Blog

  • দাদুর কাঁথা

    দাদুর কাঁথা

    বিশ্বাস বাড়ির নোনা ধরা দেওয়াল আর প্রায় রং উঠে যাওয়া ফাটলগুলো দেখে বোঝা যায়, একসময় এখানে লক্ষ্মীর বাস ছিল। কিন্তু সময় আর ভাগ্যের ফেরে এখন সবটা ম্লান। পলেস্তারা খসে পড়া বৈঠকখানাটা যেন নির্বাক হয়ে চেয়ে থাকে এক হারানো অতীতে।

    রিমের বাবা বিমল বাবুর কাঁধে এখন ঋণের পাহাড়, সারাদিন পাওনাদারদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকেন। মা সুমিত্রা দেবীর কপালে দুশ্চিন্তার স্থায়ী ভাঁজ, উনুনে হাঁড়ি চড়বে কি না, সেই চিন্তায় রাত কাটে। অভাবের এই জরাজীর্ণ সংসারে একমাত্র উজ্জ্বল স্মৃতি ছিলেন রিমের দাদু, অবিনাশ বিশ্বাস।  তিনি ছিলেন এক রহস্যময় জহুরি, শুধু পাথর নয়, মানুষের মনের গভীরে থাকা আসল সোনা চিনতে পারতেন।

    সবসময় বলতেন, “হাতের রেখায় ভাগ্য থাকে না রে রিম, ভাগ্য থাকে মনের চাদরে। সেই চাদরের বুনিতেই থাকবে তোর আগামী।” দাদুর মৃত্যুর পর বাড়ির অনেক কিছুই ওলটপালট হয়ে গেল। দাদুর ঘরটা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল।

    অপ্রয়োজনীয় ভেবে কেউ ওমুখো হতো না। একদিন বৃষ্টির দুপুরে, রিম  কৌতুহল নিয়ে ঘরটা পরিষ্কার করতে গেল। ঘরে থাকা অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে পুরোনো আমলের সেই বিশাল সেগুন কাঠের আলমারিটা চুম্বুকের মতন আকর্ষণ করলো তাকে। ধুলোবালি আর মাকড়সার চালে ঘেরা আলমারিটা খুলে ফেললো রিম।

    আলমারিটা যেন একটা ছোটখাটো অন্ধকার গুহায় পরিণত হয়েছে। পুরোনো বই আর ন্যাপথলিনের  গন্ধে একাকার হয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ধুলোর আস্তরণ সরাতে একদম ওপরের তাক থেকে একটা ভাঁজ করা ভারী কাপড়ের স্তূপ তার হাতে ঠেকল। বের করে আনতেই দেখা গেল এক বিশাল নকশি কাঁথা। কাঁথাটা মেঝেতে বিছিয়ে রিম অবাক হয়ে গেল।

    সাধারণত কাঁথা লম্বাটে হয়, কিন্তু এটি নিখুঁত ৯ ফিট বাই ৯ ফিট একটি বর্গাকার কাঁথা। এর জমিন গাঢ় নীল, সোনালি, রূপোলি আর লাল সুতোয় অদ্ভুত সব জ্যামিতিক নকশা আঁকা। কোনো নকশা দেখতে নক্ষত্রমণ্ডলীর মতো, কোনোটা বা নদী বা পাহাড়ের মতো। রিম বিড়বিড় করে বলল, “দাদু কি জ্যামিতির ভক্ত ছিলেন নাকি? কাঁথা আবার স্কয়ার হয় কীভাবে?” সে আরও লক্ষ্য করল, কাঁথাটার ওজনে একটা অদ্ভুত ভারসাম্য আছে, মনে হয় এর সুতোগুলো যেন কোনো বিশেষ চুম্বকীয় শক্তি দিয়ে তৈরি।

    সেদিন রাতে হঠ্যৎ হাড়কাঁপানো শীত পড়ল। কলকাতার এ অঞ্চলে শীত সচরাচর অতটা বেশি হয় না, কিন্তু সেদিন মনে হলো  হিমালয় তুষারপাত এদিকেই চলে এসেছে। কোন এক অদৃশ্য কারণে বিছনার পাশেই রিম দাদুর সেই বিশাল কাঁথাটা রেখেছিল। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে রিম দাদুর সেই কাঁথাটা গায়ে জড়িয়ে  শুয়ে পড়ল।

    শোবামাত্রই সে এক অদ্ভুত আরাম অনুভব করল। ৯ ফিট বাই ৯ ফিট হওয়ার কারণে সে যেদিকেই পাশ ফিরছে, কাঁথাটা তাকে পরম মমতায় জড়িয়ে রাখছে। কোনো কোণ থেকেই শরীরের এক ইঞ্চিও বাইরে থাকছে না। পা বেরিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই।

    আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাইরে যতই কনকনে ঠান্ডা থাকুক, এই কাঁথার নিচে ঢোকা মাত্রই শরীরটা এক অদ্ভুত উষ্ণতায় ভরে গেল—আর কাছে মনে হল কেউ একজন পরম আদরে উষ্ণতায় তাকে জড়িয়ে ধরেছে। সবচেয়ে বড় ম্যাজিকটা ঘটল কিছুক্ষণ পর। রিম লক্ষ্য করল, এই কাঁথাটির একটি বিশেষ গুণ আছে—ঘুমানোর আগে সে যে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছে, তার মস্তিষ্কের ভেতরে যেন সেই বিষয়ের একটা পরিষ্কার ছবি তৈরি হচ্ছে। সে ভাবছিল বাবার ঋণের কথা আর কালকের বড় ক্রিকেট ম্যাচের কথা। ভাবতে ভাবতেই সে এক গভীর, স্বপ্নিল ঘুমে তলিয়ে গেল।

    স্বপ্নে রিম দেখল সে একটা বিশাল স্টেডিয়ামে বসে আছে। স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ভারতের রান। সে স্পষ্ট দেখল, শেষ ওভারে জয়ের জন্য যখন ১২ রান দরকার, তখন অনামী এক তরুণ বোলার পরপর দুটো উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছে। স্টেডিয়ামের হর্ষধ্বনি তার কানে বেজে উঠল।

    সে আরও দেখল, পরদিন সকালে শেয়ার বাজারের একটা নির্দিষ্ট গ্রাফ রকেটের মতো ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে, ‘তাতান স্টিল’ কোম্পানির লোগোটা বারবার ভেসে উঠল। পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই রিমের শরীরটা অন্যদিনের চেয়ে অনেক বেশি সতেজ মনে হলো। সে পরীক্ষা করার জন্য তার জমানো অল্প কিছু টাকা দিয়ে ওই ক্রিকেট ম্যাচে অনলাইনে বাজি ধরল এবং শেয়ার বাজারে তাতান স্টিলের স্টকে বিনিয়োগ করল। ফলাফল? হুবহু স্বপ্নের মতো! রিম স্তম্ভিত হয়ে গেল।

    সে বুঝতে পারল, এই ৯ ফিট বাই ৯ ফিট কাঁথা আসলে এক ভবিষ্যৎ দর্শন যন্ত্র। কয়েক দিনের মধ্যেই রিমের এই হঠাৎ পরিবর্তন নজর এড়ালো না তার দুই প্রিয় বন্ধু—বলাই আর শুভেন্দু। এদের মধ্যে বলাই ছিল আদ্যোপান্ত লোভী।

    সবসময় ফন্দি ফিকির করত কীভাবে কম পরিশ্রমে বড়লোক হওয়া যায়। ধারদেনা করে চলা বলাই রিমের নতুন দামী ফোন আর নিশ্চিন্ত ভাব দেখে হিংসায় জ্বলছিল। অন্যদিকে শুভেন্দু ছিল অত্যন্ত যুক্তিবাদী, প্রতিটি ঘটনার পেছনে বিজ্ঞান আর যুক্তি খুঁজত। বলাই একদিন রিমকে চেপে ধরল, “কিরে রিম, তুই কি লটারি পেয়েছিস? নাকি দাদুর ঘরে কোনো গুপ্তধন ছিল? আমাদের কাছে লুকচ্ছিস কেন?” আমাদের বলনা বিষয়টা কি? রিম বন্ধুদের ওপর বিশ্বাস করে কাঁথার রহস্যটা জানাল।

    সে বলল, “দাদুর এই ৯ ফিটের কাঁথাটায় আমি ভবিষ্যৎ  দেখতে পাচ্ছি।” শুভেন্দু কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাইল না। সে বলল, “এটা অবৈজ্ঞানিক। নিশ্চয়ই তুই কোনো অ্যালগরিদম ব্যবহার করছিস। কাঁথা আবার ভবিষ্যৎ দেখায় নাকি!” বলাই ফিসফিস করে বলল, “রিম, পরের বিশ্বকাপের ফাইনালটা একবার দেখে নে না! আমরা সবাই মিলে বড়লোক হয়ে যাব। শুভেন্দু তোকে নিয়ে গবেষণা করবে।”

    রিম বন্ধুদের কথা মেনে নিল, কিন্তু সতর্ক করে দিল, “এটা দাদুর আশীর্বাদ, এটা নিয়ে কোনো নোংরামি করা যাবে না।” সেই রাতে কাঁথা গায়ে দিয়ে সে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট-এর ফাইনাল আর পরবর্তী এক সপ্তাহের শেয়ার বাজারের ওঠানামা নিয়ে চিন্তা করে ঘুমাল। স্বপ্নে সে দেখল কোন খেলোয়াড় কত রান করবে, আর সোনার দাম কতটা বাড়বে।

    দাদুর কাঁথার গুণ এতটাই প্রবল যে, স্বপ্নের প্রতিটি ডিটেইল তার মনে গেঁথে রইল। রিমের ভাগ্য বদলাতে শুরু করল, কিন্তু বলাইয়ের মনে লোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলতে লাগল। সে ভাবল, এই কাঁথা যদি তার কাছে থাকে, তবে সে হবে দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী লোক। এক সন্ধ্যায়, বলাই রিমের বাড়িতে এল।

    সুযোগ বুঝে রিমকে অন্য কাজে ব্যস্ত রেখে, সে আলমারি থেকে দাদুর সেই ৯ ফিটের কাঁথাটা চুপিচুপি হাতিয়ে নিল। কাঁথাটা ব্যাগে ভরে সে প্রায় দৌড়ে বাড়ি ফিরল। তার বুক ধড়ফড় করছিল, কিন্তু চোখে ছিল কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন। সেদিন রাতে বলাই তার ঘরে দরজা বন্ধ করে দাদুর কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়ল। সে মনে মনে ভাবতে লাগল বিপুল সম্পত্তির কথা, অঢেল টাকার কথা। ভাবতে ভাবতেই সে ঘুমে তলিয়ে গেল।

    কিন্তু বলাইয়ের জন্য কাঁথা ভবিষ্যৎ নয়, বয়ে আনল ভয়ঙ্কর বাস্তব। স্বপ্নে সে দেখল, সে একটা অন্ধকার কুয়োর ভেতরে পড়ে যাচ্ছে। চারিদিকে অজস্র কালো হাত তাকে টেনে ধরছে। সে টাকার বদলে দেখল, জ্বলন্ত কয়লা তার দিকে ছুঁড়ে মারা হচ্ছে। একটা কর্কশ গলা তাকে ডাকছে, “তুই চোর! তোকে পুড়িয়ে মারা হবে!” বলাই ভয়ে চিৎকার করে জেগে উঠল। গা ঘেমে একাকার। কাঁথাটা যেন তার শরীরকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরছে, ছাড়ানো যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে নিজের গায়ের থেকে কাঁথাটা সরিয়ে নেয় সে।

    পরের কয়েক রাত বলাইয়ের জন্য নরকবাস হয়ে উঠল। যতবার সে টাকার কথা ভেবে ঘুমায়, ততবারই সে ভয়ঙ্কর দূরস্বপ্ন দেখে। কখনও দেখে সে সাপের কামড়ে মরছে, কখনও দেখে পাওনাদাররা তাকে  জলের ভিতরে চুবিয়ে ধরেছে।

    সে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। প্রচন্ড ভয় পেয়ে প্রতিবারই জেগে উঠতে হচ্ছে তাকে। কাঁথাটা তার কাছে এখন একটা অভিশাপ মনে হলো। সে বুঝতে পারল, এই কাঁথা তার জন্য নয়। এদিকে রিম কাঁথা খুঁজে না পেয়ে পাগলপ্রায়।

    সে বুঝতে পারল কে এই কাজ করেছে। শুভেন্দুকে সাথে নিয়ে সে বলাইয়ের বাড়ি গেল। বলাইয়ের চেহারা তখন চেনা যাচ্ছিল না—চোখের নিচে কালি, মুখ ফ্যাকাশে। রিমকে দেখেই বলাই ডুকরে কেঁদে উঠল। কাঁথাটা বের করে রিমের দিকে দিয়ে বলল, “রিম, আমাকে ক্ষমা কর। আমি লোভের বশে এটা নিয়েছিলাম।

    কিন্তু এই কাঁথা আমাকে বাঁচতে দিচ্ছে না। প্রতি রাতে আমি নরকে নিজেকে আবিষ্কার করছি।” রিম কাঁথাটা হাতে নিয়ে পরম মমতায় গায়ে বুলাতে লাগল। শুভেন্দু অবাক হয়ে সব দেখছিল। রিম বলল, “বলাই, এই কাঁথার ক্ষমতা তুই উপভোগ করতে পারবি না।” সে বলাই ও শুভেন্দুকে আসল সত্য জানাল।

    দাদু অবিনাশ বিশ্বাস মা, অর্থাৎ রিমের বড়দিদা, এই কাঁথাটি নিজ হাতে তৈরি করে ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিদুষী এবং আধ্যাত্মিক নারী। তিনি কাঁথাটি তৈরির সময় প্রতিটি সুতোয় মন্ত্র এবং আশীর্বাদ বুনে দিয়েছিলেন।

    দাদুকে উপহার দেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, “এই কাঁথাটা শুধু তোর গা ঢাকবে না, তোর বংশধরদের পথ দেখাবে। কিন্তু মনে রাখিস, এই কাঁথার ক্ষমতা বংশ পরম্পরায় এক প্রজন্ম পর পর জেগে উঠবে।”

    অর্থাৎ, অবিনাশ দাদুর পর এই কাঁথার ক্ষমতা রিমের বাবা বিমল বাবুর জীবনে সুপ্ত ছিল। রিম, অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্ম, এই ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে। তাই বলাই বা অন্য কেউ এই কাঁথার সুফল পাবে না, বরং লোভের শাস্তি পাবে।

    দাদুর মা চেয়েছিলেন, বিশ্বাস পরিবার যেন লোভের ফাঁদে না পড়ে, এবং অভাবের সময় এই কাঁথা যেন তাদের রক্ষা করে। বলাই সব শুনে নিজের ভুলের জন্য লজ্জিত হলো। সে আর কখনও ফাটকা খেলার কথা ভাবল না। রিম কাঁথা নিয়ে বাড়ি ফিরল।

    পরের কয়েক মাসে রিমদের ভাগ্য আমূল বদলে গেল। বিমল বাবু একদিন অবাক হয়ে দেখলেন, তার সব ঋণ শোধ হয়ে গেছে। রিম তাকে একটা নতুন কাপড়ের বড় শোরুম খুলে দিল। বাড়িতে নতুন রঙের প্রলেপ পড়ল, মা সুমিত্রা দেবীর রান্নাঘরে এল আধুনিক সব সরঞ্জাম। বিশ্বাস বাড়ির শ্যাওলা ধুয়ে গেল।

    পাড়ার লোক অবাক হয়ে দেখল, অভাবী রিম এখন এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী তরুণ। বলাইয়ের লোভ দূর হলো, আর শুভেন্দু কাঁথার ক্ষমতাকে ‘জেনেটিক কোড’-এর এক রহস্যময় বহিঃপ্রকাশ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগল। টাকা আসার  সঙ্গে সঙ্গে রিম লক্ষ্য করল তার মানসিক শান্তি কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে।

    কিন্তু সে দাদুর সেই সঙ্কেত ভোলেনি। লোভের পথ পরিহার করে সে বন্ধুদের জানিয়ে দিল, সে আর ক্রিকেট বা শেয়ার বাজার নিয়ে স্বপ্ন দেখবে না। এই কাঁথা সে কেবল বড় কোনো বিপদ বা পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। রিম তার পরিবারকে এক সুন্দর ও সচ্ছল জীবন উপহার দিল। বাবার ব্যবসা এখন সুপ্রতিষ্ঠিত।

    রিম নিজেও এখন এক সফল যুবক, নিজের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সে কোনোদিনই সেই কাঁথাটার কথা ভোলেনি। বহু বছর পর, রিম যখন নিজেই বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে, তার চুল পেকে সাদা হয়েছে, তখন সে তার নাতিকে কাছে ডাকল।

    সে জানত, প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব কিছু লড়াই থাকে। কখনও অভাবের, কখনও বা অস্তিত্বের। রিমের নাতি এখন যে  এই বাড়িতে বড় হচ্ছে, সেখানে অভাবের কোনো ছাপ নেই, কিন্তু তার সামনে হয়তো আসবে অন্য কোনো বড় সংকট।

    কারণ সে জানে, তার ছেলের জীবনে এই কাঁথা সুপ্ত থাকবে, কিন্তু তার নাতির জীবনে এটি আবার জেগে উঠবে। রিম দাদুর সেই সেগুন কাঠের আলমারিটা খুলল। ধুলোহীন, সযত্নে রাখা সেই ৯ ফিট বাই ৯ ফিটের নকশি কাঁথাটা বের করল।

    কাঁথাটা এখনও আগের মতোই উজ্জ্বল আর উষ্ণ, এর জ্যামিতিক নকশাগুলো আজও রহস্যময়। রিম কাঁথাটা আবার ভাঁজ করে আলমারির একদম নিরাপদ তাকে তুলে রাখল। চাবিটা তার নিজের পুরনো ডায়েরির ভেতরে লুকিয়ে রাখল।

    সে তার ডায়েরিতে লিখে গেল: “এই কাঁথা কেবল শীত নিবারণের জন্য নয়, এটি অন্ধকারের পথপ্রদর্শক। যখন তোমাদের চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসবে, যখন যুক্তিতে কোনো সমাধান মিলবে না, তখন এই কাঁথার নিচে আশ্রয় নিও। বড়দিদার আশীর্বাদ এবং দাদুর আত্মা তোমাদের পথ দেখাবে।

    কিন্তু সাবধান, একে যেন কোনোদিন লোভের হাতিয়ার করো না। এর রহস্য  যেন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসাতেই লুকিয়ে থাকে। মনে রেখো, এই ক্ষমতা তোমাদের বংশ পরম্পরায় এক প্রজন্ম পর পর জেগে উঠবে—লোভের আগুনের সাথে লড়াই করার শক্তি দিয়ে।” রিম আলমারির চাবিটা সযত্নে নিজের ড্রয়ারে রেখে দিল।

    সে জানে, একদিন তার পরবর্তী প্রজন্মের কেউ অভাবের তাড়নায় বা কোনো বড় সংকটে এই আলমারি খুলবে। আর তখনই ৯ ফিট বাই ৯ ফিটের এই ম্যাজিক আবার জেগে উঠবে, কোনো এক রাতে ভবিষ্যৎ দেখাবে নতুন কোনো উত্তরসূরিকে।

  • দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত

    দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত

    দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা তদারকি ও সমন্বয় জোরদারে সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

    শনিবার (২৮ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এ দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

    অন্যদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাইরে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেবেন।

    নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন এবং দৈনিক প্রতিবেদন জমা দেবেন।

    এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে দ্রুত ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করে তথ্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • মানিকগঞ্জের ঘিওরে রফিককে খুন করেছে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিপন !

    মানিকগঞ্জের ঘিওরে রফিককে খুন করেছে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিপন !

    মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার বানিয়াজুরী এলাকার মোঃ ইউসুফ আলীর ছেলে হেলো- বাইক চালক মোঃ রফিককে গলাকেটে হত্যা করেছে তার বন্ধুরা। গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে প্রেস-ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা পিবিআই পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে তাদের ধারনা মাদকের টাকা বণ্টন নিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।

    মানিকগঞ্জ পিবিআই পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ মার্চ রাতে তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু নির্মাণ শ্রমিক রিপন, আরমান ও সজিবসহ ৩ জনে কিছু অনৈতিক লোভ দেখিয়ে ঘিওর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বারইলে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে তাকে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে আরমান বাইক চালক রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে সজুড়ে আঘাত করলে তাৎক্ষণিক সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

    তারপর বন্ধু রিপন, ধারালো দাঁ দিয়ে রফিকের গলা কেঁটে শরীর থেকে মাথা বিছিন্ন করে ফেলে। এ সময় সজিব তার পা ও আরমান তার হাত ধরে রাখে। পরবর্তীতে তারা তার পেট ফেড়েঁ সারা শরীর ও মাথা নদীতে ফেলে দিয়ে বাড়িতে চলে যায়। আর রিপন ভোর রাতে রফিকের অটো বাইকটি নিয়ে সাভারে চলে আসে।

    রফিকের খোঁজ কবর না পেয়ে তার পরিবার ওই দিনই থানায় যোগাযোগ করেন। এরই মধ‍্যে ২৫ মার্চ বিকেলে কালিগঙ্গা নদীতে গলাকাঁটা লাশ ভেসেঁ উঠার পর তা দেখে এলাকাবাসী পিবিআই পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার করেন ও লাশের মস্তক উদ্ধারে অভিযানে নামেন।

    প্রযুক্তির সহযোগিতায়, গত ২৬ মার্চ বেলা ২টার দিকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে বাইকসহ রিপনকে চিহ্নিত করে তাকে আটক করেন। রিপনের দেওয়া তথ‍্য  মোতাবেক হত‍্যায় ব‍্যবহৃত ধারালো দাঁ এবং হত‍্যা কাজে সহযোগি আরমান ও সজিবকে গ্রেফতার করেন।

    এ দিকে নদীতে ফেলে দেওয়া রফিকের মস্তকটি এখন পর্যন্ত খোঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, খোঁজাখুজি অব‍্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে এসব ঘটনা জানিয়েছেন, মানিকগঞ্জের পিবিআই পুলিশের এসপি জয়িতা শিল্পী।

  • ধয়ে আসছে তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি !

    ধয়ে আসছে তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি !

    সারা দেশে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়, তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, শুক্রবার রাত ৮টার পর থেকে শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এ সময় তীব্র বজ্রপাত ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ১৬টি জেলায় ঝড়ের তীব্রতা বেশি হতে পারে।

    এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের অন্য অঞ্চলে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

  • গত ১০ দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭৪ জন

    গত ১০ দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭৪ জন

    পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে আগে ও পরে গত ১০ দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত যানচাপ, বেপরোয়া গতি এবং দুর্বল সড়ক ব্যবস্থাপনাই এ প্রাণহানির প্রধান কারণ।

    সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত সারা দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

    সংগঠনটির তথ্যমতে, গত বছরের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ১১ দিনে ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সে তুলনায় এবার ঈদকে ঘিরে সড়কে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে।

    এবারের ঈদে কয়েকটি বড় দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। গত ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লায় একটি বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। এর কয়েক দিন পর, ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এই দুই ঘটনায় ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৭ দিনে দেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন।

    যদিও বেসরকারি ও সরকারি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, তবু উভয় তথ্যেই ঈদকেন্দ্রিক সড়ক পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের ‘রিসার্চ, প্ল্যানিং অ্যান্ড ইনোভেশন’ বিভাগ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪২ শতাংশই ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে।

    গবেষণাটিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রন-মেন্টাল রিসার্চ যুক্ত ছিল। এতে বলা হয়েছে, ঈদের সময় সড়কে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই এ সময়ে বাড়তি সতর্কতা, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

    তবে বাস্তবে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সড়ক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ আহত হন। তবে এসব তথ্য মূলত গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। ফলে দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা অনেক সময় এই পরিসংখ্যানে যুক্ত হয় না।

    সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, চালকদের বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করা, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি, ঈদকেন্দ্রিক বিশেষ সমন্বিত অভিযান পরিচালনা, দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক ও মহাসড়কে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

  • সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইরানের হামলা !

    সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইরানের হামলা !

    সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রিয়াদ এলাকার দিকে ধেয়ে আসা আরো দুটি ড্রোনকে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে এবং চারটি উপসাগরের পানিতে বা খোলা জায়গায় পড়েছে।

    এর কিছুক্ষণ পরেই আবারো রিয়াদ লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সৌদি রাজধানীর কাছে এটি দ্বিতীয় এমন হামলা।

    সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ এলাকার দিকে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

  • সাটুরিয়ায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে কটুক্তির অভিযোগে আটক-১

    সাটুরিয়ায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে কটুক্তির অভিযোগে আটক-১

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) নিয়ে কুটূক্তি করায় স্থানীয় জনতা উত্তম মধ‍্যম দিয়ে এক ব্যক্তিকে পুলিশে সোপর্দ  করেছে।

    জানা যায়, উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার পুত্র মোঃ ঈমন আলী (৩৯) প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) নিয়ে নানান ভাবে কুটূক্তি করেন।

    এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা তার বিরুদ্ধে সালিশ ডাকেন। ২৬ মার্চ রোজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কান্দাপাড়া বাজার মসজিদে সালিশ বসে।

    এ সালিশে দোষি সাবস্ত্য হলে এলাকাবাসী তাকে উত্তম মাধ‍্যম দিয়ে সাটুরিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

     

  • মানিকগঞ্জের দরগ্রামে অগ্নিকান্ডে ১৫ টি দোকান ভষ্মিভুত, ক্ষতি ৫কোটি টাকা !

    মানিকগঞ্জের দরগ্রামে অগ্নিকান্ডে ১৫ টি দোকান ভষ্মিভুত, ক্ষতি ৫কোটি টাকা !

    বুধবার মধ্য রাতে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বৃহৎ দরগ্রাম বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বুধবার শেষ বিকেলে ঝড়-বৃষ্টিতে সার্ভিস লাইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় আইপিএস থেকে দূর্ঘটনার সুত্রপাত।

    পুড়ে যাওয়া ধব্বংশাবশেষ উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া ব্যবসায়ী উজির আলী বলেন, রাত ১২টার পরে খবর পেয়ে এসে দেখি বাজারের মসজিদ গলি ধাও ধাও করে জ্বলছে। উত্তর দিক থেকে ক্রমশ দঃ পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ছে। এক পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সরজমিনে দেখাগেছে বাজারের সর্ব বৃহৎ মেডিসিন দোকান ‘ এ জামান ফার্মেসি ‘ সহ দুটি বড়সড় কাপরের দোকান, ষ্টেশনারী, টিভি ফ্যান গোডাউন, টেইলার্স, দুটো টি-ষ্টল, দুটো কর্মকার দোকান সহ ১৫ টি আধাপাকা টিনের ঘেরাওযুক্ত দোকান সম্পুর্ন টাই ভেতরের মালামাল ও নগদ টাকা সহ একেবারে ছাই হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী জামে মসজিদও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ দূর্ঘটনায় ব্যবসায়ীর মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খান রিতার পক্ষ থেকে দায়িত্বশীলরা ক্ষতিগ্রস্থদের খোঁজ খবর নেন। ক্ষতিগ্রস্থ্যদের মাঝে নগদ অর্থ সাহায্য করেন। এই সময় সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    এ দিকে, ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা উত্তর অঞ্চল সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন ও মানিকগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল ইসলাম সহ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের সান্ত্বনা এবং উপস্থিত সহায়তা দান করেন।

     

  • ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র নিহত

    ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র নিহত

    ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ তাদের টেলিগ্রাম ও এক্স অ্যাকাউন্টে জানায়, শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে নায়েনি নিহত হন।  খবর আল-জাজিরার।

    ৬৮ বছর বয়সী নায়েনি ছিলেন আইআরজিসির সেকেন্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। ২০২৪ সালে তিনি মুখপাত্র হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

    নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, “যুদ্ধকালীন সময়েও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রয়েছে।”

    আল-জাজিরার খবর অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্ব দিকে বেশ কয়েক দফায় তীব্র হামলা চালানো হয়েছে।

    তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত কারাজ শহরেও হামলা হয়েছে, সেখানে প্রচুর সামরিক স্থাপনা রয়েছে। কারাজ ও তেহরান প্রায় প্রতিদিনই হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। ইরানের দক্ষিণের কেরমান ও হরমুজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহ-তেও মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী বোমাবর্ষণ করেছে।

    পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান তাদের অভিযানের ৬৬তম ধাপের ঘোষণা দিয়েছে, যার লক্ষ্যবস্তু হলো উত্তর ও পশ্চিম জেরুজালেম, হাইফা, তেল আবিব এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো।

  • আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই থাকবে’

    আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই থাকবে’

    আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে নিষিদ্ধ ও বন্ধ রয়েছে এবং তা ভবিষ্যতে ও বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বৃহস্পতিবার একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে এসব কথা বলেন।

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং দলটির সাম্প্রতিক কিছু গোপন তৎপরতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া উচিত ।

    বিচ্ছিন্ন কোনো কিছু দেখে রাজনীতি বা গণতন্ত্রের পথ আটকে দিলে সেটি একটি বিকৃত রূপ নিতে পারে। বর্তমানে যারা রাজনীতিতে সক্রিয় আছে, তারা কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।’ তবে আওয়ামী লীগের জন্য সেই পথ বর্তমানে রুদ্ধ বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

    আওয়ামী লীগের গোপন বা আচমকা তৎপরতা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) তো কিছু কিছু কাজ করার চেষ্টা করবেই, করছেও। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ দেশের মানুষ তাদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে।’