Category: শিল্প সাহিত্য

  • ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব

    ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব

    ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। সংস্কৃতি সম্পর্কে বলা যায়- কোন স্থানের মানুষের ভাষা, আচার-ব্যবহার, জীবিকা, সঙ্গীত, নৃত্য সাহিত্য, সামাজিক সম্পর্কীত শিক্ষা-দীক্ষা, রীতি-নীতির মাধ্যমে যে, অভিব্যক্তি প্রকাশ কর হয় তাই সংস্কৃতি। তাই সংস্কৃতিকে way of life বলা হয়। জাতী ও জাতীয়তার সাথে সংস্কৃতির সম্পর্ক নিরবিচ্ছিন্ন। একই সংস্কৃতির পরিমন্ডলে যেমন বিভ্ন্নি ধর্মের লোক থাকতে পারে, ঠিক তেমনী ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠণে একটি অভিন্ন সংস্কৃতি গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুস্তকের ভাষায়, একই সংস্কৃতির সহজাত স্রোতধারায় বহু ধর্মের সংমিশ্রণে একটি অভিন্ন জাতীয়তা তৈরী হয় যা চিরাচরিৎ ধর্মীয় ধারনাকে বহুলাংশে মানবিক করে তুলে।

    আর ধর্মীয় সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- শয়তানের উপর জয়যুক্ত হওয়া এবং আত্মায় সত্যের আসন প্রতিষ্ঠা করাই ধর্ম। নিয়ম পালনের সাথে, জীবনের কদর্যতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রত্যেকটি মানুষের পবিত্র দায়িত্ব। সংস্কৃতিতে কদর্যতা থাকলেও বির্বতন যুগধারায় তা মানবিক পথে ধাবমান। তাই জ্ঞানীরা বলেন, ধর্ম হলো মৌলিক আর সংস্কৃতি তার দর্শন। তাই দর্শন বিহীন ধর্ম অসম্পুর্ণ।

    বৈশাখের সাথে ধর্মের সংশ্রাব অর্থহীন। মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থের কোথায় বৈশাখি উৎসব পালনের কথা উল্লেখ্য নাই। তবে বাঙ্গালী জাতির সংস্কৃতিতে বৈশাখী উৎসব পালন সার্বজনীন।

    ইতিহাস ধারা থেকে জানা যায়, মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলা-উড়িষ্যায় এলাহী সন, মৌসুমী বা ফসলী সনের চালু ছিল। ঘরে ঘরে ফসল তুলার সাথে খাজনা আদায় ব্যাপক প্রচলন ছিল। এই জন্য সম্রাট আকবর জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদ আমির ফতেউল্লাহ সিরাজীকে দিয়ে হিজরী সনের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে তারিখ-ই-এলাহী সনের প্রচলন করেন যা পরবর্তীতে বৈশাখী উৎসব হিসাবে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

    বৈশাখী উৎসব আজ বাংলা ভাষা-ভাষী বাঙ্গালীদের প্রাণের উৎসব। বৈশাখ শব্দটির উৎপত্তিতে সনাতন ধর্মের হৃদিত্ব রয়েছে। বাংলা ভাষার প্রাণকোষ বাংলা ব্যাকরণে বৈশাখ শব্দটির উল্লেখ্য পাওয়া যায় এই ভাবে-বৈশাখ+ষ্ণ, অস্তার্থে ।২।, মন্থণ দন্ড। বিশাখা+ষ্ণ। বি; পু। বিশাখা নক্ষত্রযুক্ত পুর্ণমা।

    ইতিহাস বিদূত, বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠিরা বহুকাল আগে থেকেই বৈশাখী উৎসব পালন করে আসছে। মূলতঃ আদি জনগোষ্ঠিরা বৈশাখী উৎসবকে বৈসাবি উৎসব হিসাবে পালন করত। বর্ণ বেদে তারা আলাদা আলাদা ভাবে, আলাদা আলাদা নামে এই উসৎব পালন করত। যেমন মারমা-রা, সাংগ্রাই, ত্রিপুরা-রা, বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যা-রা, বিষ্ণু এবং চাকমারা বিজু উৎসব হিসাবে পালন করত। এই সকল উৎসবকে সম্মিলিত ভাবে বৈসাবি বলা হয় যা আজও তাদের সমাজে চেতনা ধর্মী উৎসব হিসাবে পালন করছে।

    যুগ-যগান্তরের ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, বৈশাখ বা বৈসাবি উৎসব পালনের সাথে বৈদিক জাতি-গোষ্ঠির পুরান, বেদ বা সনাতন ধর্মের সংশ্রাব রয়েছে। হিন্দুরা বহুকাল আগ থেকেই বৈশাখি উৎসবকে তাদের ধর্মীয় উৎসব হিসাবে পালন করে আসছে।

    উল্লেখ্য যে, পহেলা বৈশাখ যেমন বাঙ্গালীর হৃদয়ে নতুন উদ্বিপনা জাগিয়ে তুলে তেমন বর্গাচাষীদের জন্য এই দিনটি যন্ত্রণাদায়ক হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই সময়ে এই দিনটিকে সম্পাদন করা হতো রাজস্ব আদায়ের দিন হিসাবে। প্রজারা বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে জমিদার বাড়ীতে মিষ্টি মুখ করতো।

    এখন সেই যুগের আবসান হয়েছে। পহেলা বৈশাখ এখন বাঙ্গালীর সার্বজনীন উৎসব হিসাবে পরিচিত পেয়েছে। এখন বৈশাখের লৌকিকতা পরিবার থেকে আরম্ভ। আত্মীয়-বন্ধু, ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে প্রতিবেশী সুহৃদজনকে শুভেচ্ছা ও কুশল জানানো, ছোট-বড়দের মধ্যে নবর্বষে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় মিলন বন্ধন গড়ে উঠে। শিশু-কিশোরেরা চরকি, নাগরদোলা, বাঁশি আর তালপাতার রকমারি খেলনা নিয়ে মেতে উঠে। কিশোরীরা ব্যস্ত চূড়ি, ফিতা, চুলের ক্লিপ, আলতা, কাজল ইত্যাদি কেনার জন্যে।

    মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সদস্য- জাতীয় নাগরিক কমিটি, মানিকগঞ্জ জেলা শাখা।
  • প্রত্যাবৃত্ত

    প্রত্যাবৃত্ত

    অনেক হেটেঁছি অচেনা পথে
    একটি চাঁদনি রাতে আশায়;
    ব্যাকুল চিত্তে দূর আকাশে
    সুতোহীন লাটাই হয়ে।।

    জোড়া-তালির এই জীবনে
    ক্রমাগতই আছাড় খেয়েছি
    অঙ্গহীন দৈন্যতায়;
    অসমতার স্লোগানে।।

    সময়ের সাথে জীবনের অংক
    মিলেনি কোন দিন,
    আকাঁ-বাকা পথে হেটেছি
    এক, যাযাবর বেদুইন হয়ে।।

    পল্লব লতা পুরাতন ছেড়ে
    জেগে উঠে নতুন কুঁড়ি নিয়ে
    আমারও আশা ছিল কিন্তু
    হয়ে উঠেনি স্বভাব দোষে ।।

    জানি ধব্বংশ হবো না
    আবার ফিরে আসবো ভিন্নরুপে,
    -মৃত্যুর পথ পেরিয়ে,
    হয়তো অচেনাকেই ভালবাসতে।।

    সখ্যতা বিহীন অপেক্ষায়
    বিরক্তির মাল্য দিতে
    দুর্বাসার গলে
    জীবন-যাতনার পথ ধরে।।

  • কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ সাহিত্য সম্মাননা পেলেন ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ

    কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ সাহিত্য সম্মাননা পেলেন ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ

    দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী সাহিত্য সম্মাননা ২০২৫ পেলেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ।

    গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে হরিকেল সাহিত্য পরিষদ আয়োজিত আব্দুর রউফ চৌধুরী স্মরণোৎসবের দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনীতে এই সাহিত্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কথাসাহিত্যিক আহমদ বশীর তাঁর হাতে সাহিত্য সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন।

    দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী সাহিত্য সম্মাননা ২০২৫ পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, আমাকে দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী সাহিত্য সম্মাননা প্রদান করায় আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এটি আমার জন্য অনেক সম্মানের।

    অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. মুকিদ চৌধুরী বলেন, আপনাদের সকলের অংশ গ্রহণে আব্দুর রউফ চৌধুরী স্মরণোৎসব সমৃদ্ধ হয়েছে। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

    এখন থেকে নিয়মিতভাবে আমরা এমন আয়ো জন করবো। আগামীতে আপনাদের সাথে নিয়ে আমরা দ্রোহী কথা সাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী জন্ম শতবর্ষ সফলভাবে সম্পন্ন করতে চাই।

    উল্লেখ্য সমাপনী আয়োজনের পূর্বে কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর তিন বই- পরদেশে পরবাসী, অনিকেতন ও নতুন দিগন্ত নিয়ে তিন পর্বে প্রবন্ধপাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    নাট্যকার, গবেষক ও লেখক ড. মুকিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকাশক ওসমান গণি।

    সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার, লোকসংস্কৃতি গবেষক অধ্যাপক জাহান আরা খাতুন, অধ্যাপক মো. ইলিয়াছ বখ্ত চৌধুরী জালাল, অধ্যাপক মো. হারুন মিয়া, দৈনিক যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অপূর্ব শর্মা, সহযোগী অধ্যাপক গৌতম সরকার, গবেষক ও লেখক ড. শাফিক আফতাব, প্রকাশক আফজল হোসেন, কথাসাহিত্যিক শামস সাইদ, পরিবেশকর্মী তোফাজ্জল সোহেল এবং লেখক ও গবেষক ফয়সাল আহমেদ। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন হরিকেল সাহিত্য পরিষদ হবিগঞ্জ এর সদস্য সচিব সিদ্দিকী হারুন।

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কথাসাহিত্যিক আহমদ বশীর বলেন, দেশাত্ম-বোধ, মুক্তবুদ্ধি এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তা ছাড়া সংস্কৃতির মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। আব্দুর রউফ চৌধুরী সাহিত্য কর্ম পাঠ করলে দেখা যায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সংকটের বিভিন্ন সমস্যাকে নিয়ে তিনি প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাস রচনা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সাংস্কৃতিক সংকটে তার রচনাবলী পাঠ ও মুল্ল্যায়ন অন্তত প্রয়োজন। তাকে বৃহত্তর পাঠক সমাজের কাছে পরিচিত করে দেওয়ার দ্বায়িত্ব আমাদের সকলের।

    মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকাশক ওসমান গণি বলেন, দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর সাহিত্যকর্মকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। তাঁর নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং এই ধরনের আয়োজন নিয়মিত করতে হবে।

    কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার বলেন, আব্দুর রউফ চৌধুরী শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি এবং ধর্মমীয় অনুসঙ্গে এমন পরিশীলিত সৃষ্টিশীল বাঙালি ছিলেন। আজ তার জন্মস্থান হবিগঞ্জ এ দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানাই।

    আমার দুঃখ লাগে, কষ্টও হয়, এই সৃষ্টিশীল মহত্তম মানুষটিকে চিনতে জানতে আমাদের এত দেরি হলো কেন? আব্দুর রউফ চৌধুরী রচনাবলী যতই পড়ি ততই গভীরে নিমজ্জিত হই এবং বিজ্ঞান ও চিন্তার নতুন নতুন দিগন্ত আবিষ্কার করি।

  • সাটুরিয়ায় ব্র্যাকের গণনাটক প্রদর্শনী

    সাটুরিয়ায় ব্র্যাকের গণনাটক প্রদর্শনী

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটী ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ী গ্রামের মোঃ আমির আলীর বাড়ীতে ২৪ ফ্রেরুয়ারী (সোমবার) রাতে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচী (সেলপ) এর আয়োজনে গণনাটক প্রদর্শনী করা হয়েছে। উক্ত নাটকে অংশগ্রহন করেন দিশারী গণ নাটক দল দিনবদলের ডাক নামে একটি গণনাটক প্রদর্শন করেন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার সভাপতি এম নজরুল ইসলাম, ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচী (সেলপ) মানিকগঞ্জ জেলা ব্যবস্থাপক তারা সাংমা,সাটুরিয়া ব্র্যাক শাখার হিসাব কর্মকর্তা আব্দুল হাই, উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস ও ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচী (সেলপ) সাটুরিয়া শাখার অফিসার শারমিন আক্তার পলি।

    উক্ত গণনাটকে বাল্য বিয়ের প্রতিরোধে হট লাইন নম্বর ১০৯ এর ব্যবহার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করেন এবং ব্র্যাক লিগ্যাল এইড সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হয়।

    এছাড়া বাল্য বিয়ের শাস্তি সম্পর্কে মানুষকে অবগত করা হয়। ছেলে ও মেয়ের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স সম্পর্কে মানুষকে জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের ১৮ বছর সরকারী ভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • হারিয়ে গেলেন, আমি বাংলায় গান গাই !

    হারিয়ে গেলেন, আমি বাংলায় গান গাই !

    ১৯৪২ সালের ২৫ জুন বরিশালে জন্ম প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের। ৮৩ বছর বয়সে কলকাতায় জীবনপথের যাত্রা শেষ হলো তাঁর। শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মারা যান এই গীতিকার, সুরকার ও সংগীতশিল্পী। বাংলাকে খুব ভালোবাসতেন প্রতুল।

    তাই তো সৃষ্টি করেছিলেন ‘আমি বাংলায় গান গাই। বার্ধক্যের কারণে এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এক সপ্তাহ ধরে ছিলেন আইসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে। সেখান থেকে আর ফেরা হলো না তাঁর। মৃত্যুর আগে দেহ দান করে গিয়েছিলেন প্রতুল।

    তাই রবীন্দ্র সদনে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে সম্পন্ন হয় তাঁর দেহ ও চক্ষুদানের প্রক্রিয়া।

    প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের মতো এমন একজন গুণী মানুষের জন্ম হয়েছিল এই দেশে, এটাও আমাদের জন্য গর্বের। ওনার মতো সংগীতব্যক্তিত্বকে হারানো সংগীতাঙ্গনের জন্য বিরাট ক্ষতি। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার মতো না। তিনি চলে গেলেও তাঁর সৃষ্টি দিয়ে বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে।

  • ফাল্গুন !

    ফাল্গুন !

    বাচিঁতে ইচ্ছা করে
    সখি, নাচিতে ইচ্ছা করে,
    -গাইতে সুর-গান’
    আজি, ১লা ফাল্গুনে, ভরিয়া উঠিল
    এ, মরা দেহ-প্রাণ।।

    অম্রকাননে ফুটিল মুকুল
    সহস্র ভ্রমরের দল,
    আকুল তিয়াসে মধুর পিয়াসে
    করছে কোলাহল।।

    চারদিকে ফুটিছে শতদল
    নন্দিত, আজ মেঠোপথ,
    যোজন-বিয়োজন একসাথে
    -প্রকাশিতে অভিমত।।

    বন্ধ কুঠিরে বসিয়া অসার
    শুকিতে চন্দনও ঘ্রাণ
    অমুলকঃ ভাবিয়া পুলক
    বাজাঁতে সানাই-তান।।

    হৃদি কপাটে জাগে
    ফুল মল্লিকার মেলা,
    হৃদয় নীলাচলে ‘অপ্সীরা
    খেলিতে প্রেম-খেলা।।

    ডালে ডালে নতুন পাতা
    তব, শাখাতে ফুটিতে ফুল
    সোহাগী বাতাসের নরম ছোঁয়ায়
    মুকুলে পড়িতে দোল।।

    বলি-হরি মনোলোভা
    চলিছে যৌবনের জয়গান
    এ, চিন্ময়ীর আনন্দধারা
    -চলিতে অভিরাম।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,63848.0.html

  • ভ্যালেনন্টাইন্স ডে’ র মহত্ব !

    ভ্যালেনন্টাইন্স ডে’ র মহত্ব !

    এখন ভালবাসা চলে মেসেঞ্জার কিংবা হোয়্যাটসঅ্যাপে। নির্জনে ঘরের পিছন, পড়ার টেবিল ঘেষা জানালারদ্বার কিম্বা স্কুল ফেরার পথে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দিন শেষ।

    এখন ভালবাসার প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতি সহজ ও সস্তায় ‘আই লাভ ইউ’ বলায়। পরিবর্তনের এই ধারায় অন্তত আমাদের দেশে ভালবাসা এখন সস্তা, ও  নিদিষ্ট দিনে ‘ভালবাসা দিবস’ উদযাপন গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

    অসভ্য যুগ থেকে মানুষ সভ্য যুগে প্রবেশ করেছে ভালবাসাকে আশ্রয় করে।বহুকাল থেকেই ভালোবাসাকে আশ্রয় করে মানুষের সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে। ভালোবাসার শক্তিতে মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। আবার এই ভালোবাসার অভাবেই মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই মানব জীবনে ভালবাসার গুরুত্ব এককথায় অপরীসিম।

    এ গুরুত্বকে পরিস্ফুটন করতে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে মানুষ ভালো-বাসার জন্য একটি নিদিষ্ট দিবস উদাপন করে আসছে যার নাম ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। আজ ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে,। আমার শুভার্থী সকলকে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ এর শুভেচ্ছা ও অভিবাদন।

    আজকের দিনটি আবালবৃদ্ধবনিতা সবার হলেও, প্রধানত তারুণ্যের জয়জয়কারই সর্বত্র। এই দিনটি নিয়ে আমার লেখার দেরী হলেও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো নানা ধরনের ট্রলে এবং স্ট্যাটাসে ভরে গেছে।

    অনেকের আবার বক্তব্য, এই ভালোবাসা দিবসে তাদের কোনো সঙ্গী না থাকায় তারা অনেক কষ্ট পাচ্ছেন। ভাবতেই পারছেন না কিভাবে তারা এই দিবসটি পালন করবেন।

    ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ ঐতিহাসীক বর্ননায় মতান্তর রয়েছে। ঠিক কবে, কখন, কোথা থেকে এ ভালোবাসা দিবস উদযাপনের সূচনা তা নিয়ে মতবাদের অন্তঃ নেই।

    কেউ কেউ মনে করেন, ভালোবাসা দিবস পালিত হয় প্রাচীন রোমের প্রেমের দেবী জুনোকে স্মরণ করে। আবার কারো কারো মতে ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হয় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর করুণ হৃদয়- বিদারক প্রেমের কাহিনীকে স্মরণীয় করে রাখতে।

    জানা যায়, ভ্যালেন্টাইন ছিলেন রোমের এক সাহসী ও হৃদয়বান বীর।  তার জীবদ্দশায় রোমের রাজা ক্লোডিয়াস ছিলেন এক নিষ্ঠুর শাসক। হঠাৎ তার ভ্রম হয়েছিল যে, বিবাহিত সৈন্যদের চেয়ে অবিবাহিত সৈন্যরা বেশি কর্মঠ ও শক্তিশালী। এমন মনোভাব থেকে তিনি তরুণ বীরদের বিবাহ নিষিদ্ধ করে দেন।

    তাঁর এই নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে ভ্যালেনন্টাইন্স তরুণদের গোপনে বিয়ে দেয়া শুরু করলে রাজা ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ভ্যালে-ন্টাইনের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল আজকের এই তারিখে অর্থাৎ ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে।

    ঘটনা প্রসঙ্গে লোকশ্রুতিতে রয়েছে যে, কারাগারে থাকা অবস্থায় ভ্যালেন্টাইন এক কারারক্ষী নারীর প্রেমে পরেন। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে সে তাঁর প্রেমিকাকে একটি মিষ্টি চিঠি লিখেছিলেন যার শেষে লিখেন – ‘ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন’। সেই থেকেই পালিত হচ্ছে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে”  বা ভালবাসা দিবস।

    গবেষণা বলে প্রেমে পড়লে মানুষের আত্মঃবিশ্বাস  বহুগুণে বেড়ে যায়। এর জন্য হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াও সচল হয় যা জীবনে সফলতার ছোঁয়া বয়ে আনে। তাই জীবনের সাফল্যের জন্য একবার হলেও প্রত্যেকটি মানুষ কে প্রেমে পরা প্রয়োজন।

    একথা সত্য যে, কর্মময় জীবনে আমরা সকলেই ব্যাতি-ব্যস্ত, সময় পার করি। আর ভালবাসার মানুষটি হলো সকল ক্লান্তি দূরীকরণের অসাধারন মেডিসিন। যার সংস্পর্শে  ও অতুলনীয় সৌন্দর্যে দিনশেষে মুগ্ধ হয় প্রিয়জনরা।

    অনিন্দন যে, একজন মানুষ প্রেমিক/প্রেমিকা হলে অনায়েশেই সে নিয়মানুবর্তিতায় অভ্যস্ত হয়। ফলশ্রুতিতে তার জীবণে ধীর- স্থীরতা আসে এবং জীবনে সফলতা অনিবার্য হয়ে উঠে।

  • জীবন

    জীবন

    বন্ধু, দেখ চেয়ে ঐ ‘চন্দ্রিমা’
    -অন্ধকারে নির্ভয়
    হাত নেড়ে বার বার,
    জীবনের কথা কয়।।

    গিয়াছ কি তুমি ভুলে?
    -ভাললাগা কাকে বলে!
    বিবসনে ছল-ঢলে,
    ভিজাইয়া আখিঁ-দ্বয়।।

    মিটে নাই আশা
    -বহুরুপির ভালবাসা
    ঘৃনা আর ক্লান্তি,
    পেয়েছ উপহার।।

    জীবনে চেয়েছ যাহা
    -পেয়েছ কি তাহা?
    হিসাব কষে দেখ এইবার,
    আপন মনে মনে ।।

    সময় অতি কম
    -ফেলনা দীর্ঘ দম
    হাত বাড়িয়ে ডাকে ঐ
    কালের কেতন।।

    বুকে রেখে হাত
    বল; বিশ্বাসের সাথ
    বন্ধগলির অন্ধপথ
    কার ভাল লাগে??

    শুন, বন্ধু মহাশয়
    বিভূতিভূষণ, মনস-কামনা
    শ্রী চৈতন্যের,
    চরণ তলে রয়।।

    ঠুটে, মুখের ফাকাঁ বুলি
    -যাকে ভালবাসা বলি
    আসলে, সবই মিথ্যে,
    – জীবনের পরাজয়।।

    বন্ধু, যদি ইচ্ছে হয়
    -ছেড়ে দিয়ে লাজ-ভয়
    নির্ভেয় বুকে রাখ,
    যাকে তুমি ভালবাস, নিশ্চয়।।

    কি হবে ভাবনায়?
    -সময় হলে পার
    অচলার বিনিময়,
    হয় কি বার বার ।।

    বিনিত এই আখিঁ
    -বন্ধুর চরণে রাখি
    শান্তির পরশ খোঁজ
    ভব জ্বালা জুড়াবার।।

    এ, সংসার মায়াপুরি
    -ফাকাঁ তালে ঘুরে মরি
    ভাললাগা-ভালবাসা,
    হয় না, যার তার।।

    ভালবাসা কাছে আসা
    -ক্ষনে ক্ষণে অভিমান
    বিনে সূতোয় বাঁধা মন,
    এতো, জীবনের জয় গান।।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,63432.0.html

  • বিষাদ গদ্য !

    বিষাদ গদ্য !

    আফিমের নেশা করা
    প্রতিক্ষায় প্রাণ,
    এলোমেলো কথা মালায়-
    গায় গীত গান।।

    আকাশের অসীমতা
    কূল-মানহীন যার,
    বলি হরি, ঢলে পড়ি
    আমি তারে পুজিঁবার।।

    হাসিঁমাখা মুখে আমি
    কালিন্দীর নাম লই,
    পুজাঁর ঢালা সাজিয়ে
    অভিরাম দুঃখ সই।।

    স্বপ্ন দেখি, চাদেঁর আলো
    অন্ধ কুটিরে আসি
    সনাৎ ঘটিকায়
    প্রেম ঢালে রাশি রাশি।।

    নগ্নতায় আমার আশা
    বুকের উপর বসি,
    -গর্দান চেপে ধরে,
    তিরস্কারের বলন কষি।।

    নিঃশ্বাস ক্রমশই হয় ক্ষীণ
    তবু. বেহায়া মন,
    চয়নিকার পিছেই ছুটে,
    করে নিলর্জ্জ পণ।।

    দিন কাঁটে কোলাহলে
    -অবুঝ বির্দীণতায়,
    সন্ধ্যায় জেকে বসে,
    যৌবিক জড়তায়।।

    দ্বি-প্রহর, রাত্রিতে
    শুনি, অচেনা শব্দ,
    -সময়ের ধীর চলা
    এ-জীবনের জব্দ।।

    দু,চোখে অশ্রু ঝড়ে
    -কালের গভীরে,
    স্মৃতি গুলো কুড়ে খায়
    শতাব্দীর সমীরে।।

    বেচেঁ আছি এখনো
    এটাই নাকি সত্য !!
    ভাল লাগার পথ ধরে
    -বাচিঁতে-ই, মত্ত।।

    মূলহীন- ভুল চলা
    পঙ্কের পদ্ম,
    বিনা তারে পরশন
    – বিষাদের গদ্য।।

    এটাই বুঝি ইতিকথা
    -অসীমের চেনাপথ,
    আশা নিয়ে উষা আসে
    চিরচেনা অভিমত।।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,64968.0.html

  • স্বপ্নের পাল মেলে !

    স্বপ্নের পাল মেলে !

    কত রাত আমি ঘুমকে দিয়েছি ছুটি
    নিজেই খুঁজেছি নিজের দোষ,
    কোথায় আছে ত্রুটি?

    কেন অভিমান বোঝেনি সে
    করেছে অভিযোগ।
    দেয়নি কখনো নিজেকে গোছানোর
    এতটুকু সুযোগ।

    কেন এত প্রেম, এত মায়া ফেলে
    ভাসালো সে তরী-
    মিছে স্বপ্নের পাল মেলে।

    জল ভরা নদী

    কেন?
    ধূ ধূ বালুচর।
    বন্ধন ছেড়ে কেন সরে দূরে-
    প্রশ্ন ভুরিভুরি,
    উত্তর নিরুত্তর।

    বাস্তবতার নিষ্ঠুর সত্য,
    ছিন্ন যুগল জুটি।
    কত রাত আমি ঘুমকে দিয়েছি ছুটি
    নিজেই খুঁজেছি নিজের দোষ,
    কোথায় আছে ত্রুটি?