Blog

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

    আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    মো. মোস্তাকুর রহমান একজন যোগ্যতাসম্পন্ন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ)। ৩৩ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এ সেক্টরে কাজ করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবরক্ষণ বিভাগ থেকে বি.কম (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

    মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অফ বাংলাদেশ (এটিএবি) এবং ঢাকা চেম্বার অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ (ডিসিসিআই) বিভিন্ন পেশাদার ও শিল্প সংগঠনের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

    তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

  • সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে ওলামা দলের অভিনন্দন

    সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে ওলামা দলের অভিনন্দন

    সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নবনিযুক্ত প্রশাসক এবং সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল। সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিসিক কার্যালয়ে গিয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ওলামা দলের নেতৃবৃন্দ নবনিযুক্ত প্রশাসকের সাফল্য কামনা করেন এবং নগরীর উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    ​অনুষ্ঠানে জেলা ও মহানগর ওলামা দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

    • হাজী মো: হেলাল উদ্দিন আহমেদ (উপদেষ্টা, সিলেট জেলা বিএনপি)
    • মাওলানা কাজী মো: নূরুল হক (আহ্বায়ক, সিলেট জেলা ওলামা দল)
    • মাওলানা কামাল উদ্দিন (সদস্য সচিব, সিলেট জেলা ওলামা দল)
    • মাওলানা মাশহুদ আহমদ (সদস্য সচিব, সিলেট মহানগর ওলামা দল)
    • মাওলানা মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন (সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা ওলামা দল)
    • হাফিজ মাওলানা কবি হাফিজুল ইসলাম লস্কর (যুগ্ম আহ্বায়ক, মহানগর ওলামা দল)
    • মাওলানা নুমান আশরাফী (যুগ্ম আহ্বায়ক, মহানগর ওলামা দল)

    ​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, হাফিজ ফারুক আহমদ, মাওলানা সজিব আহমদ, আশিক আব্দুল্লাহ, ক্বারী মোশাহিদ আলী এবং রাজন আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য স্তরের নেতাকর্মীরা।

  • সাটুরিয়ার চাচিতারায় সিনজেন্টা কোম্পনীর ‘কৃষক ক্যাম্পিং’ অনুষ্ঠিত

    সাটুরিয়ার চাচিতারায় সিনজেন্টা কোম্পনীর ‘কৃষক ক্যাম্পিং’ অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশে। কৃষির উন্নতিতেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে। গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লাগাতার কৃষির আধুনিকীকরণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানী গুলো দেশের কৃষিজ পন্যের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিরন্কুশ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। কি ভাবে প্রতিকুল পরিবেশ থেকে কৃষিজ ফলনকে রক্ষা করা যায় তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়তই কৃষকদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। বাংলাদেশে যতগুলো কৃষক ও কৃষিজ উৎপাদন সহযোগি সংগঠণ রয়েছে তার মধ্যে সিনজেন্টা অন্যতম।

    সিনজেন্টা বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, ফসলের সুরক্ষা এবং উচ্চফলনশীল বীজের বিষয়ে সচেতন করতে নিয়মিত কৃষক সমাবেশ, মাঠ দিবস ও ক্যাম্পিং আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে তারা ক্ষতিকর পোকা দমন, সঠিক শস্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। এরই ধারা বাহিকতায় আজ বধুবার সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলীয়া ইউনিয়নে আবুল ডিলারের বাড়ীতে কৃষি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি, ফসলের সুরক্ষা এবং অধিক ফসল উৎপাদন ও সঠিক পদ্ধতিতে কীটনাষক ও ভিটামিন ব্যবহারের অধিক ফলন সম্পর্কীত সচেতনতা মূলক ক্যাম্পিং পরিচালনা করেন।

    উক্ত ক্যাম্পিংয়ে সাটুরিয়া এরিয়ার সিনজেন্টার মাকেটিং ডেভোলপার মোঃ রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত কৃষদেরকে মাঝে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার ঔষধ সামগ্রীর গুণগতমান, প্রয়োগের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তার ব্যাখা প্রদান করেন।

    তিনি বলেন, আমাদের কোম্পানীর উৎপাদিত ম্যাগমা অত্যন্ত ভালমানের ম্যগনেশিয়াম যা উৎপাদিত পণ্যের পাতাকে সবুজ, কুকড়ানো রোধ ও মোছা হলুদ বা লাল বর্ণ থেকে রক্ষা করে। বিংগো-প্রয়োগে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি, শীষে দানা বড় ও ধানের কালার উজ্জল করে। তাছাড়া ইনসিপিয়ো মাজরা পোকা দমনে অত্যন্ত কার্যকারী একটি প্রডাক্ট। একই সাথে গ্লোজিন ধানের শেকড় বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ এবং ফলনের হার বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

    তিনি আরো বলেন, সিনজেন্টা উৎপাদিত থিয়োভিট অত্যন্ত কার্যকারী একটি প্রডাক্ট যা গাছকে মোটা-তাজাকরন, গাছের কুশি এবং শেকড় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। লেজার আগাছা পরিস্কার এবং ফিলিয়া ধানের যে কোন প্রকার ব্রাষ্ট দমনে একটি কার্যকারী ঔষধ।

    প্রায় অধঃশত কৃষকদের মাঝে তার এই উপস্থাপনা কৃষকদের কষিজ পন্য উৎপাদন বৃদ্ধি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে উপস্থিত কৃষকরা অভিমত ব্যক্ত করেন। এই সময় সিনিয়র সিনজেন্টার মাকেটিং ডেভোলপার নাজমুল হাসান উপস্থিত কৃষকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

    তৎপর কোম্পনীর পক্ষ থেকে উপস্থিত সকল কৃষকদের মাঝে ইফতার উপলক্ষে্য বিরানীর প্যাকেট বিতরন করা হয়।

  • অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত আমরা:- ব্যারিস্টার আরমান

    অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত আমরা:- ব্যারিস্টার আরমান

    ঢাকা–১৪ নং আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেছেন, মানুষের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে আমরা আপোষহীন থাকবো, প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি।

    তিনি আজ শনিবার দুপুরে নিজ জেলা মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে শহীদ পিতা মীর কাসেম আলী–এর কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

    ব্যরিস্টার আরমান বলেন, “সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে আমরা আপোষহীন থাকবো। অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজন হলে জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি। আমরা জান দিব, তবু জুলাই দিব না।

    ”তিনি আরও বলেন, “শহীদ হাদি ভাইয়ের বিচার এ মাটিতেই হতে হবে। আবু সাঈদের বিচারও এই মাটিতেই হতে হবে।” তিনি দাবি করেন, “আমরা শহীদের বংশধর। অধিকার আদায়ের জন্য আমরা লড়ে যাব। আমাদের উদ্দেশ্য লক্ষ্যে পৌঁছানো—হয়তো মরে যাবো, তবুও পিছু হটবো না।”

    পিতার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আমার পিতা শহীদ মীর কাসেম আলীকে শহীদ করার কয়েকদিন আগে আমাকে ফ্যাসিস্ট সরকার গুম করে নিয়ে যায়। আল্লাহর অশেষ কৃপায় মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আমি যেন এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি—সবার কাছে সে দোয়া চাই।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন, জেলা জামায়াতের আমির হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম, হরিরামপুর উপজেলা আমির হাফেজ লোকমান হোসেন এবং উপজেলা সেক্রেটারি মোঃ ফারুক হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।কবর জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ও করেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।

    এর আগে সকালে হরিরামপুরের আন্ধার মানিক দারুল আমান ট্রাস্টের একমত বিনিময় সময় উপস্থিত হন। সেখানে ব্যারিস্টার আরমানকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।

  • মহান ভাষা দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    মহান ভাষা দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টায় পৃথকভাবে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন তারা।

    ২১ ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলা ভাষার রক্তঝরা আন্দোলনের স্মারক নয়; এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো দিবসটি পালন করে থাকে। সব দেশের ভাষা আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় একুশে ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে।

    কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি। তারপর শ্রদ্ধা ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। দুজনেই সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নীবরতা পালন করেন।

    এ সময় মাইকে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ গানটি বাজানো হয়। হৃদয়ছোঁয়া সুরের এই গানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ শ্রদ্ধাবনত এক আবহ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা শহীদদের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম।

  • নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ সুইড পররাষ্ট্রমন্ত্রীর !

    নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ সুইড পররাষ্ট্রমন্ত্রীর !

    যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরান ছাড়ার জন্য নিজ দেশের নাগরিক দের নির্দেশ দিয়েছে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড।  শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্টেনগার্ড বলেন, “ইরান ও অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। এ অবস্থায় ইরান সফর এড়িয়ে যাওয়া উচিত এবং দেশটিতে থাকা সুইডিশ নাগরিকদের দ্রুত চলে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

    তিনি আরও বলেন, এখনও আকাশপথ ও স্থল সীমান্ত দিয়ে ইরান ত্যাগ করা সম্ভব। সুযোগ থাকা অবস্থাতেই দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেন তিনি। যারা সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে বলেও উল্লেখ করেন। সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

    পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে রয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে চাপে রাখতে ‘সীমিত সামরিক হামলা’ বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস।

    তিনি সতর্ক করেন, তেহরানকে অবশ্যই একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, না হলে “খারাপ কিছু ঘটতে পারে”।

    এদিকে রয়টার্স মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানের শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টাও পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে পড়বে।

  • প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন

    প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ‘প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার’ ১৬ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষনা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর ৩:৩০ টায় এই কমিটি ঘোষনা করা হয়।

    কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে আছেন- মানিকগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সম্মানিত পিপি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য জনাব এ্যাড. আ,ফ,ম,নূরতাজ আলম বাহার।

    কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- জনাব মোঃ ইউনুছ আলী, আহবায়ক (দৈনিক বাংলাদেশ নিশান), সদস্য সচিব: মোঃ আজিজুর রহমান (দৈনিক আমার দেশ), যুগ্ম- আহবায়ক মোঃ রেজাউল করিম (দৈনিক আজকের প্রত্যাশা), মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোঃ সাইফুল ইসলাম (দৈনিক নওরোজ)।

    সম্মানিত সদস্যগণ হলেন: সিকদার শামীম আল-মামুন (দৈনিক সংগ্রাম) মোঃ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (দৈনিক দেশ বুলেটিন), জাহাঙ্গীর আলম (দৈনিক প্রভাতি বাংলা), মোঃ রাশেদুল হক (দৈনিক প্রথম ভোর), স্বপন রানা (দৈনিক মানবকন্ঠ) আমিনুর ইসলাম (মুভি বাংলা টিভি), ইঞ্জিঃ মাসুদ রানা (দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন), মোঃ আরিফুর রহমান অরি (দৈনিক সংবাদ সারাবেলা), মোঃ শাহীন আলম (চেঞ্জ টিভি), মোঃ সজিব হোসেন (দৈনিক আমাদের কন্ঠ), মোঃ শরিফুল ইসলাম (দৈনিক পৃথিবী প্রতিদিন)।

    এই সময় প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার নবাগত কমিটির সদস্যরা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • আমার ভাষা আন্দোলন

    আমার ভাষা আন্দোলন

    পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পম্চিমারা নানান অযুহাতে বাঙ্গালীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্ঠায় লিপ্ত হয়। প্রথম আঘাত আসে ভাষার উপর।। ফলে ১৯৪৭ সালের ১৯শে নভেম্বর বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, আইনজীবি, শিল্পী, সাংবাদিক ও সরকারী-বেসরকারী ও ওলামারা মুর্খ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের কাছে একটি স্বারক লিপি পেশ করেন। ১১মার্চ রাষ্ট্রভাষা সাবকমিটির উদ্দ্যোগে ধর্মঘট ও ছাত্র বিক্ষোভের আহব্বান করা হয়।

    এই বিক্ষোভ থেকে তোয়াহা, ওলি আহাদ, শেখ মজিব, বাহাউদ্দিন চৌধূরীসহ ৬৯ জন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়।  ১৪ই মার্চ তারা মুক্তি পেলে  ১৫ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ‘সাধারন ছাত্রসভা আহুত হয়। ১৯৪৭  সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীদের সম্মেলনে ঢাকসুর ভি.পি ফরিদ আহম্মদ ‘বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ও পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা ও শিক্ষার বাহনের দাবি করেন। তিনি বলেন ‘রাষ্ট্রভাষা, লিঙ্গুয়া, ফ্রান্কা নিয়ে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পূর্ববাংলার জনগনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা।

    ১৯৪৭ সালের ১লা সেপ্টমবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ ও রসায়ন বিভাগের দুই অধ্যাপক জনাব আবুল কাশেম ও নূরুল হক পাকিস্তান ‘তমদ্দুন মজিলস নামে একিট সংগঠেনর গোড়াপওন করেন । ১৯৪৭ সালে ঢাকায় তমুদ্দিন মজলিসের উদ্দোগে এক সাহিত্য সম্মেলনে পূববাংলা সরকারের মন্ত্রী ও সাহিত্যিক জনাব হাবিবুল্লাহ বাহারে সভাপতিত্বে বক্তাগন বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রকাশ দাবি করেন।

    ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর জিয়া উদ্দিন আহম্মদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার সপক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। কিন্তু জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর প্রতিবাদ জানান। দৈনিক আজাদ পত্রিকায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা র্শীষক নিবন্ধে তিনি লেখেন ‘পাকিস্তান ডোমিনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলের অধীবাসিদের মাতৃভাষা বিভিন্ন যেমন পশতু, বেলুচি, পাঞ্জাবী, সিন্ধি এবং বাংলা, কিন্তু উর্দু কোন অঞ্চলের মাতৃভাষা রুপে চালু নাই। যদি বিদেশী ভাষা বলিয়া ইংরেজী ভাষাকে অবজ্ঞা করা হয় তবে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষারুপে গ্রহন না করার পক্ষে কোন যুক্তি নাই।

    এরই প্রেক্ষাপটে করাচিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব পাশ হয়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষা বাংলা ও উর্দু করার সুপারিশ করা হয়। ফলে ১৫ই ফ্রেরুয়ারী প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন রাষ্ট্রভাষা ‘সংগ্রাম পরিষদের’ সাথে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয় ‘এপ্রিল মাসের ব্যবস্থাপনা সভায় এই বিষয়ে একটি প্রস্তাব উপস্তাপন করা এবং পাকিস্তান গনপরিষদও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই ব্যাপারে একটি বিশেষ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

    ১৯৪৮ সালের ২৫শে ফ্রেরুয়ারী কংগ্রেস নেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান গনপরিষদে সর্বপ্রথম ইংরেজী, উর্দু ভাষার পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। কংগ্রেস সদস্য শ্রীশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত, ও হেমহরি বর্মা তার এই প্রস্তাকে সমর্থন করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধীতা করেন। ১৯৪৭ সালের ১১ই মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সারাদেশে সাধারন ধর্মঘট পালিত হয়। উপায় অন্ত না দেখে খাজা নাজিমুদ্দিন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে চুক্তির একটি চুক্তি হয়।

    কিন্তু হঠাৎ করেই ১৯৪৯ সালের ২৪শে মার্চ পাকিস্তানের গর্ভনর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এক ঝটিকা সফরে ঢাকায় এসে রমনার রেস্ কোর্স ময়দানে পাচঁলক্ষ লোকের সমাবেশে ঘোষনা করেন ‘উর্দু, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তাৎক্ষনীক ছাত্রসমাজ এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং পরের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের পক্ষ থেকে শাসছুল হক, তোয়াহা, কামরুদিন, আবুর কাশেম, লিলিখান, অলি আহাদ, নইমুদ্দিন আহমেদ শামসল আলম ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাকে একটি স্বারক লিপি দেওয়া হয়। তা সত্যেও জিন্নাহ সাহেব ঢাকায় তার বিদায়ই ভাষনেও সবায়কে পাকিস্তানী হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ‘বাঙ্গালী, সিন্ধি ও পাঞ্জাবী বেলুচি পরিচয় পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য বিপদজ্জনক।

    ১৯৪৮  সালের ২৭শে ফ্রেরুয়ারী সামছুল আলমকে আহব্বায়ক করে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ছাত্রদের প্রচন্ড আন্দোলনের মুখে পরবর্তীকালে জিন্নাহ গোপনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সাথে দেখা করে ‘বাংলাকে‘ প্রাদেশিক সরকারি ভাষা হিসাবে মেনে নিয়ে পূর্ববাংলার ছাত্রসমাজের সাথে একটি আপোষ রফার ব্যাপারে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ জানান। ঢাকসুর ভি.পি ফরিদ উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক গোলাম আজম ও আব্দুর রহমান চৌধুরী (মহসীন হলের সহ-সভাপতি) আপোষ প্রস্তাবে রাজী হলেও শেখ মজিবুর রহমান, তোয়াহা, অলি আহাদ, তাজউদ্দিন আহম্মদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম আন্দোলন চলিয়ে যাওয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন।

    শেখ মজিবুর রহমানের এইরুপ একক নেতৃত্বের কারনে পরবর্তীতে তাদের সাথে দ্বন্দের সূত্রপাত হয় এবং তারা ভিন্ন শিবিরে স্বাধীনতা বিরোধীতা করেন । ১৯৪৮  সালের ১১ই মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সারাদেশে সাধারন ধর্মঘট পালিত হয়। ২৭ ডিসেম্বর করাচিতে নিখিল পাকিস্তান শিক্ষক সম্মেলনের উদ্বোধণী ভাষনে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব ফজলুর রহমান বাংলাভাষায় আরবি হরফ যুক্ত করার পক্ষে জোরাল চুক্তি প্রর্দশন করেন।

    ১৯৪৮ সালের ৩১শে ডিসেম্বর কার্জন হলে ‘পূর্বপাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান তা যেমন সত্য, তার চেয়ে সত্য আমরা বাঙ্গালী; এটি কোন আদর্শের কথা নয়, এটি বাস্তবসত্য। ১৯৪৯ সালের ৭ই ফ্রেরুয়ারী পেশোয়ারে পাকিস্তান শিক্ষা উপদেষ্ঠা, বোর্ড সভায় বাংলা বর্ণমালা বিলুপ্ত করে আরবী হরফ প্রবর্তনের পক্ষে ধর্মীলেবাসে নানা যুক্তি প্রদর্শন করেন। ফলে সচতুর রাজরৈতিক নেতৃত্ব ১৯৪৯সালের ২৩শে জুন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল হিসাবে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠাব করেন।

    এই সংগঠনটি শুরু থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রকার অন্যায়-অত্যাচার, শোষন ও নীপিড়নের বিরোদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। ১৯৪৯ সালের ১২ই মার্চ পাকিস্তান সংবিধান সভার প্রস্তাব অনুসারে শাসনতান্ত্রিক মূলনীতি নির্ধারন কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি  সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সংবিধান সভায় তোদের অন্তবর্তীকালীন রির্পোটে শাসনতান্তিক বিষয়ে রাষ্টভাষাকে ‘উদ্দু’ করার সুপারিশ করে। ইতিপূর্বে ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ঢাকা আরমানিঢোলা ময়দানে নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের এক জন সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জনসভায় মওলানা ভাসনী ও শামছুল হক (১ম সাধারন সম্পঁদক আওয়ামীলীগ) এর নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ মিছিল গর্ভমেন্ট হাইজের দিকে রওয়ানা হেল পুলিশ বাধা প্রদান করে ।

    আন্দোরনকারীরা বাধা উপেক্ষ করে সামনের দিকে অগ্রসর হলে- আইন শৃংখলা ভঙ্গের অজুহাতে মওলানা ভাসনী ও শামছুল হককে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১২ অক্টোবর এই সংবিধান কমিটি পাকিস্তান অবর্জাভার অফিসে এক সভার আহব্বান করে এবং তাতে কমরুদীন আহম্মদ আতাউর রহমান খান, মোহাম্মদ তোয়াহা, তাজউদ্দিন আহম্মদ পাকিস্তান অবজাভারের সম্পাদক আব্দুস ছালাম ও মানিক মিয়া অংশ গ্রহন করেন। বৈঠকে আন্দোলনের কর্ম-পরিকল্পনা এবং পরিধি নিয়ে আলোচনা হয়।

    ১৯৫০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মূলনীতি নির্ধারক কমিটির রির্পোট প্রকাশের সাথে সাথে ঢাকার রাজৈনিতক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয় । পূর্ব বাংলার উপর একটি অগনতান্ত্রিক প্রস্তাব চাপিয়ে দেওয়ার চক্রন্তের বিরোদ্ধে স্বঃফুর্ত প্রতিবাদে পাকিস্তান অবর্জাভার অফিসে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ডেমোক্রেটিভ ফেডারেশনের নামে একটি সংগঠেনর জন্ম হয়। এই ডেমোক্রেটিভ ফেডারেশনের সদস্যবৃন্দ বিকল্প শাসনতন্তের খড়সা তৈরির জন্য সংবিধান কমিটি নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেন।

    ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিনের ভাষণ প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন খাজা নাজিমুদ্দিন ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন এবং ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের এক জনসভায় দীর্ঘ ভাষণ দেন। তিনি মূলত জিন্নাহ্’র কথারই পুনরুক্তি করে বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত তাঁর ভাষণে তিনি আরো উল্লেখ করেন যে কোনো জাতি দু’টি রাষ্ট্রভাষা নিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারেনি।নাজিমুদ্দিনের বক্তৃতার প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৯ জানুয়ারি প্রতিবাদ সভা এবং ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালন করে।

    সেদিন ছাত্রসহ নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সমবেত হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।পরে তারা তাদের মিছিল নিয়ে বর্ধমান হাউসের (বর্তমান বাংলা একাডেমী) দিকে অগ্রসর হয়। পরদিন ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত সভায় মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদ গঠিত হয়।সভায় আরবি লিপিতে বাংলা লেখার সরকারি প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করা হয় এবং ৩০ জানুয়ারির সভায় গৃহীত ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দেয়া হয়। পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল, সমাবেশ ও মিছিলের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে।

    পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে সমবেত হয়। সমাবেশ থেকে আরবি লিপিতে বাংলা লেখার প্রস্তাবের প্রতিবাদ এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ছাত্ররা তাদের সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

    ২০ ফেব্রুয়ারি সরকার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় এক মাসের জন্য সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিভিন্ন হলে সভা করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ৯৪ নবাবপুর রোডস্থ আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের কিছু সদস্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার পক্ষে থাকলেও, সবশেষে ১১-৩ ভোটে[ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে একই বিষয় নিয়ে পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় সলিমুল্লাহ হলে ফকির শাহাবুদ্দীনের সভাপতিত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত সভায় নেতৃত্ব দেন আবদুল মোমিন। শাহাবুদ্দিন আহমদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে এই সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নেন আবদুল মোমিন এবং শামসুল আলম।

    পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী এ দিন সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে জড়ো হয়। তারা ১৪৪ ধারা জারির বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকে এবং পূর্ব বঙ্গ আইন পরিষদের সদস্যদের ভাষা সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মতামতকে বিবেচনা করার আহ্বান জানাতে থাকে। পুলিশ অস্ত্র হাতে সভাস্থলের চারদিক ঘিরে রাখে। বিভিন্ন অনুষদের ডীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঐসময় উপস্থিত ছিলেন।

    বেলা সোয়া এগারটার দিকে ছাত্ররা গেটে জড়ো হয়ে প্রতিবন্ধকতা ভেঙে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছাত্রদের সতর্ক করে দেয়।কিছু ছাত্র ঐসময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দিকে দৌঁড়ে চলে গেলেও বাদ-বাকিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পুলিশ দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পুলিশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।

    উপাচার্য তখন পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ বন্ধ করতে অনুরোধ জানান এবং ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। কিন্তু ছাত্ররা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় কয়েকজনকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার শুরু করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় ছাত্ররা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় তাদের বিক্ষোভ শুরু করে।

    বেলা ২টার দিকে আইন পরিষদের সদস্যরা আইনসভায় যোগ দিতে এলে ছাত্ররা তাদের বাঁধা দেয়। কিন্তু পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে যখন কিছু ছাত্র সিদ্ধান্ত নেয় তারা আইনসভায় গিয়ে তাদের দাবি উত্থাপন করবে। ছাত্ররা ঐ উদ্দেশ্যে আইনসভার দিকে রওনা করলে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ দৌঁড়ে এসে ছাত্রাবাসে গুলিবর্ষণ শুরু করে।
    পুলিশের গুলিবর্ষণে আব্দুল জব্বার এবং রফিক উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া আব্দুস সালাম, আবুল বরকতসহ আরও অনেকে সেসময় নিহত হন। ঐদিন অহিউল্লাহ নামের একজন ৮/৯ বছরেরে কিশোরও নিহত হয়।

    ছাত্র হত্যার সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনগণ ঘটনাস্থলে আসার উদ্যোগ নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্ত অফিস, দোকানপাট ও পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রদের শুরু করা আন্দোলন সাথে সাথে জনমানুষের আন্দোলনে রূপ নেয়।রেডিও শিল্পীরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শিল্পী ধর্মঘট আহ্বান করে এবং রেডিও স্টেশন পূর্বে ধারণকৃত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে থাকে।

    ঐসময় গণপরিষদে অধিবেশন শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশের গুলির খবর জানতে পেরে মাওলানা তর্কবাগিশসহ বিরোধী দলীয় বেশ কয়েকজন অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ান। গণপরিষদে মনোরঞ্জন ধর, বসন্তকুমার দাস, শামসুদ্দিন আহমেদ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত-সহ ছোট ছয়জন সদস্য মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে হাসপাতালে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্যে অনুরোধ করেন এবং শোক প্রদর্শনের লক্ষ্যে অধিবেশন স্থগিত করার কথা বলেন।

    কোষাগার বিভাগের মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ, শরফুদ্দিন আহমেদ, সামশুদ্দিন আহমেদ খন্দকার এবং মসলেউদ্দিন আহমেদ এই কার্যক্রমে সমর্থন দিয়েছিলেন। যদিও নুরুল আমিন অন্যান্য নেতাদের অনুরোধ রাখেননি এবং অধিবেশনে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।

    ১৯৫১ সালে লাহোরে কায়েদে মিল্লাত লিয়াকত আলী খান আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। ফলে সারাদেশ ব্যাপি রাজ নৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশীক পরিষদ নির্বাচনে ঘোষিত হলে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে অন্যান্য দল মিলে যুক্তফ্রন্ট নামীয় একটি সমন্বিত বিরোধী ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তারিখে কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন ।

    যুক্তফ্রন্টের প্রধার তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এই যুক্তফ্রন্ট ২১ দফার একটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। যথা-

    ১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে। ২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি ও সমস্ত খাজনা আদায়কারী স্বত্ব উচ্ছেদ ও রহিত করে উদ্বৃত্ত জমি ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিতরণ এবং খাজনা হ্রাস ও সার্টিফিকেট মারফত খাজনা আদায় রহিত করা হবে। ৩. পাট ব্যবসা জাতীয়করণ এবং তা পূর্ববঙ্গ সরকারের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় আনা এবং মুসলিম লীগ শাসনামলের পাট কেলেঙ্কারির তদন্ত ও অপরাধীর শাস্তি বিধান করা। ৪. কৃষিতে সমবায় প্রথা প্রবর্তন এবং সরকারি সাহায্যে কুটির শিল্পের উন্নয়ন। ৫. পূর্ববঙ্গকে লবণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। ৬. কারিগর শ্রেনীর গরীব মোহাজেরদের কর্মসংস্থানের আশু ব্যবস্থা। ৭. খাল খনন ও সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে বন্যা ও দূর্ভিক্ষ রোধ । ৮. পূর্ববঙ্গে কৃষি ও শিল্প খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশকে স্বাবলম্বী করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মূলনীতি মাফিক শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। ৯. দেশের সর্বত্র অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন এবং শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা। ১০. শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের ভেদাভেদ বিলোপ করে সকল বিদ্যালয়কে সরকারি সাহায্যপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। ১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রভৃতি প্রতিক্রিয়াশীল আইন বাতিল এবং উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করা। ১২. শাসনব্যয় হ্রাস, যুক্তফ্রন্টের কোনো মন্ত্রীর এক হাজার টাকার বেশি বেতন গ্রহণ না করা। ১৩. দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-রিশ্ওয়াত বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন। ১৪. জননিরাপত্তা আইন, অর্ডিন্যান্স ও অনুরূপ কালাকানুন বাতিল, বিনাবিচারে আটক বন্দির মুক্তি, রাষ্ট্রদ্রোহিতায় অভিযুক্তদের প্রকাশ্য আদালতে বিচার এবং সংবাদপত্র ও সভাসমিতি করার অবাধ অধিকার নিশ্চিত করা। ১৫. বিচারবিভাগকে শাসনবিভাগ থেকে পৃথক করা। ১৬. বর্ধমান হাউসের পরিবর্তে কম বিলাসের বাড়িতে যুক্তফ্রন্টের প্রধান মন্ত্রীর অবস্থান করা এবং বর্ধমান হাউসকে প্রথমে ছাত্রাবাস ও পরে বাংলা ভাষার গবেষনাগারে পরিণত করা। ১৭. রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ ঘটনাস্থলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা এবং শহীদদের পরিবারবর্গকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস এবং সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষনা করা। ১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বায়ত্তসাশন এবং দেশরক্ষা, পররাষ্ট্র ও মূদ্রা ব্যতীত সকল বিষয় পূর্ববঙ্গ সরকারের অধীনে আনয়ন, দেশরক্ষা ক্ষেত্রে স্থলবাহিনীর হেডকোয়ার্টার পশ্চিম পাকিস্তানে এবং নৌবাহিনীর হেডকোয়ার্টার পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন এবং পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্রনির্মাণ কারখানা স্থাপন ও আনসার বাহিনীকে সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করা। ২০. কোনো অজুহাতে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা কর্তৃক আইন পরিষদের আয়ু না বাড়ানো এবং আয়ু শেষ হওয়ার ছয়মাস পূর্বে মন্ত্রিসভার পদত্যাগপূর্বক নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। ২১. যুক্তফ্রন্টের আমলে সৃষ্ট শূন্য আসন তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং পরপর তিনটি উপনির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী পরাজিত হলে মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করা।

    ১৯৫৪ সালের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন অর্জ্জন করে। তন্মধ্যে ১৪৩টি পেয়েছিল মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, ৪৮টি পেয়েছিল শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামী ইসলাম পার্টি লাভ করেছিল ২২, গণতন্ত্রী দল লাভ করেছির ১৩টি এবং খেলাফত-ই-রাব্বানী নামক দলটি ১টি আসন। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ সম্পূর্ণরূপে এ নির্বাচনে পরাভূত হয় ; তারা কেবল ৯টি আসন লাভ করতে সমর্থ হয়।

    এ নির্বাচনে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য ৭২টি আসন সংরক্ষিত ছিল। এগুলোর মধ্যে কংগ্রেস লাভ করেছিল ২৪টি আসন, কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, শিডিউল্ড কাস্ট ফাউন্ডেশন ২৭টি, গণতন্ত্রী দল ৩টি এবং ইউনাইটেড পগ্রেসিভ পার্টি ১৩টি আসন লাভ করেছিল। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন।১৯৫৪ সালের ৩ রা এপ্রিল শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুক হক চার সদস্য বিশিষ্ট যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করেন।

    পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয় ১৫ মে তারিখে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুর হক। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় এসে বাংলা একাডেমী গঠন করে।এ প্রতিষ্ঠান বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সংরক্ষণ, গবেষণা এবং মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে বলে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয়। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল মাল গোলাম মাহমুদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে তারিখে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সরকার বাতিল ঘোষণা করে। ১৯৫৫ সালের ৬ জুন তারিখে যুক্তফ্রন্ট পুণর্গঠন করা হয়; যদিও আওয়ামী লীগ মন্ত্রী পরিষদে যোগদেয়নি।

    ১৯৫৪ সালের ৩১ মে ‘ব্লাসফেমি’ আইন জারি করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করে দিয়ে শাসনতন্ত্রের ৯২ (ক) ধারা জারীর মাধ্যমে প্রদেশে গভর্ণরের শাসন প্রবর্তন করেন। একথা সত্য যে, ১৯৫6 সালের ১২ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহ্ওয়ার্দীর প্রধানমন্ত্রিত্বে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও রিপাবলিকান পার্টির কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে সোহ্ওয়ার্দী সাহেব মার্কিনমূখী পররাষ্ট্রণীতি গ্রহন করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সিয়াটো, সেন্টো প্রভুতি সামরিক চুক্তির পক্ষ অবলম্বন করেন।

    সাথে আরো ছিল মৌলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি। গনতন্ত্রী দলের নেতা ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানিশ এবং মাহমুদ আলি সিলেটি। ফলে কেন্দ্রীয় সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এইরুপ আমেরিকাপন্থী মতাদর্শের কারনে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রাদেশীক সভাপতি মওলানা ভাসানীর সাথে মতানৈক্য দেখা দেয়।  ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামেয় দলটি থেকে সম্প্রদায়িক ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলটিকে অসম্প্রদায়ীক ও সর্বজনীন করে নির্বানে অংশ গ্রহনের তুরজুর চলে। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও প্রাদেশীক সভাপতির পরস্পর ভিন্ন মতার্দশের কারনে আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে  যায় এবং মওলানা ভাষানির নেতৃত্বে ন্যাশনার আওয়ামী লীগ নামে একটি নতুন দলের সৃষ্টি হয়।

    https://banglatopnews24.com/emer-bese-endulon/

  • অভিনয়ে বিরতির ঘোষণা দিলেন সামিরা খান মাহি

    অভিনয়ে বিরতির ঘোষণা দিলেন সামিরা খান মাহি

    বর্তমান সময়ের ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় ও ব্যস্ত অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। অল্প সময়ে সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই অভিনয়ে বিরতির ঘোষণা দিলেন এই অভিনেত্রী।

    সামাজিকমাধ্যমে মাহি জানিয়েছেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার একটু থামা প্রয়োজন। এক পোস্টে মাহি লোখেন, ‘প্রিয় ভক্তরা, জীবনের প্রতিটি যাত্রায় মাঝেমধ্যে একটু বিরতি দরকার হয়। এইবার সেই বিরতিটাই নিচ্ছি। মনটা একটু ভারী, কারণ কাজ আর তোমাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তবে এটা বিদায় না, শুধু অল্প সময়ের জন্য থামা। দোয়া রেখো, খুব তাড়াতাড়ি আবার ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’

    মাহির এমন পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা তাকে শুভ কামনা জানাচ্ছেন। কেউ বলছেন কাজের চাপে মানসিক প্রশান্তির জন্য বিরতি প্রয়োজন, আবার কেউ তাকে দ্রুত পর্দায় ফেরার অনুরোধ জানাচ্ছেন।

    তবে বিরতির কারণ নিয়ে বিস্তারিত আর কিছুই জানাননি মাহি।

  • আট উপদেষ্টাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন

    আট উপদেষ্টাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া আট উপদেষ্টাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে অনুযায়ী মন্ত্রী পদমর্যাদার মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে রাজনৈতিক উপদেষ্ঠা নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, মাহদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।