Category: শিল্প সাহিত্য

  • সামন্ত যুগের বর্ণাঢ্য স্মৃতি; মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ীর রুপকথা !

    সামন্ত যুগের বর্ণাঢ্য স্মৃতি; মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ীর রুপকথা !

    সবুজ শ্যামল বাংলার আনাচে কানাচে কালের স্বাক্ষী হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অজস্র প্রত্নতত্ত্বনিদর্শন। যা দেখে সহজেই অনুমান করা   যায় কত ধন ও ধান্যের বিপুল সমৃদ্ধি ছিল এই বাংলা। অতীতের এই রজতকৃর্তিগুলো হতে পারে আমাদের ভবিষ্যৎ মহিমার দিগদর্শন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে উঠা জমিদারদের প্রাসাদোনুপম দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য শৈলী, বহু ব্যয়ে নির্মিত এক একটি কালের স্বাক্ষী। মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়িও সেই নিদর্শন গুলোর অন্যতম। কালের স্রোতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জমিদার শ্রেণীর সেই ভোগবিলাসের নিদর্শন যা ধ্বংসস্তুপের মাঝে সমহিমায় দাড়িয়ে আছে।

    অশীতিপর বিগতযৌবনা নারীকে দেখে কেউ বুঝতে পারে না যৌবনে তার কত রূপ ছিল।  এ জমিদারবাড়ীর গল্পও তেমনি। পাচটি জমিদার বাড়ির গল্পে মোড়া বালিয়াটি জমিদার বাড়ি।

    ধ্বংশ স্তুপের চিলেকোঠায় দাড়িয়ে এই চারটি বাড়ীই জানান দেয়া ইতিহাস প্রেমীদের-অনুসন্ধানের কৌতুহল। তার মধ্যে একটি বাড়ির একটি অংশ আজও অক্ষয় গৌরবে দাড়িয়ে একদা বীরন্যদের শৌর্য, সমৃদ্ধি ও ভোগ বিলাসের মহাকাব্যের স্বাক্ষী দেয়।

    মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটিতে ভাগ্যের অন্বেষণে ঘিওর থানাধীন বিনোদপুর থেকে আসেন মহেশরাম সাহা। তিনি এখানেই এক পান ব্যবসায়ীর মেয়েকে বিয়ে করে থেকে যান। মহেশরামের ছেলে ঘনেশরাম পরবর্তীতে লবণের ব্যবসা করে বেশ উন্নতি করে।

    পরবর্তীতে ঘনেশরামের চার ছেলের মধ্যে একজন টাঙ্গাইল জেলার আটিয়া ছাওয়ালী গ্রামে, একজন টাঙ্গাইলের নাগরপুরে, অপর জন মানিকগঞ্জের বিনোদপুরে চলে যায়। বাকি ছেলে গোবিন্দরাম বালিয়াটি তে বাবার সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যায়। গোবিন্দরামের চার ছেলে আনন্দরাম, দধিরাম, পন্ডিতরাম ও গোপালরাম। এই চার ভাই থেকেই বালিয়াটিতে জমিদারিত্ব ও জমিদার বাড়ির সৃষ্টি হয় বলে ধারনা করা হয়। আনুমানিক আঠার শতকের প্রথম দিকে পাচটি জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয়। গোলাবাড়ি, পূর্ববাড়ি, পশ্চিমবাড়ি, মধ্যবাড়ি ও উত্তর বাড়ী। এই পাঁচ বাড়ীর জমিদাররা পৃথক পৃথক তাদের পরগণা ও জমিদারি পরিচালনা করতেন। পাঁচ বাড়ির মধ্যে পশ্চিম বাড়ির কিছু ধ্বংসাবেশ এখনও লক্ষ্যনীয় যা নির্মান শৈলীতে কালের দর্শণ। তবে অনেক কিছু স্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে।

    পূর্ব বাড়ীর জমিদার ও তার দর্শন নিরুপনেই মূলত: আজকের লেখা। পূর্ব বাড়ি জমিদারের পূর্ব পুরুষ দধিরাম। দধিরামের দুই ছেলে নিত্যানন্দ ও রায়চাঁন। দুই ভাই এজমালীতে লবণের ব্যবসা করতেন। পরে পৃথকভাবে সিরাজগঞ্জ,  নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাঠি, নলছিটা, ললিতগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় লবণ, সুপারি, চাল ইত্যাদি দ্রব্যের ব্যবসায় বিপুল অর্থের মালিক হন। ক্রমে ক্রমেই তাদের ঐশ্বর্য বাড়তে থাকে এবং তারা জমিদারি ও তালুকদারি কিনতে আরম্ভ করে। এই দুই ভাই থেকেই পূর্ববাড়ি ও পশ্চিমবাড়ি জমিদারি শাসন শুরু হয়। তাদের বংশধরদের নানা কীর্তি ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।

    রায়চাঁন দুই বিয়ে করেন। তিনি পূর্ব বাড়ির জমিদারির দশ আনা অংশ প্রথম স্ত্রীর সন্তান আর ছয় আনা দ্বিতীয় সন্তানদের দান করেন।

    দশ আনীর জমিদার বাড়িটিই বর্তমানে দেশ বিদেশের পরিব্রাজকদের মন হরণ করে। তেরশত বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ এই বাড়ির জমিদারগণ গৃহে প্রবেশ করেন বলে জানা যায়। ছয় আনী জমিদার বাড়ির কোন অস্তিত্ব নেই। দশ আনী জমিদার বাড়ি পাঁচশত আটাশি শতাংশ ভূমির উপরে মূল সৌধমালা।

    রাজচন্দ্র বড় তরফ, ঈশ্বরচন্দ্র মাঝার তরফ, ভগবান চন্দ্র নয়াতরফ, ভৈরবচন্দ্র ছোটতরফ এই চারজনের জন্য নির্মান করা হয় প্রাসাদোনুপম ভবন। লন্ডন ও কলিকাতা থেকে আনা নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয় তিন তলা ও দ্বিতলা বিশিষ্ট অট্টালিকা। যা আজও অবিকৃত অবস্থায় দাড়িয়ে আছে।

    বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ঘিরে স্থানীয় ভাবে লোকমুখে নানা কথা চালু রয়েছে। যার বেশীর ভাগ শোষণ আর ত্রাসের। আজ হতে এক দেড়শত বছর আগে এ বাড়ির সামনে দিয়ে কেউ জুতা পায়ে বা ছাতা মাথায়, এবং কি ভাল জামা পরে চলাচল করতে পারতো না। আদেশ অমান্য করার সাধ্য ছিল না কারও, লাঠিয়ালদের খড়গ ছিল বড়ই সজাগ। তাছাড়া খাজনা আদায়ে ছিল বড়ই নির্মম। ব্রিটিশদের চোখে এটাই ছিল তাদের সাফল্য। আর এ কারণে বালিয়াটি জমিদারদের দেয়া হয় রায় বাহাদুর খেতাব। পূর্ববঙ্গে প্রতাপশালী হিন্দু জমিদারদের মধ্যে বালিয়াটি রায় বাহাদুররা বিত্ত প্রতিপত্তিতে শীর্ষস্থানীয় ছিল।

    উনিশশত সাতচল্লিশ সনে ভারত ভাগের পর এরা প্রবল গণরোষের শিকার হন। জনতার আক্রোশে অট্টালিকায় চলে ভয়াবহ ভাংচুর ও লুটপাট। ফলে তারা স্বপরিবারে পালিয়ে যায়। পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকার পরবর্তীতে এই বাড়ীগুলো অধিগ্রহণ করে। ভূমি অধিদপ্তর থেকে দুইহাজার চার সালে জমিদার বাড়ির এসব ভবন পর্যটন কর্পোরেশনের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে দুই হাজার সাত সালের দিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার পর থেকেই এই বাড়ীগুলো রক্ষনাবেক্ষন ও পর্যটনের জন্য তৈরী করা হয়। বর্তমানে প্রতিনিয়তই দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন দানবাকৃতি এ ভবন গুলো দর্শনের জন্য ।

    উল্লেখ্য যে, অগাধ বিত্তের মালিক  এইঅভিজাত শ্রেণীর ভোগবিলাসী জীবন যাপনের কথা সর্বজনবিদিত। দেশের অন্যসব অঞ্চলের জমিদারদের মতই আভিজাত্য প্রমত্ত ছিল এরা। এলাকায় জনশ্রুতি আছে কন্যা সন্তান একটু বড় হলেই মায়েরা জমিদার বাবুর ভয়ে অন্য পরগণায় পাঠিয়ে দিত। বালিয়াটি জমিদারবাড়ির রংমহল নামের একটি কক্ষে অভিযাত শ্রেণীর নাচ গান হৈ হুল্লোড় চলত। রংমহলের সেই রঙ্গীন ভূবন বিবর্ণ হলেও রংমহলটি এখন পরিপাটি করে জাদুঘরে পরিণত হয়েছে। দেয়ালের সর্বত্র খাঁজ কাটা লতাপাতার নকশা। ছাদে লোহার চৌকাট কড়িকাঠে ছাঁচঢালা নকশা। সেখানে ঝুলছে বেশ কতগুলো ঝাড়বাতি। এগুলো আনা হয়েছিল লন্ডন থেকে। লুটপাট ও ভাঙচুরের পর জমিদার বাড়ির যে সব সামগ্রী অবশিষ্ট ছিল তা সংরক্ষণ করা হয়েছে রংমহলে।

    অর্ধশতাধিক লোহার বড় সিন্দুক, ঐতিহ্যবাহী  কয়েকটি পালংক, নকশাখচিত কাঠের আলমারি, শ্বেতপাথরের নির্মিত টেবিল, টেবিলের উপর সাজানো স্ফটিকে তৈরী গাভী, বেশ কতগুলো ভগ্ন হেজাক হারিকেন, খানদানি চৌকি, নকশা সম্বলিত আরাম কেদারা, ভগ্নপ্রায় সিংহাসন, ছোট বড় অসংখ্য বাক্স সহ জমিদারদের ব্যবহৃত অসংখ্য নিদর্শন।

    জমিদারবাড়িটি সাতটি বিশাল আকৃতির ভবন নিয়ে গঠিত চারিধারে উচু প্রাচীর দ্বারা ঘেরা। ভেতরে শান বাধানো সাত ঘাটলার পুকুর। কথিত আছে বিভিন্ন পূজা ও অর্চনা অনুষ্ঠানে সাত ঘাটের পানির প্রয়োজন হয়। এ বাড়ির প্রতিটি ইঞ্চিতে ছড়িয়ে রয়েছে স্থাপত্যের নিদর্শন। যা  কালের স্বাক্ষী ও গবেষণার বিষয়বস্তু।

    বালিয়াটি জমিদার বাড়ির অদূরে ১৯২০ সালে স্থাপন করা হয়েছিল ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার মানদন্ডে একটি স্ট্যান্ডার্ড স্কুল। স্কুল প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে রয়েছে এক হৃদয় বিদারক আত্মাহুতির কাহিনী। সে সময়ে এ স্কুলটিতে শুধু অভিজাত শ্রেণীর সন্তানরাই পড়াশোনা করতে পারত। বর্তমানে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। বর্তমানে অবশ্য স্কুলটিতে বাংলা পাঠ্যসূচী অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত আছে। রায় বাহাদুরের আর্থিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলটির পুরোনো ভবন এবং নারিকেল সুপারী বীথী সমৃদ্ধ প্রাঙ্গন বড়ই মনোহর। সাজানো গোছানো স্কুল চত্বর আর জমিদার বাড়ির বাহিরে ছড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি বিশাল দীঘি শান বাঁধানো ঘাট বিগতদিনের সমৃদ্ধির স্মৃতি বহন করে চলেছে। এসব দর্শণীয় স্থান দর্শনার্থী ও গবেষকদের গবেষণার খোরাক যোগাতে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে।

     

  • চলবে…ই ??

    চলবে…ই ??

    ভাবনায় লাভ কি?
    অসার কাঠগড়ায়
    বিচারিক বধিরতায়
    …মানবিক রুদ্ধতা !!

    বায়ুবিক তুচ্ছতায়
    চিন্তার সমীরণ-
    বিত্তের কামনায়
    …অক্সফোর্ড- ব্যাকরণ।।

    আধুনিক ভাবধারায়
    সীমাহীন ধূর্ততা
    সমীহার যাতাকলে
    …চিন্তার গভীরতা।।

    চপলতার চারধার
    নষ্টের আতুর‘ ঘর
    বুদ্ধির বিচারে
    …বিবেকের অবসর।।

    তবু আছি বেশ
    নাই লজ্জার লেশ

    ফিকি ফিকি ছলা-কলা,
    অযৌক্তিক তাল টেনে
    …জ্ঞানী জ্ঞানী কথা বলা।।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,61455.0.html

  • একজন ছমির মোল্ল্যা !

    একজন ছমির মোল্ল্যা !

    এক.
    সকাল থেকেই টিনের চালে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। বিছানায় ‘দ’ আকারে পাতলা কাঁথা গায়ে শুয়ে আছে ছমির মোল্ল্যা। সকালের এই মিষ্টি ঘুম থেকে বৃষ্টির শব্দের কারণেই তার উঠতে ইচ্ছা করছে না। মাথার ভিতরে ঝিম ঝিম করছে ভোর রাতের স্বপ্নটা! শাপলা বিলে নৌকা থেকে সে পড়ে গেছেন, তার নৌকা ভেসে যাচ্ছে, সে জড়িয়ে যাচ্ছে জল শেওয়াতে। এতটুকুই তার মনে পড়ছে। কিন্তু শাপলার বিলে তার যাবার কথা না। সেই ছোট বেলায় শাপলার বিল ছেড়ে এই করিমগঞ্জে চলে আসা হয়েছে। এরপরে আর কখনই শাপলার বিলে যাওয়া হয়ে ওঠে নি তার। এত বছর পরে আবার শাপলার বিল স্বপ্নে দেখে তার মন ব্যকুল হয়ে উঠেছে। খোয়াব নামার বইয়ে ছমির পড়েছে ভোর বেলার স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়।

    অন্যদিন এত বেলায় পাখির ডাক শোনা যেত কিন্তু আজ বৃষ্টির কারনে পাখির ডাকও শোন যাচ্ছে না। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, সঙ্গে মেঘের গুড়ুম গুড়ুম শব্দে ছমির পাশ ফিরিয়ে শুলো।

    আজ সোমবার। কিস্তি দেবার তারিখ। কিন্তু কিস্তির পুরো টাকা তার যোগাড় হয় নাই। কাল বেশ কিছু জায়গায় চেষ্টা চালিয়েও সে সব টাকা যোগাড় করতে পারে নাই।

    খাও না খাও কিস্তি দেওয়াই লাগবে। দশ বছরের লতিফা টাইফয়েড জ্বরে পড়লে ক্ষুদ্র ব্যাংক থেকে দশ হাজার টাকা লোন নেয় ছমির মোল্লা। বর্ষার সময় জোগালের কাজ কম থাকে, তাই এই সপ্তাহের কিস্তির টাকা তার জোগাড় হয় নাই। ছমির মোল্ল্যা নাম তার। শাপলার বিলের মোল্ল্যা বংশের ছেলে সে। কারো টাকা মেরে খাওয়া কোন ইচ্ছাই তার কোন কালে ছিল না। আর বেঁচে থাকতেও সে ইচ্ছা হবে না।

    সেবার কদম আলীর দোকানে তার বত্রিশ টাকা বাকি হয়েছিল। গ্রামের দোকান ছেড়ে গঞ্জে নতুন দোকান দেয় কদম আলী। দু’মাস পরে ছমির মোল্ল্যা গঞ্জে গিয়ে তার পাওনা টাকা দিয়ে আসে। কদম আলীর সেকি হাসি! হাসে আর বলে কত জনের কাছে কত টাকা পামু তা দেয় না, আর মিয়া তুমি এতদূর আইছ আমার বত্রিশ টাকা দেবার জন্য। তার সততার এমন আরো দশ-বারোটা কান্ড গায়ের লোকের জানা আছে। কিন্তু ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে তার এই সততার কোন দাম নাই। গ্রুপের সাবার সঙ্গে তার টাকাও দেওয়া লাগবে। ম্যানেজারে কোন ভাবেই বোঝানো যাবে না, বর্ষায় চারিদিকে পানিতে ভরে গেছে। এখন জোগালের কোন কাজ নেই।

    গোয়ালের গরুর বিরতীহীন হাম্বা হাম্বা ডাকে আর শুয়ে থাকতে পারল না ছমির মোল্ল্যা। ঘুম থেকে উঠেই বৃষ্টিতে ভিজতে মন না চাইলেও কোন উপায় ছিল না। এক টুকরো উঠান পার হয়ে গোয়াল ঘরের দিকে এগিয়ে যায় সে। গরুর দিকে চাইতেই তার মন খারাপ হয়ে যায়। বর্ষার পানিতে মাঠ ঘাট ভরে যাওয়াতে অবলা গরুটা যে ঘাস খেতে পারছে না, শরিরের হাড় গুলোই সেই সাক্ষি দিচ্ছে। গোয়ালের মাঁচায় গুঁজে রাখা কাঁচিটা হাতে তুলতে যাবার আগে বেশ টাইট করে পরনের লুঙ্গিটা কাঁছা দিয়ে নিল সে। কোমরে বেধে নিল তেল চিটচিটে গামছাটা।

    গায়ের গেঞ্জি খুলে গোয়ালের আড়ে গুজে রেখে টিপটিপ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বিলের কচুরিপানা কাটাতে যাবার জন্য পা বাড়ালো সে। পিছন থেকে রাবেয়ার গলা ভেসে এলো। ভিজা কাঠে ফু দিয়ে আগুন জ্বালানো চেষ্টায় ধোঁয়ার মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে রাবেয়া। স্বামির দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে চোখ ঢাকার চেষ্টা করে বলে উঠল-

    গায়ে সরিষার ত্যাল মাইখা তারপর পানিত নামতে যান। বর্ষার এই পানির কামড় শরিলের জন্য ভাল না। তা ছাড়া সকাল সকাল বৃষ্টিতে ভিজতাছেন। জ্বর আসলে কিন্তু কিছু করার থাকবো না।

    রাবেয়ার কথার কোন উত্তর না দিয়ে সজোরে পা চালায় ছমির মোল্ল্যা। রাবেয়ার চোখের সিমানা ছাড়িয়ে সে চলে আসে বিলের পাড়ে। তার আগেও যে আরো কেউ কচুড়িপানা কেটে গেছে তা দেখে মাথাটা একটু গরম হয়ে গেল তার। পাড়ের কাছে আর কোন কুচরি অবশিষ্ট নেই। তার জন্য যা আছে তা কাটতে কম করে বুক পানিতে নামতে হবে। এই কাজে দেরি করলে নৌকা নিয়ে আসা বদরের ছোট ছেলে বাকি কচুরিও কেটে ফেলতে পারে।

    তাই সে আর দেরি না করে কাঁচি হাতে বিলের পানিতে নেমে পড়ল। মুঠি মুঠি কচুরির পানা কাটতে কাটতে নিজের মনেই সে আওড়ে যাচ্ছে, জমিদারের ব্যেটি কয় কি জ্বর আসলে কিছু করার থাকবে না। ব্যেটি কি ডাক্তার নাকি যে কিছু করবি। আমারে নিয়ে তার চিন্তার শেষ নাই! আজ যে সোমবার, ব্যাংকের কিস্তি দিতি হবি সেই চিন্তা কি তার আছে? কত করে কলেম এসব কিস্তি উঠানোর দরকার নেই, সামান্য জ্বর হয়ছে মাইয়ের, ভুপেন ডাক্তারের ঔষুধ খাইলেই ভাল হয়ে যাবে। কে শোন কার কথা। তিন দিনির জ্বর যখন সাত দিনিও যায় না তখন সে পাগল হয়ে গেল। শহরে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে তবেই জমিদারের ব্যাটি ভাত মুখে দিল।

    বৃষ্টি তেজ কয়েক গুন বেড়েছে। বর্ষার পানি ভেদ করে বিলের ওপাড়ের মতলব মুন্সীর ঘরটিও ছমির দেখতে পাচ্ছে না। মাথার উপরে ধোঁয়ার রং এর মেঘ আর চারপাশে সাদা বৃষ্টি। পানির উপর পানি পড়ার শব্দের তালে তালে ছমির মোল্ল্যা কচুরি কেটে যাচ্ছে। বদরের ছোট ছেলে আলালের ডাকে তার নুয়ে থাকা মাথাটা উপরে উঠল। কচুর বড় একটা পাতা মাথায় দিয়ে বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করে নৌকা বাইছে আলাল। বদর তার চাচাতো ভাই। তার দুই ঘর উত্তরে বদরের ঘর।

    ছমির মোল্ল্যার মাথা আজ গরম তার উপর এই ছেলের কথা শুনে তার মাথা আরো গরম হয়ে উঠল। কচুরিপানা কাটছে দেখেও সে জিজ্ঞাসা করল কি কর কাকা? দাঁত খেচি দিয়ে সে উত্তর দিলো, চোহে কি ছানি পড়ছে? দেহ না কি করি। আলাল নিজেকে সামলে নিয়ে প্রতিউত্তর দেয়, এই গুলা কি গরুর জন্য কাটো কাকা? ছমির পান খাওয়া লালছে দাঁত গুলো বের করে, উত্তর দেয়, নিজে খাওয়ার জন্য কাটতাছি। বদের হাড্ডি কুনহানকার।

    মাথার কচুপাতা আরো ভাল করে দিয়ে আলাল বলল, কাকা রাগ কইর না, কাইল বিকালে ত্রিশটা শোলায় বর্শি গাইথা পানিতে ফেইলা গিছিলাম। সকালে আইসে দেহি ছয়ডাতে শইল-টাকি বাঁধে আছে। চারডা বর্শি পাই নাই। তোমার কচুড়িপানার আশে পাশে আছে কিনা তাই খুঁজতি আসলাম।

    আর একটু পরেই ছমিরের কিস্তি, ছেলেমানুষি কার্মকান্ডে তার এতটুকু আগ্রহ নেই। বর্শি খোঁজার ব্যাপারে কোন দৃষ্টিপাত না করে নিজের কাজে মন দিল সে। আলাল এদিক ওদিক খুঁজার চেষ্টা করে নৌকা বেয়ে সামনের দিকে চলে গেল।

    বিকাল পর্যন্ত গরুর জন্য যতেষ্ট খাবার যোগাড় হয়েছে, যদি লাগে বিকালে আরাক দফা কাটা যাবে এই ভেবে পানি থেকে উঠে পড়ল ছমির। পাড়ে বর্ষার নতুন পানিতে সদ্য গজিয়ে ওঠা কমলি শাক নজরে পড়ল ছমিরের। কমলির ঝোলের সঙ্গে ছোট মাছ! ভাবতেই তার জিভে পানি চলে এলো।

    কোমর থেকে গামছা খুলে কচুরি আঁটি বেধে বিলের পাড়ে রেখে কমলি তোলায় মন দিল সে। খানিকবাদে বৃষ্টিতে মাথায় কচুরির আটি ও হাতে কলমিলতা নিয়ে বাড়ির পথ ধরল। পায়ের নিচে নরম কাঁদা প্যাঁক প্যাঁক শব্দে সরতেই মনে মনে ছমির ভাবল, বৃষ্টির মধ্যে নিশ্চই আজ ব্যাংকের স্যার কিস্তি নিতে আসবে না। পরের সপ্তা আসলে আর কিস্তি দিতে কোন অসুবিধাই হবে না। বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র এই তিনদিন তার টানা কাজ আছে। পাশের গ্রামের আদর আলীর বাড়িতে তার জোগালের কাজ করার কথা। একটা ডোরা সাপ দ্রুত বেগে ছমিরের পাশ দিয়ে পাশেই ঝোঁপের মধ্যে মুহুর্তে মিলিয়ে গেলো। ছমির একবার সেদিকে তাকিয়ে মুখ দিয়ে হিস হিস শব্দ করে সামনে এগিয়ে গেলো।

    রাবেয়া তখনও চুলার পাশে বসে আছে। ভাত যখন উথলে গেছে তখন তার ভিতরে আলু আর ঢ্যারশ ছাড়ছে। বৃষ্টির কারণে লতিফা আজ স্কুলে যায়নি। ঘরের বারান্দায় পাটি পেতে সে পাশের বাড়ির আঞ্জুর সঙ্গে লুডু খেলছে। লতিফার চার উঠলেই তার গুটি ঘরে চলে যাবে। আর আঞ্জুর পাঁচ উঠলেই তার পাঁকা গুটি কাঁটতে পারবে। খেলার এই টানটান মুহুর্তে ছমির মোল্ল্যা মাথায় আটি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতেই গরুটা আবার ডাকা শুরু করল। কমলি শাকগুলো রান্না ঘরের বারান্দায় ছুঁড়ে দিয়ে ছুটল গোয়াল ঘরের দিকে। চাঁড়ে কচুড়িপানা দিয়ে গরুটার সারা শরিরে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে সে। লেজ নেড়ে নেড়ে বিরামহীনভাবে সদ্য তুলে আনা কঁচুরি চিবোতে লাগল লাল রংএর দেশি গরুটা। লতিফা এই গরুটার নাম দিয়েছে লালি।

    বৃষ্টি শেষ না হলেও পাতলা হয়ে গেছে। কলপাড়ে গিয়ে নিজে ভাল করে শরির ঘেষে গোসল শেষ করতেই রাবেয়া বলে উঠল, কিস্তির টাকা কি যোগাড় হইছে? ছমির কোন কথার উত্তর দেয় না। পরনের লুঙ্গিটা বালাতির মধ্যে ধুয়ে, হাতে নিয়ে চিপড়ে লতিফার দিকে তাকিয়ে গর্জণ করে খেঁকিয়ে উঠল ছমির, ‘সকাল বেলা স্কুলের নাম নাই। লুডু নিয়া বাইছস কেন?’ আঞ্জু এইমাত্র তার পাকা গুটি কেটেছে। সেই শোকে তার মন ছিল খারাপ তার উপর বাবার এই ধমকের জন্য ছোট মেয়েটা মোটেই প্রস্তুত ছিল না। অপলক চোখে মা’র দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি বিনিময়ে বাবার নামে বিচার দেবার চেষ্টা করলো।

    রাবেয়া প্রতিবাদ করে মেয়ের পক্ষ নিয়ে বলল, ‘ও স্কুলে যাইব কেমনে? হোসেন পাড়ার বাঁশের পুল ভাইঙ্গা গেছে। সেই সঙ্গে খালের পানিতে স্রোত বাড়ছে। ও ছোট মানুষ একা স্রোত পার হইবো কেমনে? ছমিরের কটাক্ষ গলা। একা যাইবো কেমনে? আরে আমি ছোট বেলায় একা বিল পার হইয়া মক্তবে যাইতাম। খালে স্রোত বাড়ছে বইলা দুনিয়ার মানুষ ঘরে বইসা থাকবো তাই না? যদি সত্যি ঘরে বইসা থাকতো তাইলে তো ভালাই হইত, আজকা আমার আর কিস্তি দিতে হইতো না। ঝড়, বৃষ্টি তুফান কোনো কিছুতেই তো কিস্তি বাদ যায় না। ভাত-তরকারি কি কিছু হইছে? নাকি সারাদিন হুদাই চুলার পাড়ে বইসা আছো।

    রাবেয়া বুঝতে পেরেছে, আজ তার খসমের ম্যাজাজ ঠিক নাই। কিস্তির টাকা জোগাড় হয় নাই। কাল রাতে যখন ছমির কোন কিছু না খেয়েই শুয়ে পড়ে তখনই রাবেয়া বুঝা উচিত ছিল। নিজের এই বোকামির জন্য বেশ খারাপ লাগছে তার। গলার স্বর নিচু করে বলল, ভাত, ডাল আর ভর্তা হইছে। ঘরের ভিতর থেকে নিজের যুব্বা পরে কালো রং এর ছাতাটা নিয়ে বের হতে হতে ছমির বলল, বেশি গরম ভাত খাওয়া ভাল না। আমি আসতাছি। রাবেয়া জানে এখন আপত্তি বা অভিযোগ কোন কিছুই কাজে আসবে না। তিনি যে এখন কিস্তির টাকা জোগাড়ের শেষ চেষ্টায় বের হচ্ছে সেটা রাবেয়া বুঝতে পারল। বারান্দার এক কোনে পড়ে থাকা কমলি শাকগুলো তুলে পাতা বাছতে শুরু করল রাবেয়া।

    দুই.
    আজগর মুদি দোকানদার হলেও তার টানাটানির সংসার। নিজের হাতে টাকা নেই, দোকানের প্রায় ফাঁকা মাচাগুলোও সে মাল দিয়ে ভরতে পারছে না। গ্রামের যারা তার কাছ থেকে বাকি খায় তারা কেউ বকেয়া শোধ করতে পারছে না। লাল রং এর হিসাবের খাতাটা পাওনাদারের নাম ও পাওনার হিসাবে ভর্তি হয়ে গেছে। আজগর তারপরেও ছমির মোল্ল্যাকে সান্তনা দেয়, দু’দিন পরে তার কিছু টাকা আসার কথা। তখন সে তাকে ধার দিতে পারবে। কিন্তু ব্যাংকের স্যার যে তাকে দু’দিনের সময় দেবে না সেটা সে আজগরকে বোঝাতে পারল না। একে একে রতন, আমজাদ ও সাদেক মাস্টারের কাছ থেকে হতাশ হয়ে ফিরে দশটা নাগাদ বাড়ি আসতেই লতিফা বলল, বাবা, ব্যাংকের স্যার আঞ্জুদের বাড়িতে কিস্তির টাকা নিতাছে। আপনারে যাইতে কইছে।

    ছমির মোল্ল্যার তখন পেটে ভিষন ক্ষিদে। মনটা বউএর হাতের ডাল, ভর্তা আর ভাত খাবার জন্য ছটফট করছে। পায়ে কাঁদা নিয়েই মন মরা হয়ে বারান্দায় বসে পড়ল সে। ছমিরের চোখ পড়ল নিজের ডান হাঁটুর একটু উপরে। জায়গাটা এখনো কালচে হয়ে আছে। পরশু কচুড়ি কাটতে বিলের পানিতে নামলে একটা মইষা জোঁক তার হাঁটুর উপরের এই স্থানে রক্ত পান করে, রুটি বেলা ব্যালনের মত হয়ে গিয়েছিল। শেষে জোঁকের মুখে লবণ দিলে তার মুক্তি মেলে। আজ ব্যাংকের স্যারকে ছমিরের সেই জোঁক বলে মনে হচ্ছে। আর লবণকে মনে হচ্ছে টাকা। লতিফা আবার এসে বলে, বাবা তোমাকে ডাকছে, ব্যাংকের স্যারের নাকি সময় নাই।

    ছমির মোল্লা আর কোন কথা না বলে উঠে পড়ল। মনে মনে স্যারকে কি বলবে আওড়ে নিয়ে তার সামনে হাজির হলো।

    ‘ছমির টাকা কই?’

    স্যার পুরাডা জোগাড় হয় না। সামনের সপ্তাহে দিয়া দেবো। বর্ষার কোন কাম-কাজ নাই। কাইল থাইকা কয়েক জনের কাছে টাকা ধার চাইছি কেউ দিতে পারে নাই।

    এইগুলা কইলেতো চলব না। টাকা নেবার সময়তো এই কথা ছিল না। তোমার একার টাকার জন্য পুরা গ্রুপের টাকা মিলব না। যেমনে পারো পুরা টাকাই তোমার দেওয়া লাগবো।

    ছমিরের প্রতিবাদ ভরা কণ্ঠ, কইলামতো আগামী সপ্তাহে আমি সব দিয়া দিতে পারবো। ছমির মোল্ল্যার কারো টাকা মারার ইচ্ছা নাই। খোঁজ নিয়া দেহেন আমার কাছে কেউ কোন টাকা পাইবো কিনা।

    আরে মিয়া, আমার কাজতো তোমার খোঁজ নেওয়া না। আমার কাজ পাওনা টাকা তোলা। অত কথা না বইলা জলদি টাকার ব্যবস্থা কর। আমি উত্তর পাড়া ঘুইরা আসতাছি, এর মধ্যেই পুরা টাকা জোগাড় কইরা রাখবা। ছমিরের দৃঢ় প্রতিবাদ, উত্তরপাড়া থাইকা ঘুইরা আসলেও আমি আইজ টাকা দিতে পারমু না। আমার টাকা যোগাড়ের কোন পথ নাই। ব্যাংকের স্যার কোন কথা না বলে সাইকেলে ওঠে উত্তর পাড়ায় চলে গেল।

    আঞ্জুর মা বলে উঠল, পুল ভাঙ্গছে তাও নৌকায় কইরা ঠিক সময় টাকা তুলতে চইলা আসছে। মানুষের সময় অসময় কোন কিছুই তারা বোঝে না আর বুঝতে চায়ও না। ছমির আর কোন কথা না বলে নি:শ্বব্দে বাড়ির দিকে পা বাড়াল।

    রাবেয়া থালায় ভাত বেড়েছে অনেকক্ষণ, দু’তিনটা মাছি তার উপর একমনে লাফাচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য নেই ছমির মোল্ল্যার। ভোর রাতের স্বপ্নটা তার আবার মনে পড়ল। শাপলার বিলে নৌকা থেকে সে পড়ে গেছে। তার নৌকা দূরে ভেসে যাচ্ছে। শাপলার বিলের গোলাপী শাপলার লতায় তার শরির পেঁচিয়ে যাচ্ছে। সে কিছুতেই তার নৌকা ধরতে পারছে না।

    কলপাড় থেকে গোসল সেরে এসেও যখন রাবেয়া দেখল ভাত তেমনই আছে। তখন আর সে কোন কথা না বলে ভাতের থালায় ঢাকনা দিল। ছমির একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে বারান্দার খুঁটি বেয়ে পিঁপড়ার দলের ওঠা নামার দিকে।

    তিন.
    ব্যাংকের স্যার ছমিরের বাড়ির উঠানে। টাকা যোগাড় হয়নি এটা সে কিছুতেই শুনতে চায় না। ছমির কোনভাবেই যখন স্যারের কাছ থেকে সময় পেল না তখন সে রাগের মাথায় জানতে চাইল এখন তার করনীয় কি? ব্যাংকের স্যার ভারি গলায় উত্তর দিল, ব্যাংকের নিয়ম হলো, হয় টাকা না হয় অন্য কিছু। তোমার ঘর থেকে অন্য কিছু নিয়ে যেতে হবে। তুমি টাকা দিলেই তোমার জিনিষ তোমার হয়ে যাবে। ছমিরের ব্যাকুল কণ্ঠে ভেসে আসে, আমার ঘরে কি আছে যে, সেটা আমি দেব।
    ব্যাংকের স্যার এদিক ওদিক দেখে বলে, গোয়ালের গরুটা ব্যাংকে জমা রাখতে পারো।

    ছমির হাউমাউ করে উঠল। গরু! গরু নেবেন ক্যান?

    ব্যাংকের স্যারের জবাব, এখন তো তুমি টাকা দিতে পারছ না। তাই এই ব্যবস্থা। আমার কিছুই করার নেই, আমি ব্যাংকের নিয়মের কাছে বাঁধা। তুমি চিন্তা করো না। টাকা ফেরত দিলেই তোমার গরু তোমার হয়ে যাবে। আমার সঙ্গে নৌকা আছে। গরু নিয়ে যেতে আমার কোন অসুবিধা হবে না।

    এই কথাগুলো ছমিরের মস্তিকের ভিতর যেতেই তার মাথা গরম হয়ে উঠল। ক্ষ্যাপা বাঘের মত ঝঁপিয়ে পড়ল ব্যাংকের স্যারের উপর। সর্বশক্তি দিয়ে স্যারকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ঢেলে দিল সে। হাতের কাছে পড়ে থাকা কোঁদালের আছাড়ি তুলে নিল হাতে। বলে উঠল নিকুচি করি আপনার ব্যাংকের নিয়ম। সাহস থাকলে আমার গরুর গায়ে হাত দেনতো দেহি, বুকের মধ্যে কলিজাটা কত বড় হইছে।

    স্যারের তীব্র প্রতিবাদ। ‘কাজটা কিন্তু তুমি মোটেও ঠিক করতাছ না ছমির।’ স্যারের সাইকেল লাথি মেরে ফেলে দিয়ে ছমির বলে উঠল, ‘কাজের এখনো দেখছেন কি? এখনই আমার বাড়ির থাইকা বাহির না হইলে এই আছাড়ি দিয়া আপনার মাথা আমি দুই ভাগ কইরা দেব।’

    বিয়ের বয়সে স্বামির এত রাগ কখনো রাবেয়া দেখে নাই। বারান্দার খুঁটি ধরে সে মেয়েকে নিয়ে অবাক চোখে দাঁড়িয়ে আছে। মাটিতে পড়ে থাকা সাইকেল তুলতে তুলতে স্যার বলল, কাজটা তোমার মোটেও ভাল হল না ছমির। এর ফল তোমার ভোগ করতেই হইবো। ছমিরের দিকে অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে একবার দেখে নিয়ে সাইকেল হাতে ঠেলে দ্রুত সে বের হয়ে গেল।

    ব্যাংকের স্যার ছমিরের বাড়ি ছেড়েছে দু’ঘণ্টা হবে। ঠান্ডা ভাতের সঙ্গে কলমি শাক দিয়ে অর্ধেক ভাত শেষ করতেই, আলাল দৌড়ে উঠানে প্রবেশ করল। ভীত কণ্ঠে চিৎকার দিয়ে সে বলল, কাকা তোমারে ধরতে পুলিশ আইতাছে। তুমি পালাও। ছমির সে কথায় কান না দিয়ে বউ এর দিকে ফিরে বলল, আর একটু মাছের তরকারি দাও। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে রাবেয়া আঁচল মুখে গুজে ডুকরে কেঁদে উঠল।
    লেখক- রাহুল রাজ।

  • পরিক্ষামূলক নিউজ পাবলিশ

    পরিক্ষামূলক নিউজ পাবলিশ

    ঢাকা থেকে দুবাই রুটে আগামী ১১ জানুয়ারি ও ১২ জানুয়ারি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালানোর ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে আগেরবার ভাড়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হলেও এবার সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ ভাড়া জানায়নি সংস্থাটি।

    সম্প্রতি আসন সংকটের অজুহাতে দুবাইয়ের ৪০ হাজার টাকার একমুখী টিকিট ৮৭ হাজার, সৌদি আরবের ৪২ হাজারের টিকিট ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া কমানোর দাবি জানাচ্ছিলেন প্রবাসী ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো।

     

    ঢাকা থেকে দুবাই রুটে আগামী ১১ জানুয়ারি ও ১২ জানুয়ারি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালানোর ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে আগেরবার ভাড়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হলেও এবার সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ ভাড়া জানায়নি সংস্থাটি।

    সম্প্রতি আসন সংকটের অজুহাতে দুবাইয়ের ৪০ হাজার টাকার একমুখী টিকিট ৮৭ হাজার, সৌদি আরবের ৪২ হাজারের টিকিট ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া কমানোর দাবি জানাচ্ছিলেন প্রবাসী ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো।