Category: রাজশাহী বিভাগ

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে এক কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী দুইজনকে গ্রেফতার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

    শনিবার (৩১জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামের মৃত হারুন এর ছেলে দানেশ আলী (৫৩) ও তার স্ত্রী তাহেরা বেগম (৩০) কে এক কেজি গাঁজাসহ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ অধিদপ্তরের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী তাদের নিজ বসত বাড়ীতে পরস্পর যোগসাজসে অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ সনের ৩৬(১) সারণির ক্রমিক নং ১৯(ক)/৪১ ধারায় অপরাধ করায় উক্ত ধারায় নাচোল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করার জন্য এজাহার দাখিল করা হয়েছে।

     

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপুল পরিমাণ গান পাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপুল পরিমাণ গান পাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ গান পাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা।

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের ৫নং বেরিবাঁধ সংলগ্ন একটি লিচু বাগান থেকে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।  শনিবার সকালে র‌্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র‌্যাব-৫ এর একটি আভি-যানিক দল শুক্রবার রাতে নিয়মিত টহল ও মাদক উদ্ধার অভিযানে বের হয়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের জনৈক পলাশের লিচু বাগানে দুটি সন্দেহভাজন প্লাস্টিকের ব্যাগ পড়ে থাকার সংবাদ পায়। প্রেক্ষিতে র‌্যাবের দলটি ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে।

    রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্যাগগুলো থেকে ৩ কেজি ৬০৬ গ্রাম গান পাউডার সদৃশ পদার্থ (সাদা, কালো ও হলুদ রঙের), ৮৫৫ গ্রাম কাঁেচর গুঁড়া, ৮০২ গ্রাম পাথর, ১৮৭ গ্রাম লোহার পেরেক, ১২টি জর্দার কৌটা, ২টি লাল রঙের কসটেপ এবং ৬টি গ্যাস লাইটারসহ সরঞ্জামগুলো জব্দ করা হয়।

    তবে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত আলামত সমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

     

  • ‘ভালো নির্বাচন ও গণভোট বাস্তবায়ন অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ দায়িত্ব’-গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    ‘ভালো নির্বাচন ও গণভোট বাস্তবায়ন অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ দায়িত্ব’-গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য ভাবে সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান চন্দ্র রায় পোদ্দার।

    তিনি বলেন, সরকার আশা করে, আসন্ন নির্বাচন একটি ভালো নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

    মঙ্গলবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রচারণা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, “এবারের নির্বাচন শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণভোট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।

    এ বিষয়ে শুধু কথা বললেই হবে না, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই জানি ২০২৪ সালে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই গণঅভ্যুত্থানেরই ফসল। এই সরকার দায়িত্বে এসেছে জনগণের প্রত্যাশা ও গণআকাঙ্খা বাস্তবায়নের জন্য।

    ফলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।” সংস্কার প্রসঙ্গে ডা. বিধান চন্দ্র রায় পোদ্দার বলেন, সরকার সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও বিচারিক সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে বিচার প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাচ্ছে।

    এসবের মধ্য দিয়েই সামনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণ একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার পায়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন মাসুদ। তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার গৌতম বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন কালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং যে কোনো অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে।

    বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. এ, কে,এম, শাহাব উদ্দিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মোঃ খাইরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ ইয়াছিন আলী, জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আজাদুল হেলাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসিক আহমেদ, গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সি, ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহীন মাহমুদ, নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম রাব্বানী সরদার, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ আরিফুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসাম, জেলা তথ্য অফিসার রুপ কুমার বর্মণ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকার্ত মোঃ নয়ন মিয়া, গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাকলাইন হোসেন,নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সলেহ আকরাম, ভোলাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সুলতান আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহমুদুজ্জামান, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মুসাব্বির হোসেন খান, গোমস্তাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃইসাহাক আলী, নাচোল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজনু মিয়া, ভোলাহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ইব্রাহিম খল্লিলুল্লাহ, জেলা মডেল মসজিদের পেস ইমাম মোঃ মুক্তার আলী।

    এসময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    মতবিনিময় সভায় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রচারণা, আচরণবিধি প্রতিপালন, ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

    গণভোটে সবাইকে অংশগ্রহন ও হ্যা ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। মত-বিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহন করেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার !

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার !

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নারী শিক্ষা এগিয়ে নিতে ডিএনসি’র উদ্যোগে নারী শিক্ষায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে “নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় মাদকমুক্ত সমাজের ভূমিকা” শীর্ষক সচেতনতামূলক সেমিনার হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার রেহাইচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সেমিনার হয়েছে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান।

    প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার। তিনি মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তারুণ্য নির্ভর, উন্নত ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।

    সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন রেহাইচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা: হাসান আলী। এসময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণও উপস্থিত ছিলেন।

    সেমিনারের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা, মাদকবিরোধী শপথবাক্য পাঠ এবং লাল কার্ড প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকবিরোধী স্লোগান সংবলিত উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ কোটি টাকার হেরোইনসহ গ্রেপ্তার -১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ কোটি টাকার হেরোইনসহ গ্রেপ্তার -১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় নিজ বসতবাড়িকে মাদক মজুদের নিরাপদ গোপনাগার বানিয়ে ভয়ংকর হেরোইনের কারবার চালানো এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৩.১ কেজি হেরোইন।

    র‌্যাব এক প্রেসনোটের মাধ্যমে জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে হেরোইন সংরক্ষণ ও সরবরাহ করে আসছিল। তার বাড়ির ভেতরে আলাদাভাবে লুকিয়ে রাখা তিনটি সাদা পলিথিন প্যাকেটে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ মাদক। পরে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযানের বিষয়ে র‌্যাব সূত্রে আরও জানা গেছে, ১৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মালবাড়িয়া সোনাপট্টি গ্রামে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানের সময় গ্রেপ্তার করা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা এরবান আলী (৫৫)-কে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে-হেরোইন বিক্রির উদ্দেশ্যেই দীর্ঘদিন ধরে নিজের বাড়িতে মাদক মজুদ করে রাখত।

  • ১২ ফেব্রুয়ারির পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঁদাবাজির ঠাঁই হবে না- বুলবুল

    ১২ ফেব্রুয়ারির পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঁদাবাজির ঠাঁই হবে না- বুলবুল

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসকে চিহ্নিত করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর-৩ আসনের এমপি প্রার্থী মোঃ নূরুল ইসলাম বুলবুল।

    তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন, “১২ ফেব্রুয়ারির পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আর কোনো চাঁদা-বাজি চলবে না।” শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত “চাঁপাইনবাব গঞ্জের ব্যবসায় ক্ষেত্রের সমস্যা চিহ্নিতকরণ: করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভাটি অনুষ্ঠিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার ভবনের হলরুমে। নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারছেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে।

    তিনি বলেন, “কারা চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাস করছে, তা জনগণ জানে। এর জবাব জন-গণ ব্যালটের মাধ্যমেই দেবে।” তিনি ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের সমা-লোচনা করে বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে শুধু সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের হাত বদল হয়েছে, বন্ধ হয়নি এই অপশক্তি।

    “৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ পালিয়ে যাওয়ার পরও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, শুধু হাতবদল হয়েছে,”, এমন মন্তব্য করেন তিনি। ঠিকাদারি কাজ ও উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষ ও ‘খাম কালচার’-এর কঠোর সমালোচনা করে বুলবুল বলেন, “আগামীর বাংলাদেশে খাম চালাচালি বন্ধ হবে। কোনো উন্নয়নমূলক কাজে ঠিকাদারকে এক টাকাও চাঁদা দিতে হবে না। কোনো ব্যবসায়ীকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে না।”

    তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতিমুক্ত, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সভাপতি মোঃ আলাউদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মোঃ তরিকুল আলম মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ !

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ !

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডায়রিয়া রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগের দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন ৪৫ জন রোগী।

    নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৬ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১২ জন। সব মিলিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ৭৯ জন রোগী।

    হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, শীত মৌসুম শেষে আবহাওয়ার পরিবর্তন, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং অপরিচ্ছন্ন খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি, তবে বিভিন্ন বয়সী মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন।

    এবিষয়ে জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, “ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ। বিশুদ্ধ পানি পান না করা, রাস্তার খোলা খাবার খাওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে রোগের প্রকোপ বাড়ছে। আমরা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। রোগীরা সময়মতো হাসপাতালে এলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।”

    তিনি আরও বলেন, “ডায়রিয়া হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং ঘরে ঘরে ওআরএস ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।” স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সাধারণ জনগণকে সব সময় ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করা, হাত পরিষ্কার রাখা এবং খাবার ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • ‘ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা’

    ‘ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা’

    স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ- ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা, প্রায় একযুগ পর ঝিনাইদহবাসি পেল এক সফল জেলা প্রশাসক। একের পর এক ঝিনাইদহ শহর দখলমুক্ত করছেন সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এর বিভিন্ন প্রকার জনবান্ধব কর্মকান্ডে অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলার আমজনতা।

    সরেজমিনে ঝিনাইদহ শহর ঘুরে দেখা গেছে প্রায় এক যুগ পর বর্তমান নয়া জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ একের পর এক জেলা শহরের ট্রাক-টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল, শহীদ মিনার ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, শহরের ‘ট’ বাজার সহ শহরের বিভিন্ন এলাকার অলি গলি দখলমুক্ত করছেন। এতে করে শহর জুড়ে অবাধ ও নির্বিঘে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছেন সাধারন জনগন।

    ধীরে ধীরে ঝিনাইদহ শহর একটি মডেল শহর হিসাবে গড়ে উঠছে। তীব্রশীতের মধ্যে অসহায় দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণসহ কম্বল বিতরনের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রকারের জনহীতকর কার্যক্রম চলমান রেখেছেন জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। ফলে প্রায় এক যুগের পর সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এর এসব কর্মকান্ডে অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলার সাধারন মানুষ।

    এছাড়া জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ দায়িত্ব গ্রহন করার পর পরই ঝিনাইদহের আদালত চত্ত্বর, সদর হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএসহ একের পর এক সরকারী প্রতিষ্ঠান দালাল মুক্ত ও দুর্নীতি মুক্ত করেই চলেছেন। বিভিন্ন প্রকার প্রকল্পের মধ্যে টিআর, কাবিটা, কাবিখাসহ নয়া প্রকল্প সমুহের সার্বিক দেখভাল করার কারনে এসব প্রকল্পের কার্যক্রম ধীরেধীরে দুর্নীতি মুক্ত হয়ে উঠছে।

    তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনসহ অবৈধ ভাবে আবাদী জমির মাটি কেটে শ্রেনী পরিবর্তন ও মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করা ও সরকারী গাছ কর্তন, জেলার বিভিন্ন সরকারী অফিসে দূর্নীতি বন্ধকরন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমের ত্বরান্বিত করাসহ জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরণে বদ্ধপরিকর ভুমিকা রেখে ইতিমধ্যে জেলার আমজনতার মধ্যে অভুতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছেন সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ।

    সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বর্তমান কর্মকান্ডের ন্যায় আগামিতেও রাজনীতির মারপ্যাচের উর্দ্ধে উঠে একনিষ্ঠ ভাবে আপন দায়িত্ব পালন করে যাবেন, এমনটায় আশা করছেন জেলার আমজনতা।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির অভিযানে মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য  গ্রেপ্তার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির অভিযানে মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য  গ্রেপ্তার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার রোধে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক মানব পাচারকারীসহ চারজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ৫৩ বিজিবি সদস্যরা।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বগচর গ্রামের এবাদুল ইসলামের ছেলে মোঃ শাহিন (মানব পাচারকারী), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে মোঃ তারাজুল ইসলাম (৩১), রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানা এলাকার মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম মুন্না (৩৭), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মৃত টুপু আলীর ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান।

    বিজিবি সুত্র জানায়, বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বকচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরআলাতলী ইউনিয়নের বকচর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মানব পাচারকারী মোঃ শাহিনের সহায়তায় তারা অবৈধভাবে ভারতের চেন্নাই প্রদেশে রাজমিস্ত্রির কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি বলেন, বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণসহ মানব পাচার, চোরাচালান ও সকল প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

     

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে সংবাদ সম্মেলন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে সংবাদ সম্মেলন

    আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু ঃ অবৈধভাবে ভারতে গরু চোরাচালানের সময় পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হওয়া গোলকাজুল ওরফে কাজলকে কেন্দ্র করে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অবিলম্বে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার, পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং গোলকাজুল নিখোঁজ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।  একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

    এই সময় উপস্থিত ছিলেন, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম, আসামী নুরুল ইসলামের ভাই সোহেল রানা, আসামীর চাচা নাজমুল হোসেন, আটক কৃত কামরুল ইসলামের স্ত্রী সাবানা বেগম, আসামী নেজামের স্ত্রী পারুল বেগমসহ অন্যান্যরা।

    এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমরা সংবাদ সম্মেলন ডেকেছি-চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত বর্তী এলাকায় সংঘটিত একটি নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার প্রতিবাদ এবং নির্দোষ স্থানীয় মানুষ ও পরিবারগুলোর ওপর চলমান হয়রানি বন্ধের দাবিতে।

    এই সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য কোনো রাজনৈতিক নয়, ঘটনার প্রকৃত বিবরণ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরা-যাতে সত্য উদঘাটিত হয় এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত হয়।

    সম্মেলনে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ তুলে ধরে বলা হয়, গত ৩ জানুয়ারি/২৬ আনুমানিক রাত ৩টার দিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের নারো-খাকি এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গোলকাজুল ওরফে কাজল (৩৫) নামের একজন ব্যক্তি নিখোঁজ হন।

    তিনি মৃত আলতাফ হোসেন ওরফে ফিরোজ মেম্বারের ছেলে। তার বাড়ি চাকপাড়া গ্রাম, ইউনিয়ন- চরবাগডাঙ্গা, থানা ও জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর। ঘটনাটি পরদিনই দেশের একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

    একই সাথে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নৌকাডুবির ঘটনায় একজন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার সময় যিনি নিখোঁজ ব্যক্তির সঙ্গে ছিলেন ও কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে ফিরে এসেছেন-তার বক্তব্য ও প্রত্যক্ষ তথ্যের ভিত্তিতে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ঘটনার রাতে সেখানে মাত্র দুইজন ব্যক্তি ছিলেন।

    নিখোঁজ ব্যক্তি গোলকাজুল ওরফে কাজল এবং তার সহযোগী বাচ্চু বাংলাদেশি সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদী দিয়ে একটি ছোট, আনুমানিক ১০ ফুটের ডিঙ্গি নৌকায় অবৈধভাবে ভারতীয় জলসীমার দিকে রওনা হন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে গরু আনা। নৌকাটি নদীর গভীর অংশে পৌঁছানোর পর প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস ও তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

    ঘটনাটি পদ্মা নদীর ভারতীয় জলসীমার গভীর অংশে ঘটে বলেও জানা যায়। নৌকায় থাকা বাচ্চু কোনোরকমে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে বেঁচে যান। অপরদিকে, গোলকাজুন ওরফে কাজল ভারী জ্যাকেট ও কাপড় পরিহিত অবস্থায় পানিতে তলিয়ে যান এবং আর উঠে আসতে পারেননি। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা বাচ্চুর দেয়া জবানবন্দী আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। এই ঘটনা একমাত্র বাচ্চুই প্রত্যক্ষ করেছেন।

    স্থানীয়ভাবে বহু মানুষ এই ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানে এবং পুরো এলাকা শুরু থেকেই বিষয়টি অবগত। ঘটনার পরদিন প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসংশ্লিষ্টভাবে বাচ্চুসহ চারজনের নামে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে কোনো নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত ছাড়াই ঘটনার সাত দিন পর কল্পিত কাহিনি সংযোজন করে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের দোসর, রাজশাহীর সাবেক সিটি মেয়র ও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের দুর্ধর্ষ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের কুখ্যাত ও দুধর্ষ ক্যাডার ও উত্তরবঙ্গের আতঙ্ক, উত্তরবঙ্গের কুখ্যাত মাদক সম্রাট, পাঁচটির অধিক হত্যা মামলার আসামি-বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে আসা ইয়াবা, হেরোইনসহ ভয়ংকর মাদক আমদানির মূল হোতা হিসেবে পরিচিত মো শাহীদ বানা টিপু ওরফে ইয়াবা টিপু ওরফে ল্যাংড়া টিপু দীর্ঘদিন ধরে মাদকের গডফাদার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কুখ্যাত, একই সঙ্গে খুনি, অবৈধ মাদক ব্যবসা, অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালান, বালু মহলের গদফাদার ও আন্ডার গ্রাউন্ডভিত্তিক সন্ত্রাসী অপরাধচক্রের গডফাদার হিসেবে পরিচিত।

    বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে পলাতক অবস্থায় থেকেও আন্ডারগ্রাউন্ড কার্যক্রম, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে যাচ্ছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি-এই নিখোঁজ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া অপহরণ মামলাটি মূলত মাদক সম্রাট শাহীদ রানা টিপুর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তিনি তার প্রতিপক্ষ ও এলাকার সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে নিজের ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অপরাধের কারণ ছাড়াই শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সাতটির অধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা পুলিশ নির্বিঘ্নে রেকর্ড করেছে।

    এই প্রেক্ষাপটে আমরা উদ্বেগজনকভাবে জানাতে চায়, শহীদ রানা টিপুর নামে যখন পাঁচটির অধিক হত্যা মামলাসহ অস্ত্র বিস্ফোরক সন্ত্রাসবিরোধী ও মাদক আইনে একাধিক গুরুতর মামলা বিদ্যমান, তখন তাকে কীভাবে নির্বিঘ্নে দেশ ত্যাগ করতে দেওয়া হলো।

    ৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে ও প্রভাবশালীভাবে চলাফেরা করার পরেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো না? কীভাবে এবং কার সহায়তায় সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল-এই প্রশ্নগুলোর কোনো জবাব আজও আমরা পাইনি।

    একজন চিহ্নিত অপরাধ জগতের গডফাদার এর ক্ষেত্রে যখন কার্যকর বিচার, গ্রেপ্তার কিংবা জবাবদিহি দেখা যায় না, তখন সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার নিয়ে গভীর হতাশা গ্রস্থ। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার (ওসি) মোঃ নূরে আলম, ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ, সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) তাদেরকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। শাহীদ রানা টিপুর নিজ দলীয় লোকজন ও নিকটাত্মীয়দের সূত্রে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত।

    একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো মিজানুর রহমান ওরফে মিজান এবং তার মাদক সিন্ডিকেট ও দলীয় লোকজনকে সামনে রেখে একটি নাটক সাজানোর অপচেষ্টা চলছে।

    এদিকে, শাহীদ রানা টিপু ও তার সহযোগীদের মতো প্রভাবশালী অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে আইনের বাইরে, অথচ সাধারণ মানুষকে বারবার মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হতে হচ্ছে।

    চালানো হচ্ছে ভয়ভীতি, নির্যাতন ও মানসিক চাপ- যার কোনো প্রতিকার আমরা পাচ্ছি না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই নিখোঁজ ঘটনাটিও একই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ- যার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী ও মাদকচক্র আড়ালে থেকে যাচ্ছে এবং এলাকায় ভয়, আতঙ্ক ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি জিইয়ে রাখা হচ্ছে।

    এ ধরনের অপচেষ্টা পুরো এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই নিখোঁজ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্ট হয়েছে।

    ঘটনার পর থেকে দফায় দফায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি তুলেছে। এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি সচেতন মহলও প্রকাশ্যে একাত্মতা ও
    সংহতি প্রকাশ করেছে।

    আমরা এই সংবাদ সম্মেলন থেকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই-এই মামলায় যেসব নির্দোষ মানুষকে আসামি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব ধরনের শাস্তিমূলক ও হয়রানিমূলক ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

    প্রাথমিক তদন্ত, সরেজমিনে ঘটনা যাচাই এবং প্রকৃত সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ না করেই, কেন তাড়াহুড়ো ও কোন্ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই মামলাটি নথিভুক্ত করা হলো? কেন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস্তবতা যাচাই না করে, প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ না করে, একটি গুরুতর মামলা এত দ্রুত রেকর্ড করা হলো?

    এই মিথ্যা মামলা যারপরিকল্পিতভাবে করেছে, যারা তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করেছে এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্দোষ মানুষদের ফাঁসিয়েছে-ওসি হোক বা অন্য যে-ই জড়িত থাকুক, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

    স্বৈরাচার সরকারের দোসর ও প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে তরিঘড়ি করে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ৫ আগস্টের আগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে অনাস্থা ও ভয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল, এই ঘটনার মাধ্যমে সেটিই আবার নতুন করে ফুটে উঠেছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই।

    আমরা কোনো অপরাধীকে রক্ষা করতে বলছিনা। যদি কেউ দোষী হয়, তবে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হোক এবং আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন না করে, প্রভাবশালী অপরাধী চক্রকে আড়াল করে এবং নির্দোষ মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে যেন হয়রানি করা না হয়। প্রশাসনের কাছে জোরালোভাবে আবেদন জানাই, এই নিখোঁজ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রকৃত অপরাধী যদি চিহ্নিত হয়, তার বিরুদ্ধে মামলা হোক, শাস্তি হোক-এটাই আমাদের অবস্থান। কিন্তু একজন ডুবন্ত মানুষ ও একটি নিখোঁজ লাশকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা হচ্ছে, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টির আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

    এই মিথ্যা ও সাজানো মামলার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তারা যেই হোক না কেন-তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

    একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, নির্দোষ মানুষদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই-নির্দোষ মানুষ যেন আর মিথ্যা মামলার শিকার না হয়।