Category: রাজশাহী বিভাগ

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্স এর অভিযানে হেরোইনসহ গ্রেফতার ২

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্স এর অভিযানে হেরোইনসহ গ্রেফতার ২

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ মাদক বিরোধী অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্স অভিযানে ১৫৮ গ্রাম হেরোইন ও ৮ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে।

    ২১ এপ্রিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার রামচন্দ্রপুরহাট দিহির মাঠ এলাকায় পরিচালিত টাস্কফোর্স অভিযানে মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

    আটককৃত ব্যবসায়ীরা হচ্ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার রামচন্দ্রপুরহাট দিহির মাঠ এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো: শরিফুল ইসলাম ওরফে ভুট্টু (৪২) এবং একই এলাকার মো: এনামুল হক এর মেয়ে মোসা: আমেনা খাতুন (২৭)।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান এর পাঠানো এক প্রেসনোটে মঙ্গলবার গভীর রাতে জানানো হয়, ২১এপ্রিল ভোর ৭টা থেকে সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার রামচন্দ্রপুরহাট দিহির মাঠ এলাকায় অভিযান চালায় টাস্কফোর্স এর সদস্যরা। অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে ভুট্টু এবং মোসা: আমেনা খাতুন কে আটক করা হয়।

    অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে মোট ১৫৮ গ্রাম হেরোইন এবং ৮ লক্ষ ২০ হাজার ৯১৪ টাকা নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডিএনসি পরিদর্শক মোঃ রফিকুল ইসলাম মামলার বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানান ডিএনসি উপ-পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান।

     

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত রবিবার (০৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে হামের টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো: মুসা জঙ্গী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জল কুমার ঘোষ, সিভিল সার্জন ডা. মো: একে এম শাহাব উদ্দীন, জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক শুকলাল বৈদ্য, ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ঠ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: মো: মশিউর রহমান, জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো: আব্দুস সামাদসহ অন্যরা।

    জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হাম প্রতিরোধে লক্ষ্য মাত্রাভুক্ত শিশুর সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮১৪ জন। এ বিপুল সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

    লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলার মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রত্যন্ত এলাকাতেও টিকা পৌঁছে দিতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    এর আগে হাম (গবধংষবং) রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং টিকা ক্রয়ের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের ২০ জেলার ৩০ স্থানকে হামের ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে সরকারীভাবে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, শিবগঞ্জ উপজেলা ও ভোলাহাট উপজেলা কে হামের ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে।

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই, অর্থাৎ ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে এই কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় শিশুদের প্রাণঘাতি রোগ ‘হাম’ রোগের বর্তমান অবস্থা ও করনীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

    গত বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।

    হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি মোঃ হারুনুর রশীদ এবং পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাবুদ্দীন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। সভায় দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় এনে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে হামমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবা’সহ আটক-১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবা’সহ আটক-১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবা’সহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। চিহ্নিত মাদক কারবারী হেলাল উদ্দিন (৪২)কে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তা পুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার নুনগোলা কেডিসিপাড়া হতে হেরোইন ও ইয়াবা’সহ গ্রেফতার করে র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা। আটককৃত ব্যক্তি হচ্ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার মোঃ মোস্তফার ছেলে মোঃ হেলাল উদ্দিন (৪২)।

    র‌্যাবের এক প্রেসনোটে জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার বারোঘরিয়া এলাকা হতে ৫০.২৫ গ্রাম হেরোইন ও ১২৩ পিচ ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারী মোঃ হেলাল উদ্দিন (৪২)কে তার নিজ বসতবাড়ী হতে আটক করা হয়। আসামী ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    র‌্যাব আরও জানায়, ১১ মার্চ একটি আভযানিক দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নিয়মিত টহল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে গোপন তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে, গোমস্তাপুর থানার রহনপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডস্থ নুনগোলা কেডিসিপাড়ায় আসামীদের বসতবাড়ীতে অবৈধ মাদক ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।

    প্রেক্ষিতে আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে নুনগোলা কেডিসিপাড়া আসামীর নিজ বসতবাড়ীর শয়ন ঘরের সামনে বারান্দা হতে আসামী মোঃ হেলাল উদ্দিন কে বেলা ১২.৩০ ঘটিকায় আটক করা হয় এবং হেলাল উদ্দিন এর স্ত্রী মোসাঃ আয়না বেগম (৪০) ও ছেলে মোঃ হিমেল (২০) সু-কৌশলে পালিয়ে যায়।

    অতপর ধৃত আসামীর স্বীকারোক্তি ও নিজ হাতে বের করে দেওয়া মতে তার বসত বাড়ীর শয়ন ঘরের ভিতর বিছানার তোষকের নীচে হতে অবৈধ মাদক ৫০.২৫ গ্রাম হেরোইন ও ১২৩ পিচ ইয়াবা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য র‌্যাবের নজরদারী ও অভিযান অব্যাহত আছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান শুরু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান শুরু

    অবৈধভাবে মাটি কাটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন ও
    পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযানে একজনকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া অভিযানে অপরাধীদের ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় ও প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ৬, ৭ ও ৮ নং স্পার বাঁধ এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহনের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটি বহনকারী একটি ট্রাক্টরের ড্রাইভারকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

    সোমবার (৯ মার্চ) মধ্যরাতে ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)’র সামনে এই অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ। আরও জানা গেছে, মধ্যরাতে পদ্মা নদী হতে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ভূমিদ্যসুরা অভিযানের সংবাদ পেয়ে পালিয়ে যায়।

    তবে মাটি পরিবহনরত অবস্থায় ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)'র সামনে থেকে একটি মাটিভর্তি ট্রাক্টরসহ সাকিব রানা (১৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাকিব রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে ৮নং স্পার বাঁধ এলাকায় পদ্মানদী হতে মাটি উত্তোলন করে বিএমএইচ ব্রিকসে (হিরো ইটভাটা)'য় পরিবহন করছিলো বলে জানায়।

    বিষয়টি উক্ত ইটভাটার ম্যানেজার আলহাজ্ব এনামুল হক (৬১) অকপটে স্বীকার করেন। তাদের উভয়ের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সাকিব রানা (১৯) কে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিামান এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড সর্বমোট ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।

    এছাড়াও ইটভাটার ম্যানেজার আলহাজ্ব এনামুল হককে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়। এব্যাপারে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    আইনের এমন কঠোর প্রয়োগে নদী ভাঙ্গন একাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, অবৈধ মাটি কাটার কারণে নদীভাঙন ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান হলে এসব অনিয়ম বন্ধ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    স্থানীয়দের দাবী, এলাকার কিছু বালু ও মাটি খেকোরা রাতের বেলার নদী রক্ষা বাঁধ এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এসব মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এই মাটি কেটে নেয়ার ফলে প্রতিবছরই দেখা দিচ্ছে নদী ভাঙ্গন। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশেরও।

    সন্ধ্যা হলেই যেন মাটি খেকোদের উৎসব শুরু হয়, রাতের বেলায় শতাধিক ট্রাক্টর দিয়ে চলে মাটি বহনের কাজ।

    স্থানীয়ভাবে এসব বন্ধের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও কোন মাথাব্যাথা নেই ওই চক্রটির। তারা আরও জানায়, এসব কাজের সাথে এক শ্রেণীর অসাধু জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। দীর্ঘদিন থেকেই এই চক্রটি অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

    স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে বলেন, অভিযান চালানো হয় ঠিকই, কিন্তু অভিযানের ২/১দিন পরই আবার শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব। অজ্ঞাত কারনে দেখেও না দেখার ভান করে সংশ্লিষ্টরা। ফলে একবার অভিযান চালানোর পর আরও জোরে সোরে চালায় মাটি কাটার কাজ।

    এসব মাটি কেটে নেয়ার ফলে জমির উপরিভাগের অংশ কেটে নেয়ায় জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। জমির মালিক হারাচ্ছে ফসলও। এভাবে মাটি-বালু কেটে নেয়ার ফলে হুমকীর মুখে পড়ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা নদী তীর সংরক্ষন বাঁধ।

    স্থানীয় ভূক্তভোগীদের দাবী পদ্মা তীরবর্তী বাঁধ এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে মাটি কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

  • নাচোলে দশম শ্রেণির ছাত্রকে বেধড়ক পিটিলো ছয় শিক্ষক !

    নাচোলে দশম শ্রেণির ছাত্রকে বেধড়ক পিটিলো ছয় শিক্ষক !

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ তুচ্ছ ঘটনায় অফিস কক্ষে শাস্তির নামে এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের ছয়জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী জেলা হাসপাতালে কয়েকদিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেয়। বর্তমানে চিকিৎস-কের পরামর্শে বাড়িতে চিকিৎসাধিন রয়েছে ওই শিক্ষার্থী।

    তবে তার মাথায় এবং ঘাড়ে সমস্যা চলমান। থেকে থেকেই সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে এবং অচেতন হয়ে ভুল-ভাল কথা-বার্তাও বলছে। এতে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবক ও স্বজনরা।

    সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ আবাসিক শাখায় ছেলেকে ভর্তি করে এমন অমানষিক নির্যাতন এবং সন্তানের শারিরিক এমন অবস্থায় ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থী আবির এর বাবা আবু তাজিম মো. সাদরুল হক (বাবু) ও তাঁর পরিবার এবং স্বজনরাও। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর নাম আবু আব্দুল্লাহ আল জাহিদ আবির (১৬) ওই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র। আবির কে ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ ২০২৫ সালে নবম শ্রেণীতে ভর্তি করা হয়।

    নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী আবির, অভিভাবক ও স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি/২৬ গভীর রাতে ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর একাদশ শ্রেণির ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহদাদ-হুমকি দিয়ে (রাত ২টার সময়) ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা আবিরকে হোস্টেলে নবম শ্রেণীর এক ছাত্র অর্পণ কে ডেকে নিয়ে আসতে বলে।

    আবির এতে অস্বীকৃতি জানালে ওই শিক্ষার্থী (মেহদাদ) হাতে পাইপ নিয়ে ভয় দেখিয়ে আবিরকে বলে, “ডেকে নিয়ে আয়, না গেলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে”। ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আবির বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীকে জানায় এবং ডেকে নিয়ে আসতে বাধ্য হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী অর্পণ বিষয়টি এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে, এঘটনায় দোষী মেহদাদ কে কিছু না বলে-উল্টো ভুক্তভোগী আবিরকেই ডেকে নেওয়া হয়।

    অভিযোগ রয়েছে, ০১ ফেব্রুয়ারি/২৬ রোববার দুপুরে কলেজের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ছয়জন শিক্ষক বেতের লাঠি ও চড়-থাপ্পড় দিয়ে আবিরকে নির্মমভাবে মারধর করেন। একপর্যায়ে আবির মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

    তারপরও কোন্ধসঢ়; অজ্ঞাত কারনে আবিরের উপর বেধড়ক মারধর করে ওই ছয় শিক্ষক। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর লালচে ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়। মাথার বিভিন্ন স্থান ফুলে যায়।

    বাবা জানলে আবারও বাবার শাষনের ভয়ে আবির অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজশাহীতে তার বন্ধুর কাছে চলে যায়। সেখানে প্রাথমিক কিছু ঔষধ খেয়ে কোন উপকার হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তার পরিবারকে বিষয়টি জানায় আবির এর সেই বন্ধু। বাবা আবু তাজিম মো. সাদরুল হক এঘটনা শুনে বিচলিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত আবিরকে বাড়িতে নিয়ে এসে চিকিৎসার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপা-তালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আঘাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শে আবিরের মাথার ‘সিটি স্ক্যান’সহ বিভিন্ন পরীক্ষাও করা হয়।

    পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক আবিরের বেশ কিছু সমস্যার কথা জানান আবিরের অভিভাবককে। শিক্ষকদের নির্যাতনে সন্তানের এমন অবস্থায় চিন্তিত আবিরের আবু তাজিম মো. সাদরুল হক। আবির হাসপাতালের ৮ নম্বর কেবিনে কয়েকদিন চিকিৎ-সাধীন ছিলো।

    পরবর্তীতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আবিরের পিতাকে তার ছেলে প্রতিষ্ঠানে নেই এমন খবর দিলে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে নাচোল প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানতে চান, তার ছেলের অপরাধ কী?।

    আবিরকে কেন এমন অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমার ছেলে অপরাধ করে থাকলে- আমি তার অভিভাবক, আমাকে জানাতে পারতেন, কিন্তু আমাকে কোন কিছু না জানিয়ে আবিরকে নির্যাতন চালানো হয়েছে কেন?।

    তবে অভিযোগ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব না দিয়ে বলেন, “আপনার ছেলেকেই জিজ্ঞেস করুন, আমাদের কিছু বলে লাভ হবে না।” নিরুপায় হয়ে বাবা আবু তাজিম মো. সাদরুল হক তার ছেলেকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে যান।

    সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আঘাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন। আবির হাসপাতালের ৮ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন থাকে।

    বিষয়টি নিয়ে ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর সার্বিক তত্বাবধানকারী পরিচালক মোঃ ইশাহাক এর সাথে কথা বলেন আবিরের বাবার ঘনিষ্ঠজন ও স্বজন রাকিবুল ইসলাম বাবু। আবিরের উপর অমানুষিক নির্যাতন ও পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দায়ি শিক্ষকদের বিষয়ে দীর্ঘক্ষন কথা হলে তিনিও (পরিচালক ইশাহাক) বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর উপর কোনভাবেই কোন শারিরিক বা মানষিক নির্যাতন করা যাবে না, কোন শিক্ষার্থী অন্যায় করে থাকলে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবককে জানানো এবং প্রতিকার করার ব্যবস্থা করা উচিৎ।

    পরিচালক আবিরের স্বজনকে আরও বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে এমন টা হওয়ার কথা নয়, যদি এমন কোন কিছু ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

    এমন কথা বললেও এখন পর্যন্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, এমন ঘটনায় অসুস্থ ও আতঙ্কিত আবির এর কোন খোঁজ পর্যন্ত নেই নি ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ কর্তৃপক্ষ। নুণ্যতম কোন মানবতাও দেখায়নি, অভিভাবকের সাথেও কোন আলোচনা বা সান্তনাও দেয়নি।

    আবিরের বাবার ঘনিষ্ঠজন ও স্বজন রাকিবুল ইসলাম বাবু বলেন, একজন সন্তানকে তার অভিভাবক ভালো শিক্ষার্থী এবং মানুষের মতো মানুষ করার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে থাকে।

    আবিরের বাবাও তেমনই আবিরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে অভিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর আবাসিক বিভাগে ভর্তি করেন। সেখানে আবির যদি কোন অন্যায় বা অপরাধ করে থাকে, তাহলে তার বাবাকে জানাতে পারতো প্রতিষ্ঠান প্রধান বা কর্র্তৃপক্ষ।

    এভাবে তো একজন শিক্ষার্থীকে অমানষিক নির্যাতন করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, একদিকে আবিরকে নির্যাতন করার কারণে আবির ভয়ে কোনভাবে তার বন্ধুর কাছে চলে যায়, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা পরিচালক উল্টো বলছেন, আবির পালিয়ে গেছে।

    তারপরও একজন শিক্ষার্থীর এমন ঘটনার কোন বিষয়ে অপরাধ বোধ বা করনীয় বলতে কিছুই করেন নি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, দোষী শিক্ষকরা কিংবা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তাহলে এমন প্রতিষ্ঠানে সন্তানরা কি শিখবে?। অভিভাবকদের কস্ট করার সফলতাই বা কি।

    তিনি বলেন, আবিরের শারিরীক অবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। চিকিৎসকের কথা মোতাবেক আবিরকে দীর্ঘদিন চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে এবং রীতিমত সাবধানে থাকতে হবে। এব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মরিয়ম খাতুন এবং পরিচালক মোঃ ইশাহাক আলীর সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেন নি তাঁরা।

    ভুক্তভোগী পরিবারের অভিভাবক আবিরের বাবা আবু তাজিম মো. সাদরুল হক অভিযোগ করে প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মরিয়ম খাতুনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা নুন্যতম সান্ত¡নামূলক কথাও বলেননি তিনি।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তির নামে এ ধরনের অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত দের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন আবিরের বাবা। তিনি ক্ষোভের সাথে আরও বলেন, এ নির্যাতনই নয়, গত ২৪ জানুয়ারী/২৬ শরীরে জর-মাথাব্যাথা থাকায় আবির ঔষধ খাওয়ার জন্য ক্লাশরুম থেকে নিজ রুমে যায়।

    ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর শিক্ষক আব্দুল্লাহ আবির কে ক্লাসে না পেয়ে রুম থেকে ডেকে নিয়ে এসে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। লাঠির আঘাতে আবির এর বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল ফেটে যায় এবং চামড়াসহ মাংস উঠে যায়।

    এঘটনায় এক্সরে করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। একটু সুস্থ হলে আবিরকে আবারও কোনভাবে বুঝিয়ে ৩০ জানুয়ারী/২৬ ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ পাঠানো হয়। তবে যাওয়ার আগে আবির তার মাকে বলে “মা আমাকে আর ওই প্রতিষ্ঠানে পাঠাইও না-ওরা আমাকে মেরে ফেলবে”।

    ছেলের এ কথা শুনেও গুরুত্ব না দিয়ে আবিরকে পাঠানো হয় প্রতিষ্ঠানে। তারপরই এ ঘটনা। আবারও আবিরকে তুচ্ছ ঘটনায় অমানষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। বর্তমানে আবির কে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তিনি আবারও এঘটনার বিচার দাবী করেন।

    এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাচোলের এক শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ এর আগেও শিক্ষার্থীদের উপর শারিরীক ও মানষিক নির্যাতনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।

    কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনাগুলো ভেতর ভেতর মিটিয়ে নিয়েছেন, এজন্য বাইরের কেউ বিষয়গুলো জানতে পারেনি বা জানতে দেয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর এমন নির্যাতন কোনভাবেই কাম্য নয়। এমন ঘটনার তদন্ত করে অবশ্যই বিচার হওয়া প্রয়োজন।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোলে এশিয়ান স্কুল এ্যান্ড কলেজের অফিস কক্ষে আবু আব্দুল্লাহ আল জাহিদ আবির কে অমানবিক নির্যাতনের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল মতিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার ছাত্র ছাত্রীদের পড়া লেখা শেখানোর জন্য প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে। কাউকে নির্যাতন করার জন্য নয়। বিষয়টি শুনলাম তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান জেলা শিক্ষা অফিসার।

    উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার নাচোল পৌরসভা এলাকায় চেয়ারম্যানপাড়ায় ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে একটি আবাসিক ও অনাবাসিক প্রতিষ্ঠান ২০০৮ সালে গড়ে উঠে। ‘

    এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ টি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠদানের অনুমতি পেলেও এখনও এমপিও ভূক্ত হয়নি। নিজস্ব অর্থায়নেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাঁজাসহ ট্রাক আটক

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাঁজাসহ ট্রাক আটক

     

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে ১৮ কেজি গাঁজাসহ এক ট্রাক ড্রাইভার আটক হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ট্রাক ড্রাইভার মোঃ আজাদ আলী (৩০), জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামের মোঃ আজিজুল হক এর ছেলে।

    র‌্যাবের এক প্রেসনোটে জানানো হয়, সেনাবাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৫ চাঁপাই-নবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা ও সেনাবাহিনীর যৌথ আভিযানিক দল ০৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ২টার দিকে ১টি মালবাহী ট্রাক এবং ট্রাকের ডালার ভিতর রক্ষিত ১৮ কেজি অবৈধ মাদক গাঁজা উদ্ধার করে।

    এসময় মাদক কারবারী ট্রাক ড্রাইভার মোঃ আজাদ আলী ’কে গ্রেফতার করা করে। গ্রেফতারকৃত আসামী ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

  • নির্বাচন ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেনাবাহিনীর মহড়া

    নির্বাচন ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেনাবাহিনীর মহড়া

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    এরই অংশ হিসেবে সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনীর এক বর্ণাঢ্য ও সতর্কতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই মহড়া শুরু হয়। এতে আইনশৃঙ্খলার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৪টি প্রধান বাহিনী অংশগ্রহণ করে।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বাংলাদেশ পুলিশ। মহড়াটির মূল লক্ষ্য ছিল ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতি শীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা কত দ্রুত এবং কার্যকর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা।

    সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বাহিনীগুলো শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিভিন্ন রণকৌশল প্রদর্শন করে, যা নির্বাচনী নিরাপত্তায় তাদের সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। সেনাবাহিনীর এই বিশেষ মহড়া দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় জমায় বিভিন্ন বয়সী শত শত মানুষ।

    সাধারণ জনগণের মধ্যে এই মহড়া একদিকে যেমন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, অন্য কে, ভোটের আগে একটি নিরাপদ পরিবেশের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে ভোটারদের।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে পিস্তল-ম্যাগজিন ও দেশী অস্ত্র উদ্ধার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে পিস্তল-ম্যাগজিন ও দেশী অস্ত্র উদ্ধার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার রহনপুরে নাশকতাকতার উদ্দেশ্যে রাখা ১টি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল, ০৫ রাউন্ড কার্তুজ, ০২টি ম্যাগাজিন ও ০৮টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা।

    শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। রবিবার সকালে এক প্রেসনোটে বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব। তবে এঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।

    র‌্যাব জানায়, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অন্যান্য আইশৃঙ্খলা রাক্ষা-কারী বাহিনীর সাথে র‌্যাব সদস্যরাও জেলায় কাজ করছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১০টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর আড্ডা গামী পাকা রাস্তার উত্তর পাশে নিউ রফিক অটো রাইসমিলের পশ্চিম-উত্তর কোনায় অভিযান চালায়।

    এসময় একটি আমগাছের ঝোঁপের ভিতর হতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ০১টি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল, ০৫ রাউন্ড এ্যামোনিশন, ০২টি ম্যাগাজিন ও ০৮টি দেশীয় অস্ত্র আলামত হিসাবে উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাব আরও জানায়, ০৭ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব-৫ এর একটি আভযানিক টহল দল চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার সকল থানা এলাকায় নিয়মিত টহল, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন রহনপুর হতে আড্ডা গামী পাকা রাস্তার পাশে আম-গাছের ঝোঁপের ভিতর ০১টি সাদা রংয়ের প্লাস্টিকের বস্তা সন্দেহ জনক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

    এমন সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক টহল দল একই রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থল হতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ০১টি প্লাস্টিকের সাদা বস্তার ভিতর রক্ষিত ০২ টি তলোয়ার, ০১টি ভাঙ্গা কাঠের বাটসহ রামদা, ০১টি স্টিলের বাট সহ বল্লম, ০২টি চাইনিজ কুড়াল, ০১টি কাঠের বাটসহ ডেগার, ০১টি দেশীয় পদ্ধতিতে প্রস্তুতকৃত ওয়ান শ্যুটার পিস্তল, ০২টি খালি ম্যাগাজিনসহ ০৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    ধারনা করা হচ্ছে যে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র সমূহ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অশান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে নাশকতা করার পরিকল্পনায় দুষ্কৃতিকারীগণ উল্লেখিত স্থানে লুকিয়ে রেখেছিল। উদ্ধারকৃত আলামত সমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

     

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষদ মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন।

    সভায় বক্তব্য রাখেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন তানভীর, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আলম, বারঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফল হাসান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি অর্জন চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক অজিত দাস, সিসিডিবি মোড়স্থ গীর্জা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিথিকা বাড়ই, আদিবাসী নেতা কর্ণে লুইস মুরমু প্রমুখ।

    বক্তারা, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সভায়, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, হিন্দু, আদিবাসী, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এবং মন্দির, মঠ ও গির্জার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • বেকার ভাতা নয়-কর্মের যুবসমাজ গড়ব-জামায়াত আমির

    বেকার ভাতা নয়-কর্মের যুবসমাজ গড়ব-জামায়াত আমির

    দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য। দেশের নারী-পুরুষ নিজ নিজ অধিকার ভোগ করবে। দেশের যুব সমাজ ভিক্ষাভিত্তিক কোনো সহায়তা নয় বরং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের প্রত্যাশায় রাজপথে নেমেছে।

    তিনি যুবকদের উদ্দেশে বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ হবে দক্ষতা ও কাজের মাধ্যমে গড়ে ওঠা অপমানজনক কোনো বেকার ভাতার ওপর নির্ভরশীল নয়। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    হাজারো হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সমাবেশে ড. শফিকুর রহমান দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা মর্যাদার সঙ্গে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে।

    দেশের অগ্রযাত্রায় তরুণরাই হবে মূল চালিকাশক্তি, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল আসনে বসবে তরুণরা, আর প্রবীণরা তাদের সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে। দেশের সার্বিক অগ্রগতির প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জাতি হিসেবে আর পিছনে তাকানোর সময় নেই। ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করতে হবে।

    নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত এমন সমাজ গড়তে চায়, যেখানে নারী সমাজ সর্বস্তরে সম্মান, অধিকার ও নিরাপত্তা পাবে। বর্তমানে সমাজে এই দুটি বিষয়ের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের ঘরে, কর্মক্ষেত্রে ও চলাচলের পথে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য যেখানে পুরুষ ও নারী উভয়েই নিজ নিজ অধিকার ভোগ করবে এবং কোনো অন্যায়কারী নারীর প্রতি কুদৃষ্টি দেওয়ার সাহস পাবে না।

    ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ টেনে ড. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনে জনগণ স্পষ্টভাবে ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছে, যা প্রমাণ করে দেশে ন্যায়বিচারের ঘাটতি রয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে সবার জন্য সমান আইন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চাঁপাই-নবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল এর হাতে নির্বাচনী প্রতীক ‘দাড়িপাল্লা’ তুলে দিয়ে জেলার ৩টি আসনের ভোটারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমীর ড. শফিকুর রহমান।

    জামায়াত আমীর আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে গোলামীর হাত থেকে দেশকে রক্ষার আহবান জানান চাঁপাই-নবাবগঞ্জবাসীর কাছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর আবু জার গিফারী।  সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

    এ ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ লতিফুর রহমান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল, সাবেক জেলা আমীর ও পৌর মেয়র মোঃ নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মোখ-লেসুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি ও ডাকসুর জিএস এম. এম. ফরহাদসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন স্থরের নেতৃবৃন্দ।

    ঢাকা মহানগর দক্ষিনের আমীর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে এবং আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হই, তাহলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মাদকমুক্ত, মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

    তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিল্পঞ্চল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলে হাজার বেকার তরুন-তরুনীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আমের জেলায় আম সংরক্ষনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে একটি নতুন উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলার সমস্যগুলো সমাধান করে একটি আধুনিক ও মডেল জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে জনগনের সেবক হিসেবে আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।

    তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’য় ভোট দিয়ে জয়ী করার আহবান জানান। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে এবং হ্যাঁ ভোটের ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা জোরদারের ঘোষণা দেন।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীরের আগমন উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

    অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান নওগাঁয় নির্বাচনী সভায় বলেছেন, স্বাধীনতা অর্জনের ৫৪ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গিয়ে বার বার সুযোগ পেয়ে নিজেরাই ক্ষমতাবান হয়েছেন।

    জনগনকে ক্ষমতায়িত করেনি। তারা শুধু কোটি কেটি টাকা লুট করেছে। মেগা- প্রকল্পের নামে মেগা দূর্নীতি করেছে। ইতিপূর্বে যারা ক্ষমতায় ছিল, জনগণ গণ অভ্যূত্থানের মাধ্যমে যাদের তাড়িয়েছেন তারা ২৮ লক্ষ কেটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশে কেন দূর্নীতি হতে দেবনা। আমরা দূর্নীতি করিনা, দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দিবনা। আমরা ব্যাংক লুট করিনা লুটকারীদের প্রশ্রয় দিবনা।

    জামায়াতে ইসলামী আমীর বলেছেন, আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ার্#ী৩৯;র নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বা কোন গোষ্ঠী অথবা কোন বিশেষ শ্রেণীর মানুষের বিজয় চাইনা। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আর ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে হলে জামায়াতে ইসলাম্#ী৩৯;র ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানান।

    তিনি বৃহষ্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় নওগাঁ ্য়ঁড়ঃ;এটিম্য়ঁড়ঃ; মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত হলে নওগাঁ এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প আস্তবায়ন করবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    জেলা আমীর খ ম আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামী নেতা ব্যারিষ্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির, জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী অঞ্চল প্রধান ও বগুড়া-আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাব উদ্দিন, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী মাস্টার খবিরুল ইসলাম শরীক দল এবি পার্টি নেতা এ্যাড. কাজী আতিকুর রহমান, জুলাই যোদ্ধা ফিরোজ হোসেন এবং ২৪শে শহীদ শারমিনের মা।

    সকাল নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী সমর্থক নওগাঁ এ টিম মাঠে এসে সমবেত হন। জনসভা শুরুর নির্দিষ্ট সময়ে বেলা ১১টার মধ্যে এটি মাঠ এবং সংলগ্ন এলাকাসমূহ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।