Category: রাজশাহী বিভাগ

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভা করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শাহাদাত হোসেন মাসুদ।

    মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

    জেলা প্রশাসক মাসুদ বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকার আমাকে এই জেলায় দায়িত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব।”

    তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন ও সাংবাদিকরা একই লক্ষ্যেই কাজ করেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নমূলক কাজকে গতিশীল করা। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রশাসনের কাজে স্বচ্ছতা ও গতি এনে দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জেলা প্রশাসক মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন। সকল সমস্যা, সম্ভাবনা উন্নয়নে মিডিয়া বড় ভূমিকা পালন করে চলেছে।

    তিনি আরো জানান, সমালোচনা একটি শিল্প, তাই সঠিক সমোলচনা করা উচিত। প্রশাসন ও গনমাধ্যম এ জেলার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ জেলাকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করবেন।

    সভায় সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

    মতবিনিময় সভায় সংবাদকর্মীরা জেলার মাদক, চোরাচালান, আমের ক্ষতিকর ইটভাটা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়ম- দূর্নীতি ও নানান সমস্যার কথা তুলে ধরেন। নবাগত জেলা প্রশাসক এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং তা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক উজ্জল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুমানা আফরোজ।

    মতবিনিময়কালে জেলার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস-ক্লাবের সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা মন্টু, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ শহীদুল হুদা অলক, চ্যানেল আই এর জেলা প্রতিনিধি ও ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’র প্রকাশক ও সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, ‘দৈনিক গৌড় বাংলা’র প্রকাশক ও সম্পাদক হাসিব হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন শাহনেওয়াজ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনোয়ার হোসেন জুয়েল, জেলা স্বাধীন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী, মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ফেরদৌস সিহানুক শান্ত, সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান রাজাবাবু, সাংবাদিক জাকির হোসেন পিংকু, আজিজুর রহমান শিশির, জহুরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। সহঅন্যরা।

    এসময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ, জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক এবং অনলাইন মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সোমবার (১৭ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে মোঃ শাহাদাত হোসেন মাসুদ জেলায় যোগদান করেছেন।

  • ‘চলো জি ভাই হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই’-বিএনপি’র গণসমাবেশ

    ‘চলো জি ভাই হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই’-বিএনপি’র গণসমাবেশ

    নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে বিএনপি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে। আগামীতে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ভারতের কাছ খেকে পানির নায্য হিস্যাও বুঝিয়ে নেয়া হবে।

    একসময় শেখ মুজিবুর রহমান ভারতকে সহায়তা করেছিল, পানির নায্য হিস্যা থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছিলাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া এই পানির নায্য হিস্যা বুঝে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল।

    আগামী ২০২৬ সালে ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে, ঠিক তেমনি এসময়ও জনাব তারেক রহমান বাংলাদেশের হাল ধরে ভারতের এসব কাজের সঠিক জবাব দিবেন। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠন করার জন্য কাজ করেন।

    “চলো জি ভাই হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই-বাঁচাও পদ্মা, বাঁচাও দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারী কলেজ মাঠে শনিবার বিকেলে বিএনপির গন-সমাবেশে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে, এই নির্বাচন হতে হবে। এই নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এই নির্বাচন দিতে যত দেরি হচ্ছে, বাংলাদেশ তত দুর্বল হচ্ছে। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো সরকার সফলতার সঙ্গে দেশ চালাতে পারে না।

    তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার না থাকায় দেশের অর্থ্যনৈতিক অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। বিদেশীরা বিনিয়োগ করছে না। তাই যত দ্রুত নির্বাচিত সরকার দেশে ক্ষমতায় আসবে, ততই দেশের জন্য মঙ্গল। বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই দেশের মানুষ ধর্মপ্রিয়। ধর্মকে ভালোবাসে।

    আল্লাহর নবীকে ভালোবাসে, বিশ্বাস করে। কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। গত নির্বাচনগুলোতে হিসাব করে দেখেন। কত পার্সেন্ট ভোট পেয়েছে  জামায়াতে ইসলামী। পাঁচ-ছয় পার্সেন্ট থেকৈ রাতারাতি লাফ দিয়ে ৫১ পার্সেন্ট হয়ে যাবেন-এটা মনে কইরেন না।

    বাংলাদেশের মানুষ সহজে আপনাদের ভোট দেবে না। কারণ আপনাদেরকে তারা বিশ্বাস করে না। তিনি ভারতের প্রতি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ওপর ভারতের দাদাগিড়ি চলবে না।

    বন্ধুসুলভ আচরন এবং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখতে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা যুদ্ধ করলাম, আপনারা শুধু এটার বিরোধিতাই করেন নাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যা করেছেন।

    এ কথা বলতে আমার কোনো দ্বিধা হয় না। কারণ আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি এই দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। আজকে উল্টা-পাল্টা, আবোল-তাবোল, সোশ্যাল মিডিয়াতে কথা বলে আমাদের মাথা নামাতে পারবেন না।

    জামায়াতের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে বলছি-আপনারা ভালো হয়ে যান। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি তো অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে। কেন মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন।

    আপনাদের যত বড় বড় বিলবোর্ড দেখলাম, অন্য কোনো দলের তো দেখলাম না। যতো পোস্টার দেখলাম, অন্য কোনো দলের এতো দেখলাম না। তাহলে কেন মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন। আপনারাতো নির্বাচন করবেন। নির্বাচন না করলে আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০১ সালে উত্তরাঞ্চল থেকে ৭৭টি আসন পেয়েছিল বিএনপি, আগামী নির্বাচনে আরও বেশী আসন আশা করে বিএনপি।

    শেষে চাঁপাই-নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা জেলার বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ তুলে দেন বিএনপি মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে দুপুরে চাপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর রাবার ড্যাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    “চলো জি ভাই হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই-বাঁচাও পদ্মা, বাঁচাও দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানে বিএনপির মহাসমাবেশে ‘আমাদের গঙ্গা-পদ্মা, আমাদের অধিকার-নায্য পানি বন্টনে হোক সমাধান’ প্রতিপাদ্যে শনিবার বিকেলে নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজ মাঠে জনসভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ৩ আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোঃ হারুনুর রশীদ।

    পদ্মা নদীর পানির নায্য হিস্যার দাবীতে সমন্বয় কমিটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আয়োজনে গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেসনের সাবেক মেয়র, সাবেক এমপি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত রাজশাহী ২ আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (গোমস্তাপুর-ভোলাহাট-নাচোল) আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম।

    বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অব. শরীফ উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপি রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। গণসমাবেশে উপ¯ি’ত ছিলেন জেলার বিএনপি ও অংগ সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী। এদিকে, পদ্মা বাঁচাতে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা নানা শ্লোগান দিতে থাকে।

    বক্তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে পদ্মা ভাঙ্গনে ওই এলাকার দূর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং গঙ্গা-পদ্মার-নায্য পানি বন্টনের জোর দাবী জানিয়ে দ্রুতই পদ্মা ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।

    বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও সাবেক ৩ সাংসদ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে বিএনপির ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানানোর জন্য নিজ নিজ এলাকায় কাজ করার নির্দেশনা দেন।

     

     

  • গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা, ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত

    গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা, ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টার খবর পেয়ে ডাকাত ধরতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন সদর উপজেলার আমনুরা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস.আই নুর ইসলাম (৪৭)।

    মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের জুমারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    এস.আই নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    আহত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই নুর ইসলাম বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ওয়াসিম ফিরোজ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি হচ্ছে, স্থানীয়দের থেকে এমন একটি কল পায় জরুরি সেবা ৯৯৯। খবর পেয়ে আমনুরা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস.আই নুরুল ইসলাম ও এস.আই সম্ভু মোটর সাইকেলযোগে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন।

    পথে পুলিশের চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ঘটনাটি অবহিত করে তিনি একাই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে ও পায়ে কোপ দেয় ডাকাতদল।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ‘এসআই নুর ইসলামকে ডাকাত দলের সদস্যরা এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। পরে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। আহত এসআই নুর ইসলামকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২জন ডাকাতদলের সদস্য অংশ নিয়েছিল। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • পুলিশ একাডেমি থেকে ডিআইজির রহস্যজনক পলায়ন, আটক-২

    পুলিশ একাডেমি থেকে ডিআইজির রহস্যজনক পলায়ন, আটক-২

    মানবতা বিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলায় আটক ডিআইজি এহসানুল্লাহ রহস্যজনকভাবে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির সারদা থেকে পালিয়ে গিয়েছেন । বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ ও আইসিটির উচ্চ পর্যায়।

    পুলিশ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবতার বিরোধী অপরাধের অভিযোগে র‍্যাবের আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিনের সহযোগী সিআইডি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউর রহমানকে সিআইডি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সিআইডি সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে আইসিটির একটি প্রতিনিধির দল সিআইডি ঢাকা মেট্রো অফিস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউর রহমানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

    এদিকে পুলিশের আরেকটি দল জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় উত্তরা গণহত্যায় জড়িত উত্তরা ডিভিশনের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এডিসি সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

    পুলিশ সূত্র জানায়, ক্রসফায়ার ও বিচার বহির্ভূত হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সাপ্লাই বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডিআইজি এহসানুল্লাহকে আটক করতে বুধবার সকালে পুলিশ একাডেমিতে অভিযান চালায়।

    এসময় একাডেমিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি রহস্যজনকভাবে পালিয়ে যান। পুলিশ একাডেমির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপালকে কয়েক দফা ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পুলিশ সূত্র জানায়, আইসিটির প্রতিনিধিরা জেলা পুলিশের সহায়তায় বুধবার ভোর ছয়টায় সারদা পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান।

    কিন্তু কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের পরিচয় জানা ও যোগাযোগের সুযোগ না দেওয়ায় ডিআইজি এহসানুল্লাহ খবর পেয়ে পালিয়ে যান। বিষয়টি দিনভর রাজশাহীতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

  • সাটুরিয়ায় বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধুসহ গ্রেফতার ৩

    সাটুরিয়ায় বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধুসহ গ্রেফতার ৩

    মানিকগঞ্জে মাকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।  গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, নিহত লক্ষ্মী রাজবংশীর বড় ছেলে রঞ্জিত রাজবংশী, পুত্রবধূ পার্বতী রানী রাজবংশী এবং নাতি পিয়াস রাজবংশী।

    সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বটতলা এলাকার একটি ডোবা থেকে লক্ষ্মী রাজবংশীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    পরে বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে সাটুরিয়া থানায় নিহতের ছোট ছেলে ঝন্টু রাজবংশী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী ঝন্টু রাজবংশী বলেন, রবিবার রাত একটার দিকে মায়ের ঘরে গিয়ে তাকে না পেয়ে সারারাত খুঁজেছি।

    সকালে দেখি বাড়ির সামনের ডোবায় মায়ের লাশ ভেসে আছে। মা প্যারালাইসিস রোগী ছিলেন, তিনি ওই ডোবায় যেতে পারেন না। ওরা পরিকল্পিতভাবে মাকে হত্যা করেছে। আমি মায়ের হত্যার বিচার চাই।

  • বগুড়ায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ

    বগুড়ায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ

    বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।সোমবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা পরিষদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। সে সময় জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এনসিপির জেলা সমন্বয় সভা চলছিল। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সারজিস আলম।

    বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) হুসেইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘‘ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’’

    এনসিপির বগুড়া জেলা সমন্বয়কারী সদস্য সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘‘জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত সভা ছিল। সেখানে সারজিস আলম, সাকিব মাহদীসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ হয়।

  • বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে কমার্স বিভাগের ফলাফলে ভরাডুবি

    বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে কমার্স বিভাগের ফলাফলে ভরাডুবি

    ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর নিজেকে বাঁচাতে আত্মগোপনে চলে যান বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (আওয়ামীলীগ নেতা) এজাবুল হক বুলি।

    আর এসুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্লাস গাফলতিসহ কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি কোন প্রকার তদারকি বা জবাবদিহিতায় ছিলেন না বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের কমার্স বিভাগের শিক্ষকগণ।

    ফলে এবছর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে কমার্স বিভাগের ফল বিপর্যয় ঘটে। এই বিভাগ থেকে ১১ জনে মধ্যে কেউ পাশ করেনি। বিজ্ঞান বিভাগে ১৬ জনের মধ্যে পাশ করেছে মোট ৭ জন। এছাড়াও কলেজের এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীদের মোট পাশের হার ৪৩%।

    জানা গেছে, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয় কমার্স শাখার ১১জন। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি। এনিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই কলেজের বিজ্ঞান শাখা থেকে ১৬ জন পরীক্ষা দিলেও পাশ করেছে মোট ৭ জন।

    আর মানবিক শাখা থেকে ২১৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ৯৫ জন। কলেজের পাশের হার ৪৩ ভাগ। বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের কমার্স বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন ৩ জন। কমার্স বিভাগের শিক্ষকগণ হচ্ছেন-শামীম আহমেদ, মজিবুর রহমান ও মাজকুরা খাতুন।

    এবিষয়ে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ক্ষুদ্ধস্বরে বলেন, আমাদেরকলেজের অধ্যক্ষ স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় দীর্ঘ ১১ মাস আত্মগোপনে ছিলেন। আর এই সুযোগে অধ্যক্ষের আস্থাভাজন কমার্স বিভাগের এই ৩জন শিক্ষক ক্লাস তো ঠিকমত করেই নি, কলেজের আসতেন মন মতো।

    কিন্তু, অধ্যক্ষ সাহেব তো নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং আস্থাভাজন ওই শিক্ষকদের কোন গাফলতি বা অনিয়মিত কলেজে আসা, এসব অধ্যক্ষের চোখেই পড়তো না। জবাবদীহিতার তো প্রশ্নই উঠে না। এতে ওই শিক্ষকগন ইচ্ছেমত চলেছেন। শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের কোন গুরুত্বই ছিলো না।

    ফলে কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার চরম ক্ষতি হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতেই কমার্স বিভাগের ফলাফলে এমন বিপর্যয়। শিক্ষকগণ অভিযোগ করে আরও বলেন, কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়।

    এছাড়া, এখনো কলেজের অধ্যক্ষ সাহেব ঠিকমতো কলেজে আসেন না। মাঝে মধ্যে আসলেও, সেটা ক্ষনিকের জন্য। তাই কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম ওভাবেই চলছে। সব মিলিয়ে এবছর কলেজের কমার্স ও বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল বিপর্যয়ের কারন অধ্যক্ষ এবং অধ্যক্ষের আস্থাভাজন শিক্ষকগন।

    ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ফল বিপর্যয়ের কারণ (কেউ পাস না করা) হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা গেছে, এ বিভাগের শিক্ষকরা ঠিকমত যেমন ক্লাস নেননা, তেমনি ক্লাস করার যোগ্যতাও রাখেন না। অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগের রসায়নের প্রভাষক ২০২৩ সালে অবসরে গেলেও শিক্ষক পদ শূন্য জানিয়ে চাহিদা না দেয়ায় এ কলেজে রসায়নের প্রভাষক এখন পর্যন্ত পদায়ন করা হয়নি।

    এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক জানান, চাহিদা দিলেই ক্যাডার পদের শিক্ষক এসে যদি নন ক্যাডার অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে বসেন, সেই আতঙ্কে অধ্যক্ষ রসায়ন শিক্ষকের চাহিদা পর্যন্ত দেননি।

    আর গণিতের শিক্ষক অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক নিজেই হওয়ায় এবং তিনি চাকরী জীবনে কখনো-ই একটি ক্লাস না নেয়ায় এ কলেজে কমার্স ছাড়াও বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফলও প্রতিবারই খারাপ হয়।

    এছাড়া, পদার্থ বিদ্যার প্রভাষক ক্লাসের ক্ষেত্রে অমনোযোগী এবং ক্লাসে কিছু বোঝাতে পারেননা বলে বিজ্ঞান বিভাগে ফেল করা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে কলেজে সার্বিক ফলাফল খারাপের পিছনে অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হকের অযোগ্যতা, কলেজে তার নিয়মিত অনুপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের নিজ ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার, বিশেষ করে ফেল করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে তাকে বাঁচানোর জন্য ডিসি অফিস ও বিভিন্ন তদ্বির কাজে ব্যবহার করা অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।

    কারণ তিনি গত জুলাই আন্দোলন থেকে বছরাধিক ধরে কলেজে অনুপস্থিত থেকে কলেজকে অস্থিরতার মধ্যে রেখেছেন।

    এদিকে, একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, কমার্স এবং বিজ্ঞান শাখার এ ক’জন শিক্ষক অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলির সমর্থক হওয়ায় তারা পলাতক বুলিকে বাঁচানোর চেষ্টায় সব সময় ব্যস্ত থাকেন। ফলে কলেজে শিক্ষার মান খারাপের দিকে চলে গেলেও কোন গুরুত্ব, মাথাব্যাথা বা অনুশোচনা, কোনটায় নেই ওই শিক্ষকদের।

    এ কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলি’কে বরখাস্ত করে নতুন অধ্যক্ষ পদায়ন না হলে কলেজটির মান ধ্বংসের দিকেই যেতে থাকবে।

    উল্লেখ্য, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক কয়েকটি ফৌজদারী মামলার আসামী এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকটি তদন্ত হয়েছে, যেখানে তার বহু প্রকার অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষায় আছে।

    শিক্ষানুরাগীদের দাবী, দেশের একজন অতি সম্মানিত ব্যক্তি, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর নামে হওয়া কলেজে-স্বৈরাচারের দোষর এবং এমন বিতর্কিত ও নানা অনিয়মের সাথে জড়িত অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলিকে কলেজ থেকে অপসারন করে একজন যোগ্যতা সম্পন্ন অধ্যক্ষ পদায়নের। উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। তবে এঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায় মাদক কারবারীরা।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১০টার দিকে সদর মডেল থানার মহারাজপুর এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।  জেলা পুলিশের এক প্রেসনোটে বুধবার জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের এসআই (নিরস্ত্র) হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ, এস. আই মোঃ সোহায়বুর রহমান, এ.এস.আই মোঃ ফারুক হোসেন, এ.এস.আই মোঃ সামিউর রহমান ও এ.এস.আই মোঃ আমিনুল ইসলাম সদর মডেল থানা এলাকায় ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদক উদ্ধারে দায়িত্ব পালন করছিলো।

    মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকায় অবস্থান কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানিতে পারে, ঢাকা মেট্রো-ট-২০- ৫২৪১ নম্বরের একটি ট্রাকে গাঁজা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর হতে শিবগঞ্জের দিকে যাচ্ছে চোরাকার-বারীরা। এসময় হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ সঙ্গীয় অফিসারসহ অত্র সদর মডেল থানাধীন মহারাজপুর ইউনিয়নের লালাপাড়া মোড় নামক স্থানে চেকপোষ্ট বসায়।

    চেকপোষ্ট করাকালে একই তারিখ রাত্রি অনুমান সাড়ে ১০টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর হতে আসা ঢাকা মেট্রো-ট-২০- ৫২৪১ নম্বরের ট্রাকটি থামানোর জন্য সংকেত দিলে চালক উক্ত স্থানের নিকটবর্তী রাস্তায় ট্রাকটি থামিয়ে ট্রাক চালক ও হেলপার কৌশলে ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়।

    স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশীকালে ট্রাকের পিছনে বডির পাটাতনের উপর থাকা একটি নীল রংয়ের পলিথিনে ঢাকা অবস্থায় দুইটি সাদা প্লাষ্টিকের বস্তার ভিতরে কসটেপ দ্বারা মোড়ানো বিশেষ কায়দায় রাখা ১০ টি গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ৪ কেজি করে সর্বমোট ৪০ কেজি উদ্ধার হয়। এঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিং

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিং

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন ৪টি সেক্টর ও ১৫টি ব্যাটালিয়নের অভিযানে চলতি বছর (জানুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর) ৬০ কোটি টাকার চোরাচালানপণ্য জব্দ করেছে। এসব অভিযানে ৫০১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১ টার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন, রংপুরের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫ সালের জানুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা অভিযানের তথ্য তুলে ধরেন এ তথ্য জানান ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর ব্যবস্থাপনায় ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এই ব্রিফিং হয়।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী মুস্তাফি-জুর রহমান প্রেস ব্রিফিং এ জানান, রংপুর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা ১৬৬০ কিঃ মিঃ। অত্র রিজিয়নের অধীনে ০৪টি সেক্টর ও ১৫টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে।

    রংপুর রিজিয়ন এর আওতাধীন ব্যাটালিয়নে কর্মরত বিজিবি সদস্যরা অভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করে এ বছরে ৫০১ জন আসামীসহ আনুমানিক ৬০ কোটি টাকার অধিক মূল্যের বিভিন্ন প্রকার চোরাচালানী মালামাল আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর উপ-অধিনায়ক মেজর আশরারুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম।

    এসময় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, ৫৩ বিজিবির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাগণ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে, ফেন্সিডিল ৭১,৩৪০ বোতল, হেরোইন ৯.৭৭৩ কেজি, কোকেন ২.০৬১ কেজি, মদ ১২.১২৭ বোতল, গাঁজা ২,০৯১ কেজি, ইয়াবা ২৪.৪৭৮ পিস, ইস্কাফ সিরাপ ৩৩৫৭ বোতল, মেটাডক্সিন ট্যাবলেট ৪.০৩,৯৭৫ পিস, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ৫৮৪০ পিস, বিভিন্ন প্রকার নেশা জাতীয় ইঞ্জেকশন ৮৫,১৩১ পিস এবং ভায়াগ্রা/ভিগো ট্যাবলেট ১২.৯৮,০০৩টি।

    এছাড়াও ০৬ রাউন্ড গুলিসহ ০১টি বিদেশী পিস্তল, এয়ারগান ০৬টি, এায়ারগানের সিসাগুলি ৩৩.১০০টি, গান পাউডার ০৭ কেজি, ককটেল ৯৯টি এবং পেট্রোল বোম্ব ৪০টি। গবাদিপশু-গরু ১৪৫৭টি ও মহিষ ৬৬৪টি।

    অন্যান্য মালামালের মধ্যে-কষ্টি পাথর ১৪টি (৮২২.৫ কেজি), স্বর্ণ ০.৬৮০ কেজি, রৌপ্য ০১ ভরি, শাড়ী ২৬০৩টি, শার্ট ৯৭১টি, প্যান্ট পিস ৪,০৭৬টি, থানকাপড় ১৩৮ গজ, চা পাতা ১০০৭ কেজি, চিনি ২৮০৪ কেজি, মোটরসাইকেল ১৮৫টি, মোবাইল ১২৪৫টি, চকলেট বাজি ৮১৪০ প্যাকেট এবং কারেন্ট জাল ৬৫২ কেজি।

    বিজিবি সদস্য সীমান্ত সুরক্ষায় নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে অবৈধপথে সীমান্ত পারাপার, জাল-নোট পাচার, মাদকদ্রব্য চোরাচালান এবং নারী ও শিশু পাচার সম্পর্কে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিজিবি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এছাড়াও বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রংপুর রিজিয়নের অধীনস্থ ১.৬৬০ কিঃ মিঃ দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি নতুন ০৬টি বিওপি নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, সম্প্রতি শেষ হওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রংপুর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় মোট ৮০৭টি পূজামন্ডপে ১৩৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।

    পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে পূজা উদযাপনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে নিরলসভাবে কাজ করে বিজিবি সদস্যরা। বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রংপুর রিজিয়ন থেকে বিজিবি মোতায়েন করে সফল ভূমিকা পালন করা হয়। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয় প্রেস বিফিং এ।

    প্রেস ব্রিফিং শেষে চা চক্রের মধ্যেই চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের সাথে সীামন্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং আগামীতে সীমান্তের চোরাচালান বন্ধসহ যে কোন সমস্যা সমাধানে মিডিয়াকর্মীদের নিয়ে একসাথে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    দেশের স্বার্থে জেলার সকল মিডিয়াকর্মীদের বিজিবির সাথে আন্তরিকভাবে কাজ করারও আহবান জানান ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গা বিসর্জনে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গা বিসর্জনে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিসর্জনের দিন নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গঠন করা হয়েছে বিশেষ মেডিকেল টিম। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আগামী ২ অক্টোবর/২৫ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে।

    এদিন সম্ভাব্য যে কোনো দুর্ঘটনা বা স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটার সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। এ লক্ষ্যে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

    টিমে রয়েছেন, ডা. মোহা: ইস্রাফিল ইসলাম জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), ডা. এইচ.এম. মামুন, রেসিডেন্ট ফিজিসিয়ান/রেসিডেন্ট সার্জন, ডা. মোসাঃ আমেনা খাতুন, রেসিডেন্ট ফিজিসিয়ান/গাইনী, ডা. এ.বি. আল-মেহেদি, সহকারী রেজিস্ট্রার (অ্যানেসথেসিয়া), ডা. মোঃ শামসুল আলম, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার, ডা. মোহাঃ মমরেজুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার, চারজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, একজন ড্রাইভার, দুইজন ওয়ার্ড বয়।

    হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, স্টোরকিপারকে মেডিকেল টিমের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, দুর্গাপূজার বিসর্জনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। তাই নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ।