লড়াই করার মার্কা। সুতরাং এটা সাধারণ মানুষের মার্কা।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে রুমিন ফারহানা বলেন, আপনারা ১২ তারিখ সারাদিন-রাতে ভোটগণনা করা পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারায় থাকবেন। আপনারাই আমার ভোটের হেফাজতকারী।

    আপনারা একটা দিন আমার জন্য কষ্ট করেন। আগামী পাঁচটা বছর এ দুটি উপজেলাকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়বো।’

  • মুনাফেকি ও ধোঁকাবাজদের থেকে সর্তক থাকতে হবে-তারেক রহমান

    মুনাফেকি ও ধোঁকাবাজদের থেকে সর্তক থাকতে হবে-তারেক রহমান

    ধর্মীয় বিভাজন, মুনাফেকি ও ধোঁকাবাজির রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী শক্তির হাতেই জনগণ নিরাপদ থাকবে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) গভীর রাতে নরসিংদীতে অনুষ্ঠিত এক জনসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

    নির্বাচনী জনসভায় সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া কয়েক দফা ভূমিকম্পের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “এদের এই মিথ্যাচার, এই মুনাফেকি ও শিরকির কারণে আল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—এসব বন্ধ করার জন্য। আমরা যদি এ কথা বলি, তারা কোথায় যাবে? তাই আসুন, এই শিরকি, মুনাফেক ও ধোঁকাবাজদের হাত থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে।”

    তিনি বলেন, দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, কেউ বিদেশে অবস্থান করতে পারেন বা প্রয়োজনে অন্য দেশে চলে যেতে পারেন; কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সবসময় বলেছেন, এই দেশের মাটিই তাঁর একমাত্র ঠিকানা।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা, নারী, শ্রমিক ও পেশাজীবীরা একসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতার সঙ্গে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে তারা জীবন বাজি রেখেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, ভালোকে ভালো এবং মন্দকে মন্দ বলতে হবে। মন্দের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। গত ১৫ বছরে তথাকথিত নির্বাচনের নামে জনসভা ও ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে গুম, খুন, মামলা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে, পাশাপাশি বেড়েছে বেকারত্ব।

    বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশ এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

    বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

    নরসিংদীতে তার আগমন উপলক্ষে বিকেল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাবেশে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ে।

    এই সময় নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও নরসিংদী-১ আসনের প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী-৩ আসনের প্রার্থী মনজুর এলাহীর সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন আসনের মনোনীত প্রার্থীরা।

  • সরকারকে ভয়শূন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে-মির্জা ফখরুল

    সরকারকে ভয়শূন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে-মির্জা ফখরুল

    কেরাণীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের গুপ্ত হামলা চালানো হচ্ছে।

    ”শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন কেরাণী গঞ্জ মডেল থানাধীন হযরতপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার রাতে হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। হাসান মোল্লা হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের জানমাল রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।” ক্রমবর্ধমান অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর ওপর জোর দেন তিনি।

    এই সময় তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারকে ভয়শূন্য পরিবেশ সৃষ্টি আহ্ববান জানান।

  • মানিকগঞ্জ -৩ আসনে কে হচ্ছেন আগামী দিনের কান্ডারী !

    মানিকগঞ্জ -৩ আসনে কে হচ্ছেন আগামী দিনের কান্ডারী !

    আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সাল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ ১৭ বছর ভোট না দিতে পারা বাংলার আপামর জনতা মুখিয়ে আছে আসন্ন নির্বাচনে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। বহুল কাঙ্খিত এই নির্বাচনে, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে একটি জন-বান্ধব সরকার গঠিত হবে এই প্রত্যাশা দেশের সকল মানুষের। তারই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে সারাদেশ জোড়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, (আসন ভিত্তিক) প্রচারনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা বিজয়ের প্রত্যাশা নিয়ে তাদের নিজ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে-মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রাথর্ণা করছেন।

    একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের ‘নির্বাচনী-রাজনীতির’ অমূল পরিবর্তন হয়েছে। তাই, এবারের নির্বাচনের ফলাফল প্রার্থীদের অতীতের কাজ এবং ভবিষ্যৎ কর্ম-প্রতিজ্ঞার উপর বিরাট প্রভাব ফেলবে এমন আশাবাদ বিশেজ্ঞদের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে- ঢাকার নিকটবর্তী মানিকগঞ্জ-৩ (মানিকগঞ্জ সদর-সাটুরিয়া) আসনে কে হতে যাচ্ছেন আগামী দিনের (সংসদ সদস্য) কান্ডারী তার চুলচেরা বিশ্লেষন চলছে জন-মহলে।

    মানিকগঞ্জ-৩  (ঢাকার নিকটবর্তী) আসনটি নানান দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনটিকে অদূর ভবিষ্যতে একটি ‘সম্ভাবনাময় শিল্প এলাকা’ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাছাড়া কৃষিজ (শাক-সবজি ও তরী তরকারী) দ্রব্য উৎপাদনে এই আসনটির জাতীয় পর্যায়ে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। পরিসংখ্যানে দেখাগেছে, ঢাকা শহরে আমদানীকৃত ৪০ শতাংশ কৃষিজ দ্রব্য (শাক-সবজি ও তরী-তরকারী) মানিকগঞ্জ-৩, এর মানুষ যোগান দিয়ে থাকে। সম্ভাবনাময় শিল্প এলাকাটিতে ইতিমধ্যেই বৃহত্তর শিল্প পরিবার- বসুন্ধরা গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, তারাসীমা (বি২বি গ্রুপ) ও মুন্নু গ্রুপ তাদের ভবিষ্যৎ বৃহৎ-পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে দিয়েছে। তাই, সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের গুরুত্ব অপরীসিম।

    মানিকগঞ্জ-৩ আসনটি- মানিকগঞ্জ সদর এবং সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনটিতে মোট ভোটার  সংখ্যা- ৩,৫৮,৪৬১ জন (পুরুষ- ১৭৮৫৪৭ এবং নারী- ১,৭৯,৯১৪ জন)। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ সদরে মোট ভোটার সংখ্যা ২০,৬১২৪ জন এবং সাটুরিয়া উপজেলায়-১৫২৩৩৭ জন। স্বাধীনতা পরবর্তী দশবারের নির্বাচনে এই আসনটিতে পাচঁবার জাতীয়তাবাদী পার্টি বিএনপি, একবার জাতীয় পার্টি, এবং বিতর্কীত নির্বাচন করে চারবার আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা (পর্যাক্রমে) ক্ষমতা ভোগ করেছেন। কিন্তু যুগ-উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এই আসনটিতে তেমন শ্রীবৃদ্ধি হয়নি। যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে-তার অধিকাংশই শহরকেন্দ্রীক।

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে- বিএনপির মনোনিত আফরোজা খানম রিতা (ধানের শীষ প্রতিক), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা (ফুটবল ), জাতীয় পার্টির আবুল বাশার বাদশা (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাসদের মোঃ শাহজাহান আলী সাজু (মোটরগাড়ী), রফিকুল ইসলাম খান-স্বতন্ত্র (মোটর সাইকেল) মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ (বাইসাইকেল) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল (সূর্যমূখী ফুল), ১০ দলিয় ঐক্যজোটের প্রার্থী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) মোঃ সাঈদ নূর (রিকসা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শামসুদ্দিন সাহেব (হাতপাখা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন।

    আফরোজা খান রিতাঃ আফরোজা খান রিতা বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা (সাবেক মন্ত্রী) হারুন-আর রশিদ মুন্নু মিয়ার মেয়ে। উত্তরাধীকার সূত্রেই তিনি রাজনীতি ও অথনৈতিক ভাবে শক্তিশালী প্রার্থী। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তিনিই ছিলেন মানিকগঞ্জের নির্যাতিত বিএনপির নেতাকর্মীদের একমাত্র র্ত্রানকর্তা। দুঃসময়ে দলের প্রতি তার সহমর্মীতা ও সহযোগিতা নিঃসন্দেহে স্বরনীয়। সেই সুবাদে এই আসনটিতে তার ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া স্বধীনতাত্তোর কাল থেকেই এই আসনটি বিএনপির ঘাটি হিসাবে পরিচিত। জনমত জরিপে. এখানে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আরোজা খান রিতা ও ১০ দলীয় জোট প্রার্থী মওলানা সাঈদ নুরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কথা থাকলেও মওলানা সাঈদ নুরের বহুলাংশের অ-পরিচিতির কারণে এখানে বিএনপি ভালো করবে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

    আতাউর রহমান আতাঃ বিএনপির একজন ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা। দুঃসময়ে রাজনৈতিক মাঠের পরীক্ষিত নেতাদের আইকন তিনি। তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় কারণেই বিতর্কীত আওয়ামী শাসনামলেও তিনি  দুই-দুইবার উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। তাছাড়া দুর্দিনে, তিনি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্ববায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় তার প্রতি সাধারন জনতার ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। সম্প্রতি, বহিস্কৃত এই নেতার প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিজদলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের অসৌজন্যমূলক আচারন জনমনে সহানুভূতি সৃষ্টি করেছে। যা ‘ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টিয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

    আল্লামা মওলানা সাঈদ নূরঃ ১০ দলের জোটের প্রার্থী হিসাবে খেলাফত মজলিসের মওলানা সাঈদ নূরকে ভিআইপি প্রার্থী হিসাবে গন্যকরা হয়। কিন্ত প্রথম পর্যায়ে এই আসনটিতে প্রচার-প্রসারে জামায়াতে ইসলামীর মওলানা দেলোয়ার হোসেন ব্যাপক ভাবে এগিয়ে ছিলেন। নির্বাচনী মাঠের অভিজ্ঞ এই প্রার্থী, ইতিপূর্বে কয়েকটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনমনে ‘সত্যবাদি ধারন ও গঠনমূলক রাজনীতিক হিসাবে নিজেকে পরিচিতি করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপক সমর্থন সত্ত্বেও হঠাৎ করে এই আসনটিতে প্রাথী পরির্তন করে খেলাফত মজলিসের মওলানা সাঈদ নুরের (তুলনামূলক ভাবে অপরিচিত) নাম ঘোষনায় জামায়তপন্থী ও সাধারন ভোটারা অনেকটা হতাশায় ভোগছেন।

    মোঃ সাজাহান মিয়া (সাজু) ঃ  জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী মোঃ শাজাহান মিয়া একজন সৎ ও মৃদুভাষি মানুষ।    তার মার্কা মোটরগাড়ী। আওয়ামী শাসনামলের কঠিণ দিনগুলোতে নির্বাচন করে তিনি সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। উপজেলার একমাত্র শিল্প এলাকায় (ধানকোড়ায়) বাড়ী হওয়াতে তিনি বৃহত্তর- শ্রমজীবি মানুষের সমর্থনের আশা রাখেন। তাছাড়া ঐক্যবদ্ধ সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্ড ও খেটে খাওয়া মানুষদেরকে পাশে নিয়ে তিনি এগিয়ে চলছেন।

    ড. রফিকুল ইসলাম খানঃ নিরিবিলি ও ‘সব্যসাচী’ মানুষ। তিনি নির্বাচন করছেন মোটর সাইকেল প্রতিক নিয়ে। প্রবাসী হলেও তিনি এলাকার মানুষের জন্য আর্শীবাদ স্বরুপ। বিগত বিশ বছর থেকে তিনি একাধারে মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরয়ার দরিদ্র-অসহায় মানুষদের অকাতরে সাহায্য-সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। গবীর- অসহায়দের বিনামূল্যে ঘর প্রদান, যাকাতের কাপড় বিতরণ, দুস্থ্যদের আর্থিক সহযোগিতা, এবং দরিদ্র-ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিনামূল্যে হজ পালনের সহযোগিতা করেন। রাজনীতি বিদ পরিচয়ের পরির্বতে এলাকায় তিনি দানবীর ব্যক্তি হিসাবেই বেশী পরিচিত। সহজ সরল জীবন-যাপনে অবস্থ্য ড. রফিকুল ইসলাম ক্লিন ইমেজের মানুষ হলেও একশ্রেণীর মানুষ তাকে স্বৈরাচারের দোসর মনে করেন।

    মওলানা শামসুদ্দিন সাহেবঃ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মওলানা শামসুদ্দিন। তিনি লড়ছেন হাত পাখা প্রতিক নিয়ে। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে তাদের অংসখ্য ভক্তবৃন্দ রয়েছে। তাদের সমর্থন- সহযোগিতা ও পীরভক্ত তরিকাপন্থীদের সমর্থন তার জন্য আর্শীবাদ হয়ে উঠতে পারে।

    উল্লেখ্য, বিগত  সময় গুলোতে বারবারই এই আসনটিতে শহরকেন্দ্রীক প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। জুলাই বিপ্লবের পরে জনসচেতনতায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অনুপাতিক হারে ৪৩% জনসংখ্যার সাটুরিয়াবাসী তাদের দীর্ঘ দিনের বঞ্চনার বহিঃ প্রকাশ ঘটাতে পারেন নিজ উপজেলার প্রার্থীদের ভোট দিয়ে এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

    প্রয়াতঃ নির্বাচনী সার্বিক ফলাফল ভোট প্রক্রিয়ার আগের দিন পর্যন্তও স্থির নয়। প্রচার চলাকালীন সময় নিদিষ্ট ফলাফল বলা মুশকিল। তাই চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য মানিকগঞ্জ-৩ বাসীদের আরো কিছুদিন (আগামী ১২ ই ফ্রেরুয়ারী) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

  • গণভোট আগামী ৫০ বছরের জন্য জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে

    গণভোট আগামী ৫০ বছরের জন্য জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে

    আগামী নির্বাচনে প্রথম ব্যালটে দেওয়া ভোট পাঁচ বছরের প্রতিনিধি নির্ধারণ করবে, আর গোলাপি ব্যালটে দেওয়া ভোট ৫০ বছরের জন্য জাতির ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

    আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে (বিজয় মেলার মাঠে) গণভোটের প্রচারণা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    এই সময় তিনি আরো বলেন,  আমরা এমন কোন বিরোধী দল চাই না, যাদের জেলে থাকতে হয় বা ১০১টি মামলা নিয়ে ঘরছাড়া থাকতে হয়। পরাজিত প্রার্থীরাও নিজ নিজ দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন—এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমরা চাই, যা বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে রয়েছে।

    তিনি বলেন, আগামীতে এক ব্যক্তি বা একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, কার্যকর বিরোধী দল এবং উচ্চকক্ষের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সরকার গঠনের প্রত্যাশা করছি।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা আরো বলেন, এলপিজি ব্যবসার ৯৮ শতাংশই বর্তমানে বেসরকারি খাতে পরিচালিত হচ্ছে, সরকারের হাতে রয়েছে মাত্র ২ শতাংশ।

    এলপিজি সমস্যা সমাধানে ‘এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্বে ব্যবহৃত জাহাজে এলপিজি আনা সম্ভব না হওয়ায় জাহাজ সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি অচিরেই নিয়ন্ত্রনে আসবে বলে আশা করছি।

    গণভোট ও নির্বাচন প্রসঙ্গে এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার করছি এবং এর যৌক্তিকতা তুলে ধরছি। আমরা কাউকে হ্যাঁ বা না ভোট দিতে বাধ্য করছি না। অন্তর্বর্তী সরকারের ভিত্তি তিনটি—বিচার, নির্বাচন ও সংস্কার। বর্তমান পরিবর্তন না এলে আগামী নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হতো এবং সেটিও কেমন হতো তা জনগণ জানে।

    তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু। জনগণ নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। বর্তমান সরকার জনগণের অধিকার নিশ্চিতকরণকে সার্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

    এই সময় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এবং পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, (বিপিএম)সহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।