Category: শিল্প সাহিত্য

  • `ফেরিওয়ালা’

    `ফেরিওয়ালা’

    কামনা বিলাসী আমি
    চলি, কল্পনার হাত ধরে,
    অনাগত আশা-আবেগী ভাষা
    ফ্রি‘তে, ফেরি করে।।

    পরন্ত অবকাশের স্বর্ণালীছায়
    দাঁড়িয়ে ভাঙ্গা কূলে
    নিলীমার প্রসারনে এখনো-
    মন উঠে দোলে।।

    ভাবণার হাত ধরে
    জীবনের ছবি আকিঁ,
    উর্মিলার কুহুঁ ডাকে
    বসন্ত উঠে জাগি।।

    নীলাম্বর আকাশ হতে
    নীল পরিরা এসে
    চুপি চুপি কথা কয়
    আবেগের ঢেউয়ে ভেঁসে।।

    প্রাপ্তির ধার ঘেঁষে
    চিন্তার গতি পথ-
    থেকে থেকে জেগে উঠে,
    প্রতিকূল অভিমত।।

    তবু আছি বেশ-ঘুরে দশ-দেশ,
    সময় শেষের বেলা,
    প্রমিলারা ‘হাক-ডাকে-
    দাঁড়াও, ‘দুঃখ ফেরিওয়ালা’।।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,64949.0.html

  • বকুল তলা

    বকুল তলা

    যা ছিল মোর
    জীবনের কথা,
    কল্পলোকের গল্প আজ
    -শুধুই ব্যাকুলতা।।

    কামনা-বাসনা ছিল যা
    তৃষিত বুকে,
    দারুন বাস্তবতা
    -তা দিয়েছে রুখে।।

    বিশ্বাস ছিল যাতে
    অগাত-আমরণ,
    বিনে সূতোর ফুড়ি’তা
    -শুধুই অকারণ।।

    বিষন্ন বিভূঁই আজ
    রিদমের সুর,
    দুর্গম গিরি পথ
    -দূর বহু দূর।।

    আজ নগ্নতায় দেহ-মন
    অধর-অথৈই,
    সিনানের সূচীতায়
    -সদা চেয়ে রই।।

    ক্ষণে ক্ষণে পড়ে মনে
    সেই, বকুলের তলার
    সান-বাধানো ঘাট,
    আদর-সোহাগে কাঁটতো
    -কত দিবস-রাত।।

    দুটি হৃদয় কাছে এসে
    তুমি-আমি ভালবেসে
    বিগত হয়েছে
    -কত মিলন-মালঞ্চ ।।

    বলে ছিলে আরো-
    অনিন্দ্য সাধ প্রিয়,
    বুকে বুক রাখি-
    জীবন যাবে, যা-আছে
    -কাল-বাকী।।

    তারপর অচেনা
    এক দৈব হাওয়া এসে,
    বানের স্রোতে
    -তুমি গেলে ভেসেঁ।।

    দিন গেল, মাস গেল
    অচেনা হলে তুমি,
    একাকিত্বের ধারাপতে
    -বেঁচে রইলাম আমি।।

    বহুকাল বহুযুগ
    দিলে উপহার,
    তারপর দ্রোপদির রুপ
    -ফিরিলে আবার।।

    ভেঙ্গে গেল ধ্যান
    মোর-ছিল যা আশা,
    বদির-বিপন্ন আমি
    -কেড়ে নিলে ভাষা।।

    বন্ধু, সেই থেকে
    বড় বিষ, বড় জ্বালা-এই বুকে
    বলে যাই সব
    -যাহা আসে মুখে।।

    আজও বন্ধু, তোমাকে
    হেরি-নেশার ঘোরে,
    অকথা- ছাই মাথা
    -বলি, পাড়া জুড়ে।।

    বিনয়-মিনতি, বন্ধু
    রইল- তোমা দ্বার
    মাতালের এই বুলি,
    কর্ণে নিও না আর।।

    ফিরে এসে,অলি-গলি
    রাখিও পদ ধূলি,
    -যদি মন চায়,
    হারানো সেই বকুল তলায়।।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,64718.0.html

  • সাটুরিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে ‘অদম্য নারীদের পুরস্কার প্রদান

    সাটুরিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে ‘অদম্য নারীদের পুরস্কার প্রদান

    মানিকগঞ্জ সাটুরিয়া উপজেলায় ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে অদম্য নারী পুরস্কার শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট অদম্য নারী সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলা হলরুমে ‘উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইকবাল হোসেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাটুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌমিতা গুহ ইভা, সাটুরিয়া সৈয়দ কালুশাহ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র ঘোষসহ আরো অনেকে।

    অনুষ্ঠান শেষে উপজেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী, সফল জননী নারী, নির্যাতনের দুঃখ স্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারীসহ মোট ৫ জন নারীকে ‘অদম্য নারীদের সম্মাননা’ করা হয় এবং তাদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইকবাল হোসেন ও বক্তারা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন গঠন মূলক বক্তব্য তুলে ধরেন।

  • বাউল শিল্পী আবুল সরকারের জামিন নামঞ্জুর !

    বাউল শিল্পী আবুল সরকারের জামিন নামঞ্জুর !

    ধর্ম অবমাননা ও মহান আল্লাহকে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাউলশিল্পী আবুল সরকারের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ এসকে এম তোফায়েল হাসান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

    এই সময় মামলার শুনানিতে আদালত প্রাঙ্গনে টানটান উত্তেজনা দেখা দেয়। অর্ধশতাধিক আইনজীবী আসামী আবুল সরকারের সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) ফাঁসি ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই বলে মিছিল করেন। এসময় উত্তপ্ত জনতাকেও আদালতের বাইরে অবস্থান করতে দেখা যায়।

    মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পিপি আ.ফ.ম নুরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘বাউলরা যেন ভবিষ্যতে আল্লাহ ও কোরআন না জেনে, না বুঝে মনগড়া বক্তব্য না দেন, সেটি বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা আদালতে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। আদালত আমাদের দেওয়া নথির তথ্য সঠিক পাওয়ায় ওই বাউলের জামিন নামঞ্জুর করেছেন।’

    উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসরে বাউল আবুল সরকার ইসলামধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে কূটক্তি করে কথা বলেন। এতে ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

    ওই মামলায় আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় খালা পাগলীর মেলায় পালাগানের আসরে বাউলশিল্পী আবুল সরকার ইসলাম ও মহান আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা বাংলাদেশে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

     

  • অচিন পাখী

    অচিন পাখী

    দূর-আকাশে উড়িঁয়ে দিলাম
    আমার সুপ্ত ভালবাসা,
    শব্দহীন চোখের জলে
    -খুজঁতে তারে ভাষা।।

    উড়ঁছে মায়া, অন্তগিরি
    ছুটছে জোরে গতি,
    গগণভেদী আকাশ ছেদী
    -ধ্রুব-তারা-জ্যোতি।।

    সপ্তরেখার দূর-নীলিমায়,
    দূরন্ত তার ছায়া,
    দিক ছড়িয়ে মাঠ পেরিয়ে,
    -দৃষ্টি কারা কায়া।।

    শূন্যে উড়ে শূন্যে ঘুরে
    শূন্যে তাহার বাস,
    নীলপরীদের মন মাতিয়ে
    -মিটে তাহার আশ।।

    হৃদ-আকাশে বাধঁনছেদী
    বিশাল ভূবন পেয়ে,
    নাচে-পাখী, ফিরে ঘুরে
    -সপ্ত রঙ্গ গেয়ে।।

    আধাঁর কালো আমার আকাশ
    নিত্য ঝড়ে বারি,
    পুরনো সেই স্মৃতি কথা
    -প্রেম-বিরহে তারই।।

    ফিরি গেয়ে জগৎ ধেয়েঁ,
    গীত বিরহী প্রাণ,
    অচিন পাখীর অচিন ভাষা,
    -অচিন ছিল-গান।।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,62839.0.html

  • স্রোতস্বিনী’

    স্রোতস্বিনী’

    হে স্রোতস্বিনী’,
    তুমাকেই খোজেঁ মরি
    জগৎ প্রবাহদ্বারে
    করুনার ভিক্ষা মাগি- ‘হে প্রিয়’
    দাও, বাহু দু‘খানি বাড়িয়ে।।

    তুমারী তরে ভিখারী আমি
    আজ, রাজন-রজত ঘুরি,
    স্বপ্ন দেখি, অ-দেখারে
    মানস- কল্পনা জুড়ি।।

    হে প্রিয় মোর, আধাঁরের-আলো
    – প্রদীপান্ত আশা,
    অশুচিতার-শুচীপত্র
    -বিশ্বাস-ভালবাসা।।

    মনিকা তব, তোমা-নগ্ন বক্ষে শুয়ে
    চির-নিদ্রায়-কেটে যাক
    মহাকাল, মহাযুগের বৈরীতা –
    মিলন মহীরূহে।।

    ধূ‘সর বীনার তার
    এই ধরা পরাগ দুলে,
    মিলডীর বিতান ছড়াক
    ধূপ- নহর তুলে।।

    ভালবেসে তুমি-আমি
    ফিরে যাই, মৃত্যুর কাছাকাছি
    যেথায়, বিপন্ন ধারা বয়ে-
    আসা-যাওয়ার, কালস্রোত।।

     

     

  • ‘পিপাসু’

    ‘পিপাসু’

    বেশ্যার প্রেমে পড়ার ইচ্ছা
    -অনেক দিন থেকেই
    যারা `নটির’ তকমা নিয়ে
    জীবনের হাটে জীবিকা চালায়।।

    ‘দেহ’ পয়সার দরে বিক্রি করে
    তপ্তদেহের জ্বালা মিটায়
    ‘নগ্ন বুকের হিংস্র থাবায়’
    -হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণে।।

    লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে
    নিতম্ব দুলিয়ে ‘পসরা’ জমায়
    অনাদরের ‘পতিতার বাজারে’
    -আনন্দের আদিম হাটে।।

    ভালবাসা, আশা ও অভিলাশ কে
    নিত্যই, কংসের বাহুতে সপে দেয়
    দু‘মোঠু অন্নের আশায়-
    নষ্ট মানুষের নষ্ট ভালবাসায়।।

    অন্ধবিশ্বাসে, অর্থের মাপকাটিতে
    জীবনের হিসাব কষে,
    ‘মীরাবাঈদের প্রতিছবি নিয়ে
    একদিন আমরাও স্বর্গ দেখবো বলে !

  • `শারদীয় দূর্গোৎসব’

    `শারদীয় দূর্গোৎসব’

    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আনন্দ আয়োজন শারদীয় দূর্গোৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশাল জনগোষ্ঠীর অনেক আনন্দ, উল্লাস এবং বিনোদনের আনুষ্ঠানিকতা লক্ষ করা যায় এমন উৎসবে। শুভ মহালয়া থেকে চণ্ডীপাঠ, মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানায় ভক্তকুল।

    অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার করার লক্ষ্যে মর্ত্যে আসে দেবী দুর্গা। তাদের পূজা মণ্ডপে মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী এবং মহানবমীতে সকল হিন্দু সম্প্রদায় অর্থাৎ হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করে।

    বলা দরকার, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী দুর্গা পূজার দিন ক্ষণ গণনা শুরু হয় মহালয়ার দিনে অর্থাৎ ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবে আনন্দকে কেন্দ্র করে। তাই এ দূর্গোৎসব হিন্দুদের অবশ্যই বিশুদ্ধ পঞ্জিকার আলোকেই নির্ধারণ করা হয়। শারদীয় দুর্গোৎ​সবের শুভ দশমীটাই তাদের কাছে শেষ দিন।

    আর এই শুভ বিজয়ার দশমীতে পূজা সমাপন করে এবং দেবী দুর্গাকে বিসর্জনে ব্যাস্ত সকল হিন্দু সম্প্রদায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে তারা এদেশ ও সারা বিশ্বে ৩০ সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মীয় জনগোষ্ঠী সকল মানবের চাহিদাকে পুরনের লক্ষে সর্ব বৃহৎ দেবী দুর্গাকে মণ্ডপে দাঁড় করানোর বাসনায় জাগ্রত হন।

    পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তারা মহানবমী উপলক্ষে অনেক পূজা মণ্ডপে আরতি প্রতিযোগিতা এবং প্রসাদ বিতরণ করে। দশমীতে সব মণ্ডপে থাকে বিষাদের সুর। কারণ, তাদের শুভ বিজয়া দশমীর এই দিনে দূর্গাকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে স্বামী গৃহে ফিরে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা।

    সুতরাং এই দিনে বাহির হয় ভক্তদের শোভাযাত্রা, দেবী দুর্গাকে বিদায়ের মাধ্যম হিসেবে জলে নৌকা নয়তো স্হলে রংবে রংয়ের ট্রাকে সাজ সজ্জা ঘটিয়ে আনন্দ উল্লাস করে হিন্দু সম্প্রদায়। বিদায় বেলায় শত সহস্র ভক্তদের আনন্দ-উল্লাসে আর বিজয়ার অশ্রুতে আকাশ বাতাস কম্পিত হয়ে উঠে।

    দেবী দুর্গাকে স্বর্গালোকে এমন বিদায় দেয়ার আয়োজন সত্যিই সনাতন বিশ্বাসী ধর্মাবলম্বীদের গভীর আত্তায় শঙ্খ ধ্বনি এবং ঢাকের তালে তালে কম্পিত হয়। তাদের এমন দেবী দূর্গাকে বিদায়ের সুরের সাথে সঙ্গী সাথী করে গবীব দুখীকে।

    তবে এবারে দূর্গা দেবীর বিদায় নেওয়াটা অবশ্যই ঘোটক বা ঘোড়া কেন্দ্রিক অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে দেবী দুর্গা গমন করবে স্বর্গালোকে। সেহেতু এমন বিদায়ের ফল শ্রুতিতে অনেক রোগ-ব্যাধি বাড়বে বৈকি এবং অনেক ফসল নাকি নষ্টও হবে। সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের এমন ধারনা এবং তাদের বিশুদ্ধ পঞ্জিকায় তার যথাযত সত্যতার প্রমাণ মিলে।

    তবে দেবী দূর্গা এসেছিল নৌকায় চড়ে, ধর্মের আদর্শ বার্তা নিয়ে বছর ঘোরে বারংবার দেবী দূর্গা আসে মর্ত্যলোকে অর্থাৎ পৃথিবীতে। এজগতের মঙ্গল কামনায়, তাই বিশ্বাসী হিন্দু সম্প্রদায় বলেন, এমন আগমনের ফলেই অতি বৃষ্টি ও শস্য বৃদ্ধি হবে।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় এমন অনন্দে ঘরে ঘরে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে আপ্যা-য়নে তৈরী করে জল-তিল-অন্ন। এমন উৎসর্গ তাদের অনেক আনন্দ দান করে। তারা মনে করে, পিতৃ পক্ষে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আসে। মৃত আত্মীয়-পরিজন এবং তাদের পূর্ব পুরুষদের আত্মার প্রতি মঙ্গল কামনা করার একটি শুভ দিন।

    সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীরা এই দেবীপক্ষকে সবচেয়ে শুভ দিন মনে করেই নতুন নতুন পোষাক ও সামর্থ্য অনুযায়ী ভাল ভাল খাবার তৈবী করে। এ সময় তারা সব ধরনের শুভ কাজ সম্পন্ন করে থাকে। পুরাণের কথায় বলা যায়, অসুর শক্তির নিকট পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিল। চারদিকে অশুভের প্রতাপ। তাই এ অশুভ শক্তিকে ধ্বংস বা বিনাশ করতেই একত্র হন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হয়েই এক মহা শক্তির আবির্ভাব।

    সুতরাং সেই দেবতাদের তেজরশ্মি থেকেই আবির্ভূত এক বৃহৎ শক্তি তিনিই হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা। পুরাণ মতে বলা যায়, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেছিল। বসন্তে তিনি এ পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রীরামচন্দ্র দুর্গা পূজার আয়োজন করেছিল।

    শরৎ কালের এ পূজাকে হিন্দুদের মতে বলা চলে, অকালবোধন। তাদের ধর্ম মতে, এ দিনেই দেব-দেবীকুল দুর্গা পূজার জন্য নিজেদের জাগ্রত করে। মহালয়ার দিনে সূর্য উদয়ের আগেই শঙ্খধ্বনি এবং চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মন্দিরে মন্দিরে নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সকল হিন্দু সম্প্রদায় দেবী দূর্গাকে আবাহন জানায় এবং উল্লসীত সুরেলা কন্ঠে জয়ধ্বনি তোলে “দূর্গা মাইকি জয়”।

    মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম,  প্রধান সমুন্বয়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি, সাটুরিয়া উপজেলা শাখা ।

  • চির সনাতন

    চির সনাতন

    বাজিছে ব্রহ্মশির, পশুপত, বাসবী, তোমর ধ্বণি
    উচ্চ স্বরে, বীর-বারুন, শকুনী-তরুনের গর্জনী।

    অন্যায়-এ, শানিত ত্রিশূলের ধার-
    খর্ব করিব, নিলাম দেবতার বর ।

    সেনাপতি অর্জুন দম্ভ করি ; হাকিল সৈন্য দল,
    প্রজ্ঞা লহ; বীনাপানির স্বরণে-
    আদেশ লহ শিরে, তব ভগবান রামে,
    সীতা উদ্ধারে, ধীক রাবনের হীন কামে।

    ভগবান রাম স্থীর, স্তদ্ধ; তব প্রাণ-বিষন্ন পত্নী শোকে-
    কি করে রাখিবে আজ তব সত্যের মান ।

    অর্ন্তযামি দিব্য দৃষ্টিতে দেখিলেন-মহাভারতরণ
    সত্যের বিজয়ে আজ হনুমানের সাহায্য প্রয়োজন ।

    সভাসদ নারাজ, বনের পশু- ক্ষুদ্র-অতি নগন্য,
    তার কি প্রয়োজন? থাকতে মহাবীর-বরেণ্য ।

    চলিল, সৈন্যদল আগে-পিছে লয়ে মহারথীবল
    লংকার শুচি, রাবন-মস্তক ছাড়িল বিষাদ-বারি/জল।

    সৈণ্যদল দেখে, অসীম জল রাশি চৌ-দিকে ঘেরা
    সতী মাতা সীতাসাধবী বন্দি তব দুর্যর্ধন দ্বারা।

    নাই কূল-পথ-পার, আর কি উপায় ?
    উঠিল ক্রন্দন সৈণ্যদলে ভিতরে হায় হায়!!
    বড়-ধড়, বড় বাহু; অসস্থি দরবার-
    সকলেই বিফল, বিষন্ন উপায় নাই আর!

    পিছন হতে সহসা হনুমান করিল রাম-ধ্বনি
    মিলল স্বদলে বানর, অরণ্যে হতে লতাপাতা আনি-
    ফেলিছে সিন্ধুসম জলে!! নিমিষেই হইল রাস্তা-

    চলিল, সৈণ্যদল বীরর্দপে করিতে লংকাজয়
    দেখিল, সীতাবন্দি দ্বি-তলায়, চৌ-দিক অগ্নিময় ।

    কেউ না পারে যেতে হেথা, হয়ে অগ্নি-পার
    সকলেরই চিৎকার বানরের বড়ই দরকার ।

    জীবন বাজি রেখে হনুর দল-
    সীতাকে উদ্ধার করিল হইতে দ্বি-তল’
    হইল জয়-জয়কার:  অশুভ বারন পরাজিত;
    বীর সেনাপতিরা পুরস্কার নিতে রাজগীরে আগত ।

    সকলেই পাইল মনি-মানিক্য আর গজ-মতিহার
    সীতা উদ্ধারে হনুমানের রয়েছে কি পাইবার-??

    রাজ সভায় উঠিল সহসা ধ্বনি!!
    অংগুলি নির্দেশে ভগবান বলিলে-সীতা গুণমনি।

    তৎক্ষণিক মাতা সীতা নিজ গলার হার
    ছুড়িয়া ফেলিলেন বানরের গলে তার ।

    হনুর দল পাইয়া বীরের পুরস্কার-
    শুকিয়া-চিবাইয়া ছিড়িয়া ফেলিল সকলই তার ।

    সভাসদ দলে হাসে সকলে, এর কি প্রয়োজন!!
    বানরের গলে- কেন মুক্তার আয়োজন??

    হনুমান ছড়িয়া চোখে পানি বলিল- বীনাপানি
    বলিতে চাহি আজ কিছু, খুলে দাও জবান খানি ।

    ভগবানের বড় কৃপা; সহসা খুলিল জবান-
    বলিল হনু,-অমূল্য রত্নে আমার নাই প্রয়োজন?

    আমি ভালবাসি মোর আদি পিতা-
    জপি তব- রাম, রাম -ভালবাসার প্রয়োজনেই
    -বাচাঁয়াছি মাতা সীতার প্রাণ ।

    আমি অতি ক্ষুদ্র-নগন্য জানি-তব মোর ভালবাসা,
    অতল অসীম -সিন্ধু সম দামি ।

    বলিল সভাসদ দল-পরীক্ষা দিতে হবে ?
    ভালবাসার অতল-অসীমতা-
    যাতে রয়েছে পূর্ণ-ভক্তি, ব্রতা ।

    হনু দেখাতে সে প্রেম-ভক্তি, ভালবাসা
    নিজের পাজঁর ফারিয়া দেখাইল সেথা
    -ভগবান রামের ছবি আকাঁ।

    সভাসদ দলে, যত ছিল গুণি, মানি –
    জয়ধ্বনি উঠিল- ভালবাসা-ই দামি ।

    কাল জয়ী সেই ভালবাসা-জন্ম-জয়ন্তে ঘেরা
    পবন-নন্দন হলেন, সনাতনের সেরা।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,62871.0.html

  • হারানো সুর !

    হারানো সুর !

    তোমার যত দান
    বন্ধন-ভেরী- শৃংখল,
    গিয়াছে আজ মুছেঁ-
    নদের-নদিয়া পড়েছে টুঁটে।।

    ভালবাসার যত কথা
    অ‘মুখ ভাবনা-বিলাশ,
    বিরাগ-রাগীনি তলে
    হয়েছে বিনাশ।।

    হাতে-সাথে, বুকে-মুখে
    যত ছিল আশা-
    সকলই সুদূর অতীত
    মিছে ভালবাসা।।

    যত ছিল প্রেম
    হেরী; মম কল্পলোক
    স্বরুপ, বাসনা-পরম
    দু‘লোক-ভূ‘লোক।।

    আজ, ছায়াহীন কায়ায়
    চলছি জীবন রথে-
    আগে-পিছে পাল্লা দিয়ে
    মরনের পথে।।

    ধরণীর রুপ-রস যত
    ছিল, পথিক পরিজন-
    সকলই আজ বিমুখ-বিষন্ন
    কালের আয়োজন।।

    যত ভাবনা, আশা-ভাষা
    হৃদয়ের রক্ত ক্ষরন-
    আপনি আপনাতে
    করেছি সমর্পন।

    তবু লীলা, ধূলি তলে
    গড়িতে সিন্ধুগিরি-
    জনম জনম ফিরিব, পিয়াসে
    স্বর্গ-মর্ত্ত্য জুড়ি।।

    যদিগো, কোন দিন
    অসার অবেলায় প্রিয়
    মনে পড়ে মোরে,
    করিও ক্রন্দন গীত
    নিরব নির্জনে।।

    ভাবিব, আমি আছি
    তব তুমা হিয়া তলে-
    আসার জগত যদিও যাক
    মোরে‘ ভুলে।।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,62781.0.html