Category: শিল্প সাহিত্য

  • ‘অনুভব’

    ‘অনুভব’

    আজ, অবেলা-অবসয়ে
    তোমাকে বেশী মনে পড়ে,
    বড় তৃষিত এই অভাগীর মন,
    দেখিতে তুমার চাঁদবদন মুখ।।

    মনে পড়ে আষাঢ়ের শেষ বিকেলে
    বসিয়া, কদমের তলে-
    সারা গা লেপ্টে যেত উড়ানি
    -ঢালা বৃষ্টির জলে।।

    লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে
    তুমি, ভেঁজা কোলে বসে
    আদর-সোহাগে বলতে-
    ভালবাসি প্রিয়তম, অবিরাম-অবিরত,
    -কি মধুর ছিল সেই চয়ণ!

    আমি আড়োচোখে, চেয়ে
    তোমার প্রশান্ত নগ্ন বুকে,
    হাত বুলিয়ে দিতাম-
    অশান্ত ধরনীর বুকে নেমে আসতো- সন্ধ্যা
    -ঝির ঝির বাতাসে।।

    তারপর পৃথিবী ছিল ক্ষণকাল মৌন
    হঠাৎ, খোলাকাশে দু‘হাত তোলে
    -উদাস মনে বলতে-প্রিয়তম
    বড় মধুর এই ছোয়া !

    আমি লজ্জায় মুখ ছেঁপে,
    শিহরে উঠতাম কেঁপে-
    ছলছল নয়নে, অশ্রু ভেজা বদনে
    হাত দুখানি ধরে, মিনতি করতাম
    ভুলে যাবে না তো কোন দিন -প্রিয়তম!

    তারপর, বিদিশার নেশা..
    সময়গত হলো, সবই রয়ে গেল-
    স্মৃতির স্বাক্ষর, সেই চেনা পথ,
    শুধু, তুমি গেলে -দূর অজানায়
    দিয়ে আখিঁ জল উপহার।।

    আজও অনুভবে বুঝি, তাই সদা খোজি
    হে, কামনা বিলাশী, বিনোদবর্মন
    কি দোষ ছিল আমার ?
    দুর্দান্ত আঘাতে, কেন ক্ষত-বিক্ষত করলে
    -এই পাষাণী অহল্যার মন।।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,64935.0.html

  • বোষ্টম

    বোষ্টম

    পাচঁ সিকির বোষ্টম আমি
    ভিক্ষা মাঙ্গিয়া খাই;
    এক-পা, দু-পা  করিয়া
    ভুবন ঘুরিয়া বেঁড়াই।।

    অশ্রু জলে যজ্ঞ করি
    পাতিয়া ভোগের থালা;
    পরের অন্নে দিবস যাপন
    বাড়ায়- বেদন-জ্বালা।

    জাত ভিখারী নই আমি
    বঞ্চনার শৈল বাঁধি;
    নিজের ভাগ্য হারিয়া আজ
    ভাগ্য লইয়া কাঁদি।।

    যুগ যুগ ধরিয়া শুনেছ, সকল
    কর্ম বিক্রি, ধর্ম বিক্রি কিম্বা দেহ বিক্রি হয়
    আজ শুন- বিলাষী  বাবুরা
    সুযোগ বুঝিয়া, ভাগ্য কিনিয়া লয়।।

    কর্ম হারা, ধর্মের দারা
    আমি ভাগ্যের খোরাশন;
    জীবন পাতের দারুন খড়ায়
    আগেই বেচে ছিলাম মন।।

    বোষ্টম নই, নষ্টমী করি
    লইয়া ফকিরের সওদা;
    জীবন মানেই আমার কাছে
    শূন্য বালু চর আর মরিচিকার ধাঁ ধাঁ।।

  • “নিনাদ বৃংহতি ??

    “নিনাদ বৃংহতি ??

    আজ অব্দি আমরা গুজব ও সংর্কীণতা সীমাবদ্ধ। চিন্তার পরিধি চাহিদার বেঁড়াজালে ঘুরপাক খাচ্ছে। নিজেকে তথাকথিত সার্বিক সমাজে মানানসঁই করতেই ব্যাতি-ব্যাস্ত সময় পার করছি।

    জীবনের চাহিদা বেঁচে থাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে। পরিবারে- স্ত্রী,/পুত্র, কর্মে/ ধর্মে, চাকুরী /ব্যবসা, এবং নিতি কথায় আবদ্ধ হয়ে পড়ছি। মূল্য-বান সময়ের সমাপ্তি ঘটছে –সমাজের বৃত্তবানদের দিকে আঙ্গুলী নিদের্শনা করে, আমিও এমনটি হতে চাই.. । এ যেন এক ধর্মের দারা, কর্মের খোরাসন—।

    সংসার লংকাপুরীতে, আগুন লেগেছে, চলছে কম্ভূকর্ণের সঞ্চয়/সঞ্চয়ীতায়-ধব্বংশ যজ্ঞের নিনাদ বৃংহতি; সময় কাঁটছে, শব-স্তুতির শ্বশান ঘাটে স্বর্গীয় ধুপ দৃস্টি অবলোকন আর হরি র্কীত্তণের ধুমে..। অথচ ধুপঁবিকারে উল্লেখ– ‘মঙ্গল আকাং ব্যাক্তম চরাচর…

    সভ্য সমাজের আধুনিকা, ফেসবুকে স্ট্যাটাজ দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছে তার স্মার্টনেস ও সৌন্দর্যের কথা-অঙ্গ..ভঙ্গিতে মীরা বাঈদ । কোমর দুলিয়ে লীলা-র্কীত্তন করে বিনোদীনি সারা দুনিয়াকে জানাচ্ছে- লীলাতে মজিলে পড়ে খেলাটা বুঝবি…রে.. মন—?

    আদর্শবান মাষ্টারের ছেলে গাঁজা-ভাং খেয়ে মাতলামি করতে করতে বলছে‘ মহব্বত কি ছুটি-কাহানি বড়; বড় চোট খাইয়ি জোয়ানি পেরো–। বেকারত্বে যাতাকলে পৃষ্ট যুবক, চিন্তায় অস্থির। স্বপ্নকাতুতে বিলাশ ভাবনায়। যত টাকা লাগে চাকুরী চাই?

    বিধবা মায়ের রাতের ঘুম হারাম হয়েছে, মাতুব্বরদের থাবা হতে নিজের সম্ভ্রম ও বসতঃবাটিকে রক্ষায়; তাই, নিত্য দিন ধন্না দিচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। চৌকিদার চামু হাতের লাটি ঘুরাতে ঘুরাতে বলছে ‘স্যার জন সেবায় ব্যস্ত, অণ্যদিন আসেন..

    স্বগীীয় কায়দা মিম্বরে বসে ইমাম সাহেব ওয়াজ নসিহত করছেন ‘সৎ পথে চল, নামাজ পড়, রোজা কর । অথচ তার ছেলে ‘মোরগী মিলন; সারা দিন ঘুমায় আর রাত হলেই-চটি চাটে। মোয়াজ্জিন আযান দিতে পারেনি ‘বৌও ভাত রানতে দেরী করেছে বলে..

    অফিসের বড়কর্তা, পিয়নের ডাকাকে সারা দিতে পারচ্ছে না ঘুমকাতুরে চোখ নিয়ে , কাল বৌয়ের সাথে ঝগড়া হয়েছে সোনার নেকলেস কিনে দিতে পারেনি বলে। কমচাঁদের জ্ঞান ফিরতেই ভীড় ভীড় করে বলছে, সোহাগী লতার ‘এ্যাঁ.. সোহাগী লতা;… এ্যা..ধ্যার্মে আয়–গা। আজ হ্যাম বহুত খুসহো—তুমবি..।

    শিক্ষকের চিন্তা, —ছাত্র কথা শুনে না-এ দেশ ভাল হবার নয়; চিরাতে পানি নেই। কাজেই ভাল দেশে ষ্টাইপেন চাই।

    রাজনীতিকেরা দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিতে চাইছে..। ‘সুদূরে নেতার কন্ঠে ভেঁসে আসছে- স্বাধীন দেশে স্বাধীনতায় মূর্খ। আমরা শুধু রাজনীতি ব্যতিত সবায়কে স্বাধীনতা দিব- চলছে জনতার উল্লাস।

    টুকাই মানু চিৎকার করে বলছে- আমার দাবি, ‘রাজনীতিকে-ই আগে স্বাধীনতা দিতে হবে। আমি রাজনীতি করতে চাই…। জন-কোলাহলে মানুর চিৎকার, চেঁচামেচি হারিয়ে যাচ্ছে আকাশের দূর লীলিমায়..।

    চিন্তাহীন দুঃখিরাম ভাবছে, দুঃখের সীমা নাই। চিরজীবন দুঃখ করে — তরীতে পারি নাই। আজ বুঝেছি দুঃখের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। গুণ গুণ করে গান ধরছে– যদি তরিতে ভাসনা থাকে—ধর …রে… মন নেতার সঙ্গ; ভজরে আনন্দের গৌরাঙ্গ—–।

  • লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন মারা গেছেন

    লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন মারা গেছেন

    কিংবদন্তি লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন মারা গেছেন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া দশটার দিকে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না… রাজিউন)। তার বয়স হয়েছির ৭১ বছর।

    ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।দীর্ঘদিন ধরে জটিল কিডনি রোগে ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন।

    ১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় ফরিদা পারভীনের জন্ম। পারিবারিক সূত্রেই এসেছেন গানের ভুবনে। এরপর গানের সাথে কাটিয়েছেন ৫৭ বছর।

    মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে ফরিদা পারভীনের পেশাদার সংগীত জীবন শুরু হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে খ্যাতি পাওয়া ফরিদা পারভীন লালন সংগীতের মাধ্যমে নিজেকে পরিচিতির শিখরে পৌঁছে দেন।

    ১৯৭৮ সালে একুশে পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত এই শিল্পী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লালনের গানের প্রতি উৎসাহী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

  • নষ্টামী

    নষ্টামী

    রাস্তার ধারে, নিষিদ্ধ আব্ছায়,
    মধুমাক্ষীর কামনার লোলুপ দৃষ্টি;
    অ-বোধ,  মন-রসনায়-
    নষ্টামীর আহব্বান জাগায়।।

    স্পর্শকাত স্থানগুলোর দর্শন
    এক মধুময় আরতির-
    অনন্য অনুভূতি জাগায়;
    সৃষ্টির যৌবিক মাদকতায়।।

    সোডিয়াম লাইটের বর্নীল আলোক ছ‘টায়
    এক নগ্নতার ছায়া পথ ফোটে মনে;
    লালসার ললিতে-
    এ যেন, এক- দূরন্ত যান্ত্রিকতা।।

    অ-বয়, অ-সমতা-
    অর্থের মাপকাটিতে তনুয়াবিষ্ট হয়;
    মদ-মত্ত উন্মাদনায়-
    মাতালের নেশার ঘোরে।।

    হঠাৎ কোমলাঙ্গীর জীর্ণ দৃষ্টতায়
    মনে পড়ে, মা বোন-ভাগ্নির অবয়ব;
    ভাবনার আবেগ প্রশ্ন রাখে-
    ওরাও তো মানুষ !!

    তারপর, যার পণে ছুটে চলা-
    শেষ রাতের মিটিমিটি তারা গুলো;
    মায়ের স্বরে প্রশ্ন করে –
    কেমন আছিস খোকা? ভুলে যাসনি তো—-।।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,56781.0.html

  • ওপেন্টি বাইস্কোপ !

    ওপেন্টি বাইস্কোপ !

    মুক্তির ধূ‘য়াশা
    যুক্তির আসরে-
    কথা নয়, চুপ-থাকা
    গণতন্ত্রের বাসরে।।

    হিউম্যানেটিস মুঠিবদ্ধ
    শোষকের যুক্তিতে,
    লিডাররা অ্যাবসুলেট-
    জনতার মুক্তিতে।।

    সংস্কৃতির আড়ালে
    নগ্নতা বরিষণ,
    ভিষন্নতায় জাতীয়তা-
    লুন্ঠিত সিভিলাইজেশন।।

    রিলিজনের সীমানা
    দেয়ালের প্রাচীরে,
    ল‘লিতে ছিলে কলা-
    হাঁফ ছেড়ে বাচিঁতে।।

    ফেসবুকে লেনাদেনা
    চলছে, বিলেতি ভাবনা,
    গুণিতায় বন্দি-
    তার ছেড়া, পাবনা।।

    আহা, আছি বেশ
    নীতি কথার মন্ত্র,
    ডুগ-ডুগি বারকোর্ট
    অধিকার তন্ত্র।।

    কথা নয়, লীলা চলে
    গিলবার্টের রাজ্যে,
    বিভিষনেরা দুষ্ট
    কর্ম আর কার্যে।।

  • আহ্বান

    আহ্বান

    ঈমানের তকদির ললাটে মাখি
    মৃত্যুর মিছিলে কে যাবি আয়,
    বাতিলের দাবি রুখিতে হবে-
    দরাজ গলায়, আল্লাহু আকবর।।

    মহানের মহত্ব করিব বয়ান-এইবার
    উচ্চ করে শির……………….
    কারবালার ময়দানে যুদ্ধের ডাক
    আয়; শহীদের তাড়া নিয়ে বীর।।

    সত্য, সুন্দর আর ন্যায়ের পথে
    দিতে হবে প্রাণবলি-
    ইয়াজিদের সান দেওয়া খড়গের নীচে
    জীবনের হবে কোলাকুলি।।

    মরুর পথে এই বার দিতে হবে
    রক্তের সামিয়ানা পাতি-
    জালিমের গলায় পড়াতে হবে
    সিমারের কলংক রাখি।।

    নাস্তিক, মুশরিক আর কাফিরের দল
    এইবার হবে তারা; হবে পদদল,
    নিশাচরা পাখী মোরা, গাইবো জিহাদের গান
    সত্য পথে যায় যাবে, এই দেহ-প্রাণ।।

  • অচিন পাখী

    অচিন পাখী

    দূর আকাশে উঁড়িয়ে দিলাম
    আমার সুপ্ত ভালবাসা,
    শব্দহীন চোখের জলে
    খোজঁতে তারে ভাষা।।

    উঁড়ছে মায়া অন্তগিরি
    ছুটছে জুড়ে গতি,
    গগণভেদী আকাশ ছেদী
    ধ্রুব-তারা, জ্যোতি।।

    সপ্ত রেখার দূর-নীলিমায়
    দূরন্ত তার ছায়া,
    দিগ-ছড়িয়ে, মাঠ পেরিয়ে
    দৃষ্টি করা কায়া।।

    শূণ্যে উঁড়ে শূণ্যে ঘুরে
    শূণ্যে তাহা বাস,
    নীল পরীদের মন মাতিয়ে
    মিটছে তাহার আশ।।

    হৃদ-আকাশের বাধঁনছেদী
    বিশাল ভুবন পেয়ে-
    নাচছে পাখি, ফিরছে ঘুরে
    সপ্ত-রংঙ্গ গেয়ে।।

    আধার কালো আমার আকাশ
    নিত্য ঝড়ে বারি,
    পুরনো সেই স্মৃতকথা-
    প্রেম বিরহে তারই।।

    ফিরছে গেয়ে জগৎ ধেয়ে
    -দ্রেপদী‘তে প্রান,
    অচিন পাখীর অচিন ভাষা
    -অচিন তাহার গান।।

  • মানিকগঞ্জে ২১ সংস্কৃতিকর্মীকে আর্থিক অনুদান প্রদান

    মানিকগঞ্জে ২১ সংস্কৃতিকর্মীকে আর্থিক অনুদান প্রদান

    মানিকগঞ্জ জেলার ২১ জন গুণী সংস্কৃতিকর্মী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অনুদান করা হয়েছে। গতকাল ১৭ জুলাই রোজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় এই আয়োজনটি সম্পন্ন করে জেলা কালচারাল অফিস।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা। তিনি বলেন, এই অনুদান শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। তাদের নিরলস পরিশ্রমে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সমৃদ্ধ হচ্ছে, যা সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    জেলা কালচারাল অফিসার মোকলেসা হিলারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নাট্যকার, সঙ্গীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী ও চিত্রশিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।

    আগত সংস্কৃতিকর্মীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকারের এই সহায়তা তাদের কাজে নতুন প্রেরণা যোগাবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশে ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

    এই আয়োজনের মাধ্যমে মানিকগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়।

  • আমার মা ‘বিশ্ব সেরা’

    আমার মা ‘বিশ্ব সেরা’

    আমার মা বাল্যশিক্ষা পর্যন্ত পড়া। বাবা পঞ্চম শ্রেণী পাশ ছিলেন। বাবা কৃষিকাজ ও ডিলারী করতেন। সে-কালে ডিলারদের অনেক মূল্য ছিল। সরকারের সমস্ত রিলিফ স্বল্প মূল্যে ডিলারদের মাধ্যমে জনগনের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া হতো। সাধারনত সৎ ও ভাল মনের মানুষদেরকেই ডিলার হিসাবে নিয়োগ দেয়া হতো। আর ডিলারী ব্যবসাটা আমাদের পৈতৃক ব্যবসা। সেজু ভাই এখনো বাবার ডিলারী ব্যবসা ধরে রেখেছেন।

    আমাদের বাড়ী, ‘ডিলার বাড়ী’ হিসাবে পরিচিত। সাটুরিয়া উপজেলার না হলেও; অন্তত দিঘলীয়া ইউনিয়নের প্রত্যেক গ্রামের মানুষই আমার বাবাকে কম-বেশী চিনেন। আমার বাবার নাম হাবিবুর রহমান হলেও সকলে ‘হবি ডিলার’ হিসাবে বেশী চিনেন।

    আমাদের বাড়ীতে রিলিফের মাল ডেলিভারি দেওয়ার দিন, হাজারো মানুষের উল্ল্যাস, চেঁচামেচি আর হাঁক-ডাক লেগেই থাকতো। বাবার সকল কাজের প্রধান সাহায্যকারী, পরার্মশক কিম্বা বিষান্নতাভোগি ছিলেন আমার মা ‘জাবেদা বেগম’।

    সে কালে মেয়েরা স্বামীর নাম ধরে ডাকতো না-অমঙ্গলের আশঙ্কায়। তাছাড়া এটি ছিল স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অঘাত ভালবাসা এবং সীমাহীন শ্রদ্ধায় বিষয়। মা বাবাকে ‘এ্যাঁদু শুনছ নাকি’ বলে ডাকতো। চাল, চিনি, ডাল, লবন ও তেল বিতরণ করার জন্য আমাদের বাহির বাড়ীতে আলাদা একটি ঘর ছিল। যাকে আমরা ‘বাংলাঘর’ বলে জানতাম। সারা দিন ‘বাংলাঘরে’ বাবা চাল, চিনি. ডাল. লবন ও তেল বিলি করতেন আর নালিশ জমা হতো মায়ের রান্না ঘরে।

    নালিশের পাল্লা অধিক- ভরি হলে মা রান্না ঘর হতে বাহির হয়ে ‘বাংলাঘরের’ পাশে গিয়ে হালকা স্বরে কাশ দিতেন। হাজারো লোকে ভীড়ে থাকলেও বাবা মায়ের সেই কাশের স্বর বুঝতে পারতেন। তাৎক্ষণিক তিনি সকল কাজ রেখে – মায়ের সাথে কথা বলার জন্য বাহিরে ছুঁটে আসতেন এবং ক্যাচু-ম্যাচু হয়ে বলতেন কি হয়েছে তাড়াতাড়ি বল।

    মা, হুকুমের সুরে বলতেন, ছমিরন চাল, ডাল ও চিনি পায়নি কেন? ওর পরিবারে তিন জন লোক। হিসাব অনুয়ায়ী সে ছয় কেজী চাল, দুই কেজী ডাল ও এক কেজী চিনি পাওয়ার কথা। নয়া মিয়াকে দিয়ে চাল, ডাল, ও চিনি রান্না ঘরে পাঠিয়ে দিও। টাকার জন্য চিন্তা করো না। ওটা আমার কাছে জমা দিয়েছে। মায়ের কথা মত চাল, ডাল ও চিনি রান্না ঘরে পৌঁছিয়ে যেত। বাবার শতঃ ইতস্ততায় কোন ফয়দা হতো না।

    এ দিকে ছমিরন রান্না ঘরে, বসে উনুঁনে আগুন দিয়ে ফুপিঁয়ে ফুপিঁয়ে কাঁদতো- ভাউজ কি করি, কি করি বলে। মায়ের হাত হতে চাল, ডাল ও চিনি পেয়ে বাড়ী যাবার সময় সে মায়ের পা ছুঁতে চাইলে, মা তাকে বুঁকে জড়িয়ে নিতেন। ছমিরণ, বাউজ! বাউজ! বলে আবেগে মায়ের বুঁকে ঢলে পড়তো। তখনকার সমাজে অর্থহীন বিত্তহীন ছমিরণদের একমাত্র ভরসা ছিলেন আমার মা। এই সকল ঘটনা, এক-দুই দিনের নয়, নিত্যই আমাদের বাড়ীতে ঘটতে দেখেছি।

    অবসর সন্ধ্যায়, পাড়ার আফাজ পাগলা, রসুলদী কাকু, সুলতান মাষ্টার, জিন্দা পাগলা, মজিবর ডাক্তার, আকালী কাকু আমাদের বাড়ীতে আসতেন। বাড়ীর উঠানে জমিয়ে বৈঠকি গানের আসর বসতো। বাবার কন্ঠে –‘সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে.. গানশুনে মা খুব কান্না কাটি করতেন। আমি তখন ছোট। মায়ের কোলে বসে ফ্যাঁল-ফ্যাঁলিয়ে সকলের দিকে তাকিয়ে থাকতাম।

    বাবা প্রায়ত হয়েছেন আজ প্রায় ২৫ বছর। মায়ের বয়স এখন ৯৭ এর কাছাকাছি। ভাল ভাবে চোখে দেখেন না। আমাদের চাচিতারা বাজার সংলগ্ন চল্লিশ শতকের বাড়ীর ছোট একটি ঘরে মা থাকেন অনেকটা একাকী ও নিবৃত্তচারী হয়ে। আমরা তিন ভাই ঢাকা থাকি। সকলের-ই, সময়ের খুব অভাব। মায়ের খোজঁ-খবর তেমন রাখতে পারি না। কিন্তু মা নিত্যই আমাদের খোজঁ-খবর রাখেন। সাপ্তাহের প্রতি শুক্রবার তিনি নির্ঘুম রাত কাটান-আমাদের বাড়ী আসার পথ চেয়ে। শুবার ঘরের বারান্দায় এসে বসে থাকেন, আর মাঝে মাঝে হাকঁ তুলেন ‘বৌমা কে এলো গো..বলে।

    আমি মায়ের ছোট সন্তান। ছোট থেকেই মায়ের আদরের। এখন বড় হয়েছি, তাই আর মায়ের কাছে তেমন বসা হয়না। প্রতি দিনের মতো খাবার শেষে মায়ের আচঁলে হাত মুছাঁ হয়না, মায়ের কাছে বায়না ধরতে হয় না। মায়ের নতুন কাথাঁ সিলায়ের পাটিতে গড়াগড়ি দিতে হয় না। কিম্বা মায়ের আচঁলের খিটঁ খোলে টাকাও চুরি করতে হয় না। এখন, বৌয়ের মরমী আচলের সুঘ্রান- সুভাশে মায়ের ভালবাসাকে সমাধি দিয়েছি।

    আজ ‘বিশ্ব মা দিবস’। তাই কাগজে দুই-ছত্র লিখে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ জানালাম। জানি, এটি নিন্দণীয়। তবু মনের আবেগ-ও প্রসন্নতাকে জন- সমাজে প্রচারে মন চায়।

    পৃথিবী বড়ই অদ্ভূত। জন্মদাত্রী এখানে অ-প্রয়োজনে অশ্রাহীনা হয়। ব্যক্তিক সুযোগ- সুবিধার কাছে এখানে, ভগবান অসহায়। ভালো লাগা আর ভালবাসা এখানে বিনিময়ে বিক্রি হয়। কিন্তু মাতৃত্ব- আর পিতার ভালবাসা কালের স্রোতের মতই বহমান থেকে যায়।

    মা ,আমি বড় অসহায়, অভাগা ছেলে। আজ ‘বিশ্ব মা দিবস। অবনত মস্তককে তোমাকে প্রনাম করছি। সময়ের ভেড়া জালে আমরা জাগতিক। কিন্তু তোমার ভালোবাসার শূণ্যেতা আমাদের সব সময় কাঁদায়। এই বিশ্ব মা দিবসে সকল মায়ের প্রতি অগাত শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানাই।

    মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টি-মানিকগঞ্জ জেলা শাখা।