Blog

  • জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, পাবে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি

    জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, পাবে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    শেখ হাসিনার পতনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কার করা সংবিধানের তফসিলে এ জুলাই ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

    ”জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো”।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে।

    ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসঙ্গত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধা-নিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

    জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ (বিটিভি) বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশন করা হয়। এছাড়া শহীদদের স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

     

  • সাটুরিয়ায় ‘গণ-অভ্যুত্থান দিবসে’ বিএনপির বিজয় মিছিল

    সাটুরিয়ায় ‘গণ-অভ্যুত্থান দিবসে’ বিএনপির বিজয় মিছিল

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় আওয়ামী ‘ফ্যাসিবাদ’ পতনের বছরপুর্তী উপলক্ষ্যে বিশাল বিজয় মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠন। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা-মন্ডলীর সদস্য আফরোজা খান রিতা।

    আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় উপজেলা হাই স্কুল মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু  হয়। বাসস্ট্যান্ড হয়ে উত্তর কাওন্নারা টু সিনেমা হল রোড হয়ে আবার বাস স্ট্যান্ডে এসে মিছিলটি শেষ হয়।  বৃষ্টিতে ভিজেই মিছিলের নেতৃত্ব দেন আফরোজা খান রিতা।

    এ সময় রাস্তার দুপাশে থাকা বাড়ি ঘরের মা-বোনেরা মিছিলটির অবলোকন এবং আফরোজা খান রিতাকে ধণ্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মিছিলে উপজেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

    এ ব্যাপারে, জেলা তাতীঁদলের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, আজকের এই মিছিল সাটুরিয়ার ইতিহাসে স্মরনীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে আমাদের প্রাণের নেত্রী মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আফরোজা খান রিতা আপার সক্রিয় অংশ গ্রহণে সাটুরিয়ার মানুষ উজ্বিবীত হয়েছে। যে কোন গনতান্ত্রিক আন্দোলনে আমরা সাটুরিয়াবাসী আফরোজা খান রিতা আপার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছি। গণ-অভ্যুত্থানের আজকের এই দিনটি সত্যিকারই আমাদের জন্য অনেক আনন্দের দিন।

    উল্লেখ্য, ইতিহাস বদলে দেওয়া গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের এদিনে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনে ক্ষমতার মসনদ চেপে থাকা এক স্বৈরাচারের শাসন অবসান ঘটে। পরবর্তীতে সরকার ৫ আগস্টকে গণ-অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

  • আহ্বান

    আহ্বান

    ঈমানের তকদির ললাটে মাখি
    মৃত্যুর মিছিলে কে যাবি আয়,
    বাতিলের দাবি রুখিতে হবে-
    দরাজ গলায়, আল্লাহু আকবর।।

    মহানের মহত্ব করিব বয়ান-এইবার
    উচ্চ করে শির……………….
    কারবালার ময়দানে যুদ্ধের ডাক
    আয়; শহীদের তাড়া নিয়ে বীর।।

    সত্য, সুন্দর আর ন্যায়ের পথে
    দিতে হবে প্রাণবলি-
    ইয়াজিদের সান দেওয়া খড়গের নীচে
    জীবনের হবে কোলাকুলি।।

    মরুর পথে এই বার দিতে হবে
    রক্তের সামিয়ানা পাতি-
    জালিমের গলায় পড়াতে হবে
    সিমারের কলংক রাখি।।

    নাস্তিক, মুশরিক আর কাফিরের দল
    এইবার হবে তারা; হবে পদদল,
    নিশাচরা পাখী মোরা, গাইবো জিহাদের গান
    সত্য পথে যায় যাবে, এই দেহ-প্রাণ।।

  • আজ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা

    আজ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ মঙ্গলবার জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন। বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আজ ‘৩৬ জুলাই উদযাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ১১টায়। নানা অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় বিকেল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে।

    অনুষ্ঠানে সর্বশেষ আয়োজন হিসেবে রাত ৮টায় থাকছে আর্টসেল-এর গান। অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ব্যবস্থাপনায় থাকছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একা-ডেমি। আর সহযোগিতায় থাকছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

  • ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাই চেতনার বাস্তবায়ন করতে হবে

    ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাই চেতনার বাস্তবায়ন করতে হবে

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ‘‘একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ফ্যাসি-বাদের মূলোৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।’’তিনি বলেন, ‘‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল— দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ সব ধরনের অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

    এই বৈষম্যমূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতা-য়ন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য।’’ সোমবার (৪ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। খবর ইউএনবির।

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘‘আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সকল শহীদকে, যারা দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

    এই গণ–অভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণ করা ও দৃষ্টিশক্তি হারানো সকল বীর জুলাই যোদ্ধার ত্যাগ ও অবদানকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।

    ’’জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।’’

    ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে নেওয়া সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।

  • ‘‘১/১১-এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে-মাহফুজ আলম

    ‘‘১/১১-এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে-মাহফুজ আলম

    তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম মন্তব্য করেছেন যে, দেশে আবারও ‘ওয়ান ইলেভেনের’ পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি তার ভেরি-ফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন।

    তবে, পোস্টটি দেওয়ার ২৩ মিনিট পর তিনি তা আপডেট করেন। আপডেটেড পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘‘১/১১-এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে! তবে, জুলাই জয়ী হবে। জনগণের লড়াই পরাজিত হবে না।’

    ’মাহফুজ আলমের এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ওয়ান ইলেভেন’ বা ১/১১ হিসেবে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির ঘটনাটি পরিচিত। ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন—এই ইস্যুতে শুরু হওয়া আন্দোলনের জেরে ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

    সেদিন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ২২ জানুয়ারি যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, সেটি বাতিল করা হয়।

    এরপর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে, যার প্রধান হন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ। সেসময় সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদ।

  • তারেক রহমান হ্যাজ এ ড্রিম- মির্জা ফখরুল

    তারেক রহমান হ্যাজ এ ড্রিম- মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমান অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে যে স্বপ্ন তুলে ধরছেন তা শুনে আমার মার্টিন লুথার কিংয়ের সেই ঐতিহাসিক কথা ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ মনে হয়।

    ফখরুল বলেন, তারেক রহমান হ্যাজ এ ড্রিম। সেই ড্রিম নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাবো এবং জয় করবো। সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে যুবদল আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন: আমার না বলা কথা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, এটাকে কাকতালীয় বলবো নাকি ভবিষৎ বলব জানি না। যখনই দেশ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়, অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায় তখনই বিএনপির ওপর দায়িত্ব এসে পড়ে সেটিকে পুনর্গঠন করার। প্রতিটি সময়ে তাই ঘটেছে। আজ আবার হয়তো বা বিএনপিকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ দেশে অস্থিরতা তৈরি করার একটি ষড়যন্ত্র চলছে। যেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল যতদিন টিকে থাকবে ততদিন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার কোনো শক্তি বাংলাদেশে দাঁড়াতে পারবে না। এসময় তিনি তার বক্তব্যে বিএনপির শাসনামলের সাফল্যের বিভিন্ন গল্প তুলে ধরেন।

  • সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে-ডা. নাজিবুর নাহার

    সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে-ডা. নাজিবুর নাহার

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম হারুন-অর-রশীদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ফুফাত বোন চট্টগ্রাম মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. নাজিবুর নাহার।

    সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্ট হাউস থেকে এম হারুন-অর-রশীদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ক্লাবের গেস্ট হাউসের একটি কক্ষে তিনি একা ছিলেন। অনেক বেলা পর্যন্ত তিনি কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় ক্লাবের লোকজন বিচলিত হন। দুপুর ১২টার পর খবর দেয়া হলে কোতোয়ালি থানা পুলিশের টিম দ্রুত উপস্থিত হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে কক্ষের তালা খুলে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    ডা. নাজিবুর নাহার জানান, হারুন-অর-রশীদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। গেস্ট হাউসে এসে তাকে বিছানায় স্বাভাবিক ঘুমানোর মতো অবস্থায় দেখতে পেয়েছি।

    সর্বশেষ রবিবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টায় পরিবারের সঙ্গে হারুন-অর রশীদের কথা হয়ে ছিল বলে জানান ডা. নাজিবুর নাহার। ডা. নাজিবুর নাহার উপস্থিত সাংবাদিকদের আরো জানান, সাবেক সেনা প্রধান হারুন-অর-রশীদ মৃত্যুর আগে তার চোখ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সন্ধানীতে দান করে গেছেন। সেভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    দুপুরের পর চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সে হারুন-অর-রশীদের মরদেহ সিএমএইচ এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    এরপর তাকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় নিজ গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। হারুন-অর-রশীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি ২০০০-২০০২ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

     

  • তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক: তারেক রহমান

    তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক: তারেক রহমান

    তরুণদের যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।’

    রোববার (০৩ আগস্ট) দুপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি। এই সমাবেশে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছেন তারেক রহমান।

    দেশে প্রচলিত রাজনীতির পরিবর্তন দরকার জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কথা বলার রাজনীতি নয়, মানুষের জীবন মান উন্নয়নের রাজনীতি করতে চায় বিএনপি।

    ক্যাম্পাসে নিজেদের অধিকার নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বোচ্চার থাকা উচিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে পতিত স্বৈরাচার।দেশের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নবীন এবং প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায় বিএনপি।

    এর আগে সমাবেশের সূচনা বক্তব্যে ছাত্রদলকে রুখে দেয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশে কারও নেই বলে মন্তব্য করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, ছাত্রদল চাইলে সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে পারে। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যদি নির্দেশনা দেন, নেতা কর্মীরা সারা দেশ অবরোধ করে দিতে পারে।

  • ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করলো এনসিপি !

    ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করলো এনসিপি !

    ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।রবিবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ইশতেহারে ২৪টি দফা তুলে ধরেছে দলটি।

    এনসিপির ঘোষণাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক তৈরি করা, পরিবতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী শাসনতন্ত্র বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করা, রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ ও জুলাই অভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তির বিচার নিশ্চিত করা।

    ইশতেহারে গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, আইনের সংস্কার ও ন্যয়ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দেশের প্রশাসনের ক্ষেত্রে সেবামুখী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন ও সেবামুখী প্রশাসন নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে নাহিদ ইসলাম।

    এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির ইশতেহারে অন্যান্য বিষয়গুলো হলো গ্রাম পার্লামেন্ট ও স্থানীয় সরকার; স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ; সার্বজনীন স্বাস্থ্য, জাতি গঠনে শিক্ষানীতি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব, ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিগত মর্যাদা; নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন; ইনসাফভিত্তিক অর্থনীতি; তারুণ্য ও কর্মসংস্থান; বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি; টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব; শ্রমিক-কৃষকের অধিকার; জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা; নগরায়ন, পরিবহন ও আবাসন পরিকল্পনা; জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা; প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার; বাংলাদেশপন্থি পররাষ্ট্রমন্ত্রী; জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল প্রভৃতি বিষয় নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

    এর আগে সমাবেশ উপলক্ষে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন। ‘জুলাই আন্দোলনের’ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দলটি বিচার প্রতিষ্ঠা, কাঠামোগত সংস্কার এবং একটি নবতর রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেছে।

    হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিশ্লেষকের পাশাপাশি শিক্ষার্থী এবং প্রথমবারের মতো ভোটার হতে যাওয়া বিপুলসংখ্যক তরুণ সমাবেশে অংশ নেন। এতে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা প্রতিফলিত হয়।

    দলীয় নেতারা বলেন, বিচার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’-কে জনগণকেন্দ্রিক একটি রোডম্যাপ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়। অনুষ্ঠানের প্রতীকী মঞ্চে লেখা ছিল-‘বিচার। সংস্কার। ভবিষ্যৎ।’

    সমাবেশে গত বছরের দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ছাত্র ও তরুণ-দের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘জুলাই আন্দোলনে’ নিহতদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু।

    ‘নতুন বাংলাদেশ ঘোষণা’ শিরোনামে ৪৮ পৃষ্ঠার একটি নীতিপত্র ডিজিটাল ও মুদ্রিত-উভয় মাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ছয়টি মূল স্তম্ভের ভিত্তিতে এনসিপির নীতিগত অঙ্গীকার ও দিক-নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।