Blog

  • রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মসূচি দুঃখজনক-রেলপথ উপদেষ্টা

    রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মসূচি দুঃখজনক-রেলপথ উপদেষ্টা

    বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মসূচি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষই বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রেন চলাচল বন্ধের পর সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

    উপদেষ্টা বলেন, স্টাফদের দাবির বিষয়ে আমাদের আলোচনার দরজা সব সময় খোলা রয়েছে। প্রয়োজনে আমরা তাদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করব এবং অর্থ বিভাগেও তাদের এ দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনা করব।

    তিনি বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি যাতে কম হয় সেজন্য ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি। এরপরও কোনো যাত্রী যদি স্টেশনে আসেন তাদের সুবিধা বিবেচনা করে আমরা বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরিফ প্রমুখ।

  • শৌলপাড়ায় চাঁদা না পেয়ে প্রতিবন্ধীর জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগ

    শৌলপাড়ায় চাঁদা না পেয়ে প্রতিবন্ধীর জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগ

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুর সদর উপাজেলার শৌলপাড়ায় চাঁদার টাকা না পেয়ে প্রতিবন্ধীর জমি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ইদ্রিস বেপারী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ করেছে প্রতিবন্ধী প্রতিবেশি বিএম জসিম ও তার পরিবার। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বররসহ শালিশগণ তিন মাসের মধ্যে প্রতিবন্ধীর জমি দখলমুক্ত করেদিতে সিদ্ধান্ত দেয়। সেই থেকে ১ বছর পার হলেও তা মানতে নারাজ চাঁদাবাজ ইদ্রিস বেপারী। ইদ্রিস বেপারীর বৈধ কোন আয়-রোজগার না থাকলেও এলাকায় চাঁদাবাজী করে দিব্যি প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার সাথে প্রভাবশালী নেতাদের সখ্যতাও রয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন।

    চাঁদার টাকা দিতে না পারায় দীর্ঘদিনেও দখলকৃত জমি মুক্ত করতে পারছে না প্রতিবন্ধী বিএম জসিম। স্থানীয় শালিশী ও চেয়ারম্যানের নির্দেশ উপেক্ষা করা এবং চাঁদা ব্যতিত জমি দখল মুক্ত করতে না পারায় জেলা প্রশাসন সহ পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটি।

    ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া মৌজার ৪২৫ নং দাগে প্রতিবন্ধী বিএম জসিমের ১৮ শতাংশ জমি রয়েছে। সেই জমির একটা অংশ প্রতিবেশী প্রভাবশালী ইদ্রিস বেপারী দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে। অনেক মাপামাপি ও শালিশী হয়েছে। উদ্রিস তার দাবীকৃত টাকা না পেলে জমি দখলমুক্ত করবে না।

    তারা আরো জানায়, জসিম প্রায় ৩ বছর পূর্বে ইউপি মেম্বার দুলাল মোল্যা, শালিশকারী আজগর মুন্সী, মিন্টু খানসহ স্থানী গণ্যমান্যদের কাছে যায়। তারা জমি দখলমুক্ত করতে সিদ্ধান্ত দেয়। তার পরেও ইদ্রিস বেপারী কাঙ্খিত চাঁদা না পেলে জমি ফিরিয়ে দিবে না বলে জানিয়েছে। পরে প্রতিবন্ধী বিএম জসিম স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভাষানীর স্মরনাপন্ন হয়। চেয়ারম্যান ১ বছর পূর্বে ইদ্রিসকে প্রতিবন্ধী জসিমের জমি ৩ মাসের মধ্যে দখলমুক্ত করতে বলেন। বছর পার হয়ে গেলেও অদ্যবধি সে প্রতিবন্ধীর জমি দখলমুক্ত করেনি।

    এই বিষয়ে টাকা দাবী করা ইদ্রিস বেপারী জানায়, জেলার বড় বড় নেতা, চেয়াম্যান ও ঢাকার আইনজীবীদের সাথে তার সখ্যতা রয়েছে। সে কাঙ্খিত টাকা না পেলে জমি দখলমুক্ত করবেন না।

    শালীশ মীমাংসাকারী আতাউর রহমান তালুকদার বলেন, বিএম জসিম ও ইদ্রিসের শ্বশুর পরিবারের মধ্যে একটা আর্থিক লেনদেন ছিল। সেই বিষয়ে আদালতে মামলা হয়। দাবীকৃত সমুদয় টাকা পেয়ে বাদী সেই মামলা তুলে নেয়। বর্তমানে জসিমের সাথে ইদ্রিসের কোন বিরোধ থাকার কথা না। কেন ইদ্রিস জমির দখল ছাড়ে না তা জানি না।

    ক্ষতিগ্রস্থ ও প্রতিবন্ধী বিএম জসিম বলেন, আমি প্রতিবন্ধী হওয়ায় সরকারী ভাতা খাই। ইদ্রিস চাঁদার জন্য আমার জমি দখল করে রেখেছে। চাঁদা না দিলে জমির দখল ছাড়বে না বলে জানিয়েছে। আমি কোন উপায় না দেখে চেয়ারম্যান-মেম্বার ও স্থানীয় শালিশদের কাছে যাই। ইদ্রিস তাদের মানতে নারাজ। এখন ভাবছি আইন আদালত ও প্রশাসনের কাছে যাবো। ইদ্রিসের বৈধ কোন রোজগারের পথ না থাকায় চাঁদাবজী করে চলে। এলাকায় সবাই জানে। এবার আমি তার খপ্পরে পড়েছি।

    এই বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার দুলাল মোল্যা জানায়, আমরা শালিশী করে বিষয়টি মীমাংসা করি। সীমানা পিলারও স্থাপন করে দেই। প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হতে চলছে এখনও ইদ্রিস বেপারী জসিমের জমির দখল ছাড়ছে না।

    শৌলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাষানী জানায়, বছর খানেক পূর্বে প্রতিবন্ধী জসিম আমার পরিষদে এসে ইদ্রিসের বিরুদ্ধে বিচার দেয়। পরে উভয় পক্ষদের ডেকে সামনাসামনি করি। তাদের কথা শুনি। জসিমের জমি থেকে ৩ মাসের মধ্যে ইদ্রিসের রান্নাঘর ও টয়লেট সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেই। বছর পাড় হয়ে গেলেও ইদ্রিস তা সরিয়ে নেয়নি। কেন সরিয়ে নেয় না ইদ্রিসকে ডেকে তা জানতে চাইব।

  • কুলাউড়ায় সীমান্তে ঢুকে বাংলাদেশি যুবককে কুপিয়ে হত্যা !

    কুলাউড়ায় সীমান্তে ঢুকে বাংলাদেশি যুবককে কুপিয়ে হত্যা !

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সীমান্তে ঢুকে এক বাংলাদেশি যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয় কয়েকজন নাগরিক। রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের দশটেকি (নতুন বস্তি) এওলাছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের নাম আহাদ আলী (৩৪) । তিনি কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের এওলাছড়া বস্তি এলাকার ইউনুছ আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতীয় কয়েকজনের সাথে কথা-কাটাকাটি হয় বাংলাদেশি নাগরিক আহাদ আলীর। এক পর্যায়ে ভারতীয় নাগরিক হায়দার আলী ও তার সহযোগীরা আন্তর্জাতিক সীমানা রেখার ১০৮৩ এর ৩৪ এস এর ৫ গজ ভেতরে ঢুকে আহাদ আলীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে ফেলে রেখে যায়।

    পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    সীমান্তবর্তী এলাকা শিকড়িয়া গ্রামের ইউপি সদস্য শাহীন আহমদ জানান, ভারতীয় নাগরিক হায়দার আলীর সাথে নিহত আহাদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে জায়গা নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের বিরোধে রয়েছে কিনা তা জানা নাই।

  • আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমণি !

    আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমণি !

    গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক দিনের মাথায় জামিন পেয়েছেন নায়িকা পরীমণি। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টায় আত্ম-সমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসেন তিনি।

    তার পক্ষে অ্যাডভোকেট নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুনাইদের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

    এর আগে গতকাল আসামি পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এ মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    মধ্যে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

    বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন।

  • হকার হত্যা মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এনামুর

    হকার হত্যা মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এনামুর

    রাজধানীর মিরপুরে হকার সাগর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

    এদিন দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

    আসামিপক্ষে আইনজীবী প্রাণনাথ রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে রবিবার (২৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    মামলার সূত্রে জানা যায়, ১৯ জুলাই মিরপুর গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন হকার সাগর। তখন এলোপাতাড়ি গুলিতে মারা যান তিনি।

    এ ঘটনায় ২৭ নভেম্বর নিহতের মা বিউটি আক্তার বাদী মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। এ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪২ জন আসামি করা হয়েছে।

  • ঢাবি ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

    ঢাবি ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও ঢাকা কলেজের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্ন এবং কোনভাবেই যেন সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য তারা এ আহ্বান জানিয়েছে তারা। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল রবিবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত উভয় প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। যা সত্যিই দুঃখজনক।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সম্প্রতি ছোটখাট ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সংঘাত বাড়তে দেখা যাচ্ছে। প্রায়ই আকস্মিক সৃষ্টি হওয়া এসব সংঘাতের ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষ। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থাপনার ঘাটতির বিষয়টিও আমরা লক্ষ্য করেছি।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ রাকিবসহ শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ নির্মম হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের নির্বিচার হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

    এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্ন না ঘটার পাশাপাশি কোনোভাবেই যেন সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

    একই সঙ্গে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের প্রতি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে যাওয়ারও আহ্বান জানানো হচ্ছে।

  • স্থানীয় শিল্পসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে-বাণিজ্য উপদেষ্টা

    স্থানীয় শিল্পসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে-বাণিজ্য উপদেষ্টা

    চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় শিল্পসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। একইসঙ্গে তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভ্যাটের আওতায় নিয়ে আসা এবং আনফর্ম ট্যাক্স রেট বা অভিন্ন করহার চালুর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    সোমবার (২৭ জানুয়ারি) নগরীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘রিফর্মস ইন কাস্টমস ইনকাম ট্যাক্স অ্যান্ড ভ্যাট ম্যানেজমেন্ট টু অ্যাড্রেস দ্য এলডিসি গ্রাজুয়েশন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেমিনারে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তর-ণের প্রেক্ষাপটে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দক্ষতা বাড়ানো অত্যাবশ্যক। একই সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত হবার লক্ষ্যে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

    অর্থ উপদেষ্টা তার বক্তৃতায় আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পাশপাশি বেসরকারি খাতকেও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সম্প্রতি অনুমোদিত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে ইআরডি সচিব জনাব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির সময়মাফিক ও কার্যকর বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। এর জন্য অন্যান্য সংস্থাভিত্তিক এই ধরনের আরও মাল্টি স্টেকহোল্ডার ডায়ালগের আয়োজন করা হবে বলে তিনি সেমিনারে উল্লেখ করেন।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব মো. আব্দুর রহমান খান সেমিনারে তার বক্তৃতায় ট্যাক্স এক্সপেনডিচার বা কর প্রদান সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক খরচ কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    কর্মশালায় প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য এ কে এম বদিউল আলম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ারডার্স অ্যাসোসিয়েশানের প্রেসিডেন্ট জনাব কবির আহমেদ।

    সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ার-ম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য হোসেন আহমদ ও জনাব মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

     

     

  • কিছু চেয়ার দিয়ে ছাত্রদের কিনে যাবে না- হাসনাত আব্দুল্লাহ

    কিছু চেয়ার দিয়ে ছাত্রদের কিনে যাবে না- হাসনাত আব্দুল্লাহ

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার গণঅভ্যুত্থানের সময় আমাদের কিনতে পারেনি। এখন যারা ভাবছেন সংসদের কিছু চেয়ার দিয়ে ছাত্রদের কিনে ক্ষমতা দখল করবেন, তারা ভুল ভাবছেন। ক্ষমতার দিকে যারা যেতে চাচ্ছেন, তাদের বলি, আপনারা ক্ষমতার দিকে না গিয়ে জনতার দিকে আসুন। আমরাও আপনাদের পাশে থাকবো।

    সোমবার (২৭ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ সড়কের পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘রাইজিং চুয়াডাঙ্গা’ শীর্ষক ছাত্র-জনতার মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাফফাতুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সভায় ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র, আন্দোলন এবং সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোল্লা এহসান এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির ঢাকা মিরপুরের সদস্যসচিব গোলাম রাব্বানী।

     

  • একজন ছমির মোল্ল্যা !

    একজন ছমির মোল্ল্যা !

    এক.
    সকাল থেকেই টিনের চালে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। বিছানায় ‘দ’ আকারে পাতলা কাঁথা গায়ে শুয়ে আছে ছমির মোল্ল্যা। সকালের এই মিষ্টি ঘুম থেকে বৃষ্টির শব্দের কারণেই তার উঠতে ইচ্ছা করছে না। মাথার ভিতরে ঝিম ঝিম করছে ভোর রাতের স্বপ্নটা! শাপলা বিলে নৌকা থেকে সে পড়ে গেছেন, তার নৌকা ভেসে যাচ্ছে, সে জড়িয়ে যাচ্ছে জল শেওয়াতে। এতটুকুই তার মনে পড়ছে। কিন্তু শাপলার বিলে তার যাবার কথা না। সেই ছোট বেলায় শাপলার বিল ছেড়ে এই করিমগঞ্জে চলে আসা হয়েছে। এরপরে আর কখনই শাপলার বিলে যাওয়া হয়ে ওঠে নি তার। এত বছর পরে আবার শাপলার বিল স্বপ্নে দেখে তার মন ব্যকুল হয়ে উঠেছে। খোয়াব নামার বইয়ে ছমির পড়েছে ভোর বেলার স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়।

    অন্যদিন এত বেলায় পাখির ডাক শোনা যেত কিন্তু আজ বৃষ্টির কারনে পাখির ডাকও শোন যাচ্ছে না। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, সঙ্গে মেঘের গুড়ুম গুড়ুম শব্দে ছমির পাশ ফিরিয়ে শুলো।

    আজ সোমবার। কিস্তি দেবার তারিখ। কিন্তু কিস্তির পুরো টাকা তার যোগাড় হয় নাই। কাল বেশ কিছু জায়গায় চেষ্টা চালিয়েও সে সব টাকা যোগাড় করতে পারে নাই।

    খাও না খাও কিস্তি দেওয়াই লাগবে। দশ বছরের লতিফা টাইফয়েড জ্বরে পড়লে ক্ষুদ্র ব্যাংক থেকে দশ হাজার টাকা লোন নেয় ছমির মোল্লা। বর্ষার সময় জোগালের কাজ কম থাকে, তাই এই সপ্তাহের কিস্তির টাকা তার জোগাড় হয় নাই। ছমির মোল্ল্যা নাম তার। শাপলার বিলের মোল্ল্যা বংশের ছেলে সে। কারো টাকা মেরে খাওয়া কোন ইচ্ছাই তার কোন কালে ছিল না। আর বেঁচে থাকতেও সে ইচ্ছা হবে না।

    সেবার কদম আলীর দোকানে তার বত্রিশ টাকা বাকি হয়েছিল। গ্রামের দোকান ছেড়ে গঞ্জে নতুন দোকান দেয় কদম আলী। দু’মাস পরে ছমির মোল্ল্যা গঞ্জে গিয়ে তার পাওনা টাকা দিয়ে আসে। কদম আলীর সেকি হাসি! হাসে আর বলে কত জনের কাছে কত টাকা পামু তা দেয় না, আর মিয়া তুমি এতদূর আইছ আমার বত্রিশ টাকা দেবার জন্য। তার সততার এমন আরো দশ-বারোটা কান্ড গায়ের লোকের জানা আছে। কিন্তু ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে তার এই সততার কোন দাম নাই। গ্রুপের সাবার সঙ্গে তার টাকাও দেওয়া লাগবে। ম্যানেজারে কোন ভাবেই বোঝানো যাবে না, বর্ষায় চারিদিকে পানিতে ভরে গেছে। এখন জোগালের কোন কাজ নেই।

    গোয়ালের গরুর বিরতীহীন হাম্বা হাম্বা ডাকে আর শুয়ে থাকতে পারল না ছমির মোল্ল্যা। ঘুম থেকে উঠেই বৃষ্টিতে ভিজতে মন না চাইলেও কোন উপায় ছিল না। এক টুকরো উঠান পার হয়ে গোয়াল ঘরের দিকে এগিয়ে যায় সে। গরুর দিকে চাইতেই তার মন খারাপ হয়ে যায়। বর্ষার পানিতে মাঠ ঘাট ভরে যাওয়াতে অবলা গরুটা যে ঘাস খেতে পারছে না, শরিরের হাড় গুলোই সেই সাক্ষি দিচ্ছে। গোয়ালের মাঁচায় গুঁজে রাখা কাঁচিটা হাতে তুলতে যাবার আগে বেশ টাইট করে পরনের লুঙ্গিটা কাঁছা দিয়ে নিল সে। কোমরে বেধে নিল তেল চিটচিটে গামছাটা।

    গায়ের গেঞ্জি খুলে গোয়ালের আড়ে গুজে রেখে টিপটিপ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বিলের কচুরিপানা কাটাতে যাবার জন্য পা বাড়ালো সে। পিছন থেকে রাবেয়ার গলা ভেসে এলো। ভিজা কাঠে ফু দিয়ে আগুন জ্বালানো চেষ্টায় ধোঁয়ার মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে রাবেয়া। স্বামির দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে চোখ ঢাকার চেষ্টা করে বলে উঠল-

    গায়ে সরিষার ত্যাল মাইখা তারপর পানিত নামতে যান। বর্ষার এই পানির কামড় শরিলের জন্য ভাল না। তা ছাড়া সকাল সকাল বৃষ্টিতে ভিজতাছেন। জ্বর আসলে কিন্তু কিছু করার থাকবো না।

    রাবেয়ার কথার কোন উত্তর না দিয়ে সজোরে পা চালায় ছমির মোল্ল্যা। রাবেয়ার চোখের সিমানা ছাড়িয়ে সে চলে আসে বিলের পাড়ে। তার আগেও যে আরো কেউ কচুড়িপানা কেটে গেছে তা দেখে মাথাটা একটু গরম হয়ে গেল তার। পাড়ের কাছে আর কোন কুচরি অবশিষ্ট নেই। তার জন্য যা আছে তা কাটতে কম করে বুক পানিতে নামতে হবে। এই কাজে দেরি করলে নৌকা নিয়ে আসা বদরের ছোট ছেলে বাকি কচুরিও কেটে ফেলতে পারে।

    তাই সে আর দেরি না করে কাঁচি হাতে বিলের পানিতে নেমে পড়ল। মুঠি মুঠি কচুরির পানা কাটতে কাটতে নিজের মনেই সে আওড়ে যাচ্ছে, জমিদারের ব্যেটি কয় কি জ্বর আসলে কিছু করার থাকবে না। ব্যেটি কি ডাক্তার নাকি যে কিছু করবি। আমারে নিয়ে তার চিন্তার শেষ নাই! আজ যে সোমবার, ব্যাংকের কিস্তি দিতি হবি সেই চিন্তা কি তার আছে? কত করে কলেম এসব কিস্তি উঠানোর দরকার নেই, সামান্য জ্বর হয়ছে মাইয়ের, ভুপেন ডাক্তারের ঔষুধ খাইলেই ভাল হয়ে যাবে। কে শোন কার কথা। তিন দিনির জ্বর যখন সাত দিনিও যায় না তখন সে পাগল হয়ে গেল। শহরে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে তবেই জমিদারের ব্যাটি ভাত মুখে দিল।

    বৃষ্টি তেজ কয়েক গুন বেড়েছে। বর্ষার পানি ভেদ করে বিলের ওপাড়ের মতলব মুন্সীর ঘরটিও ছমির দেখতে পাচ্ছে না। মাথার উপরে ধোঁয়ার রং এর মেঘ আর চারপাশে সাদা বৃষ্টি। পানির উপর পানি পড়ার শব্দের তালে তালে ছমির মোল্ল্যা কচুরি কেটে যাচ্ছে। বদরের ছোট ছেলে আলালের ডাকে তার নুয়ে থাকা মাথাটা উপরে উঠল। কচুর বড় একটা পাতা মাথায় দিয়ে বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করে নৌকা বাইছে আলাল। বদর তার চাচাতো ভাই। তার দুই ঘর উত্তরে বদরের ঘর।

    ছমির মোল্ল্যার মাথা আজ গরম তার উপর এই ছেলের কথা শুনে তার মাথা আরো গরম হয়ে উঠল। কচুরিপানা কাটছে দেখেও সে জিজ্ঞাসা করল কি কর কাকা? দাঁত খেচি দিয়ে সে উত্তর দিলো, চোহে কি ছানি পড়ছে? দেহ না কি করি। আলাল নিজেকে সামলে নিয়ে প্রতিউত্তর দেয়, এই গুলা কি গরুর জন্য কাটো কাকা? ছমির পান খাওয়া লালছে দাঁত গুলো বের করে, উত্তর দেয়, নিজে খাওয়ার জন্য কাটতাছি। বদের হাড্ডি কুনহানকার।

    মাথার কচুপাতা আরো ভাল করে দিয়ে আলাল বলল, কাকা রাগ কইর না, কাইল বিকালে ত্রিশটা শোলায় বর্শি গাইথা পানিতে ফেইলা গিছিলাম। সকালে আইসে দেহি ছয়ডাতে শইল-টাকি বাঁধে আছে। চারডা বর্শি পাই নাই। তোমার কচুড়িপানার আশে পাশে আছে কিনা তাই খুঁজতি আসলাম।

    আর একটু পরেই ছমিরের কিস্তি, ছেলেমানুষি কার্মকান্ডে তার এতটুকু আগ্রহ নেই। বর্শি খোঁজার ব্যাপারে কোন দৃষ্টিপাত না করে নিজের কাজে মন দিল সে। আলাল এদিক ওদিক খুঁজার চেষ্টা করে নৌকা বেয়ে সামনের দিকে চলে গেল।

    বিকাল পর্যন্ত গরুর জন্য যতেষ্ট খাবার যোগাড় হয়েছে, যদি লাগে বিকালে আরাক দফা কাটা যাবে এই ভেবে পানি থেকে উঠে পড়ল ছমির। পাড়ে বর্ষার নতুন পানিতে সদ্য গজিয়ে ওঠা কমলি শাক নজরে পড়ল ছমিরের। কমলির ঝোলের সঙ্গে ছোট মাছ! ভাবতেই তার জিভে পানি চলে এলো।

    কোমর থেকে গামছা খুলে কচুরি আঁটি বেধে বিলের পাড়ে রেখে কমলি তোলায় মন দিল সে। খানিকবাদে বৃষ্টিতে মাথায় কচুরির আটি ও হাতে কলমিলতা নিয়ে বাড়ির পথ ধরল। পায়ের নিচে নরম কাঁদা প্যাঁক প্যাঁক শব্দে সরতেই মনে মনে ছমির ভাবল, বৃষ্টির মধ্যে নিশ্চই আজ ব্যাংকের স্যার কিস্তি নিতে আসবে না। পরের সপ্তা আসলে আর কিস্তি দিতে কোন অসুবিধাই হবে না। বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র এই তিনদিন তার টানা কাজ আছে। পাশের গ্রামের আদর আলীর বাড়িতে তার জোগালের কাজ করার কথা। একটা ডোরা সাপ দ্রুত বেগে ছমিরের পাশ দিয়ে পাশেই ঝোঁপের মধ্যে মুহুর্তে মিলিয়ে গেলো। ছমির একবার সেদিকে তাকিয়ে মুখ দিয়ে হিস হিস শব্দ করে সামনে এগিয়ে গেলো।

    রাবেয়া তখনও চুলার পাশে বসে আছে। ভাত যখন উথলে গেছে তখন তার ভিতরে আলু আর ঢ্যারশ ছাড়ছে। বৃষ্টির কারণে লতিফা আজ স্কুলে যায়নি। ঘরের বারান্দায় পাটি পেতে সে পাশের বাড়ির আঞ্জুর সঙ্গে লুডু খেলছে। লতিফার চার উঠলেই তার গুটি ঘরে চলে যাবে। আর আঞ্জুর পাঁচ উঠলেই তার পাঁকা গুটি কাঁটতে পারবে। খেলার এই টানটান মুহুর্তে ছমির মোল্ল্যা মাথায় আটি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতেই গরুটা আবার ডাকা শুরু করল। কমলি শাকগুলো রান্না ঘরের বারান্দায় ছুঁড়ে দিয়ে ছুটল গোয়াল ঘরের দিকে। চাঁড়ে কচুড়িপানা দিয়ে গরুটার সারা শরিরে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে সে। লেজ নেড়ে নেড়ে বিরামহীনভাবে সদ্য তুলে আনা কঁচুরি চিবোতে লাগল লাল রংএর দেশি গরুটা। লতিফা এই গরুটার নাম দিয়েছে লালি।

    বৃষ্টি শেষ না হলেও পাতলা হয়ে গেছে। কলপাড়ে গিয়ে নিজে ভাল করে শরির ঘেষে গোসল শেষ করতেই রাবেয়া বলে উঠল, কিস্তির টাকা কি যোগাড় হইছে? ছমির কোন কথার উত্তর দেয় না। পরনের লুঙ্গিটা বালাতির মধ্যে ধুয়ে, হাতে নিয়ে চিপড়ে লতিফার দিকে তাকিয়ে গর্জণ করে খেঁকিয়ে উঠল ছমির, ‘সকাল বেলা স্কুলের নাম নাই। লুডু নিয়া বাইছস কেন?’ আঞ্জু এইমাত্র তার পাকা গুটি কেটেছে। সেই শোকে তার মন ছিল খারাপ তার উপর বাবার এই ধমকের জন্য ছোট মেয়েটা মোটেই প্রস্তুত ছিল না। অপলক চোখে মা’র দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি বিনিময়ে বাবার নামে বিচার দেবার চেষ্টা করলো।

    রাবেয়া প্রতিবাদ করে মেয়ের পক্ষ নিয়ে বলল, ‘ও স্কুলে যাইব কেমনে? হোসেন পাড়ার বাঁশের পুল ভাইঙ্গা গেছে। সেই সঙ্গে খালের পানিতে স্রোত বাড়ছে। ও ছোট মানুষ একা স্রোত পার হইবো কেমনে? ছমিরের কটাক্ষ গলা। একা যাইবো কেমনে? আরে আমি ছোট বেলায় একা বিল পার হইয়া মক্তবে যাইতাম। খালে স্রোত বাড়ছে বইলা দুনিয়ার মানুষ ঘরে বইসা থাকবো তাই না? যদি সত্যি ঘরে বইসা থাকতো তাইলে তো ভালাই হইত, আজকা আমার আর কিস্তি দিতে হইতো না। ঝড়, বৃষ্টি তুফান কোনো কিছুতেই তো কিস্তি বাদ যায় না। ভাত-তরকারি কি কিছু হইছে? নাকি সারাদিন হুদাই চুলার পাড়ে বইসা আছো।

    রাবেয়া বুঝতে পেরেছে, আজ তার খসমের ম্যাজাজ ঠিক নাই। কিস্তির টাকা জোগাড় হয় নাই। কাল রাতে যখন ছমির কোন কিছু না খেয়েই শুয়ে পড়ে তখনই রাবেয়া বুঝা উচিত ছিল। নিজের এই বোকামির জন্য বেশ খারাপ লাগছে তার। গলার স্বর নিচু করে বলল, ভাত, ডাল আর ভর্তা হইছে। ঘরের ভিতর থেকে নিজের যুব্বা পরে কালো রং এর ছাতাটা নিয়ে বের হতে হতে ছমির বলল, বেশি গরম ভাত খাওয়া ভাল না। আমি আসতাছি। রাবেয়া জানে এখন আপত্তি বা অভিযোগ কোন কিছুই কাজে আসবে না। তিনি যে এখন কিস্তির টাকা জোগাড়ের শেষ চেষ্টায় বের হচ্ছে সেটা রাবেয়া বুঝতে পারল। বারান্দার এক কোনে পড়ে থাকা কমলি শাকগুলো তুলে পাতা বাছতে শুরু করল রাবেয়া।

    দুই.
    আজগর মুদি দোকানদার হলেও তার টানাটানির সংসার। নিজের হাতে টাকা নেই, দোকানের প্রায় ফাঁকা মাচাগুলোও সে মাল দিয়ে ভরতে পারছে না। গ্রামের যারা তার কাছ থেকে বাকি খায় তারা কেউ বকেয়া শোধ করতে পারছে না। লাল রং এর হিসাবের খাতাটা পাওনাদারের নাম ও পাওনার হিসাবে ভর্তি হয়ে গেছে। আজগর তারপরেও ছমির মোল্ল্যাকে সান্তনা দেয়, দু’দিন পরে তার কিছু টাকা আসার কথা। তখন সে তাকে ধার দিতে পারবে। কিন্তু ব্যাংকের স্যার যে তাকে দু’দিনের সময় দেবে না সেটা সে আজগরকে বোঝাতে পারল না। একে একে রতন, আমজাদ ও সাদেক মাস্টারের কাছ থেকে হতাশ হয়ে ফিরে দশটা নাগাদ বাড়ি আসতেই লতিফা বলল, বাবা, ব্যাংকের স্যার আঞ্জুদের বাড়িতে কিস্তির টাকা নিতাছে। আপনারে যাইতে কইছে।

    ছমির মোল্ল্যার তখন পেটে ভিষন ক্ষিদে। মনটা বউএর হাতের ডাল, ভর্তা আর ভাত খাবার জন্য ছটফট করছে। পায়ে কাঁদা নিয়েই মন মরা হয়ে বারান্দায় বসে পড়ল সে। ছমিরের চোখ পড়ল নিজের ডান হাঁটুর একটু উপরে। জায়গাটা এখনো কালচে হয়ে আছে। পরশু কচুড়ি কাটতে বিলের পানিতে নামলে একটা মইষা জোঁক তার হাঁটুর উপরের এই স্থানে রক্ত পান করে, রুটি বেলা ব্যালনের মত হয়ে গিয়েছিল। শেষে জোঁকের মুখে লবণ দিলে তার মুক্তি মেলে। আজ ব্যাংকের স্যারকে ছমিরের সেই জোঁক বলে মনে হচ্ছে। আর লবণকে মনে হচ্ছে টাকা। লতিফা আবার এসে বলে, বাবা তোমাকে ডাকছে, ব্যাংকের স্যারের নাকি সময় নাই।

    ছমির মোল্লা আর কোন কথা না বলে উঠে পড়ল। মনে মনে স্যারকে কি বলবে আওড়ে নিয়ে তার সামনে হাজির হলো।

    ‘ছমির টাকা কই?’

    স্যার পুরাডা জোগাড় হয় না। সামনের সপ্তাহে দিয়া দেবো। বর্ষার কোন কাম-কাজ নাই। কাইল থাইকা কয়েক জনের কাছে টাকা ধার চাইছি কেউ দিতে পারে নাই।

    এইগুলা কইলেতো চলব না। টাকা নেবার সময়তো এই কথা ছিল না। তোমার একার টাকার জন্য পুরা গ্রুপের টাকা মিলব না। যেমনে পারো পুরা টাকাই তোমার দেওয়া লাগবো।

    ছমিরের প্রতিবাদ ভরা কণ্ঠ, কইলামতো আগামী সপ্তাহে আমি সব দিয়া দিতে পারবো। ছমির মোল্ল্যার কারো টাকা মারার ইচ্ছা নাই। খোঁজ নিয়া দেহেন আমার কাছে কেউ কোন টাকা পাইবো কিনা।

    আরে মিয়া, আমার কাজতো তোমার খোঁজ নেওয়া না। আমার কাজ পাওনা টাকা তোলা। অত কথা না বইলা জলদি টাকার ব্যবস্থা কর। আমি উত্তর পাড়া ঘুইরা আসতাছি, এর মধ্যেই পুরা টাকা জোগাড় কইরা রাখবা। ছমিরের দৃঢ় প্রতিবাদ, উত্তরপাড়া থাইকা ঘুইরা আসলেও আমি আইজ টাকা দিতে পারমু না। আমার টাকা যোগাড়ের কোন পথ নাই। ব্যাংকের স্যার কোন কথা না বলে সাইকেলে ওঠে উত্তর পাড়ায় চলে গেল।

    আঞ্জুর মা বলে উঠল, পুল ভাঙ্গছে তাও নৌকায় কইরা ঠিক সময় টাকা তুলতে চইলা আসছে। মানুষের সময় অসময় কোন কিছুই তারা বোঝে না আর বুঝতে চায়ও না। ছমির আর কোন কথা না বলে নি:শ্বব্দে বাড়ির দিকে পা বাড়াল।

    রাবেয়া থালায় ভাত বেড়েছে অনেকক্ষণ, দু’তিনটা মাছি তার উপর একমনে লাফাচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য নেই ছমির মোল্ল্যার। ভোর রাতের স্বপ্নটা তার আবার মনে পড়ল। শাপলার বিলে নৌকা থেকে সে পড়ে গেছে। তার নৌকা দূরে ভেসে যাচ্ছে। শাপলার বিলের গোলাপী শাপলার লতায় তার শরির পেঁচিয়ে যাচ্ছে। সে কিছুতেই তার নৌকা ধরতে পারছে না।

    কলপাড় থেকে গোসল সেরে এসেও যখন রাবেয়া দেখল ভাত তেমনই আছে। তখন আর সে কোন কথা না বলে ভাতের থালায় ঢাকনা দিল। ছমির একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে বারান্দার খুঁটি বেয়ে পিঁপড়ার দলের ওঠা নামার দিকে।

    তিন.
    ব্যাংকের স্যার ছমিরের বাড়ির উঠানে। টাকা যোগাড় হয়নি এটা সে কিছুতেই শুনতে চায় না। ছমির কোনভাবেই যখন স্যারের কাছ থেকে সময় পেল না তখন সে রাগের মাথায় জানতে চাইল এখন তার করনীয় কি? ব্যাংকের স্যার ভারি গলায় উত্তর দিল, ব্যাংকের নিয়ম হলো, হয় টাকা না হয় অন্য কিছু। তোমার ঘর থেকে অন্য কিছু নিয়ে যেতে হবে। তুমি টাকা দিলেই তোমার জিনিষ তোমার হয়ে যাবে। ছমিরের ব্যাকুল কণ্ঠে ভেসে আসে, আমার ঘরে কি আছে যে, সেটা আমি দেব।
    ব্যাংকের স্যার এদিক ওদিক দেখে বলে, গোয়ালের গরুটা ব্যাংকে জমা রাখতে পারো।

    ছমির হাউমাউ করে উঠল। গরু! গরু নেবেন ক্যান?

    ব্যাংকের স্যারের জবাব, এখন তো তুমি টাকা দিতে পারছ না। তাই এই ব্যবস্থা। আমার কিছুই করার নেই, আমি ব্যাংকের নিয়মের কাছে বাঁধা। তুমি চিন্তা করো না। টাকা ফেরত দিলেই তোমার গরু তোমার হয়ে যাবে। আমার সঙ্গে নৌকা আছে। গরু নিয়ে যেতে আমার কোন অসুবিধা হবে না।

    এই কথাগুলো ছমিরের মস্তিকের ভিতর যেতেই তার মাথা গরম হয়ে উঠল। ক্ষ্যাপা বাঘের মত ঝঁপিয়ে পড়ল ব্যাংকের স্যারের উপর। সর্বশক্তি দিয়ে স্যারকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ঢেলে দিল সে। হাতের কাছে পড়ে থাকা কোঁদালের আছাড়ি তুলে নিল হাতে। বলে উঠল নিকুচি করি আপনার ব্যাংকের নিয়ম। সাহস থাকলে আমার গরুর গায়ে হাত দেনতো দেহি, বুকের মধ্যে কলিজাটা কত বড় হইছে।

    স্যারের তীব্র প্রতিবাদ। ‘কাজটা কিন্তু তুমি মোটেও ঠিক করতাছ না ছমির।’ স্যারের সাইকেল লাথি মেরে ফেলে দিয়ে ছমির বলে উঠল, ‘কাজের এখনো দেখছেন কি? এখনই আমার বাড়ির থাইকা বাহির না হইলে এই আছাড়ি দিয়া আপনার মাথা আমি দুই ভাগ কইরা দেব।’

    বিয়ের বয়সে স্বামির এত রাগ কখনো রাবেয়া দেখে নাই। বারান্দার খুঁটি ধরে সে মেয়েকে নিয়ে অবাক চোখে দাঁড়িয়ে আছে। মাটিতে পড়ে থাকা সাইকেল তুলতে তুলতে স্যার বলল, কাজটা তোমার মোটেও ভাল হল না ছমির। এর ফল তোমার ভোগ করতেই হইবো। ছমিরের দিকে অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে একবার দেখে নিয়ে সাইকেল হাতে ঠেলে দ্রুত সে বের হয়ে গেল।

    ব্যাংকের স্যার ছমিরের বাড়ি ছেড়েছে দু’ঘণ্টা হবে। ঠান্ডা ভাতের সঙ্গে কলমি শাক দিয়ে অর্ধেক ভাত শেষ করতেই, আলাল দৌড়ে উঠানে প্রবেশ করল। ভীত কণ্ঠে চিৎকার দিয়ে সে বলল, কাকা তোমারে ধরতে পুলিশ আইতাছে। তুমি পালাও। ছমির সে কথায় কান না দিয়ে বউ এর দিকে ফিরে বলল, আর একটু মাছের তরকারি দাও। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে রাবেয়া আঁচল মুখে গুজে ডুকরে কেঁদে উঠল।
    লেখক- রাহুল রাজ।

  • সবাই দাদুর জন্য দোয়া করবেন-জাইমা রহমান

    সবাই দাদুর জন্য দোয়া করবেন-জাইমা রহমান

    দাদিকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রায় সাড়ে সাত বছর পর তিনি তার দাদী ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একান্ত সান্নিধ্যে পেয়েছেন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান দাদীর পাশাপাশি তার চাচী শর্মিলা রহমান সিঁথি, দুই চাচাতো বোন জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে কাছে পেয়ে আনন্দে সময় উপভোগ করছেন। বলা যেতে পারে তিনি একটি পরিপূর্ণ পারিবারিক জীবনে রয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি জনপ্রিয় সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

    তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, চিকিৎসা শেষ করে দাদুকে নিয়ে আমরা এখন বাসায় আছি। সবাই দাদুর জন্য দোয়া করবেন যেন তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। আপনাদের দোয়া আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান।

    এর আগে জাইমা রহমান তার দাদীর সাথে সর্বশেষ পারিবারিক পরিবেশের আমেজ উপভোগ করেন ২০১৭ সালে।